কথা_দিলো_রোদ্দুর (১৫) #তুসিকা

0
2

#কথা_দিলো_রোদ্দুর (১৫)
#তুসিকা
ফারিশ সেদিন বিকেলে ই বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিল,, তবে যাওয়ার আগে অর্থি র সাথে আরশিয়া র বেশ ভালো একটা পরিচয় বানিয়ে দিয়ে গেল,, মেয়েটা ও ভীষণ মিশুক। অর্থির নতুন কারো সাথে কথা বলতে একটু সংকোচ বোধ হয়,, তবে সেদিনের পর থেকে আরশিয়া নিজেই তার খবর নেয়,, মেসেজের হোক বা কলে, ভালো আছে কিনা জিজ্ঞেস করে,, আর ধীরে ধীরে অর্থির সাথে ও ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়,, অর্থি তো ফারিশ কে মাঝে মাঝেই বলে মেয়েটা খুব ভালো,, যদি ফারিশ আর আরশিয়ার বিয়ের ব্যাপার টা পূর্ণতার দিকে এগোয় তবে অর্থি নিজেই খালামনি আর খালু কে বলবে তাদের কথা।
আর অর্থির এমন কথা শুনে ফারিশ একটু লজ্জা লজ্জা পায়,, আর বোকা হেসে বলে;

—” তোর মতো একজন বোন থাকতে আর কি লাগে বলতো অর্থি,, তোর থেকে এমন পজেটিভ উওর পাই বলে তোকে বাকিদের থেকে এত ভালো লাগে,, উম মিষ্টি বোন আমার! দেখিস বাকি সবকটা থেকে তোকে আমার বিয়েতে দুটো লেগ পিচ বেশি দেব,,

অর্থি তখন ফারিশের কথা শুনে বলে;

—” তখন কি আমাকে আর মনে রাখবি,,, বিয়ে করলে তো সব ভুলেও যাবি।

ফারিশ হেসে আবারও উওর করে; হ্যাঁ তুই বেশি জানিস,, মনোবিজ্ঞানী তো তুই!!

ফারিশের এমন কথা শুনে অর্থি মুখ বাঁকায়, বলতে হবে এমন ভাবে মন খুলে কারো সাথে কথা বলতে পারায় অর্থির ও ভীষণ ভালো লাগে,, কাজিনদের ভেতর ফারিশ ই একজন যার সাথে অর্থির ভাব অনেক বেশি,, আর আগে ফুফাতো বোন যুথি ছিল,, তবে কিছুদিনের মধ্যে ফাহার সাথে ও বেশ একটা সক্ষতা তৈরি হয়েছে,, তাকে মামা নতুন ফোন দিয়েছে কিনা সেটা দিয়ে তো প্রায়শই কথা বলে,, বলতে গেলে অর্থির জীবনে একটু একটু সুখ বিরাজমান।

আর মানুষ বলে না পারিপার্শ্বিক অবস্থা যখন ভালো থাকে, চারপাশে জিনিস গুলো সুন্দর ভাবে এগোয়, তখন নিজের জীবনে বাধাবিপত্তি আসলে ও দুঃখ ততটা গায়ে লাগে না,, ঠিক অর্থির জীবনে ও তাই হয়েছে,, ওর জীবনে সব কিছু ভীষণ ভালো ভাবে কাটছে। আর এভাবে কেটে গেল কয়েকমাস।

আগে তো শুধু জাবের সাহেবের দুলালী ছিল, কথায় কথায়, মন খারাপে শুধু যেন বাবাই একমাত্র অবলম্বন, তবে ইদানীং রেবেকা বেগমের সাথে ও তার মা মেয়ের বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে,, এখন নিজের খুঁটি নাটি সমস্যা গুলো মাকে বলতে কোনো দ্বিধা করে না, বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে নানা কথা ই রেবেকা বেগম কে বলতে পারে।

