#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_২
লেখনীতে:#মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম
সেন্ট জুড হাই স্কুলের মাঠটা তখন এক টুকরো স্বাধীনতার স্বর্গ। ক্লাস টেনের সময়টা যেন কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা করত না। কিন্তু স্কুলের সেই চিরচেনা বিশৃঙ্খলার মাঝেও একটা ধ্রুব সত্য ছিল, জেনিন নুরশাদ আর নানামি জায়দান। এদের ছাড়া স্কুলের আড্ডা জমত না, ফুটবল মাঠের গোল পোস্ট অনাথ হয়ে থাকত, আর টিচারদের বেতের আঘাতগুলো যেন কোনো লক্ষ্য খুঁজে পেত না।
জেনিন নুরশাদ ছিল এক অস্থির আগুনের শিখা। তার হাঁটার ভঙ্গিতে একটা রাজকীয় অবজ্ঞা থাকত। স্কুলের ইউনিফর্মের টাইটা কোনোদিন সোজা থাকত না, হয়তো পকেটে গুঁজে রাখা হতো নয়তো কপালে ব্যান্ডেনার মতো বাঁধা থাকত। জেনিনের কাছে জীবন মানে ছিল একটা অ্যাডভেঞ্চার। সে কোনোদিন রুটিন মাফিক চলতে পারত না। তার দিনের শুরু হতো কোনো একটা বিচিত্র চ্যালেঞ্জ দিয়ে, হয়তো স্কুলের সবচেয়ে উঁচু পানির ট্যাঙ্কের ওপর উঠে সূর্যাস্ত দেখা, কিংবা পেছনের ড্রেন পার হয়ে পাশের নার্সারি থেকে বিরল প্রজাতির ফুল চুরি করা।
“তুই কি সারা জীবন ওই মোটা বইটার ভেতর মাথা গুঁজে থাকবি? দেখ, বাইরের বাতাসটা কত সুন্দর!” জেনিন বারান্দার রেলিংয়ে পা তুলে দিয়ে চিৎকার করে বলল।
নানামি তখন তার চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করে নিয়ে একটা ফিজিক্সের ইকুয়েশন মেলানোর চেষ্টা করছিল। সে হলো এক শান্ত সমুদ্র। জেনিন যেমন অস্থির, নানামি তেমনই স্থির। সে খুব একটা কথা বলে না, কিন্তু তার চোখের চাউনিতে একটা গভীর বুদ্ধিদীপ্ততা খেলা করে। নানামি জানে, জেনিন নামক এই তুফানকে সামলানোর একমাত্র মানুষ সে নিজেই।
“বই না পড়লে কি তোর মতো বাউন্ডুলে হয়ে ঘুরব?” নানামি মাথা না তুলেই উত্তর দিল।
জেনিন এক লাফে রেলিং থেকে নেমে এসে নানামির ঘাড় জড়িয়ে ধরল। তার শরীরের সেই বুনো গন্ধ আর ঘামের ছোঁয়ায় নানামি একটু কুঁচকে গেল, কিন্তু সে জেনিনকে সরিয়ে দিল না। এটা তাদের প্রতিদিনের রুটিন। জেনিন হলো সেই মানুষ যে স্পেস নিতে জানে না, আর নানামি হলো সেই মানুষ যে নীরবে জায়গা ছেড়ে দেয়।
“আরে দোস্ত, বাউন্ডুলে হওয়া কি যে সে কথা? এর জন্য সাহস লাগে। চল আজ টিফিন পিরিয়ডে পালানো যাক। ওই মোড়ের দোকানে আজ নাকি দারুণ কাচ্চি বিরিয়ানি রান্না হয়েছে।”
নানামি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “গত সপ্তাহে তোকে প্রিন্সিপাল স্যার শেষবারের মতো ওয়ার্নিং দিয়েছেন। এবার যদি ধরা পড়িস, তাহলে তোকে আর স্কুল গ্রাউন্ডে দেখা যাবে না।”
জেনিন হো হো করে হাসল। সেই হাসিতে কোনো ভয় নেই, কোনো দ্বিধা নেই। “প্রিন্সিপাল? ওই বুড়ো মানুষটা তো নিজের চশমাটাই খুঁজে পায় না ঠিকমতো। চল না! তুই থাকলে আমার কোনো ভয় নেই। তুই তো আছিসই আমাকে বিপদ থেকে বাঁচানোর জন্য।”
এই ছিল তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি, বিশ্বাস। জেনিন জানত সে যত বড়ই অপরাধ করুক, নানামি তার পাশে থাকবে। নানামি তার জন্য মিথ্যা বলবে, নানামি তার জন্য শিক্ষকদের কাছে বকা খাবে। আর নানামি জানত, জেনিন তার জন্য পুরো পৃথিবীর সাথে লড়তে পারবে। গতবছর একবার স্কুলের এক বড় ভাই নানামিকে অকারণে অপমান করেছিল। নানামি চুপ করে মেনে নিয়েছিল কারণ সে শান্ত থাকতে ভালোবাসত। কিন্তু জেনিন সেটা জানতে পারার দশ মিনিটের মধ্যে সেই বড় ভাইকে নিয়ে স্কুলের বাথরুমে ঢুকে গিয়েছিল। সেদিন জেনিনের সেই রুদ্রমূর্তি দেখে সবাই শিউরে উঠেছিল।
