সূচনা_পর্ব #বুকের_পাঁজর #ভরসা_জান্নাত

0
3

শিকদার বাড়ি আজকে অন্যদিনের তুলনায় একটু ব্যস্ত।বাড়ির বড়রা সবাই বাইরে যাবে,বড় ছেলের জন্য মেয়ে দেখতে আর ছোটরা?তারা সবাই পরিকল্পনায় ব্যস্ত আজকে কি কি করবে।
আগে পরিচয় পর্ব জেনে নেওয়া যাক।

শিকদার বাড়ি এককথায় রক্ষণশীল বাড়ি। দোতলার সৌন্দর্য ময় বাড়ি শিকদার বাড়ি।বাড়ির চারপাশে অনেকটা জায়গা জুড়ে বিভিন্ন রকমের গাছ,এই গাছের মধ্যে যেমন রয়েছে ফুলের গাছ তেমনি রয়েছে কিছু সবজির গাছ।কিছু ঔষধি গাছও রয়েছে।এসব গাছসহ শিকদার বাড়ির চারিপাশে দেওয়াল দেওয়া ।ঢাকার শহরে কাপড়ের বড় ব্যবসা শিকদার বাড়ির কর্তাদের।এছাড়া দেশের প্রায় সব বিভাগেই আছে একের অধিক শো-রুম।
শিকদার বাড়ির বড় কর্তা ইসলাম শিকদার।জমিদার বংশের ছেলে সে।তার নিজের কোনো ভাই নেই,এক বোন ছাড়া। ইসলাম শিকদারের তিন ছেলে এক মেয়ে।বড় ছেলে আকরাম শিকদার,মেঝ ছেলে আসলাম শিকদার,ছোটো ছেলে আলামীন শিকদার আর মেয়ে আকলিমা বেগম।

আকরাম শিকদারের দুই ছেলে এক মেয়ে।বড় ছেলে হাসান শিকদার হামিম( ৩২ বছর ),ছোটো ছেলে হিরণ শিকদার হিম( ২৯ বছর ) আর মেয়ে হাবিবা শিকদার( ২৪ বছর )।
মেঝ ছেলের এক ছেলে এক মেয়ে।ছেলে হাসিব শিকদার( ৩০ বছর ) আর মেয়ে হালিমা শিকদার ( ২৪ বছর )।
আর ছোটো ছেলের দুই মেয়ে।বড় মেয়ে হাওয়া শিকদার( ২০ বছর ) আর ছোটো মেয়ে হিমানী শিকদার হিরা( ১৬ বছর )।

হামিম আর হাসিব দুজনে তাদের পারিবারিক ব্যবসা সামলায়। হিম পারিবারিক ব্যবসায় ঢোকে নি,ডাক্তার হয়েছে। হাবিবা আর হালিমা দুজনে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ে। হাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে,আর হিরা এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে সদ্যই কলেজ ভর্তি হয়েছে।তাদের বাড়ির সবচেয়ে বড় নিয়ম হলো পর্দা নিয়ে। মেয়ে বউ সবাইকে বাধ্যতামূলক পর্দা করতে হবে, লেখাপড়ায় বা বাইরে কাজ করায় কোনো বাঁধা নেই কিন্তু পর্দা করেই সব করতে হবে।বাড়ির তিন বউ ডাক্তার,তারা সংসারের সাথে বাইরেও সামলায়।

শিকদার বাড়ির বড় কর্তি রহিমা বেগম সংসারের মাথা। বাড়ির বাইরে ইসলাম শিকদারের কথা যেমন শেষ কথা তেমন ই বাড়ির ভেতরে রহিমা বেগমের কথায় শেষ কথা। তার কথা মতোই বাড়িতে রান্নার জন্য কোনো কাজের মানুষ রাখা হয়নি। ঘর মোছার জন্য শুধু একজনকে রাখা হয়েছে,নাম শিউলি। শিউলি বিধবা,তাদের গ্রামেই থাকতো। সংসারের কাঁচা বাজার টা বাড়ির পুরুষ রা করে। আর বাড়ির গাছের যত্ন নেয় করিম নামের এক লোক।

