#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_১৯(জেনিন-নানামির প্রথম সংঘাত)
লেখনীতে: #মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম
নূরশাদ ইন্ডাস্ট্রিজের সদর দপ্তরে আজ সকালের রোদে এক বিচিত্র আভিজাত্য খেলা করছে। যখন নোবারা আকারি লিফট থেকে বেরিয়ে এল, তার মনে এক ধরণের অদ্ভুত প্রস্তুতি ছিল, গতকালকের সেই শীতলতা আর জেনিনের সেই কাতর চাহনিকে অগ্রাহ্য করার প্রস্তুতি। কিন্তু লিফটের দরজা খুলতেই সে থমকে দাঁড়ালো। পুরো ফ্লোরের নকশা রাতারাতি বদলে গেছে। সাধারণ কর্মীদের ডেস্ক থেকে অনেক দূরে, জানালার ঠিক যে কোণটি দিয়ে পুরো শহরটাকে ম্যাপের মতো দেখা যায়, সেখানে এখন দাঁড়িয়ে আছে একটি স্বচ্ছ কাঁচের ঘর।
নোবারার বুকটা ধক করে উঠল। সে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল। কাঁচগুলো সাধারণ নয়, এগুলো ওয়ান-ওয়ে রিফ্লেক্টিভ গ্লাস। ভেতরে বসে সে পুরো অফিস আর জেনিনের কেবিন দেখতে পাবে, কিন্তু বাইরের কেউ তার ব্যক্তিগত পরিসরে উঁকি দেওয়ার সাহস পাবে না। টেবিলের ওপর রাখা সেই ছোট চিরকুটটি দেখেই নোবারার হাতটা কেঁপে উঠল। জেনিনের হাতে লেখা সেই সংক্ষিপ্ত বাক্যগুলো যেন একাধারে এক সম্রাট আর এক অপরাধীর স্বীকারোক্তি।
“এখানে আপনি সুরক্ষিত। এখানে কেউ আপনাকে প্রশ্ন করার সাহস পাবে না। এমনকি আমিও না।”
নোবারা চিরকুটটা হাতের মুঠোয় পিষে ফেলল। তার মনে হলো জেনিন তাকে আবারও তার ক্ষমতার দাম দেখাচ্ছে। সে কি মনে করে এই কাঁচের ঘর তার গতরাতের অপমানকে ঢেকে দেবে?
ঠিক তখনই পেছনে জেনিনের সেই পরিচিত Blue de Chanel পারফিউমের ঘ্রাণ আর জুতোর খটখট শব্দ পাওয়া গেল। নোবারা ঘুরে তাকালো না। সে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।
জেনিন নূরশাদ আজ সম্পূর্ণ অন্যরূপে। তার পরনে কালো টাক্সিডো, চুলগুলো পরিপাটি করে পেছনে ফেরানো, কিন্তু চোখের তলায় শ্রান্তির ছাপ স্পষ্ট। সে নোবারার ঠিক তিন হাত দূরে গিয়ে দাঁড়ালো। তার কণ্ঠস্বর ছিল ভরাট কিন্তু অসম্ভব গম্ভীর।
“কেবিনটা পছন্দ হয়েছে?” জেনিন খুব শান্তভাবে জিজ্ঞেস করল।
নোবারা ঘুরে দাঁড়ালো। তার চোখের মণি এখন আগুনের মতো জ্বলছে। “আপনি কি মনে করেন এই কাঁচের খাঁচা আমাকে আপনার ওই মানসিক অত্যাচার থেকে মুক্তি দেবে?”
জেনিনের ঠোঁটের কোণে এক ম্লান হাসি দেখা দিল। সে নোবারার খুব কাছে এগিয়ে এল, কিন্তু তার সীমানা অতিক্রম করল না। “সেটা আমি জানি না। তবে আমি যখন দেখি অন্য কেউ আপনার দিকে কৌতূহলী চোখে তাকাচ্ছে, আমার ইচ্ছে করে তাদের চোখগুলো উপড়ে নিতে। তাই এই ব্যাবস্থা!”
