#একটা_ছিলো_সোনার_কন্যা
#শ্যামলী_রহমান
#পর্ব:২৭-২৮
চারদিকে আলো ফুটেছে সবে। ট্রেন এসে হাজির হলো স্টেশনে। এখন বাজে পাঁচটা পয়তাল্লিশ।
মাহাদ,শিউলি,সাঈদ আর নিধি ট্রেনের অপেক্ষায় বসে ছিলো। নাজির আর করিম মিয়া এসেছে তাদের ছাড়তে। শিউলি মন খারাপ করে বসে আছে। চোখ দিয়ে জল পড়ছে এখনো। ভোর রাতে বেরোনোর সময় আমেনা বেগম, জবেদা বিবি আর মালা কান্না দেখে সেও কাঁদতে শুরু করে। সেই কান্না এখনো থামেনি। নিঃশব্দে শুধু চোখের জল মুছছে। করিম মিয়া পাশে বসে আছে। মেয়েকে বুঝাচ্ছে শান্তনা দিচ্ছে। নিজের ভেতর কাঁদলেও হাসিমুখে কথা বলছে মেয়ের সঙ্গে। নিধি নিশ্চুপ। মুখে কোনো নেই, চোখে নেই অনুভূতি। সে বেশ শক্ত ধাঁচের মানুষ। উপর দেখে ভেতর বুঝা বেশ কঠিন। তবে মনে মনে ভাবছে কিছু কথা। ভোর রাতে বেরোনোর সময় হঠাৎ নুরুল আলমের আগমন ঘটে তার সামনে। মাফ চায় হাত জোর করে। নিধি তিরস্কার করে হাসে। বলে,
“অহংকার,দম্ভ চুর্ণ হলো? যে নারীদের মতামত কে প্রাধান্য দেয় না, সে নারীর কাছে ক্ষমা চাইছেন? ব্যক্তিত্বে বাঁধছে না আজ?”
নুরুল আলম মাথা নিচু করে রইলো। নিধির স্থির দৃষ্টি অন্যপাশে গেলো। সাঈদ ইশারায় কিছু একটা বলছে। নুরুল আলম বলল,
“দম্ভ,অহংকার আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিলো মা।”
অনুশোচনার কন্ঠে নিধির কন্ঠ নরম হলো। বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে মা,ভাইয়ের থেকে বিদায় নিয়ে বাবার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
“আমি আপনাকে মাফ করার কেউ নই। আমি আপনার মেয়ে আমার কাছে আপনি শ্রদ্ধার।
পিতা বড় ভারি শব্দ। আপনার প্রতি যতটুকু রাগ,অভিমান, অভিযোগ ছিলো তা শেষ করলাম। ভালো থাকবেন। আর হ্যাঁ সবকিছুর পরেও যে মানুষটা সঙ্গ ছাড়েনি তাকে এই শেষ বয়সে না-হয় একটু যত্নে রাখার চেষ্টা করবেন। খারাপ সময়ে সকলে পিছুটান দিলেও ওই নারীই কিন্তু সঙ্গ দিয়েছে। নারীদের মতামত কে গুরুত্ব দিতে শিখুন, বুঝতে শিখুন তার সহ্য ক্ষমতা ও ভালোবাসা।”
নিধি বেরিয়ে গেলো। এক এক করে সকলে চলে গেলো। কেবল নুরুম আলম ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো। তাকিয়ে শূন্য আকাশে। একটা চাঁদ জ্বলজ্বল করছে। দিনের আলে না ফেঁটার কারণে দেখা যাচ্ছে। সেখানে তিনি নিজেকে দেখতে পেলেন। নিঃসঙ্গ আকাশ কে সঙ্গ দিতে চাঁদের আগমন হয়েছে। তেমনই তো সালেহা ও তাকে সঙ্গ দিয়েছে এতোকিছুর পরেও।
“ নিধি চলো।”
সাঈদের ডাকে তার ধ্যান ভাঙলো। তাকিয়ে দেখলো মাহাদ উঠেছে শিউলি করিম মিয়া কে জড়িয়ে কাঁদছে। তিনি মাথায় হাত বুলিয়ে উঠিয়ে দিলেন ট্রেনে। নিধি উঠতেই নাজির ওর সামনে গেলো।বলল,
“সাবধানে থাকিস। আসিস সময় করে আর চিঠি দিতে ভুলিস না ঠিক আছে?”