বাড়িটা সবসময় ই হাসি খুশিতেই থাকে। বড়রা যেমন মিলেমিশে থাকে,ছোটরাও তেমন।তবে বড়দের মধ্যে কখনো ঝামেলা না হলেও ছোটোদের জন্য এটা দৈনিক ব্যাপার।পূজোর বন্ধ দেওয়ায় বাড়ির ছেলেমেয়ে সব বাড়িতে।
বড় ছেলের জন্য মেয়ে দেখতে বড়রাই যাবে,ছোটরা সবাই বাড়িতে থাকবে।ছোটরা বলতে আপাতত বাড়িতে হাবিবা,হালিমা,হাওয়া আর হিরাই আছে।হিম হাসপাতালে গেছে একটু দরকারে আর হামিম হাসিব অফিসে।
বাড়ির ছেলেরা ফিরলে বড়রা সবাই মেয়ে দেখতে যাবে,মেয়ে ইসলাম শিকদারের বন্ধুর ছেলের মেয়ে। পছন্দ হলে আংটি পড়িয়ে আসবে,ছেলে মানে হামিম যাবে না।
___________________________________________________________________________

সকালের খাওয়া শেষে বাড়ির মহিলারা সবাই দুপুরের রান্না করতে ব্যস্ত,এদিকে বাড়ির ড্রয়িংরুমে সবাই ভাবছে আজকে কি করবে, যেহেতু বড়রা বাড়ি থাকবে না সেহেতু বাড়ি তাদের হাতেই।হাবিবা,হালিমা এক সোফায় বসেছে আর হাওয়া হিরা আরেক সোফায়।বড় তিন মেয়ে ভদ্র ভাবে থাকলেও ছোটো টা যদি ওমন হতো!!তার এক পা ফ্লোরে আরেক পা হাওয়ার কোলে,এক হাত সোফার উপরে আরেক হাত মাথায়।সবার মুখ দেখে মনে হবে এরা কোনো গবেষনায় ব্যস্ত। হঠাৎ করে হিরা লাফিয়ে উঠল।
” একটা আইডিয়া পেয়েছি”
বাকি তিনজন কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগেই কাচ ভাঙার শব্দ কানে এলো।সবটা বুঝতে পেরে তিনজনেই একবার রান্না ঘর তো একবার সোফা থেকে দাড়িয়ে যাওয়া হিরার দিকে তাকালো।
তৎক্ষণাৎ ই রান্না ঘর থেকে নিজের মাকে খুন্তি হাতে বেরিয়ে আসতে দেখে হিরা এক দৌড়ে দোতলায় নিজের রুমে চলে গেল।আসমা বেগম এসে দেখেন বড় তিন মেয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে আর তাদের সামনেই গ্লাস ভাঙা রয়েছে।যা বোঝার বুঝে গেলেন,আর এইজন্যই তার মেয়ে এক দৌড়ে উপরে গেছে।আজকে ওর একদিন কি তার একদিন সে দেখেই নেবে।তারা সবাই একটুপরই বেরোবে আর এদিকে তার হতচ্ছাড়া মেয়ে কাঁচ ভেঙে বসে আছে।

