এক_মেঘলা_দিনে #পর্ব_১১

0
2

#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_১১
#আনিকা_আফসা

ধীরে ধীরে চোখ খুলতেই মাথার উপর ঘুরতে থাকা ফ্যান নজরে এলো। বুঝতে চেষ্টা করলাম আমি কোথায়। নজর সরিয়ে আশেপাশে দেখতেই বুঝলাম এটা আমারই ঘর। সামনে মা রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বসে আছে আর আপু আমার দিকে তাকিয়ে আছে। নিহান ভাইয়া দেয়ালে হেলান দিয়ে আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। আমার জ্ঞান ফিরতেই আম্মু ধমকে উঠে বলল,

“এই বজ্জাত মেয়ে তোকে না বলেছি না খেয়ে কোথাও বের হবি না?”

আমি ধমক খেয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসলাম। শরীর দুর্বল লাগছে। আপু আম্মুকে বলল,

“আম্মু, থাক না এখন। মাত্র জ্ঞান ফিরেছে মেয়েটার”

আম্মু এক আঙ্গুল উঁচিয়ে বলল,”একদম তুই প্রশ্রয় দিবি না আনিশা। আর এই আনিকা আজ খেয়ে যাস নি কেন পাকামো করে? তোর জন্য নাস্তা বানাই নি আমি? আজ রুদ্র না থাকলে কি হতো? ভাগ্যিস তুই যখন জ্ঞান হারিয়েছিস ও ছিলো নাহলে রাস্তায় পড়ে থাকলে তোকে নিয়ে সবাই টানাটানি করতো না? কতজন সুযোগ নিতে আসতো জানিস? ”

হঠাৎ করে আমার রুদ্রের কথা মনে পড়লো আম্মুর কথায় । আশেপাশে তাকিয়ে তাকে দেখলাম না। পাশে বসা আপুকে জিজ্ঞেস করলাম,

“রুদ্র ভাই কোথায়?”

আপু বললো,”গেছে একটা কাজে বলল”

আমি ছোট্ট করে উত্তর দিলাম,”ওহ্”

তখনই বাবা প্রবেশ করলেন ঘরে । বাবাকে দেখে আম্মু বললেন,

“দেখো তোমার মেয়েকে, রাস্তায় আজ পড়ে গেছিল। যদি কোনো অঘটন হতো? তোমার মেয়েকে কতবার বলেছি ‘খেয়ে যা ,মা খেয়ে যা’ । শোনে আমার কথা?”

বাবা চুপচাপ এসে আমার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

“এখন কেমন লাগছে?”

আমি মাথা নেড়ে বললাম,”ভালো”

বাবা ভ্রু কুঁচকে বলল,”খেয়ে যাওনি কেন?”

আমি চুপ করে রইলাম। কিছু বলতে পারলাম না। বাবা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“পরেরবার থেকে না খেয়ে বের হবে না। এভাবে মাথা ঘুরে পড়ে গেলে অনেক ক্ষতি হয়। বুঝেছো কি বলেছি?”

আমি মাথা নেড়ে বললাম,”জ্বি বাবা”

বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,”ওকে নাস্তা দেও”

মা শাসিয়ে বলল,”তোমার মেয়ের নাস্তা নেই। বেলা দেখেছো? ভাত খাবে ও। আজ পাঁচ প্লেট ভাত খাবে। পরেরবার কিভাবে মাথা ঘুরে পড়ে যায় আমিও দেখবো”

বাবা হাসলেন। আমি অসহায় চোখে বাবা ও আপুর দিকে তাকালেন। তখনই নিহান ভাইয়া বললেন,

“আরে মা , পাঁচ কেন? আমি বলি কি দশ প্লেট খাওয়ান। কত শুকিয়ে গেছে আমার বোনটা। ইশ্ রে!”

আমি নিহান ভাইয়াকে চোখ রাঙালাম। আমাকে না বাঁচিয়ে আরো ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। বাবা সবাইকে থামিয়ে দিলেন এবং বললেন আমাকে একটু রেস্ট নিতে দিতে। সবাই যেন এখন একটু আমার ঘর ফাঁকা করে। সবাই বাবার কথামতো চলে গেলেন। বাবাও আমার মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেলেন। সবাই যেতেই আমি লম্বা হয়ে শুয়ে পড়লাম। শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম আজকের ঘটনাগুলো। ভাগ্যিস রুদ্র কাউকে কিছু বলেনি, নাহলে আরো কথা বাড়তো , হয়তো আমার ভার্সিটি যাওয়াই অফ করে দিতো মা।

