#কথা_দিলো_রোদ্দুর (১৩)
#তুসিকা
…. আপনি, সাম্য ভাই আপনি এখানে,,
সাম্যকে এখানে দেখে একটু অবাকই হয় অর্থি,, এমন সময়ে সাম্য এখানে,, ব্যাপার একটু কাকতালীয় হলে ও বেশি ভাবলো না অর্থি। বৃষ্টির ছিটেফোঁটা অর্থির মুখে এসে পড়ছে বারবার। তাই কোনটা বৃষ্টির পানি আর কোনটা চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু বোঝা মুশকিল। তাও অর্থি হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে নিল,, কিন্ত ফুঁফিয়ে ওঠা লাল চোখ লুকাতে পারলো না,, তাই মাথা নিচু করে রাখলো। কিন্ত অর্থি তখন ও বুঝে উঠলো না এই লোক এখানে কি করছে,,,
তবে সাম্য অর্থির কথার উওর না দিয়ে নিজেই প্রশ্ন করে অর্থি কে;
—” মেঘের গর্জনে যদি এমন ভয়ই পাও তবে এমন বৃষ্টিতে বাসা থেকে বের হয়েছে কেন!!
হয়ত অর্থির প্রশ্ন করা উচিত ছিল —”আপনি এখানে কেন,, বা এমন ঝড় তুফানে আপনি এই জায়গায় কি করছেন,, কিন্ত অর্থির মুখ থেকে সেটা বের হলো না,, মেহেদীর বন্ধু তাই ভদ্রতা সহিত সে সাম্যের প্রশ্নের উওর ই দিল;
—” কলেজে গিয়েছি ভাইয়া,,
—”ওও,,,
এরপর কিছুক্ষণ আর কোনো কথাই হলো না দুজনার মধ্যে। বাইরে তখনও প্রবল বেগে বৃষ্টি হচ্ছে,, বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ যেন পরিবেশ টা কে মাতিয়ে দিচ্ছে,, বাজ পড়ছে আকাশ ভেঙে যেন মেঘেরা নিজেদের রাগ অভিমান দেখাচ্ছে ধরনী বাসি কে। তবে এই বাজ পড়ার শব্দে অর্থি দাঁত চেপে হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে রেখেছে। অর্থির যে ভীষণ ভয় করে বাজ পড়ার শব্দে,, এটা দেখে সাম্য অর্থির দিকে তাকালো।
সাম্যের কলেজ লাইফ থেকে অনেক মেয়ে সহপাঠী ছিল,, সে দেখেছে এমন বৃষ্টিঘন দিনে মেয়েরা, বিশেষ করে টিনেজার রা একটু বেশি উৎসাহিত থাকে,, তারা হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছোঁয়, বৃষ্টিতে ছন্দে গাঁ ভেজায়, তখন আলাদা ই একটা দীপ্তি থাকে যেন মেয়েদের মাঝে, তবে সে এখন অর্থি কে দেখছে, এই মেয়ে ভয়ে কাবু হয়ে যাচ্ছে, তা দেখে সে ফিচেল হেসে বিরিবর করে বলল;
—” ভীতুরানী….
