অচিনরেখা” বিনতে ফিরোজ ১১.

0
2

“অচিনরেখা”
বিনতে ফিরোজ
১১.

শেলীর বুকটা ধ্বক করে উঠলো। তার মনে হলো বিয়ের ডেট ঠিক করার বদলে এক্ষুনি কাজী ডেকে নিয়ে পরিয়ে দিলে ভালো হবে। সবচেয়ে ভালো হবে। তিনি গম্ভীর কন্ঠে বললেন, “কি করেছিস?” না চাইতেও তার মেকি দৃঢ়তার আড়ালের ভয়টুকু কণ্ঠের কাঁপুনিতে প্রকাশ পেলো।
মেহরিমা চুপ করে রইলো। তার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। পরে যা হয় হোক অন্তত ইউনূসদের বিদায় করতে এর চেয়ে কার্যকরী বুদ্ধি মাথায় আসছে না।
শেলী রেগে গেলেন। মেহরিমার হাতে ঝাকুনি দিয়ে বললেন, “কি করেছিস বল!”
মেহরিমা চট করে মুখে হাত দিয়ে বাথরুমে ঢুকে পড়ল। দরজা বন্ধ করে ওয়াক ওয়াক শব্দ করতে থাকলো। মুখ বাড়িয়ে দিলো দরজার দিকে। কৃত্রিম শব্দ করায় গলায় চাপ লাগছে। লাগুক। কাজ হলেই হলো।
দুচোখ কয়েকবার ডলতেই লাল হয়ে গেলো। একটুখানি পানি নিয়ে মুখে ছিটিয়ে দিলো মেহরিমা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলো তাকে যথেষ্ট বিদ্ধস্ত দেখাচ্ছে। বড় বড় নিশ্বাস নিতে নিতে বাথরুম থেকে বের হলো।
শেলী হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। মেহজাবিন বলল, “কিছু তো খেলিই না। গ্যাস বাড়ল কিভাবে?”
“জানিনা।” ক্লান্ত গলায় বলল মেহরিমা।
“তুই বলবি আমাকে?” শেলী অধৈর্য হয়ে উঠছিলেন।
মেহরিমা এক পলক দরজার দিকে তাকিয়ে মেহজাবিনকে ইশারা করতেই সে দরজা আটকে দিলো। মেহরিমা চাপা কণ্ঠ বলল, “আমি বিয়ে করবো না মা।”
“কেন!” চিৎকার করে উঠলেন শেলী। তার মন চাচ্ছে মেহরিমার দুই গালে দুটো চড় দিতে।
“কারণ আমার বিয়ে হয়ে গেছে।” স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল মেহরিমা। বিছানায় বসে শরীর ছেড়ে দিলো।
মেহজাবিন হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছে, “কার সাথে?”
মায়ের দিকে এক পলক তাকিয়ে মেহরিমা স্পষ্ট কণ্ঠে বলল, “শাহরিয়ার ভাইয়ের সাথে।”
শেলী বি-স্ফো-রিত নজরে তাকালেন। কিছুই তার মাথায় ঢুকছে না।
“এই মেয়ে কি বলছিস তুই!” মেহরিমার দিকে তেড়ে গেলেন শেলী। মেহরিমা দৌড়ে আবার বাথরুমে গেলো। বমির নাটক করতে করতে সে ক্লান্ত হয়ে গেছে। বুদ্ধিটা কাজ করছে না কেন!
এবার কাজ করলো। শেলী এক প্রকার ছুটেই এলেন মেয়ের কাছে। চাপা কণ্ঠে বললেন, “নামাজ পড়েছিস তুই?”
সে বলল, “হ্যাঁ।”
শেলী ধপ করে বিছানায় বসে পড়লেন। বিড়বিড় করে বললেন, “আজকে তো তের তারিখ। তোর সাইকেলের পাঁচদিন পার হয়ে গেছে।” তার বুক ধড়ফড় করছে। ভীত চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “কবে বিয়ে করেছিস?”
“বিয়ে তো আমরা করিনি। দাদা দিয়েছে সেই বার বছর আগে। শাহরিয়ার ভাই এবার আমাকে নিয়ে যেতে এসেছে।”
“বলিস নি কেন! আমাকে এসব বলিস নি কেন?” শেলীর মাথায় তখন অন্য চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। যুক্তি দিয়ে কিছু বোঝার চেষ্টা করলেন না তিনি। ফলে তার আচরণও এলোমেলো হয়ে গেলো।
রুম থেকে তখনই বের হয়ে গেলেন শেলী। যেভাবেই হোক ইউনূসদের বিদায় করতে হবে। মান সম্মান রক্ষা করতে হলে শাহরিয়ারের কাছেই মেয়েকে দিতে হবে। যেভাবেই হোক।

