#বোকামন
#পর্ব_৩৫
#Tahsin_Atoshi
বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে মিষ্টি। চট্টগ্রামে বড় হয়েছে। গত তিন বছর আগে এক্সিডেন্টে তার বাবা-মায়ের মৃত্যু হয়। এখন তার মামা-মামির সাথেই থাকে। বাড়ির সকলের চোখের মনি বলা চলে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর ট্রমাটা কাটিয়ে উঠতে না পারায় ক্লাসেও তেমন অ্যাটেন্ড করেনি।
এইটুকু বলে থামে আহান। তুহিন বিরক্ত হয় খুব। আর স্মৃতি এক ধ্যানে আহানের দিকে তাকিয়ে থাকে। ভ্রু কুঁচকে বলে,
-এতো খবর কীভাবে জানলেন আপনি?
আড়চোখে তাকায় আহান। এরপর মুচকি হেসে বলে,
-আসলে ওদের বাসার পাশের প্রতিবেশীকে জিজ্ঞেস করতেই সব বলে দিলো।
-বাসা কীভাবে চিনলেন?
– সে আর এমন কি ভার্সিটি শেষে..
-পিছু নিয়েছিলেন?
কথা শেষ করতে না দিয়েই জিজ্ঞেস করে স্মৃতি। হাসে আহান। এরপর বলে,
-ন্ না আমি পিছু নিবো কেন? জুনিয়রদের বলেছি। ওরাই ঠিকানা খুঁজে দিয়েছে।
-ওহ্ আচ্ছা।
এরপর সবার দিকে তাকিয়ে বলে,
-আগামীকাল তো আপনাদের পরীক্ষা শুরু তাইনা?
সবাই হ্যা সূচক মাথা নাড়ায়।
-আমাদেরও পরীক্ষা। তাহলে এখন বাসায় যাওয়া যাক। পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন সবাই।
কেউ আর কথা বাড়ায় না। ধীরে ধীরে সকলেই স্থান ত্যাগ করে।
ঘরে এসে হাফ ছেড়ে বসে স্মৃতি৷ মাথাটা যন্ত্রণা করছে খুব। তাই চোখ বন্ধ করে সুয়ে পরে। আহানও গাড়ি পার্ক করে ঘরে আসতেই স্মৃতিকে সুয়ে থাকতে দেখে সেও পাশে সুয়ে পরে। মাথাটা স্মৃতির দিকে ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করে,
-ফ্রেশ না হয়েই সুয়ে পরলে…!
মাথা নাড়ায় স্মৃতি।
-শরীর খারাপ লাগছে?
আবারো হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায়। এবার উত্তেজিত হয়ে উঠে বসে আহান।
-বেশি খারাপ লাগছে? কোথায় খারাপ লাগছে আমাকে বলো.. এই…
চোখ বন্ধ অবস্থাতেই মুচকি হাসে স্মৃতি। ধীরে ধীরে চোখ খুলতেই আহানের চোখে চোখ পরে। ঠোঁট উল্টে বলে,
-একটু ব্যথা করছে। ঔষধ খেয়ে ঘুমালেই ঠিক হয়ে যাবে।
-বলেছিলাম যেতে হবে না ভার্সিটিতে। কিন্তু না কে শোনে কার কথা। শুধুই জেদ। এখন খারাপ লাগছে তো হুম..?
হাসে স্মৃতি। ঠোঁট উল্টে বলে,
-সারাদিন বাসায় থাকতেও যে ভালো লাগে না।
-ছাদে হাঁটবে, আমি আছি আমার সাথে কথা বলবে। কি হয় এতে হুম?কাল যেতে হবে না ভার্সিটি।
– পরীক্ষা তো।
-এই পরীক্ষা না দিলেও চলে।
-আমি দিতে চাই।
আহান আবারো না বলতে যাবে তার আগেই স্মৃতি উঠে বসে। আহানের আরেকটু কাছাকাছি এসে বসে বলে,
-সারাদিন ঘরে থাকলে পাগল হয়ে যাবো। আর অসুস্থতা সে বড় কিছু না।
-বড় কিছু না?
