#বোকামন
#পর্ব_২৮
#Tahsin_Atoshi
-হাইচ্ছু….!
-লেগেছে তো ঠান্ডা। বলেছিলাম ভিজতে হবে না।
অমিতের কথায় তুলি ভ্রুঁ কুঁচকে তাকায়।চোখ ছোট ছোট করে বলে,
-আমি একা ভিজেছি নাকি? তুমিও তো ভিজেছো।
-তো?আমার তো ঠান্ডা লাগেনি।
-লা্ লাগেনি লেগে যাবে।
এরই মাঝে তুলির মা গরম পানি নিয়ে হাজির হয়। একা একাই বলতে শুরু করে,
-গতকাল বারণ করেছিলাম রাতে বাইরে যেতে হবে না। বৃষ্টি হবে। তাও গেলি। এখন বোঝ।
হাসে অমিত। হাসতে হাসতেই বলে,
-আরে আন্টি ব্যাপার না। একটু আধটু অসুস্থ হতে হয়। না হলে চলে নাকি?
-হ্যাঁ বাবা। একটু আধটু অসুস্থ ঠিক আছে। কিন্তু আমাকে যে বিরক্ত করবে সেটা তো আর দেখবে না তুমি তাইনা।
-কিছুদিন সহ্য করে নিন আন্টি। এরপর বিয়ে হয়ে আমার কাছে আসলে আমিই খেয়াল রাখবো না হয়।
অমিতের এইটুকু কথায় ঘরটা পুরো নিস্তব্ধ হয়ে গেল। মা মেয়ে দু’জনের মুখটাই ফ্যাকাসে হয়ে এসেছে। তা খেয়াল করে অমিত। প্রসঙ্গ পাল্টাতে বলে,
-অর্নি কোথায়? দেখছি না যে..!
-গতরাতে অনিল এসেছিল। সারারাত জেগে গল্প করেছে দুটো। এখন পরে পরে ঘুমাচ্ছে।
অবাক হয় অমিত। কারণ সে আসার সময় অনিলকে জিজ্ঞেস করেছিল আসবে কিনা। কিন্তু উওর সরুপ সে না বোধক উওরই পেয়েছে। তাহলে? তবুও কথা বাড়ায় না সে।
.
ঘুম ভাঙতেই স্মৃতি নিজেকে কারো ওপর আবিষ্কার করে। অবাক হয় কিছুটা। গতরাতে সে কার সাথে ঘুমিয়েছে। ধীরে ধীরে মাথা উঠিয়ে কাঙ্ক্ষিত মানুষটাকে দেখার চেষ্টা করে। মানুষটার চেহারা দেখতেই আরো ভরকে যায়। আহান..! আহানের বুকের ওপর ঘুমিয়ে আছে স্মৃতি। দ্রুত সরে ওঠার জন্য প্রস্তুত হতেই খেয়াল করে আহান তাকে একহাতে শক্ত করেই জড়িয়ে ধরেছে। আবারো চুপটি করে বুকে সুয়ে পরে। সুয়ে সুয়ে গতরাতে কি হয়েছিল সবটা মনে করার চেষ্টা করে। হঠাৎ রাতে আহানের বুকে ঘুমিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা মনে পরতেই লজ্জায় লাল হয়ে যায় স্মৃতি। আবার এই ভেবেও অবাক হয় আহান তাকে জড়িয়ে ধরে ছিল! এটাও সম্ভব? নাহ্ ভাবতে গেলে নিজেই লজ্জায় পরে যাচ্ছে। কিন্তু আহান এই রুমে কেন ঘুমালো? সে তো..
