#একটা_ছিলো_সোনার_কন্যা
#শ্যামলী_রহমান
#পর্ব—৩০
ঈদ উল আযহা’র পর মাহাদ শিউলি কে নিয়ে সোনাইমুড়ী গ্রামে এসেছে। সাঈদ আর নিধিও এসেছে সঙ্গে। শিউলি আবারো খনিকের জন্য চঞ্চলতা ফিরে পেয়েছে। সখি মালার সঙ্গে গল্পেও মজেছে। করিম মিয়া আর আমেনা মেয়েকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্নহারা হয়েছে।
করিম মিয়া মেয়ের জন্য হাঁট থেকে পছন্দের জিলেপি নিয়ে এসেছে। এসেই ডাকলো তাকে।
“ শিউমি মা?”
শিউলি ঘর থেকে বেরোলো। মাহাদ ঘরে নেই সে নিজেও গিয়েছে নাজিরের সঙ্গে হাঁটে।।
“ হুম আব্বা হাঁট থেকে আইসা পড়ছেন?”
“ হ মা তোমার লাইগা গরম গরম জেলেপি আনছি তোমার পছন্দের।”
শিউলি মহা খুশি হলো। উঠোন থেকে দৌঁড়ে আঙ্গিনায় নামলো। করিম মিয়া নিজেও খুশি মনে থলে থেকে একটা কাগজে মোড়ানো টোপলা বাহির করে দিলো। ও নিয়ে খুলেই মুখে দিলো। বলল,
“অনেক মজা আব্বা। তুমিও খাও।”
বলেই বাবার মুখের দিকে বাড়িয়ে দিলো জেলেপি। করিম মিয়া আনন্দে খেয়ে নিলো। আমেনা ঘরের দুয়ার থেকে বেরিয়ে দৃশ্যটা দেখে থেমে রইলো। স্বামী মেয়েকে কাছে পেলে দ্বিগুণ আনন্দে ভাঁসেন তার প্রমাণ পাচ্ছেন চারটেদিন থেকে। শিউলি মা’কে দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ডাকলো কাছে।
তিনি এসেই মেয়ের গালে হাত রাখলেন। চোখে মুখে খুশি ও জল টলমল করছে এমনই অবস্থা। বলেলেন,
“ আমার শিউলি কত বড় হইয়া গেছে। সংসারের গোছাইয়া সুন্দর করে চলতাছে। সুখে আছে, আনন্দে আছে এটা দেখতেও আমার শান্তি লাগতাছে।”
শিউলি ইমোশনাল হয়ে মা’কে জড়িয়ে ধরলো। বলল,
“সুখে থাকলেও তোমাদের জন্য মন পুড়ে আম্মা।
তোমাদের সব সময় দেখবার পাইলে সুখ টা কিঞ্চিৎ বেশি মনে হতো।”
এমনই ইমোশনাল মহূর্তে মালার আগমন ঘটলো। নাজির নেই মাহাদ ও নেই এখন দুজনে অবসর সময়ে এই ভেবে শিউলি কে ডাকতে আসলো।
“ শিউলি আয় তো নদীর পাড়ে বসি একটুখানি গল্প আছে তোর সঙ্গে।”
মায়ের আলিঙ্গন থেকে বেরিয়ে দুটো জিলেপি মালার হাতে দিয়ে বাকিটা আমেনা কে দিয়ে মালার সঙ্গে বেরোলো। দুয়ার মাড়াতেই মালা আগের কথা মনে করিয়ে দিলে বলল,
“ চল শিউলি আইজ একটু ছোটবেলার মতো ছুটি। আনন্দ লাগে কত। কি সুন্দর ছিলো সময়গুলো।”
বলেই মালা পথে পা এগিয়ে পিছিয়ে ছুটলো। শিউলি নিজেও রাজি হয়ে ছুটলো একইভাবে। হাসলো একইসাথে। তার পর খনিকের জন্য দুজনে চলে গেলো ছোটবেলায় রূপকথার মতো জীবনে।
___________
শিউলি ঘরের দেওয়ালে লাগানো আয়নাতে নিজেকে দেখছে। নিজের পরিবর্তন গ্রামে এসে ঝেড়ে ফেলেছে। পরেছে আগের মতোই কমদামী শাড়ি আর বাবার আনা নথ ও পরেছে নাসারন্ধ্রে। চোখে কাজল ছুঁয়ে দিলো নিজ মনে হেসে। আয়নায় নিজেকে খুঁটে খুঁটে দেখে হাসির রেশ বাড়লো। একদম আগের মতোই রুপ নিয়েছে। গুনগুন করে গান ও গাইছে। সেজেগুজে তার নিজের কাছেই ভালো লাগছে লজ্জা ও পাচ্ছে নিজে,নিজে। জবেদা বিবি মাত্র গল্প করে বেরিয়ে গেলো। গুনগুন করে গাওয়া গান মাঝে মধ্যে থামছে। শাড়ির আঁচল মুখের সামনে টেনে লজ্জা ঢাকছে আবার একটুখানি চোখ বাহির করছে।
এমনটা যেন তার নিজের কাছেই ভালো লাগছে।
“এভাবে লজ্জা পেয়ে মরে যাচ্ছো অথচ স্বামীর খোঁজ ও করছো না এটা কেমন কথা বলো?