পাল্টা প্রশ্ন করে আহান। স্মৃতিও মুচকি হেসে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায়৷ এরপর বলে,
-এই যে কিছুক্ষণ সুয়ে ছিলাম। ব্যথা কমে গেছে। আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন। একসাথে খাবার খাবো।
আহানও কথা বাড়ায় না। উঠে ওয়াশরুমে চলে যায়৷ আর স্মৃতি ধীরে ধীরে পা বাড়ায় রান্না ঘরের দিকে। রান্না ঘর দেখেই ঠোঁট উল্টে ফেলে। আজকে রানি খালা আসেনি। রান্নাও হয়নি। খাবে কি এখন। উপায় না পেয়ে নিজেই কাজে নেমে পরে। অল্প সময়ের জন্য সব মিলিয়ে খিচুড়ি রান্নাটাই ঠিক মনে করে। যেই কথা সেই কাজ। কিন্তু এর মাঝেই বাধা হয়ে দাড়ায় আহান। গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
-কি করছো?
-আজকে খালা আসেনি। রান্না করতে হবে না৷ কি খাবেন না হলে?
-তোমাকে করতে কে বলেছে?
বলেই স্মৃতিকে ধরে চুলার পাশেই রান্নাঘরের ফাকা স্লাবটার উপর বসিয়ে দেয়। এরপর পাতিল হাতে বলে,
-হুম আমাকে বলো কি কি করতে হবে আমি করছি।
ঠোঁট উল্টায় স্মৃতি। এরপর যা যা লাগে একে একে সবই বলে দেয়। আহানও সেই অনুযায়ী করে হাফ ছেড়ে বাঁচে। স্মৃতির ঠোঁট উল্টানো দেখে ইশারায় জিজ্ঞেস করে,
-কি হয়েছে?
-সারাদিন কি সুয়ে বসেই থাকবো আমি? কাজ করলে কি হয়?
-অসুস্থ হয়ে পরবে তো।
আহানও কোমড় জড়িয়েই কাছে দাড়ায় স্মৃতির। দুইগালে হাত রেখে বলে,
-বেশি কাজ করার ইচ্ছে আপনার?
-হুমম।
-তাহলে একটা পুচকি এনে দেই কি বলো?
-কিন্তু পাবেন কোথায়?
-মানুষ কোথায় পায়?
মন খারাপ করে তাকায় স্মৃতি। আহান ধীরে ধীরে কাছে আসতে চাইলেই প্রেসার কুকারের সিটির শব্দে আবারও পিছিয়ে যায়। স্মৃতিও কথা না বাড়িয়ে স্থান ত্যাগ করে। বিছানায় এসে চোখ বন্ধ করে সুয়ে রয় আবারো। চোখের কোন থেকে গড়িয়ে পরে দুই ফোঁটা নোনা পানি।
অনিল ঘরে এসে যে সুয়েছে তার ওঠার নাম নেই। অমিতও সুয়েছিল। কিন্তু তার মায়ের ডাকে ঠিক উঠতেই হয়। দু’জন মিলেই হাজির হয় অনিলের রুমে। দরজার শব্দ শুনতেই টের পায় অনিল। চোখ বন্ধ করে বলে,
-এখন একটুও জালাতন করবে না। আমি একটা ঘুম দিবো। তারপর উঠে খেয়ে পড়তে বসবো। যাও যাও।
তবুও যায়না তারা৷ অমিত পাশে বসে বলে,
-তা আর হচ্ছে না। উঠে বস। বাবা-মা জরুরি কথা বলবে।
-আরে সে তো রাত….
কথা বলার মাঝেই অনুরাগ সাহেবের কণ্ঠ ভেসে আসে। হালকা গম্ভীরতা নিয়েই বলেন,
-কথা বলা শেষ হলে এরপর ঘুমিও যতক্ষণ ইচ্ছে।
অনিলও আর সুয়ে থাকতে পারে না। দ্রুত উঠে বসে। ঠোট উল্টে বলে,
– হুম বলো কি বলবে?