রুদ্র আজ কি হিংস্র হয়ে উঠেছিল না? কত নিষ্ঠুরভাবে লোকগুলোকে মারলো। এসব আমার জন্য করেছে? তাহলে প্রথমে এতো ঢং করলো কেন? প্রথমে তো একদম ভাই – ভাই করছিল। আমি একটা ভেংচি কাটলাম। তারপর হঠাৎ একরাশ লজ্জা আমায় ঘিরে ধরলো। আজ রুদ্রকে কিভাবে জড়িয়ে ধরেছি। এতো নির্লজ্জের মতো কাজ কিভাবে করলাম? আমি নিজের জামা শুকলাম। এখানে এখনও রুদ্রের ঘ্রাণ লেগে আছে। প্রাণভরে শ্বাস নিলাম। হঠাৎ করেই মনে পড়লো রুদ্রের করা ব্যবহার। মুখটা মলিন হলো তখনই যখন বাস্তবতা মনে পড়লো। আচ্ছা উনি বলেন যে , উনি আমাকে ভালোবাসেন তাহলে সেদিন আমাকে এতো খারাপ কথা কেন শুনালেন? আমার কষ্ট হবে এটাও ভাবেনি? নাকি তখন আমাকে ভালোইবাসেনি? আমি এক দীর্ঘশ্বাস ফেললাম, ভালোবাসুক বা না বাসুক আমি আর ওনাকে চাই না। শুধু কিছু মানুষ মনে দাগ কেটে যায়। এই দাগ কখনো ওঠানো যায় না আর না যায় এগুলো ভুলে থাকা।

_______

আজ সারাদিন ঘরেই ছিলাম বলতে গেলে। ঘরেই আপু খাবার নিয়ে বাচ্চাদের মতো খাইয়ে দিয়েছে। সারাদিন আর রুদ্রের দেখা পায়নি। রুদ্র বাসায় থাকতেও কেন যেন সামনে আসেনি। একবার দেখে যাওয়ারও প্রয়োজনবোধ করলো না? না করুক, আমি এভাবেই বিন্দাস আছি। লোকটা আসলে আমি নিজেই বিব্রত হতাম। এর থেকে ভালো না আসাই। আর উনি আমার কে হন যে ওনাকে আসতে হবে?

এই ভেবেই দৃষ্টি আবার জানালায় তাক করলাম। হাতের মুঠোয় ধরে রাখা ফোনটা। আমার লাচ্ছি ও কিটি দুজনের ঝগড়া হয়েছে আজ। দুজন দূরে দূরে থাকছে। দেখো কিভাবে দুজন মন খারাপ করে বসে আছে। মাথা নেড়ে হাসলাম। তখনই হাতের মুঠোয় থাকা ফোন ভাইব্রেট করে উঠলো। আমি তাকিয়ে দেখলাম আপুর কল। এক বাড়িতে থেকে কল দেয়ার মানে কি? রিসিভ করতেই আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আপু বলল,

“আনি শোন, আমরা সবাই মিলে বাইরে যাচ্ছি। তুই তাড়াতাড়ি আয়। ”

আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,”কে কে যাচ্ছো?”

আপু বলল,”আমি , নিহান, কেয়া , রুদ্র আর তুই। নিকিরাও আসবে একেবারে স্পটে”

আমি বললাম,”আমি যাবো না। মুড নেই। তোমরা যাও। আর আমি এটা বুঝিনা তোমরা বন্ধুরা মিলে যাবে আমাকে কেন টানো?”

আপু বলল,”এজন্যই তোকে আদর করে খাইয়ে দিই? তোকে টানবো না? তুই আমার বোন না?”

আমি বললাম,”হুম, আমি তোমার বোন কিন্তু আমি এখন যাবো না। রাখছি, ভালো মজা করো তোমরা। বেস্ট অফ লাক”

এই বলে কল কেটে দিলাম। বিড়ালদের কাছে ডাকতেই তারা দৌড়ে এলো। আমার কাছে কে আগে আসবে এটা নিয়েও ঝগড়া বাঁধালো। আমি হতাশ শ্বাস ফেললাম। দুইটাকে ধরে আদর করলাম এবং দুইটার মধ্যে মান-অভিমান যা ছিল তা ভাঙিয়ে দিলাম। ওরা খেলছে আপাতত, আমি ফ্লোরেই বাবু হয়ে বসে তা দেখছি। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়লো কেউ। আমি উঠে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম, খুললাম না দরজা। তখনই আবার কড়া নাড়লো। ভাবলাম আপু হয়তো এসেছে। আমি বললাম,

“আপু বললাম তো আমি যাচ্ছি না”

তখনই ওপাশ থেকে এক নিরেট আওয়াজ শোনা গেল,

“তোর আপু না আমি রুদ্র”

রুদ্রের কথা শুনে আমি চমকে গেলাম। ভেবেছিলাম আপু এসেছে, রুদ্র এসেছে ভাবিনি। আমি আলতো স্বরে বললাম,

“আপনি কেন এসেছেন?”

