পর্ব_৮

0
2

পর্ব_৮
আমার যখন আট বছর, তখনই খালুজানের ঘৃণ্যতম স্পর্শের শিকার হই। আদরের অজুহাতে তিনি এমন সব স্থানে ছুঁয়ে দিতেন, যা শিশুমনের জন্য ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও বিভ্রান্তিকর। প্রথমে বুঝে উঠতে পারিনি। কিন্তু ধীরে ধীরে শরীর আর মন দুটোতেই এক অজানা অস্বস্তি বাসা বাঁধতে শুরু করল। তবুও সাহস হলো না বাড়িতে কিছু বলার—পাছে যদি তারা আমাকে ভুল বোঝে।
হাসি ভাবি থামলেন। মুখশ্রী হয়ে উঠল নির্বাক। চোখের ভেতর জমে রইল ক্ষোভ ।যেন কোনো ঘৃণ্য অতীত স্মরণ করছেন।

সেদিনের পর কেটে গেছে বহুদিন। স্বাভাবিকভাবেই চলছে ঊর্মির জীবন। সংসারের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না করলেও, থাকতে হচ্ছে এখানেই। এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া তো এত সহজ নয় ।বাস্তবতা যে ভীষণ কঠিন। কায়সারের সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতোই আছে। বাবার বাড়ি থেকে ফেরার পর সে যেন আরও নিশ্চুপ হয়ে গেছে। তাতে অন্তত ঝামেলা কমেছে। দিনগুলো মোটামুটি ভালোই কাটছে।

মিমির সঙ্গে মা-মেয়ের সম্পর্ক না থাকলেও, বন্ধুত্ব আছে। বাড়ির তিনটি বাচ্চার সঙ্গেই মাঝে মাঝে সময় কাটে। এছাড়াও আরেকটি পরিবর্তন এসেছে । বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। শুধু স্বর্ণা আর শাশুড়ি মা বাদে।
ওনাদের সঙ্গে দেখা করার কোনো প্রয়োজনই মনে হয়নি। শাশুড়ি মা যেমন দূরে থাকেন, আমিও তাঁকে এড়িয়ে চলি। তবে স্বর্ণার বিষয়টা আলাদা। যত যাই হোক, মেয়েটা যেমন আমাকে সহ্য করতে পারে না, আমিও তাকে পারি না। কে-ই বা নিজের সতিন সহ্য করতে পারে?

বিয়ে মানি না বললেই তো বিয়ে শেষ হয় না। আল্লাহর বিধান অমান্য করা‌ কি এতো সহজ? এই হিসেবেই চলছে জীবন।

নতুন এক অ্যাডভেঞ্চারে নেমেছি। বাড়ির সব মেয়েদের কাছ থেকে তাদের অতীতের খারাপ অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইব। এতে দুটো লাভ । সময় কাটবে, আর জানা হবে অজানা বহু গল্প। আমার মনে হয়, এই সমাজের বৈরি বাতাসে টিকে থাকতে গিয়ে প্রতিটি মেয়ের ঝুলিতেই আছে অসংখ্য না বলা ব্যথা।

আজ ছিল হাসি ভাবির পালা। শুরুতেই তিনি বলতে লাগলেন এই সমাজে কিছু কাপুরুষের কথা , যারা পুরুষ নামের কলঙ্ক। যাদের কাছে বড়-ছোটের কোনো ভেদ নেই, আছে শুধু লালসা। আমি ভাবনা ছেড়ে তাঁর কথায় মন দিলাম।

ভাবি বলতে লাগলেন—
“জানো, একবার না বারবার সেই স্পর্শ পেয়েছি। কী বাজে অনুভূতি ছিল, বোঝাতে পারব না। মজা কিনে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যেতেন খালুজান। যেতে না চাইলে বাবা-মাই জোর করত। কারণ তাদের চোখে ছিল ভালোবাসার চশমা। তারা সেখানে ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেত না।
আম্মু বলত—‘খালু নিয়ে যাচ্ছে, যাও।’
কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি, এই ‘নিয়ে যাওয়া’র আসল মানে কী।
তারপর থেকে খালুকে দেখলেই ভয় পেতাম। দোয়া করতাম, যেন তাঁর মুখোমুখি আর না হই। আল্লাহ হয়তো আমার দোয়া কবুল করেছিলেন। খালুরা একেবারে দেশের বাড়িতে চলে গেল। এরপর আর তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি—আর যেন না হয়।

তবে আমার মনে একটা প্রশ্ন আজও ঘুরপাক খায়—উনি কি তাঁর নিজের মেয়ের সঙ্গেও এমন করতেন?”