সেদিন বাড়ি ফেরার পথে নানামি বলেছিল, “তোর এত রাগের কোনো মানে হয় না। আমি তো ঠিকই ছিলাম।”
জেনিন সাইকেলের প্যাডেল মারতে মারতে গম্ভীরভাবে বলেছিল, “নানামি জায়দানকে কেউ গালি দিলে জেনিন নুরশাদের কানে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। তুই আমার আত্মা রে দোস্ত। আত্মার অপমানে দেহ চুপ থাকে না।”
জেনিনের এই পজেসিভনেস বা আগলে রাখার প্রবণতা ছিল শুরু থেকেই। সে তার পছন্দের জিনিস বা মানুষকে কারো সাথে ভাগ করতে জানত না। সে ছিল একচ্ছত্র অধিপতি।
তাদের দুপুরের স্কুল পালানোর দৃশ্যটা ছিল দেখার মতো। নানামি সবসময় একটা ব্যাকআপ প্ল্যান রাখত। সে জানত গেটম্যানকে কীভাবে ম্যানেজ করতে হয়। জেনিন যখন উঁচু দেওয়াল টপকে ওপাশে নামত, নানামি তখন গেট দিয়ে ধীরেসুস্থে বেরিয়ে আসত। জেনিন এটা দেখে খুব মজা পেত।
“দেখ জায়দান, তুই অপরাধ করিস কিন্তু মার্জিতভাবে। আর আমি করি সরাসরি। এটাই আমাদের পার্থক্য।” রাস্তার ধারের দোকানে বসে কাচ্চি খেতে খেতে জেনিন বলেছিল।
জেনিনের বাবা ছিলেন একজন বিশাল ব্যক্তিত্ববান মানুষ। বাড়িতে শাসন ছিল খুব কড়া। জেনিনের এই বাউন্ডুলে স্বভাব তার বাবার পছন্দ ছিল না। প্রায়ই বাড়িতে জেনিনকে মারধর করা হতো। কিন্তু জেনিনের চোখে কোনোদিন জল দেখা যেত না। সে মার খাওয়ার পর সরাসরি চলে আসত নানামিদের বাসায়। নানামির মা তাকে খুব ভালোবাসতেন। নানামির শান্ত ঘরে বসে জেনিন তখন গান শুনত বা শুধু চুপ করে শুয়ে থাকত।
“তোর জীবনটা কত সুন্দর। কোনো গোলমাল নেই, কোনো অশান্তি নেই।” জেনিন একদিন সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে বলেছিল।
নানামি তার পড়ার টেবিল থেকে মুখ ঘুরিয়ে বলল, “অশান্তি তুই নিজেই তৈরি করিস। তুই যদি একটু শান্ত হতিস…”
“শান্ত হলে তো আমি জেনিন নুরশাদ হতাম না,” জেনিন হাসল, তবে সেই হাসির পেছনে একটা সূক্ষ্ম হাহাকার ছিল। “আমার ভেতরে একটা অস্থিরতা আছে রে। ইচ্ছে করে এই পৃথিবীর সব নিয়ম ভেঙে গুড়িয়ে দিই। আমি এমন একটা জগত বানাতে চাই যেখানে শুধু আমি আর তুই থাকব। কোনো নিয়ম থাকবে না।”
নানামি তখন এই কথার গভীরতা বোঝেনি। সে ভাবত এগুলো কিশোর বয়সের কল্পনা।
তাদের এই বন্ধুত্বের মাঝে নোবারা আসার আগে পর্যন্ত কোনো কালো মেঘ ছিল না। তারা একসাথে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলত, পুকুরে ঝাঁপ দিত, এমনকি রাতে বাড়ির লোক লুকিয়ে সিনেমা দেখতে যেত। জেনিন ছিল সেই চালক যে সবসময় বিপদের দিকে গাড়ি চালাত, আর নানামি ছিল সেই ব্রেক যে গাড়িটাকে খাদের কিনারা থেকে বাঁচাত।
স্কুলের প্রতিটা কোণ, প্রতিটা বেঞ্চ তাদের গল্পের সাক্ষী। জেনিন একবার স্কুলের লাইব্রেরির দেওয়ালে বড় বড় অক্ষরে লিখে দিয়েছিল নুরশাদ+জায়দান=ফরেভার। লাইব্রেরিয়ান যখন খুব রেগে গিয়েছিল, নানামি নিজের কাঁধে দোষ নিয়ে বলেছিল সে ভুল করে লিখে ফেলেছে। সবাই অবাক হয়েছিল, আদর্শ ছাত্র নানামি এমন কাজ কেন করল? কিন্তু জেনিন জানত কেন করেছে।
জেনিন সেদিন নানামির হাতে একটা কড়া চকোলেট ধরিয়ে দিয়ে বলেছিল, “তুই আমার জন্য যা করিস, আমি কি তা শোধ দিতে পারব কোনোদিন?”
