#একটা_ছিলো_সোনার_কন্যা
#শ্যামলী_রহমান
#পর্ব—১৭
দিনটি বৃহস্পতিবার। মাঘ মাস হওয়াতে শীতের তোপে কাঁপছে মানুষ। রোদের দেখা মেলেনি চারদিন যাবত। সূর্য কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে। লজ্জায় মুখ লুকিয়ে থাকে প্রায়শই। নদীর পাড়ে গ্রাম হওয়াতে শীত আরো বেশিই অনুভব হয়। সোনাইমুড়ী দরিদ্র গ্রাম বলা যায়। গরম কাপড়ের অভাব অনেক ঘরেই রয়।
শিউলি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গায়ে দাদির ঘিয়ে রঙের পুরোনে চাঁদর টা জড়িয়ে গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা সরু মেঠোপথ দিয়ে হেঁটে চলেছে। গন্তব্য জানে না, শুধু হাঁটতে ভালো লাগছে তাই সে হাঁটছে। সঙ্গীহীন পথ,শীতের সকালের হিমেল হাওয়া আজ কেন যেনো ভীষন ভালো লাগছে। এই ভালোলাগা বহুদিন পর ফিরে এলো বুঝি তার কাছে। মন ও ফুরফুরে লাগছে বেশ,পাখির কিচিরমিচির ডাকও মধুর শোনাচ্ছে। আজ বুঝি আমার জন্য শুভদিন এমনটাই ভাবলো শিউলি।
শিউলি হাঁটতে হাঁটতে লক্ষ্য করলো পথের দু’ধারে কিছু মানুষ কে দেখা যাচ্ছে। ধান লাগাবে বলে বীজ বুনেছে তা খানিকটা বড় হয়েছে সবুজ রঙা বিছন। কেউ আবার জমিতে লাঙ্গল বইছে। মাটির বুক চিরে ধান বাইবে। বছর এই সময়টাতেই একটু আবাদ হয় যা। এদিকে আবার গ্রামের কিছু মহিলা গরু, ছাগল নিয়ে ছুটছে ঘাসের খোঁজে।
সোজা বয়ে চলা এই মেঠোপথ টা শিউলির ভীষণ প্রিয়। কত ছুটে চলেছে এই পথে। মালা তার সঙ্গী হয়েছে। এখনো ছুটে তবে মানুষের কথার তোপে একটু কমেছে।
আশে পাশে চলা সকলের তার চেনা মানুষ। একই গ্রামের হওয়াতে অচেনা হওয়ার উপায় নাই। আপন মনে হাঁটছে শিউলি। হুট করে পথে পিছন থেকে কেউ ডেকে উঠলো।
“শিউলি আপা খাড়াও।”
শিউলি থেমে গিয়ে পিছনে তাকালো। হাবিব ছুটে আসছে তারই পানে। তার থেকে খানিকটা দূরে।
এক সময় হাবিব তার সামনে এসে দাঁড়ালো। হাফাতে লাগলো অবিরত। শিউলি একটু সময় দিলো শান্ত হতে। তার পর শুধালো,
“ কি হইছে? এভাবে দৌঁড়ে আসলি কেন?”
হাবিব হাঁটু থেকে হাত উঠিয়ে শিউলির দিকে তাকিয়ে বলল,
“ আব্বায় কইলো তোমার সাথে ভাই জানের বিয়ে দিবে। আমি মেলা খুশি হইছিলাম শুনে কিন্তু…..
হাবিব থেমে গেলো। সঙ্গে মুখের আদল ও পরিবর্তন। আফসুরের সুরে কথাটা শেষ করলো। বলল,
“ কিন্তু ভাইজান ওই যে পাপিয়া আপা আছে না তারে বিয়া করবার চায়। আব্বা মানতাছে না এ নিয়ে হুলুস্থুল কান্ড বাড়িতে দুদিন ধরে।”
হাবিব মন খারাপ করে কথাটা শেষ করলেও শিউলি খুশি হলো। অজান্তেই হেসে উঠলো। তার এই হাসি দেখে হাবিব হা হয়ে ফের শুধালো,
“ আপা তুমি হাসতাছো কেন? ভাইজান কে কি তোমার ও পছন্দ না? তোমার ও পছন্দের কেউ আছে?”
