কথা_দিলো_রোদ্দুর (২) #তুসিকা

0
3

#কথা_দিলো_রোদ্দুর (২)
#তুসিকা
(কপি করা নিষিদ্ধ)
অর্থি ব্যাথাতুর অবস্থা ব্যতিরেকে ও ধাক্কা খাওয়া ব্যাক্তিটির দিকে তাকালো,, সাথে সাথে নজরে পড়লো বড় মামার ছেলে মেহেদী ভাই কে। হলুদের প্রোগ্রামের জন্য পাঞ্জাবী প্যান্ট পড়ে একদম তৈরি হয়ে আছে, কিন্ত হঠাৎ এমন ধাক্কায় বিরক্তিতে তার চোখ মুখ কুঁচকে এলো তার, কপালে সরু তিনটি ভাঁজই স্পষ্ট হলো। আর বসা থেকে উঠে দূরে ছিটকে যাওয়া ফোন খানা তুলে অর্থির দিকে তাকালো। সাথে সাথে ধমক ও দিল, আর কর্কশ গলায় বলে উঠলো;

—” কি রে চোখ কই থাকে তোর! দেখে হাটতে পারিস না, দেখ দিলি তো আমার ফোনের স্ক্রিন টা ভেঙে,,, ইশ।

এই বলে মেহেদী তার ফোনের কি কি ক্ষতি হয়েছে তা দেখতে লাগলো, অথচ রেলিং এর সাথে ধাক্কা খেয়ে যে অর্থির হাতে ব্যাথা পেয়েছে তা একটিবার পরখ করে দেখলো না। নিজে যে হন্তদন্ত হয়ে ছুঁটে আসলো সেটা তো একবারই বলল না। উল্টো এখন তার দোষ ধরছে,, একটু হলেও রাগ হলো অর্থির। প্রতিবারই কোনো না কোনো কারনে তার সাথেই যে কেন এমনটা হয় অর্থি বুঝতে পারে না। আর মুখ ফুটে যে তার উপর কটাক্ষের উওর করবে সেটা ও পারে না।

তবে অর্থি জানে মেহেদী এখন কি বলবে,,
–” খেয়ে দিনদিন হা’তির মতো হচ্ছিস, আর কিছু পারিস না পারিস কাজ নষ্ট করতে ঠিকই পারিস, দেখ তো ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিস, ফোনটা ও পড়ে গেছে, কি করবো এখন,

আর হলো ও তাই, মেহেদী কথা গুলো বললো সাথে তার বাড়তি ওজন নিয়ে কথা বলতে একচুল ও ছাড়লো না। নাকের পাটা ফুলে উঠলো অর্থির, আর মেহেদীর দিকে সরু দৃষ্টিতে তাকালো।

কাজিনদের থেকে সে একটু দূরত্ব বজায় রেখে চলে, তবে কালক্রমে ফাহার সাথে তার কথা হয়, তখন আরকি টুকটাক সবার কথা জানতে পারে,, তাই মেহেদীর যে এখন তিন নম্বর প্রেম ভাঙ্গার পথে সেটা ও সে ফাহার কাছ থেকে জেনেছে।

কই অর্থি তো এসব বিষয়ে কোনোদিন ঠাট্টা, তামাশা করেনি, আর না পিঠ পেছনে তাদের নামে সমালোচনা করেছে। তাহলে কিভাবে তারা অর্থির সামনেই তার ব্যাপারে কটু কথা বলতে পারে।

এসব আকাশ কুসুম ভাবনার মাঝেই সামনে থেকে কারো রাশভারী কন্ঠ স্বর শোনা গেল,,

—” কি হয়েছে মেহেদী তুই পাঞ্জাবী গুলো না এনে এখানে দাড়িয়ে আছিস কেন,,, সবাই নিচে তোর জন্য অপেক্ষা করছে।

ব্যাক্তিটি সামনে থেকে আসতেই চোখ গেল অর্থির উপর, শান্ত, নিরব ওই দৃষ্টিতে অর্থির একটু অস্বস্তি হলো,,
তাই সে নিজে থেকেই মাথা নুইয়ে নিল।

