#বোকামন
#পর্ব_৩৪
#Tahsin_Atoshi
আজ প্রায় দুদিন হতে চললো। স্মৃতি আগের থেকে অনেকটাই সুস্থবোধ করছে। স্মৃতির বেডের পাশে বসে আছে হুমায়রা৷ কারো মুখেই কোনো শব্দ নেই। এরকম চুপ থাকাটাও বিরক্ত লাগছে তার। আহান একটু দূরেই দাঁড়িয়ে আছে। শুভ দরজার কাছে হেলান দিয়ে দাড়ানো। আর বাকিরা বাইরে অপেক্ষা করছে। নিস্তব্ধতা ভেঙে স্মৃতি জিজ্ঞেস করে এবার,
-রাতের বেলা একা একা কোথায় যাচ্ছিলি তুই?
-বাসায়।
-একা যেতে হবে কেন? ভাইয়া ছিল না?
-ছিল। কিন্তু…
-কি? ঝগড়া করেছিস আবার?
চোখ তুলে তাকায় হুমায়রা। ঠোঁট উল্টে আবারো কান্না করে স্মৃতিকে জড়িয়ে ধরে। স্মৃতি ঠিক বুঝতে পারে না বিষয়টা। এই মেয়ে কথায় কথায় কান্না করতে ভালোই পারে। তাই আর কি? গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
-কি হয়েছে বলবি তো। বেশি বকা দিয়েছে তোকে?
-তোর ভাই খারাপ খুব খারাপ। থাকবো না আমি ওনার সাথে। ডিভোর্স দিবো আমি৷
-আচ্ছা…! ডিভোর্স দিলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?
-হুম হয়ে যাবে তো। ডিভোর্স দিলে উনি সাঈমাকে বিয়ে করে নিবে। উনি…উনি তো সাঈমাকে ভালোবাসে।
কৌতুহল নিয়ে এবার শুভর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে স্মৃতি। শুভ এবার মুখ খোলে। বলে,
-সাঈমা আমার খালার মেয়ে।
হুমায়রাকে নিজের থেকে ছাড়ায় স্মৃতি। দুইগালে হাত রেখে বলে,
-কেন মনে হলো ভাইয়া সাঈমাকে ভালোবাসে?
-উনি…উনি সাঈমাকে জড়িয়ে ধরে ছিল। আর.. উনি আমাকে ওর জন্য মেরেছে।
বিস্ময়ে তাকায় স্মৃতি৷ শুভ কিছু বলবে তার আগে আবারো হুমায়রা বলে ওঠে,
-উনি এটাও বলেছে.. আমাকে বিয়ে করা নাকি ওনার ভুল হয়েছে। চলে যেতে বলেছে আমাকে।
এবার স্মৃতিরও রাগ হয়৷ শুভর দিকে শুধু চোখ ছোট্ট ছোট্ট করে তাকিয়ে থাকে। হুমায়রাও থাকে না স্মৃতির কাছে। কারণ ও জানে এই মুহূর্তেও স্মৃতি ওর ভাইয়ের সাইডই নিবে। চুপচাপ রুম থেকে বের হয়ে বাইরে বাগানে রাখা বেঞ্চের কাছে গিয়ে বসে। পিছু পিছু আহানও যায় এবার।
আর স্মৃতি গম্ভীর ভাবে শুভকে পাশে এসে বসতে বলে। দু’জনই চুপ থাকে কিছুক্ষণ। এরপর শুভ ইতস্তত বোধ করে বলে,
-আসলে স্মৃতু রাগের মাথায়…
-রাগের মাথায় কি ভাইয়া? এর জন্য তুমি ওকে বিয়ে করেছিলে? এমনিতেও হুমায়রা তোমাকে মানতে পারছিল না এসবের জন্য। যা একটু ঠিক হতে যাচ্ছিল মাঝে ওই মেয়ে আসলো কোথা থেকে? আর ওর জন্য তুমি হুমুর গায়ে হাত তুলবে?