নিধি মাথা নাড়ালো। বলল,
“তুমি আর মালা ফিরে যেও বাড়িতে। আব্বা নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। এই সময় পাশে থাকা প্রয়োজন। তিনি ভালো পিতা না হতে পারলেও তুমি ভালো সন্তান হয়ে পাশে থেকো।”
“আমিও ভেবেছি। বাবা বলার সাহস পায়নি তবে মা কে দিয়ে বলিয়েছে। এখান থেকে ফিরে ও বাড়িতে উঠবো।”
এর মধ্যে ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠলো। ওরা সকলে নিজেদের সিটে বসে পড়লো। শিউলি একচিত্তে স্টেশনে হাসিমুখ ও বিষাদ চোখে দাঁড়িয়ে থাকা করিম মিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে জল আসলেও মুখ হাসছে। কারণ তার মেয়ে বলেছে, ‘তোমার হাসি মেলা সুন্দর লাগে আব্বা।’
মুহূর্তের মধ্যে শিউলি চোখের আড়ালে চলে গেলো। করিম মিয়া চোখের জল ফতুয়ার হাতায় মুছে উল্টোপথে পা বাড়ালো।
ট্রেনের গতির সঙ্গে দুলতে শুরু করলো বগি। শিউলি এখনো তাকিয়ে আছে জানালার দিকে। কারো হাতের স্পর্শে পাশ ফিরে তাকালো। সামনের নিধি দাঁড়িয়ে আছে।
“চোখের জল মুছো। আমি আছি তো। মন খারাপ হলে দুজনে চলে আসবো এখানে।”
শিউলি চোখের জল মুছলো। নিধির মতো হাসতে পারলো না তবে আর কাঁদলো না। নিধি নিজের ও মন খারাপ তবে কাউকে বুঝতে দিচ্ছে না। সে বসে পড়লো সামনের সিটে। সাঈদ তার হাত মুঠোয় রাখলো। চোখের ইশারায় আশ্বস্ত করে বলল,
“ দুঃখ,কষ্ট লুকিয়ে রাখতে হয় কিন্তু আমার কাছে নয়। কাঁদতে চাইলে কাঁদতে পারো। ভরসার বুক আছে তোমার পাশে।”
নিধি সাঈদের বুকে মাথা রেখে নিঃশব্দে কেঁদে উঠলো। আঁকড়ে ধরলো হাতের মুঠো। নিঃশব্দ কান্নার আওয়াজ কারো কানে না পৌঁছালেও নাক টানার আওয়াজ কেউ শুনতে পাচ্ছে। কিছুটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সাঈদ বলল,
“এবার থেমে যাও। হাল্কা লাগছে না এখন?”
নিধি বুক থেকে উঠে সোজা হলো। চোখ মুছে নিজেকে স্বাভাবিক করলো। মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো। বলল,
“ আমার জীবনে আসার জন্য শত কোটি কৃতজ্ঞতা। যার কাছে নিজেকে ভেঙে আবার গড়তে পারবে এমন মানুষ সকল নারীর কপালে জুটুক।”
_______
“ব্যস এখানে থামুন।”
মাহাদের কথায় ব্রেক কষলো শহুরে আটো। শিউলি মাথা তুলে চাইলো। এই শহর,গাড়ি,বাড়ি সবই তার কাছে নতুন। খুব ব্যস্তময় না হলেও গ্রামের থেকে তিনগুণ মানুষ ও গাড়ি চলে। এতো জমকানো পরিবেশে সে আগে কখনো আসেনি,দেখেনি এই রাজধানী শহর।
আটো থেকে নামতেই প্রথমে নজর পড়লো একটি দুই তলা বিশিষ্ট অর্ধ পুরোনো বাড়ি। সবুজ ও নীলের মিশ্রণ রঙ গায়। সবুজের মাঝে শ্যাওলার আবরণ দেখা যাচ্ছে না খুব একটা।
বাড়ির লোহার গেইটের একপাশে একটা জবাফুল গাছ আরেক পাশে শিউলি। লাল জবা ফুটে আছে বেশ কয়েকটা। অসময়ে শিউলির দেখা মিলেছে দু একটা। বাড়ির সামনে বড় করে নেমপ্লেটে লেখা আছে ‘শান্তি নীড়’। নামটি বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখছে শিউলি। এই নামে কেউ আছে বলে জানে না সে। মাহাদ কখন এসে পাশ দাঁড়িয়েছে খেয়াল ও করেনি। ওর আগ্রহী দৃষ্টি দেখে বলে উঠলো,
“আমার মায়ের ডাকনাম শান্তা। বাবা ভালোবেসে ডাকতো শান্তি। কারণ তার জীবনে মা এসেছিলো সুখ ও শান্তির পরশ নিয়ে। দাদা দাদি মারা যাবার পর নিজ বংশের তেমন কেউ না থাকায় মা’ই ছিলো পরিজন,প্রিয়জন। কিন্তু শেষে সেও চলে গেলো আমাদের নিঃস্ব করে। ”