নীলা বেগম বলা শুরু করেন এবার,
-অর্নির মা-বাবা কল করেছিলেন। তোদের পরীক্ষা তো শুরুই হলো। তাহলে পরীক্ষা শেষের এক সপ্তাহ পরই তোদের বিয়ের ডেট দিয়ে দেই কি বলিস?
-খুব তাড়া মনে হচ্ছে?
-না তা নয় এমনি বলছিল আরকি।
অনিল এবার এক নজর অমিতকে দেখে নেয়৷ এরপর গম্ভীরতা নিয়ে বলে,
– তোমরা যেটা ঠিক করো তাতেই হবে। আমাদের কোনো সমস্যা নেই।
-আচ্ছা তাহলে তাই করি।
-যাও এখন।
সকলেই স্থান ত্যাগ করে। আবারো সুয়ে পরে অনিল। ঘুমের বারোটা বেজে গেছে। এখন আর ঘুম আসবে না৷ ফোনটা হাতে নিয়েই অর্নির নাম্বারে ডায়াল করে এবার৷ দুইবার রিং হতেই রিসিভ করে অর্নি সালাম দেয় প্রথমে। অনিলও সালামের উওর দিয়ে জিজ্ঞেস করে,
-কি করছো?
-আগামীকাল পরীক্ষা না। পড়ছি।
-এখন….!
-হ্যাঁ।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে অনিল। মনে মনেই বলে..
“এই মেয়ে জাতি এতো পড়ে লাভ কি হয়। কতটা আগ্রহ পড়াশোনায়। অথচ বাবা-মা বিয়ে দেয়ার জন্য উঠে পরে লাগে। আর আমাদের ছেলেদের পড়াশোনায় আগ্রহ নেই। তাই আমাদের পড়ানোর পেছনেই লাগে। ”
অনিলকে চুপ থাকতে দেখে অর্নি আবার জিজ্ঞেস করে,
-কিছু বলবে নাকি এমনিই কল করেছ?
– আঙ্কেল-আন্টি কল করেছিল। আমাদের পরীক্ষার পরের সপ্তাহেই ডেট ঠিক করতে চায়।
-ওহ্ হুম বলেছে আম্মু। আমার সমস্যা নেই।
-আচ্ছা পড়ো রাখি।
কল কেটে আবারো চোখ বন্ধ করে নেয় অনিল।
তুলি তাকিয়ে থাকে অর্নির দিকে। একটু মন খারাপও হয়। ইদানীং অমিত তেমন একটা কথা বলে না তার সাথে। সঠিক কারণটাও জানে না সে। ভুল করলে শোধরানোর চেষ্টা তো করতেই পারে৷ কিন্তু কারণটাই অজানা থাকলে কিই বা করার থাকে। তবুও ইচ্ছে হয় কল দিতে। ফোনটা হাতে নিয়ে নাম্বারটার দিকে তাকিয়ে থাকে।
আবারও মন খারাপ করে রেখে দেয়। চুপচাপ বই রেখে ছাদে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ঠান্ডা হাওয়া বইছে। বর্ষাকাল মানেই বৃষ্টি পরবে। এ আর এমন কি। ঠান্ডা হাওয়া,মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ভালোই লাগে তার। কিন্তু এই মুহূর্তে মনটা বিষন্ন হয়ে আছে খুব।
অমিতের হঠাৎ পরিবর্তন তার কাছে ঠিক লাগছে না। শুনেছে মানুষ পুরোনো হয়ে গেলে নাকি বদলে যায়? অমিতও কি তাহলে বদলে গেল? চোখ বন্ধ করে নেয় আবার। চারিদিকে হাওয়া বইছে৷ কি অদ্ভুত একটা সময়। যা মনের সাথে মিলে যায়। হঠাৎ কোমড়ে কারো স্পর্শ পেতেই দ্রুত চোখ খুলে দূরে সরে দাড়ানোর জন্য উদ্যত হতেই আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মানুষটা। ঘারে মুখ খুঁজে হালকা নেশালো কন্ঠে বলে,
-সরি এই ক’দিন ইগনোর করার জন্য।
কন্ঠ আর স্পর্শ কিছু সেকেন্ডের মাঝেই বুঝে যায় তুলি । মনের মাঝে অভিমানের পাহাড়টা যেন আরো ভারি হয়ে ওঠে। কোনো উওর দেয়না সে। অমিত ঘারে মুখ গোঁজা অবস্থাতেই আবারো বলে,
-আসলে আবারো সেই ঘটনা, হুমুর বিষয়টা সব মিলিয়ে কেমন হয়ে উঠে ছিলাম। অতীত কি চাইলেই ভোলা যায় বলো? আমিও ভুলতে পারিনি। তাই একটু একা থাকা। তোমাকেও ইগনোর করেছি খুব। আ’ম রিয়েলি সরি।
কান্না করে দেয় তুলি। কিন্তু মুখ ফেরায় না সে। অমিতের কাছ থেকে আবারো নিজেকে ছাড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। অমিতও ছাড়ে এবার। ছেড়ে নিজের দিকে ফিরিয়ে নেয়। চোখের পানি মুছে কপালে চুমু দিয়ে আবারো বলে,
-সরি…!
