প্রভামঞ্জরী #নওরোজ_মীম পর্বঃ ৫৭

0
24

#প্রভামঞ্জরী
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ৫৭ (১ম পরিচ্ছেদের সমাপ্তি)
{কপি করা নিষেধ }
__________________________________________

“আমি প্রেগন্যান্ট। আমার বাচ্চাটা মরে যাবে।”

মীমের মুখে কথাটা শুনে কয়েকপল থম মেরে থাকে তনু। পরক্ষনেই কুটিল হেসে বলে,

“তো?
তাতে আমার কি?
তোমার মেজর জামাইকে বলো বাঁচিয়ে নিতে তোমাকে আর তোমার বাচ্চাকে। নাকি সেই ক্ষমতা নেই তার?
সেই কবে থেকে পাগলা কুত্তার মতো আমাদের পিছু পড়ে আছে। কি যেন নাম দিয়েছে আমাদের কাজের! এই অয়ন বল না।”

তনুর উপহাসে ক্যাটক্যাট করে হাসে সবাই। অয়ন বলে,

“চক্র খু*ন।”

অট্টহাসিতে মেতে ওঠে সবাই। যেনো অত্যন্ত মজাদার কিছু শুনেছে তারা এইমাত্র।

এদিকে পিলারের সাথে হেলান দিয়ে বসানোতে সেই পুরনো লোহার পিলারের ভাঙা কোনাতে দড়ি দিয়ে বাঁধা হাত ঘষে ঘষে দড়ি কাঁটার চেষ্টা করছে মীম। এতে তার হাতের চামড়া উঠে যে র*ক্ত বের হয়েছে ইতোমধ্যে তা বুঝতে পারছে সে। অথচ কিছুই করার নেই তার। এতো সহজে হার সে মানবে না। তার যে নিজের বাচ্চাকে বাঁচাতেই হবে।
আর চক্র খু*নে*র কথা শুনে তার কাছে পরিষ্কার হলো অনিলের ছদ্মবেশে ভার্সিটি যাওয়ার কারণ। তাদের বিয়ের ব্যাপার পাবলিক না করার কারণ। তনুর কাছাকাছি থাকার কারণ। সর্বোপরি আজকে অনিল আবরার খানের তাকে কষ্ট দেওয়ার কারণ। হয়তো সে আগেই জানতো তনু আর তার বন্ধুদের কার্যকলাপ। তাই সব সহ্য করেছে। কিন্তু তবুও মেজর তার সাথে চরম অন্যায় করেছে। এতো সহজে ভুলবে না কিছুই মীম।

এবার লিপি বলে তাচ্ছিল্য হেসে,

“আরে ওর মেজর জামাই আসবে ক্যামনে রে তনু! তারে না আমরা উপরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলাম।”

“শা*লার কি কৈ মাছের জান চিন্তা কর! ওইভাবে গু*লি খেয়ে ব্লা*স্টের কবলে পড়েও শা*লা ম*রে নাই। উপরে না যেয়ে শা*লায় গেছে অস্ট্রেলিয়া।”

লিপির কথা শেষ হতেই চিবিয়ে চিবিয়ে কথাগুলো বলে নির্জন। ওদের কথায় মীম বললো,

“তোমরাই তবে সেই ক্রি*মি*নাল গ্যাং। যারা তরুণ সমাজ ধ্বংসের কাজে লেগেছো।”

তনু সাথে সাথে তাকে শুধরে দেওয়ার মতো করে বলে,

“কারেকশন মীম। কারেকশন। আমরা তরুণ সমাজ ধ্বংস করি না। আমরা ঠকবাজদের তাদের কর্মফল দেই।”

“আচ্ছা! এই কাজের পারমিশন কে দিয়েছে তোমাদের? স্বয়ং উপরওয়ালা যেখানে খু*ন, খারাবি পাপ বলে বানিয়েছেন সেখানে তোমরা কে সেই পথেই শাস্তি দেওয়ার? নাকি তোমরাই আইন ব্যবস্থা?”