আসার পর থেকে এখানে ওখানে বাড়ি এসে দেখি নাই।”
শিউলি চট করে পিছনে ঘুরলো। মাহাদ বলতে বলতে এগিয়ে এলো। বসলো চৌকির উপরে। শিউলি পাশেই দাঁড়িয়ে। শিউলি কিছুটা মন খারাপ করে বলল,
“কাল পরশু তো চলে যাবো একটু পাখির মতন উড়ি না-হয় তার পর আবার কবে আসি কে জানে।
আপন মানুষদের দেখার অপেক্ষার দিনগুলো ভীষণ দীর্ঘ লাগে।”
মাহাদ নিশ্চুপ তাকিয়ে রইলো। মেয়েটা আজকাল ভালো কথা বলে, বুঝতে জানে সবটা। শিউলি এগিয়ে গিয়ে বসলো মাহাদের পাশে। গ্রাম্য ভাষায় জানতে চাইলো,
“কেমন লাগতাছে?”
“ আমার বধূ,আমার অধ্যাঙ্গিনী,আমার চির সঙ্গিনী আপনাকে বরাবরের মতোই ভীষণ সুন্দর ও মুগ্ধকর লাগছে।”
এমন সুন্দর সম্মোধনে শিউলি গলে গেলো। লাজুক হাসলো। একহাতে মাহাদের হাত জড়িয়ে কাঁধে মাথা রাখে। নরম কোমল কন্ঠে ডেকে উঠে,
“ডাক্তার সাহেব।”
“হুম?”
“আমি আপনাকে অনেক ভালেবাসি।”
মাহাদ ঘাড় ডানে ঘুরিয়ে শিউলির দিকে চাইলো। ও তখন কাঁধ থেকে মাথা উঁচিয়ে তারই দিকে চেয়ে ছিলো। ‘ভালোবাসি’ শব্দের মতো চোখেও অঢেল ভালোবাসা দেখতে পেলো। যা সব সময়ই পায়।
মাহাদ মুঁচকি হাসলো। সে হাসির শব্দ নেই আছে কেবল আনন্দের বার্তা। বলল,
“আমিও ভালোবাসি সোনার কন্যা, ভীষণ ভীষণের মতোই।”
______
সাঈদ নুরুল আলমের সঙ্গে আলাপে ব্যস্ত। নিধি কেবল দূর থেকে দুজন কে দেখে যাচ্ছে। দুজনে আলাপের মধ্যে হাসছে কখনো। এতটুকু তার কাছে স্বর্গীয় সুখ মনে হলো। নুরুল আলমের পরিবর্তন তাক লাগানোর মতোই। আঘাত পেলে তবেই মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারে। নিধির নজর পড়লো দূরে সাহেলের দিকে যে হেলেদুলে হাঁটছে খালি পায়ে। তার শরীর আগের থেকে অনেক শুঁকিয়ে গেছে। কারো সঙ্গে কথা বলে না তেমন। নিজের দোষ এখন মেনে নিয়েছে। নিধি উঠে তারই দিকে এগিয়ে গেলো। পিছন থেকে বলে উঠলো,
“নিজের যত্ন নেন। এভাবে পুড়িয়ে কিছু আর আগের মতো হবে না। সাহস করে একদিন ক্ষমা চান দেখবেন নিজের ভেতর হাল্কা লাগবে।”
সাহেল পিছু ঘুরলো। বোনের সঙ্গেও কথা বলার সাহস পায় না তেমন। দুদিন হয়েছে এসেছে তবে দুটো কথাও হয়নি। সাহেল বোনের দিকে তাকিয়ে নিজের উপর তাচ্ছিল্য করে বলল,
“কয়লাকে রত্ন ভেবে কুড়িয়ে নিয়েছিলাম আর রত্ন কে ছুঁড়ে ফেলেছিলাম বাইরে। আঁধার বেছে নিলে আলোর আশা রাখি কি করে?”
