বোকামন #পর্ব_৩৬

0
5

#বোকামন
#পর্ব_৩৬
#Tahsin_Atoshi

কেটে যায় প্রায় তিনমাস। পরীক্ষা শেষে সকলেই হাফ ছেড়ে বাঁচে। এর মাঝে মিষ্টির কাহিনী তো আছেই। হুমায়রা খুব ভাব জমিয়েছে মিষ্টির সাথে। কিন্তু সে আবার স্মৃতির সাথে তেমন ভাব জমাতে দেয়না। তার বেস্ট ফ্রেন্ড অন্যকারো সাথে ভাব জমাবে কেন?

আজ অমিত,অনিল,অর্নি ও তুলির গায়ে হলুদ। এর মাঝে হুমায়রা মিষ্টিকেও দাওয়াত দিয়েছে বিয়েতে আসার জন্য। ব্যাপারটায় তুহিন খুব বিরক্ত হলেও কিছু বলতে পারছে না৷ মেয়েটার খুশি মনে কিছু করলে বকাঝকাও করতে ইচ্ছে করে না তার। তাই চুপ হয়েই সহ্য করে সে।

অমিত ও অনিল বসে আছে ঘরের ড্রইং রুমে। হলুদের জন্য তেমন অনুষ্ঠান করেনি তারা। তাদের গায়ে হলুদ ছুয়িয়ে দিয়ে মেয়ের বাড়ি যাওয়া হবে হলুদের বাটি দিতে। এর মাঝে তারাও পরেছে মহা বিপদে। বিয়ের আগে বউয়ের সাথে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না তাদের। কি এক আজব নিয়ম। কিন্তু তারা নাছোড়বান্দা। ভেবেছিল হুমায়রা অথবা স্মৃতি সাহায্য করবে। কিন্তু না সেটাও আর হয়ে ওঠেনি৷ তারাও বারণ করে দিয়েছে। মন খারাপ হয় তাদের।

স্মৃতি, হুমায়রা আজ হলুদের শাড়ি পরলেও মিষ্টি আজ খয়েরি রঙের হলুদ পার ওয়ালা একটা গাউন ও সাথে হলুদ ওড়না পরেছে। হাতে সিলভার রঙের চুড়ি ও হালকা মেকআপ। এতেই তাকে দেখতে অসাধারণ লাগছে।

বড়রা মিলে তাদের হলুদ দেয়ায় ব্যস্ত। সিড়ির ওপরে দাঁড়িয়ে তুহিন ও আহান দেখছে তাই৷ এসব রিচুয়াল তারা খুব একটা পছন্দ করেনা। আহান গম্ভীর হয়েই আছে। না চাইতেও তার হলুদের দিনের কথা মনে পরে যাচ্ছে। ভাবতেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকায় স্মৃতির দিকে।

স্মৃতিকে দেখতেই পুরোনো কথাগুলো মুহূর্তেই মাথা থেকে বের হয়ে যায় আহানের ৷ হলুদ শাড়ি, চোখে কাজল ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক এতেই শ্যামাপরী লাগছে তাকে। না চাইতেও চোখ আটকে যায় সেদিকে। স্মৃতিও হুট করে আহানের দিকে তাকাতেই চোখে চোখ পরে তাদের। ইশারায় জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে। আহানও মুচকি হেসে না সূচক মাথা নাড়ায়। তুহিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

-এখন তুই বাকি আছিস। বিয়ে করে নে।

আহানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে তুহিন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,

-হুম। মনের মতো মানুষও তো প্রয়োজন।

-তুই না একজনকে পছন্দ করতি। মায়রার ফ্রেন্ড ছিল মে বি। তো তাকেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠা।

হাসে তুহিন। বুঝতে বাকি রয় না যে আহান এখনো জানেই না সে অজান্তেই তুহিনের প্রেয়সীকে নিজের করে নিয়েছে। হালকা হেসেই আবার নিচের দিকে চোখ যায়৷ মিষ্টি হাতে একটা গাজরা নিয়ে মেঝেতে বসে আছে। পরে গিয়েছিলো হয়তো। সেটা উঠাতে গিয়েই চোখে চোখ পরে তুহিনের সাথে। আবারো চোখ সরিয়ে নেয় সে। তাদের কিছুক্ষণের শুভদৃষ্টি চোখে পরে হুমায়রার৷ মুচকি হেসে মিষ্টির হাত টেনে আবারো সবার মাঝে নিয়ে আসে সে। বড়রা অলরেডি হলুদ দিয়ে চলে গেছে। এখন তাদের হলুদ দেয়ার পালা। প্রথমেই স্মৃতি ও মিষ্টি মিলে দু’জনার গালে হালকা হলুদ ছুয়িয়ে দেয়। বাটি থেকে দুই হাতে হলুদ নেয়ায় স্মৃতি বলে,

-কিরে দু হাতে হলুদ নিলি কেন?