নানামি হালকা হেসেছিল। “বন্ধুত্বের মধ্যে শোধ-বোধ থাকে না জেনিন। তুই শুধু পাগলপনা একটু কমা।”
জেনিন সেই কথা রাখেনি। সে পাগলপনা আরও বাড়িয়ে দিল। সে এখন আর শুধু স্কুল পালাত না, সে মাঝেমধ্যে শহরের অন্ধকার গলিগুলোতে ঘুরতে যেত। অদ্ভুত সব মানুষের সাথে তার পরিচয় হতো। সে বলত, “মানুষের আসল চেহারা দেখার জন্য অন্ধকারের দরকার হয় নানামি।”
নানামি ভয় পেত। সে বুঝতে পারত জেনিন এমন এক পথে হাঁটছে যেখান থেকে ফেরা খুব কঠিন। কিন্তু সে জেনিনকে ছেড়ে যেতে পারত না। কারণ জেনিন ছিল তার জীবনের একমাত্র রঙিন অংশ। নানামির ধীরস্থির জীবনে জেনিন ছিল এক রঙিন ঘুড়ি, যা লাটাই ছাড়াই আকাশের ওপারে চলে যেতে চায়।
এইভাবে কাটছিল তাদের দিনগুলো। হাসি, কান্না, ঝগড়া আর সীমাহীন ভালোবাসার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। তাদের এই বন্ধুত্বকে সবাই ঈর্ষা করত।
কিন্তু আপাতত, তারা দুজনেই সেই শরতের বিকেলের রোদ মাখছে। জেনিন গান গাইছে বেসুরো গলায়, আর নানামি বিরক্তি নিয়ে হলেও তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। এই মুহূর্তটা তারা ধরে রাখতে চায়। এই বন্ধুত্ব তারা হারতে দিতে চায় না। কিন্তু সময় তো কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সময় তার নিজের গতিতে এগোচ্ছে এক অনিবার্য ধ্বংসের দিকে।
<><><><><><><><><>
শহরের উপকণ্ঠে একটা পরিত্যক্ত পুরনো জমিদার বাড়ি ছিল, যেটাকে ঘিরে স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে নানারকম ভৌতিক গল্প প্রচলিত ছিল। কেউ বলত ওখানে অতৃপ্ত আত্মা ঘোরে, কেউ বলত ওটা নেশাখোরদের আড্ডা। সাধারণ ছাত্ররা ওপথ দিয়ে দিনের বেলাতেও একা যেতে ভয় পেত। কিন্তু জেনিন নুরশাদের কাছে ভয় মানেই ছিল একটা আমন্ত্রণ।
“জায়দান, আজ রাতে আমরা ওই লাল দালানে যাব। আমি দেখতে চাই ওখানকার ভূতেরা আমার সাথে পাল্লা দিতে পারে কি না!” জেনিন তার সাইকেলের চেন ঠিক করতে করতে ক্যাজুয়ালি কথাটা বলল।
নানামি তখন স্কুলের লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে চশমাটা পরিষ্কার করছিল। জেনিনের কথা শুনে সে একটুও অবাক হলো না, কারণ জেনিনের মাথা থেকে প্রতিদিন এরকম শত শত উদ্ভট আইডিয়া বের হয়। কিন্তু লাল দালানের ব্যাপারটা একটু বিপজ্জনক ছিল।
“ওখানে যাওয়ার কোনো দরকার নেই। পুলিশ টহল দেয় ওদিকে, আর জায়গাটা এমনিতে ভেঙে পড়ছে। তুই কি চাইছিস ওপর থেকে কড়িকাঠ মাথায় পড়ে তোকে হাসপাতালে পাঠাক?” নানামি শান্ত স্বরে সতর্ক করল।
জেনিন সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার চোখে সেই চেনা ঝিলিক। “পুলিশ? পুলিশের ভয় আমাকে দেখিয়ে লাভ নেই দোস্ত। আর কড়িকাঠ? জেনিন নুরশাদের কপাল এতোটা খারাপ না। তুই শুধু বল তুই যাবি কি না। না গেলে আমি একাই যাব।”