নোবারার হাতটা থরথর করে কাঁপছে। “আপনি আমাকে ভয় পান, তাই না? আপনি ভয় পান পাছে আমি আপনার এই জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে যাই।”
জেনিন এবার নোবারার খুব কাছে এল। এত কাছে যে নোবারা তার গলার শিরার কম্পন দেখতে পাচ্ছিল। জেনিন খুব নিচু স্বরে বলল, “হ্যাঁ, আমি ভয় পাই। আমি পুরো দুনিয়াকে নিজের পায়ের নিচে রাখতে পারি, কিন্তু আপনাকে এক মুহূর্ত চোখের আড়াল করলেই মনে হয় আমার পৃথিবীটা শূন্য হয়ে যাচ্ছে। আপনি এই কেবিনে বসবেন। এটাই আমার শেষ নির্দেশ।”
জেনিন আর কোনো কথা না বলে নিজের কেবিনের দিকে হাঁটা দিল। যাওয়ার সময় সে ইউজিকে ইশারা করল। ইউজি আজ জেনিনের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। সে দেখল জেনিন কীভাবে নোবারার সামনে নিজের কঠোরতা হারিয়ে ফেলে। ইউজি মনে মনে ভাবল, জেনিন নূরশাদ যদি এভাবেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, তবে তাদের এই বিশাল সাম্রাজ্য ধুলোয় মিশে যাবে।
নোবারা তার নতুন কেবিনের ভেতরে ঢুকল। টেবিলের ওপর একটি দামী ল্যাপটপ আর কিছু ফাইল সাজানো। সে চেয়ারে বসে জানালার ওপাশে থাকা জেনিনের কেবিনের দিকে তাকালো। কাঁচের ওপার দিয়ে সে দেখল জেনিন তার ডেস্কে বসে মাথা নিচু করে কিছু একটা পড়ছে। জেনিন আজ কোনো মিটিং করছে না, কোনো ফোন কল নিচ্ছে না। সে যেন কেবল নোবারার অস্তিত্ব অনুভব করার চেষ্টা করছে।
দুপুরের দিকে অফিসে হঠাৎ এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল। ইউজি জেনিনের কেবিনে ঢুকে খুব দ্রুত কিছু একটা বলল। জেনিন সাথে সাথে উঠে দাঁড়ালো। নোবারা কাঁচের ঘর থেকে দেখল জেনিনের চেহারায় সেই ভয়ংকর মাফিয়া সত্তাটা ফিরে এসেছে। সে তার ড্রয়ার থেকে একটি রিভলভার বের করে হোলস্টারে পুরল।
ইউজি নোবারার কেবিনের দরজায় নক করল। সে ভেতরে ঢুকে খুব দ্রুতলয়ে বলল, “মিস আকারি, আপনি এখনই ভিলাতে ফিরে যান। বসের গাড়ি নিচে রেডি আছে। কোনো প্রশ্ন করবেন না।”
নোবারা উঠে দাঁড়ালো। “কী হয়েছে? স্যার কোথায় যাচ্ছে?”
“সাউথ পোর্টে হামলা হয়েছে। আমাদের একটা শিপমেন্ট আটকে দিয়েছে পুলিশের লোকেরা। বস নিজে যাচ্ছেন পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করতে,” ইউজি খুব কর্কশ গলায় বলল।
নোবারার বুকের ভেতরটা হঠাৎ হাহাকার করে উঠল। সে ঘৃণা করে জেনিনকে, সে তাকে অপমানিত বোধ করে, কিন্তু জেনিনের জীবনের ওপর কোনো হুমকির কথা শুনলেই তার পৃথিবীটা ওলটপালট হয়ে যায়। সে জেনিনের কেবিনের দিকে দৌড়ে গেল। জেনিন তখন বেরিয়ে আসছিল। নোবারা তার পথ আগলে দাঁড়ালো।
“আপনি ওখানে যাবেন না!” নোবারার কণ্ঠে আজ কেবল উদ্বেগ।
জেনিন থামল। সে নোবারার চোখের দিকে তাকালো। এক মুহূর্তের জন্য তার সেই নিষ্ঠুর চোখে এক আকাশ মায়া খেলা করল। সে নোবারার গালটা খুব আলতো করে ছুঁল। “আমি ফিরে আসব নোবারা। আপনার সেই ঘৃণাটুকু পাওয়ার জন্য হলেও আমাকে ফিরে আসতে হবে। আপনি ভিলাতে যান। ইউজি আপনার সাথে থাকবে না, ও আমার সাথে যাচ্ছে। আপনার জন্য আলাদা একটি প্রোটেকশন টিম পাঠিয়েছি।”
“আমি ভিলাতে যাব না। আমি আপনার সাথে যাব!” নোবারা জেদ ধরল।
জেনিন হঠাৎ গর্জে উঠল। “মিস আকারি! এটা কোনো অফিস মিটিং নয়। ওখানে বারুদের গন্ধ আছে, রক্তের ছিটে আছে। আমি চাই না আপনার এই পবিত্রতায় কোনো নোংরা দাগ লাগুক। আপনি যাবেন, এখনই!”
