কথা_দিল_রোদ্দুর (৩০) #তুসিকা

0
1

#কথা_দিল_রোদ্দুর (৩০)
#তুসিকা
অর্থিদের বাসায় বিয়ের সকল আয়োজন করা হয়েছে। তাই তো সামনের লিভিং এ সাম্য কে বসানো হয়েছে, যেখানে পুরুষ রা আছে। আর অর্থি আছে নিজের রুমে, সেখানে মেয়েরা সবাই উপস্থিত আছে। ফাহা, ফারিন, আরশিয়া সহ নিপা ও আছে। আর আছে অর্থির প্রিয় বান্ধবী ফেরদৌস। যার কারনে সাম্যের পাশে বসে থাকা স্বত্বে ও মুসাবের চোখ যাচ্ছে অর্থির রুমের দিকে। মুসাব জানে ফেরদৌসের জন্য এখন সে শুধুই পর পুরুষের মতো। তাই মুসাব বারবার নিজের মনকে শান্তনা দিচ্ছে আর একবুক হতাশা নিয়ে হাসি মুখে সাম্যের পাশে বসে বিয়ের কার্যক্রম দেখছে।

বিয়ের কার্যক্রম ওই শেষের দিকে, কাবিন কত বাঁধবে তা আগেই ঠিক ছিল, তাই কাজী সাহেব তাড়াতাড়ি সমস্ত নিয়ম শেষ করে সাম্যের চাচা আর অর্থির মামা শামীম সাহেব সহ অর্থির রুমে যায়,,, আর সাম্যের মা বাবা নাম আর দেনমোহর সহ বাকি কথা গুলো বলে অর্থি রাজী আছে কিনা জিজ্ঞেস করে।

অর্থি তখন নির্বিকারে ফুঁপিয়ে ই চলেছে। অর্থির মামিরা আর বোনেরা সবাই তো ছিল সেখানে, তারা অর্থিকে শান্ত করায় আর কাজী সাহেবের কথা ঠিক করে শুনতে বলে। কিন্ত অর্থি যেন জ্ঞান শূন্য হয়েছে আছে,, তাই কাজী একটু জোর গলায় তাড়া দেখিয়ে কবুল বলতে বলে।
ফারিশ তখন দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল, কাজী সাহেবের এমন আচরণ দেখে সে এগিয়ে আসে আর শান্ত গলায় বলে;

–”কাজী সাহেব একটু ধীরে সুস্থে বিয়ের কার্যক্রম সম্পূর্ণ করুন,, মেয়ে ও পালিয়ে যাচ্ছে না আর ছেলে ও পালিয়ে যাচ্ছে না,, তাড়া দেখিয়ে যে পরিমাণ খ্যাচখ্যাচ করছেন তাতে তো মেয়ের কান্না আরো বাড়বে ই। একটু নরম করম হয় বলুন দেখবেন মেয়ে সুন্দর ভাবেই কবুল বলবে।

এরপর অর্থির পাশটায় বসে তাকে বলল;
—’ লক্ষ্মী বোন আমার,, দেখ সবাই অপেক্ষা করছে,, আর দেরী করিস না,, কবুল বল!

এরপর কাজী এবার শান্ত ভাবেই বলে কবুল বলতে,, তাই অর্থি ও কবুল বলে দেয়। সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে সাথে সাথে। আর কাজী গিয়ে এবার সাম্য কে জিজ্ঞেস করে আর সাম্য ও হাসি মুখে তিন কবুল বলে। আর এই মধ্যেই তাদের বিয়ে সম্পূর্ণ হয়।

তবে সাম্য যে এখনো অর্থি কে সরাসরি দেখেনি,, তাই বড়রা সবাই বেরিয়ে আসার পর সাম্য কে নিয়ে যাওয়া হয় অর্থির রুমে। সাম্য রুমে প্রবেশ করলে দেখে অর্থি মাথায় একহাত ঘোমটা টেনে বিছানার মাঝ বরাবর বসে আছে। তাই ধীর পায়ে সাম্য অর্থির সামনে দাঁড়ায় আর একগুচ্ছ সাদা, লাল মিশ্রণে গোলাপ ফুলের তোড়া এগিয়ে দিয়ে বল;