ভাবনার মাঝেই আহানকে নড়ে উঠতে দেখে আবারো ঘুমের ভান ধরে স্মৃতি। এই মুহূর্তে আহানের সম্মুখীন হওয়ার ইচ্ছে নেই তার। এমনও হতে পারে লোকটা ঘুমের মাঝে জড়িয়ে ধরে ছিল। এখন যদি বকা দেয়। যেই কথা সেই কাজ। ঘুমের ভান করে সুয়ে থাকে স্মৃতি।
হঠাৎ টের পায় আহান তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে কপালে একটা চুমু খায়। এখন আরেক দফা হার্ট অ্যাটাকের অবস্থা হয়। নিশ্চয়ই এই লোকের কিছু হয়েছে। না হয় এমন করছে কেন? ভেবে পায়না স্মৃতি।
আহান চুপচাপ স্মৃতিকে বিছানায় ভালোমতো সুয়িয়ে দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। দরজার শব্দ পেতেই হাফ ছেড়ে বাঁচে স্মৃতি। ধীরে ধীরে চোখ খোলে এবার। কিছুক্ষণ আগে আহানের কাহিনী মাথায় ঘুরছে। না চাইতেও লজ্জায় মুখটা ঢেকে ফেলে। আবারো কাঁথা মুড়ি দিয়ে সুয়ে পরে সে।
বাইরে এখনো বৃষ্টি পরছে। ইচ্ছে হচ্ছে বৃষ্টিতে ভিজতে। কিন্তু আগে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হওয়াটাও জরুরি। এই বৃষ্টি আজ আর থামবে বলে মনে হয়না। তাই চুপচাপ উঠে বসলো সে। বসতে দেরি আহানের ওয়াশরুম থেকে বের হতে দেরি হয়না। নিজের উপরই রাগ হয় খুব স্মৃতির।
কিন্তু আহানের কোনো হেলদোল পাওয়া যায়না। সে নিজের মতোই আছে। তা দেখে আরো বেশি অবাক হয় স্মৃতি। কিন্তু সেও যে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে চায়না। তাই চুপচাপ ওয়াশরুমে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে ঘরে ঢুকতেই ঘর ফাঁকা পেয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচে এবার। আয়নার সামনে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতেই আবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিছুক্ষণ আগের ঘটনা। লজ্জায় আবারো লাল নীল হতে শুধু করে।
হঠাৎ করেই চোখ যায় টেবিলের উপরে। সেখানে কাপে চা,পাউরুটি ও ডিমভাজি রাখা। কৌতুহল নিয়ে টেবিলের কাছে যায়।
সকাল থেকে স্মৃতি শকের ওপর শক খাচ্ছে। কি হয়েছে এই লোকটার তাই মাথায় ঢুকছে না। পেছন থেকে কাশির শব্দ শুনতেই ভয়ে কেঁপে ওঠে এবার। আহান দাড়িয়ে আছে দরজার কাছে। ভ্রুঁ কুঁচকায় স্মৃতি৷ কিছু বলতে যাবে তার আগেই আহান বলে ওঠে,
-কিছু কথা বলার ছিল।
-হ্ হুম। ব্ বলুন…!
-এখন না পরে বলবো। খেয়ে নেও। আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। আজ আর অফিসে যাবো না।
-ক্ কি্ কিন্তু গতকালই তো শুধু গেলেন অফিসে৷ তা্ তাহলে আজ কেন যাবেন না? এ্ এভাবে মিস দিলে কি…..
-পরের সপ্তাহ থেকে রেগুলার হবো।
স্মৃতিকে থামিয়েই বলে ফেলে আহান। স্মৃতিও কথা বাড়ায় না।
-আজ আর রান্না করতে হবে না। আমি করবো। তুমি রেস্ট নাও।
বোকার মতো তাকায় স্মৃতি। হাত দিয়ে নিজের গায়ের তাপমাত্রা মাপে এবার। নাহ্ সে তো সুস্থ আছে। তাহলে? আহানের মাথায় সমস্যা দেখা দিলো নাকি? বুঝে উঠতে পারে না স্মৃতি।
স্মৃতিকে এতটা ভাবুক দেখে হালকা হাসে আহান। দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্মৃতির বলা কথাটাই স্মৃতিকে শোনায় সে,
-বেশি চিন্তা করলে মাথায় সমস্যা হবে। আপাতত সকালের নাস্তা খেয়ে নেও। আসি..!
স্মৃতি বোকার মতোই আহানের যাওয়ার পানে তাকায়। এগুলো স্বপ্ন নাকি বাস্তব সেটাই সে বুঝতে পারে না। ধীরে ধীরে নিজের হাতে নিজেই চিমটি কাটে ঠিক দেখলো নাকি ভুল সেটা ভেবে। সাথে সাথেই ব্যথায় চোখমুখ কুঁচকে ফেললো। নিজের মাথায় নিজেই গাট্টি মেরে বলল,
“দূর স্মৃতি পাগল হয়ে যাবি তুই। এতো ভাবিস না। চুপচাপ খেয়ে ঘুমা কাজে লাগবে। ”
যেই কথা সেইকাজ। নিজেকে নিজের মতো বুঝিয়ে খেয়ে বসলো এবার। ফোনটা হাতে নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করলো । কিন্তু নাহ্ দেখার মতো কিছুই নেই।
