বোকামন #পর্ব_১১

0
2

#বোকামন
#পর্ব_১১
#Tahsin_Atoshi

আহানের বাড়িটা মোটামুটি বড় বললেই চলে। ছোটবেলায় মা মা’রা গেছেন। বড় হয়েছে তার খালার কাছে। বাবা দেশের বাহিরে থাকে। বড় হওয়ার পর নিজের হাল নিজেই ধরতে শিখেছে সে। বাবার নিজস্ব ব্যবসা থাকায় তেমন একটা স্ট্রাগাল করতে হয়নি তার৷ অনার্স কমপ্লিট শেষে মাস্টার্সের পাশাপাশি কম্পানির দেখাশোনা সে-ই করছে।
অমিত আহানের সাথে সাথে সবার জন্য নাস্তা তৈরী করছে। নাস্তার রেসিপি হলো পাউরুটি ও জেলি। এছাড়া ছেলেদের কাছ থেকে বেশি কিছু আশা না করাই বেটার। সবার জন্য পাউরুটিতে জেলি মাখাতে মাখাতে আহান কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল,

-আচ্ছা আমাকে একটা কথা বল; মায়রা কেন বললো আগের বারের মতো এমনটা হয়েছে। এর আগেও কি এমন ঘটনা ঘটেছিল?

-হ্যাঁ।

-তাহলে ওকে তখন বললি কেন যে এসব কিছুই হয়নি?

-ওর ছোটবেলার কিছুই মনে নেই তাই।

-মানে?

-অন্য কোনো সময় না হয় বলবো এই ব্যাপারে। এখন বাদ দে প্লিজ। আমার অন্য ব্যাপার নিয়ে চিন্তা হচ্ছে।

-কি?

-হুমুকে যে ইনজেকশন দেয়া হয়েছে সেটায় মে-বি ড্রাগস ছিল।

-ইয়া ব্রো আমিও সেইম কথাই ভাবছিলাম। তবুও শুকরিয়া কর মায়রার উপর খারাপ কোনো প্রভাব পরেনি।

-হুম তা তো শুকরিয়া করছিই। আচ্ছা চল ওদের কাছে।

বলেই দুজন মিলে খাবার নিয়ে হাজির হলো। তা দেখে তুহিন বলল,

-সিরিয়াসলি? আমি ভেবেছিলাম কি না কি বানাচ্ছিস তোরা। শেষে পাউরুটি জেলি? এটা তো যে কেউ পারে ইয়ার।

-যা এনেছি চুপচাপ খেয়ে নে। এখন আমি অবশ্যই মেহমানদারি করতে আসিনি তাই না? অন্য একদিন আসবি সকলে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াবো।

এরই মাঝে শুভ বলে,

-মুখে তুলতে পারবো তো?

শুভর এমন কথায় আহান রাগি লুকে তাকিয়ে সোফার উপরে থাকা কুশানটা ওর দিকে ছুড়ে মেরে বলল,

-এতোটাও বাজে রান্না করি না ওকে।

– হুম তা তো গতবার দেখলামই।

এদের খুনসুটির মাঝেই হুমায়রার দিকে চোখ পরতেই সকলে চুপ হয়ে গেল। হুমায়রা হাঁটুতে মুখ গুজে বসে আছে। তা দেখে অনিল এবার পাশে এসে বসল। মাথায় হাত বুলিয়ে ডাকল কয়েকবার। হুমায়রার শুধু নাকটানার আওয়াজটাই পাওয়া গেল। এবার অমিত অন্য পাশে এসে বসল। মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

-বনু…. কি হয়েছে।

হুমায়রার কান্নার বেগটা এবার আরো তীব্র হলো যেন। তা দেখে অমিত জড়িয়ে নিলো নিজের সাথে। মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

-এই বনু কি হয়েছে। কাঁদছিস কেন? আমাকে বল..

এতেই গলা আটকে আসে অমিতের। বাকিরা শুধু বোকার মতো দেখে। তুহিন এগিয়ে এসে সামনে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

-কি হয়েছে হুমু। কাদছিস কেন?