উনি তিনজনের দিকে একবার তাকিয়ে যখন ই উপরে উঠতে যাবেন তখনই রান্নাঘর থেকে তার বড় দুই জা বাইরে বেরিয়ে এলো।
” কি হয়েছে রে ছোটো?”আকরাম শিকদারের স্ত্রী রোকেয়া বেগম জিজ্ঞেস করলেন।
“কি আর হবে,তোমাদের উড়নচণ্ডী কাঁচের গ্লাস টা ভেঙে ফেলেছে।আজকে ওর একদিন কি আমার একদিন।দিন যাচ্ছে আর সে যেন ছোটো হচ্ছে।”
“দিন কেনো,যুগ গেলেও ও ছোটোই থাকবে।আর একটা গ্লাস ই তো ভেঙেছে।তাতে এত রাগার কি আছে।আমি শিউলি কে ডেকে দিচ্ছি,ও কাচ পরিষ্কার করুক।একটু পরই অফিস থেকে সবাই চলে আসবে।তারপর আমাদের আবার বেরোতে হবে।এখন আর ঝামেলা করিস না তো।”
“হ্যাঁ, হ্যাঁ।তাই তো।সব ঝামেলা আমিই করি।” বলতে বলতে তিনি রান্নাঘরে গেলেন।তার কথা শুনে রোকেয়া বেগম হেসে রান্না ঘরের দিকে গেলেন। বড় তিন মেয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো।
“হিরা কই রে?” আসলাম শিকদারের স্ত্রী রাবেয়া বেগম হাওয়ার কাছে জিজ্ঞেস করলেন।
“কই আর যাবে?নিজের রুমে গিয়ে ঢুকেছে”
“ওকে নিয়ে আর পারা যায় না।তা তোরা এখানে থেকেই বা কি করবি।যা রুমে যা।একটু পর বাড়ির পুরুষ সবাই আসবে, ড্রয়িং রুম খালি কর।”
“হুম” রাবেয়া বেগম আর কিছু না বলে রান্নাঘরের দিকে গেলেন।
“চলো আমরা হিরাকে ডেকে নিয়ে আসি,তারপর দাদির ঘরে গিয়ে আড্ডা দি।”
দুই বোন হাওয়ার কথায় শুধু মাথা নাড়ে আর তিনজনে মিলে চলে হিরার রুমের দিকে।
দোতলার সিঁড়ির বা পাশে বাড়ির মেয়েরা থাকে আর ডান পাশে ছেলেরা।বা পাশের প্রথম রুমটাই থাকে হাবিবা,তার পরের রুমে থাকে হালিমা আর তারপরের রুমে হাওয়া হিরা একসাথে থাকে।মূলত হিরা একা থাকতে চাই না।আর রুম তো নামে মাত্র প্রায় সময় তারা এক রুমেই থাকে।
ডান পাশের প্রথম রুমে থাকে হামিম,তার পরের রুমে হাসিব। সর্বশেষ কোনার রুমটায় থাকে হিম।বা পাশে পাঁচটা রুম হলেও ডান পাশে মাত্র তিনটা রুম।
___________________________________________________________________________

তিন বোন হিরা যে রুমে ঢুকেছে সেখানে গিয়ে ধাক্কা দেয়। হিরা তৎক্ষণাৎ ই দরজা খুলে দেয়।তিন বোন ঘরে ঢুকে বিছানায় বসে,হিরা দরজা টা চাপিয়ে দিয়ে ওদের কাছে আসে।
হিরা আসতেই হাবিবা বলে,
“কি রে এত তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দিলি।আমাদের জায়গায় যদি ছোটমা হতো তখন কি করতি?”
“শোনো,তোমাদের ছোটোমার আসার হলে অনেক আগেই আসতো।দরজায় নক করতে দেড়ি হচ্ছে দেখেই বুঝেছি আজকে বেঁচে গেছি।”
ওর কথা শুনে সবাই হেসে দিল।হালিমা বলে উঠল,
“ওরে পাকা রে!শুনে রাখ,অতি চালাকের গলায় দড়ি।”
“হ্যাঁ,জানি জানি।এবার বলো কি বলবে। শুধু শুধু তো আর আসোনি না।”
“ও হ্যাঁ,চল দাদির রুমে যায়।সবাই মিলে আড্ডা দিবানি।”
“আচ্ছা, চলো চলো” বলেই বেরিয়ে যেতে লাগলো।

হিরার কথা শুনে তিন বোন মুচকি হাসি দিল।চলল তাদের দাদির ঘরে। তাদের দাদির সাথে আলাদা সম্পর্ক।রহিমা বেগম তাদের কখনো কখনো নবীদের গল্প বলে,আবার কখনো তাদের সবার ছোটো বেলার গল্প বলে।তাদের ভালোই লাগে। কি সুন্দর সময় কাটায় তারা।
___________________________________________________________________________