—’আপনাকে অভিনন্দন”মিসেস সুজানা জাহান”
এরপর মিট হেসে বলল;
” এই সায়েফ সাম্য র জীবনে আসার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
এই কথা শোনার পর অর্থি মুখ তুলে চাইল সাম্যের দিকে। দেখলে কি নিদারুণ হাসছে লোকটা, তাই অর্থি ও হাত বাড়িয়ে এগিয়ে নিল সাম্যের দেওয়া ফুল গুলো।

সাম্যের এই কথা শুনে তো সবাই হইচই করতে লাগলো,, এরপর ফাহা রা মিলে একটু মজা করার জন্য দুই জন কে একসাথে বসালো,, আর সাম্যের সামনে অর্থির চেহারা বরাবর মিরর রেখে জিজ্ঞেস করলো সাম্য কি দেখতে পাচ্ছে। সাম্য ওড়নার পাশ থেকে অর্থির মুখ সরিয়ে এনে অর্থি যাতে শুনতে পায় সেভাবে বলল;
–” আমি আমার ভীতুরানী র মুখে এক চিলতে রোদ্দুর দেখতে পাচ্ছি, যার সহস্র কিরণ এ শুধু নাম আমার ই প্রতিচ্ছবি।

তারপর মুচকি হেসে অর্থিকে ক্ষেপানোর জন্য বলল;
—”আর শুধুই দেখতে পারছি একটা নোয়াখাইল্লা কে যে কিনা বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে কেঁদে কেটে মুখ চোখ লাল করে ফেলেছে, চোখের কাজল লেপ্টে যাওয়ায় শ্যাওলা গাছের পেত্নির থেকেও কম লাগছে না,, নাক থেকে হয়ত পানি ও বের হচ্ছে। তবে ব্যাপার না ভীতুরানীর মতো এই ভূতের রানীকে আমি সারাজীবন আমার বুকে ই আগলে রাখবো।

তবে অর্থি কোনো রিয়াকশন দেবার আগে যুথি বলে ওঠে;
—” দুলাভাই,, একা একা বললে কিভাবে হবে,,, একটু জোরে বলুন আমরাও যেন শুনতে পাই, আপনি অর্থির উদ্দেশ্য কি কি বলছেন!

তবে সাম্য তো সাম্য,, এতক্ষণ ভদ্র ভাবে বসে ছিল এই অনেক,, তাই তো যুথির কথা শুনে মুসাবদের ইশারা করে। আর ইশারা পেয়ে
মুসাব, ইমরান, নাঈম , নাদিম এরা গেয়ে ওঠে;

” তোরে ভাবী বানামু, সারা দেশত জানামু, পরছিরে তাই আইয়া,,
সাম্য চিটাংইগা ফুয়া, অর্থি নোয়াখাইল্লা মাইয়া।

সবাই অবাক হয়েছে বটে,, তবে হাসতে লাগলো,, আর মুসাব দের এমন কান্ডে অর্থি ও কি করবে সে নিজেও ফিক করে হেসে দিল।

________________

এরপর খাওয়া দাওয়া আর ফর্মালিটির পর আসলো সেই মুহুর্ত,, বিদায়ের সময়। শত আনন্দের মাঝে সকল দুঃখ এসে ভিড় করে এই সময়ে। অজানা বন্ধনের টান আলাদা করে নিজের মা বাবার কাছ,, আর নিজের সমস্তটা দিয়ে আপন করে নিতে হয় নতুন একটা জগত।
কেউ কেউ হাসি মুখে তা আপন করে নেয়, কিন্ত কারো কাছে তা সহজেই হয়ে ওঠে না,, এই যেমন অর্থি। কান্না করতে করতে আঁকড়ে ধরে আছে জাবের সাহেব আর রেবেকা বেগম কে। কিছুতেই সে যাবে না বলছে,, সবাই তাকে শান্তনা দিচ্ছে,,

