#বুকের_পাঁজর
#লেখনিতে:#ভরসা_জান্নাত (শ্যামকন্যা)
#পর্ব:০৪
মাকে নিজের দিকে আসতে দেখে হিরা দ্রুত বড়মায়ের পিছে লুকালো।
“বড় মা,বড় মা আমাকে বাঁচাও।”
“এই এইদিকে আয়,আজকে তোকে আমার হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। বেয়াদব মেয়ে,তোকে আজকে শিক্ষা দিয়ে তবেই ছাড়বো।”
বলে আসমা বেগম তেড়ে যেতে লাগলে রাবেয়া বেগম তাকে আটকে দিলেন।
“ছোটো ওখানে দাঁড়া।ছোটো মানুষ অত বুঝে বলেনি।ভুল করতেই পারে তাই বলে মারতে হবে নাকি!”
বলে রোকেয়া বেগম নিজের পেছন থেকে হিরা সামনে আনলেন।চোখের পানি মুছে দিয়ে বললেন,
“সোনা মা,তুমি বড় হচ্ছো।কোথায় কি বলতে হয়,কাকে বলতে হয় বুঝতে হবে তো।আমরা না হয় তোমাকে কিছু না বলে আগলে রাখলাম কিন্তু বাইরের মানুষের সামনে এসব করলে তো লজ্জায় পড়তে হবে মা।আর বড় বোনেরা ই তো বলেছে,অত কিছু মনে করতে নেই।এরপর থেকে ওরা কিছু বললে আমাকে লুকিয়ে বলবে,সবগুলোকে মেরে সোজা করে দেব,বুঝলে?”
হিরা রোকেয়া বেগমের কথায় মাথা নাড়ে।
“ও এত তাড়াতাড়ি বুঝেছে নাকি।আবার একি ভুল করবে।আজ বাদে কাল একদিন তো বিয়ে দিতে হবে,পরের বাড়ি গিয়ে এসব করলে লোকে কি বলবে?”
“মেয়ে আমরা দিলে তো কিছু বলবে?”
রহিমা বেগমের কথায় সবাই অবাক হয়।মেয়ে দেবে না মানে কি? একদিন না একদিন তো বিয়ে দিতেই হবে।ঘর জামাই রাখবে নাকি?
“কি বলছেন কি মা আপনি?পরের বাড়ি দিবেন না মানে?”
আসমা বেগমের কথায় রহিমা বেগম হেসে হিরাকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। কপালে চুমু দিয়ে বলেন,
“মানে বাড়ির মেয়ে বাড়িতেই থাকবে।তার জন্য সুন্দর এক রাজপুত্র আছে।তোমাদের এখন এতসব ভেবে কাজ নেই।সবাই এখন খেতে আসবে।মেঝ বউমা?”
“জি মা”
“তোমার ছেলে শশুর ভাসুর সবাই স্ট্যাডি রুমে,যাও তাদের ডেকে নিয়ে এসো।আর হিরা দাদুভাই,যাও আপুদের ডেকে নিয়ে আসো।”
রহিমা বেগমের কথায় সম্মতি জানিয়ে হিরা বোনেদের ডাকতে গেল।আর রাবেয়া বেগম গেলেন স্ট্যাডি রুমে।রোকেয়া বেগম আর আসমা বেগম দুজন মিলে সব খাবার টেবিলে রাখছেন।সবকিছু দেখে রহিমা বেগম উপরে নিজের ছোটো নাতির রুমে গেলেন।
___________________________________________________________________________
“দাদুভাই?”