নানামি জানত, জেনিন একাই যাবে এবং কোনো বড় ঝামেলা পাকাবে। অগত্যা তাকে রাজি হতে হলো। জেনিনের প্রতিটি দুঃসাহসিক অভিযানের পেছনে নানামি হলো সেই ব্যাকআপ, যে লাইট ধরে রাখে যখন জেনিন অন্ধকারে ঝাঁপ দেয়।
সেই রাতে শুরু হলো তাদের অভিযান। রাত তখন এগারোটা। শহরের রাস্তাগুলো নির্জন। সাইকেলের টুংটাং শব্দ তুলে দুই বন্ধু এগিয়ে চলল। জেনিনের পরনে একটা কালো জ্যাকেট, আর নানামির পরনে কালো শার্ট, যেটা সে সব সময় পরিপাটি করে পরে। লাল দালানের কাছে পৌঁছে তারা সাইকেল দুটো লুকিয়ে রাখল ঝোপের আড়ালে।
জায়গাটা সত্যিই ভয়ংকর। জরাজীর্ণ দেওয়াল বেয়ে শ্যাওলা আর লতাগুল্ম উঠেছে। পেঁচার ডাক আর ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে পরিবেশটা আরও রহস্যময় হয়ে আছে। জেনিন কোনো কথা না বলে পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢুকে গেল। নানামিও তাকে অনুসরণ করল। ভেতরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। জেনিন পকেট থেকে একটা টর্চ বের করে চারদিকে আলো ফেলল।
“লোকে বলে এখানে অতৃপ্ত আত্মা আছে। আসলে কী আছে জানিস? শান্তি। এখানে কেউ আমাদের নিয়ম শেখাতে আসবে না। এখানে কোনো মাস্টার নেই, কোনো অভিভাবক নেই।” জেনিন একটা ভাঙা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল।
তারা যখন সেই বাড়ির ছাদের দিকে উঠছিল, হঠাৎ নিচের দিকে একটা আলো জ্বলে উঠল। কোনো একটা টর্চের আলো। নানামি দ্রুত জেনিনকে টেনে নিয়ে একটা পিলারের আড়ালে লুকালো। নিচে ভারী বুটের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
“পুলিশ!” নানামি ফিসফিস করে বলল। “আমি বলেছিলাম না এদিকে টহল দেয়!”
জেনিনের মধ্যে কোনো আতঙ্ক নেই। বরং তার মুখে একটা পৈশাচিক আনন্দ। সে নানামির হাত ধরে এক টানে ছাদের কার্নিশ দিয়ে ঝুলতে শুরু করল।
“চুপচাপ থাক। ওরা ওপরের দিকে টর্চ মারবে না।”
নানামির হৃদপিণ্ড তখন গলার কাছে চলে এসেছে। সে ভাবছে যদি জেনিনের হাত ফসকে যায়, তবে সব শেষ। কিন্তু জেনিন তার শক্ত মুঠিতে নানামির কব্জি ধরে আছে। সেই অন্ধকারেও নানামি অনুভব করতে পারল জেনিনের হাতের উষ্ণতা আর তার অটল সাহস। কয়েক মিনিট পর পুলিশের জিপটা স্টার্ট নিয়ে চলে গেল।
জেনিন ছাদে উঠে এসে হাসিতে ফেটে পড়ল। “দেখলি তো? নিয়ম ভাঙার আনন্দই আলাদা!”
সেদিন ছাদের ওপর বসে দুই বন্ধু অনেকক্ষণ গল্প করল। জেনিন তার পকেট থেকে এক প্যাকেট বিস্কুট বের করে ভাগ করে খেল। হঠাৎ জেনিন জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা নানামি, তুই কি কোনোদিন কাউকে ভালোবেসেছিস?”