উওর আসে না কোনো। অমিতেরও খারাপ লাগে খুব। হাঁটু গেড়ে নিচে বসে এবার। দুই কানে হাত দিয়ে বলে,
-আসলে মেডাম জি তখন আমার আবেগে কাজ করেছিল। বিবেকে কাজ করেনি। শেষ বারের মতো ক্ষমা করে দিন। না হয় আপনার এই গোলাম এভাবেই থেকে যাবে। তার কষ্ট কি আপনার ভালো লাগবে?
হালকা হাসে তুলি। চোখের পানি মুছে নাক টেনে বলে,
-হুম অনেক ভালো লাগবে। এই ক’দিন আমাকে ইগনোর করে যে কষ্ট দিয়েছো তার শাস্তিতে এইটুকু কিছুই না।
-যো হুকুম মহারানি….! আপনার জন্য আপনার এই গোলাম সারাক্ষণ এভাবে থাকতে প্রস্তুত।
তুলি এবার অমিতের পাশে বসে। ইশারায় বলে কান ছেড়ে তার পাশে বসার জন্য৷ হাফ ছেড়ে বাঁচে অমিত। তাকিয়ে রয় তুলির দিকে। এক সপ্তাহ ঠিকভাবে কথা বলেনি একটু ইগনোর করায় কেমন শুকিয়ে গেছে। দেখে অবাক হয় কিছুটা। একটু গম্ভীরতা নিয়ে বলে,
-এই ক’দিন ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করোনি?
-তুমি এই অসময়ে এখানে কেন এসেছো?
অমিতের প্রশ্নের উওর না দিয়েই পাল্টা প্রশ্ন করে তুলি। দীর্ঘশ্বাস ফেলে অমিত। বুঝতে বাকি রয় না মহারানি তার প্রশ্নটা ইগনোর করতে চাইছে। সেও আর জিজ্ঞেস না করে তুলির প্রশ্নের উওর দেয়..