হুমায়রার তবুও থামার নাম নেয় না। অমিত আরো বেশি নিজের সাথে আঁকড়ে ধরে। অনিল পাশে চুপ হয়ে বসে আছে। চোখদুটো লাল হয়ে এসেছে তার। কান্না আটকানোর ফল হয়তো। আর না পেরে চুপচাপ উঠে বাইরে চলে এলো। শুভ এবার অনিলের জায়গায় এসে বসল। হুমায়রার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

-এই যে কিউটি কি হয়েছে বলো তো।

অমিত এবার হুমায়রাকে ছাড়লো। দুই চোখের জল মুছে দিয়ে বলল,

-কাঁদলে মাথা ব্যথা করবে। আমাকে বল কি হয়েছে?

হুমায়রা এবার ঠোঁট উল্টে কান্না করে বলল,

-আম্মু ঠিকই বলে আমি না অপয়া। যেখানে যাই শুধু সমস্যা তৈরী করি। কালকে সবাই কত মজা করছিলেন। সব আমার জন্য নষ্ট হয়ে গেল।

এইটুকু শুনতেই অমিত আবার জড়িয়ে ধরলো। নিজেকে সামলে একটু কঠোর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,

-মনি তোকে এসব বলে?

-হুম তো। ঠিকই বলে।

-কে বললো ঠিকই বলে হুম?

আবারো হুমায়রাকে ছেড়ে দুইগালে হাত রেখে বলল,

-আমার বোনটা অপয়া হলে সে তো আমাদের বোন হতোই না তাই না? তুই আসায় দেখ আমরা সবাই কত খুশি। তোর মামনি,বাবাই কত আদর করে। আমার আর অনিলের ভাগটাও তোকে দেয়। অপয়া হলে তো কেউ ভালো বাসতো না তাই না?

-কিন্তু আম্মু….

-মনি রাগ করে বলে। এগুলো মাথায় নিতে নেই। আর এসব কুসংস্কার। পড়াশোনা করছিস না। জানিস না এই ব্যাপারে?

-জানি।

-তাহলে? আর কাঁদে না ওকে? এখন খাবার খাবি চুপচাপ।

আহানও এবার খাবার এগিয়ে দিলো সামনে। হুমায়রা দেখেই দূরে সরে গেল। অমিত কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই হুমায়রা বলল,

-এটা তো স্ট্রবেরির বানানো জেলি। আমার এলার্জি আছে তো।

অমিতও হুমায়রার কথামতো খেয়াল করতেই আহানের দিকে তাকালো। ইশারায় বলল অরেঞ্জ ফ্লেবারের যেটা আলাদা তৈরী করে এনেছে সেটা দিতে। আহানও চুপচাপ তাই করলো। এর মাঝে অনিলও হাজির। সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,

-তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ কর। বাসায় যেতে হবে।

সবাই আর কথা বাড়ালো না। জেলি আর পাউরুটি খেয়ে বাসার উদ্দেশ্যে বের হলো। কিন্তু হুমায়রার জন্য আরেক ঝামেলা। পা কেটে যাওয়ায় ভালোমতো হাঁটতে পারছে না। তার মধ্যে শাড়ি তো আছেই। তা দেখে আহান তার কাবার্ড থেকে একটা জ্যাকেট বের করে হুমায়রাকে পরে নিতে বলল। হুমায়রাও তাই করলো। কিন্তু হাঁটা তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠছে। অমিতের হাত ধরে কিছুদূর হেঁটেই থেমে গেল। পা বিষের মতো হওয়ায় হাঁটতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তা দেখে অনিল আর সময় না নিয়ে হুমায়রাকে কোলে তুলে নিয়ে গাড়িতে বসালে। ড্রাইভিং সিটে বসে বলল,

-নেক্সট টাইম থেকে কেউ ডাকলেও যাবি না। আর যাওয়ার হলে স্মৃতি বা অন্য কোনো ফ্রেন্ডকে নিবি। কথাটা মাথায় থাকে যেন।

হুমায়রাও হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালো এবার। এরপর তিনজন মিলে রওনা দিলো বাসায় উদ্দেশ্যে। বাসায় পৌছাতেই অনিল হুমায়রাকে নিয়ে ঘরে বসিয়ে নিচে এলো। অনুরাগ সাহেব ও নীলা বেগম শুধু কৌতুহল নিয়ে ভাই-বোনদের কাহিনী দেখছে। অনিল নিচে নামতেই কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল,

-হুমুর কি হয়েছে রে? পায়ে ব্যান্ডেজ কেন?