নিধি ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
সাহেল চলে গেলো তবে নিধির কথায় আবারো থেমে গেলো।
“ আজ আপনি আমার সঙ্গে যাবেন ঠিক আছে?”
“ ঠিক আছে।”
সাহেল নিরবে মেনে নিলো। সাহস পেলো আশার কিঞ্চিৎ আলো দেখে। সে চলে যেতেই সাঈদ ডেকে উঠলো তাকে। নিধি চলে আসলো তারই কাছে। নুরুল আলম উঠে গিয়েছে ততক্ষণে। সাঈদ কে জিজ্ঞেস করলো,
“কি হয়েছে বলুন।”
“তোমাকে না দেখে অস্থির লাগছিলো এজন্য ডাকলাম।”
নিধি চোখ ছোট ছোট করে তাকালো। অহেতুক কারণে ডাকাতে কিঞ্চিৎ রাগের ভান করে তাকালো। তার পর উপেক্ষা করে চলে গেলো ভেতরের দিকে। সাঈদ পেছন থেকে ডাকতে থাকলো শুনলো না সে। উঠোন পেরিয়ে মালার সঙ্গে হেঁটে গেলো। গালে হাত দিয়ে সাঈদ তাকিয়ে রইলো। হাসলো নিঃশব্দে সে।
___________
“আরেহ কি করছেন? আমি পারবো আপনি সরুন।”
জিহান শুনলো না পাপিয়ার বারণ। সে কল ঠেসে পানি বাহির করে দিলো। ওর মা নানা বাড়ি গেছে দুদিন হলো। জিহান কলসি ভরে পানি নিয়ে দুহাতে
ভরা কলসি বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেলো। যেতে যেতে উত্তর দিলো,
“তুমি পারবে আমি তা জানি কিন্তু আমি চাইনা তুমি ভারি কাজ করো।”
“সবে চারমাস এতেই এমন করলে হবে? মানুষে কি বলবে? স্বামী কে খাঁটাই নিই। সেদিন তো চাচি বলেই ফেললো, ‘আমরা সন্তান জন্ম দিছি কাম করতে করতে ব্যথা টের পেলে ঘরে গেছি আর এখনকার কিছুজন এমন ভাব করে যেন হেরা একাই সন্তান পয়দা করতাছে।’
“এবারো মানুষের কথা শুনেছো? তাদের কাজই মানুষের সুখ সহ্য করতে না পারা।”
জিহান ততক্ষণে কলসিটা উঠোনে রেখে দিয়েছে। পাপিয়ার অঁধরে কিঞ্চিৎ হাসি। আজকাল জিহানের ভরসায় অন্যের কথা গায়ে মাখে না মজা ভেবে উড়িয়ে দেয়। মাঝে মধ্যে জিহান কে শুনায় তার যত্নের সহিত কথা গুলো শুনতে ভালো লাগে বলে। পাপিয়া প্রসঙ্গ বদলে জানতে চাইলো,
“আপনার ছেলে পছন্দ না মেয়ে?”
“তোমার মতোই একটা মেয়ে। তবে তোমার থেকে একটু কঠোর হতে শিখে, যেনো অন্যরা কি বলবে,ভাববে এসব ভেবে পিছিয়ে না আসে। ছোট এই জীবনে সুখ খোঁজা উচিত, দুঃখকে আলিঙ্গন করে সারাজীবন কাঁটিয়ে দেওয়া বোকামো ছাড়া কিছু নয়।”
পাপিয়া মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। হেসে উঠলো শব্দ করে। তার পর ঘর থেকে ভাত বেড়ে এলে দিলো জিহানের সামনে। শফিক সাহেব স্কুলে আছেন আসবেন একেবারে বিকেলে। জিহান ভাতের লোকমা তুলে ধরলো পাপিয়ার সামনে। ও মুখে নিলো সানন্দে।
“আসবো?”