জেনিন নোবারাকে সরিয়ে দিয়ে লিফটের দিকে এগিয়ে গেল। ইউজি তার পেছনে দৌড়াল। নোবারা করিডোরে একা দাঁড়িয়ে রইল। সে দেখল জেনিনের সেই দাপুটে অবয়ব লিফটের ভেতরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।
অফিস থেকে নিচে নেমে জেনিন তার এসইউভিতে উঠল। তার সাথে আরও চারটা গাড়ি। ইউজি ড্রাইভ করছে। জেনিনের হাতে এখন একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। সে জানালার বাইরে তাকিয়ে এক অশুভ নীরবতা দেখছিল।
গাড়িগুলো যখন হাইওয়ে দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে ছুটছে, জেনিন তার ফোনটা চেক করল। সেখানে নোবারার একটা মেসেজ এল, “ফিরে আসতেই হবে জেনিন। আমি আপনার অপেক্ষায় থাকবো।”
জেনিন মেসেজটা পড়ে একটু হাসল। তার চোখের সেই খুনে চাউনিটা আরও তীব্র হলো। সে ইউজিকে বলল, “ইউজি, আজ কাউকে রেহাই দেবে না। ওখানের প্রতিটি লোকের লাশ যেন সাগরের জলে ভেসে যায়।”
<><><><><><><><><>
সাউথ পোর্টের আকাশ আজ কুচকুচে কালো মেঘে ঢাকা। সমুদ্রের লোনা বাতাস আর পচা মাছের গন্ধের সাথে মিশে আছে পোড়া মবিলের এক তীব্র কটু ঘ্রাণ। বিশাল বিশাল লোহার কন্টেইনারগুলো এখানে একেকটা গোলকধাঁধার মতো দাঁড়িয়ে আছে। সাগরের গর্জন ছাপিয়ে মাঝে মাঝে শোনা যাচ্ছে মেটাল শিটের ওপর ভারী বুটের শব্দ। পুরো এলাকাটি এখন একটি মৃত্যুপুরী, যেখানে আইন পৌঁছানোর সাহস পায় না, আর যেখানে কেবল ‘জেড’ (Z) নামক এক অশরীরী শক্তির রাজত্ব চলে।
জেনিন নূরশাদ আজ তার কর্পোরেট মুখোশ ঝেড়ে ফেলে পুরোপুরি এক রণক্ষেত্রের সম্রাট। তার পরনে কালো ট্যাকটিক্যাল সুট, মুখে একটি বিশেষ ফেব্রিক মাস্ক যা তার চেহারার নীচের অংশ ঢেকে রেখেছে, আর চোখে ইনফ্রারেড চশমা। এই বেশে তাকে চেনা অসম্ভব। তার হাতে থাকা কাস্টম-মেড অটোমেটিক রাইফেলটি সমুদ্রের মৃদু আলোয় নীলচে আভা ছড়াচ্ছে। তার ডান পাশেই ছায়ার মতো লেগে আছে ইউজি। ইউজির হাতে হাই-ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামার এবং একটি সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল।
“বস, পজিশন ক্লিয়ার। পুলিশের ফোর্স ৩ নং ডকের পেছনে অ্যামবুশ করে আছে। ওরা ভাবছে আপনি মেইন গেট দিয়ে ঢুকবেন,” ইউজি নিচু স্বরে ফিসফিস করল।
জেনিন কোনো কথা বলল না। সে কেবল আঙুলের ইশারায় ইউজিকে বাম দিকে যেতে বলল। জেনিন যখন হাঁটে, তার পায়ের শব্দ হয় না। সে যেন বাতাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেনিনের প্রতিটি মুভমেন্ট ছিল নিখুঁত, এক দক্ষ শিকারির মতো।
হঠাৎ একটি কন্টেইনারের আড়াল থেকে দুই ঘাতক বেরিয়ে এল। জেনিন রাইফেল তোলার আগেই ইউজি বিদ্যুদ্বেগে এগিয়ে গিয়ে একজনের ঘাড় মটকে দিল এবং অন্যজনের বুকে সাইলেন্সার দিয়ে বুলেট ঢুকিয়ে দিল। রক্ত জেনিনের বুটের কাছে ছিটকে পড়ল, কিন্তু তার চোখের পলক পর্যন্ত পড়ল না।
“জেড, এগিয়ে যান। আমি পেছনটা সামলাচ্ছি,” ইউজি তার অটল আনুগত্যের প্রমাণ দিয়ে পজিশন নিল।
জেনিন ৩ নং ডকের অন্ধকার কোণে প্রবেশ করল। সেখানে হ্যালোজেন লাইটের ম্লান আলোয় দাঁড়িয়ে আছে এক দীর্ঘদেহী মানুষ। হাতে রিভলভার, পরনে পুলিশের বিশেষ ইউনিফর্ম, সে নানামি জায়দান। নানামি আজ মরিয়া। সে জানে ‘জেড’ এখানে আসবে। সে জানে এই জেড-কে ধরতে পারলেই শহরের সব আন্ডারওয়ার্ল্ড ক্রাইম লজিক ভেঙে পড়বে। নানামি চিৎকার করে উঠল, “জেড! সামনে এসো! কতদিন আর ইঁদুরের মতো গর্তে লুকিয়ে থাকবে?”