-স্মৃতু আমার কথাটা তো পুরো শোন। আসলে আমি…
-কি তুমি ভাইয়া?
অসহায় চোখে তাকায় শুভ। মন খারাপ করে বলে,
– আরে সাঈমা পরে যেতে নিচ্ছিলো তাই আমি ওকে যাস্ট ধরেছি। হূরও সেই মুহূর্তেই ঘরে এসে ওভাবে দেখে ভুল বুঝে নেয়। এরপর সাঈমার গায়ে হাত তোলে। তাই…
-তাই কি? হুট করে দেখলে যে কেউ এসব ভাববে। আর হুমু এমন মেয়েই না যে হুট করে দেখলো আর এসব ভেবে নিলো। ওই মেয়ে কতদিন ধরে আছে বাসায়? আর হুমুকে আজেবাজে কিছু বলেছে কিনা জানো তুমি?
থামে শুভ। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে সাঈমাকে বলা কথাটা মনে পরে যায় তার। আবারো অসহায় চোখে তাকায় স্মৃতির দিকে। রাগ হয় স্মৃতির। চোখ বন্ধ করে একটু ঠিক রাখার চেষ্টা করে গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-তোমার বউ তুমি কীভাবে রাগ ভাঙাবা ভাঙাও। যাও আমার সামনে থেকে। রাগ তো আমারই হচ্ছে। হুমু আর কীভাবে সহ্য করবে।
শুভও কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রয়। এরপর সাহস জুগিয়ে যায় হুমায়রাকে খুঁজতে।
একা একা সামনে থাকা ফুলগুলোর দিকে তাকিয়েই কেঁদে যাচ্ছে হুমায়রা। না চাইতেও শুভর বলা কথাটা আর গায়ে তোলার বিষয়টা চোখে ভেসে ওঠে। হুমায়রার থেকে কিছুটা দূরেই আহান দাঁড়িয়ে আছে। হুমায়রার কাছে আসতে চাইলেও মনের মাঝে দ্বিধা বোধ হয়। তবুও সাহস জোগায় মনে। ধীরে ধীরে এগিয়ে হুমায়রার থেকে কিছুটা দূরত্ব নিয়েই পাশে বসে। গলা আটকে আসে তার। কেটে যায় কিছুক্ষণ নিরবতা। এরপর ডাকে,
-মায়রা…!
চোখ তুলে তাকায় হুমায়রা। আহানকে এক নজর দেখে আবারো নিচে তাকিয়ে থাকে। আহানেরও দ্বিধা বোধহয় কিছু বলতে। আবারো চুপ থাকে কিছুক্ষণ। হালকা কাশি দিয়ে বলে,
-আচ্ছা মায়রা তোমাদের কীভাবে বিয়ে হয়েছে ঘটনাটা মনে আছে?
চোখের পানি মুছে মুখ ভার করেই তাকায় হুমায়রা। ভ্রুঁ কুঁচকে নাক টেনে জিজ্ঞেস করে,
-মানে?
-মানে হলো তোমার সাথে কিন্তু আমার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। এরপর শুভ তোমাকে কিডন্যাপ করে জোর করে বিয়ে করে তোমায়।
-হুম তো…?
-তো শুভ তোমাকে ভালোবাসে তাই বিয়ে করেছে এভাবে তাই না?
চুপ থাকে হুমায়রা। আহান আবারো বলে,
-সাঈমা শুভর খালাতো বোন। তো সেই হিসেবে এর আগেও ও এই বাসায় এসেছে। শুভর বাসায় তো প্রায়ই আড্ডা দেয়া হয়েছে আমাদের বন্ধুদের। তো দেখেছিই। সাঈমা মেয়েটা একটু গায়ে পরা স্বভাবের। শুভর পেছনে পরেই থাকে। কিন্তু সে কখনো ওকে পাওা দেয়নি। তাহলে তোমার কেন মনে হলো ও তোমাকে ভালোবাসে না সাঈমাকে ভালোবাসে?