কোনো উত্তর মেলে না। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ভাবি।
আমার চোখে কোনো বিস্ময় ছিল না—কারণ আমিও ছিলাম প্রত্যক্ষদর্শী। মনে মনে শুধু প্রশ্ন জাগে—আমরাই কেন বারবার এমন পরিস্থিতির শিকার হই?

হাসি ভাবি আবার বললেন—
শুধু এই ঘটনাই নয়, আরও দুটো অভিজ্ঞতা আছে। এতদিন নিজের ভেতর চেপে রেখেছিলাম। আজ কেন জানি হালকা লাগছে।

খালু চলে যাওয়ার পর আরেকটা ভয়ংকর পরিস্থিতিতে পড়ি। একদিন ঘুমের মধ্যে অস্বস্তি লাগছিল। গা ঘিনঘিন করছিল। হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি—পাশে জেঠু মনি। তবে আপন না, দূরসম্পর্কের।
ওনারা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘরে জায়গা না থাকায় আম্মু বলেছিলেন আমার পাশে ঘুমাতে । ছোট মানুষ—কেউ কিছু ভাবেনি।

ছোটো থাকলেও। এতটুকু জ্ঞান ছিলো কার স্পর্শ কেমন? বুঝেছিলাম তাঁর উদ্দেশ্য কী। সঙ্গে সঙ্গে উঠে বাইরে চলে যাই। সেদিনও কাউকে বলতে পারিনি। বাড়ির কেউ কিছুই জানল না। ওইটুকু বয়সেই তাদের মেয়ে কতটা বুঝদার হয়ে গিয়েছিল!

এরপর থেকে আরও সতর্ক হয়ে চলতে শুরু করলাম । মেয়েদের স্পর্শ পেলেও আঁতকে উঠতাম । সেটা যেন এক স্থায়ী ট্রমায় পরিণত হয়েছিল।
সময়ের সঙ্গে বড় হতে লাগলাম। আঠারোতে পা দিলাম।
হঠাৎ একদিন এক চাচার মৃত্যুর খবর এলো। সবাই দেখতে গিয়েছিলাম। ফিরতে রাত হয়ে যায়। এক অটোতে সবার যাওয়া সম্ভব হলো না। আমি আলাদা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তখনই সৎ চাচা আমার সঙ্গে যাওয়ার কথা বললেন। পাত্তা দিইনি, কিন্তু অস্বস্তি হচ্ছিল। বিশেষ করে যখন দেখলাম তিনি আমার পাশেই বসছেন। জড়সড় হয়ে বসেছিলাম।
গাড়ি চলতে শুরু করতেই তাঁর আসল রূপ বেরিয়ে এলো। অপ্রত্যাশিত স্থানে স্পর্শ করতে লাগলেন। প্রথমে অবহেলার ভান করেছিলাম। কিন্তু একসময় তাঁর বেপরোয়াভাব বেড়ে গেল। হাত উঠতে লাগল আরও ওপরে।
আর সহ্য করতে পারলাম না।
ধরে ফেললাম তাঁর হাত। খামচে দিলাম শক্ত করে। গলা নিচু করে, মাথা সামান্য কাত করে বললাম—
‘ঘরে মেয়ে আছে। ওর সঙ্গেও কি এমন করেন? নাকি করেনই? নইলে মেয়ে কোথায় আর ভাতিজি কোথায়? লুচ্চামি করার জায়গা দেখে নেবেন। সম্পর্কটা আগে বুঝে নিন।’
আরেকটু শক্ত কন্ঠে বলেছিলাম—
‘আপনাদের মতো কিছু অমানুষের জন্যই আমরা পুরুষকে ভয় পাই। বদনাম হয় প্রকৃত পুরুষদের। কিন্তু আমার মতে, আপনারা পুরুষ নন। কোনো প্রকৃত পুরুষ এমন নিচু কাজ করতে পারে না।’
তিনি হকচকিয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নিলেন। আমি অটো থেকে নেমে পড়লাম।
সেদিন ভীষণ ভালো লেগেছিল। মনে হচ্ছিল আরও অনেক কিছু বলি। কিন্তু জানতাম—এই সমাজে মেয়েদের মুখ খুললেই উল্টো দোষ খোঁজা হয়।তারপর থেকে উনাকে আর আমার মুখোমুখি হতে দেখি নি। তারপরেই বুঝলাম।আমরা যত নীরবে সহ্য করবো তাঁরা তত আমাদের পেয়ে বসবে।