-ভাবলাম তোমার সাথে দেখা করে যাই। না হয় পরীক্ষা ভালো হবে না।
– ওহ্ শেষ দেখা করা? এখন চলে যাও।
হাসে অমিত৷ কিছু না বলেই তুলির কোলে সুয়ে পরে। কিছুটা ভরকে যায় তুলি। অবাক হয়ে বলে,
-আরে মেঝেতে কত ময়লা। ওঠো। গায়ে ময়লা লাগবে তো।
ওঠেনা অমিত। মুচকি হেসে বলে,
-কিছু হবে না। সরি..! আর রাগ কোরো না প্লিজ।
কোনো উওর দেয়না তুলি। আবারো মেঘাচ্ছন্ন আকাশের পানে তাকিয়ে রয়। মনের বিষন্নতা যেন কাটছেই না। অমিতেরও মন খারাপ হয় কিছুটা। প্রেয়সীর বিষন্ন মুখটার দিকেই তাকিয়ে রয়। তবে সে জানে এই অভিমান বেশিক্ষণের নয়।
ঘরে এসে বিছানায় যে সুয়ে আছে আর ওঠার নাম নেই হুমায়রা। শুভ আসার পর থেকেই খেয়াল করছে বিষয়টা৷ কিন্তু কিছু বলারও সুযোগ নেই। বলতে গেলেই উঠে আসবে সাঈমার নাম। হ্যাঁ এখন হুমায়রা উঠতে বসতে শুভকে সাঈমার কথা বলেই খোঁটা দেয়। মানুষ বলে একটা ভুল সারাজীবনের কান্না। সেটার প্রমাণ হুমায়রাই দিয়ে দিচ্ছে শুভকে। তবে সেও তো কম যায়না৷ হুমায়রাকে রাগাতে মাঝে মাঝে সেও সাঈমাকে নিয়েই কথা বলে। হুমায়রার মুখ ফুলানোটাও খুব এনজয় করে কিনা। কিছু একটা ভেবে শুভ প্রশ্ন করে বসে হুমায়রাকে,
-আসার পর থেকে সুয়েই আছো দেখছি।
এবার চোখ খোলে হুমায়রা৷ চোখ ছোট্ট ছোট্ট করে শুভকে দেখে বলে,
-রান্না তো করতে দিবেন না। তাহলে করবো কি হ্যাঁ? কাজ আছে কোনো?
-কাল পরীক্ষা। ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসো।
-উফফ…এই পড়াশোনা খুবই প্যারা। কে যে পড়াশোনা বানিয়েছিল তাকে পেলে যে কি করতাম আমি।
-কি করতে?
– বড় করে একটা সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করতাম কেমন আছেন।
হাসে শুভ। কৌতুহল নিয়ে বলে,
-এইচএসসিতে কি টেনেটুনে পাশ করেছিলে নাকি তুমি?
এবার উঠে বসে হুমায়রা৷
-কি মনে হয় আপনার?
-বিয়ের পর তো বই ধরতে দেখেছি বলে মনে পরে না। আর যে পড়া চোর তুমি বোধহয় টেনেটুনেই পাশ করেছ।
রাগ হয় হুমায়রার। উঠে শুভর কাছে দাঁড়িয়ে কোমড়ে হাত দিয়ে বলে,
– এ প্লাস পেয়েছি আমি এইচএসসিতে বুঝলেন। গ্রামের কলেজে আমি আর স্মৃতি ছাড়া আর কেউ এ প্লাস পায়নি। আসছে টেনেটুনে পাশ করেছি বলতে।
হাসে শুভ। হুমায়রাকে আরেকটু রাগানোর জন্য বলে,
-আমার বোন তো সবদিক থেকেই অলরাউন্ডার। পড়াশোনা, কাজ সবদিক থেকেই। পরীক্ষার হলে কি ওরটা দেখে দেখে লিখেই এ প্লাস পেয়েছিলে নাকি?
-আপনি কিন্তু বেশি বলছেন। নিজের যোগ্যতায় পাশ করেছি। কারোটা দেখে না।
বলেই মুখ ফুলিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাড়ায়। শুভও পিছু পিছু যায় এবার। হেসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে,
-রাগলে আমার বউকে দারুণ লাগে। আর আমার বউ পড়াশোনার ক্ষেএে কত ভালো তা তো আমি জানিই। আমি তো মজা করছিলাম। তোমাকে রাগাতে চাইছিলাম। কি সুন্দর অল্পতে রেগেও গেলে…..!
রাগ নিয়েই দূরে সরে হুমায়রা। মুখ ফুলিয়ে বলে,
-হ্যাঁ তো আমার সাথেই মজা করবেন শুধু। আমাকে রাগাতে তো ভালো লাগবেই। ভালো মিষ্টি মিষ্টি কথা তো শুধু সাঈমাকে বলবেন।
সাঈমার নাম শুনতেই মুখে হাসি এবার উড়ে গেল। নিজে নিজে বিরবির করে বলতে লাগলো,
“নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার জন্য তুই বেস্ট শুভ। তুই বেস্ট…..!”
#চলবে…….!