হাবিরের কথায় শিউলি চমকায়। হাসিমুখ মুহূর্তে বিলিন হয়। থেমে রাখা পা দুটো চলতে শুরু করে। হাবিব সঙ্গ দিয়ে হাটে পাশে। শিউলি দূরে পথের ধারে বড় বটগাছটার দিকে দৃষ্টি র্নিক্ষেপ করে বলে,
“ ভাইজান তো পছন্দের তবে সেটা অন্য ভাবে। ভাইজান যাকে ভালোবাসে তাকেই তো বিয়ে করা উচিত হাবিব।”
শিউলি শেষের প্রশ্নটার উত্তর দিলো না। মূলত দিতে পারলো না। ভালোবাসা বুঝতো না, জানতো না কি তখনই ভালো ছিলো সে। হুট করে অচিন মানুষ সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেলো। গুছিয়ে দিবে বলে কথা দিয়েও এলো না। এ নিয়ে মন খারাপ আর করবে না বললেও মনে পড়ে যায়। শূন্যতা অনুভব করে মানুষটার আগমনের জন্য। আশা ছেড়ে দিয়েছে তবে একটা খোঁজ পেলে ভালো লাগতো কিন্তু সম্ভব নয়। তার না হোক কারো হয়ে সুখে থাকুক এই প্রার্থনা বুকে পাথর চাপা দিয়ে হলেও করেও রোজ রাতে।
____________
মাতবর বাড়িতে রুপসির রাজ চলে। সন্তানসম্ভবা হওয়াতে সাহেলের সঙ্গে নুরুল আলম ও মাথায় করে রাখে। সালেহা কে খেদমতের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। সাহেল বউ অন্ত প্রাণ যেন। যা বলে তাই শোনে। কাজের জন্য যে তিনজন আছে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে রুপসি। সেদিনই একজন কে থাপ্পড় মেরেছিলো খাবার দেরিতে দেওয়ার জন্যে। কেউ তাকে কিছু বলেনি। যেন সে এই বাড়ির রানী।
নীরাও হয়েছে এক সারাদিন ওই মহিলার সঙ্গে চিপকে থাকে যা নিধির একদম পছন্দ নয়। আজ সহ্য করতে না পেরে বড় বোন কে বলেই ফেললো,
“তোমার ওমন ডাইনির মতো মেয়েটার সঙ্গে কিসের ভাব আপা? ঘৃণা লাগে না? চোখের সামনে বেহায়াপনা করে বেড়ায়?”
নীরা সবে ঘরে প্রবেশ করছিলো এমন সময় নিধির এমন প্রশ্নে ভ্রু কুঁচকে আসে। কিছুটা রাগ মিশ্রিত কন্ঠে শুধায়,
“ কি বলতে চাচ্ছিস?”
“কি বলতে চাচ্ছি তুমি ভালো করেই জানো। যার জন্য সংসারের এই হাল হয়েছে, সমস্ত সুখ শান্তি চলে গেছে। বাড়িটা নরকে পরিনত হয়েছে।”
নীরা অসহ্যকর ভাব প্রকাশ করে উত্তর দিলো,
“আমি তো বাড়িতে আনন্দ দেখতে পাচ্ছি।
তোর যদি নরক মনে হয় তবে কিছু করার নেই। যার কারণে এতো পিরিত তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয় বিয়ে করা কোনো পাপ নয়।”
“ হ্যাঁ পাপ নয় কিন্তু যে কারণে করেছে সেটা পাপ।লালসা কখনো শান্তির হতে পারে না। যাকে ঘরে তুলেছে সে কেমন নারী তা এই কয়েক মাসে টের পেয়েছি। পাশের গ্রাম থেকে সুনাম ভেসে আসে।”
শেষটা ব্যঙ্গ করে বলল নিধি। নীরা তর্কে জড়াতে চাইলো না। হুমকি সরূপ শুধু বলল,
“ পরের বার আমাকে এমন প্রশ্ন করার সাহস দেখালে আব্বাজান কে বলে দিতে বাঁধ্য হবো তুই বেয়াদবি করেছিস আমার সঙ্গে এবং ভাবিজান কেও ডাইনি নামে সম্মোধন করিস।”