জেনিন অন্ধকারের আড়ালে দাঁড়িয়ে থমকে গেল। এই কন্ঠস্বর ১৫ বছর পর শুনলেও তার চিনতে সময় লাগে নি! নানামির কণ্ঠস্বর তার কানে বাজতেই পনেরো বছর আগের সেই স্কুল মাঠের স্মৃতি হানা দিল। সেই কিশোর নানামি, যে জেনিনের টিফিন ভাগ করে খেত, যে জেনিনকে কথা দিয়েছিল তারা দুজনে মিলে শহরকে অপরাধমুক্ত করবে। আজ সেই নানামিই জেনিনের বন্দুকের নলের সামনে। জেনিনের বুকটা একবার কেঁপে উঠল। তার রাইফেলের ট্রিগারে থাকা আঙুলটা শিথিল হয়ে এল। এক অসীম মায়া আর আবেগ তাকে গ্রাস করতে চাইল। সে কি পারবে তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর বুকে গুলি চালাতে?
ঠিক সেই মুহূর্তে নানামি অন্ধকারের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ল। গুলিটা জেনিনের কানের খুব কাছ দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে পেছনের লোহার পাতে ঠাং করে শব্দ তুলল। জেনিন দ্রুত স্লাইড করে একটি ক্রেনের পেছনে আশ্রয় নিল।
“জেড, আমি জানি তুমি এখানেই আছো! সামনে এসো!” নানামির কণ্ঠে এক অদ্ভুত সন্দেহ। সে অনুভব করতে পারছে এই লোকটির উপস্থিতি তার খুব চেনা। তার মনে হচ্ছে সে কোনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেরই এক অন্ধকার প্রতিচ্ছবির সাথে লড়াই করছে।
জেনিন মাস্কের আড়ালে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে জানে, নানামি তাকে খুঁজছে। কিন্তু নানামি খুঁজছে সেই পনেরো বছর আগের জেনিনকে, যে বিদেশে গিয়ে হারিয়ে গেছে। নানামি কল্পনাও করতে পারছে না যে তার পরম শত্রু আর পরম বন্ধু একই ব্যক্তি।
জেনিন এবার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এল। সে তার রাইফেলটা একপাশে ফেলে দিল। ইউজি দূর থেকে এটা দেখে চমকে উঠল। “বস! একি করছেন?”
জেনিন কোনো উত্তর দিল না। সে শূন্য হাতে নানামির দিকে এগিয়ে চলল। নানামি রাইফেল তাক করল। “দাঁড়াও! আর এক কদম এগোলে খুলি উড়িয়ে দেব!”
জেনিন থামল না। সে ধীরস্থির পায়ে হাঁটছে। তার হাঁটার ভঙ্গিতে সেই রাজকীয় আভিজাত্য। নানামি লক্ষ্য করল লোকটির চোখে কোনো ভয় নেই। নানামির হাত কাঁপছে। কেন? কেন এই অপরাধীকে দেখে তার ভেতরের পুলিশ অফিসারটি দুর্বল হয়ে পড়ছে?
“তুমি কে?” নানামি আবার জিজ্ঞেস করল। তার চোখে জল আসার উপক্রম। “তোমার এই চোখ… আমি চিনি।”
জেনিন কোনো কথা বলল না, কারণ কথা বললেই নানামি তার কণ্ঠ চিনে ফেলবে। জেনিন হঠাৎ এক ঝটকায় নানামির হাতের রিভলভারটি কিক মেরে উড়িয়ে দিল। শুরু হলো এক বিধ্বংসী হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড ফাইট। জেনিন নূরশাদ নানামিকে আঘাত করছে না, বরং নানামির প্রতিটি অ্যাটাক ডিফেন্ড করছে। নানামি ঘুষি চালাল, জেনিন সেটা ব্লক করে নানামির হাতটা মুচড়ে ধরল, কিন্তু হাড় ভাঙল না। সে নানামিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল।
নানামি আবার তেড়ে এল। “কেন লড়ছো না? কেন আমাকে মারছো না?”