রেবেকা বেগম ও মেয়ের সমস্যা গুলো শোনেন, বোঝেন অর্থি কে, বেশ প্রায়োরিটি দেন মেয়েকে,, কারণ অর্থি pcod র জন্য ডক্টর তাকে যে ঔষধ দিয়েছেন সব হর’মোনাল আর এন্টিবাইটিক, এগুলো শরীরে সাথে মন মস্তিষ্কে ও ভীষণ প্রভাব ফেলে তাই রেবেকা বেগম চেষ্টা করেন যথাসম্ভব অর্থি যেন দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকে, তাই মাঝেমাঝে রাগ হলে তো নিজেকে সংযত করে নেন,, যেন অর্থির জীবনটা যেন সে নিজেই গুছিয়ে নিতে পারে।

আর এতসব কিছুর ভালোর মধ্যেই অর্থি নিজের ভালোটা খুঁজে নিয়েছে,,

বলে না মন থেকে চেষ্টা করলে তা কখনো বিফল হয়, তাই হয়েছে, অর্থি স্বাস্থ্যের অনেক উন্নতি হয়েছে, যে ওজন গত সমস্যা ছিল তা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে মেয়েটা।

এর মাঝে একবার গিয়েছিল ডক্টরের কাছে চেকআপ করাতে, তখন আবারও সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডক্টর বলেছে;

—” দেখো ওভা’রি যে সি’স্ট ছিল ওটা ছোট হয়ে আসছে, তোমার যদি নিয়মিত মা’সিক হয় দেখবে এটা নিয়ে আর কোনো সমস্যাই হবে,, তবে দেখো আমি কিন্ত তোমাকে ও’জন কমানোর কোনো ঔষধ ই দিই নি,, তা ও এটা যে তুমি এভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছো দেখে খুব ভালো লাগছে।

ডক্টর নন্দা চৌধুরী এমন আরো কথা বলেছেন,,
আর বলেছেন এমন নিয়ন্ত্রণ করে চললে অর্থি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে। আর এই একমাস মতো ঔষধ চলবে, আগের ঔষধ পাল্টে দিয়েছেন সব, এই একমাসে যদি আগের মতো চেষ্টা করেন তবে আবারও সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডক্টর ঔষধ বন্ধ করে দেবেন।

সেদিন অর্থি র মনে কি যে খুশি লাগছিল, মনে হচ্ছিল বড় কোনও পরীক্ষা য় সে পাশ করেছে। হ্যাঁ পরীক্ষায় ই তো,, তার জীবনের পরীক্ষা। যার ফলাফল অর্থি স্বচক্ষে দেখতে পারে। আগের জামা গুলো বেশ ডিলেঢালা হয়, আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের মধ্যেই যে হতাশা কাজ করতো তা আর হয় না,, আল্লাহ রহমতে অসুস্থতার বিষয়টা ও কমে আসছে,,, এর জন্য বারবার শুকরিয়া আদায় করে। আর মন থেকে পরিবার কে ধন্যবাদ জানায়,, তাদের জন্য তার জীবনের আসা ঝড় ঝাপটা বোধ হয় পার করতে পেরেছে।

তারাই তো অর্থিকে সাহস দিয়েছে, তাই বাইরে মানুষ কটাক্ষ করে যখন কথা বলে খারাপ লাগলে ও গায়ে লাগে।

এইতো সেদিন রত্না চাচি এসেছেন,, সাথে তার বোন কে ও নিয়ে এসেছিলেন তাদের বাসায়। অর্থির সব পাল্টে গেলে ও ঘরকুনো স্বভাব টা বোধ হয় তখনও পাল্টাতে পারে নি,, তাই তো তাদের আগমনে সে নিজের রুমেই ছিল,, কিন্ত রেবেকা বেগমের ডাক পড়াতে সামনে যায়,, আর তাদের সামনে পড়ে। কোনো কালে রত্না বেগমের মুখে কোনো কিছুই আটকায় না, তাই অর্থিকে দেখে অবাক হয়ে তিনি সরাসরি ই বলেন;