মাহাদের কন্ঠ কাঁপছে। বলতে গিয়ে থেমে গেলো শেষে। শিউলি তাকালো। বিষাদ মুখখানা নজরে পড়লো। দুটো ব্যাগ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। শিউলি বলল,
“চলুন ভেতরে। ”
“ ওহ হ্যাঁ চলো।” মুহূর্তে মাহাদের মনোভাব অন্য দিকে গেলো। শিউলি কে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলো। নিচতলা ফাঁকা পড়ে আছে। কতজন ভাড়া চেয়েছে কিন্তু রাইসুল রহমান দেননি। স্ত্রীর যত্নে গুছানো বাড়িতে ভাড়াটিয়া তুলবে না পন করেছে।
মাহাদ গিয়ে থামলো উপর তলায়। চাবি দিয়ে তালা খুলে প্রবেশ করলো। বসার ঘরে নজরে পড়লো কাঠের সোফা,টেবিল, শোকেস সহ আরো জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো চারপাশ। টেবিলের একপাশে টেলিফোন ও নজরে পড়লো। এটা অবশ্য তার কাছে পরিচিত উপজেলা শহরে দেখেছিলো।
মাহাদ বসার ঘর পেরিয়ে নিজ ঘরের দিকে গেলো। শিউলিও তার পিছু নিলো।
এই সময়ে রাইসুল রহমান বাড়ি থাকেন না তা জানে মাহাদ। হসপিটালে আছেন। শিউলি কেবল চারপাশে তাকিয়ে দেখছে। গোছানো ঘরবাড়ি, জাঁকজমক চেনা,অচেনা জিনিসপত্র। অনেককিছু ও আগে কখনো দেখেনি। গ্রামের গন্ডি পেরিয়ে কখনো যাওয়া হয়নি জেলা শহরেই আর রাজধানী শহর তো দূর। মাহাদ ব্যাগ দুটো রেখে শিউলি কে বলল,
“ যাও হাতমুখ ধুয়ে পোশাক বদলে নাও। গোসলখানা এদিকে ”
শিউলি কানে সে কথা পৌঁছালো না। সে তাকিয়ে আছে দেওয়ালে টাঙানো তারই আঁকা ছবির দিকে। একদম তারই মতো লাগছে যেমনটা আয়নার নিজেকে দেখতে পায় সে।”
“ শিউলি?”
দ্বিতীয় বার ডাকে চমকালো সে।
“হুম? কিছু বলতাছেন?”
“হাত মুখ ধুয়ে শাড়ি পরিবর্তন করে এসো।”
শিউলি মনে করার চেষ্টা করলো বাড়ির কোথাও কলপাড় দেখেনি সে। তাই শুধালো,
“কলপাড় কোথায়? দেখলাম না তো বাইরে।”
মাহাদ ঘরের বামে ইশারা করে বলল,
“ওখানে।”
শিউলি তাকালো। একটা দুয়ার নজরে আসছে।
ব্যাগ থেকে শাড়ি বাহির করে প্রবেশ করলো। সম্পূর্ণ নতুন আবিষ্কার করলো চারপাশ।
নিজ বুদ্ধিতে সবটা বুঝে নিলো। বেরিয়ে আসলো খানিক পরে। এসে দেখে মাহাদ ঘরের কেথাও নেই। শিউলি গোসল সেরে বেরিয়েছে। মাথায় গামছা পেচিয়ে ঘর থেকে বেরোলো। দরজা মাড়াতেই সামনের ঘর নজরে পড়লো। মাহাদ দাঁড়িয়ে আছে ঘরের ভেতরে। শিউলি ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো। দরজার কাছে যেতেই দেখতে পেলো। সাদা-কালো ফ্রেমে দুজন বন্ধি। একজন রাইসুল রহমান তার পাশে এক ভদ্রমহিলা। বুঝতে অসুবিধা হলো না তিনিই মাহাদের মা আর এই ঘর তারই ছিলো। তার অবর্তমানে কেবল ছবিটি স্মৃতি হয়ে আছে।
শিউলি এগিয়ে গিয়ে মাহাদের কাঁধে হাত রাখলো। সে তক্ষাৎ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। শিউলি কে দেখে আবারো সামনে ঘুরলো। চোখের জল মুছে বলল,
“ চলো খাবার তৈরি করা আছে। খালা হয়তো রেঁধে দিয়ে গেছেন কিন্তু তুমি খেতে পারবে কিনা তা জানিনা।”
শিউলি গেলো না। ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনার মা ভীষণ সুন্দরী আর মায়াবী চেহারার অধিকারী ছিলেন মনে হচ্ছে। মানুষটা জীবন্ত ফুটে আছে ছবিতে দেখে মনে হচ্ছে।”
মাহাদ আবারো তাকালো দেওয়ালের দিকে। নরম ও কাতর কন্ঠে বলল,
“এই ঘরে আসলে আমার দম বন্ধ লাগে। বাড়ি ফিরে মা’কে না দেখলে সবকিছু এলোমেলো লাগে। তীব্র মাথা ব্যথার্য় মায়ের কোলে মাথা রাখলে কেমন সব ব্যথা উধাও হয়ে যেতো। জানো সেদিন তীব্র মাথা ব্যথার ছটফট করছিলাম কিন্তু মা আসেনি,হাত বুলোয়নি চুলে।”