জেনিন এবার নানামির একটি প্রচণ্ড কিক ডজ করে তার পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো। সে নানামির ঘাড়ে হাত রাখল। এক সেকেন্ডের জন্য জেনিনের স্পর্শে সেই পুরনো বন্ধুত্বের উষ্ণতা ছিল। নানামি স্তব্ধ হয়ে গেল। সে অনুভব করল এই স্পর্শটি তার খুব পরিচিত। জেনিন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল না, বরং খুব সাবধানে সরিয়ে দিল যাতে নানামি চোট না পায়।
ঠিক তখনই পাশ থেকে নানামির ব্যাকআপ ফোর্স গুলি শুরু করল। ইউজি চিৎকার করে উঠল, “বস, ডাইভারশন! আমাদের বেরোতে হবে!”
ইউজি কভারিং ফায়ার শুরু করল। জেনিন দেখল একঝাঁক বুলেট নানামির দিকে ধেয়ে আসছে। জেনিন নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে ঝাঁপিয়ে পড়ে নানামিকে এক পাশে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। গুলিগুলো জেনিনের কাঁধের পাশ দিয়ে চলে গেল। নানামি মাটিতে পড়ে গিয়ে অবাক চোখে দেখল তার শত্রু তাকে বাঁচাল।
“কেন?” নানামি চিৎকার করল।
জেনিন এবার উঠে দাঁড়ালো। সে বাতাসের বেগে ইউজির দিকে দৌড়ে গেল। ইউজি একটি স্মোক গ্রেনেড ছুঁড়ল। পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ছেয়ে গেল। জেনিন আর ইউজি সেই ধোঁয়ার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল।
নানামি ধোঁয়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে হাপাচ্ছে। তার হাতে এখন সেই জেডের ফেলে যাওয়া রাইফেলের খাপ। সে বিড়বিড় করে বলল, “না… এটা সম্ভব নয়। ওই চোখ, ওই বাঁচানোর ধরন… ও কে? এই জেড… এই জেড কে?”
গাড়িতে ফিরে জেনিন মাস্কটা খুলে ফেলল। তার কপালে ঘাম আর চোখের কোণে জল। ইউজি জেনিনের কাঁধের ক্ষত পরীক্ষা করতে চাইল। “বস, আপনি পাগল হয়ে গেছেন! ও আপনাকে মেরে ফেলত!”
“ও আমাকে মারতে পারবে না ইউজি,” জেনিন জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল। তার চোখে এখন অসীম বেদনা। “ও আমার বন্ধু। ও আমাকে ঘৃণা করে কারণ ও সত্য জানে না। আর আমি নিজেকে ঘৃণা করি কারণ আমি ওকে সত্য বলতে পারি না।”
ইউজি দেখল জেনিন নূরশাদ, শহরের সবচাইতে শক্তিশালী মানুষটি আজ এক ভগ্ন হৃদয়ের বন্ধুর মতো কাঁদছে! কিন্তু ইউজি কিছু বললো না। জেনিনকে নিজের মতো থাকতে দিল সে। যদি একটু হালকা হয় মনটা!
<><><><><><><><><>
নূরশাদ ভিলার বিশাল অলিন্দে আজ রাতের নিস্তব্ধতা যেন কোনো কান্নার মতো জমাট বেঁধে আছে। বারান্দার গ্রিল বেয়ে নামা বৃষ্টির শেষ ফোঁটাগুলো টুপটাপ শব্দে মেঝের ওপর আছড়ে পড়ছে, যা বাড়ির ভেতরে এক বিচিত্র হাহাকার তৈরি করেছে। ড্রয়িংরুমের বিশাল ঝাড়লণ্ঠনটি আজ নেভানো। কেবল এক কোণে একটি ম্লান ফ্লোর ল্যাম্প জ্বলছে, যার হলদেটে আলোয় চারপাশের আসবাবপত্রগুলোকে ছায়ার মতো মনে হচ্ছে। নোবারা আকারি সেই হাহাকার মেশানো অন্ধকারে সোফায় কুঁকড়ে বসে আছে। তার চোখের পাতাগুলো অপলক, দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে সদর দরজার দিকে। তার ভেতরে এক তীব্র দহন, একদিকে জেনিনের প্রতি সেই জমাট বাঁধা ঘৃণা, আর অন্যদিকে এক ভয়ংকর অজানা আতঙ্ক।