দাদির রুমে গিয়ে দেখে তাদের দাদি তসবি পড়ছে।চার বোনে দাদিকে ঘিরে বসে পড়ল।হাবিবা বসল তার বা পাশে আর হিরা ডান পাশে।বাকি দুজন তার পায়ের কাছে।তাদের দেখে রহিমা বেগম হাসলেন,
“কি গো সুন্দরী রা,এখন আমার কাছে কেনো?”
দাদির কথায় হাওয়া বলল,
“শুনলাম তুমিও নাকি যাবে মেয়ে দেখতে।তাই ভাবলাম তোমার কাছে গল্প শুনি।ওখান থেকে এসে তো আবার ক্লান্ত হয়ে পড়বে।গল্প বলতে পারবে না।”
হাওয়ার কথার মাঝেই হিরা চঞ্চল গলায় বলে উঠল,
“হ্যাঁ গো দাদি, কিছু একটা বলো তো।হ্যাব্বি মুড আছে গো গল্প শোনার।”
ওদের কথা শুনে রহিমা বেগম হাসলেন,তসবি রেখে তার গল্প শুরু করলেন।
___________________________________________________________________________

ওদিকে বাড়ির গিন্নি রা গল্পে মজেছেন।মেয়ে কেমন হলে ভালো হবে তারই কথা বলছেন আসমা বেগম আর রাবেয়া বেগম।আসমা বেগম তরকারি কাটছেন আর রাবেয়া বেগম মশলা বাটছেন।রোকেয়া বেগম জা’দের কথা শুনছেন আর হাসছেন।
“বড় ভাবি”
আসমা বেগমের ডাকে রোকেয়া বেগম তার দিকে তাকালেন।তাকে তাকাতে দেখে আসমা বেগম বললেন,
“তোমার বড় ছেলের জন্য মেয়ে দেখবে আর তুমি কিছুই বলছো না। তোমারও তো একটা পছন্দ আছে নাকি।ছেলে তো বলল তোমার পছন্দ ই তার পছন্দ।”
তার কথায় রোকেয়া বেগম রান্নার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তা নিয়ে তোরা ভাবিস না।এক মেয়ে দেখে ভালো লাগলেই বিয়ে ঠিক করতে হয় না।আরো খোঁজ নিতে হয়।এবার আগে আমরা যায়,তখন মেয়ে কে দেখে সব বোঝা যাবে। কিন্তু এইটুকু কথা মাথায় রাখ যে ঐ মেয়ের সাথে বিয়ে হচ্ছে না।”
তার কথা শুনে দুই জায়ের কাজ থেমে গেলো।রাবেয়া বেগম তার বড় জাকে জিজ্ঞেস করলেন,
“কি বলতে চাইছো কি বড় ভাবি?”
“পরে একসময় বলব। এখন কাজ করত।সবাই এলো বলে।আজ শুক্রবার।সবাই তাড়াতাড়ি এসে গোসল করেই মসজিদে যাবে।সেখান থেকে এসেই খেয়ে রেডি হয়ে মেয়ে বাড়ি যেতে হবে তো।”
তার কথায় দুই জা ই সম্মতি জানালো।
___________________________________________________________________________

কিছুক্ষণ পর গাড়ির আওয়াজ এলো।তার মানে বাড়ির পুরুষ রা সবাই এসে গেছে।রোকেমা বেগম ভাবছেন,হিম এসেছে কিনা। তারা তিন জা আর তার স্বামী চারজনেই ডাক্তার।আজকা তারা তিন জা হাসপাতালে না গেলেও হিম আর হিমের বাবা গেছে।