কিছুক্ষণ চুপ থাকে হুমায়রা। তারপর মুখ ভার করেই বলে,
-উনি সাঈমার জন্য আমাকে মেরেছে৷
-সাঈমা বাসার সকলের আদরের মেয়ে। আর সাঈমার মা একটু অন্যরকম বলতে পারো। এক কথায় ঝগড়ুটে। সামান্য কিছু হলেই তর্কে জড়ায়। শুভ যদি তখন তোমাকে না মারতো তাহলে ওই মহিলা সিয়র তোমার পেছনে লাগতো।
-তো? উনি এরজন্য মারবে আমাকে? ওই মেয়েকে তো কিছু বলেনি। সব সময় আমার পেছনে লেগে থাকে। বলে আমি নাকি সুন্দর না, আমার রূপ,গুণ কিছু নেই। শুভ নাকি আমাকে ছেড়ে দিবে।
-ও বললেই কি তুমি তেমন হয়ে গেলে? চেহারা দিয়ে কি মানুষের রূপ প্রকাশ পায়? যে মনের দিক দিয়ে সুন্দর সেই তো বেস্ট৷ আর ও বললেই কি শুভ তোমাকে ছেড়ে দিবে?
-আপনি ওনার….
বলতে গিয়েও থামে হুমায়রা৷ পেছনে শুভ দাড়িয়ে আছে৷ তাই দেখে থেমে যায়। হুমায়রাকে লক্ষ করে আহানও পেছনে তাকায়। শুভকে দেখে সেও নিঃশব্দে স্থান ত্যাগ করে। শুভ ধীরে ধীরে এসে বেঞ্চের ফাঁকা যায়গায় বসে। তা দেখে হুমায়রা উঠে যায়। তার কোনো কথা নেই এই লোকের সাথে। সে বলবে না কথা। মুখ ফুলিয়ে সামনে হাঁটতে হাঁটতে হুট করে থেমে যায়। পেছন থেকে হাত টেনে ধরেছে শুভ। হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই হেঁচকা টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে শুভ। কোমড় জড়িয়ে কাছে টেনে বলে,
-সরি হূর। আর কখনো এমন হবে না।
কথা বলে না হুমায়রা৷ অন্যদিকেই মুখ ফিরিয়ে থাকে। তা দেখে মন খারাপ হয় শুভর। আবারো বলে,
-এই পাগলি ভালোবাসি তো। সরি না…! ক্ষমা করে দেও। আর হবে না এমন। সত্যি বলছি।
আবারো কান্না করে দেয় হুমায়রা৷ মাথা নিচু করে বলে,
-আমাকে বিয়ে করে আপনার ভুল হয়েছে তাইনা। আপনি আমাকে ডি…
মাঝ পথেই কথা আটকে দেয় শুভ। শক্ত করে জড়িয়ে নেয় নিজের সাথে। তারও গলা আটকে আসে এবার। সামলায় নিজেকে।
– এই ভুল আমি হাজারবার করতে চাই। ভালোবাসি তো।
-নাহ্ আপনি সাঈমাকে ভালোবাসেন৷ ও বলেছে আমাকে। আমি তো মোহ্ ছিলাম আপনার। তাই তো আমাকে মেরেছেন আপনি। ছাড়ুন আমায়।
ছাড়ে না শুভ। আরো শক্ত করে জড়িয়ে নেয় নিজের সাথে। সেভাবেই বলে,
-আর মারবো না। রাগের মাথায় মেরেছিলাম তো।
-আপনি..আপনি আমাকে চলে যেতেও বলেছেন।
-রাগ করে বলেছিলাম। তাই বলে যেতে হবে? ভালোবাসি কতবার বলেছি। কই সেটাতো বিশ্বাস করোনি৷
-আপনিই আমাকে বলেছিলেন অপরিচিত কাউকে বিশ্বাস করতে নেই। সবার কথায় এতো গলে গেলে হয়না।
হাসে শুভ। আরে শক্ত করে জড়িয়ে বলে,
-সবার কথায় গলে গেলে হয়না। কিন্তু ম্যাম আমি আপনার বিয়ে করা বর। আমার কথায় গলে যেতেই পারেন।
-নাহ্ আপনি সাঈমাকে ভালোবাসেন।
-আবারে সাঈমা…!