জিহান পাপিয়া তাকালো দরজার পানে। নিধি কে দেখে খুশি হলো। পাপিয়া হাসিমুখে বলল,
“এসো অনুমতি চাইছো কেন?এসো।”
দুয়ার পেরিয়ে নিধির পা আঙ্গিনায় পড়তেই তার পিছনে আরেক জনের আগমনে পাপিয়ার মুখের হাসি নিভে গেলো। জিহান ভ্রু উঁচু করে তাকালো। সাহেলের আগমন তারা ঠিক বুঝতে পারলো না। সে নিধির পিছনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
পাপিয়ার আগে জিহানই উঠে পড়লো। রেগে দাঁত পিষে বলল,
“আপনি আমাদের বাড়ি এসেছেন কেন?”
“আমি নিয়ে এসেছি।”
সালেহের উত্তর নিধি দিলো। জিহান তাকালো দুজনের দিকে। পাপিয়া বুঝার চেষ্টা করছে কি হচ্ছে। এরই মাঝে সাহেল বলে উঠলো,
“আমি চলে যাবো এখুনি। এর আগে কিছু কথা বলা জুরুলি।”
ও একটু থামে। পরক্ষণে আবারো বলতে শুরু করে,
“পাপিয়া আমি তোমার সঙ্গে অনেক অন্যায়, অত্যাচার করেছি তার জন্য ক্ষমা চাইলেও বোধহয় কম হবে। ক্ষমা চাওয়া মুখ ও নেই আমার তাই-তো অনুতাপের দহনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেলেও আসতে পারিনি তোমার দ্বারে, বলতে পারিনি ক্ষমা করে দিও আমাকে। তুমিই সঠিক ছিলে ব্যর্থ পুরুষ আমি। হার মেনে নিয়েছি জীবনের কাছে। যদি সম্ভব হয় বা মনে হয় আমি ক্ষমার যোগ্য তবে মাফ করে দিও। মৃত্যুর আগে অন্তত কিছুটা পাপ কম মনে হবে।”
অনুতপ্তের ন্যায় কথাগুলো বলতে গিয়ে সাহেলের কন্ঠ কাঁপলো। দৃষ্টি রেখেছিলো মাটিতে নিবন্ধ। জিহান কিছু বলতে নিলে পাপিয়া থামিয়ে দিলো। সাহেল নিধিকে আসতে বলে উল্টোপথে পা বাড়ালো। পিছন থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তর শুনতে পেলো।
“আপনাকে আমি ক্ষমা করে দিলাম। আপনি না ছাড়লে জিহানের মতো একজন মানুষ কে পেতাম না, ভালোবাসায় ভেলায় ভাসতে পারতাম না,
এই সমাজের মানুষদের দেখিয়ে দিতে ও বুঝাতে পারতাম না সবকিছুতে নারীর দোষ নেই। সন্তান না হওয়াতে তো আরো নয়। এতটুকু বোঝানোর জন্য, এতগুলো প্রাপ্তির জন্য হলেও আপনি ক্ষমার দাবিদার মনে হলো। আপনার অপরাধ বোধ যেনে ভালো লাগলো। আপনি ভালো থাকুন, ভালো রাখতে শিখুন পরিবার কে।”
সাহেল থেমে গিয়ে পিছনে তাকালো। পাপিয়ার দিকে এক পলক তাকিয়ে বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে। নিধি পাপিয়া কে আলিঙ্গন করে ছুটলো ভাইয়ের পেছনে। জিহান কেবল তাকিয়ে রইলো পাপিয়ার দিকে। চোখ মুখে কিঞ্চিৎ রাগ।
“ কি হয়েছে?”
“ তুমি এটা কি করলে?”
পাপিয়া হাসলো। শুধু বলল,
“জানেন আপনি আমার জীবনে আসার পর অতীতের মানুষ এবং কষ্ট কোনোটাই আর মনে পড়ে না। অতি সুখে আমি দুঃখ ভুলেছি, আপনাকে পেয়েছি এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে? এতো বড় প্রাপ্তির জন্য কি উনি ক্ষমার দাবিদার নন,বলুন?”