অমিত অনিলও ধীরে ধীরে গতকালের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বললো এবার। সবটা শুনে অনুরাগ সাহেব ও নীলা বেগম চিন্তিত হয়ে পরলেন। সব সময় যে ভয়টা পেয়ে এসেছে এখন যেন সেটাই সত্যি হচ্ছে তাদের সাথে। তবুও অমিত অনিল আশ্বাস দিলো তারা তাদের বোনের কিছু হতে দিবে না। ছেলেদের কথায় নিজেদের সামলাতে পারলেও মনকে আর শান্তনা দিতে পারলেন না নীলা বেগম। তবুও প্রকাশ করলেন না। নিজ ঘরে চলে গেলেন।
.

শুভ মাএই ঘরে এসে বিছানায় চোখ বন্ধ করে শুয়েছে। সেই মুহূর্তেই স্মৃতি ঘরে প্রবেশ করে সাথে সাথে জিজ্ঞেস করল,

-হুমু কেমন আছে এখন? সব ঠিকঠাক?

স্মৃতির কথায় এবার চোখ জোড়া খুললো শুভ। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

-সারারাত ভাই বাসায় ছিলো না তাতে তার খেয়াল নেই। বান্ধুবী ঠিক আছে কিনা সেই নিয়ে পরেছে।

শুভর কথায় বিরক্ত হলো স্মৃতি। তবুও সামলে আবারও বলল,

-হুমু কেমন আছে?

-আছে আলহামদুলিল্লাহ। কিছুই করতে পারেনি রোদ। তবে..

-তবে কি?

– কাঁচে পা কেটে আপাতত পঙ্গু হয়ে আছে আরকি। হাঁটতে পারছে না।

-হায় আল্লাহ কি বলছেন। আমাকে ওর কাছে নিয়ে চলুন না।

স্মৃতির এমন কথায় শুভ এবার উঠে বসল। পাশে থাকা ওয়াটার বোতল থেকে পানি খেয়ে বলল,

-এখন সুস্থ আছে। এতো চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আর আমিও ক্লান্ত। কোথায় একটু ভাইয়ের মাথা টিপে দিবি,খাবার খেয়েছি কিনা জিজ্ঞেস করবি তা না বান্ধুবীকে নিয়ে পরে আছে।

-ওটা আমার দায়িত্ব না। আপনার বউ ও মায়ের দায়িত্ব। আর হুমু আমার জান বুঝলেন। তো ওকে নিয়ে সারাজীবন পরে থাকবো।

-ওয়াও জান! গুড গুড। ভাইয়েরাও বোনের জান হয়। আমি কি হতে পারবো?

-দূর আপনার সাথে কথা বলাই বেকার।

বলে বিরক্তি নিয়ে স্মৃতি বাইরের দিকে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলেই শুভ হেসে হাত ধরে থামিয়ে দিলো। স্মৃতিকে পাশে বসিয়ে বলল,

-মজা করছিলাম। আর আপনি আপনি করছিস কেন? তুমি করে বলবি। ভাইয়া বলে ডাকা যায় না আমাকে?

স্মৃতি চুপচাপ মাথা নিচু করে বলল,

-আমার সময় লাগবে।

স্মৃতির কথায় শুভ হেসে স্মৃতির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। এরপর পাশে থাকা ব্যাগটা থেকে একটা বাক্স বের করে স্মৃতির হাতে দিয়ে বলল,

-তোর জন্য।

স্মৃতি চুপচাপ বাক্সটা হাতে নিয়েই বুঝলো এটা আসলে মোবাইলের বাক্স। তাই কিছু বলবে তার আগেই শুভ থামিয়ে বলল,

-ভার্সিটিতে উঠেছিস। ফোন কাছে থাকা জরুরি। ক্লাস শুরু হলে বুঝতে পারবি।

-আমি ফোনের ব্যাপারে কিছু বুঝি না।

-কখনো কারোটা ব্যবহার করিসনি?