“ফা*ক ইওর আইন। আর তোমার নীতিকথা শোনার জন্য তোমাকে এখানে তুলে আনা হয়নি মেয়ে।”

“তো আমাকে এখানে তুলে আনার কারণ? তোমাদের হিসাব অনুযায়ী আমি কাউকে ধোঁকা দেইনি।”

“তোমাকে এখানে আনার কথা জ্যাক জানে সুইটি। আর তাছাড়া তোমার মেজর বরকে দেখার বড় ইচ্ছে আমার।”

“তাকে দেখলে তোমার পায়ের নিচের মাটি থাকবে বলে মনে হচ্ছে না তনু।”

ওদের এতো এতো কথপোকথন সবকিছু চুপচাপ বসে শুনে যাচ্ছে জ্যাক। তার মাথায় কি চলছে তা জানা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।

তবে নিশ্চুপ আর থাকলো না। আবারও মীমের সামনে ঝুকে তার মুখে স্লাইড করতে করতে জিজ্ঞেস করে,

“সুইটহার্ট তোমার কাছে এখনো সুযোগ আছে। ওই মেজর না ফেজর ওকে ছেড়ে আমার সাথে লন্ডন ফিরে চলো। সেখানে আমার হয়ে থাকবে। আর ওই মেজরের বাচ্চাকে ফেলে দাও।”

স্লাইড করতে করতে হাত যখন মীমের ঠোঁটের উপর এনে রাখে জ্যাক তখন মীম সজোরে কামড় বসায় জ্যাকের আঙুলে। ছিটকে হাত সরিয়ে নেয় জ্যাক। ভষ্ম করে দেওয়ার মতো তাকিয়ে ঠাস করে চড় বসায় মীমের গালে। এবারেও র*ক্ত বের হয়। মীম ক্ষিপ্ত হয়ে বলে,

“তোর মতো জানোয়ারের জন্য আমি আমার বাচ্চা নষ্ট করবো ভাবলি কিভাবে তুই?”

জ্যাক প্রচন্ড রেগে আবারও চড় বসায় মীমের গালে। এবার সে হিসহিসিয়ে বলে,

“ভালো করে বুঝিয়েছি। কিন্তু তুমি যে ঘাড়ত্যাড়া তা ভুলে গিয়েছিলাম। ভালো কথা তো আবার তোমার কানে যায় না। ওকে তাহলে তাই হোক। তোমার আমার সাথে যাওয়া লাগবে না। তুমি তোমার বাচ্চা পেটে নিয়েই কবরে যাও না হয়।”

এই বলেই উঠে দাঁড়িয়ে মীমের পেটে লাথি মারতে যায়। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে না। তার আগেই মীম উল্টো জ্যাকের প্রাইভেট পার্টে নিজের শরীরে বেঁচে থাকা সর্বশক্তি দিয়ে লাথি মেরে বসে। চিৎকার করে ফ্লোরে বসে পড়ে জ্যাক। অন্যরা এগিয়ে গিয়ে তাকে ঘিরে ধরে। ততক্ষণে হাত-পায়ের বাঁধন খুলে উঠে দাঁড়িয়েছে মীম। লোহার পিলার কিছুটা ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় দড়ি কাঁটার জন্য খুব একটা ঝামেলা করতে হয়নি। হাতের বাঁধন খুলেই ওদেরকে কথায় মাইন্ড ডাইভার্ট করে রেখে হাতের সাহায্যে পায়ের বাঁধন ও খুলে ফেলে সে। এবার সে তার র*ক্তা*ক্ত হাত দুটো ময়লা ঝাড়ার মতো করে ঝেড়ে নিয়ে বলে,

“আমাকে দুর্বল বেচারি মেয়ে ভাবা তোমার সেদিনও সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো জ্যাক। আর আজও একই ভুল করে বসলে। চু.. চু.. চু..”

দুই ঠোঁট গোল করে উক্ত উপহাসের শব্দ করে মীম। এদিকে রাগে দিশেহারা হয়ে জ্যাক চিৎকার করে বলে,

“কিল হার।”

তনু অবশ্য জ্যাকের বলার আগেই এগিয়ে এসে মীমকে চড় মারতে যায়। অথচ মীম তার মারার জন্য উঠানো হাত ধরে তা মুচড়ে ধরে বলে,

“এতো সোজা নাকি তনু? আমাকে তো ভালো করেই চেনো তুমি তাও মনে হচ্ছে এতো সহজে পারবা আমার সাথে?”