নাম খানা নিজের মুখে উচ্চারণ করে সাম্য বেশ অবাক হলো,, এমন একটা নাম কিভাবে তার মাথায় আসলো হঠাৎ সেটা ভেবেই হয়ত। তবে মন্দ নয়,, অর্থির স্বভাব সম্পর্কে সে অবগত নয়,, তবে অর্থির এই ভয় পাওয়া অথচ মিষ্টি মুখে এমন একটি নাম তাকে দেওয়া ই যায়,, হ্যাঁ তবে মনে মনে। নিজের আসলে নামের পরিবর্তে অন্য শুনলে কারোরই ভালো লাগে না,,, তাই ভীতুরানী নামটা সাম্য উচ্চারণ করলে ও নিজের মধ্যেই রাখলো,,,
—–
এরই মাঝে বৃষ্টিটা তীব্রতা একটু বদলালো, আগের মতো ঝুমঝুম করে ঝরে পড়ছে না ঠিকই, কিন্ত থেমে ও যায় নি। নিরবিচ্ছিন্ন ধারায় নেমেই যাচ্ছে,, আশেপাশে টিনের চাল বেয়ে টুপটুপ নয় বরং সুতোর মতো টেনে বৃষ্টি নামছে,,
সাম্য এবার আকাশের দিকে তাকালো, আরেকবার অর্থির দিকে তাকালো,, মেয়েটা এখনো জুবুথুবু হয়ে আছে,, তবে সাম্য হচ্ছে চঞ্চল প্রকৃতির,, তার এই চঞ্চলতার জন্য বেশ নাম ডাক রয়েছে বন্ধুমহলে,, সে এক জায়গায় স্থির থাকার মানুষ মোটেও নয়। যতই সাম্যের ঠান্ডা লাগার ধাত থাকুক আর জ্বর সর্দি লেগে থাকুক না কেন অন্য সময় হলে তো বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এতক্ষণে রাস্তায় নেমে যেত।
হয়ত হাত দুটো ছড়িয়ে বৃষ্টি উপভোগ করতো,, আর নয়ত ভিজে ভিজে বৃষ্টিবিলাস করতে করতে নিজ গন্তব্যে পৌছাতো,, কিন্ত এখন সে ঠাঁই অর্থির পাশে দাঁড়িয়ে আছে,, চাকরি সূত্রেই তো সাম্যের এই শহরে আসা,, তবে এভাবে অর্থির দেখা মিলবে তা সে ও জানতো না,, তবে এখন এই সময়ে মেয়েটাকে একা ফেলে তার যেতে ও ইচ্ছে করছে না,, ওকে তো চেনে মেহেদীর মাধ্যমে,, মেহেদীর ফুফাতো বোন.. তাই সাম্য গলা খাঁকারি দিয়ে বলল;
—’ এভাবে থাকলে তো ঠান্ডা লেগে যাবে,, আর বৃষ্টি ও বোধ হয় পুরো পুরি থামবে না,, চল তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি!
অর্থি হয়ত সাম্যের কথাটা ঠিক ভাবে শুনেই নি,, তাই সাম্য আবারো বলল;
—” চল তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি,, এভাবে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করে লাভ নেই।
অর্থি একটু ইতস্তত করলো কথাটা শুনে,, এভাবে তার সাথে যেতে ও কেমন জানি লাগছে,, লোকটা কে তো ভালো করে চেনে না তাই সে বলল;
—” না না,, আমি যেতে পারবো,, আপনাকে কষ্ট করতে হবে না,, আর এমনিতেই রিকশা পেয়ে গেলে আর কোনো অসুবিধে ও হবে না,,,
–” আরে কষ্টের কি আছে,, মেহেদীর বোন তুমি সেই সূত্রে আমার ও….. বাকি কথাটা যেন মুখে রয়ে গেল,, কথা ঘুরিয়ে বলল;
–’মানে আমার একটা তো দায়িত্ব আছে,, তোমাকে একা রেখে যাবো কিভাবে,, চল!
আজই বোধ হয় সাম্য তার সাথে এমন ভাবে কথা বললো,, না হলে দুবার তার সাথে দেখা হয়েছে অর্থির,, সে দুবার ই অর্থি সাম্য কে কেমন নির্লিপ্ত ভাবেই দেখেছে,,
আর এদিকে দেরী ও হচ্ছে, বাসায় নিশ্চয়ই মা চিন্তা করছে, তখন তো একটু রাগ দেখিয়ে এসেছে ঠিকই কিন্ত ক্ষণে ক্ষণে নিজে ও অনুশোচনায় দগ্ধ হয়েছে। তাই সাম্যের কথায় সায় জানিয়ে ব্যাগটি বুকের কাছে আরো জড়িয়ে নিল। আর বেরিয়ে পড়ল বাসার উদ্দেশ্য। অর্থি ভাবলো একটু গেলেই তো বড় রাস্তা, রিকশা পেয়ে যাবে কিন্ত দুর্ভাগ্য একটা খালি রিকশা ও পেল না,, আর যাদের দেখা মিলল তারা অর্থিদের এলাকায় যাবে না,, এমনিতেই রাস্তা ভাঙ্গা তারপর বৃষ্টি হলে অর্থিদের এলাকায় পানি জমা হয় বলে তেমন কেউ ই যেতে রাজি হয় না।
তাই বাকি পথ হেঁটে ই চলল,, যেতে যেতে সাম্য টুকটাক প্রশ্ন করলো, আর অর্থি ও সেগুলোর উওর দিল,,
–” তোমরা ডাক্তার পাড়া ওই এলাকায় কত বছর আছো!! আর এমন অসুবিধে হলে বাসা চেঞ্জ করো নি কেন!!