রাত যখন প্রায় তিনটে, তখন ভিলার গেটে একটি গাড়ির টায়ার ঘষার শব্দ পাওয়া গেল। নোবারা বিদ্যুৎবেগে উঠে দাঁড়ালো। তার বুকের ভেতরটা যেন কেউ হাতুড়ি দিয়ে পিটছে। কয়েক মুহূর্ত পরেই দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল জেনিন নূরশাদ। জেনিনের সেই দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সিইও ইমেজ আজ কোথাও নেই। তার কালো ট্যাকটিক্যাল শার্টটি একপাশে ছিঁড়ে গেছে, কাঁধের কাছে জমাট বাঁধা রক্তের কালচে দাগ। তার মুখে এখনো সেই বারুদের পোড়া গন্ধ আর চোখের মণি যেন দুটো নিভে যাওয়া আগ্নেয়গিরি।
জেনিন নোবারাকে দেখতে পেল না, নাকি দেখার শক্তি তার মধ্যে ছিল না, সে টলতে টলতে দেয়াল ধরে সিঁড়ির দিকে এগোতে চাইল। নোবারা দৌড়ে গিয়ে জেনিনের সামনে দাঁড়ালো। জেনিন থামল। তার নিঃশ্বাস ভারী, কপালে ঘাম আর ধুলোর আস্তরণ।
“আপনি ফিরেছেন?” নোবারার কণ্ঠস্বর কান্নায় বুজে এল। সে জেনিনের এই ক্ষতবিক্ষত রূপ সহ্য করতে পারল না। জেনিন অপরাধী হতে পারে, কিন্তু সে তো নোবারার সেই পনেরো বছর আগের হারিয়ে যাওয়া সত্তার একমাত্র অংশ।
জেনিন কোনো কথা বলল না। সে কেবল নোবারার চোখের দিকে তাকালো। সেই চোখে আজ কোনো কর্তৃত্ব নেই, কোনো ইগো নেই। আছে কেবল এক দিগন্তবিস্তৃত বিষাদ। জেনিন হঠাৎ কোনো সতর্কতা ছাড়াই নোবারার কাঁধে মাথা রেখে লুটিয়ে পড়ল। নোবারা দুহাতে জেনিনের সেই বিশাল শরীরটাকে আগলে ধরার চেষ্টা করল। সে অনুভব করল জেনিনের শরীরের তপ্ত তাপ আর তার হৃৎপিণ্ডের সেই অনিয়ন্ত্রিত স্পন্দন।
“কি হয়েছে আপনার? ইউজি কোথায়?” নোবারা আর্তনাদ করে উঠল।
জেনিন খুব কষ্টে মুখ তুলল। তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে রক্ত। সে ফিসফিস করে বলল, “আমি ওকে দেখেছি নোবারা। আমি আজ জায়দানকে দেখে এসেছি।”
শব্দটা শোনামাত্র নোবারার সারা শরীর হিম হয়ে গেল। নানামি! তাদের স্কুলে জীবনের দিনগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেনিন, নানামি আর নোবারা, তিনজন মিলে একসময় একটি সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখত। আজ সেই নানামিই জেনিনের প্রাণের শত্রু। নোবারার মনে পড়ে গেল স্কুলের বিকেলের কথা, যখন নানামি আর জেনিন ফুটবল খেলে ফেরার সময় নোবারার জন্য কাঁচের চুড়ি কিনে এনেছিল। সেই স্মৃতি আজ বারুদের গন্ধে ছাই হয়ে গেছে।
নোবারা জেনিনকে ধরে সোফায় বসালো। সে দ্রুত ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে এল। জেনিন কোনো বাধা দিল না। সে পাথরের মতো বসে রইল। নোবারা যখন খুব সাবধানে জেনিনের কাঁধের ক্ষত পরিষ্কার করছিল, জেনিন যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠল না, বরং তার চোখ দিয়ে দুই ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। এই প্রথম নোবারা জেনিন নূরশাদকে কাঁদতে দেখল। যে মানুষটা পুরো শহরকে নিজের হাতের মুঠোয় রাখে, সে আজ তার পুরনো বন্ধুর স্মৃতিতে এক অসহায় শিশুর মতো ভেঙে পড়ছে।
“ও আমাকে চিনতে পারেনি নোবারা,” জেনিন ধরা গলায় বলল। “ও আমার দিকে বন্দুক তাক করেছিল। ও ভাবছিল আমি একজন অপরাধী। ও জানেও না যে ওর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই মুখোশধারী মানুষটাই পনেরো বছর আগে ওর জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল!”
নোবারার হাত কাঁপছিল। সে ব্যান্ডেজটা বাঁধতে গিয়েও থেমে গেল। “আপনি কি ওনাকে… আপনি কি ওনার ক্ষতি করেছেন?”