-আমার তো অনেক জেদ। কেউ সহ্য করবে না। বলেছেন আপনি।
হাসে শুভ। হেসেই বলে,
-কারো সহ্য করতে হবে না। শুধু আমিই সহ্য করবো।
-ওই মেয়ে ও বাড়ি থাকলে আমি যাবোনা ওখানে।
-পাঠিয়ে দিয়েছি ওকে ওর বাসায়৷ নেই ও। আর কখনো আসবেও না।
এবার মাথা তুলে তাকায় হুমায়রা। মুখ ভার করেই জিজ্ঞেস করে,
-সত্যি…?
-হ্যাঁ তো।
★
কেটে যায় আরো এক সপ্তাহ..! দুদিন বাদেই মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা। তাই সকলেই ঠিক করে ভার্সিটিতে আসবে। কতদিনই বা বন্ধ দেয়া যায়। তুহিন একা একাই ভার্সিটিতে বসে আছে। বাকিরা এখনো আসেনি। তাই সময় কাটানোর জন্য ভার্সিটির মিউজিক রুমটাই পারফেক্ট তার জন্য। একা একা খুব নিঃসঙ্গ লাগে কিনা৷ চোখ বন্ধ করতেই স্মৃতির মুখটা ভেসে ওঠে। সেভাবেই মুচকি হেসে কাটা হাত দিয়েই গিটারের টুংটাং শব্দে গান ধরে সে…..
“হায়রে বোকামন আমার
শুনলি না বারণ
আবার প্রেমে মজলি রে তুই
কেন অকারণ…!!
রোজ বুজ ভেঙে তুই গেলি কেঁদে
সাদ কি মেটেনা..
কেন খুজলি আবার
সেই পাষাণ এক মনের ঠিকানা….!”
এইটুকু গেয়েই গলা আটকে আসে তার। মন খারাপ করেই বসে রয় কিছুক্ষণ। এরমাঝে সামনে থেকে মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসে কানে,
-আপনার মনে খুব দুঃখ তাই না?
চোখতুলে তাকায় তুহিন৷ সামনে সেই মেয়েই দাড়িয়ে আছে। দেখেই চোখ-মুখে বিরক্তির রেশ ফুটে উঠে তার। কিছু বলবে সেই মুহূর্তেই মিষ্টির পেছন থেকে আরেকটা মেয়ে বলে ওঠে,
-আপনি অনেক কিউট.. আচ্ছা আপনি কি সিঙ্গেল??
অবাক হয়ে তাকায় তুহিন। এক নজর মিষ্টিকে দেখে আরেকবার তার পাশে থাকা মেয়েকে। দাঁতে দাঁত লাগিয়ে তাকিয়ে রয় কিছুক্ষণ। গম্ভীর কন্ঠে কিছু বলতে যাবে এরই মাঝে মিষ্টি বলে ওঠে,
-উনি সিঙ্গেল নাকি মিঙ্গেল তা দিয়ে তোর কি কাজ??
-ন্ না মানে আসলে উনি…
-কি উনি হ্যাঁ? সরি বল এক্ষুনি।
মেয়েটা অবাক হয়ে তাকায়। তুহিন শুধু ওদের কাহিনীই দেখছে বসে বসে। কথা বলার জন্য কিছু খুঁজে পাচ্ছে না সে। মিষ্টি আবারো মেয়েটাকে বলে,
-সরি বল জলদি।
মেয়েটাও এবার ইতস্তত বোধ করে। ধীর কন্ঠে বলে এবার,
-দুঃখিত ভাইয়া…!
মিষ্টি আবারো বলে,
-সরি বলতে বললাম না তোকে?