প্রশ্নটা শুনে নানামি একটু থমকে গেল। তার চোখের সামনে ভেসে উঠল নোবারা আকারি-র সেই মায়াবী মুখটা। কিন্তু সে নিজের আবেগ চেপে রেখে বলল, “আমার কাছে ওসবের সময় নেই জেনিন। পড়ালেখা আর ভবিষ্যৎ নিয়েই আমি অস্থির।”
জেনিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “মিথ্যে বলিস না। নোবারা যখন ক্লাসের সামনে দিয়ে যায়, আমি দেখেছি তুইও বই থেকে চোখ তুলিস। তোর ওই শান্ত চোখেও এক ধরনের হাহাকার থাকে।”
নানামি অবাক হয়ে জেনিনের দিকে তাকালো। সে ভেবেছিল জেনিন কেবল নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত, কিন্তু জেনিন যে তাকে এতোটা পর্যবেক্ষণ করে তা সে জানত না।
“নোবারা অন্যরকম রে,” জেনিন বলে চলল। “ওর জন্য আমি আমার এই বাউন্ডুলে জীবন ছেড়ে দিতে পারি। কিন্তু আমি জানি না ও আমাকে কীভাবে নেয়। ও যখন তোর সাথে কথা বলে, তখন ওর চোখে একটা সম্মান থাকে। আর আমাকে দেখলে ও হাসে, যেন আমি একটা পাগল ছেলে।”
নানামি শান্তভাবে বলল, “পাগলামি করলেই লোকে পাগল ভাবে। তুই যদি একটু সিরিয়াস হতিস, তবে হয়তো ও তোকে অন্যভাবে দেখত।”
জেনিন হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। “না। আমি যা, ও আমাকে সেভাবেই ভালোবাসবে। আমি কোনো মুখোশ পরে ওর সামনে দাঁড়াব না। আমি জেনিন নুরশাদ, আর জেনিন নুরশাদ কোনোদিন বদলাবে না।”
পরের দিন স্কুলে নোবারার সাথে দেখা হলো তাদের। নোবারা তখন করিডোর দিয়ে যাচ্ছিল। জেনিন বড় একটা গোলাপ ফুল নিয়ে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। পুরো করিডোরের ছেলেমেয়েরা থমকে গেল। স্কুলের সবচেয়ে বাউন্ডুলে ছেলেটা এক জুনিয়র মেয়ের সামনে গোলাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, এটা একটা বিশাল ঘটনা।
নোবারা একটু ভড়কে গেল। তার গালে গোলাপী আভা ফুটে উঠল। সে মৃদুস্বরে বলল, “এসব কী জেনিন ভাইয়া? সবাই দেখছে তো!”
জেনিন কোনো সংকোচ ছাড়াই বলল, “দেখুক। আমি ফুল দিচ্ছি, চুরি তো করছি না। এই ফুলটা তোমার জন্য।”
নোবারা ফুলটা নিল না, বরং নানামির দিকে তাকালো। নানামি তখন একটু দূরে দাঁড়িয়ে একটা বই হাতে নিয়ে ছিল। নানামির চোখে এক ধরনের নীরব দহন, কিন্তু মুখে কিছু বলল না। নোবারা নানামিকে উদ্দেশ্য করে বলল, “নানামি ভাইয়া, আপনি কিছু বলছেন না কেন? আপনার বন্ধু তো পাগল হয়ে গেছে!”
নানামি কেবল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “ওর পাগলামি নতুন কিছু নয় নোবারা। তুমি বরং ক্লাসে যাও।”
নোবারা দ্রুত পায়ে চলে গেল। জেনিনের হাতের ফুলটা সেখানেই পড়ে রইল। জেনিন একটুও দমে গেল না। সে ফুলের পাপড়িগুলো ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলল, “একদিন ও নিজ হাতে এই ফুল নেবে নানামি। দেখে নিস।”
স্কুল লাইফের এই দিনগুলোতে জেনিন নুরশাদ ছিল এক ঝড়, আর নানামি জায়দান ছিল সেই ঝড়ের মাঝখানে এক শান্ত দ্বীপ। জেনিন যত বেশি নোবারার প্রতি আসক্ত হতে শুরু করল, নানামি তত বেশি নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করল। কিন্তু তাদের বন্ধুত্বে তখনো কোনো ফাটল ধরেনি। জেনিন কোনো ঝামেলায় পড়লেই নানামি ঢাল হয়ে দাঁড়াত। টিচারদের মার থেকে বাঁচানো থেকে শুরু করে জেনিনের বদলে পরীক্ষার প্রক্সি দেওয়া, সবই ছিল নানামির প্রতিদিনের কাজ।