–” ভাবী আপনার মেয়ের এত পরিবর্তন হয়েছে,, কি খেয়ে এতটা ও’জন কমিয়েছে!! কোনো অসুখ টুসুখ ছিল নাকি!! নাকি ও’জন কমানোর ঔষধ খেয়েছে। আজকাল তো বাজারে এমন কতো ঔষধ ই বের হয়েছে,,

রেবেকা তখন তাদের সাথে বসেছিলেন, রত্না বেগমের এমন কথায় তিনি বললেন;
–’ না ভাবী, সবটা মেয়ে নিজের চেষ্টার ফল।

অর্থি তখন রান্না ঘরে ছিল। তাদের জন্যই চা বানাতে বানাতে সব কথাই তার কানে আসে,,
আগে ওনার মতো মানুষরাই বলতো ও’জন কমানোর জন্য গ্রিন টি খেতে, রাতে ভাত না খেতে, একবেলা ভাত খেতে, এটা করতে, ওটা করতে, ব্যায়াম করতে, জিমে যেতে,, আরো কত কিছুই বলতো,, আর এখন বলছে কি খেয়ে ও’জন কমিয়ে ছে।

এসব শুনে অর্থির ইচ্ছে হচ্ছিল রত্না বেগমের চায়ে চিনি না মিশিয়ে যদি লবণ আর মরিচের গুড়া মিশিয়ে দিতে পারতো,, তাহলে মনে একটু শান্তি লাগতো। কলিজা ঠান্ডা হতো।
তবে অর্থি তা হয়ত পারবে না, তাই ভালো করে চা বানিয়ে দিল,, খারাপ বানালে আবার বদনাম করবে।

___________

অর্থির দিন এমনই ভাবে কাটতে থাকে,, সাদামাটা জীবন নিয়েই অর্থি ভীষণ হ্যাপি ফিল করে,, সবকিছুর সাথে সাথে সে নিজের পড়াশোনার প্রতি ও বিশেষ নজর দিচ্ছে,, তবে মাঝে মাঝে পরীক্ষা নামক বস্তুটি একটু টেনশনে ফেলে দেয় এই আরকি। যেমন এখন তাদের ইন্টার ফাস্ট ইয়ারের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে,, ছয়টি পরীক্ষা শেষ,, আর বাকি একটি পরীক্ষা। পরীক্ষা ভালো হয়েছে, আর বাকি মাত্র একটি পরীক্ষা,, এটি দিলে কিছুদিনের জন্য আরাম!!

((তবে কলেজে আসলে আগের মতো ভালো লাগে না,, তার বেস্ট ফ্রেন্ড ফেরদৌসের বিয়ে হয়ে গেছে ফাস্ট ইয়ারের মাঝামাঝি সময়ে,, প্রথমে ফেরদৌস নানা আকুতি মিনতি করে বিয়ে করবে না বলে কিন্ত পরিবারের কথায় শেষমেশ বিয়ে করতে হয়,, কিন্ত অনেক ভালো কেয়ারিং একটা বর পেয়েছে,, দেখে ই বোঝা যায় খুব ভালোবাসে তাকে,, ক্লাস করেনা, কিন্ত পরীক্ষা শুরুর আগে কলেজে দিয়ে যায় আবার শেষ হলে নিতে ও আসে,, আর এই সবের মাঝে তাদের মধ্যে তাদের কথা বলার সময় টা কমে যায়,, তবে যখন সুযোগ পায় মেসেজে বা কলে তারা কথা বলে।

কিন্ত এতসব ভালোর মাঝে অর্থির অজানা ফেরদৌস অনলাইনে ছবি দেখে যাকে পছন্দ করেছে সে ব্যাক্তিটি আর কেউ নয় মুসাব নিজেই। কিন্ত ফেরদৌস পরিবারে দিকে তাকিয়ে হয়ত নিজের পছন্দ টা চাপা রেখেছে তাই এই বিষয়টা কেউ জানে না। ))