তনুও হিসহিসিয়ে বলে,

“কিছুই করতে পারবে না মীম। কতক্ষণ লড়বে আমাদের সাথে? মরতে তো তোমাকে আজ হবেই। তোমাকেও সেভাবেই মারবো যেভাবে এতোকাল অন্যদের মেরে এসেছি। জ্যান্ত টুকরো টুকরো করে। চিন্তা করো না বুঝলে, তোমার শরীরের হাজারো টুকরো তোমার বাপের কাছে পার্সেল করে দেবো। তারপর তোমার বর না এসে তোমার খু*নের ও তদন্ত করলো। অবশ্য তোমার বরকে দেখার আর কথা বলার অদম্য ইচ্ছে আমারও আছে।”

“এইতো ওর বর এখানেই। একদম তোমাদেএ আস্তানায়। এসো দেখে কথা বলে যাও। ওর বর আবার উদার মনের মানুষ কারো ইচ্ছে অপূর্ণ রাখে না।”

গম্ভীর কিছুটা পরিচিত কিন্তু তাও অপরিচিত কণ্ঠে পিছনে ফিরে তাকায় সবাই। দেখে যে তারা আটকা পড়েছে অগণিত সেনাবাহিনী দ্বারা। আর ওদের কিছুটা পিছনে দাঁড়িয়েই মুখ ঢেকে রাখা কেউ বলে উঠলো উক্ত বাক্য। বুকের কাছে মেজর এএকে নাম আর মুখে মীমের বর শুনেই সবাই বুঝে যায় তারা কার খপ্পরে পড়েছে। কিন্তু মেজর তো সাসপেন্ড আর আহত হয়ে অস্ট্রেলিয়া ছিলো তবে এখানে ইউনিফর্মড অবস্থায় একেবারে ফিট এন্ড ফাইন কিভাবে!
মীম তাকিয়ে আছে ওই গাঢ় বাদামী চোখদুটোর দিকে। অবশ্য চোখের মালিক নিজেও তার গাঢ় বাদামী চোখের সাহায্যে তার প্রেয়সীকেই দেখছে। যে দুই চোখ একটু আগেই তনুর দিকে অগ্নিরুপ হয়ে চেয়ে ছিলো সেই চোখেই এখন প্রেয়সীর প্রতি নমনীয়তা, প্রশ্রয়, ভালোবাসা, অসহায়ত্ব সবকিছুর সংমিশ্রণ।
তনুও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডার্ক ব্রাউন চোখ দুটের দিকে। মুখ ঢেকে রাখা মেজরের। তবুও তার কণ্ঠস্বর, তার দাঁড়িয়ে থাকার স্টাইল, তার দৃঢ় ব্যক্তিত্ব যে তার খুবই চেনা লাগছে। কিন্তু সে যা ভাবছে তক কিভাবে সম্ভব! কিভাবে!

“আম্মা আপনি ঠিক আছেন?”

দ্রুত এগিয়ে এসে মেয়ের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুর রহমান। মীম তাকায় তার পিতার দিকে। আজ আর কেন যেন পুরনো কিছুই মনে রাখতে পারে না সে। সামনে দাঁড়ানো পুরুষের বুকে মাথা রেখে বলে,

“ঠিক আছি পাপা।”

কতদিন! ঠিক কতগুলো দিন! হয়তো চারবছর হবে সে মেয়ের মুখে পাপা ডাক শোনে না। কি নিদারুণ কষ্ট করে যে বেঁচে আছে তা শুধু সেই জানে। এই যে তার মেয়ে আজ পাপা ডেকে সব কষ্ট একেবারে ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে মূহুর্তেই। শক্তপোক্ত সেনাকর্তার চোখে পানি আসতে চেয়েও এলো না। নিজেকে আড়াল করে রাখলেন খোলসের আবরণে। মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে রাখলেন।