নীরা ঘর থেকে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেলো। তাদের থাকার ঘর আলাদা হয়েছে চার মাস আগেই। সাথে সম্পর্কেও ঘুন ধরেছে কিছুটা। বোন আর বোনের সম্পর্ক মধুর হয় অথচ তাদের বেলায় উল্টো। যেন দুজন দুজনের বিপরীত রূপ।
নিধি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে এগিয়ে গেলো সামনে আলমিরার দিকে। আজকাল নিজেকে বড্ড একা লাগে। মালা, শিউলিও তেমন আসে না। শিউলির মন খারাপ বুঝতে পারে।
সে নিজেও একই পথের পথিক, শুধু পথটা সামান্য ভিন্ন। একজন আশায় রেখে গেছে আরেকজন নিরাশায় রেখে সবকিছু শেষ করে গিয়েছে। যদিও আশাও নিরাশায় পরিনত হয়েছে।
নিধি আলমিরার ভেতরে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা শাড়ির ভাঁজের মধ্যে একটা চিঠি বাহির করলো। সেই চিরচেনা চিঠি যার প্রতিটা শব্দ ওর চেনা এবং মুখস্থ। এতোবার পড়লে মুখস্থ না হয়ে পারে?
এই চিঠি চোখ জল টলমল করায়,ভেতর কাঁদায় তবুও পড়তে ভালো লাগে নিধির। কিছু কষ্ট যেচে নিতে ভালো লাগে এটাও তেমনই।
_____________
নাজিরের হাতে ভেঁজা লুঙ্গি। নতুন বাড়ির শিনটের তৈরি দুয়ারের সামনে আসতেই মালার নাম ধরে ডাক ছাড়লো। মালা ঘরে কিছু একটা করছে। তাই ঘর থেকে না বেরিয়েই শুধু উত্তর দিলো, ‘হুম।’
নাজির একটু আগে বাহিরে পায়খানা তৈরির কাজ শেষ করে তার পর নদী থেকে গোসল ও সেরে আসলো । মালা কে ঘর থেকে বাহির হতে না দেখে লুঙ্গি টা আঙ্গিনায় টানানো দড়িতে মেলে দিলো। তার পর একটা ফতুয়া পরে ঘরের দিকে পা বাড়ালো। ঘরে ঢুকেই টাস্কি খেয়ে গেলো। স্থির হয়ে দাঁড়ালো দুয়ারের কাছেই। সামনে এক অপরুপ কন্যা শাড়ি পরে আরো অপরূপা হয়েছে। লাল শাড়ির সঙ্গে কাচের চুড়ি, ঠোঁটে লিপস্টিক আর চোখ কাজল দিয়েছে। চোখ ধাঁধানো সুন্দর লাগছে।
মালা সেজেগুজে অপেক্ষা করছিলো নাজিরের আসার। এই কারণেই মূলত ডাকার পরেও বাহিরে যায়নি। মালা নাজির কে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে লজ্জা পেলো। মাথা নিচু করে লজ্জা মিশ্রিত কন্ঠে শুধালো,
“ কি দেখতাছেন এভাবে?”
“তোমারে।” নাজিরের কন্ঠে মুগ্ধতা মেশানো। স্বর অস্পষ্ট কিছুটা। ও দুয়ার থেকে ঘরের ভেতরে আসলো। চৌকিতে বসা মালার নিকটে গিয়ে দাঁড়ালো। লজ্জাবতী কন্যার মুখখানা দু’হাতের আঁজলায় নিয়ে উপরে তুললো সামান্য। মালা এবার তাকালো। নাজিরের নেশালো দৃষ্টি। চোখে চোখ পড়তেই দৃষ্টি আরো গাঢ় হলো। বলল,
“তোমারে অপরুপ সুন্দর লাগছে মালা। জীবনে দ্বিতীয় বার মনে হলো আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটাকে দেখছি।”
মালার লজ্জামাখা মুখশ্রী মুহূর্তে পরিবর্তন হলো কিছুটা মালিন্য কন্ঠে জানতে চাইলো,
“ প্রথমবার কাকে দেইখা সুন্দরী মনে হইছিলো শুনি?”