হাসে হুমায়রা। বলে,

-দুই ভাইকে একসাথে মাখাবো তাই। একজন আগে আরেকজন পরে তা তো হবে না।

কেউ আর বাধা দেয়না। হুমায়রাও ধীরে ধীরে এগিয়ে দাড়ায় দুই ভাইয়ের সামনে। অমিত অনিলও চুপচাপ গাল এগিয়ে দেয়। মুচকি হেসে এবার হুমায়রা হালকা নিচু হয়ে হাতে থাকা সব হলুদ দুই ভাইয়ের পুরো মুখে মেখে ভুত বানিয়ে দেয় এক দৌড়। ব্যাপারটা ও এতো দ্রুতই করে যে কেউ বুঝে উঠতে পারে। আর যখন বুঝে ওঠে ততক্ষণে পুরো বাড়িতে হাসির রোল পরে যায়। অমিত অনিলও দৌড়ায় হুমায়রার পিছু পিছু।

মূলত তারাও অপেক্ষা করছিল হুমায়রা হলুদ মাখতে আসলে তারাও হুমায়রার মুখে হলুদ মাখাবে৷ কিন্তু তাদের প্ল্যানে মুহূর্তেই পানি ঢেলে দেয় হুমায়রা৷

দৌড়ে নিজ ঘরে এসে দরজা আটকে হাফ ছেড়ে বাঁচে। বাইরে থেকে ডাকাডাকি পরে অমিত ও অনিলের। ভেতর থেকেই চিৎকার করে বলে হুমায়রা,

-কি ভেবেছিলে আমি বুঝিনি তোমরা যে আমাকে হলুদ মাখানোর জন্য হাতে হলুদ মেখে বসেছিলে। কেমন লাগলো….?

এরই মাঝে অনিল বলে,

-হুমুর বাচ্চা তোকে পেয়ে নেই আমি সামনে৷ যদি হলুদ না মাখিয়েছি। তোকে হলুদ দিয়ে গোসল করিয়ে ছাড়বো আমি।

ধীরে ধীরে দুজনও নিজেদের রুমে চলে যায়। এই অবস্থায় অবশ্যই তারা বেশিক্ষণ থাকবে না। বাইরে শান্ত পরিবেশ দেখে হুমায়রাও যেন হাফ ছেড়ে বাচলো এবার। দরজা খুলে ধীরে ধীরে বাইরে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো কেউ আছে কিনা। সেই মুহূর্তেই হুট করে শুভ এসে হুমায়রাকে নিয়েই আবারো ঘরে ঢুকে দরজা আটকে দিলো। ঘটনাটা এতোটা দ্রুত হয়েছে যে হুমায়রার বুঝতেও খুব সময় লেগেছে। ভয়ে চোখ বন্ধ করে আছে সে। এবার ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকাতেই নিজের সামনে শুভকে দেখে একটু ভরকে যায়। বিরক্তি নিয়ে বলে,

-এভাবে কেউ টেনে ঘরে নেয়। ভয় পেয়ে গেছি আমি৷

শুভ মুচকি হেসে কোমড় জড়িয়ে নেয় হুমায়রার৷ নাকের সাথে নাক ঘষে বলে,

-এতো ভয় পেলে কীভাবে হবে বউ…?ভবিষ্যতে যে আরো অনেক কান্ড ঘটাবো।

-ম্ মানে? কি করবেন আপনি?

কথা বলে না শুভ। কোমড় জড়িয়ে আরো কাছে টেনে নেয় সে। নিজের ডান হাতটা ধীরে ধীরে হুমায়রার গালে ছুয়িয়ে দেয়। গালে ভেজা অনুভূত হতেই ভরকে যায় হুমায়রা। গালে হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করে কি দিয়েছে। হলুদ দেখেই এবার ঠোঁট উল্টায়। কান্নামাখা কন্ঠে বলে,

-এটা কেমন হলো? আমি ভাইয়াদের কাছ থেকে বাঁচার জন্য ঘরে এলাম। আর আপনি আমাকে হলুদ মাখিয়ে দিলেন…!