জেনিন নুরশাদ বড় হচ্ছিল এক বিদ্রোহী হয়ে। তার এই দাপট আর ভবঘুরে জীবনের অন্তরালে যে একটা অন্ধকার ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে, তা নানামি বুঝতে পারছিল। জেনিন এখন শুধু স্কুল পালানো নয়, শহরের গ্যাংস্টারদের সাথেও মাঝেমধ্যে মেলামেশা শুরু করেছে। সে বলত, “আইনের ভেতর থেকে বড় হওয়া যায় না নানামি। বড় হতে হলে আইন নিজের হাতে নিতে হয়।”
নানামি তাকে থামানোর চেষ্টা করত, কিন্তু জেনিন ছিল এক উন্মত্ত অশ্ব। তাকে রোখা কারো সাধ্যে ছিল না। তাদের এই বন্ধুত্বের বন্ধনটা তখনো ইস্পাতের মতো শক্ত ছিল, কিন্তু তার ভেতরেই জন্ম নিচ্ছিল এক গোপন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নোবারা আকারি-র প্রতি দুজনেরই মুগ্ধতা ছিল, কিন্তু প্রকাশের ধরণ ছিল ভিন্ন। জেনিন ছিল সরব, আর নানামি ছিল নীরব। আর এই নীরবতাই একদিন সব হিসেব ওলটপালট করে দেবে।
<><><><><><><><><>
সেদিন বিকেলটা ছিল থমথমে। আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখে বোঝা যাচ্ছিল এক বিশাল কালবৈশাখী আসছে। সেন্ট জুড হাই স্কুলের মাঠ তখন একদম ফাঁকা, শুধু দক্ষিণ কোণের জরাজীর্ণ সিঁড়িতে বসে ছিল দুইজন, জেনিন আর নানামি। জেনিনের হাতে একটা পুরনো ঘড়ি, সে সেটাকে খুলে আবার জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছে, আর নানামি তার কাঁধে হাত দিয়ে চুপচাপ বসে আছে। জেনিনের বাঁ চোখের নিচে একটা কালশিটে দাগ, ঠোঁটের কোণে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের আস্তরণ।
একটু আগেই পাশের পাড়ার কয়েকটা বখাটে ছেলের সাথে বিশাল এক দাঙ্গা বাধিয়ে এসেছে সে। জেনিনের কাছে মারামারিটা ছিল রোজকার ব্যাপার, কিন্তু নানামির কাছে এটা ছিল বুকের ভেতর একটা পাথর চেপে বসার মতো যন্ত্রণা।
“আবার কেন করলি জেনিন?” নানামি খুব নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল। তার গলায় রাগ নেই, আছে এক গভীর অভিমান।
জেনিন ঘড়িটা রেখে দিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। “ওরা তোকে নিয়ে বাজে কথা বলছিল নানামি। বলছিল তুই নাকি একটা বইয়ের পোকা, যার কোনো সাহস নেই। আমি কি ওটা সহ্য করতে পারি? তুই আমার মান-সম্মান রে দোস্ত।”
নানামি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে জানে জেনিন এমনই। সে নিজের জন্য লড়ে না, লড়ে নানামির জন্য। জেনিন বাইরে থেকে যতটা কর্কশ আর উশৃঙ্খল, নানামির প্রতি তার টানটা ততটাই পবিত্র। নানামি পকেট থেকে একটা রুমাল বের করল। তাতে বোতল থেকে একটু জল ঢেলে ভিজিয়ে খুব সাবধানে জেনিনের ক্ষতে চেপে ধরল। জেনিন যন্ত্রণায় একটু কুঁচকে উঠল ঠিকই, কিন্তু নানামির হাতটা সরিয়ে দিল না। সে পৃথিবীর কারোর কথা না শুনলেও নানামির হাতের ছোঁয়ায় এক নিমিষে শান্ত হয়ে যায়।
“তুই আমাকে কেন আগলে রাখিস বলতো?” জেনিন হঠাৎ জিজ্ঞেস করল। “আমি তো একটা বখাটে। টিচাররা বলে আমি নাকি একদিন জেলে পচব। তুই তো স্কুলের সেরা ছাত্র, তুই কেন আমার মতো একটা অগা-বগা ছেলের জন্য নিজের ক্যারিয়ার নষ্ট করছিস?”