-নাহ্।

শুভ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। বলল,

-আমি বুঝিয়ে দিবো না হয়। এখন আমার জন্য খাবার নিয়ে আয় না প্লিজ। খুব ক্ষুধা লেগেছে।আহানের বাসার জেলি আর পাউরুটিতে পেট ভরে নাকি।

-কেন রান্না হয়নি?

– আরে ও তো বাসায় একা থাকে। বেশিরভাগ সময় বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করে খায়। না হয় মেড এসে রান্না করে দিয়ে যায়। আজ মেড আসেনি।

-বাবা মা নেই ওনার?

-হুম? মা মারা গেছে। বাবা আছে। বিদেশে থাকে। আর ও ইচ্ছে করেই একা থাকে।

-ওহ্।

দুজনের মাঝে আর কথা হলো না। স্মৃতি চুপচাপ খাবার নিয়ে আসার জন্য নিচে চলে গেল। আর শুভ তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে। ঝর্না ছেড়ে চুপচাপ ঝর্নার নিচে দাঁড়িয়ে রইলো। মাথায় যে পরিমাণে রাগ আছে তা এই ঠান্ডা পানিতে কমার না। চোখদুটো লাল হয়ে এসেছে। স্মৃতিও খাবার নিয়ে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নিজ ঘরে চলে গেল।

~★~

বিকেলের সময়। বন্ধুরা সকলে মিলে আবারো অমিতদের বাসায় এসে হাজির। শুভ আসতে না চাইলেও স্মৃতির জোরাজোরি ও মন খারাপ যেন না হয় তাই আসতেই হলো। কিন্তু তা খুব একটা লাভ জনক হলো না। কারণ হুমায়রা এখনো ঘুমাচ্ছে। দুপুরে ডাক্তার দেখে ঔষধ দিয়েছে গেছেন। ঔষধ খেয়ে সে এখন ঘুমের দেশে পারি দিয়েছে। কেউ আর জাগায়নি। সকলে মিলে একসাথে গল্প করতে ব্যস্ত। স্মৃতি মন খারাপ করে বসে আছে। সকলে ব্যাপারটা খেয়াল করলেও মন ভালো করার জন্য কি করা উচিত তা তাদের জানা নেই। একেকজন একেক টপিক নিয়ে কথা বলছে। তুলি সকলের মাঝ থেকে আহানকে বলল,

-দোস্ত তুই এখন একটু সিরিয়াস হ। টাইমপাস মার্কা প্রেম তো অনেক করলি। এখন সিরিয়াস হয়ে কাউকে ভালোবাস। তারপর বিয়ে করে ফেল। কতদিন বিয়ে খাইনা ইয়ার।

তুলির কথায় আহান বোকার মতো কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,

-ওরে আমার পেতনি বান্ধুবি লো। তা তোমার আর অমিতের যে সেই কোন জন্মে বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। তোমরা করছো না কেন গো?

-আরে দোস্ত আমরা তো করবোই। মাস্টার্সের শেষ ইয়ার চলছে। কমপ্লিট হলেই কাজকর্মে সিরিয়াস হবে। তারপর না হয়। কিন্তু তুই তো সেটেল।

-এসব বিয়েতে আমি আগ্রহী না আপু মনি। নিজের চরকায় তেল দেও। আমার কাছে এসো না।

এবার তুলি শুভকে কিছু বলবে তার আগেই শুভ বলল,

-বিয়েটা খুব জলদি করতে চাচ্ছি না। তো আমার পেছনে না পরাই বেটার তুলু বেবি।

তুলি এবার মন খারাপ করে অমিতের কাধে মাথা রাখলো। কৌতুহল নিয়ে বলল,

-স্মৃতি তুমি প্রেম টেম করো না? ক্রাস নেই?