—–
শেষ পরীক্ষা ছিল বাংলা, আর পরীক্ষা ভালোই হয়েছে তাই হাসি খুশি মনে হল থেকে বেরিয়ে আসে,, পরীক্ষা শেষ হলে ফেরদৌস তাকে বিদায় জানিয়ে চলে যায়, আর অর্থি ও বাসায় চলে আসে খুশি মনে।

পুনরায় কলেজ চালু না হওয়া পর্যন্ত একটু স্বত্বি পাবে,, একটু আরামে থাকবে,, বাসায় গিয়ে মোবাইলে মজাদার সিরিজ আপলোড হয়েছে সেগুলো দেখবে,, ইশ কি যে শান্তি। তাই তো ফুরফুরে মনে নিয়ে বাসায় গেল,, কিন্ত বাসায় পৌছে এমন একটা খুশির খবর শুনলো যাতে সে খুশি হবার বদলে তার কান্না আসলো,,

দুদিন বাদে মাহার বিয়ে, আর ফারুক মামা নাকি আজ বাসায় এসে নিজে দাওয়াত দিয়ে গেছে যাওয়ার জন্য,, আর বলেছে তারা যেন কালকেই বাড়িতে চলে যায়।

এই খবর শুনে অর্থির মুখটা একটু বেজার হলে ও রেবেকা বেগম আর অর্থ ভীষণ খুশি হয়েছে, যা তাদের চেহারা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে,, অর্থ তো ইতি মধ্যেই নিজের জামা প্যান্ট সব কিছু গুছিয়ে নিচ্ছে, তার কি আনন্দের কমতি আছে নাকি। গোটা একটি বিয়ে বাড়ি কাটাতে পারবে।
ওমা এদিকে রেবেকা বেগম ও প্রস্তুতি নিচ্ছে, দেখেই বোঝা যাচ্ছে সত্যি সত্যিই তারা কাল নানুর বাড়ি জন্য রওনা হবে।
তিনি হাতের কাজ গুলো গোছানোর ফাঁকে অর্থিকে বলে গেছেন সে যেন ফ্রেশ হয়ে আসে তার হাতে হাতে একটু সাহায্য করে দেয়।

কিন্ত অর্থি কলেজ থেকে ফিরে যেভাবে আধশোয়া হয়ে আছে, পনেরো মিনিট যাবত সেভাবেই আছে। আর আগের বার তিশা আপুর বিয়েতে যা যা হয়েছে তাই তাই ভাবছে,, নিপা কি ব্যবহার করেছে,, আর এখন তো নিপার নিজ বোন মাহার বিয়ে,, তার তো অহমিকার পরদ টা আরো বাড়বে। দূর যাবেই না সে।
এসব চিন্তা করতে করতে শুয়েই ছিল,,
তবে রেবেকা বেগমের জন্য বেশি ক্ষণ শুয়ে থাকতে পারে নি,, উঠে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিল,, টুকটাক কাজ করে, দুপুরের খাবার খেয়ে নিল,, রুমে এসে শুলো কিন্ত ঘুম চোখে ধরা দিল না,,তাই মোবাইল দেখতে দেখতে পুরো বিকেল টা কাটিয়ে দিল।

কিন্ত যা কান্ড হবার তা শুরু হলো সন্ধ্যায়,, জাবের সাহেব টিভির সামনে বসে খবর শুনছেন,, আর রেবেকা বেগম রান্না ঘর থেকেই মাত্র ই চা এনে তার সামনে রাখলেন,, আর জাবের সাহেব কে বলছিলেন মাহার বিয়ের কথা,, আর তারা কালকে যাবে সে কথা বললো,, কিন্ত পাশে বসে থাকা অর্থি তখ মিনমিনে স্বরে বলল;