নানামি জানত এর উত্তর কী। কিন্তু সে মুখে কিছু বলল না। সে কেবল মনোযোগ দিয়ে জেনিনের ক্ষত পরিষ্কার করতে লাগল। জেনিনের এই উচ্ছৃঙ্খলতা, এই বাউন্ডুলে জীবন, এসবের পেছনে যে একাকীত্ব আর বাবার অবহেলা আছে, তা কেবল নানামিই বোঝে। জেনিন যখন গভীর রাতে বাড়ি ফিরতে ভয় পায়, তখন সে নানামির জানালার পাশে এসে শিস দেয়। নানামি চোরের মতো জানালার গ্রিল খুলে জেনিনকে তার ঘরে ঢুকিয়ে নেয়। নিজের বিছানার অর্ধেকটা ছেড়ে দেয় জেনিনের জন্য। জেনিন যখন অঘোরে ঘুমায়, নানামি তখন তার সেই বেপরোয়া বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবে, এই ছেলেটা যদি একটু ভালোবাসা পেত, তবে হয়তো সে আজ আগুনের মতো জ্বলে উঠত না।
পরের কয়েক দিন জেনিনের দুরন্তপনা আরও বেড়ে গেল। সে এখন আর শুধু মারামারি নয়, স্কুলের সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গায় গিয়ে আড্ডা দেয়। একদিন সে ঠিক করল স্কুলের পুরনো ল্যাবরেটরির পেছনের উঁচু পাঁচিলটা দিয়ে ওপাশে নামবে। জায়গাটা পিচ্ছিল আর তার নিচে ছিল অনেক ভাঙা কাঁচ। নানামি বারবার বারণ করল, কিন্তু জেনিন শুনলে তো! সে এক লাফে ওপরে উঠল, কিন্তু নামার সময় পা পিছলে পড়ে গেল।
পুরো স্কুল থমকে গেল জেনিনের আর্তনাদে। নানামিই প্রথম দৌড়ে সেখানে পৌঁছাল। জেনিনের পায়ে কাঁচ ঢুকে রক্তারক্তি কাণ্ড। স্কুলের সবাই যখন ভয় পেয়ে দূরে দাঁড়িয়ে ছিল, নানামি তখন নিজের গায়ের সাদা শার্টটা খুলে জেনিনের পায়ে বেঁধে দিচ্ছিল। তার দুশ্চিন্তায় হাত কাঁপছিল, কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল।
“তোকে আমি মেরে ফেলব জেনিন! কেন শোনিস না আমার কথা?” নানামি কাঁদতে কাঁদতে জেনিনকে প্রায় পাঁজাকোলা করে ধরে স্ট্রেচারে তুলল।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে জেনিন যন্ত্রণার মাঝেও নানামির হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছিল। সে ফিসফিস করে বলল, “দেখলি তো? তোর শার্টটা আমার রক্তে লাল হয়ে গেল। তুই কি আমার ওপর রাগ করেছিস?”
নানামি উত্তর দিল না। সে শুধু জেনিনের কপালে হাত রেখে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করল। সেদিনের সেই রক্তমাখা শার্টটা নানামি আর কোনোদিন ধোয়নি। সে সেটাকে একটা বাক্সে তুলে রেখেছিল, বন্ধুত্বের এক নিদারুণ স্মারক হিসেবে।
সুস্থ হওয়ার পর জেনিন আবার তার পুরনো রূপে ফিরল। কিন্তু এবার তার মধ্যে একটা অন্যরকম পরিবর্তন দেখা দিল। সে নোবারার সামনে নিজেকে খুব সাহসী প্রমাণ করার চেষ্টা করত। নোবারা আকারি যখন বিকেলে স্কুলের লাইব্রেরি থেকে বের হতো, জেনিন তখন তার সাইকেল নিয়ে বিভিন্ন ধরণের মুভমেন্ট করে দেখাত নোবারার সামনে। নোবারা হাসত, আর সেই হাসি দেখে জেনিনের বুকটা গর্বে ভরে উঠত।
নানামি দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখত। তার মনে একটা সূক্ষ্ম হাহাকার জন্ম নিত ঠিকই, কিন্তু জেনিনের আনন্দ দেখে সে নিজের দুঃখকে চেপে রাখত।
একবার স্কুলের বার্ষিক বনভোজন ছিল। সবাই খুব আনন্দ করছে। হঠাৎ বনের ধারে একটা ঝোপের ভেতর থেকে একটা সাপ বেরিয়ে এল। মেয়েরা সবাই চিৎকার করে উঠল। জেনিন এক মুহূর্ত দেরি না করে একটা লাঠি নিয়ে সাপের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। নানামি জানত জেনিন সাপের কিছু বোঝে না, সে শুধু বীরত্ব দেখাতে গিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করছে।
“নুরশাদ! সর ওখান থেকে! ওটা বিষাক্ত সাপ!” নানামি চিৎকার করল।
কিন্তু জেনিন শুনল না। সে সাপটাকে মারার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রায় ছোবল খেতে বসেছিল। শেষ মুহূর্তে নানামি জেনিনকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিল এবং সাপটা জঙ্গলে পালিয়ে গেল। জেনিন মাটিতে পড়ে গিয়ে হাঁপাতে লাগল।
“তুই কি পাগল? মরার শখ হয়েছে তোর?” নানামি সেদিন জেনিনকে সবার সামনে কষে একটা চড় মারল।
পুরো মাঠ নিস্তব্ধ। জেনিন নুরশাদ, যাকে কেউ কোনোদিন শাসন করতে পারেনি, সে আজ নানামির হাতে চড় খেল। জেনিন গালে হাত দিয়ে নানামির দিকে তাকালো। তার চোখে জল টলটল করছে। সবাই ভাবল জেনিন এবার নানামিকে আক্রমণ করবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে জেনিন নানামিকে জাপটে ধরে কাঁদতে শুরু করল।
“আমি শুধু তোকে আর নোবারাকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে আমি কত সাহসী। আমি তোদের ছাড়া আর কাউকে চিনি না নানামি। তুই আমাকে এভাবে মারলি?”