কিন্ত মেয়েকে তো বিদায় দিতে হবে ই তাই সাম্যের বাবার অবর্তমানে সাম্যের চাচার কে বললেন মেয়ের সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে তাকে যেন আপন করে নেয়। আর সাম্যের হাতে অর্থির হাত তুলে দিয়ে বলে;

—” আমার খুব আদরের মেয়ে বাবা! তোমার ভরসায় আমি আমার আম্মুকে তোমার হাতে তুলে দিলাম,, কষ্ট দিও না, আগলে রেখো সবসময়।

সাম্য অর্থির হাতটা শক্ত করে ধরলো,, কিন্ত কিছু বলল না সে শুধু দেখলো জাবেরের সাহেবের নিরবে বুক ভাসানো সেই কান্না। তবে অর্থি অর্থ কে খুঁজলো, কিন্ত অর্থ কে তার সামনে আর পেল না,, আর এইদিকে সাম্যের বাড়ির লোকেরা ও তাড়া দিচ্ছে তাই বড় ভাই হিসেবে ফারিশ, লাবীব, মেহেরাজ, আর তানভীর ই গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিল। সবার মন ই খারাপ কিন্ত তাদের থেকে অর্থির প্রতি ফারিশের টান টা আলাদা রকমের। চোখ মুখ লাল হয়ে আছে তার,, আর এভাবেই গম্ভীর গলায় সাম্য কে উদ্দেশ্য করে ফারিশ বলে;

—” নিজের একটা পুতুল বোন দিচ্ছি আপনার কাছে সাম্য ভাই। সব সময় এই পুতুল টা যেন সুখে থাকে, এই আশাই রাখবো আপনার কাছে। এই বলে ফারিশ সেখান থেকে চলে আসে,,
আর সবাই কে বিদায় জানিয়ে মেয়ের বাড়ি থেকে গাড়ি রওনা দেয় শশুর বাড়ির গন্তব্যের দিক।
অর্থির তো অতিরিক্ত কান্নার ফলে বেহাল দশা। তাই সাম্য তাকে নিজের কাঁধে আগলে নেয়,, একটু খানি ভালোবাসার পরশ পেয়ে অর্থি তো সাম্যের কাঁধে চোখ বুঝে নেয়। তবে অর্থির যেন একা না লাগে নতুন জায়গায় তাই ফাহা কে তাদের সাথে নিয়ে যায়,,

আর এভাবেই তিন চার ঘন্টার রাস্তা পার করে সাম্যরা পৌঁছায় তার বাড়িতে। সাম্য অর্থির গালে আলতো করে ধরে ডাকে, কয়েকবার ডাকার পর অর্থির ঘুম ও হালকা হয়ে আসে। আর ঠিক হয়ে গাড়ি থেকে নেমে সাম্যের পাশে দাঁড়ায়। সবাই তাদের ভাল ভাবে স্বাগতম জানায় আর মিষ্টি মুখ করিয়ে ঘরে তোলেন।

অর্থিকে লিভিং রুমের সোফায় বসানো হয়,, সবাই নতুন বৌ কে দেখে তো বেশ পছন্দ ও করেন,,, যারা যারা আত্নীয়স্বজন বিয়েতে যায়নি তারা অর্থি কে মিষ্টি খাইয়ে দোয়া হিসেবে টাকা ও দেয়। আর বেশ প্রসংশা করেন অর্থির এমন মিষ্টি ভঙ্গি দেখে।

নাশিদা বেগম বিয়ের পরে সাম্যদের বাড়িতে আবার ফিরে আসেন,, তাই উপস্থিত তিনি মুখ বাঁকান আর বলেন;

—” রূপ দিয়ে আজকাল পানি খাবে নাকি,, এখন বড় কথা হলো কোমড়ে কাপড় বেঁধে কিভাবে শাশুরির সাথে সংসার করে সেটাই। আজকাল তো আবার শাশুরির সাথে একটু বিবাদ হলেই আলাদা সংসার বাঁধার জন্য উঠে পড়ে লাগে।