হিম বাড়ির সবার থেকেই আলাদা।হিম তার শুধু নামই না,সে যেন সত্যিই হিম।হামিম হাসিব সবাই হাসিখুশি।বোনেদের সাথে যেমন আড্ডা দেয়,মজা করে তেমন ই বাপ চাচা দাদার কাছে ভদ্র,সিরিয়াস ছেলে।মা, চাচি,দাদিদের কাছে আবদারের শেষ নেই তাদের।এদের মধ্যে দিয়ে হিম টাই অন্যরকম। প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না। পারিবারিক আড্ডায় থাকে কিন্তু ভূমিকাহীন। বাকি দুজন ছেলের আবার মাথা গরম,খুব দ্রুত রেগে যায়।হিম এদিক দিয়ে ঠিক ওদের উল্টো।ওকে কখনো রাগতে দেখা যায় না। বাড়িতে অন্তত এমন কিছু হয়না যাতে ও রাগবে।
তবে ছেলেটার চোখ দুটো অন্যরকম, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে যার দিকে তাকাবে তার ই অন্তর কাঁপিয়ে দেবে।ছেলেটা সবদিকে দিয়েই তার ভাইয়েদের থেকে বিপরীত।এই বংশের সব ছেলে মেয়েই মেধাবী, কিন্তু হিম যেন স্পেশাল। পড়াশোনা, খেলাধুলা কোনোদিক দিয়ে কমতি নেই। কোনো কিছু একবার দেখলে বা পড়লে আর ভুলতো না। কৌশল করে খুব ভালো কাজ করতে পারে।নরমাল ভাবে পড়েই মেডিকেল এ প্রথম হলো। মেডিকেল ছাড়া আর কিছুতে পরীক্ষাও দেয়নি। পৃথিবীতে এমন অনেক স্পেশাল ব্যাক্তি আছে,তার মধ্যে তার ছেলেও একজন।সে তো মা,সে জানে তার ছেলে যেটা দেখায় সেটা আসল না।তার বাইরেও কিছু আছে।হিমের আরেকটা জিনিস যা খুব মারাত্মক।ও কারো চোখ দেখেই সে সত্যি নাকি মিথ্যে বলছে তা বলে দিতে পারে,এটা অবশ্য অনেকেই পারে কিন্তু ওর কখনো ভুল হয়না।ও অনেক সময় চোখের দিকে তাকালে মনের কথা বুঝে যায়।এটাও অনেকেই পারে তবে হিমের টা আলাদা।
ছেলেটার চোখে কি আছে কে জানে,ওর চোখের দিকে তাকালে কেমন জানি লাগে।সেসব কথা পরে ভাবা যাবে,আপাতত দেখা যাক কে কে আসলো।

বাড়ির সব পুরুষ চলে এসেছে শুধু হিম আর ওর দাদু বাদে।তিনি গিন্নি তাদের কর্তাদের আর ছেলেদের ঠান্না পানি দিলেন।রোকেয়া বেগম কিছু জিজ্ঞেস করবেন তার আগেই আকরাম শিকদার বলে উঠলেন,
“হিম বলেছিল বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে একবার চেকআপ করাবে।বাবার চেকআপ করিয়ে দুজন এক সাথেই রওনা দেবে হাসপাতাল থেকে।
“তা তো ভালোই।তা আপনি গোসলে যাবেন তো,পানি রেডি করা আছে।”
“ওহ, হ্যাঁ।যাব।তা আমার মা’রা কই?”
“দাদির রুমে গেছে,মেঝ ডাকতে গেছিল মাকে,তখন দেখে চার বোন মাকে ঘিরে বসে আছে আর মা গল্প বলছে।”
আকরাম শিকদার আর কিছু না বলে সোফায় গা এলিয়ে দিলেন।বাকিরাও একই ভাবে সোফায় গা এলিয়ে রয়েছে।এরা সবাই অফিসে এক মিনিটের জন্য গেলেও ক্লান্ত হয়ে ফেরে। এসবই দেখে আসছেন তিনি।
এরই মধ্যে আবার গাড়ির শব্দ এলো।তার মানে হিম’রা চলে এসেছে। রোকেয়া বেগম শশুর আর ছেলের জন্য পানি আনতে গেলেন।
ওনার পানি আনতে আনতেই হিম আর তার দাদু ভিতরে ঢুকল।হিম তার দাদুকে সোফায় বসিয়ে নিজেও ভাইদের পাশে বসল।রোকেয়া বেগম পানি এগিয়ে দিলেন।পানি খেয়ে ইসলাম শিকদার বললেন,
“সাড়ে বারোটা বাজে।আমি গোসলে যাচ্ছি।তোমরাও যাও।সময় কিন্তু বেশি নেই।”
বলেই তিনি তার রুমের দিকে চললেন।বড়দের সবার রুম নিচে হওয়ায় তাদের উপরে ওঠার কোনো ঝামেলা নেই। তাকে রুমে ঢুকতে দেখে চার বোন দাদির কাছ থেকে উঠল।দাদুর কাছে শরীরের খবর নিয়ে চারজন একসাথে বাইরে বেরিয়ে গেল।