শুভ এবার হুমায়রার কোমড় ছেড়ে দুইগালে হাত রাখে। নাকের সাথে নাক ঘষে বলে,

-আমার বউকে আমি একটু হলুদ লাগাবো তাতেও বউ রাগ করবে হুম…?

নাক ছিটকায় হুমায়রা৷ মুখটা বিকৃতি করে বলে,

-হলুদের ঘ্রাণ একটুও ভালো লাগে না আমার।

-একটু মাখলে ক্ষতি নেই ম্যাম।

কথা বলে না হুমায়রা৷ শুভর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে ওয়াশরুমে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়াতেই আবারো আটকে দেয় শুভ। হাত ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে। হুমায়রা বিরক্ত হয় খুব। রাগ নিয়ে বলে,

-এখন আবার কি…

কথার বলার আগেই থেমে যায় অধর দুটো। কেটে যায় কিছু সেকেন্ড। এরপর ছেড়ে দেয় শুভ। মাথা নুয়িয়ে নেয় হুমায়রা৷ কেমন একটা অনুভূতি কাজ করে মনের মাঝে। কিন্তু সে এই অনুভূতিটাকে এই মুহূর্তে দমিয়ে রাখতে চায়। মনে মনে অনেক কিছুই ভেবে রেখেছে সে। সেই মুহূর্তটার অপেক্ষা শুধু৷ এর আগে তো কিছু হতে দেয়া যাবে না। তাই আর কিছু না বলেই ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ায়৷ আবারো পেছন থেকে হাত ধরে থামায় শুভ। অসহায় কন্ঠে বলে,

-আর কতদিন এভাবে দূরে রাখবে বউ। তোমার বর যে আর পারছে না এই দূরত্ব নিয়ে থাকতে।

-একটা প্রবাদ আছে জানেন তো? অপেক্ষার ফল মিষ্টি হয়। এতদিন অপেক্ষা করেছেন। আর কিছুদিন করুন না।

পিছু না ঘুরেই কথাটা বলে হুমায়রা। আর থাকতে পারে না শুভর সামনে। দ্রুত ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা আটকে দেয়। দরজার সাথেই হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুক্ষণ আগের ঘটনাটা মনে পরতেই লজ্জায় মুখ ঢেকে নেয় সে।

ছাদের এক পাশে দাড়িয়ে আকাশ দেখছে স্মৃতি। কিছুক্ষণ পর সকলে মিলে অর্নি,তুলিদের বাড়ি যাবে। নিচের এতো মানুষ কোলাহল সব কেমন বিরক্ত লাগে তার। তাই ছাদে এসে একা থাকা। রোদেলা আকাশে সূর্যীমামা নিজের মতো তাপ দিচ্ছে। কিন্তু সেই রোদের মাঝে থাকতেই তার কেন যেন ভালোলাগে। কালো হওয়ার ভয় নেই তার। ভয় থাকবে কীভাবে? সে তো এমনিতেই কালো। ভাবনার মাঝেই হেসে দেয় নিজে নিজে। হঠাৎ কোমড়ে কারো স্পর্শ পেতেই দ্রুত দূরে সরে দাড়ায়। আহানকে দেখে একটু হাফ ছেড়ে বাঁচে। আহানও কথা বাড়ায় না। স্মৃতির হাত ধরে ছায়ায় এনে দাড় করায়। গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছো কেন? অসুস্থ হওয়ার ইচ্ছে হয়েছে নাকি?

হাসে স্মৃতি। আহানকে রাগানোর জন্য নিজের হাত দুটো আহানের দুই কাঁধে রেখে বলে,

-একটু আধটু।

-খুব সখ মনে হচ্ছে? ওকে চলো আমিও দাড়াই।

বলেই হাঁটা ধরলে স্মৃতি আটকে দেয়। ঠোঁট উল্টে বলে,

-আপনি দাড়াবেন কেন? কালো হয়ে যাবেন তো। রোদের যা তাপ।

-তুমি হবে না বুঝি?

-আমি তো এমনিতেই কালো।

কোমড় জড়িয়ে কাছে নেয় আহান। এক হাতে কোমড় জড়িয়ে আরেক হাতে স্মৃতির গালে হাত রেখে বলে,

-কে বলেছে তুমি কালো? তুমি শ্যামা সুন্দরী। আমার শ্যামাঙ্গিনী।

-ওই কালোই তো হলো তাই না।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে আহান। এই মেয়ের সাথে কথায় পারা যাবে না। মুচকি হেসে বলে,

-আজ তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।

-ধন্যবাদ।

-আমায় কেমন লাগছে বললে না তো?