অর্থি শুনেছিলো কাজিনদের ফ্রেন্ডরা ও আসবে কয়েকজন। আর লোকটা বোধ হয় মেহেদী ভাইয়ের ফ্রেন্ড ই হবে। নাম জানা নেই তবে এই চেহারার লোককে সে লাবিব ভাইয়ের বিয়েতে একবার দেখেছিল, তাও অল্প কিছুক্ষণের জন্য,
তাই সতর্কিত হয়ে আঁচল ঠিক করলো; আর মেহেদী কে পুনরায় সরি বলে সেখান থেকে চলে গেল।

অর্থি পাশ কাটিয়েছে যেতেই ব্যাক্তিটি এগিয়ে এলো মেহেদীর কাছে,, ছেলেটার নাম মুসাব, তিশার বিয়ে উপলক্ষে তারা কয়েকজন এসেছে এখানে,, হলুদের প্রোগ্রাম যেহেতু এটেন্ট করবে তাই মেহেদী তাদের জন্য পাঞ্জাবী নিতেই উপরে এসেছিল, তবে তাড়াহুড়োয় ধাক্কা খায় অর্থির সাথে। আর দেরী হওয়ায় মুসাব আসে মেহেদীর খোঁজে!

—” কি হয়েছে,
মুসাবের কথায় মেহেদী বিরক্ত মাখা কন্ঠ নিয়ে বলল;
—” আর বলিস না, ভুতুম টার সাথে ধাক্কা খেয়ে আমার ফোনের বারোটা বেজেছে। এখন নতুন স্ক্রিন লাগানো লাগবে!

—” ভুতুম!

—”মাত্র গেল যে,, ওকে মজা করে ডাকি। আচ্ছা বাদ দে ওর কথা, চল পাঞ্জাবী গুলো দিই তোদের।

মেহেদীর কথায় মুসাব হাটা ধরলো তার পাশে,, তবে কাঁধ ঘুরিয়ে দেখলো পেছনে,, না অর্থিকে দেখা গেল না, সে আগে চলে গেল সেখান থেকে।

_____________

হলুদের ডেকোরেশন টা ভালোই করেছে তিশা আপু রা। সব ইউনিক, তিশা আপুই নাকি সব বলে দিয়েছে কি কি করতে হবে, কোথায় কোন স্টেজ করতে হবে। আর খালু ও সেভাবেই সব করেছে। ছাঁদে আসতে আসতে অর্থি সেগুলোই দেখছিল। বিয়ে বাড়ি যেমন হয় আরকি,, ফেইরি লাইটের ছড়াছড়ি, বিভিন্ন আর্টিফিশিয়াল ফুল দিয়ে সাজানো থাকে পুরো ইন্টারিয়াল, তেমনই সাজানো হয়েছে। তবে মেইন স্টেজ টা তিশা আপুর বলাতে গোলাপ, গাঁদা, আর চন্দ্রমল্লিকা দিয়ে সাজানো হয়েছে।

আর তিশা আপুর সেখানে ফটোসেশন চলছে, ফটোগ্রাফার বিভিন্ন পোজ এ তিশার আপুর ছবি তুলছে। হলুদ লেহেঙ্গা আর মেচিং গহনায় অনেক সুন্দর লাগছে তাকে,, আত্নীয় স্বজন ও রয়েছে অনেক।

তবে সেখানে তার চোখ যায় মাহা, নিপা, ফাহা, ফারিন এদের উপর। তারা এখন এন্ট্রি ডান্সের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সাথে তিশা আপুর ফ্রেন্ড আর কাজিনরা ও আছে। সবাই একই রকম জামা পড়েছে, সাথে হাতে গাজরা লাগিয়েছে। অর্থির নিজের কাছে কেমন জানি লাগছে।সবাই জামা পড়েছে আর সে শাড়ি পড়েছে তাকে নিশ্চয়ই বেমানান লাগবে,, আর সেখানে সবাই জুটি বেঁধে আছে, অর্থি গেলেও তাদের কাছে পাত্তা পাবে না,, এই ভেবে সে ওদের কাছে আর গেল না।