ছাড়া ছাড়া কন্ঠে বলে থামলো সে। পর মুহূর্তে আবারো বলে উঠলো,
“পৃথিবীতে মায়ের কোল হলো সন্তানের জন্য বেহেশত।
সৃষ্টিকর্তা আমার থেকে তা কেড়ে নিয়েছে শিউলি।”
শিউলির খারাপ লাগলো। তার বোধ-হয় প্রশ্ন করা ঠিক হয়নি। প্রশ্ন না করলে মাহাদ দুর্বল হয়ে পড়তো না, বলতো না এসব।
“আপনি হাত মুখ ধুয়ে আসুন।”
মাহাদ ঘর থেকে বেরোলো। দম বন্ধ লাগছে।
মনে হচ্ছে চারদিকে মহিমা রহমান তাকে ডাকছে কিন্তু ছুঁতে গেলেই হারিয়ে যাচ্ছে।
________
নিধি আর সাঈদ দাঁড়িয়ে আছে একতলা বিশিষ্ট একটি বাড়ির সামনে। আলপনা আঁকা কিছু জায়গাতে। বাড়ির গেইট পেরোতেই নজরে আসলো বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গায় বাহারি ফুলের গাছ। কত, কত ফুল ফুটে আছে প্রতিটি গাছে ! বসন্তের আগমন আজ বাদে কালই। প্রকৃতি তা আগেই জানান দিচ্ছে। ফুল গুলোর মধ্যে বেলি, জবা আর নয়নতারা ফুলই পরিচিত। বেশ ভালো লাগলো নিধির। বলল,
“বেশ শৌখিন যে লাগিয়েছে গাছগুলো।”
“ হুম সবগুলো স্নিগ্ধা লাগিয়েছে, পরিচর্যা করে যত্ন নিয়ে। কাউকে একটা ফুল ও ছিঁড়তে দেয় না।
আশে পাশের কিছু বিচ্ছু পোলাপান কখনো ফুল ছিঁড়লে ওদের দৌঁড়ানি দেয়। কি যে পাগলামো গাছ নিয়ে!”
বলতে গিয়ে হেসে উঠলো সাঈদ। নিধি সাঈদের দিক থেকে নজর সরিয়ে ফুল গাছগুলোর দিকে নজর দিলো। বুঝতে পারলো স্নিগ্ধাই হয়তো সেই।
“যে মেয়েটা ফুল গাছের এতো যত্ন নেয় সে নিশ্চয়ই আপনাকেও তার চেয়ে বেশি যত্নে রাখতো।”
নিধির কথায় সাঈদের হাসি থেমে গেলো। তাকালো শীতল চোখে। নিধির দৃষ্টি স্বাভাবিক।
“আপনি যত্নে রাখবেন না?”
সাঈদের প্রশ্ন তাকালো সে। হাসার চেষ্টা করে বলল,
“তা কখন বললাম? আমি শুধু উদাহরণ দিলাম। মেয়েটাকে দেখতে মন চাইছে। চলুন ভেতরে।”
“উদাহরণ কখনো অন্য কাউকে নিয়ে দিবেন না নিধি। আপনি আমার প্রিয় সেও আমার প্রিয়জন।
পার্থক্য শুধু সম্পর্কের। আপনি বিবাহিতা স্ত্রী আর সে আমার মামাতো বোন। হ্যাঁ হয়তো সময়ের সঙ্গে অন্য সম্পর্ক হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু হয়নি। স্নিগ্ধা এ বিষয়ে জানতো না তেমন। তোমাকে পাওয়াতে ওই সাহায্য করেছিলো, জেনেছিলো তোমাকে চিঠি পড়ে। তার পর মামিকে বলে রাজি করায়। আমি তো লজ্জায় বলতে পারতাম না।”
নিধি আর কিছু বললো না। সে বুঝদার মেয়ে এ নিয়ে কথা বাড়ানো ঠিক নয় বুঝতে পারলো। সাঈদের পিছু নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পা বাড়ালো। তখনই পিছন থেকে কারো কন্ঠে দুজনে থেমে গেলো।
“ আরেহ! সাঈদ ভাই ফিরেছেন?”
সাঈদের অতিপরিচিত সে। নিধির কাছে অপরিচিত হলেও চিনতে অসুবিধা হলো না। গেইট পেরিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে একটি মেয়ে। কাঁধে ব্যাগ, পরনে সেলোয়ার-কামিজ। গায়ের রঙ উজ্জ্বল ফর্সা। মুখশ্রী গোলগাল ও মুখে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে রেখেছে। হাসির কারণে মুখের সৌন্দর্য বুঝি বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণ।
“ হ্যাঁ মাত্র। কলেজ থেকে আসলি?”
“ হ্যাঁ। আসসালামু আলাইকুম ভাবি। আমি স্নিগ্ধা।”
“ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কেমন আছেন?”