“কারণ তুই যাবি”

“কোথায় যাবো আমি?”

“গেলেই দেখতে পাবি, এখন দরজা খোল”

আমি মুখ ফিরিয়ে বললাম,”দরজা খোলা যাবে না। আর আমি কোথাও যাচ্ছি না”

রুদ্র বলল,”দরজা খুলতে বলেছি , মাথা গরম করাবি না”

“আপনার মাথা গরম হলে মাথায় পানি ঢালুন। আমার ঘরে পানি নেই, যান এখান থেকে””

“তুই তো আছিস, তোকে দেখলেই মন – মাথা সব ঠান্ডা হবে। এখন দরজা খোল”

“বললাম তো খুলবো না, যান তো ভাই এখান থেকে।”

“খুলবি না? ”

“নাআআ ”

“ওকে ফাইন ”

আমি ভ্রু কুঁচকে দরজার দিকে তাকালাম। দরজায় আর কড়াঘাতের শব্দ পাওয়া গেল না আর না কোনো ডাকাডাকির শব্দ। আমি ভ্রু কুঁচকে ভাবলাম, চলে গেল নাকি। হয়তো চলেই গেছে এই ভেবে দরজা খুললাম। দরজা খুলতেই সাত আসমানের উপর থেকে টুকুস করে মাটিতে পড়লাম যেন। কেননা, রুদ্র এখনো সটান হয়ে দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখতেই ভ্রু নাচিয়ে বলল,

“তুই না দরজা খুলবি না?”

আমি অবাক হয়ে বললাম,”আপনি যান নি?”

রুদ্র বাঁকা হেসে বলল,”বলেছিলাম তোকে ছাড়া যাবো না”

এই বলে ভেতরে আসতে নিলেই আমি দরজা আটকাতে নিলাম। কিন্তু দেরি হয়ে গেছে, আমি দরজা আটকাতে নিতেই রুদ্র হাত দিয়ে তা থামিয়ে দিলো। আমি নিজের জোর খাটিয়ে ঠেললাম দরজা কিন্তু রুদ্রর শক্তির সাথে পারলাম না। রুদ্র হঠাৎ ভেতরে এসে নিজেই দরজা লাগিয়ে আমাকে দরজার সাথে চেপে ধরলো। আমি চোখ বড়বড় করে তাকালাম। রুদ্র তার দুই হাত আমার মাথার দুই পাশে রাখলো এবং বলল,

“এখন দরজা লাগানোই যায়”

আমি শুকনো ঢোক গিললাম। রুদ্র হালকা ঝুঁকে এসে বলল,

“অনেক খাঁটিয়েছিস, এবার বল এটার শাস্তি হিসেবে তোকে কি দেই?”

আমি বললাম,”দেখুন,,

রুদ্র আমাকে মাঝপথে থামিয়ে বলল,”কি দেখাতে চাস? দেখা,, আমি তো কখন থেকে ওয়েট করে আছি”

আমি চোখ বড়বড় করে তাকালাম। তখনই রুদ্র তার আঙ্গুল দিয়ে আমার কপালে লেপ্টে থাকা চুল সরিয়ে দিলো। আমি মাথাটা পিছিয়ে নিলাম। আমার দেখাদেখি রুদ্র তার মাথা আমার দিকে এগিয়ে নিলো। তার গরম নিঃশ্বাস আমার মুখে আছড়ে পড়ছে। রুদ্র আমার গালে হাত রাখলেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে আমার গালে স্লাইড করতে লাগলেন। আমি আমার পড়নের জামা খামচে ধরলাম। নিঃশ্বাস দ্রুত হচ্ছে। রুদ্র কন্ঠে মাদকতা মিশিয়ে বলল,

“আনি?”