জেনিন হঠাৎ হো হো করে হেসে উঠল। এক করুণ, বিষাদগ্রস্ত হাসি। “ক্ষতি? আমি ওকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের কাঁধে বুলেট নিয়েছি। আমি ওর ওপর গুলি চালাতে পারিনি। আমার এতো বছরের সমস্ত ট্রেনিং ফেল করে গেল যখন আমি ওর সেই পরিচিত চোখদুটো দেখলাম। আমি অপরাধী ঠিকই, কিন্তু আমি তো কোনোদিন জায়দানের শত্রু হতে চাইনি। আমাদের নিয়তি কেন আমাদের দুজনকে দুই মেরুতে দাঁড় করিয়ে দিল নোবারা? কেন?”
নোবারা জেনিনের দুহাত নিজের হাতের মাঝে তুলে নিল। জেনিনের হাতগুলো বরফের মতো ঠান্ডা। জেনিন নূরশাদ ক্ষমতার শিখরে বসে আছে ঠিকই, কিন্তু তার চারপাশটা শূন্য। তার শৈশব চুরি হয়ে গেছে, তার বন্ধুত্ব এখন বারুদের স্তূপে চাপা পড়েছে, আর তার প্রেম এখন সন্দেহের কাঁটাতারে ঘেরা।
“নানামি ভাইয়া এখন পুলিশ অফিসার। আমি জানি। ওনি আইন মেনে চলে। আর আপনি…” নোবারা থামল। সে বলতে পারল না যে জেনিন এখন আইনের বাইরের এক নিষিদ্ধ সম্রাট।
“আর আমি এক অভিশপ্ত খুনি, তাই তো?” জেনিন নোবারার চোখের দিকে তাকালো। “আপনিও তো আমাকে ঘৃণা করেন। সবাই আমাকে ঘৃণা করে। অথচ আমি চেয়েছিলাম আপনাদের নিয়ে সেই ছোট বাগানওয়ালা বাড়িটাতে থাকতে। আমি চেয়েছিলাম কেবল একমুঠো শান্তি। আমার আশা তো বেশি কিছু ছিল না! তাও কেন আমি কিছুই পেলাম না?”
নোবারা এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে জেনিনকে জড়িয়ে ধরল। এই আলিঙ্গনে আজ কোনো হিংসে নেই, কোনো ঘৃণা নেই। আছে কেবল দুই ভেঙে যাওয়া আত্মার হাহাকার। জেনিন নোবারার বুকে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। তার বিশাল শরীরটা অপমানে আর অপরাধবোধে কাঁপছে। নোবারা জেনিনের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। তার মনে হলো সে কোনো মাফিয়া ডনকে নয়, সে তার সেই হারিয়ে যাওয়া কিশোর জেনিনকে শান্ত করছে।
“কষ্ট পাবেন না। নানামি ভাইয়া একদিন সব বুঝতে পারবে,” নোবারা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করল, যদিও সে জানে এই সান্ত্বনা অর্থহীন।
“ও কোনোদিন বুঝবে না নোবারা। ও আমাকে ‘জেড’ হিসেবে মারতে চায়। আর আমি জেনিন হিসেবে ওর সামনে দাঁড়াতে পারছি না। আমি এক দ্বিমুখী নরকে বাস করছি। যখন আমি আয়নায় দেখি, আমি নিজেকে চিনতে পারি না। আমার মাঝে এক দানব বাস করে, যে রক্ত চেনে। কিন্তু আজ নানামির সামনে সেই দানবটা কুঁকড়ে মরে গেল!”
নোবারার চোখের জল জেনিনের কাঁধের রক্ত ধুয়ে দিচ্ছে। ড্রয়িংরুমের সেই ম্লান আলোয় তারা দুজনে মিলে এক করুণ প্রতিচ্ছবি তৈরি করল। নোবারা বুঝতে পারল, জেনিনকে সে যতই ঘৃণা করুক, জেনিনের এই পতন সে দেখতে পারবে না। জেনিন নূরশাদ আজ তার রাজত্বে সবচাইতে একাকী মানুষ। তার পাশে ইউজি আছে আনুগত্য নিয়ে, কিন্তু মমতা নিয়ে কেউ নেই। নোবারা অনুভব করল, জেনিনের এই পসেসিভনেস, তার এই নিষ্ঠুরতা, এসবই আসলে তার ভেতরের সেই ভয়ংকর একাকীত্বকে ঢাকার এক বিফল চেষ্টা।
“আমি আপনাকে ঘৃণা করতে চেয়েছিলাম জেনিন,” নোবারা ফিসফিস করে বলল। “আমি চেয়েছিলাম আপনার এই প্রাসাদ ছেড়ে চলে যেতে। কিন্তু আপনার এই কষ্টগুলো আমাকে যেতে দিচ্ছে না। আপনি কেন নিজের চারপাশটা এত জটিল করে তুললেন? কেন একজন সাধারণ মানুষ হলেন না?”