নিধি ও হেসে উত্তর দিলো। সামনের মেয়েটা মিশুক তার প্রমাণ পাচ্ছে আরো।
“ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আমি তোমার বয়সে হয়তো একটু বড় হবো তবে সম্পর্কে তুমি বড় তাই আমাকে তুমি করে বললে খুশি হবো।”
“ ঠিক আছে।”
“ আচ্ছা চলে এবার ভেতরে। আমি বকবক করি একটু বেশি কিছু মনে করিও না কিন্তু।”
ওরা পা বাড়ালো বাড়ির ভেতরে। প্রাণোচ্ছল মেয়েটা তার নামই মতো স্নিগ্ধ,মায়াবী ও মিষ্টিভাসি।
মেয়ের মতোই তার মা সুনিয়া বেগম ও সুন্দর মনের মানুষ। খনিকের মধ্যে নিধি টের পেলো স্বপ্নের মতো সংসার হয়তো গড়তে পারবে। আপন হতে পারবে সহজে। সংসারে মানুষ গুলো ভালো হলে সবটাই সুন্দর হয়।
২৮. __________
দিন ফুরিয়ে রাত। তার পর আবারো আগমন ঘটে আলোকিত দিনের। অলস দুপুরে খোলা বারান্দায় বসে আছে শিউলি। সকালে মাহাদ আর রাইসুল রহমান হসপিটালে চলে গেছে। যদিও তাদের গন্তব্য আলাদা জায়গায় কিন্তু বেরোয় একসাথে।
শিউলির হুট করে মন খারাপ হলো। একাকিত্ব জেঁকে ধরলো। গ্রামে চারদিকে ছুটে চলা মেয়েটার এমন চুপটি করে ঘরে থাকা জেল খানায় বন্ধির মতোই। সময়ের সঙ্গে হয়তো অনুভূতি বদলাবে। সকালে রান্না করেছে আর কাজ নেই। কাজের এক মহিলা আসে ঘরদোর পরিষ্কার করে দিয়ে চলে যায়। রান্নাও করতো কিন্তু শিউলি সে দায়িত্ব নিজেই নিয়েছে।
শিউলি উঠে পড়লো। উপর তলা থেকে নিচের দিকে নামলো। কালকে আসার পর ক্রান্ত ছিলো ঘুরে দেখা হয়নি বাড়ির আশপাশ। মাহাদের ও জুরুরি ডাকে যেতে হয় সকালেই।
নিচ তলায় এসে দেখলো কেমন ধুলো জমেছে কিছু জায়গায়। পা না পড়লে এমনটাই হয়। ড্রয়িং রুম পেরিয়ে নজরে পড়লো ছোট একটা ঘর। যেখানে চারদিকে শুধু বই আর বই। মনে হবে বইয়ের রাজ্যে চলে এসেছে। শিউলি নেড়েচেড়ে দেখলো। বুঝতে পারলো এগুলো মাহাদের বই। সে একবার বলেছিলো।
বইগুলোর উপরে ধুলো জমেছে। শিউলি আশে পাশে কিছু একটা খুঁজলো। বাহির থেকে একটা কাপড়ের অংশ নিয়ে গিয়ে বইগুলোর ধুলো পরিষ্কার করলো। ক্রংকিটের বাড়িতেও ধুলো জমে হয়তো অনেকদিন মাহাদ আসেনি এ ঘরে।
বইগুলো পরিষ্কার করে সুন্দর মতো গুছিয়ে রেখে অন্যান্য ঘর ও বাহির সুন্দর মতো ছাড়ু দিলো,গুছিয়ে রাখলো সবটা।
তার পর বেরিয়ে গেলো থেকে সেখান থেকে। গেইটে তালা দেওয়া আছে। শিউলি জবা ফুল গাছের নিচে দাঁড়ালো। ফুল ছিঁড়তে গিয়েও কি মনে করে যেন ছিড়লো না। বাড়ির পাশে বড় একটা সেগুন গাছ দাঁড়িয়ে আছে। উঁচু ডালে অচেনা দুটো পাখি বসে আছে। মন খারাপ হয়তো তাদের দেখেই হলো।
মনে পড়লো শালিকের কথা। যাকে রেখে এসেছে সমস্ত প্রিয়জনদের সঙ্গে পরিচিত গ্রামে। অচেনা জায়গা বুঝে নিয়ে আসেনি। পরেরবার গেলে নিয়ে আসবে অবশ্যই। ছোট শিউলি গাছটাতে দুটো ফুলই বসে আছে। তার নাম এবং ফুল দুটোই একই। এই ফুলের সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে। কলপাড়ের পাশে হিন্দুপাড়া থেকে একবার বীজ এনে বুনেছিলো, গাছ ও হয়েছিলো কিন্তু গুরু এ খেয়ে ফেলেছিলো। এজন্য মন খারাপ করেছিলো।
শিউলি শুনেছে মাহাদের মুখে এসব সে লাগিয়েছে তারই কথা ভেবে। যদিও পরিচর্যা প্রথম একমাস তার মা করেছে তবে সে মানুষটা আজ নেই। শিউলির আফসোস লাগে মানুষ টাকে যদি একবার দেখতে পেলো।
“এই মেয়ে কে তুমি? এ বাড়িতে নতুন দেখছি।”
শিউলি চমকে উঠলো। তাকালো গেইটের সামনে। দুটো মধ্যবয়সী মহিলা দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টি তারই দিকে। আগ্রহী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। শিউলি উত্তর দিলো,
“ জ্বী আমি কাল এসেছি।”
মহিলা দুটোর কপাল টানটান হলো। শুধাল,
“ কে হও মাহাদ’দের?