মালার অভিমানি ও মালিন্য কন্ঠে নাজির উচ্চস্বরে হেসে উঠলো। তার অভিমান আরো গাঢ় হলো। মুখ ঘুরিয়ে বসলো জানালার দিকে। নাজির হাসি থামালো। ধীর পায়ে গিয়ে বসলো মালার সামনে। মালা আবার মুখ ঘুরিয়ে বিপরীতে গেলো। নাজির বুঝতে পারলো কিশোরী কন্যার অভিমান।
সে আরেকটু এগিয়ে গিয়ে মালার হাতখানা একহাতে আলতো করে ছুঁলো। আরেক হাতে মুখখানা নিজের দিকে ফেরালো। কিছুক্ষণ আগের লজ্জা মিশ্রিত মুখখানা আঁধারে পরিনত হয়ে বড্ড বাজে লাগছে তার কাছে। সব সময় হাসবে এটাই তার কাছে সুন্দর লাগবে। মালা তাকালো না নাজিরের দিকে। নাজির দুটো হাতই দু’হাতে আলতো করে ধরে সামনে মেলে ধরলো। তার পর টুপ করে হাতের পিঠে একটা চুমো খেলো। বউয়ের অভিমান সরাতে কাঙ্ক্ষিত উত্তরটি দিলো,
“প্রথম বার ও আমার সামনে বসে থাকা মেয়েটিকেই সবচেয়ে সুন্দর মনে হয়েছিলো। যেদিন তাকে আমি বউ রূপে দেখেছিলাম। পবিত্র বন্ধনের চেয়ে সুন্দর আর কি হতে পারে? আমার জীবনে যতবার কাউকে সুন্দর মনে হবে ততবারই তুমিই রবে মালা।”
মুহূর্তে মালার মুখশ্রীতে খানিক আগে বিলিন হওয়া হাসির রেখা ফুঁটে উঠলো। আনন্দে আর আদরে জড়িয়ে ধরলো নাজিরের কাঁধ। মাথা রাখলো প্রসস্থ বুকে। তার পর আবেগী কন্ঠে বলল,
“ আপনাকে অনেক ভালেবাসি আমি। প্রথমদিনের মতো সব সময় আমারে আগলাইয়া রাইখেন। এই হাতে হাত রেখে পথ দেখাবেন।”
নাজির মুখ নিচু করে বুকে মাথা রাখা মালার কপালে অঁধর ছুঁইয়ে দিলো। প্রতিত্তোরে হেসে বলল,
“ সব সময়, সারাজীবন আমিও তোমায় ভালোবাসি এবং বেসে যাবো।”
______________
পাপিয়া বাড়ি থেকে বেরোয় না তেমন। কারণ বাহির হলেই অনেকের অনেক কথা শুনতে হয় যা ওর হৃদয় কে ক্ষত বিক্ষত করে দেয়। তার বলতে ইচ্ছে করে এতে তার কি দোষ? সৃষ্টি কর্তার কাছেও জানতে চায়, ‘ কপালে কি এই লেখা ছিলো? এর চেয়ে জন্ম না নেওয়াই ভালো ছিলো।’
পাপিয়া নিত্যদিনের মতো ঘরেই বসে ছিলো। হঠাৎ পানি পিঁপাসায় ঘর থেকে বেরোয়। রান্ধন ঘরে গ্লাস নিতে গিয়ে ভাই আর ভাবির কন্ঠ শুনতে পেলো। তার ভাবি বলছে,
“ এমনি অভাবের সংসার তার মধ্যে আরেকটা জুটেছে। নিজের ঘর খাইছে এখন আমাদের উপর বসে খাইতে আইছে। বলি তুমি কিছু কওনা কেন?চুপ থাকলে হইবো? আমাদের ভবিষ্যৎ নাই?