অর্থির পাশে বসা ফাহা কেমন তীক্ষ্ণ চোখে নাশিদা বেগমের দিকে তাকিয়ে আছে এই কথা শুনে,, অর্থির ও অবাক লাগে তিনি একদিকে সাম্যের ফুফু হয় আবার অর্থির মামি হয় তবুও সবার সামনে এসব কথা বলছে। কিন্ত কেউ কিছু না বললেও সাম্য এটা শুনে বলে;

—” দোয়া করো ফুফু আমাদের সংসারে এসব কিছু যেন না হয়,, আর আমি আশা করি এমন কিছু হবে ও না,, জানোই তো আমার আম্মু কারো মতো কুচুটি না, আর বৌ হিসেবে যাকে এনেছি তার মন তো পানির মতো ফকফকা। ঠিক বলছি না।

নাশিদা বেগমের মুখটা একটু কালো হয়ে যায় সাম্যের কথায়,, তবে বেশি কথা যেন না হয় তাই ফাতেমা বেগম অর্থি কে তার ঘরে পাঠায়,,

সে বেলা অর্থি ফাতেমা বেগমের ঘরেই থাকে। সাম্যের ঘর আপাতত তার বন্ধুদের দখলে,, তারা বা’সর ঘর সাজ্জাচ্ছে বলে কথা। অর্থির অবশ্য এসব কিছুই অজানা, সে এসেই ফাতেমা বেগমের কথা অনুযায়ী ফ্রেশ হয়ে হালকা কিছু খেয়ে যেই শুয়েছে তার চোখ লেগে এসেছিল। আর ফাহা ও ঘুমিয়ে পড়ে।

কেউ তাদের বিরক্ত ও করেনি। তাই বাড়িতে কি হচ্ছে সে জানে ও না,, তবে ঘুম ভাঙ্গে ফাতেমা বেগমের ডাকে। রাতের খাবারের সময় হয়ে এসেছে,, তাই তিনি অর্থি কে ডাকেন। আড়মোড়া ভাঙলে ও হঠাৎই অর্থি বুঝতে পারে এখন সে নিজের বাড়ি নেই। শশুর বাড়ি আছে, তাই হুড়মুড়িয়ে উঠে বসে। অর্থির এমন কান্ডে ফাতেমা বেগম হাসে,, আর তাকে বলে;

—” যাও ফ্রেশ হয়ে আসো,, ফাহাকে ও ডেকে দাও। সেই কখন একটু কিছু মুখে দিয়েছো,, রাত হয়েছে তো খাবার খেতে হবে,,, রান্না প্রায় হয়ে গেছে,, ততক্ষণে মা বাবার সাথে কথা বলে নাও,,, বেয়াইন ফোন দিয়েছিল তখন তুমি ঘুমাচ্ছিলে। আর শোন এখন থেকে আম্মা বলবে আমাকে, যখন যা প্রয়োজন হবে জানাবে ঠিক আছে।

অর্থি মাথা নাড়ল,, আর ফ্রেশ হয়ে এসে মায়ের কাছে ফোন দিল। ফোন জাবের সাহেব ই তুললেন,, আর বাবার মুখ খানা দেখে অর্থির আবার মন খারাপ হলো। তবে ফাহা থাকায় মন খারাপ টা একটু মিটলো। আর ঠিক করে মা বাবার সাথে কথা বললো,, অর্থের কথা জিজ্ঞেস করতে রেবেকা বেগম বলেন অর্থি চলে যাচ্ছে দেখে কান্না করে সে ঘুমিয়ে পড়ছিল।

এরপর টুকটাক সবার সাথেই কথা বলে টুকটাক ফোন রেখে দেয়। আর সবার সাথে বসে খাবার খেয়ে নেয়। কিন্ত খাবার টেবিলে সাম্যের দেখা মেলেনি। আর না মুসাব ভাই দের।