—” না ওটা আমাদের স্থানীয় জায়গা,, তাই অসুবিধে হলে ও মানিয়ে নিতে হয়,,,
—” তোমাদের আর গ্রামের বাড়ি নেই!
সাম্য এমনিতেই কথা টা জিজ্ঞেস করে,, তবে অর্থির হতাশা সহিত বলে — না,,, অর্থির খুব ইচ্ছে তার একটা গ্রামে দাদা বাড়ি হোক,, কিন্ত সেকেলে আমল থেকে তারা ফেনীর বাসিন্দা। তাই এই ইচ্ছে টা নিয়ে সব সময় হতাশা কাজ করে। তবে সাম্য বলে বসে;
—”আমি তো আরো ভাবলাম তোমরা নোয়াখালী র,, তবে যাই হোক ওই একই ব্যাপার,, দুটো ই সিমিলার!
এই কথার পিঠে অর্থি কিছুই বলল না,, নিরব হয়ে পাড়ি দিল বাকিটা পথ। তবে বাসার একটু কাছাকাছি যেতেই অর্থি আরো অবাক হলো,,
যখন দেখলো ছাতা মাথায় নিয়ে ফারিশ আসছে,, ফারিশ যে আজকে আসবে কই তাকে তো বলেনি! তাই ফারিশ কে দেখা মাত্র অর্থি পা চালিয়ে গেল ফারিশের দিকে। তবে সাম্য একটু পিছিয়ে গেল,, সে দেখলো ফারিশ কে দেখা মাত্র অর্থি ছুটে গেল তার কাছে,, সাথেই যেন ভ্রু জোড়া কুঁচকে এলো সাম্যের,,তাই সে ধীর গতিতে হাঁটছে,,, অর্থি ততক্ষণে ফারিশের নাগাল পেয়ে গেছে।
—”ফারিশ তুই আসবি বলছিস নি কেন! আর এমন বৃষ্টিতে কোথায় যাচ্ছিস!
ফারিশ অর্থির দিকে তার হাতে থাকা দ্বিতীয় ছাতাটি দিল,, হালকা রাগ নিয়ে বলল;
—” তোর জন্যই তো এলাম,, কিন্ত তুই বেকুবের মতো ছাতা না নিয়ে কলেজে গেছিস আর বৃষ্টির এমন বাহার দেখে জানিস খালামনির চিন্তা করতে করতে শেষ,, আমি না থাকলে হয়ত তিনি নিজেই বেরিয়ে যেত তোকে আনতে, আর তাই তো তোকে আনতে যাচ্ছিলাম। কোথায় ছিলি এতক্ষণ।
—” বৃষ্টির মধ্যে আটকা পড়েছি, কি করবো!
তাদের কথার মাঝে সাম্য ও এসেছে তাদের পাশে,, ফারিশ তাকে দেখে হাসি মুখে বলল;
–’আরে সাম্য ভাই,, কি খবর! আর এখানে,,
সাম্য ধীর কন্ঠে উওর করলো;
—” এই আছি,,, কাজের জন্যই এখানে আসা আরকি!