ততক্ষণে মেজরের প্ল্যান মাফিক তার টীম ও ক্যাপ্টেন তাহমিদের টীম মিলে পুরো জায়গাটা ঘিরে ধরেছে। তাদের আর বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। অন্যরা ছুটোছুটি করলেও দুইজন মানুষ নিজের জায়গায় স্থির। তনু আর জ্যাক। ক্যাপ্টেন তাহমিদ অয়ন, নির্জনকে ধরে টীমের হাতে তুলে দেয়। আর এদিকে আহনাফ তাহমিদ নামের ভার্সিটির সিনিয়র ও অনিল আবরার ওর বন্ধুকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হিসেবে দেখে বোধহয় বুদ্ধিমতী তনিমা অনেক কিছুই বুঝলো। ধীর পায়ে হেটে যেয়ে অনিলের মুখোমুখি হয় ছলছল চোখে তাকিয়ে দেখে। তারপর বহু কষ্টে নিজের সাথে একপ্রকার যুদ্ধ করে বলে উঠলো,

“অনিললললল ভাই……..!”

অনিল একপেশে হেসে নিজের মাস্ক খুলে উন্মুক্ত করে নিজের চেহারা। তারপর তনু আর বাকিদের দিকে তাকিয়ে বলে,

“হ্যালো গাইজ। আমি মেজর এএকে ওরফে অনিল আবরার খান। তোমাদের পরম প্রিয় বান্ধবী মাশফিয়া রহমান মীমের একমাত্র বিলাভড হাসবেন্ড।
আমার সাথে নাকি দেখা করার বহুদিনের শখ তোমাদের!
স্পেশালি নাকি তোমার তনিমা!
আ’ম হেয়ার। দেখে নাও। অবশ্য এরপর অনেক পাবে আমাকে দেখার সুযোগ। আজই তো মেজর এএকে তোমাদের সামনাসামনি আসলো। আর মেজর কারো সামনাসামনি হলে তার জীবন পুরো পালটে যায়।”

“আ..আপ…আপনি আমায় ঠকালেন অনিল ভাই..?”

অবিশ্বাস্য ভাবে বলে উঠলো তনু।
কিন্তু মেজরের ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে টিকলো না সে কথা।

“তুমি ভাবলে কিভাবে তোমার মতো একজন ক্রি*মি*নাল কারো ভালোবাসা ডিজার্ভ করতে পারো? হাউ?
যেখানে তুমি ধ্বংস ছাড়া কিছু জানো না সেখানে, নতুন কিছু গড়ার স্বপ্ন কিভাবে দেখলে সুরাইয়া তনিমা জালাল? আর তাছাড়া আমি বিবাহিত। আমার ঘরে এমন সুন্দরী বউ থাকতে আমি বাইরে তাকাতেই বা যাবো কিসের জন্য?”

শেষ বাক্যটা মীমের চোখে চোখ রেখেই বলে মেজর।
তনু মীমের পেটের দিকে তাকায়। মনে মনে তাচ্ছিল্য হাসে। মীমের পেটের বাচ্চার বাবা তবে তার শখের পুরুষ! তার কল্প রাজার রাজ্যের রাণী ওই মেয়ে!

“তবে সবকিছু বুঝেও আমাকে লাই দিয়েছেন কেন দিনের পর দিন? আজকেই বা কেন সবার সামনে আমার করা বিয়ের প্রপোজাল একসেপ্ট করেছেন? সেখানে তো আপনার বউও ছিলো অনিল ভাই তবে?”

“এতো কথার উত্তর নিশ্চয় আমি কোনো খু*নীকে দেয়ার প্রয়োজনবোধ করছি না। তবে তোমাকে জানানোই যায়। আমি তোমাকে হাতেনাতে ধরতেই ছদ্মবেশে তোমাদের ভার্সিটি গিয়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম তোমার আমার প্রতি দূর্বলতা হোক। তাই তোমাকে প্রচন্ড অনিচ্ছা স্বত্তেও ফিল করেছি যে তুমি আমার কাছে মূল্যবান। আমার বিয়ে করা বউয়ের সামনে তোমাকে গুরুত্ব দেয়ার নাটক করেছি। এমনকি আজকে তাকে প্রচন্ডরকম আঘাত করতে বাধ্য হয়েছি।
আজ যদি তখন তোমাকে রিজেক্ট করতাম তবে তুমি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে আমার পিছুই পড়ে থাকতে। অথচ এখন দেখো তুমি এখানে আর আমিও। আর আনফরচুলেটলি আমার বউ ও এখানে।”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুর রহমান এবার এগিয়ে যায় গোডাউনের গেটের দিকে আর বলেন,

“অপ*রা*ধীদে*র এতো ব্যখ্যা দেওয়ার মানে নেই মেজর। এদের নিয়ে চলুন।”

“মীমের পেটের বাচ্চার বাবা তবে আপনি অনিল ভাই?”