রহিমা বেগমের ডাকে দুই পা ফ্লোরে রেখে বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়া হিম চোখ খুলল কিন্তু উঠল না।রহিমা বেগম এগিয়ে গেলেন।তার ছোটো নাতি টা সবার দৃষ্টি কাড়ে।ফর্সা মুখে চাপ দাড়ি, তীক্ষ্ণ মাঝারি চোখে গোল গোল বড় চশমা, পুরু ব্রু, সুন্দর নাক, শক্ত চোয়াল,হালকা ডাবানো পাতলা ঠোঁট,চওড়া কপাল, বলিষ্ঠ চওড়া কাঁধ, সুঠামদেহী জিম করা মেদ হীন শক্ত শরীর, লম্বার কথা কি বলবেন।এ বাড়ির সব পুরুষ ই লম্বা তবে তার ছোটো নাতি টা সবার থেকে লম্বা।এই ছেলের মধ্যে তিনি তার শশুর কে দেখেন।তবে হিম তার শশুরের থেকেও কয়েক কাঠি এগিয়ে।
হিমের পাশে বসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।কেমন জানি লাগছে ছেলেটাকে,একে বোঝা তো যায় না।সবকিছু নিজের মধ্যে চেপে রাখে।রাগ অভিমান কিছুই প্রকাশ করে না।রাগ করতে তিনি দেখেননি হিমকে, কিন্তু বাড়ির বাকি পুরুষ রা সবাই হিমের রাগ কে ভয় পায়।তিনি জানেন না কেনো,নিজের স্বামী কে জিজ্ঞেস করেও কোনো উত্তর পাননি,তাই আর মাথা ঘামাননি।
“কবে সে আমার হবে?”
হিমের কথায় চমকে উঠলেন রহিমা বেগম।হাত থেমে গেছে তার।হিম তার অবস্থা দেখে হাসলো।ছাদের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
“কথা দিয়েছিলে।এমনিও তো তোমাদের নিয়ম আছে।আমাকে ওকে দিয়ে দিলে তোমাদের নিয়ম রক্ষাও হবে,আমিও ওকে পাব।”
একটু থেমে আবার বলা শুরু করল,
“তোমাদের কথায় নিজের স্বপ্নকে ছেড়েছি,রিস্ক নিতে চাওনি তাই বিদেশে পাঠালে।কিছু বলিনি।নিজে যা গুছিয়েছি তাতে তাকে নিয়ে আমি চলে গেলেও কোনো অসুবিধা হবে না। কিন্তু আমার শিক্ষা,আমার বিবেক আমাকে বাঁধা দেয়,তাই তোমাদের অপেক্ষায় আছি।”
বলেই উঠে বসলো,রহিমা বেগমের দুহাত নিজের দুই হাতে নিয়ে তার চোখে চোখ রাখলো,
“দিয়ে দেও না,আমি সত্যিই ওকে আগলে রাখবো।নিজের জীবন দিয়ে হলেও।আমার প্রোফেশন ওর জন্য কখনো ক্ষতির কারণ হবে না। শুধু ওকে দিয়ে দেও, প্লিজ। কতদিন বাঁচবো জানি না,তবে যতদিন বাঁচি ওকে পেলে সুখেই বাঁচব।আর শোনো আমার কিছু হলে ওকে অন্যকারো হতে দিও না।ইহকালে একসাথে না থাকতে পারি,পরকালে যেন একসাথেই থাকতে পারি। হ্যাঁ আমি জানি আমি ভালো না,ও আমার হলে সবসময় নিজের খাঁচায় আটকে রাখতে চাইবো। কিন্তু.. কিন্তু ও আমার সুখ। বিশ্বাস করো এই বুক টা খা খা করে, যখন ভাবি ওকে বুকে নেওয়ার আগেই এই বুক পোকায় খাবে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।আমাকে… আমাকে দিয়ে দেও না ওকে,ওকে না পেয়ে মরলে আমি শান্তি পাব না কখনো।”
লাল চোখে ভাঙা গলায় হিম বলে গেল কথা গুলো। কিন্তু রহিমা বেগমের চোখের পানিতে বুক ভিজে যাচ্ছে।ওনারা কীভাবে জোয়ান নাতির লাশ দেখবে,কীভাবে তার ছেলে নিজের ছেলের লাশের ভাড় কাঁধে নেবে,এই ছেলেটা কতভাবেই না পরিবার টাকে আগলে রাখে।কীভাবে বাঁচবে তারা ওকে ছাড়া।
“তোমরা খেতে এসো।”
হিমের ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে হামিম শক্ত কন্ঠে বলল।হামিমের কন্ঠ শুনে হিম হেসে আবার বিছানায় গা এলিয়ে দিল।রহিমা বেগম হিমের দিকে তাকিয়ে চোখ মুছে চলে গেলেন।হামিম তখনও হিমের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে,হিমের দিকে তাকিয়ে। হঠাৎ চোখ বন্ধ করলে গাল বেয়ে এক ফোঁটা পানি পড়ল,ঐ এক ফোঁটা চোখের পানিতে যে কতটা কষ্ট,হারানোর ব্যথা মিশে আছে তা যদি কেউ মাপতে পারতো।চোখ খুলে আরেকবার তাকালো ছোটো ভাইয়ের দিকে,ইচ্ছে করে ভাইটাকে নিজের ভেতরে ঢুকিয়ে নিতে,ভাইয়ের সব বিপদ যাতে তার উপর দিয়ে যায় কিন্তু…!