সেই মা, মামি, খালারা যেখানে আছে সেখানেই গেল। তাকে দেখে তার মেজো মামি তো প্রসংশা করলো;
—” অর্থির শাড়িটি তো সুন্দর আছে, ওকে বেশ ভালো লাগছে শাড়িটিতে।
স্বভাব গত হাতে গোনা কিছু মানুষ তার প্রসংশা করে, তাই এমন কথায় একটু লজ্জা পেল অর্থি। তবে বড় মামি জিজ্ঞেস করলেন কেন সে জামা পড়েনি,, এটা শুনে অর্থির মুখটা একটু কালো হয়ে গেলে সাজেদা বেগম বললেন;

—” শাড়িটি আমি অর্থির জন্য পছন্দ করে এনেছি,, জামা তো সব সময়ই পড়ে,, আর কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া তো সে শাড়ি পড়ে না, তাই আজ ওকে পড়িয়ে দিলাম।

এরপর অর্থির মাকে উদ্দেশ্য করে, অর্থির থুতনিতে হাত রেখে বলল—-” মাশাল্লাহ! দেখেছিস রেবেকা, আমার মেয়েটাকে অনেক সুন্দর লাগছে।

রেবেকা বেগম ও মেয়ের দিকে তাকালেন,, মেয়েকে তার সুন্দর লাগছে, তবে তার একটাই আক্ষেপ! অর্থি যদি বাকিদের মতো একটু চিকন হতো, তবে তাকে নিশ্চয়ই আরো ভালো লাগতো। তাই তিনি শুধু মাথা নাড়লেন।

“অর্থির মা বাবা দুজনেই সাদা সুন্দর, কিন্ত অর্থির ভাই “অর্থ” শ্যামলা বলা চলে,তবে অর্থি তাদের মতই হয়েছে সুশ্রী রংয়ের অধিকারী। তাই যেকোনো সময় বা বিপরীত দিক থেকে মন্তব্য শুনলে ওর গাল দুটোয় লাল আভা ছড়িয়ে পড়ে। এখন ও সাজেদা বেগমের কথায় গাল দুটো হালকা লাল হয়ে উঠেছে।

তবে সাজেদা বেগমের কথায় বড় মামি নাশিদা বেগম যে খুশি হয়নি তার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে। সাজেদা বেগম যে অর্থির নাম ধরে একটু বেশিই টানেন এটা দেখে তার মোটে ও ভালো লাগে না। তাই তিনি বললেন;

—” ওমা একজনকে দিলে হবে,, আমাদের মেয়েরা কোন দোষ করেছে আপা, এটা তো চক্ষুশূল একটা ব্যাপার। অন্যায় করা হচ্ছে না এটা। নাশিদা বেগমের এমন কথায় সাজেদা বেগম হেসে ই উওর করলো;

—” ঈদের সময় তো মাহা, নিপা ওদের পাঁচ হাজার টাকা করে দিয়েছি, অর্থি তা পায় নি, তাই ওদের পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে অর্থির এই দুই হাজার টাকার শাড়ি পেয়ে মনে হয় অন্যায় ওর সাথেই করা হয়েছে। কি নাশিদা ঠিক বললাম তো!

নাশিদা বেগম চুপ হয়ে গেলেন, তবে বাকি দু মামি খুশি হয়েছেন। তারা ও অর্থিকে মোটামুটি আদর করেন।

“এর মাঝে অর্থি কে দেখে জুন ছুটে আসলো তার কাছে, সে তো অনেক ক্ষণ ধরে তাকে খুঁজছে, তাই তাকে দেখে ফাহা কে আসতে বলে নিজেই তাড়াতাড়ি এগিয়ে আসলো।

—’ অর্তি আপু তুমি কোথায় ছিলে, আমি তোমাকে কত খুঁজেছি জানো,,, বলেই তাকালো অর্থির দিকে। দেখলো সে শাড়ি পড়ে আছে, আর সবার থেকে অর্থিকে আলাদা লাগছে তাই সে ও বায়না ধরলো সে অর্থির মতো শাড়ি পড়বে। জুনের মা রাইমা বেগম তাকে বোঝালেন কিন্ত সে কিছুতেই মানছে না, উল্টো তার মাকে আদুরে গলায় বলল;