সেই দিন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি—আমার মেয়ে হলে আমি ভালোবাসার চশমা পরে থাকব না। আমার মতো তাকে ট্রমায় বড় হতে দেব না।মেয়ে মেয়েই হয়।সেখানে বাচ্চা আর বড় কি?এই সমাজে কিছু পুরুষ যে তাদের বাচ্চার চোখে দেখে না। ফলস্বরূপ ঐ বাচ্চা বয়স থেকেই শুরু হয় তাদের লড়াই। ওদের রক্ষা করার দ্বায়িত্ব তো আমাদের।দিবো না আমাদের মতো ট্রমায় বাঁচতে

আর ছেলে হলে শেখাব—চোখের হেফাজত।
মেয়েদের সৃষ্টি ভোগের জন্য নয়—আগলে রাখার জন্য।
থামলেন হাসি ভাবি। ছাড়লেন এক দীর্ঘ, শান্ত নিঃশ্বাস। যেন বহুদিনের পাথরচাপা ব্যথা একটু হালকা হলো।
কাঁদছিলেন ফাতেমা খালা। তিনিও এতক্ষণ শুনছিলেন। মনে হয় তাঁর জীবনেও এমন কিছু ঘটেছিল।
হঠাৎ ভাবলাম—সবার মাঝেই কি তবে একটা করে হাসি লুকিয়ে থাকে?

ঠিক তখনই ঘরে ঢুকল দুটো মেয়ে—মর্জিনা আর মিমি। ভাবি বিষণ্ন চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে বললেন—
চিন্তা নেই। ওদের আমরা আমাদের ট্রমায় বাঁচতে দেব না।

সব পুরুষ এক নয়। সবাই যদি একই রকম হত তাহলে ,আজ রাস্তায় এক পা ফেলাও নারীদের জন্য অসম্ভব হয়ে যেত।

একজন পুরুষ জন্মায় না সহিংস হয়ে,
তার যাত্রা শুরু হয় ঘরের ভেতর থেকেই।
বাবা, চাচা, ভাই—এই সম্পর্কগুলোর হাত ধরেই সে মানুষ হয়।

আমার বাবার চোখে তো আমি ছিলাম স্নেহর ।যেনো একটা ফুল। তবে সব বাবা কি এক?এখন প্রায় শোনা যায় নিজের বাবাকেও বিশ্বাস করতে নেই।কেনো কিছু কিছু পুরুষের সব বাবাদের উপর লেগে যায় কলঙ্কের দাগ।
খবরের কাগজ খুললেই বড় বড় হেডলাইনে দেখা যায় শিশু হত্যা,শিশু ধর্ষন, যৌতুকের জন্য নিপিড়ন,নাড়ির শ্লীলতাহানি, ইভটিজিং।