আমি চোখ বুজে ফেললাম। তারপর প্রতিত্তরে বললাম,”হুম”

রুদ্র আমার সারামুখে চোখ বুলিয়ে বলল,”আই লাভ ইউ ”

আমি চোখ খুলে তাকালাম। রুদ্র আমার দিকে তাকিয়ে আছে এখনো সেইভাবে। আমি শুকনো ঢোক গিলে কিছু বলতে যাবো তখনই রুদ্র আমার ঠোঁটে তার আঙ্গুল চেপে ধরে বললেন,

“উঁহুম, কিছু বলতে হবে না। আমি জানি তুই কি বলবি । এটাই তো যে তুই আমাকে ভালোবাসিস না? আমি আর এই মিথ্যা শুনতে চাই না। তুই যে আমাকে ভালোবাসিস সেটা আজও তোর চোখে মুখের ভাষায় প্রকাশ পায়। তো এসব বলার কোনো দরকার নেই। জলদি রেডি হ!”

এই বলে রুদ্র সরে গেলেন আমার থেকে। আমি বললাম,

“আমি বললাম তো আমি যাবো না”

রুদ্র বিছানায় বসে বলল,”তুই যাবি। আর যদি না যাস সমস্যা নেই আমিও তোর সাথে রুমবিলাস করবো। সেটা কিন্তু তোর জন্য সুবিধাজনক হবে না বলে দিচ্ছি। তোকে দেখে এমনিই মাথা ঠিক থাকে না। পরে উল্টো পাল্টা কিছু করে দিলে আমার কিন্তু কোনো দোষ নেই। ”

আমি ভাবলাম কিছুক্ষণ তারপর মনে পড়লো এই লোক আস্ত ঘাড়ত্যাড়া। এর সাথে কথা বলে লাভ নেই, তাই যেটা বলছে সেটাই করতে হবে। বললাম,

“ঠিক আছে, আপনি বাইরে যান। আমি চেঞ্জ করবো”

রুদ্র মাথা নেড়ে বলল,”নাহ্, বাইরে যাওয়া যাবে না। তুই আবার দরজা লাগিয়ে দিলে কি হবে?”

আমি শক্ত কন্ঠে বললাম,”আমি দরজা লাগাবো না , এখন যান”

রুদ্র বললেন,”তোর উপর আমার নিক(উকুনের ডিম) পরিমাণেরও বিশ্বাস নেই আনি, আমি যাচ্ছি না”

আমি চোখ কুঁচকে বললাম,”আস্ত ক্যাচাল তো আপনি। আপনি বাইরে না গেলে কি আপনার সামনে চেঞ্জ করবো আমি?”

রুদ্র চোখ বড়বড় করে বললো,”আস্তাগফিরুল্লাহ্, না না। আমি বিয়ের আগে এসব নিয়ে ভাবছি না। ওয়াশরুম আছে কি করতে? যাহ্ সেখানে যা”

আমি বললাম,”আমার নিজের রুম থাকতে আমি ওয়াশরুমে চেঞ্জ কেন করবো?”

রুদ্র বললো,”কারণ এখন তোর রুমে আমি আছি। তুই যদি চেঞ্জ করতে পারিস আমার কোনো আপত্তি নেই”

আমি ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেললাম। আলমারি খুলে একটা জামা নিয়ে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে ধপাস করে বন্ধ করলাম। তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে ওয়াশরুমের দরজাও ধপাস করে বন্ধ করলাম। রুদ্র হাসলো আমার কান্ডে। রুদ্রের পাশে থাকা আমার ফোনটা হঠাৎ ভাইব্রেট করে উঠলো। রুদ্র তা হাতে নিয়ে দেখলো অয়ন নামে সেভ করা নাম্বার। রুদ্র মুখ শক্ত করে তা কেটে দিতে নিলো কিন্তু হঠাৎ কি একটা ভেবে মুখে হাঁসি ফুটলো। ফোন রিসিভ করে হাঁসি মুখে ফোন কানের কাছে নিলো। অয়ন বলছে,

“হ্যালো আনি,,

“আনি নয় রুদ্র। রুদ্র আফতাব চৌধুরী”

অয়ন চমকে উঠলো। অবাক স্বরে বলল,

“আপনি ? আপনি কোথায়? আপনি ওর ফোন কেন রিসিভ করেছেন? আনি কোথায়?”