—”আম্মু,, আমার ভালো লাগছে না,, আমি বিয়েতে যাবো না,,

অর্থির কথা শুনে রেবেকা বেগম ভ্রু উঁচু করলেন,, আর বললেন;

—” এই তো কয়দিন আগে বলছিলি, আম্মু পরীক্ষা শেষ হলে কোথাও ঘুরতে যাবো,, বেড়াতে যাবে,, তো এখন তো নানুর বাড়িতে যাবি, তাহলে এখন বলছিস ভালো লাগছে না,, এটা আবার কোন কথা।

অর্থি মনে মনে ভাবলো কেন সে যেতে মানা করছে একমাত্র সে ই জানে। তাই রেবেকা বেগম কে বলল;

—” এই আম্মু,, বুঝ না কেন, মাত্র পরীক্ষা শেষ হলো,, এখন কোথাও যাবো না,, বাসায় থাকবো, আর বাবা তো বাসায় থাকবে। আমরা বাপ মেয়ে মিলে খুব সুন্দর থাকতে পারবো,, তুমি আর অর্থ যাও,, বিয়েতে আনন্দ করে এসো।

অর্থির এমন কথা শুনে রেবেকা বেগম একটু রাগ মিশ্রিত কন্ঠে বললেন;
—” ঠিক এই কারনেই বাপ মেয়ে দুটো কে অসামাজিক বলি আমি,, ফারুক ভাইয়া কত করে বলে গেলেন, সবাই যেন যাই,, নিজে এসে দাওয়াত দিয়ে গেলেন, এখন না গেলে কি ভাববে বলতো,, এই.. মেয়েকে তুমি কিছু বলবে,,

—”আমি কি বলবো,, তোমাদের মা মেয়ের ব্যাপার!

–”তুমি কি বলবে মানে,, মেয়ে তোমার কথা ছাড়া আর কারও কথা শোনে নাকি,, আর আমার ও তো ইচ্ছে করে কটা দিন বাপের বাড়ি গিয়ে থেকে আসি,, এখন ও সহ গেলে আমি একটু নিশ্চিন্ত থাকবো, না হলে ওকে একা রেখে আমি কিভাবে যাবো,, আমার কথা কেউ একটু চিন্তা করো তোমরা,,,

—” আম্মু কিছু হবে না,, তুমি নানুর বাড়ি গিয়ে থেকে আসো কিছুদিন,, আমি কি ছোট আছি বলো,, মাহা আপুর বিয়ে, তুমি আর অর্থ যাও,,

—”তুমি জানিস তো কিছু হবে কি হবে না,, কিন্ত তোকে একা ছেড়ে গেলে আমার মনে কি চিন্তা হবে তা কি তোরা একজন ও জানিস,,

জাবের সাহেব হাসলেন,, আর রেবেকা বেগম কে বললেন তিনি অর্থির সাথে কথা বলছে,, তাদের চক্করে তার চা টা ঠান্ডা হয়ে গেছে তিনি যেন একটু গরম করে আনেন,, রেবেকা বেগম চলে গেলেন রান্না ঘরে,, আর এই সময়ে জাবের সাহেব অর্থিকে বললেন;

—” কি হয়েছে আম্মা,, যেতে মানা করছো কেন!

অর্থি র সুর একটু ও পাল্টে নি,, সে আগের মতোই বলে;
—” এমনই বাবা,, ভালো লাগছে না,, আর সব বিয়েতে যেতে হবে এমন কি কথা আছে।

—” কি হয়েছে বাবা কে বলো,, আগের বার না হয় কলেজের অজুহাত দিয়ে তিশার বিয়ে থেকে চলে আসলে,, কিন্ত এবার কি হয়েছে,,, তোমার মা কিন্ত এবার ভীষণ রেগে যাবে!!