“ উনার স্ত্রী।”
দুজনের বিস্ময়কর দৃষ্টি। যেন অবাস্তব কিছু শুনছে। ভালো করে শিউলিকে পরখ করে দেখে নিলো পুরো টা। এভাবে তাকানোতে সে অস্বস্তি বোধ করলো। তাদের বোধ-হয় বিশ্বাস হলো না। তাই তো বলল,
“কোথায় তোমার বাড়ি?”
“ বিধান নগর। শহর ছেড়ে বহুদূরের পথ।”
“ওহহ।” এমনভাবে সুর টেনে বলল যেন তাচ্ছিল্য মনে করলো। অপরজন বলল,
“শেষে মাহাদ গ্রামের বিয়ে করলো? বয়স ও তো খুব বেশি মনে হচ্ছে না। তা মেয়ে পড়াশোনা জানো?”
শিউলি মাথা নাড়ালো। তারা ওকে আর কিছু বললো না তবে নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা হতে থাকলো।
শিউলি আশ পাশ টা আরেকটু ঘুরে আবারো ঘরে এলো। বসার ঘর পেরিয়ে নিজের ঘরে পা বাড়াতেই টেলিফোন বেজে উঠলো। শিউলি দৌঁড়ে আসলো। ধরলো কানে চেপে। মাহাদ সকালে শিখিয়েছে কিভাবে ধরতে হবে। কানে চেপে ধরতেই পরিচিত কন্ঠ ভেসে আসলো,
“ কি করছো মন খারাপ লাগছে? আমি রোগী নিয়ে ব্যস্ত এজন্য দুপুরে যেতে পারবো না। তুমি খেয়ে নিও। মন খারাপ হলে লিখে রাখো কাগজে আমি এসে শুনবো তোমার মন খারাপের গল্প। তার পর ঘুরবো আমার চেনা শহর।”
“ আইচ্ছা। আপনি খাইছেন?”
“ না খাবো। স্বামীর আগে খাওয়া হয় না এসব নিয়ম ধরে বসে থেকো না। এসব কুসংস্কার আমি বিশ্বাস করি না শিউলি। ”
মাহাদের কথা ও কন্ঠে শিউলির মন খারাপ মুহূর্তে উধাও হলো। বলল,
“আপনি ফিরবেন কখন?”
“সন্ধ্যা হলে। বাবা হয়তো ফিরবেন বিকেলে।
বাবাকে চা দিও তার অভ্যাস আছে চা’য়ের কাপে।”
শিউলি হাসলো। সবটা কেমন ছোট বাচ্চা কে মানুষ শিখিয়ে পড়িয়ে দেয় তেমনটাই সে দিচ্ছে।
মাহাদ শিউলি হাসি টের পেলো। ব্যস্ত কন্ঠে বলল,
“রাখছি। একটা রোগী দেখে এসে খেয়ে নিবো তার পর একটা জুরুরি মিটিং আছে।”
লাইন কেটে গেছে কিন্তু শিউলি এখনো টেলিফোন কানে ধরে আছে। খুব ইচ্ছে করে বাবা,মা,দাদি, মালার কন্ঠ শুনতে। কিন্তু অসম্ভব। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ঘরের ভেতরে গেলো।
_________
করিম মিয়া বাহির থেকে ফিরেই ডাক ছাড়লো,
“ শিউলি। শিউলির মা কই গেছো সকলে। ”
আমেনা ডাক শুনে পাশের বাড়ি থেকে দৌঁড়ে আসলো। জবেদা বিবি ও ঘর থেকে বেরিয়ে বলল,
“ কি হইছে বাপ? শিউলি নাই মনে নাই?”
মুহূর্তে করিম মিয়ার মুখ মলিন হয়ে গেলো। ক্ষীন স্বরে বলল,
“ ওহ হ্যাঁ। ভুইলা গেছিলাম মা। নেও আমেনা পশ্চিমে নদীর দিকে পানি নাই বললেই ওখানে আইজ অনেক মাছ পাওন গেছে। ছোট মাছ গুলান রাইনন্ধো। আর এগুলো মাতবর বাড়ি দিয়ে আসি নাজির আসার পথে দিয়ে আসতে কইলো।”
আমেনা নিলো। করিম মিয়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো। দুয়ারে গিয়ে একবার তাকালো। পুরো বাড়ি কেমন ফাঁকা লাগছে। বাবার বুক খাঁ খাঁ করছে। পুড়ছে মন। বাড়িতে প্রবেশ করার মুহূর্ত পর্যন্ত মনে ছিলো না শিউলি নেই বাড়িতে। ভেবেছিলো ডাকলেই বরাবরের মতোই শিউলি আসবে বেরিয়ে। বলবে, ‘ কি হয়েছে আব্বা?’