রুদ্র শক্ত মুখে বলল,”আমি ওর সব , ওর সবকিছুতেই আমার অধিকার। আর এটাতো সামান্য ফোন মাত্র। ওর ঘরেও আছি আমি , ইনফ্যাক্ট একটু আগে ওর খুব কাছেও ছিলাম। এত কাছে , এতটা কাছে যে তুমি কল্পনাও করতে পারবে না”

অয়ন হাতে থাকা ফোনটা আরো শক্ত করে চেপে ধরলো এবং বলল,

“আপনার লজ্জা করে না আমায় এসব বলতে?”

রুদ্র বললো,”আমার কেন লজ্জা করবে? লজ্জা তো তোমার করা উচিত মানুষের নামে মিথ্যা কথা বলো । তোমাকে আমি মারার হুমকি কখন দিয়েছিলাম অয়ন? ”

অয়ন চুপ মেরে গেল । রুদ্র বলল,”আনিকে ভালোবাসো দেখে এখনো কিছু বলছি না কারণ ভালোবাসা পবিত্র। তারউপর তুমি ওর বন্ধু, তোমার কিছু হলে ও কষ্ট পাবে। আর আমি ওকে কষ্ট পেতে দেবো না আর। কিন্তু তাই বলে বেশি বেড়ো না। জানোই তো, পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। রাখছি, ভালো থেকো আর আনিকে এতো ঘনঘন ফোন করো না। ”

এই বলে ঘট করে ফোন কেটে দিয়ে, নাম্বার ব্লক লিস্টে ফেলে দিলো। ফোনটা রাখতেই আমি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলাম। পড়নে সাদা গাউন, বেশি গর্জিয়াস না সিম্পল কিন্তু আরামদায়ক। ওড়না গলায় দিয়ে রুদ্রের দিকে তাকালাম। রুদ্র উঠে এসেছে ততক্ষণে আমার কাছে। আমি বললাম,

“চলুন, রেডি হয়েছি ”

এই বলে যেতে ধরতেই রুদ্র হাত টেনে ধরে বলল,”এখনও হয়নি ”

এই বলে টেনে আমায় ড্রেসিং টেবিলের কাছে নিয়ে গেল। আমি বললাম,”আরেহ্, এখানে কি?”

রুদ্র কিছু না বলে কি যেন খুঁজতে লাগলো। আমি বিরক্ত হয়ে বললাম,

“কি খুঁজছেন? বলবেন তো!”

রুদ্র কিছু বললো না। সেই জিনিসটা পেতেই আমার দিকে ফিরলো। আমি দেখলাম হাতে কাজল। আমি অবাক হয়ে কিছু বলতে যাবো , রুদ্র আমার কাছাকাছি এসে আমার চোখের নিচের পট্টি টেনে কাজল লেপে দিতে শুরু করলেন। আমি অবাক হয়ে জড়বস্তুর মতো দাঁড়িয়ে আছি আর তাকিয়ে আছি রুদ্রের দিকে। রুদ্রের নজর তখন আমার চোখের দিকে। খুব মনোযোগ দিয়ে কাজল দিয়ে দিচ্ছে। খুব আলতো করে দিয়ে দিচ্ছে যাতে কোনোভাবেই ব্যাথা না পাই। এই রুদ্রকে যত দেখছি ততই অবাক হচ্ছি। এই সেই রুদ্র যাকে আমি চাইতাম। যে আমাকে যত্ন করবে, আমাকে ভালোবাসবে।রুদ্রের এই অপ্রত্যাশিত কাজে আমি যেন পাথরের মূর্তি হয়ে গেছি। তার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি, আর অনুভব করছি তার হাতের স্পর্শ। কাজলের আলতো ছোঁয়ায় আমার চোখ যেন আরও সুন্দর হয়ে উঠছে। এই মুহূর্তে আমি যেন স্বপ্নের জগতে আছি ।

রূদ্র আমার দুই চোখে কাজল দিয়ে থামলেন। তারপর ড্রেসিং টেবিলে সেটা রেখে একটা হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক নিলেন। আবার আমার কাছে এসে আমার থুতনি চেপে মাথা উঁচু করালেন এবং লিপস্টিক লেপ্টে দিতে থাকলেন আমার ঠোঁটে। আমি স্থির চোখে তাকিয়ে আছি রুদ্রের দিকে। কোনো কথা বের হচ্ছে না যেন। রুদ্র শুকনো ঢোক গিললেন তারপর হঠাৎ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আবদার করলেন,

“ঠোঁটে একটা চুমু খাই? ছোট করে খাবো বেশি বড় না । প্রমিস”

#চলবে

আনিকা বি লাইক:- দূরে সর , ডায়নোসরের বাচ্চা। বজ্জাত বেডা 😒

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here