দাঁড়ালো না ও আর,বড় এক নিশ্বাস নিয়ে নিচে সবার সাথে খাবার খেতে গেল। কিন্তু গলা দিয়ে কি নামবে? গলাটা কেমন জানি আটকা আটকা হয়ে গেছে।
হামিম চলে যেতেই চোখ খুলল হিম। আল্লাহর উপর বিশ্বাস আছে তার,ভাগ্যে যা আছে তাই হবে, শুধু ফুল টাকে নিজের করে পেলে মন খুলে নিঃশ্বাস নিতে পারবে সে। ওয়াশরুমে গিয়ে মুখে পানি দিয়ে বড় বড় দুটো নিঃশ্বাস নিয়ে বেরোলো হিম।নিচে যেতে হবে এখন।
___________________________________________________________________________
“আজকের মেয়েকে তো সবাই দেখলে,আমার কিন্তু পছন্দ হয়নি।”
রাতের খাবার খেয়ে সবাই ড্রয়িংরুমের সোফায় বলেছিল।তখনই রোকেয়া বেগম কথাটা বলে উঠলেন।
উনার কথায় হাওয়া বলল,
“মেয়েটাকে আমি চিনি,এমনিতে ভালো শালীন ভাবে চলে তবে আধুনিকতা অনেক।”
“হুম,তোমার কথা মাথায় ছিল কিন্তু তারপরেও একবার চোখের দেখা দেখে এলাম।”
হাওয়ার কথায় বললেন ইসলাম শিকদার।
“বাবা-মা,আপনারা কিছু মনে না করলে আমি একটা মেয়ের কথা বলতাম। মেয়েটাকে আমার খুব পছন্দ,আমি বলতাম ই কিন্তু এর মধ্যে আপনি নিজের বন্ধুর নাতির কথা বললেন তাই আর বলিনি।”
“কে মেয়েটা?”
“সুমাইয়া,হাবিবা হালিমার সাথে পড়ে,আমাদের বাড়িতে এসেছে কয়েকবার,আপনারা চিনবেন।”
মায়ের কথায় হামিম চোখ তুলে মায়ের দিকে তাকালো।তারপর নিজের ভাইয়ারের দিকে।হামিম কে নিজের দিকে তাকাতে দেখে হিমও ভাইয়ের দিকে তাকালো।হিমের চোক দেখেই হামিম যা বোঝার বুঝে গেল। মেয়েটাকে ভালো লাগতো তার।শান্ত শিষ্ট, ভীতু প্রকৃতির মিষ্টি মেয়েটা।তার এই ভালোলাগা সবার চোখ কে ফাঁকি দিতে পারলেও হিমের চোখকে পারল না।হিমই নিজের মাকে সুমাইয়ার কথা বলেছে।সত্যি বলতে মেয়েটাকে না বলার কোনো কারণ নেই।এখন বাড়ির সবাই রাজি হলে মেয়ের বাড়ি প্রস্তাব নিয়ে যেতে হবে।ভালোই ভালোই রাজি হলেই হয়।তার পরিবার রাজি কিন্তু সুমাইয়ার পরিবার রাজি না হলে হিমের সাহায্য নিয়ে প্রয়োজনে কিডন্যাপ করবে সুমাইয়াকে।
“মেয়েটা খারাপ না,তোমরা কি বলো?”
ইসলাম শিকদারের প্রশ্নে তার ছেলেরা মাথা নাড়ল।
“বিয়ে তো বড় ভাইয়ার ছেলের।মায়ের পছন্দ ই ছেলের পছন্দ।মেয়েটাকে আমার খারাপ লাগেনি।এবার বড় ভাইয়ার মতামত নেও।”
আসলাম শিকদারের কথায় সবাই আকরাম শিকদারের দিকে তাকালেন।উনি সবাইকে তাকাতে দেখে একটু নড়ে চড়ে বসে বলা শুরু করলেন,
“হ্যাঁ,আমি আর কি বলব।মেয়েটা খারাপ না,ভালোই লাগলো।আর আমাদের মেয়ের ই বয়সী,মেয়ে হয়েই থাকবে।তবে আমাদের থেকে ভালো সুমাইয়া কে হাবিবা হালিমা চিনবে।তোরা কি বলবি তোদের ফ্রেন্ডের ব্যাপারে?”