ঘর ছাড়া তার উপর বন্দ্যা। কে বিয়ে করবো ওরে?সারাজীবন আমাদের ঘাড়ে চেপে থাকবে।”
ওর ভাইয়ের উত্তর শুনে আরে থমকালো।
“ ঘর থেকে বাহির কইরা তো দিতে পারিনা। আব্বারে কইয়া দেখি তিনি কি বলেন। সারাজীবন বইতে পারবো না বোঝা। আব্বায় কি করবে করুক।”
পাপিয়া সামান্য নড়েচড়ে গেলো। পা দুটো ঢিলে হয়ে এলো যেন। কেমন শরীর নিতেজ লাগছে। চোখ বেয়ে অঝরে জল পড়ছে। পর মানুষদের থেকে আপন মানুষদের কথার আঘাত বেশি ক্ষত তৈরি করে। পাপিয়া পানি না খেয়েই নিজের ঘরে আসলো। বুঝতে পারলো এই সমাজ তার জন্য নয়। মৃত্যুর পথ বেঁছে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
যার সব দরজা বন্ধ সে কিভাবে টিকে থাকবে এই পৃথিবীর বুকে? জিহানের মুখটা ভেসে উঠলেও তখন নিজেকে স্বার্থপর লাগে। কিভাবে ঠকাবে ওই লোকটাকে? কেন কথা শুনবে তার জন্য সে? এই ভেবে পিছিয়ে আসে।
নিজেকে সবচেয়ে অসহায় এবং অকেজো বস্তু আজ তার নিজের কাছেই মনে হলো। শুধু কিছু সিদ্ধান্ত আর সময়ের অপেক্ষা দিন গুনলো আঙুলের ডগায়।
___________
সময়টা তখন সন্ধ্যার ঠিক পূর্ব মুহূর্ত। একটু বাদেই সূর্য ডুবে যাবে। পশ্চিম আকাশে কমলা রশ্মি ছড়িয়ে পড়েছে। সূর্যটা বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে। নদীর জলে সূর্যের প্রতিচ্ছবি ও দেখা যাচ্ছে।
শিউলি নদীর পাড়ে বসে এটাই তাকিয়ে দেখছে। গত দু’ঘন্টা যাতব ও একা নদীর পাড়ে বসে আছে। মালা আজ সঙ্গী হিসাবে নেই। নতুন সংসার, নতুন জীবন নিয়ে তার দিন যাচ্ছে বেশ! এতে সে ভীষণ খুশি।
ইতিমধ্যে সূর্য অর্ধ ডুবেছে মুহূর্তে পুরোটাই ডুবে গেলো। চারপাশ এখনো পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ধীরে ধীরে আঁধার হয়ে যাবে চারপাশে। এই নদীর বুকে এখন অর্ধ পানি। কোনোদিকে আবার একটুও নেই। শিউলি এবার নদীর জল থেকে স্থির দৃষ্টি সরালো। নজর ফিরালো ডানপাশে। আঁধার হয়ে এসেছে চারপাশে। খুব বেশিদূর পর্যন্ত দেখা না পেলেও কাছে কূলে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে শুনতে পেলো আমেনা ওর নাম ধরে ডাকছে অবিরত। শিউলি এবার উঠে পড়লো। উঠতে গিয়ে ঘুরানো পলকে মনে হলো একটি নৌকা এগিয়ে আসছে ঘাটের দিকে। না চাইতেও আগ্রহী মন তাকায় সেদিকে। দূরে আবছা আঁধারে একজন মানুষ কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। মুখ স্পষ্ট নয় তবে বেশ লম্বা চওড়া বটে! শিউলি মায়ের ডাক উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে রইলো। কিন্তু কেন? এর উত্তর তার অজানা। শুধু মনে চাইছে তাই দাঁড়িয়ে আছে। নৌকা যত এগিয়ে আসছে মানুষটা কে তত স্পষ্ট দেখতে পাওয়া আগ্রহ জাগছে। আবছা দেখা যাচ্ছে চশমা চোখ অল্প স্বল্প শুঁকনো একটা মানুষ। প্রথমে অচেনা মনে হলেও যখনই খানিকটা ঘাটের দিকে এগিয়ে আসলো এবং মুখটাও স্পষ্ট হলো। শিউলির বুক কেঁপে উঠল।
চমকালোও বটে। অবিশ্বাস্য চাহনি সরলো না এক মুহূর্তের জন্য। বিস্ময় আর আশ্চর্যের সহিত টলমল চোখে তাকিয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠলো,
“ ডাক্তার সাহেব।”
চলবে…………………..?