অর্থি দেখলো এতক্ষণ ধরে কথা বলা লোকটার চেহারায় কেমন গম্ভীর ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে,, আর চোখ! চোখ দুটো আগের মতোই হঠাৎই কেমন নির্লিপ্ত হয়ে উঠেছে,, তারা দুজন পুরো পথ বৃষ্টির পানি গায়ে লাগিয়ে এসেছে,, ভিজে অবস্থা খারাপ। এদিকে সাম্য হাঁচি দিচ্ছে,, আর ও বৃষ্টির রেশ কাটেনি তাই অর্থি সাম্য কে নিজের ছাতাটা দিল। সাম্য ও ছাতাটা হাতে নিল, কিন্ত মেলল না।
–”ফারিশ, ভাইয়া আমাকে এগিয়ে দিতেই এতটা পথ এসেছে,, আমরা একসাথে বৃষ্টি তে আটকা পড়েছি তাই।
—”আচ্ছা হয়েছে,, বৃষ্টির মধ্যে আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবো,, ভাইয়া বাসায় চলুন। যা বৃষ্টি মাথায় নিয়েছেন,, বেশি ক্ষণ এভাবে থাকলে জ্বর বাঁধতে সময় লাগবে না,,
ফারিশের মুখে এমন দীপ্তি দেখে সাম্য বলল;
—” না কাজ আছে, আজ আসি,,
—” আরে কি বলছেন ভাইয়া,, বাসার সামনে এসে যদি এভাবে ফিরে যান খালামনি রাগ হবেন,, বাসা চলেন, দুপুরে খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে তারপর না হয় কাজে যাবেন।
অর্থি ও বলল;
–’জ্বি ভাইয়া, বাসায় চলুন,, এতটা পথ এসে যদি বাসায় না যান তাহলে…
অর্থি কে আর কিছু বলতে না দিয়ে সাম্য আবারো বলল;
—”আজ দেরী হয়ে যাচ্ছে,, অফিস টাইম আবার তিনটা থেকে শুরু হয়ে যাবে,, অন্য একদিন আসবো,, আসি তাহলে,, ভালো থেকো,,,
সাম্য উল্টো পথ ধরে এগিয়ে গেল দু কদম,,
অর্থির খারাপ লাগছে একটু, লোকটা তার জন্য ই এতটা পথ এসেছে,, এখন আবার এভাবে চলে ও যাচ্ছে,, অর্থি সাম্যের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে নিজে ও ফারিশের সাথে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিল,, ফারিশ তার মাথায় ছাতা ধরতে চাইলো,, কিন্ত অর্থি মানা করলো,, তাকে ছাতা ধরলে এখন ফারিশ নিজেও ভিজে যাবে,, তাই তারা পা চালিয়ে বাসায় দিকে চলে গেল।
তবে সাম্য ঘাড় ঘুরিয়ে তাদের যাওয়ার পানে চাইলো, তাদের দেখে কি ভাবল সেটা তার মনেই রইল।
আর দেখলো ফারিশ অর্থি দুজনেই এখন গলির মাথা ফেলে গেছে,,
তাই একটু তাকিয়ে সাম্য ফের হাঁটা ধরলো,, এখন সে রিকশা পেলেই হয়,, সে ও বাসায় ফিরবে,, তবে কি যেন মনে করে হাতে থাকা ছাতাটা খুলে মাথার উপর রাখলো,, সাথে দেখতে পেল ছাতার ভেতরে স্টিং এ একটি ডোরেমনের কি চেইন ঝুলছে। পেছনে আবার অর্থি লেখা। সাম্য হাসলো সেটা দেখে,, আর ভাগ্য ভালো থাকায় কিছুক্ষণ বাদে রিকশা পেলে নিজে ও চলে গেল বাসায়।