স্মৃতি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

-প্রেম ও ক্রাস এই দুই শব্দেই এলার্জি আছে আমার। তো দূরে থাকাই শ্রেয়।

স্মৃতির এক কথার উওরেই তুলি চুপ। অর্নিও কৌতুহল নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগেই উপর থেকে চিৎকারের আওয়াজে সকলের চোখ উপরে চলে যায়। ব্যথা পায়েই হুমায়রা ঘর থেকে দৌড়ে নিচে নেমে আসছে। তা দেখে অনিল বকা দেয়ার জন্য উদ্যত হতেই অমিত থামিয়ে দেয়। হুমায়রাও দৌড়ে এসে অমিতকে জড়িয়ে ধরে। ব্যাপারটা তুলির হজম হয়না। হাজার বোন হোক। আপন তো না। জেলাসি একটু থাকবেই। কিন্তু প্রকাশ না করে চুপচাপ বসে থাকে। অমিত কৌতুহল নিয়ে বলে,

-কি হয়েছে বনু? এভাবে কেউ দৌড়ে আসে? পরে গেলে। আর দেখ তো পা থেকে রক্ত বের হয়ে কি এক অবস্থা।

হুমায়রার যেন কথা মাথায় ঢুকছে। একা একা বিরবির করে বলছে,

-আমি যাবো না। ওই লোকটা খারাপ। ওরা মে’রে ফেলবে আমাকে।

মে’রে ফেলবে শব্দটা জোরে বলায় সকলেই শোনে। অমিত হুমায়রাকে ছাড়িয়ে দুইগালেহাত রেখে বলে,

– কি হয়েছে বনু? কে মেরে ফেলবে?

-ভাইয়া ঘরে।ঘরে ওইলোকগুলো। ওরা ওরা আমাকে নিতে এসেছে কেন। আমি যাবো না। ওরা খুব খারাপ। আমি যাবো না। তোমরা কিছু বলো না। ওরা খুব খারাপ।

হুমায়রার কথা শুনেই অনিল কাছে এসে দাড়ায়। অমিতের কাছ থেকে নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে একটু জোরেই বলে,

– কারা খারাপ? কার কথা বলছিস তুই?

হুমায়রাও থমকে যায়। সে কার কথা বলছে সে নিজেও জানে না। চুপচাপ সবার দিকে তাকিয়ে আবারো উপরে তাকায়। সবটা আগের মতো নেই। সে যা দেখেছিল এখন সবটাই ভিন্ন তার কাছে। কৌতুহল নিয়ে বলে,

-এসব…এসব…? আ্… আমি আমি তো ওখানে…

হুমায়রার কথার মাঝেই অনিল থামিয়ে বলে,

-খারাপ স্বপ্ন দেখেছিস তুই। ওকে?

এরপর সোফায় নিয়ে বসায়। অমিতও গ্লাসে পানি এনে হুমায়রাকে দেয়। এক নিশ্বাসে সবটা শেষ করে চোখ বন্ধ করে নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করে। আবারো চোখ মেলে একবার উপরে নিজের ঘরের দিকে তাকায় আবার একবার উপস্থিত সকলের দিকে। অমিত ওর ভাবনার অবসান ঘটিয়ে বলে,

-দেখি এখানে সুয়ে পর। ঘুমা আরেকটু। ক্লান্ত তুই।

হুমায়রাও কথা না বাড়িয়ে অমিতের পায়ে সুয়ে পরে। কিন্তু মাথার চিন্তা কি আর যায়। অমিতও সব সময়কার মতো বানানো গল্পই বলতে থাকে হুমায়রাকে। সেই গল্প শুনতে শুনতেই ঘুমের দেশে পারি দেয় হুমায়রা। সুযোগ বুঝে অনিল আবারও ড্রেসিং করে পায়ের ব্যান্ডেজ পাল্টে আবার ব্যান্ডেজ করে দেয়।

আহান কৌতুহল নিয়ে বলে,

-অমিত সত্যি করে বল তো আসলে কি হয়েছে? গতকাল এতোটা ভয়ঙ্কর কিছুও হয়নি যে মায়রা এতোটা ভয় পাবে। তাহলে?

#চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here