নানামিও জেনিনকে জড়িয়ে ধরল। তার চোখ দিয়েও অঝোরে জল পড়ছিল। বন্ধুত্বের এই গভীরতা দেখে উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত হয়ে গেল। জেনিন হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে অবাধ্য ছেলে, কিন্তু নানামির কাছে সে এক ছোট্ট শিশুর মতো। নানামিই তার একমাত্র অভিভাবক, তার একমাত্র বন্ধু।
স্কুলের শেষ দিনগুলো এভাবেই কাটছিল। জেনিনের বেপরোয়া জীবন আর নানামির নিঃস্বার্থ কেয়ার, দুই মিলে এক অদ্ভুত সুতা দিয়ে বাঁধা ছিল তাদের দিনগুলো। জেনিন মাঝেমধ্যেই নিরুদ্দেশ হয়ে যেত। কোনো এক পুরনো স্টেশনে গিয়ে বসে থাকত ট্রেনের চাকা গোনার জন্য। নানামি তাকে খুঁজে বের করত। জেনিন যখন জিজ্ঞেস করত সে কীভাবে জানল জেনিন এখানে আছে, নানামি হাসত।
“তোর পাগলামির মানচিত্র আমার কাছে আছে জেনিন। তুই যেখানেই যাস না কেন, আমার চোখ তোকে খুঁজে পাবেই।”
নোবারা আকারিও ধীরে ধীরে এই দুই বন্ধুর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠল। সে বুঝতে পারত জেনিনের এই দুরন্তপনা আসলে এক ধরনের মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা। আর নানামির এই নীরবতা আসলে এক মহাসমুদ্র। নোবারা মাঝে মাঝে নানামিকে বলত, “আপনারা দুজন দুই মেরুর মানুষ। অথচ আপনাদের দেখলে মনে হয় আপনারা একই বৃন্তের দুটি ফুল।”
নানামি শুধু হাসত। সে জানত না, এই ফুলগুলো একদিন ঝরে যাবে। সে জানত না জেনিনের এই অতিরিক্ত পজেসিভনেস একদিন এক ভয়ংকর রূপ নেবে। জেনিন যখন নোবারার সাথে নানামির হাসি-গল্প দেখত, তার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত প্রতিহিংসা জন্ম নিত। সে জানত নানামি তার জন্য সব করতে পারে, কিন্তু নোবারাকে সে কারো সাথে ভাগ করতে চায় না।
“জায়দান, শোন। যদি কোনোদিন আমি হারিয়ে যাই, তুই কি আমাকে খুঁজবি?” জেনিন একদিন মাঝরাতে নানামির জানালার ধারে বসে জিজ্ঞেস করল।
নানামি বই বন্ধ করে জেনিনের দিকে তাকালো। “তুই হারাবি কেন? আমি তো তোকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখব।”
“না, সিরিয়াসলি বলছি। যদি আমি এমন কোনো অন্ধকারে হারিয়ে যাই যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়?”
নানামি জেনিনের হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বলল, “তুই যেখানেই থাকিস, যে অন্ধকারেই থাকিস, আমি পুলিশ হয়ে হলেও তোকে খুঁজে বের করব। তোকে আমি একা ছাড়ব না।”
জেনিন তখন হাসছিল, আর নানামি তার চোখে হাজারো স্বপ্ন নিয়ে জেনিনকে দেখছিল। তাদের এই পবিত্র বন্ধুত্বের মাঝখানে নোবারা ছিল এক বসন্তের বাতাসের মতো।
চলবে ইংশাআল্লাহ…….
(গল্পের অতীতের কেন্দ্রীয় চরিত্র নানামি, জেনিন এবং নোবারা। তাই বিরক্তিটা একটু সাইডে রেখে পড়বেন, কারণ আপাতত ওদের নিয়েই গল্পটা আগাবে এবং প্রতিটি ভাগে প্রায়ই ওরাই থাকবে। হ্যাপি রিডিং!)