—” অর্তি আপুর মতো পড়বো, জামায় খুচখুচ করছে আম্মু,, ভালো লাগছে না। আম্মু প্লিজ।
বলেই ছোট্ট জুন কান্না করতে লাগলো, রাইমা বেগম ও পড়লেন মহা মুশকিলে। এখন জুনের জন্য তার মাপের শাড়ি কোথায় পাবেন! আর শাড়ি না পড়ালে সে কান্না করতেই থাকবে।

ততক্ষণে ফাহা, আর নিপা আসলো তাদের কাছে,
জুনের আবার ফাহার সাথে বনিবনা ভালো, ফাহার সাথে জুনের খুব ভাব, বলতে গেলে অন্ধ ভক্ত। তাই তো জুন কান্না করছে দেখে ফাহা তাকে বুঝিয়ে বলল, আর ফাহার কথা শুনে জুন কিছুটা হলে ও শান্ত হলো। কিন্ত নিপা তাকে কথা শোনাতে ছাড়লো না।

—” কি রে তুই! ম্যাচিং জামা হয়নি তো এই কালারের জামা পড়তি! ঢং করে শাড়ি পড়েছিস,, দেখ এখন জুন তোকে দেখে শাড়ি পড়ার বায়না করছে,, যত্তসব!

—”নিপা আপু জুনের তো কান্না থেমে গেছে, তাহলে তুমি অর্থি আপুকে কেন কথা শোনাচ্ছো, আপু কি ইচ্ছে করে জুনকে কান্না করিয়েছে নাকি। আর আমাদের সাথে ম্যাচিং জামা হয়নি তাই তো আপু শাড়ি পড়েছে, এতেও তোমার সমস্যা।

ফাহার কথায় নিপা দাঁত কিড়মিড় করে উঠলো, অর্থির জন্য ফাহা এখন তাকে কথা শোনাচ্ছে,, বড় রা থাকায় নিপা আর কিছু বলল না, অর্থির দিকে ক্রু দৃষ্টিতে তাকিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।

—”আগে জানলে আমি শাড়ি পড়তাম অর্থি আপু! তোমাকে ভীষণ সুন্দর লাগছে।

—” কি রে মুটি শাড়ি পড়েছিস কেন, একদম ভালো লাগছে না।
সারা বিয়ে বাড়ি লাফালাফি করে এখন অর্থ এসেছে অর্থিকে খোঁচাতে। তবে বাকিদের জবাব না দিতে পারলে ও নিজের ভাই কে তো জবাব দিতে আর কোনো সমস্যা নেই তাই অর্থি বলল;
—”এই কালুয়া, তোর সমস্যা কি! সবার সামনে এখন মুটি বলছি তো, বাসায় যা, তখন দেখাবো!

অর্থ অর্থির কথা হেসে উড়িয়ে দিল। আর তিশার এন্টি শুরু হবে যে সেখানে চলে গেল। ফাহা অর্থি কে যেত বলল কিন্ত সে মানা করলো, সে একপাশেই বসে রইল। দেখতে লাগলো সবার নাচ,, সবাই ঘুরে ঘুরে, হাত তুলে, নাচচ্ছে। তিশা আপু মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। সবাই তাকে ঘিরে নাচচ্ছে। অর্থি দূরে বসে তাদের ই দেখছে। তবে হঠাৎ ফারিশ তাকে দেখে এগিয়ে আসলো তার দিকে। আর হাত ধরে নিয়ে গেল তার সাথে।

চলবে।

(কারেন্ট ছিল না, ওয়াইফাই ও ছিল না, তাই এখন পোস্ট করছি, দুঃখিত সবাই কে।)

আচ্ছা একটা কথা কি জানেন,, প্রথম যখন পোস্ট আশা ছিল না, যে কারো পছন্দ হবে কিনা, মনটা ভীষণ খারাপ ছিল, কিন্ত মোটামুটি অনেকেই পছন্দ করছেন। তাই অল্পসল্প লিখবো, কিন্ত প্রতিদিন দেওয়া সম্ভব হবে না হয়ত। তবে একদিন বা দুদিন পর দেব কেমন,,,

আর গল্প হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করবেন না,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here