হঠাৎ মাথায় এলো তার ফুলগাছের কথা। এক দৌড়ে ছাদে চললো এবার। ছাদের দরজার কাছে এসে থামলো। বৃষ্টি পরছে খুব জোরে। ইচ্ছে হলো ভিজতে। আবার জ্বর বাধার ভয়ে দাড়িয়ে রইলো। বৃষ্টি বিলাস করতে লাগলো দরজায় হেলান দিয়ে। কিন্তু মন কি আর মানে? মন তো চাইছেই বৃষ্টিতে ভিজতে। তাই আর বাঁধা দিলো না মনকে।
ধীরে ধীরে পা বাড়িয়ে বের হলো বৃষ্টির মাঝে। কিছুক্ষণের মাঝেই ভিজিয়ে নিলো পুরো শরীর। দু-হাত ছড়িয়ে চোখ বন্ধ করে আকাশের দিকে মুখ করে। কেমন একটা শান্তি অনুভব হচ্ছে তার। কেটে যায় কিছুক্ষণ । আকাশের বজ্রপাতের ভয় হয়না তার। শান্তি অনুভব হয় খুব। চোখ বন্ধ করেই বৃষ্টি বিলাস করতে থাকে সে। কিন্তু সেটাও বেশিক্ষণ টিকে থাকে না।
হঠাৎ কোমড়ে কারো স্পর্শ পেতেই কেঁপে ওঠে কিছুটা। ভয়ে পিছু ঘুরে তাকায় সে। আহানকে দেখে একটু বিস্মিত হয়। ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে চলে যেতে চাইলেই হাত ধরে আটকে দেয় আহান। এক টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে। অবাক হয় স্মৃতি। কিন্তু গলা থেকে কন্ঠও বের হচ্ছে না তার। ধীরে ধীরে স্মৃতির অধরের সাথে নিজের অধর ছুয়িয়ে দেয় আহান। কেটে যায় কিছু সেকেন্ড। সময়টুকু থমকে যায় তাদের জন্য। এটা হয়তো স্মৃতির জীবনের অন্যরকম মুহূর্ত ছিল। কিন্তু বলার মতো কিছু খুঁজে পায়না। ইচ্ছে হয় ছুটে চলে যেতে। কিন্তু হাত পা তার ঠান্ডায় জমে আছে। আহানের এমনভাবে স্পর্শ করাটা মানতে পারছে না সে। হঠাৎ আহানের এভাবে বদলে যাওয়াটা তার কাছে অদ্ভুত লাগছে।
.
বারান্দার এক কোণে চুপচাপ বসে আছে হুমায়রা। রাগ হচ্ছে তার। এসেছে পর থেকেই সাঈমা মেয়েটা শুভর পেছনে লেগে আছে। কেন লেগে থাকবে? শুভ তো তার বর। তাহলে? অন্য মেয়ে কেন তার বরের খেয়াল রাখবে। শুভও তো কিছু বলে না। রাগ হয় তার নিজের উপর।
গতদিন সকালের কথা মনে পরে তার। লোকটা কি বলেছিল? খুঁজে পাবে না..! যাবে কোথায়? ওই মেয়ের সাথে? রাগ, জেদে কান্না চলে আসে হুমায়রার। মন চাচ্ছে ঘরের সবকিছু ভাঙচুর করতে। নিজের বাসায় থাকলে ঠিকই করতো। কিন্তু এটা তো পরের ঘর। সব জায়গায় কি রাগ দেখানো খাটে? তাই চুপ হয়েই বসে থাকে। কিন্তু সেটাও বেশিক্ষণ পারে না। দ্রুত উঠে শুভকে খুঁজতে শুরু করে। কোথায় গেল লোকটা? ওই মেয়ের কাছে? ভেবে পায়না সে। রুম থেকে বের হতেই সামনে পরে মৌমিতা। হুমায়রাকে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করে তিনি,
-কি হয়েছে মা? রেগে আছো কোনো কারণে?
হুমায়রা কি বলবে ঠিক বুঝতে পারে না। তার মন চাচ্ছে এটা বলতে রাগার কারণ তো আপনার বোনের মেয়ে-ই। পাঠিয়ে দেননা কেন ওর বাসায়। কিন্তু মনের কথা মনেই থেকে যায় তার। জোরপূর্বক হেসে বলে,
-না আন্টি কিছু না। শু…শুভ কোথায়?
-ও তো সকাল সকাল কোথায় যেন বের হলো। ঠিক বলতে পারছি না মা।
-আচ্ছা।
আর কথা বাড়ায় না হুমায়রা। কি বলবে? লোকটা সব সময় যাওয়ার আগে হুমায়রাকে বলে যায়। আজ কেন কিছু বললো না? এই মেয়ে আসার পর থেকেই তো ইগনোর করছে। তার মানে কি শুভ ওকে ভালোবাসে না?
কান্না পায় হুমায়রা। এবার আর আটকে রাখতে পারে না সে। চুপচাপ বারান্দায় গিয়ে কান্না করে দেয়। বেশিক্ষণ কান্নাটাও স্থায়ী হয়না। এরই মাঝে কোথা থেকে হুট করে এসে শুভ হাজির হয়। কোনো কথা ছাড়াই পাশে এসে দাড়ায়। আড়চোখে দেখে হুমায়রা। আবার মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে ঘুরে কান্না করতে থাকে। ভ্রুঁ কুঁচকায় শুভ। এখনো তো প্রেয়সীর চোখের পানি দেখেনি। তাই মজা করেই আবার কোমড় জড়িয়ে বলে,
-কিছু বলছো না যে..!