__________
অর্থি বাসায় গেলে রেবেকা বেগম তো তাড়াতাড়ি তাকে গোসল করে নিতে বলে,, জামা কাপড় ও এগিয়ে দেয়,, অর্থি ভেবেছিল রেবেকা তার উপর বকাঝকা করবেন,,, কিন্ত রেবেকা বেগম কিছুই বললেন না,, অর্থি বুঝতে পারছে সে যেমন মায়ের উপর রাগ দেখিয়েছে রেবেকা বেগম ও তার উপর অভিমান দেখিয়ে আছে। অর্থি ভাবলো কি ভাবে সে মায়ের সাথে কথা বলবে। মা নিশ্চয়ই তখন কার ব্যবহারে কষ্ট পেয়েছে।
—-
হ্যাঁ,, অর্থির মনে রেবেকা বেগমের প্রতি জমে আছে সহস্র অভিযোগ,, ছোট ছোট বিষয় নিয়েই সে অভিমান করে, কথা বলা বন্ধ করে দেয়, এই চুপ থাকাই যেন একমাত্র পান্থা।
কিন্ত এই নিরবতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে তার সবচেয়ে কষ্ট টা।
কারন সে যতই অভিমান করুক না কেন,
তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা তো এই একটাই মানুষ–তার মা। হ্যাঁ রেবেকা বেগম তার পেছনে চেঁচামেচি করে,, মাঝেমাঝে কথা ও শোনায় নানা কারণে,,
হয়তো সে নিজেই বোঝে তার মায়ের সেই রাগের পেছনে লুকিয়ে থাকে তার জন্য একরাশ চিন্তা, একরাশ ভালোবাসা। তাই তো মায়ের এমন শান্ত ব্যবহারে অর্থির মনে খুঁচখুঁচ করছে,, কিন্ত ভেতর গত অনুশোচনার জন্য মুখ ফুটে কিছু বলতে পারলো না,,,
তাই গোসল করে এসে যখন খেতে বসলো, তখন দেখলো ফারিশ আসায় রেবেকা বেগম আজ অনেক কিছুই রান্না করলো,, তবে টেবিলের এক কোণে ডিম ভর্তা করে রাখা। যেটা অর্থির সব থেকে পছন্দের,, অর্থ ডিম তেমন একটা পছন্দ করে না বলে ওই খাবারের ভাগীদার অর্থি নিজেই হয়। তবে আজ মাছ মাংস এত কিছুর পরেও রেবেকা বেগম অর্থির জন্যই এটা করেছে সে জানে,,
তাই কিছু না বলে চুপচাপ তৃপ্তির সাথে খাবার খেয়ে নিল। তবে ফারিশ! সে তো অনেক কথাই বলল,, আর রেবেকা বেগম কে জানালো সাম্য এসেছিল, আর তাদের বাসার সামনে ও এসেছিল। কিন্ত অনেক করে বলার পরেও তাদের বাসায় আসে নি,, এটা শুনে রেবেকা বেগম ও অনেক আফসোস করছিলেন,, আর অর্থ! সে তো ভাতের লোকমা যতবার না চিবিয়েছে ততবার সাম্যের নাম মুখে নিয়েছে।
এতেই অর্থি বুঝেছে তার সক্ষতা না থাকলে কি হবে, লোকটা তো তার পরিবারে যেন সূক্ষ্ম ভাবে নিজের স্বজনপ্রীতি গড়ে তুলেছে।
চলবে।
____________
[বর্ধিতাংশ]
খাওয়া দাওয়ার পর্ব চুকিয়ে রেবেকা বেগম টেবিল পরিষ্কার করছিলেন, তখন তিনি অর্থ কে বললেন মোবাইল না দেখে একটু ঘুমিয়ে নিতে, পাঁচ টায় আবার তার প্রাইভেট আছে,, অর্থি তখন থালা বাসন গুলো মুছে মুছে সিঙ্কের উপর রাখছিল,, কিন্ত চোখ বারবার রেবেকা বেগমের উপরেই নিবদ্ধ,, তিনি নিজের কাজ নিজেই করে যাচ্ছেন,, অর্থি ও একটু সুযোগ খুঁজছে কিভাবে তার সাথে কথা বলা যায়,,
অবশেষে একটি উপায় পেল,, রেবেকা বেগম চা খেতে পছন্দ করেন,, ঠান্ডা ও পড়ছে, তাই রেবেকা রান্না ঘরের কাজ করে যেতে নিলেন অর্থি মিনমিনে স্বরে বলল;
—” চা খাবে আম্মু!