জেনিন নোবারার আলিঙ্গন থেকে নিজেকে একটু সরিয়ে নিল। সে নোবারার মুখটা দুহাতে ধরল। তার চোখের সেই লালচে আভা এখন এক বিষণ্ণ নীল রঙে পরিণত হয়েছে। কিন্তু জেনিন কিছুই বলতে পারলো না।
নোবারা জেনিনের কপালে নিজের কপাল ঠেকাল। “আপনার খুব কষ্ট হচ্ছে না? আপনার এই বুলেটের ক্ষতের চেয়েও আপনার মনের ক্ষতটা বেশি গভীর।”
জেনিন চোখ বন্ধ করল। সে অনুভব করল নোবারার উষ্ণ নিশ্বাস। “আমার শান্তি কেবল আপনার কাছে নোবারা। আপনি যখন আমার ওপর রাগ করেন, আমার কষ্ট হয় ঠিকই, কিন্তু আমি তখন অনুভব করি যে কেউ একজন অন্তত আমাকে মানুষ বলে মনে করে। আপনি আমাকে ঘৃণা করলেও আমার পাশে থাকুন। আমি আর সহ্য করতে পারছি না এই নিঃসঙ্গতা।”
সেই রাতে আর কোনো কথা হলো না। জেনিন সোফাতেই ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ল। তার মাথাটা নোবারার কোলে। নোবারা সারারাত জেগে রইল। সে দেখল জেনিন ঘুমের ঘোরেও নানামির নাম ধরে বিড়বিড় করছে। তার হাত দুটো ঘুমের মধ্যেও মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আছে, যেন সে কোনো অদৃশ্য শত্রুর সাথে লড়াই করছে। নোবারার মনে হলো, এই মানুষটা অপরাধী হতে পারে, সে খুনি হতে পারে, কিন্তু সে তো সেই একই জেনিন যে পনেরো বছর আগে নোবারার জন্য স্কুল ব্যাগে চকলেট লুকিয়ে রাখত।
ভোরের প্রথম আলো যখন জানালার পর্দা ভেদ করে ভেতরে ঢুকল, তখন জেনিনের ঘুম ভাঙল। সে চোখ খুলে দেখল নোবারা তার দিকে তাকিয়ে আছে। জেনিন এক মুহূর্তের জন্য বিভ্রমে ছিল, সে কি পনেরো বছর আগের ক্লাসরুমে আছে? কিন্তু তার কাঁধের যন্ত্রণা আর চারপাশের এই রাজকীয় আসবাবপত্র তাকে মনে করিয়ে দিল তার বর্তমান।
জেনিন উঠে বসল। সে আবার সেই মুখোশটা পরার চেষ্টা করল। তার চেহারায় আবার সেই কাঠিন্য ফিরে এল। কিন্তু নোবারা জানে, এই কাঠিন্যের নিচে এক ধ্বংসপ্রাপ্ত পাণ্ডুলিপি লুকিয়ে আছে।
“আপনি বিশ্রাম নিন। আমি কফি নিয়ে আসছি,” নোবারা উঠে দাঁড়াতে চাইল।
জেনিন নোবারার হাতটা ধরল। “কাল রাতে যা দেখেছেন, তা ভুলে যান মিস আকারি। জেনিন নূরশাদ কোনোদিন কাঁদে না। জেনিন নূরশাদ কেবল শাসন করতে জানে।”
নোবারা একটু হাসল। এক বিষাদমাখা হাসি। সে জানতো জেনিন এমনই করবে আজীবন। এখন তো সেও অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে জেনিনের দ্বিচারিতায়! “আমি ভুলে যাব স্যার। চিন্তা করবেন না।”
জেনিন কোনো উত্তর দিল না। সে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। সমুদ্রের নোনা বাতাস তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই পোর্টের যুদ্ধের কথা। সে জানে নানামি তাকে খুঁজছে। সে জানে আজ না হয় কাল, তাদের আবার দেখা হবে। কিন্তু সেদিন কি জেনিন আবার তার রাইফেলের ট্রিগার আলগা করতে পারবে? নাকি এসি নানামি জায়দানই হবে তার জীবনের অন্তিম পরিণতি?
চলবে ইংশাআল্লাহ………