একটু দোনামোনা করে অর্থি বলল আগের বার তার সাথে কি হয়েছে, আর নিপা তাকে কি কি বলেছে,, তাই মাহার বিয়েতে সে যাবে না,,

জাবের সাহেব অর্থির মাথায় হাত বোলালেন, আর বললেন;
—” দেখো মানুষের কথায় ভয় পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেয় ভীতুরা,, তাদের কথা তো আমরা কখনো থামাতে পারবো না তবে তাদের কথা গায়ে না মেখে তাদের এড়িয়ে চললে দেখবে এক সময় তারা এক সময় হাপিয়ে যাবে আর তোমাকে নিয়ে সমালোচনা করা ও ছেড়ে দেবে,, বুঝেছো বাবার কথা।

অর্থি মাথা নাড়লো, আর বলল — হুম,,

—” আচ্ছা তবে যাও, পরীক্ষা যখন শেষ হয়েছে তখন ঘুরে এসো,, এমনিতেই অনেক দিন কোথাও যাও নি,, ঘুরে আসলে মনটা ফ্রেশ হবে,, আর বিয়েতে থাকলে আনন্দ ও করতে পারবে।

অর্থি এবার আর কিছু বলল না, মাথা নাড়ল। এমনিতেই ফাহা ও তাকে অনেক করে জোর করছে,, অর্থি তিশার বিয়েতে থাকে নি, এটাতে যেন থাকে,, আর ফাহা তো এটা ও বলেছে এবার বাকি সব বাদ সে আর ফাহা ম্যাচিং শাড়ি পড়বে, তারা খুব আনন্দ করবে, সে যেন ফুফুর সাথে কালকেই চলে আসে।

তাই আরকি রাতের বেলা সব গুছিয়ে নিয়ে পরদিন তারা বের হলো নানুর বাড়ির উদ্দেশ্য। জাবের সাহেব ই তাদের বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌছে দিলেন,, তিনি সময় করে যাবেন বিয়ে দিন,, তাই অর্থিদের গাড়ি তে বসিয়ে গাড়ি না ছাড়া পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করলেন,,, আর যখন বাস ছাড়লো গন্তব্যে তখন তিনি ও কাজের জায়গায় ফিরে গেলেন।

এদিকে বাস চলছে হেলতে দুলতে,, জানলার পাশে একের পর এক দৃশ্য ছাপিয়ে যাচ্ছে,, সবুজ প্রান্তর, দূরের ঘরবাড়ি গুলো যেন দেখতে কি ভালো লাগছে,, অর্থি বসেছে জানালার পাশে, সে গাড়িতে উঠলে ঘুমায় না, এই বাইরে দৃশ্য দেখতে দেখতেই পুরো পথ পাড়ি দেয়,, তাই তো চার ঘন্টার পথ কিভাবে যেন শেষ হলো টেরই পেল না।

কিন্ত একটু দূর্বল লাগছে,, গাড়ি যা ঝাকুনি দিয়েছে, মনে হচ্ছে কোমরের হাড্ডি সব আলাদা হয়ে যাবে,, তাই সিএনজি একে বারে নামলো নানুর বাড়ির রাস্তার সামনে।

__________

ফারুক সাহেব রা পুরোনো বাড়ি ছেড়ে নতুন ভিটায় ঘর করেছেন,, বেশ বড় বাড়ি করেছেন নিজে, সেখানেই বিয়ের সব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে,, তাই রেবেকা বেগম রা প্রথমে নিজের ভাইয়ের ঘরে গিয়ে জিনিস পত্র রাখলো,, কিছুক্ষণ বসলো,, পরে তার মা রেবেকা বেগম গেলেন ফারুক সাহেব দের ঘরে,, অর্থিকে যেতে বললেন কিন্ত অর্থি গেল না,, সে ঘরেই রইল। ঘরে ফাহার মা শারমিন মামি ছিলেন, অর্থি তার সাথেই কথা বলছিল, কিন্ত কিছুক্ষণ বাদে হন্তদন্ত হয়ে ফাহা ঘরে আসলো,,
এসেই অর্থিকে জড়িয়ে ধরলো,,