শেলী বেরিয়ে গেলে হাঁফ ছাড়লো মেহরিমা। মেহজাবিনকে বলল, “দরজাটা আটকে দে তো।নামাজ না থাকলেও এখন ভান করতে হবে।”
মেহজাবিন তাই করলো। তারপর বলল, “খুবই বাজে একটা বুদ্ধি বের করেছিস আপা। মাকে বললি না কেন তোর সাইকেল প্রতি মাসেই চার পাঁচদিন করে পেছায়? আমার কাছে শুনলে তোকে এর চেয়ে ভালো বুদ্ধি দিতে পারতাম। থার্ড ক্লাস একটা কাজ করলি। মা তোকে কি ভাবছে?”
“আরে যা ভাবে ভাবুক। আপাতত ওদের বিদায় করলেই হচ্ছে। আমি সব বলে দেবো না মা কে? কি মনে করিস তুই!”
“কিন্তু এই বিয়ের কাহিনী কি! ওইটুকু বয়সে কারো বিয়ে হয়!”
মেহরিমা উত্তর দিলো না।

●⁠● ●⁠● ●⁠●

শেলী বেরিয়েই আরমানকে ফিসফিস করে বললেন, “ওদের বিদায় দিয়ে দিন।”
“কেন!” আরমান অবাক হলেন। শেলীর চোটপাটে মনে হচ্ছিল আজকেই পারলে কাজী ডেকে আনে।
“বলছি কারণ আছে। এখন বলা যাবে না।”
আরমানের কপালে ভাঁজ পড়ল। বন্ধ দরজায় এতক্ষন মা মেয়ে কি পরামর্শ করে এলো?
“কি বলবো এখন?”
“বলুন আমাদের আত্মীয়দের সাথে কথাবার্তা বলি। তারপর ওদের জানাবো।”
“কিন্তু তুমি তো আগেই এমনভাবে কথা বলেছ ওরা ভেবেছে আমাদের দিক থেকে হ্যাঁ।”
“বাদ দিন তো ঐসব! কবুল না বলা পর্যন্ত কিছুই হয় না। যান! এক্ষুনি যান।”