তখনও সোফা জুরে বাড়ির পুরুষ রা বসা,তাদের যেন উঠতেই ইচ্ছে করছে না। কিন্তু এভাবে বসে থাকলে তো আর চলবে না,আযান দিয়েছে।দ্রুত গোসল করে মসজিদে যেতে হবে।ভেবেই আকরাম শিকদার উঠলেন,উঠে তার ভাই এবং ছেলেদের উঠতে বললেন।বাবা চাচা সবাই যে যার রুমে চলে যাওয়ার পর হামিম দুই ভাইয়ের দিকে তাকালো।একজন মোবাইল এ কি জানি দেখছে আরেকজন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে ভাব।হামিম হাসিব কে খোঁচা দিল,বেচারা লাল চোখে হামিমের দিকে তাকালো।হামিম হাসিবের কানে কানে বলল,
“এই তুই কি কালকে রাতে বাড়ি পাহারা দিয়েছিস নাকি রে।ঘুমাসনি নাকি হ্যাঁ?”
ওর জবাব দেওয়ার আগেই হিম বলে উঠল,
“কালকে রাত জেগে চার বোন আর এই বড় ভাই সিনেমা দেখেছে।বড় ভাই যদি এমন হয় তবে বোন গুলো কি হবে।”
হাসিবের ঘুম তখন উধাও।ওরা কেউ ভেবে পাইনা বাড়ির সব খবর এই ব্যক্তির কাছে থাকে কি করে।মাঝে মাঝে তো এদের মনে হয় ওরা কখন ওয়াশ রুমে গেলো, কেনো গেলো কতক্ষন থাকলো সব জানে হিম।
আপাতত হিমের কথার জবাব দিতে হবে।হাসিব কিছু বলবে তার আগেই একজন বলে উঠল,
“হিম ভাই আমরা তো দরজা জানালা সব বন্ধ করে সিনেমা দেখেছি তাও হাসিব ভাইয়ার ঘরে। সাউন্ড প্রুফ তো।আপনি কি করে জানলেন,তার মানে আপনিও লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছেন নাকি?”

এতক্ষণ হিম ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও এবার চোখ তুলে তাকালো।ইস,ঐ চোখের দিকে তাকালে এক রমনীর হৃৎস্পন্দন থেমে যায়।ঐ চোখের মালিক রমনীর প্রতি নামাজের মোনাজাতে থাকে।
হিমের তাকানো তে একজনের হৃৎস্পন্দন থেমে গেলেও আরেকজনের মেরুদন্ডের হাড় সোজা হয়ে গেল যেন।
“জবাব চাইছিস?”
হিমের প্রশ্নে হিরা কি বলবে, হাঁটু কাঁপে ওর।হিমকে হিরার মানসিক রুগী লাগে, অদ্ভুতের থেকেও অদ্ভুত সে।পেটে কথা থাকে না হিরার,মনে যা আসে তা মুখেও আসে।না হলে সে ভুলেও বুঝী হিমের সাথে কথা বলতো!!
এরই মধ্যে সেখানে আসমা বেগম আসলেন।ছেলেদের তখনো সোফায় বসা দেখে আদুরে স্বরে জিজ্ঞেস করলেন,
“বাবা তোরা গোসলে যাবি না?”
তার প্রশ্নে হামিম “হুম” বলেই উঠে গেল।হামিমের পিছু পিছু হাসিবও গেল।হিম একবার হিরার দিকে তাকিয়ে উপরে নিজের রুমে চলে গেল।