________
নাজির আর মালা কালই মাতবর বাড়ি এসে
উঠেছে। নুরুল আলমের সেই নাজিরের কথা না হলেও মনে মনে খুশি হয়েছেন। সাহেল ঘর বন্ধি রেখেছে নিজেকে। মায়ের কথামতো পাপিয়ার সামনে যেতে পারেনি,ক্ষমা চাইতে পারেনি সংশয়ে। তার নিজের কাছেই মনে হয়েছে সে ক্ষমার অযোগ্য।
মালা বিকেলে রান্ধন চড়িয়েছে রাতের জন্যে। সালেহা বেগম সহ আরো দুজন সাহায্য করেছে।
নাজির এখনো আসেনি মাঠ থেকে। সালেহা বেগম একটা থালায় কিছু মুড়কি আর মিষ্টি দিয়ে মালা কে বলল,
“মালা এগুলো তোমার শশুড় কে দিয়ে এসো।”
“ আ আম আমি?” মালা সংশয় নিয়ে বলল। যেহেতু ওকে পছন্দ করতো না এজন্য এই সংশয়।
সালেহা বেগম ওর বিষয়টা বুঝে হাসলো। বলল,
“ সৃষ্টিকর্তা কখন কার মনে সুবুদ্ধি দেন, পরীক্ষায় ফেলেন কে বলতে পারে? গিয়ে দেখো অগ্রাহ্য করে নাকি কদর। জানো তো মানুষ আঘাত পেলেই মূল্য বুঝে।”
মালা মাথা নাড়িয়ে হাতে নিলো। সংশয় ও দ্বিধা নিয়েই চললো। ঘরের সামনে আসতেই দুয়ারে ঠকঠক করলো। নুরুল আলম তখন ছোট টিনের বাক্সের ভেতরে কিছু দলিলপত্র দেখছিলেন বেশ মনোযোগ দিয়ে। ঠকঠক আওয়াজে মনোযোগ নষ্ট হলো। সামনে তাকিয়ে দেখলো মালা দাঁড়িয়ে আছে। চোখ মুখে কিছুটা ভয় ও দ্বিধা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে আসবে কিনা বুঝতে পারছে না সে।
নুরুল আলমের দৃষ্টি উৎফুল্ল হলো। কিঞ্চিৎ হেসে অনুমতি দিলো।
“ ঘরে এসো।”
মালা সাহস পেয়ে ভেতরে গেলো। থালা আর পানির জগ রাখলো। গ্লাসে পানি ঢেলে দিয়ে মিনমিনে কন্ঠে বলল,
“আম্মা পাঠালেন।”
নুরুল আলম শুনলেন। বললেন বসতে পাশে কাঠের চেয়ারে। ও বাধ্য মতো বসলো। নুরুল আলম বক্সে দলিলপত্র ঢুকিয়ে রেখে দিলেন আলমিরার ভেতরে। তার পর খাঁটে বসে মালার দিকে চেয়ে বললেন,
“ সংশয় লাগছে? লাগার কথাও। আমি ভালো মানুষ নয় মোটেও। তবে ভুল শুধরানোর চেষ্টা করছি। গায়ের রঙ নিয়ে যে তাচ্ছিল্য করেছি এর জন্য আমি অনুতপ্ত এবং তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী । বাবা হিসাবে মাফ করে দিও মা।”
মালা এমনিতেই নরম মনের। নুরুল আলমের নরম কন্ঠে অনুশোচনা তাকে উদারতা শেখালো। তড়িৎ কন্ঠে বলল,
“ ভুল মানুষের হয়। আপনি বুঝবার পারছেন এ মেলা। আমি মাফ কইরা দিছি।”
নুরুল আলম হেসে আবার আবদার করলেন।
“তাহলে আজ থেকে বাবা ডেকো। এতোদিনের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত একটু করার চেষ্টা করি। নিধি কে তো কত আঘাত দিয়েছি অথচ পিতা হিসাবে মেয়েকে আঘাত থেকে দূরে রাখার কথা ছিলো। ভালো পিতা,স্বামী কিছুই হতে পারিনি নিধি এ কথা ঠিকই বলেছিলো।”
নুরুল আলমের কন্ঠ মলিন। মালার মাথায় হাত রেখে দোয়া দিলো। সে উঠে যেতেই বলে উঠলো,
“হারানোর পরই মানুষ সম্পর্কের মর্ম বুঝতে পারে।
__________
সকাল, দুপুর মলিন কাটলেও বিকেল কাঁটলো বেশ! রাইসুল রহমান ফিরে গল্প জুড়লেন৷ মজার কথায় হাসালেন। স্নেহের বাঁধনে বাঁধলেন কিছু সময়ের মধ্যেই। শিউলি করিম মিয়ার কিঞ্চিৎ ছায়া দেখতে পেলো শশুড়ের মধ্যে।
“ আব্বা চা নিন।”
রাইসুল রহমান বসে সকালের খবরের কাগজ পড়ছিলেন। সকালে সময় পাননি পড়ার। শিউলির কন্ঠে খবরের কাগজ রেখে চা’য়ের কাপ নিলো। শিউলি বসলো পাশের চেয়ারে। রাইসুল রহমান চুমুক দিয়ে বলল,
“আম্মা চা’য়ে চিনি বেশি হয়েছে। পরবর্তী থেকে কম দিও। আমি চিনি কম খাই। তোমার শাশুড়ী হলে এই চা খেতে দিতো না নিশ্চিত।”
শিউলি মুগ্ধ হয়ে গেলো। আম্মা ডাকটা বাবার পরে প্রথম রাইসুল রহমানের মুখে শুনলো। চা’য়ে চিনি বেশি হয়েছে এই প্রসঙ্গে কাচুমাচু কন্ঠে বলল,
“এবার থেকে কম দিবো। নতুন করে বানিয়ে আনি আব্বা?”