●⁠● ●⁠● ●⁠●

আতিয়া বেগম সব শুনলেন। রাশেদা জানালেন তাকে বিস্তারিত। আতিয়া বললেন, “আমাকে কি করতে বলিস?”
শাহরিয়ার এগিয়ে এলো, “তুমি কি রাগ করেছ মা?”
“রাগ করতাম। তোরা নিজেরা এসব করলে অবশ্যই রাগ করতাম। কিন্তু যিনি করেছেন তিনি বেঁচে নেই। কেন এসব করেছেন সেটা শোনারও উপায় নেই। কার উপরে রাগ করবো? তোরা দুজনেই তো ভুক্তভুগী।”
শাহরিয়ার খুশি হলো। আতিয়া বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন।
“আমি বাবাকে বলেছি মা।”
এই পর্যায়ে আতিয়ার চোখে ভয় দেখা গেলো।
“কি বলেছিস?”
“বিয়ের কথা।”
“কি বলল তোর বাবা?”
“বাবা আমাকে আনিস আংকেলের মেয়ের সাথেই বিয়ে দেবে। আর যেকোনো জায়গায় দিলেও যে এখানে দেবে না। সেটা তো জানা কথা।”
“তুলকালাম না বাধালেই হয়েছে।”
রুমি চুপচাপ বসে ছিল। সবকিছু তার কাছে কেমন থ্রিলিং লাগছে। সে বলল, “পাগল নাকি! বাবা এসব বলবে কারো কাছে! কক্ষনো বলবে না। বরং আরো চাপিয়ে রাখার চেষ্টা করবে। তুলকালাম বাধালেও সেটা ঢাকায় যেয়ে। তাই যা করার এখানেই করে ফেলতে হবে।”
আতিয়া এক মুহুর্ত ভাবলেন, “আমি কি করবো শাহরিয়ার?”
“চাচা চাচীর সাথে একটু কথা বলো মা। ওরা মেহুর বিয়ে দিতে চাচ্ছে।”
রুমি ঝট করে খাট থেকে নেমে দরজায় উকি দিল। ছয় সাতজন মানুষকে দেখা যাচ্ছে। তাদের ঘরের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে। কারো মুখের মানচিত্রই ভালো না। রুমি উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলল, “মেহু আপা কিছু একটা মনে হয় করেছে। সবাই মুখ কালো করে চলে যাচ্ছে।”
“এখনই তাহলে বলো মা। আর যদি সুযোগ না পাও?”
আতিয়া উঠে দাঁড়ালেন। একটা বিহিত করা দরকার।