—” আমি তো ভেবেছিলাম তুমি আরো আসবা না,,

—’কেন খুশি হওনি,,

—” কি বলছো আপু,, কি যে ভালো লাগছে জানো,, বড় ফুফু, মাহিয়া ভাবী, ফারিশ ভাইয়ারা ও সন্ধ্যার পর আসবে বলেছে, তখন তো আরো মজা হবে,, আচ্ছা এখন মাহা আপুদের বাসায় চলো,

ফাহা অর্থিকে যেতে বলে কিন্ত হলুদ হচ্ছে কাল, আর অর্থি দের ওখানে গিয়ে এখন কোনো কাজ নেই তাই ফাহা আর সে বাইরে উঠানে বসে ছোট দের খেলা দেখছে।

মাহা আপুদের বাড়িতে প্রোগ্রামের জন্য সাজানো হচ্ছে তাই বাড়ির বাকি বাচ্চা রা সবাই এখানেই আছে,, ফারিন আর জুন ও আসলো,,
সবাই কিতকিত, গোল্লাছুট, বরফ পানি, কানামাছি খেলায় মেতে আছে,, যান্ত্রিক বস্তু ছেড়ে এসব ও যে তারা খেলছে এটা দেখেই যেন ভালো লাগছে,

অর্থিরা যখন ছোট বেলায় ডিসেম্বরের ছুটি নানুর বাড়ি আসতো সবাই মিলে খেলতে খেলা গুলো,, ভীষণ মজা ও করতো,, কিন্ত বড় হবার সাথে সাথে তা আস্তে আস্তে কমে এলো,, তাই এখন বড়রা কেউ নেই দেখে অর্থির ইচ্ছে হলো বাচ্চা গুলোর সাথে খেলতে। তাই সবাই কে নিয়ে কানামাছি খেলায় যোগ দিল,,

প্রথম দুই দানে চোর হলো ফাহা, কিন্ত তৃতীয়বার চোর হলো অর্থি। তাই তাকে চোখ বেঁধে দিল,, আর সবাই বলে উঠলো— কানামাছি ভৌ ভৌ যাকে পাবি তাকে ছোঁয়।

কিন্ত অর্থি চেষ্টা করলো, তবে বিচ্চু গুলো কে একটা কে ও হাতের নাগাল পেল না,, বারবার তাকে ছুঁয়ে পালিয়ে যাচ্ছে,, আর সে হাত বাড়িয়ে সবাই কে ধরার চেষ্টা করলো,, কিন্ত চেষ্টা ব্যর্থ। তবে কিছুক্ষণ পর হাত বাড়িয়ে ধরতে পেল একজন কে,, তার হাতটি নিজের হাত দিয়ে আষ্টেপৃষ্টে ধরল,, নাম বললো, ফাহা তুমি,, সবাই বলল না,, এরপর বলল ফারিন তুমি,, কিন্ত এবার সবাই কিছু বলার বিপরীতে হো হো করে হেসে উঠল।

চলবে।

আয়হায় কতো বড় পর্ব দিয়েছি,, কিন্ত কি লাভ সবাই পড়ে পড়ে চুপিচুপি চলে যান,, প্লিজ সবাই বেশি করে লাইক কমেন্ট করেন যাবেন এতে তাড়াতাড়ি করে পরের পর্ব দিয়ে দিব,, আর ৪০০+ রিয়েক্ট করুন তাহলে তো কথাই নাই,,,

এখন আসি গল্পে,, খাপ ছাড়া মনে হলে ও কিছু করার নেই,, অর্থি কে নিয়ে ওর জীবনী টা সংক্ষেপিত করে লিখেছে, এখন থেকে মূল প্লটে লিখবো,, তাই জানবেন কেমন হচ্ছে,,
আর এই ব্যাক্তিটা কে হবে বলুন তো,, যার নাম বেশি হবে তারেই দিব। 🤭

আর একটু গঠন মূলক মন্তব্য করবেন প্লিজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here