মেয়েটা আবারো বলে,
-দুঃখিত ভাইয়া৷ রাগ করবেন না প্লিজ।
মিষ্টি এবার মাথায় গাট্টি মেরে বলে,
-সরি বললে হয় কি তোর?
মেয়েটারও রাগ হয় এবার। মিষ্টির মাথায়ও গাট্টি মেরে বলে,
-হায়রে ব’ল’দ সরির বাংলা দুঃখিত-ই।
থামে মিষ্টি। তুহিনের দিকে হালকা হাসি দিয়ে তাকাতেই তুহিন গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-তোমাদের মেলোড্রামা শেষ হলে এখন যেতে পারো।
মিষ্টি ইশারা দিতেই পাশের মেয়েটা চলে যায়। আর সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। তা দেখে ভ্রুঁ কুঁচকায় তুহিন। গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-তোমাকে কি থাকতে বলেছি আমি?
-জ্ জ্বী না মানে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
-হুম..!
-আপনি এই দুদিন ভার্সিটিতে আসেননি কেন?
-কোনো কাজ?
-ন্ নাহ। আপনার হাতে কি হয়েছে? হাত কাটলেন কীভাবে?
-ক্লাস নেই তোমার? ক্লাসে যাও। গেট আউট…..!
মিষ্টিও কথা বাড়ায় না। চুপচাপ মাথানিচু করেই স্থান ত্যাগ করে।
ঘটনাটুকু চোখে পরে বাকিদের। মাত্রই তারা এসেছে। হুমায়রা কৌতুহল নিয়ে তুহিনের পাশে চেয়ার নিয়ে বসে জিজ্ঞেস করে,
-মেয়েটা কে গো ভাইয়া?
তুহিন এক নজর উপস্থিত সকলকে দেখে নেয়৷ এরপর গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-ভার্সিটিতে নতুন৷ সেকেন্ড ইয়ারে পরে। কেন?
-দেখতে খুব মিষ্টি। নাম কি ওর?
-মিষ্টি..!
হাসে হুমায়রা। হেসে বলে,
-হুম আমিও তো বললাম ও দেখতে খুবই মিষ্টি। এখন নামটাও বলো।
রাগ হয় তুহিনের। বিরক্ত নিয়ে হুমায়রার দিকে তাকিয়ে বলে,
-ওর নামই মিষ্টি৷
বলেই হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। যাওয়ার আগে বলে যায় সে অফিস রুমে যাচ্ছে। বাকিরা যাওয়ার পানে তাকিয়ে আবার হুমায়রার দিকে তাকায়। মিটিমিটি হাসছে হুমায়রা। তা দেখে সবাই একটু অবাকই হয়। শুভ তুহিনের চেয়ারটাতে বসেই জিজ্ঞেস করে,
-একা একা হাসছো যে?
-মেয়েটা সুন্দর তাই না?
-উমমম… তোমার থেকে বেশি না।
আড়চোখে তাকায় হুমায়রা৷ বিরক্তি নিয়ে বলে,
-সব জায়গায় আপনার ফ্লার্ট করতে হবে কেন হ্যাঁ? ভাবছি তুহিন ভাইয়ার সাথে ওই মেয়ের সেটিং করিয়ে দিবো। দারুণ মানাবে।
এরই মাঝে অর্নি বলে ওঠে,
-উফ.. হুমায়রা মনের কথাটা কেরে নিলে আমার। আমিও তাই ভাবছিলাম।
বাকিরাও ওদের সাথে মত প্রকাশ করে। সাথে সাথেই হুমায়রা হাত বাড়িয়ে বলে,,
-তাহলে মিশন শুরু এক্ষুনি??
এরই মাঝে তুলি বলে,
– কিন্তু এর আগে মেয়েটার ব্যাপারে জানা জরুরি।
-সে নিয়ে নো চিন্তা। খোঁজ কালকের মাঝেই পেয়ে যাবে।
আহানের কথাটা বলতে দেরি স্মৃতির চিমটি কাটতে দেরি হয়। সাথে সাথেই হাসির রোল পরে রুমের মাঝে।
#চলবে…….!