মেজর তার সিনিয়রের অর্ডার পালনের জন্য পা বাড়িয়েছে মাত্র তনুর মুখে এই বাক্য শুনে থেমে যায়। অদ্ভুত ভাবে সে প্রথমে তনুর দিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে মীমের দিকে তাকায়। যে আগে থেকেই তার দিকে তাকিয়ে ছিলো। মেজরের ভেতরে কোথাও একটা কিছু হলো। কেমন এক অচেনা অনুভূতি তাকে ঘিরে ধরে। প্রেয়সীর দিকে তাকিয়ে থেকেই মনে হলো সে অন্য দুনিয়ায় চলে গেছে। তার এই সুযোগ নিয়ে তনু দৌড়ে যেয়ে জ্যাকের হাত ধরা সেনা সদস্যের হাতে গু*লি করে দেয়। তার হাত ছেড়ে দিতেই জ্যাক যেয়ে মীমের পেটে লাথি বসায়। অনিল চিৎকার করে দৌড়ে যেয়ে মীমকে ধরতে ধরতে তনু তার হাতের রি*ভল*ভার দিয়ে মীমের পেট বরাবর গু*লি চালায়। মীম সরে যাওয়ায় সে গু*লি পেটে না লাগলেও মীমের ডান চেস্টে লাগে। তনুকে আটকাতে কেউ যাওয়ার আগেই সে জ্যাকের মাথা বরাবর গু*লি ছোড়ে। এবং এরপরই লিপিকে মারে। অয়নের দিকে গু*লি ছোড়ার আগেই এক মহিলা সন্য তাকে ধরে থা*প্প*ড় মারে আর হাতের রি*ভল*ভার কেড়ে নিয়ে সবাইকে নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। যেতে যেতেই হেসে হেসে তনু বলে,

“আমার সাথে গেম খেলে আপনি সুখে থাকবেন তা ভাবা আপনার ভুল অনিল ভাই। আপনাকে আমি ভালোবাসি। সেই ভালোবাসার ভাগ আমি মীমকে দিলাম না। দিলাম না।”

উদ্ভ্রান্তের মতো হাসতে হাসতেই সে চলে যায় সেনাবাহিনীর জিম্মায়। এদিকে অনিল পাগলপ্রায়। সে মীমের মাথা কোলে নিয়ে বসে পড়ে ফ্লোরে। মীমের পেটে লাথি মারায় তার ব্লি*ডিং শুরু হয়েছে অনেক। এদিকে বুকে আবার গু*লি লেগেছে। সে অনেক কষ্টে বললো,

“আমি বোধহয় বাঁচবো না মেজর। আফসোস হলো আমাদের বাচ্চাটাও বাঁচলো না।”

অনিল পারছে না নিজেকে সামলাতে। চোখের কোণ ভিজে উঠতে চাইছে তার।

“প্লিজ প্লিজ মাই হাইনেস আমাকে এতো বড় শাস্তি দিয়েন না। প্লিজ প্লিজ। আপনি না থাকলে আপনি মেজর ও বাঁচবে না। আর.. আর বাবা হওয়ার অনুভূতি পাওয়ার আগেই আমার বাচ্চার কিছু কিভাবে হতে পারে! আমি..আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমার কাজের জন্য আমাকে মাফ করেন মাই হাইনেস প্লিজ।”

এই পাগল ছেলেটা যে তাকে ভালোবাসে তা জানে মীম। তাইতো মুখে না বললেও সে কখনো তা নিয়ে আক্ষেপ করেনি। শুধু আজ সন্ধ্যায় তনুর সাথে মেজরকে মানতে পারেনি। কিন্তু…..

“আপনি আপনার দায়িত্ব পালনের পুরষ্কার পেয়েছেন মেজর। আর আমি আপনাকে ভালোবাসার শাস্তি।”

“ম…মাই.. হাই.. নেস..!”

~~~~~~~~~~~~~~সমাপ্তি~~~~~~~~~~~~~
(প্রথম পরিচ্ছেদ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here