কথাটা শুনে রেবেকা বেগম দাঁড়ালেন,, তিনি পেছন ফিরে চাইলেন না,, তবে মুখ টিপে হাসলেন,, অর্থির আব্বু ঠিকই বলেছিলেন, রেবেকা যদি কিছু সময়ের জন্য নিরব হয়ে থাকেন, তবে অর্থি নিজেই অভিমান ভেঙে রেবেকা বেগমের সাথে কথা বলবেন,, আর জাবের যা বলেছেন ঠিকই তাই হলো। বাপের নেউটা মেয়েটা মায়ের এমন চুপচাপ ভাব সহ্য করতে না পেরে ঠিকই তার সাথে কথা বলার জন্য উতলা হয়ে গেছে,, তিনি তো চেনেন নিজের মেয়েকে, তাই বললেন;
—”বানা,, চিনি কম দিস, আর ফারিশের জন্য ও একটু বানা।
মায়ের কথা শুনে অর্থি যেন একটু স্বত্বি পেল,, আর দ্রুত চা করে নিয়ে গেল মায়ের রুমে,, তিনি তখন সাজেদা বেগমের সাথে কথা বলছিলেন,, তাই অর্থি তাকে চা দিয়ে ফারিশ কে ও চা দিল,, সে মহাশয় আবার প্রেমিকার সাথে ফোনালাপে ব্যস্ত। তাই অর্থি সামনের রুম থেকে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াতে নেয়। কিন্ত মায়ের রুম থেকে চাপা কান্নার স্বর শুনে রুমের সামনেই দাঁড়িয়ে যায়।
সাজেদা বেগম রেবেকা বেগম কে শান্তনা দিচ্ছেন,,
—” দেখ সব ঠিক হয়ে যাবে,, আর মেয়েটাকে তুই ও একটু বোঝার চেষ্টার কর,,, তার এমন সময়ে তুই যদি কথা শোনাস তাহলে তো ওর মনটা ভেঙে যাবে,,
–”কি করবো আপা,, মাঝে মাঝে মাথা গরম হয়ে গেলে দু চার কথা শুনিয়ে দিই, কিন্ত এতে আমার কতোটা কষ্ট হয় জানিস,,,
মেয়ে তো মনে করে মা তাকে ভালোবাসে না,, অথচ ছেলে মেয়ে দুটোই তো আমার দুনিয়া। ওদের কিছু হলে আমি কিভাবে বাঁচবো,,,
সাজেদা বেগম মৃদু হাসলেন; আর বললেন;
—” রেবেকা তুই মাঝে মাঝে বলিস না অর্থি পুরো জাবের এর মত হয়েছে,, কিন্ত আমার মনে হয় অর্থি পুরো তোর মতো হয়েছে,, মেয়েটার স্বভাব পুরো তোর মতোই। আর মেয়েরা হয় ই এমন,, এমন আদর সোহাগে পর সামান্য ধমক টুকু ও সহ্য করতে পারে না,, তাই ওর সাথে একটু সময় কাটাস, শান্ত ভাবে থাক দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।
—” হুম,,,
—”আর শোন বেশি ধমকাধমকি করিস না, একটু ফ্রি লি কথা বলিস,,
মা আর খালা বোধ হয় আর অনেকক্ষণ কথা বললো, কিন্ত অর্থি এর আগেই সরে এলো সেখান থেকে,, আসার সময় ইচ্ছে হলো ছোট বেলার পর মা ধমক দিলেন যেভাবে বাচ্চাদের মতো প্যাচপ্যাচ করে কান্না করতে সেভাবে কান্না করুক। তাতে অন্তত মনটা শান্ত হতো,, অথচ রুমে আসতে আসতে ই তার চোখের নিচে যে সূক্ষ্ম পানি ধারা বইছে তার আর খেয়াল হলো না।
( বর্ধিতাংশ যদি ভালো না লাগে তবে ডিলিট করে দেব,, তবে জানেন এখানের একটা কথাটা ও বানানো না,, আমি নিজেই আমার মায়ের সাথে এমনটা করি,, নেকামো ভাবতে পারেন অনেকে,, তাই ভুল হলে বা ভালো না লাগলে মার্জনা করবেন)
________________
এখন গল্পে আসি,, এখন থেকে অর্থি ছাড়া অন্য চরিত্র গুলো দেখাবো,, তাই জানাবেন কেমন হচ্ছে,, কারন একটু ভয়েই আছি পর্ব টি ভালো লাগবে কিনা!!
আর আপনাদের রেসপন্স দিনদিন কমে যাচ্ছে,, তাই লেখার আগ্রহ হারাচ্ছি,, তাই পরবর্তী পর্ব পেতে কমেন্ট করুন,,,
আর সাম্য একজন চাটগাঁইয়া হয়ে একটি বড় ভুল করে ফেললো,, কি ভুল কেউ বলতে পারবেন??