এই সমাজে প্রতিদিন
খবরের পাতায় লাশ হয়ে শুয়ে থাকে শিশুর শৈশব,
আর নারীর সম্মান রক্তাক্ত শিরোনাম ।
শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন—
এগুলো কি হঠাৎ আকাশ থেকে পড়ে?
নাকি আমরা চোখ বুজে বপন করা বিষের ফসলই আজ ঘরে তুলছি?
তাহলে বলুন—
এই অপরাধের দায় কি শুধু অপরাধীর?
নাকি আমাদেরও অংশ আছে এই নীরবতায়?
কেন আমরা ‘আমার সন্তান’ বলে বুক ফুলিয়ে হাঁটি,
কিন্তু তাকে ছেড়ে দিই এমন এক সমাজে
যেখানে নৈতিকতা শেখানোর দায় কেউ নিতে চায় না?
কেন ভালোবাসার মোহে চোখ ঢেকে রাখি,
আর ভাবি—আমার ছেলেটা এমন না?
কেন ছোটবেলা থেকেই কোরআনের শিক্ষা নিজ ধর্মের শিক্ষা তার হাতে তুলে দিই না?
কেন খোদাভীতির বীজ তাদের মনে রোপণ করি না?
কেন ন্যায় আর অন্যায়ের সীমারেখা
স্পষ্ট করি না ?
এই কেনোর উত্তর খুঁজতে হলেআয়নায় তাকাতে হবে আমাদেরই।কারণ সমাজ আমাদের ছাড়া না। আমাদের নিয়েই হয় সমাজ। তাহলে সব অপরাধ দায় কেনো সমাজের? আঙুল সমাজের দিকে নিজের দিকে তাক করতে হবে।
সমাজ আমি, আপনি, আমরা সবাই।

__________________

মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে কায়সার আর আয়াশ। একে অপরের চোখে প্রশ্ন।
আয়াশ পিছনে দুই হাত রেখে নিষ্পাপ ভঙ্গিতে ভাইকে জিজ্ঞেস করল,কী হয়েছে, ভাইয়া?

উত্তরে কায়সার ভ্রু কুঁচকে বিরক্তিকর এক শ্বাস ফেলল। চোখ তুলে তাকাল মেয়েটার দিকে।
মেয়েটাও দাঁত বের করে হাসল।

একবার ভাইয়ের দিকে, একবার ভাতিজির দিকে তাকিয়ে আয়াশ বুঝে ফেলল আসল কাহিনি। সঙ্গে সঙ্গে সে পিছনে তাকাল। তার পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে আরেক বিচ্ছু—দাঁত বের করা হাসি ছুড়ে দিচ্ছে তার দিকেই।

ঠিক তখনই মিমির চিৎকারে ঘর ভরে গেল। সে লাফাতে লাফাতে বলছে,

ইয়ে তাত্তু বোতা হয়েছে!

নিঝুম দৌড়ে এসে মিমির সামনে দাঁড়াল। মাথায় হালকা একটা চাটি মেরে বলল,
আরে, বোতা না বোকা হবে।

বললাম তো বোতা।

আয়াশ উৎকণ্ঠা নিয়ে কায়সারের দিকে তাকাল।
ভাইয়া, নিঝুম বলল তুমি নাকি ডেকেছো। তাই দৌড়ে আসলাম।
প্রতিউত্তরে কায়সার কিছু বলল না। কী-ই বা বলবে? এই দুই বিচ্ছুর কাণ্ড তো নিত্যদিনের ব্যাপার।
অফিসের কাজ করছিল সে। তখনই হাজির মিমি। গম্ভীর মুখ করে বলল,
পাপা, তাত্তু ডাতে।
ডাতে কী মা? বলো—ডাকে।

উফ! ওতাই।

চাচ্চুকে বলো, এখানে আসুক।

আলে আতো তো! কী দেনো হোইতে! অনেক গরুত্তপূরনো।

প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেনি কায়সার। ‘গরুত্তপূরনো’ আবার কী?
একটু মাথা খাটানোর পর আসল মানেটা ধরতে পারল। সে সিরিয়াস কিছু ভেবেই এখানে এসেছিল, কিন্তু এই দুই বাচ্চার সামনে এসে নিজেকেই বোকা বানিয়ে ফেলল।
ঠিক তখনই আয়াশ দৌড়ে গেল নিঝুমের কাছে। কান ধরে টান দিতেই নিঝুম নাটকীয় ভঙ্গিতে বলতে লাগল,
—পিলিজ, আমাকে ক্ষমা করে দাও!