●⁠● ●⁠● ●⁠●

আরমান চেঁচালেন, “কবে হলো এসব!” র-ক্তচক্ষু নিয়ে তাকালেন মেয়ের দিকে। মেহরিমা অবশ্য ভয় পেলো না। শেলী ভাবলেন তার মনের আশঙ্কাটা জানালে কি হবে।
“মেহু কথা বল।”
“ওর কিছু বলার নেই। আমি বলছি।” আতিয়ার কণ্ঠ শোনা গেলো। আরমান পারছেন না সবকিছু তছনছ করে ফেলতে। হিসহিস করে বললেন, “আপনারাই তার মানে নাটের গুরু?”
“আরমান তোমার সাথে আমার কোনোকালেই দ্বন্দ্ব ছিল না। যাও হাত মুখ ধুয়ে আসো বসে কথা বলি। রাগারাগি করে কোনো লাভ হবে না। উল্টো মানুষ শুনলে বিপরীতটাই ভাববে। যাও।”
আতিয়ার শান্ত কথার বিপরীতে কিছু বলতে পারলেন না আরমান। রাগটা আসলেই দুর করা দরকার। একটা কিছু চিন্তা করতে পারছেন না।
আরমান চলে গেলে শেলীকে নিয়ে বসলেন আতিয়া।
“তোমার সাথে আমি কখনও ঝগড়া করেছি শেলী? অথবা খারাপ ব্যবহার?”
শেলী কিছু না বললেও মনে মনে স্বীকার করতে বাধ্য হলেন। আতিয়া যতদিন এ বাড়িতে ছিল অন্যান্য জায়েদের মতো ঠুনকো বিষয় নিয়ে কখনো দুকথা বলেনি। যা হয়েছে সব আজাদ আর আরমান বিশ্বাসের মাঝে।
“কথাবার্তা না হলে কি আর সম্পর্ক সতেজ থাকে? আমাদেরও হয়েছে এই অবস্থা। শাহরিয়ারের বাবা ধমকেছে যেনো এদিকের কেউ আমাদের ফোন না দেয় আবার আরমানও একই কাজ করেছে। কেউ কারো সাথে যোগাযোগ রাখিনি। কিন্তু শ্বশুর মশাই নিজেই তো আসল জায়গায় বেঁধে দিয়ে গেছেন।”
“আপনি জানতেন ভাবি?”
“না শেলী বিশ্বাস করো আমি জানতাম না। জানলে আমার বার বছরের ছেলেকে বিয়ে পিঁড়িতে বসতে দিই?”
শেলী খানিকটা নরম হলেন।
“আব্বা এই কাজটা করল কেন?”
“সেটাই তো জানিনা। ইচ্ছে থাকলে আমাদের বলতে পারতেন। কিন্তু এরকম ছোট্ট দুটো ছেলেমেয়ে নিয়ে আমাদের না জানিয়ে এসব করে গেলেন।”
“কি করবো ভাবি? মেহুর বাবা তো মানবেই না। আর কোনোভাবে যদি মানেও তবুও আজাদ ভাই..”
“সে আরো আগে মানবে না।” হতাশ নিশ্বাস ফেললেন আতিয়া।
“শাহরিয়ার তাকে সব বলেছে। উনি বলেছেন মেহুকে বিয়ে করলে শাহরিয়ারকে বাড়িতে উঠতে দেবেন না।”
শেলীর চোখে ভয় দেখা গেলো, “তাহলে!”
“এই তুই চোরের মতো বাইরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন! ভেতরে ঢোক।” উঠানে শাহরিয়ারের দিকে তাকিয়ে বললেন আতিয়া। মেহরিমা ভেতরে চলে যেতে চাইলে তাকেও থামালেন, “তোমরা দুজনেই বসো। এভাবে লুকোচুরি খেলে তো কিছুর সমাধান করা যাবে না।”
শাহরিয়ার বসলো। রুমি মেহরিমাকে টেনে ভাইয়ের পাশে বসিয়ে দিয়ে মেহজাবিনের পাশে দাঁড়ালো। মেহজাবিন মুখ বাঁকিয়ে সরে গেলো।
শেলী এক পলক শাহরিয়ারের দিকে তাকালেন। নাহ! দেখতে শুনতে তো ভালই হয়েছে।
শাহরিয়ার চাচীকে এভাবে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অপ্রস্তুত হলো। বিব্রত কণ্ঠ বলল, “আসসালামু আলাইকুম চাচী।”
শেলী উত্তর নিলেন। আদব লেহাজ আছে মনে হচ্ছে। না থাকলেও এখানেই মেয়েকে দিতে হবে। ঝামেলা তো আর একটা বাধায়নি।
আতিয়াও মেহরিমাকে দেখলেন, “মা শা আল্লাহ! কত বড় হয়ে গেছো!”
সেই ক্ষণে আরমান এলেন। চোখে মুখে পানি দিয়ে। আতিয়া বললেন, “বসো ভাই। রাশেদা খালার কাছে সব শোনো। তোমার মতো আমিও এসব আজকেই জানলাম।”
বয়োবৃদ্ধ রাশেদা লুকিয়ে রাখা গুপ্তধনের মতো যত্ন করে সব স্মৃতি বের করলেন। বিস্তারিত জানালেন সবাইকে।
আরমান ততক্ষণে শান্ত হয়েছেন। মেজাজ অল্পেই চটে গেলেও আজাদের মতো একরোখা নন। তাই বিষয়টা বুঝতে তার কষ্ট হলো না।
আফসোস করে বললেন, “আব্বা এমন একটা প্যাঁচ কেন বাঁধিয়ে গেলো?” পরক্ষণেই কি মনে হতে বললেন, “দুজনেই তো তখন নাবালগ ছিল। বিয়ে কি হয়েছে আদৌ!” আরমানের মনে আশা, খোঁজ নিয়ে হয়তো জানা যাবে এসব বিয়ে টিয়ে কিছুই হয়নি।
“হয়েছে। আমি খোঁজ নিয়েছি।” শাহরিয়ার বলল। রুমি হাসি চাপলো ভাইয়ের লাফালাফি দেখে।
“তুমি একবার ইমাম হুজুরের কাছে ফোন দিয়ে শুনে নাও। এসব বিষয়ে কোনো ধোঁয়াশা থাকা উচিত না।”
আরমান বিশ্বাস তখনই ফোন দিলেন। ইমাম জানালেন নাবালেগ/নাবালেগা বয়সে বিয়ের পর যখন ছেলে এবং মেয়ে বালেগ/বালেগা হয়ে যাবে, তখন তারা যদি মুখে একথা বলে দেয় যে- ‘আমরা এ বিয়েতে সম্মত নই’ তাহলেই (নাবালেগ বয়সে তাদের কৃত) ওই বিয়ে (শারঈ দৃষ্টিতে) ছিন্ন হয়ে যাবে।**