এবার আসমা বেগম মেয়েদের দিকে তাকালেন।তাকে তাকাতে দেখে হিরা বলে উঠল,
“মা আমরাও গোসলে যাচ্ছি,ঠিক আছে।”
আসমা বেগম কিছু না বলে নিজেদের ঘরে গেলেন।এ বাড়ির একটা নিয়ম আছে। বাড়ির গিন্নি রা তাদের কর্তাদের পোশাক বের করে দেবে আর তাই পড়েই কর্তারা বাইরে যাবেন।বড় দুই জা আগেই তাদের রুমে চলে গেছেন,তিনি এখন যাবেন।

যে যার রুমে চলে গেছে গোসল করতে। সমস্যা হয় হিরা আর হাওয়ার মধ্যে।গোসলে আগেই হাওয়ায় যায়,হীরা গেলে ঘন্টা লাগিয়ে ফেলে।হাওয়া রুমে ঢুকেই গোসলে গেছে,হীরা আয়নায় দাড়িয়ে নিজেকে দেখছে।ওর এই স্বভাব ,কেউ না থাকলে আয়নায় দাঁড়িয়ে ঢং করবে।

৫ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা হীরা, হাঁটু সমান চুল। দেখলেই যে কেউ ফর্সায় বলবে।এ বাড়ির ছেলে মেয়ে সবাই ই ফর্সা।মিডিয়ামের থেকে একটু চিকুন,টানা টানা বড় চোখ।চোখের পাপড়ি যেমন ঘন তেমন বড়।চোখের পাপড়ি ঘন হওয়ায় দেখলে মনে হয় মেয়েটা কাজল দেয়।নাকের উপরে বা পাশে একটা তিল আর হালকা গোলাপি ঠোঁটের নিচে বা পাশে আরেক টা তিল।ফর্সা গোল মুখে তিল গুলো যেন সবসময় ফুটে থাকে।তাদের পরিবারের সবাই খুব লম্বা,সেই ই তুলনামূলক খাটো।

হাওয়া হীরার তুলনায় লম্বা,৫ ফুট ৫ ইঞ্চি সে।মিডিয়াম বডি,কোমড় সমান চুল।গোল মুখ,গোল গোল বড় বড় চোখ। চোখের পাপড়ি ঘন হলেও লম্বা না।
হাবিবা হালিমা দুজনের হাইট ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি।দুজনের চুল কোমড় ছাড়িয়েছে তবে হীরার মতো লম্বা চুল কারো না।তাদের মুখ কিছুটা লম্বা,হীরা হাওয়ার মতো গোল না।
তাদের চার বোনকে দেখলে যে কেউ ই আগে মাশাআল্লাহ বলবে। শুধু শিকদার বাড়ির মেয়ে না,ছেলে গুলোও নজর কারা সুন্দর।

বাড়ির সব পুরুষের হাইট ৫ ফুট ১০ এর উপরে হলেও হামিম আর হিমের হাইট ৬ এর উপরে।
হামিম গম্ভীর না,আবার হাসিখুশিও না। পরিবেশ অনুযায়ী তাকে বিচার করতে হয়,বাড়িতে সে হাসি খুশি কিন্তু বাড়ির বাইরে গম্ভীর।ওদিকে হাসিব সবসময় হাসি খুশি মানুষ।বাড়ির বাইরে বা ভেতর বলে কোনো কথা না।সবার সাথে হেসে কথা বলে আড্ডা দেওয়ায় তার চারিত্রিক গুণ।

৬ ফুট ২ হাইটের হিম সব জায়গায় গম্ভীর। হাসপাতালে রুগীর রিপোর্ট দেখার সময় রুগী চাতক পাখির ন্যায় তার দিকে তাকিয়ে থাকে,তার এক্সপ্রেশন ই রুগীর জন্য যে একটা উত্তর। কিন্তু মানুষটার মুখের যদি কোনো পরিবর্তন হয়,তবেই না কেউ কিছু আন্দাজ করবে।নিজেকে সবসময় কঠোরতার দেয়ালে আটকে রাখে।

#চলবে?
#সূচনা_পর্ব
#বুকের_পাঁজর
#ভরসা_জান্নাত (শ্যামকন্যা)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here