কায়সার হাঁটতে গিয়েও থেমে গেল। কথাটা যেন কোথাও শুনেছে?
কিছুক্ষণ ভাবার পর মনে পড়ল—
এটা তো রিলসে দেখেছিল!
অবাক হয়ে তাকাল বাচ্চাদের দিকে। যতটুকু বুঝল, এরা বড় হলে তাদের থেকেও দু’কাঠি উপরে উঠবে।

আচ্ছা, ফোন ওদের দিচ্ছে কে?
আয়াশের দিকে তাকাল কায়সার। ভাইয়ের দৃষ্টি পড়তেই সোজা হয়ে দাঁড়াল আয়াশ। বুঝে গেছে—কপালে আজ শনি নাচছে। বিড়বিড় করে বলল, ক্যালো করেছে। দিলো বাঁশ খাইয়ে।

পেছন থেকে ওড়নায় হাত মুছতে মুছতে হাসি এসে দাঁড়ালো। কায়সারের দিকে তাকিয়ে অভিযোগের সুরে বলল,
ভাইয়া, তোমার সন্দেহ ঠিক। একদম ঠিক দিকেই এগোচ্ছো তুমি। ঐ তেদেরটাই ওদের টিম লিডার। হাতে–কলমে শিক্ষা দিচ্ছে। সেদিন দেখলাম টিকটক করছে। তাও বাচ্চাদের দুই পাশে রেখে। এক্সকে ধুয়ে দিচ্ছে! তুমি তো টিকটক চালাও না, তাই দেখতে পাচ্ছো না। ও-ই ওদের নষ্ট করছে। ভাইয়া, ওকেই তো নিতে পারছি না ।এই দুজনকে সামলাবো কিভাবে?
একটু থেমে তিক্ত ভাবে বলল,

এরা দেখা যাবে, তোমাদের এক হাটে কিনে আরেক হাটে বেচে আসবে।
ঠিক তখনই মিমি প্রতিবাদ করে উঠল,
উফফ, বয়োমা! তুমি দুত্তু কথা কও।
পাশ থেকে নিঝুম বলে উঠল,
—ময়ে ময়ে।
সাথে সাথে নিঝুমের মুখ চেপে ধরল আয়াশ। করুন চোখে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
—আর কেছ খাওয়াইছ না আমার আব্বা।
হাসি বিরক্তির সাথে শ্বাস ফেলল। বিচারকের সুরে বলল,
—দেখলে ভাইয়া? কী অবস্থা! শয়তানও মনে হয় এদের শয়তানির কাছে হার মানবে।

চলবে,,,
#বৈরি_হাওয়া
#ফারজানা_প্রণয়_চৌধুরী

এই গল্পে আমি মূলত বৈরি হাওয়ার বিরুদ্ধে লড়ে থাকা মেয়েদের কথাই তুলে ধরতে চাই। ছোট থেকে বড় সব বয়সী মেয়েদের না বলা গল্প, না শোনা যন্ত্রণার কথা। সমাজের আড়ালে থেকে যাওয়া মেয়েদের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা অজানা সত্যকে শব্দে ধরার একটি চেষ্টা থাকবে এখানে।
তবে এই লেখা শুধু মেয়েদের জন্য নয়।
ছেলেরাও পড়বে, বুঝবে।তাদের ঘরের মা, বোন, স্ত্রী কিংবা কন্যারা প্রতিদিন কতটা নিঃশব্দে লড়ে যায়।
এটাও সত্য, শুধু মেয়েরাই লড়ছে তা নয়।
ছেলেদের জীবনেও আছে জানা-অজানা অনেক কষ্ট, অনেক চাপ, অনেক অব্যক্ত ব্যথা। ভবিষ্যতের কোনো গল্পে নিশ্চয়ই তাদের কথাও উঠে আসবে।

আপনাদের অনেকের জীবনে এমন কিছু অভিজ্ঞতা আছে, যা আজও ভার হয়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন। চাইলে আমাকে জানাতে পারেন। হয়তো একটু হালকা লাগবে। আর সেই অভিজ্ঞতা যদি গল্পের আকারে উঠে আসে, তবে অনেক মানুষ সচেতন হবে—কারও চোখ খুলবে, কারও সাহস জন্মাবে।
ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here