“সুমাইয়া কে ভাবি হিসেবে খারাপ লাগবে না।আমার তো অনেক ইচ্ছা ছিল আমার কোনো এক বান্ধবী ভাইয়ের বউ হবে।সেখানে আমাদের বেস্টফ্রেড আমারদের ই ভাবি হবে।আর মেয়েটা সত্যিই ভালো মনের, ধার্মিক পরিবার ওদের,নিজেও ভালোই পর্দা করে।তবে নতুন মানুষের সাথে তাড়াতাড়ি মিশতে পারে না কিন্তু একবার মিশে গেলে নিজের আপন করে নেয়।”
হাবিবার কথায় হালিমা সম্মতি দিলো।সবার সম্মতি দেখে রহিমা বেগম বললেন,
“তার মানে সুমাইয়ার ব্যাপারে সবার সম্মতি রয়েছে।তাহলে আর দেড়ি কিসের, কালকেই যায় আমরা।দেখি কি বলে? আমাদের ছেলে খারাপ কই,না বলার তো কথায় না।”
“কি মজা, আমাদের বাড়িতে বিয়ে হবে। শোনো সবাই,কালকে সুমাইয়াপু দের বাড়ি থেকে হ্যাঁ বললে দ্রুত ডেট দিবে কিন্তু।খুব তাড়াতাড়ি। আমাদের বাড়িতে প্রথম বিয়ে,উফ কত প্লানিং করব আমি।আর শপিং করতে হবে,কত কিছু কেনার আছে।”
হিরার কথায় হিম আর আসমা বেগম ছাড়া সবাই হেসে দিল। হিম তো কখনো হাসেই না,আসমা বেগমও অন্তত হিরার ব্যাপারে হাসতে চান না।একটু বেশিই শাসন করেন।
___________________________________________________________________________
রাত বারোটার কাছাকাছি। বাড়ির সবাই যে যার ঘরে ঘুমিয়েছে, শুধু ছাদে দুজন দাঁড়িয়ে।ছাদের কোনায় আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে হিম আর তার পাশে হামিম দাঁড়িয়ে যে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে।
“ধন্যবাদ দিয়ে তোকে ছোটো করব না।কেউ না বুঝলেও তুই মনের কথা বুঝে নিস,বল কি চাস?”
হামিমের কথায় হিম তার দিকে তাকালো,
“যা চাইবো তাই করবি?”
“নিজের সর্বোচ্চ টা দিয়ে চেষ্টা করব।”
আকাশের দিকে তাকিয়ে হিম শক্ত কন্ঠে বলল,
“আমি নামক কাঁটা টা যদি বিদায় নি আর আমার ফুল টা কে কেউ তুলতে চায় তো তুই শিকদার বাড়ি নামক গাছ থেকে আমার ফুলটাকে তুলে নিজের হাতে পিষে ফেলবি।”
হামিমের মনে হলো সবকিছু থেমে গেছে,হাসি মুখ খানা অমাবস্যা রাতের মতো হয়ে গেলো,দু পা পিছিয়ে গেল।ও কীভাবে পারবে?এর থেকে হিম যদি হামিমের জান চাইতো ও নির্দ্বিধায় দিয়ে দিত।হামিম হিমের দিকে ব্যথিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাঙা কন্ঠে বলতে লাগল,
“তুই যা করছিস তাতে খুব ভালোভাবেই জানিস যখন তখন তোর সাথে যা কিছু হতে পারে।রাখে আল্লাহ মারে কে,জানি আমি।কিকিনন্তু যদি ততুউই না থাকিস,তোর ফুলকে অন্য কেউ চাইবেই।আর আর সবাই চাইবে ফুল ঝরে পড়ার থেকে কারো কাছে সংরক্ষিত রাখতে।আআমিই কীভাবে পারব?আমি তোর মতো পাথর না রে।তার থেকে তুই বিদায় নেওয়ার আগে তোর ফুলকে পিষে রেখে যাস,আমরা তো মানুষ না,রোবট।কপালে যদি থাকে তো একদিনে শিকদার বাড়িতে দুটো কবর খোঁড়া হবে।আর আর শিকদার বাড়ি তো পুরোটাই একটা কবর হয়ে যাবে রে।”