অর্থি একটু স্বস্তি অনুভব হলো, তবে বেশি ক্ষণ টিকলো না সেই স্বত্বি। আবারও শাড়ি পরিয়ে অর্থি কে দিয়ে এলো সাম্যের ঘরে। কি যে এক অনুভূতি। কিন্ত সাম্যের রুমে এসে অর্থি থ হলো।

পুরো ঘর শুধু জবা আর লাল জবা দিয়েই সাজানো। এমন মানুষ হতে পারে লাল গোলাপের বদলে জবা দিয়ে কেউ বাসর সাজাতে পারে। ফুল গুলো অবশ্য নেতিয়ে পড়েছে কিন্ত অর্থির ভীষণ হাসি পেল। তবে সে ঘুরে ঘুরে সাম্যের রুম দেখতে লাগলো। আর পরে বিছানায় বসে বসে সাম্যের অপেক্ষা করতে লাগলো।

তবে অপেক্ষার অবশান শেষ করে সাম্য এলো। গলা খাঁকারি দিয়ে অর্থির দিকে চাইল,, কোথায় থেকে কি শুরু করবে ভেবে পেল না,, এখন তো সাম্যের নিজেরই লজ্জা লাগছে। তবে অর্থি এখন তার সহধর্মিনি, আর আজ তো বিশেষ একটা দিন। তাই এই দিনটিকে তো এভাবে যেতে দেওয়া যায় না,, তাই সাম্য অর্থির কাছে গেল,, অর্থি ও তাকে সালাম দিল। দুজনের মাঝে পিনপতন নিরবতার মাঝে সাম্য বলল;

” আমি তোমার স্বামী,, আজকের দিনে তোমাকে উপহার দেওয়া তো প্রয়োজন,, কি চাই বলো!

অর্থি কিছুই বলল না, তাই দেখে সাম্য তাকে বলল;

—” আচ্ছা আমিই তোমাকে উপহার দিচ্ছি।
এই বলে সাম্য বক্স ভর্তি কাঁচের চুড়ি দিল,, আর সোনার রিং এনেছিল অর্থির জন্য তাই দিয়ে অর্থিকে নিজের মুখে আবারও ভালোবাসার কথা বলল।

অর্থি মুচকি হাসি মাখা মুখে নিল সাম্যের উপহার,, তবে সাম্য কে পুনরায় বলল না ভালোবাসি।

তাই সাম্য জিজ্ঞাসু হয়ে বলল;
—” তুমি কিছু বলবে না,,

—” কি বলবো,,,

—” এই যে তোমার বর তোমাকে এত সুন্দর করে ভালোবাসি বলল,, তার উওর দেবে না,,

—” জানি না,,

—” জানি না বললে তো হবে না,, আমার এই ভালোবাসা আজ ফিরিয়ে দেবার সাধ্য যে তোমার নেই ভীতুরানী। তোমার জন্য এতকিছু করলাম তার বিনিময়ে ভালোবাসা টা তো পেতেই পারি। দেবে ভালো বাসা,,,

অর্থি এখন ও কিছু বলল না,, লজ্জায় তার মরি মরি অবস্থা। গাল লাল হয়ে উঠেছে। সাথে তো বুক ধুপকুপ করা আছেই। তবে নিজের স্বামীর এহনো ভালোবাসা ফেরানোর সাধ্যি যে অর্থির নেই। আর সে ও তো সাম্যের প্রেমে অনেক আগেই পড়েছে তাই মাথা নাড়ল,,,

সাম্য হেসে বলল,—” বাবা ভীতুরানী ও ভালোবাসে,, আমি তো জানতাম সব শুধু আমার পক্ষ থেকে,, যাক হোক শুনে ও শান্তি। তাহলে ভালোবাসা আরো আরো করে অনুভব করবো নাকি এভাবে চলবে।

অর্থি কিছু বলল না,, সাম্য এগিয়ে তার কপালে চুমু দিল। এই তো এই বিশ্বাস,, এই প্রতিশ্রুতি,, আর কি লাগে একটা মানুষকে ভালোবাসার জন্য।