“ না লাগবে না। তুমি বরং ঘরে বিশ্রাম নেও। মাহাদ হয়তো এখনই চলে আসবে।”
শিউলি নাকোচ করলো।
“আপনি বরং আপনার আর আম্মার গল্প বলুন।
আপনাদের গল্প শুনি একটু।”
“ আমাদের গল্পে সংগ্রাম বেশি। আমার চেয়েও বড় ঘরের মেয়ে হয়েও পরিবার ছেড়ে বেকার এক যুবকের সঙ্গে সংসার পেতেছিলো। অভাবের সংসার হাসিমুখে মেনে নিয়েছিলো। আমার এই গড়ে উঠার পেছনে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব শান্তির।”
কথা শেষ হতে না হতেই দরজায় কড়া নাড়লো কেউ। রাইসুল রহমান বলল,
“ মাহাদ এসেছে মনে হয় যাও দরজা খুলে দাও।”
শিউলি উঠে গেলো। রাইসুল রহমান বসার ঘর ছেড়ে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো।
দরজা খুলতেই মাহাদের হাসিমাখা মুখশ্রী দেখতে পেলো শিউলি। অঁধর জুড়ে হাসি থাকলেও পুরো গা ঘেমে গেছে গরমে। বাহিরে বেশ গরম। দুপুরে কড়া রোদ উঠেছিলো। শিউলির মন যতটুকু ভালো ছিলো মাহাদ কে দেখার পর আরো ভালো হলো। ও ভেতরে প্রবেশ করতে করতে শুধালো,
“একা লেগেছে? মন খারাপ হয়েছে?”
“ একটু।”
“আব্বা এসেছেন?”
” হুম।”
শিউলি পিছনে তাকিয়ে শাড়ির আঁচল দিয়ে মাহাদের মুখ মুছিয়ে দিলো। এখানে হাতপাখা নয় বিদ্যুৎ আছে এজন্য সুইচ চেপে বৈদ্যুতিক পাখা চালু করলো। মাহাদ ঘরে গিয়ে প্রথমে হাতমুখ ধুয়ে পেশাগত পোশাক পরিবর্তন হয়ে সাধারণ পেশাক পরে বেরিয়ে আসলো। ক্রান্ত শরীর নিয়ে বসে পড়লো বিছানায়। শিউলি এক গ্লাস পানি এনে দিলো। খেয়ে গা এলিয়ে দিলো বিছানায়। শিউলি পাশে দাঁড়িয়ে শুধালো,
“ কাজ কি বেশি আছিলো?”
মাহাদ বন্ধ চোখ জোড়া খুললো। আসলে তার মাথা ব্যথা করছে। ক্রান্তি কম তবে শিউলিকে বলে বিচলিত করতে চাইলো না। তাই উঠে বসলো। ওর হাত টেনে পাশে বসিয়ে বলল,
“এই নতুন শহর নতুন সংসারে তোমাকে আমার সময় দেওয়া উচিত ছিলো কিন্তু কাজের জন্য পারিনি। তোমার খারাপ লাগা আমি দূর থেকেও বুঝতে পারি।”
“মানিয়ে নিবো সময় লাগবে শুধু একটু। আপনি বিশ্রাম নিন।”
শিউলি উঠতে চাইলে মাহাদ হাত টেনে ধরলো।
“কিছু বলবেন?”
“একটু বসো কোলে মাথা রাখি।”
শিউলি চট করে বসে পড়লো। এমন আবদার ফেলার সাহস নেই তার। মাহাদ কোলে মাথা রাখতেই ওর দু-হাত গেলো মাহাদের চুলে। আরামে চোখ বন্ধ করলো সে।
চলবে……………..?