জিহান বুঝলো। মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে হাত দুটো ধরে বলল,
“আমার জীবনে বড় প্রাপ্তি তোমাকে পাওয়া।”
_____________
আষাড় মাসের বৃষ্টি ঝুমঝুমিয়ে নেমেছে। মাহাদ আজ ঘরেই আছে। শিউলি রান্ধন করে খিঁচুড়ি রাঁধছে। রাইসুল রহমান হয়তো ঘরে শুয়ে আছেন। শিউলি ব্যস্ত হাতে পাতিলে লাকড়ি দিয়ে নাড়ছে।
তখনই সেখানে উপস্থিত হলো মাহাদ। উঁকিঝুকি দিয়ে শুধালো,
“রান্না শেষ?”
“হ্যাঁ এই তো শেষ প্রায়।”
“তাহলে আমার সঙ্গে এসো চুলো বন্ধ করে।”
মাহাদ দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকলো। শিউলি কিছুক্ষণ পরই রান্ধন ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। দরকারি কিছু লাগবে ভেবে মাহাদ কে শুধালো,
“ হ্যাঁ বলুন এবার।”
“ ছাঁদে চলো।”
মাহাদ হাত ধরে নিয়ে যেতে যেতে উত্তর দিলো। শিউলি আশ্চর্য হলো। হঠাৎ ছাঁদে কেন? তার পর বাঁধা দিলো মনে করিয়ে দিতে বলল,
“ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে দেখতে পাচ্ছেন না?”
“ হ্যাঁ এজন্যই তো ডাকছি। আজ তুমি আমি আষাড়ে বৃষ্টিতে ভিঁজবো। সে বৃষ্টি ঝরবে প্রেমের বৃষ্টি হয়ে তোমার আমার মাঝে।”
মাহাদ হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো ছাঁদে। দাঁড়ালো ঠিক ছাঁদের মাঝখানে। শিউলি আঁটকাতে চেয়েও আটঁকালো না। বৃষ্টি তার পছন্দ বটে কিন্তু সময় আর পরিস্থিতি তো পাল্টেছে এজন্য বারন করেছিলো কিন্তু মানুষটা চাইলো তখন কিছুটা পাগলামো করা মন্দ হয়।
মুহূর্তে ভিঁজে গেলো দুটো দেহ। মনের ভেতর কম্পন উঠলো। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে মাঝে মধ্যে। শিউলি দুহাত মেলে আকাশ পানে তাকিয়ে আনন্দে মাতলো। মাহাদ তাকিয়ে রইলো স্নিগ্ধতার দৃষ্টিতে। একটা সময় কাছে ভিড়লো অনেকটা। শিউলির পিঠ ঠেকলো মাহাদের বুকে। শিউলি হুট করে চমকে উঠলো। মাহাদের হাত তাকে বাঁধনে আবদ্ধ করলো। বৃষ্টি শীতল জলে কাঁপতে থাকা শিউলি মনে হয় জমে গেলো। তক্ষণাৎ ঘুরে দাঁড়ালো মাহাদের দিকে। চোখে চোখ রাখলো। বৃষ্টির পানিতে শিউলির সামনের চুল গুলো লেপ্টে আছে কপাল জুড়ে। চোখের সামনে আসতেই মাহাদ বামহাত এগিয়ে সরিয়ে দিলে চুল গুলো। শিউলি চোখ বন্ধ করে নিলো। মাহাদ ওর কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলল,
“ তুমি দিনদিন এতো মুগ্ধতার কেন হচ্ছো বলো-তো? আশে পাশে কত মানুষকে নজরে পড়ে অথচ তোমার মতো সুন্দর কাউকে লাগে না কেন?”
শিউলি চোখ খুললো। মাহাদের কথাগুলো শুধুমাত্র মন জয় করতে নয় তা ও যত্ন ভালোবাসায় ও টের পায় তাই মিছে ভাবার জো নেই। প্রতিত্তোরে বলল,
“আমার সৌন্দর্য ও মুগ্ধতার রহস্য আপনার অধিক ভালোবাসা ডাক্তার সাহেব।”
কি স্নিগ্ধ হাসি এবং উত্তর। মাহাদ হেসে উঠলো।
কপাল থেকে কপাল সরিয়ে শিউলির গাল স্পর্শ করে বলল,
“তোমার এই মুগ্ধতা বহাল থাকুক। তোমার মাঝে সময়ের ঢালে যে সৌন্দর্যই থাকুক না কেন আমি সেটাকেই ভালেবাসবো।”
চলবে……………..?