___________

নতুন ভোর হলো এক নতুন আলিঙ্গনে। চারদিকে সব নতুনের সমারোহ। বিয়ের পরদিন সকালে নতুন এক রান্না ঘর আর নতুন নতুন সব মানুষদের মাঝেই অর্থির দিন শুরু হলো।

তবে সকলের সাথে মিশতে স্বভাবতই অর্থিকে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে। একে সে নতুন মানুষের সাথে কথা বলতে একটু ইতস্তত বোধ করে,, তার উপর সাম্যের বাড়ির সবাই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছে,, যা অর্থি প্রায়ই বুঝতে পারছে না,, এই টুক পর্যন্ত তো ঠিকই ছিল কিন্ত নতুন বৌ কে চাচি ভালো রান্না র হাত দেখার জন্য মাছ কাটতে দিলেন। যা অর্থির দ্বারা সম্ভব নয়। সে আর যাই হোক মাছ কাটতে পারে না। তাই সে কাঁদো কাঁদো মুখ করে নিচু হয়ে রইল। তবে এই যাত্রায় তাকে সাম্যের ফুফু বাঁচিয়ে নিলেন। তিনি অর্থি কে এক পাশে বসিয়ে রেখে মাছ কেটে নিলেন। তার বিনিময়ে বললেন তিনি নতুন বৌয়ের হাতে চা খেতে চান।

আর এই এক কাজ অর্থি অনেক ভালো পারে,, তাই তো সকলের জন্য সে চা বানিয়ে দিল। সবাই প্রশংসা করলো,,, তার ওই রান্নার সারাটা সময় অর্থির রান্না ঘরে সবার সাথে কেটে গেল। সাম্য অবশ্য দেখে গেল একবার,, কিন্ত এর পরপর আরো কয়েকবার আসলো এটা সেটার নাম করে কিন্ত অর্থি রান্না ঘর থেকে আর রুমে গেল ই না। এই নিয়ে সাম্যের তো ভারী অভিমান। তাই শেষে যখন অর্থি রুমে আসলো সে তার দিকে তাকালোই না। অর্থি প্রথমে এত খেয়াল না করলেও কিছুক্ষণ পর দেখলো সে রুমে আছে অথচ সাম্য কোনো শয়তানি করছে না,, কেমন মুখ ভার করে আছে।

—” কি হলো আপনার! কোনো কথা বলছেন না,, চুপচাপ হয়ে আছেন।

—” …….

—” কি হয়েছে…..

—” কি হবে কিছুই না,,, আমার কোনো কিছুতে কি তোমার যায় আসে ,,, যাও ফুফু দের সাথেই থাকে।

অর্থি বুঝলো সাম্য এমন কেন করছে,, তাই সে বলল;
—” ফুফুরা তো চলেই যাবে,, তাই ওনার কাছে ছিলাম,, আর আজ তো ফাহা ও চলে যাবে তানভীর ভাইয়ের সাথে তাই তো ওখানে ছিলাম।

কিন্ত সাম্য যেন এবার মিচিমিচি অভিমান করে রইল,, এবার যেন এই ভীতুরানী একটু চেষ্টা করলো তার তিরিংবিড়িং করা ঘাসফড়িং এর অভিমান ভাঙানোর। তবে পারলো না। এর আগেই মিউ মিউ শব্দ তুলে নতুন এক সদস্য ঘরে ডুকলো,, তার তাকে দেখেই অর্থি ভয় পেয়ে সাম্য কে আঁকড়ে ধরল।

চলবে।

সন্ধ্যার দিকে দিতাম কিন্ত ওয়াইফাই ছিল না,,, তাই এখন দিচ্ছি। পোস্ট সামনে গেলে বা গল্প পড়ে থাকলে একটু রিয়েক্ট দিয়ে যাবেন। রিচ নেই পেজের। এখন যারা গল্প পড়ছেন তারা ও যদি রেসপন্স না করেন তাহলে বাকিদের কাছে গল্প পৌছাব না। তাই অনুরোধ টি রাখুন।

আর রিচেক দেইনি,, ভুল হয়ে মার্জনীয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here