ঠোঁট কামড়ে হাসে স্মৃতি। হালকা উঁচু হয়ে আহানের কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলে,

– নিমের বংশধর লাগছে।

এমন কথায় ভরকায় আহান। অন্যদিকে চোখ দিয়ে সেও ঠোঁট কামড়ে হাসে। আবারো স্মৃতির দিকে তাকিয়ে বলে,

-নিমের অনেক উপকারিতা আছে জানো তো। তো সেই তেতোটুকু তোমাকেও দিয়ে দেই??

-মানে?

কথা বাড়ায় না আহান। কোমড় ছেড়ে এবার দুই গালে হাত দেয়। চোখ বন্ধ করে এগিয়ে আসে স্মৃতির দিকে। বুঝতে বাকি রয়না স্মৃতির আহান আসলে কি করতে চাইছে। সাথে সাথেই হাত দিয়ে আহানের মুখ আটকে দেয়। ঠোঁট উল্টে বলে,

-এখন না প্লিজ।

মন খারাপ করে এবার আহান বলে,

-আর কবে? এতদিন পরীক্ষার দোহাই দিয়ে আটকে রেখেছ। এখন কিসের অযুহাত দিবে শুনি?

-উমমম… আপনাকে এখনো অনেককিছু বলা বাকি আছে আমার।

-কি?

হুট করেই স্মৃতির মুখটা মলিন হয়ে যায়। মন খারাপ করেই আহানকে এক নজর দেখে বলে,

-বাসায় গিয়ে বলবো। এখন যাই। আপুদের বাসায় যেতে হবে।

আহানও আটকায় না। যাওয়ার পানেই তাকিয়ে থাকে কৌতুহল নিয়ে। বুঝে উঠতে পারে না আরো কি অজানা আছে তার।

তুহিন বাগানে দাঁড়িয়ে কলে কারো সাথে হেসে হেসে কথা বলছিল। দূর থেকেই মিষ্টি সেটা পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। পা বাড়ায় দেখার জন্য । এরই মাঝে পেছন থেকে নীলা বেগমের ডাক আসে। মিষ্টির কাছে এসে বলে,

-কি মা রেডি তো? একটু পর কিন্তু মেয়েদের বাড়ি যাবো।

মিষ্টিও মুচকি হেসে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায়। নীলা বেগমের সাথেই ঘরে যায় সে।

এদিকে হুমায়রা ফ্রেশ হয়ে বাইরে আসতেই সামনে অমিত ও অনিল পরে। অনিল একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বলে,

-এখন কোথায় যাবি শুনি? এখন তো কেউ বাঁচাতে পারবে না।

হুমায়রা ভয়ে একটু পিছিয়ে যায়৷ কিছু একটা ভেবে বলে,

-যদি তোমরা হলুদ না লাগাও তাহলে তোমাদের একটা উপকার করতে পারি।

কৌতুহল নিয়ে দু’জনই তাকায়। অমিত জিজ্ঞেস করে,

-কিসের উপকার?

এরই মাঝে অনিল বলে ওঠে,

-অমিত ওর কথা একদম শুনছি না। আমাদের থেকে বাঁচার জন্য এসব বলছে।

অনিলের কথা শুনে হাসে হুমায়রা। দুই হাত পেছনে নিয়ে একটু থেমে থেমে বলে,

-যদি… তোমরা….আমাকে হলুদ না লাগাও তাহলে আমি….

বিরক্ত হয় অনিল। রাগ দেখিয়ে বলে,

-দূর হেয়ালি না করে বল তো।

-তাহলে আমি ও বাড়ি গিয়ে তোমাদের বউদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলিয়ে দিবো। এখন তোমাদের চয়েস….!

কৌতুহল নিয়ে তাকায় দুই ভাই। অমিত হালকা তুতলে বলে,

-স্ সত্যি কথা বলিয়ে দিবি?

-হুম তিন সত্যি।

দুই ভাই তবুও তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। চোখে তাদের আশার আলো। মনে হয় লক্ষ টাকা জিতে যাবে। অনিল তবুও গম্ভীরতা নিয়ে বলে,

-ঠিক আছে। যা তাহলে।

সাথে সাথেই হুমায়রা দৌড় দেয়। যাওয়ার আগেই পেছন ফিরে বলে,

“বউ পাগলা দুই ভাই জুটলো কপালে….! ভাবিরা ভাগ্যবতী অনেক।”

#চলবে…….!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here