কথা বলে না হুমায়রা। শুধু নাক টানার শব্দটা কান পর্যন্ত যায়। তা শুনে গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-ঠান্ডা লেগেছে আবার?
তাও কথা বলেনা হুমায়রা। শুভ এবার হুমায়রাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে নেয়। হুমায়রার চোখে পানি দেখে কৌতুহল হয় তার। দুই গালে হাত রেখে জিজ্ঞেস করে,
-কি হয়েছে তোমার? কাঁদছো কেন? কেউ কিছু বলেছে? আমাকে বলো?
এবার শব্দ করেই কান্না করে দেয় হুমায়রা। সহ্য হয়না শুভর। হঠাৎ এমন কান্নার কারণটা সে জানে না। সে তো চায়না তার প্রেয়সী কান্না করুক। তাহলে?
-কথা বলো না প্লিজ। আচ্ছা আমি কি কিছু করেছি?
-ক্ কিছু না। চলে যান আপনি।
-আমাকে বলো না কি হয়েছে? কেঁদোনা প্লিজ। বলো না কেউ কিছু বলেছে?
-আ্ আমি একা থাকতে চাই। আপনি চলে যান।
এবার আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শুভ। নিজের মতোই জিজ্ঞেস করতে থাকে,
– কি হয়েছে আমাকে বলো। সাঈমা..! সাঈমা কিছু বলেছে?
উওর দেয়না হুমায়রা৷ এবার শব্দ করেই কান্না করে সে।যে কারণে কাঁদছে সেটা তো সে বলতে পারবে না । বলবে না সে। কেন বলবে? লোকটা কেন বুঝে না? তাহলে কিসের ভালোবাসা?
.
ভার্সিটি আসতে ইচ্ছে না হলেও এসেছে আজ তুহিন। কিন্তু আজ এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই তার কাছে। হয়তো মনটা হালকা হবে তাই৷ একা থাকলে যে প্রেয়সীর কথা আরো বেশি মনে পরবে তার। ভার্সিটি এলো এক নজর তো দেখতে পারবে। কিন্তু অন্যের স্ত্রী-কে দেখাটাও খুব একটা ভালো দেখায় না। একা একাই মাঠের এক কোণে গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসে থাকে সে। ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস। মাঠে কয়েকটা কাপলই বসে আছে। কোথায় ফ্রেন্ডরা আছে। আর আজ সে একা। বিয়ে হয়ে গেলে কি সবাই পর হয়ে যায়? ভেবে পায়না সে। হঠাৎ করেই পেছন থেকে ভেসে আসে একটা মেয়েলি কন্ঠ,
-এই যে মিষ্টার আপনি কি সিঙ্গেল?
ভ্রুঁ কুঁচকে তাকায় তুহিন। কারণ এতো সাহস নেই কারো। যে এভাবে এসে তাকে জিজ্ঞেস করবে। তাহলে এই মেয়ে? অবাক হয় সে। গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
-ভার্সিটিতে নতুন?
মেয়েটা এবার ভোলাভালা হাসি দিয়ে বলে,
-জ্বী….! না,,,, সেকেন্ড ইয়ারে।
-সেকেন্ড ইয়ারে মানে..!
-আসলে ক্লাসে তেমন একটা আসা হয়না। তাই দেখেননি হয়তো।
-ওহ্ আচ্ছা। এর জন্যই। আমি সিঙ্গেল নাকি মিঙ্গেল তা জেনে কাজ?
-ন্ না মানে….
এরপর হাতের ইশারায় দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েদের দেখিয়ে বলল,
-ওই আপুরা জিজ্ঞেস করতে বলেছিল তাই।
-ওহ্ আচ্ছা। যাই হই তা জেনে কাজ নেই। আর..
-আর…?
-কেউ র্যাগ দিতে আসলে বলবে তুহিন ভাই বারণ করেছে। তাহলেই হবে।
-তু…তুহিন কে?
রাগ হয় তুহিনের। দাঁতে দাঁত লাগিয়ে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। এরপর গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-আমার নাম তুহিন। এখন আসতে পারো।
-ওহ্ আচ্ছা। আ্ আমার নাম মিষ্টি।
বলেই দৌড় দেয় মেয়েটা। ভ্রুঁ কুঁচকায় তুহিন। ঠোঁটে ফুটে ওঠে অজানা হাসি। যেখানে সবাই ভয় পায় এক দেখায়। আর মেয়েটা এতো পাকনা? আবার ভেবে নেয়; সবার কাছে তার ব্যাপারে জানলে এমনিতেই ভয় পাবে।
#চলবে….