বড় বড় দম ফেলে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল হামিম।ওর অবস্থা দেখে হিম শুধু হাসল,এখনই এই অবস্থা,আর যখন বাস্তবে এসব ঘটবে? কেউ জানুক বা না জানুক,ও জানে একদিন না একদিন ওকে দূরে যেতেই হবে। মানুষ মরণশীল,নিজের মৃত্যু নিয়ে ভাবে না ও,ওর ভাবনা তো ওর ফুলকে নিয়ে,ওর নিঃশ্বাস কে নিয়ে।নিজের বুকে ঠাঁই দেওয়ার আগেই যদি তার বুকটাই হাড়িয়ে যায়!ভাবলেই মনে হয় বুকটা কেউ কামড়ে ধরেছে,ঐ বেইমান বুকের জন্য ওকে যে কত কষ্ট সহ্য করতে হয় তার খবর যদি কেউ রাখতো!!
“ভাই,সরে আয় না। দেখ আমাদের কিসের অভাব বল? যেমন আছি ভালোই আছি তো।ভাই তোরা না থাকলে আমরা থাকবো কীভাবে বল?ভাই তুই মানে তোকে ছাড়া আমি ভাবতেই পারিনা।আমার কলিজা রে তুই।ভাই তোর কিছু হলে আমি মরেই যাব,আমার উপর ভরসা করিস না।কাউকে সামলাতে পারব না।আর তোর ফুলকে তুই ছাড়া কেউ আগলে রাখতে পারবে না।আমি পারব না,আমি জানিনা কি করব তখন,আমি কিছু জানি না।”
বলতে বলতে ছাদের মেঝেতে বসে পড়ল হামিম। দাঁড়ানোর শক্তি নেই ওর।হিমের যখন যেকোনো কিছু হতে পারে,এটা একটা চরম সত্য।আর হিমের কিছু হলে ভেঙে যাবে এই পরিবারের রক্ষার দেয়াল,রক্ষক না থাকলে রক্ষা করবে কে?
হিম বসল ভাইয়ের পাশে।হাত রাখল কাঁধে।হামিম ভেজা রক্তলাল চোখে তাকালো ভাইয়ের দিকে।
“তুই আমার ভাই, বিশ্বাস আছে আমার।ভেঙে পড়িস না।তোদের সকলের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেই আমি বিদায় নেব।আর যদি বলিস সরে আসার কথা তাহলে আসতেই পারি,শিকদার পরিবারেরও হারানোর ভয় থাকবে না। কিন্তু আমি সরে আসলে কত পরিবার কতকিছু হারাবে জানো?আরে মৃত্যু তো আল্লাহ দিবে,তার ডাক যখন আসবে আমাদের যেতেই হবে।আমি তো ভয় পাচ্ছি না, শুধু একটাই চিন্তা আমার।সে আমার হবে তো?”
“আমার দোয়া সবসময় তোর সাথে থাকবে। ইং-শা-আল্লাহ তোর কিছু হবে না।”
“হুঁ,অনেক রাত হয়েছে।রুমে চল আর নিজের বিয়ের কথা ভাব।”
হিমের কথায় হামিম হেসে দিল।তার এই ভাই সবার কাছে একরকম আর তার কাছে আরেক রকম।হিম হামিমের কাছে খোলা বই।হিমের জীবনে একমাত্র হামিম আছে যার কাছ থেকে ও কিছু লুকায় না,আবেগ অনুভূতি সব হামিমের কাছেই প্রকাশ পায়।ইস,কতই না মুহূর্ত আছে দুই ভাইয়ের।সবাই বলে হিম হাসতে পারে না। কিন্তু হামিম জানে হিম ঠিক কতটা হাসতে পারে।যে হিমের হাসি দেখবে সেই ই যেন ঘোরে চলে যাবে।যেগুলো খুব কম দেখা যায় সেগুলোই সবসময় সুন্দর হয়।
#চলবে?