“তাহলে দুজনে বলে দে যে তোদের সম্মতি নেই। তাহলেই তো ঝামেলা শেষ।”
মেহরিমা চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে রইলো। তার অনুভূতির খবর তো আরমান জানেন না। সেটা তার কাছে ঝামেলা বৈ কি।
আতিয়া ছেলের মুখের দিকে তাকালেন। ছেলে যেটাই বলবে তিনি তাতেই সমর্থন করবেন।
“কিরে বল!” তাড়া দিলেন আরমান।
শাহরিয়ার দৃঢ় কন্ঠে বলল, “না।”
“না কেন?”
“সম্মতি থাকতে নেই বলবো কেন?”
আরমান আশ্চর্য হলেন।
“মেহু!”
মেহরিমা বিব্রত ভঙ্গিতে বাবার দিকে তাকালো। তিনি আশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন। মেহরিমার এতদিনের স্বপ্ন ভাঙার আশা।
মেহরিমা কিছুই বলল না। আরমান বুঝলেন দুজনেরই সায় আছে। তিনি হতাশ হলেন।
শাহরিয়ার ছেলেটাকে তিনি অপছন্দ করেন না। করার মতো কিছু সে করেনি। কিন্তু মেয়েকে আজাদ বিশ্বাসের বাড়িতে পাঠিয়ে তিনি শান্তিতে থাকতে পারবেন না। তার রাগ যে তার মেয়ে উপরে মেটাবে না এর নিশ্চয়তা কে দেবে?
আতিয়া গলা খাঁকারি দিলেন।
“দুজনেই রাজি ভাই। তুমি যদি রাজি থাকো তাহলে আমি ওদের বিয়েটা..”
আতিয়ার ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিন দেখতেই তিনি খানিকটা ভয় পেলেন বলে মনে হলো শাহরিয়ারের। রিসিভ করে হ্যালো বলতে না বলতেই তার মুখের রং উড়ে গেলো। ফ্যাকাশে হয়ে এলো চেহারা। অসহায় চোখে তিনি ছেলের দিকে তাকালেন।
ফোন রেখে হতাশ নিশ্বাস ছেড়ে আরমান, শেলীর দিকে তাকিয়ে বললেন, “মেহুর প্রতি আমার কোন ধরনের ক্ষোভ নেই। তোমাদের দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে আমরা ফেঁসে গেছি। আ-গু-নে ঘি না ঢেলেও আ-গু-নের তাপে পু-ড়ছি। আমার ছেলে জীবনে একটা কিছু আমার কাছে চাইলো আমি সেটাও দিতে অপারগ।”
শাহরিয়ার বলল, “বাবা ফোন করেছিল?”
আতিয়া মাথা নাড়লেন।
“কি বলল?”
“তুই যদি মেহুকে নিয়ে যাস তাহলে তোকে বাড়িতে ঢুকতে দেবে না। আমি যদি তোর সমর্থন করি তাহলে আমাকেও..” শেষ করতে পারলেন না আতিয়া। উত্তর চল্লিশে এসে স্বামীর মুখে এমন কথা শোনাটা নিশ্চয়ই খুব সুখকর না।
আরমান শক্ত কণ্ঠে বললেন, “এভাবে আমার মেয়েকে আমি দেবোও না। সস্তা নাকি আমার মেয়ে?”
শাহরিয়ার অসহায় কণ্ঠে বলল, “প্লিজ চাচা! আপনাদের প্রতিযোগিতার ভেতরে আমাদের টানবেন না।”
“তোর বাপ তো তোকে বাড়িতে উঠতে দেবে না। আমার মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবি তুই?”
শাহরিয়ারের চেহারা কঠিন হয়ে এলো।

~চলমান~

**বাল্যবিবাহ ও বিয়ের বয়স: ইসলামী শরীয়াত বনাম আইয়ুব খানের আইন, জাস্টিস তকী উসমানী।
বাল্যবিবাহ ও বিয়ের বয়স: ইসলামী শারীআত বনাম আইয়ূব খানের আইন

[https://bit.ly/33ssQzB]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here