“অচিনরেখা”
বিনতে ফিরোজ
৫.
জামগাছের পাশেই আফজাল বিশ্বাসের পরিত্যক্ত ঘর। দোচালা টিনের ঘরে বাঁশের বেড়া দেয়া। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে তিনি একাই থাকতেন। ছেলেরা পাকা ঘর বানানোর সময় তাকে এই ঘর ভেঙে ফেলতে বললেন। তাদের ঘরে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে থাকতে বললেন। আফজাল বিশ্বাসের সেই বুদ্ধি পছন্দ হলো না। নিজের নড়বড়ে ঘরটাকেই জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আঁকড়ে ধরে থাকলেন তিনি।
সেই ঘরটা আজও ওরকমই আছে। এক অদৃশ্য টানে দু’ভাইয়ের কেউই ঘরটা ভাঙার কথা মনে করেননি। চল্লিশ ভোল্টের টিমটিমে একটা হলুদ বাতি ঝুলছে ঘরের সামনে। দিন কয়েক আগেই ফিউজ হয়ে গেছে। কিনব কিনছি করে আর কেনা হয়নি। রাতে বাইরে তেমন দরকার না থাকায় বিষয়টা তেমন গুরুত্বও পায়নি।
তবে মেহরিমার মনে হলো একটা বাতি কালকেই আনতে হবে। শাহরিয়ার অন্ধকার উঠানে পায়চারি করছে। তবে উঠান পুরোপুরি অন্ধকার এটাও ভুল। আকাশে কেমন একটা ঝাপসা আলো দেখা যাচ্ছে। ঘুটঘুটে অন্ধকার নেই। নীলচে আলো ছড়িয়ে পড়ছে দিগন্ত থেকে দিগন্তে। সেই আলো টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে জাম গাছের আ-ক্র-ম-নে। তাদের ছেড়া ছায়া উঠানে কারুকাজ করেছে। মেহরিমার মনে হলো শাহরিয়ার মন দিয়ে সেসবই দেখছে। হাঁটতে হাঁটতে সে আফজাল বিশ্বাসের ঘরে গেলো। দু পাল্লার দরজায় হাত রাখতেই সেটা ক্যাচ ক্যাচ শব্দ করে খুলে গেলো। মেহরিমা অন্ধকার ডাইনিংয়ে দাঁড়ালো না। বাবা মা গভীর ঘুম দিয়েছে বুঝতে পেরে রান্নাঘরে গেলো।
চকিতে কোনো তোশক নেই। বাঁশের বেড়ার ছিদ্র দিয়ে আলো ছুটে ছুটে আসছে। মাটির ঘরের মেঝেতে জায়গায় জায়গায় গর্ত হয়েছে। পোকামাকড়ের অভয়ারণ্য। একটা টেবিল চকির সাথে সংসার পেতেছে এখানে। শাহরিয়ারের মনে আছে সে এখানে এসেই পড়াশোনা করতো। তাদের ঘরে কোনো টেবিল ছিল না। দাদার টেবিল অলিখিতভাবে তার অধিকার এসে গিয়েছিল। আফজাল বিশ্বাস তাকে পড়াতেন, “বলো দাদু অ তে অজগর, অজগরটি আসছে তেড়ে!”
টেবিলের উপরে সাজোয়া আলো ছুঁয়ে যেন দাদাকে ছুঁতে চাইলো শাহরিয়ার। পারলো না। স্মৃতির আলো চোখ বন্ধ করলে দেখা যায়, মিষ্টি ব্যাথা পাওয়া যায়। কিন্তু ছোঁয়া তো যায় না।
মাটির একটা হাড়ি শিকা বানিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন আফজাল। প্রতিদিন ওটা মুছে মুছে পরিষ্কার করতেন। কিছুই সেখানে নেই। একদিন শাহরিয়ার জিজ্ঞেস করেছিল, “দাদা তুমি হাড়িটা এতো যত্ন কর কেন?”
আফজাল বিশ্বাস হেসে বলেছিলেন, “এটা তোমার দাদীর হাতের জিনিস। মানুষটা তো নাই দাদা। তার হাতের জিনিসই তাই যত্ন করি।”
দাদাও তো নেই। এখন এটা আর কেউ যত্ন করে না। শিকায় মাকড়সা বাসা বেঁধেছে। কদিন পর স্মৃতিতে বাঁধবে। তারপর সব হয়ে যাবে কুয়াশার মতো ঝাপসা।
শূন্য ঘরে বসে বিড়বিড় করলো শাহরিয়ার, “তোমার আমানতের যত্ন তো করতে পারলাম না দাদা।”
নিজেকে বড় ব্যর্থ বলে মনে হলো তার। মনে হলো পুরো পদ্ধতিটাই ভুল। ভুল পথে হাঁটা হয়েছে। গন্তব্য থেকে অনেক দূরে চলে গেছে সে।
●● ●● ●●
রুই মাছের একটা তরকারি ছিল। টমেটোতে বাসি গন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেটা বাদ দিল মেহরিমা। ভাত ছিল না। দুই কাপ চাল ধুয়ে তাতে দুটো আলু দিয়ে দিল। রান্নাঘরের দরজা আটকে একটা শুকনো মরিচ পুড়িয়ে ফেললো। কাশতে কাশতে যখন দম আটকে আসছে তখন যেয়ে জানালার কথা মনে হলো। নিজেকে বেক্কল উপাধি দিয়ে জানালা খুলল মেহরিমা। হুড়মুড়িয়ে ঝাঁঝালো বাতাস বাইরে বেরিয়ে গেলো।
পেঁয়াজ মরিচ কুচি করে একটা ডিম ভেজে রাখলো। ভাত হতে আর পনের মিনিট লাগবে বড়জোর। কিন্তু বিপাকে পড়ল খাবার পাঠানোর কথা মনে করে। শাহরিয়ার পর্যন্ত এই খাবার পৌঁছাবে কিভাবে?
ইতিউতি করে মেহজাবিনের কাছে গেল মেহরিমা। নরম কণ্ঠে ডাকলো, “জাবিন! অ্যাই জাবিন!”
মেহজাবিনের ঘুম পাতলা। এক ডাকেই তাকালো সে। ঘরের আলো বন্ধ। মেহরিমা মোবাইলের টর্চ তার মুখের দিকে ধরে রেখেছে।
“উম! আলো সরা।”
“ওহ সরি সরি!” জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাল মেহরিমা। কী বলবে বুঝতে পারছে না।
“কতক্ষন ধরে ঘুমাচ্ছিস। বাথরুমে যাবি না?”
মেহজাবিনের ভুরু কুচকে এলো, “কি?”
“কিছু না। রাতে তো এইটুকু খেলি ক্ষুধা লেগেছে?”
পেটে হাত দিয়ে মেহজাবিন বলল, “মনে হচ্ছে লেগেছে। কিন্তু তুই এই রাত বিরেতে ঘুম থেকে তুলে এসব শুনছিস কেন?”
“ভাত রান্না করেছি। আয় খেয়ে যা।”
মেহজাবিন উঠে বসলো। অবাক কণ্ঠে বলল, “কয়টা বাজে? সাড়ে বারোটা মনে হয়।”
“তুই ভাত রান্না করেছিস কেন এখন?”
“এত প্রশ্ন করিস কেন? খাবি নাকি বল।”
বোনের দিকে সন্দেহী নজরে তাকালো মেহজাবিন। তার সবটা ঠিকঠাক মনে হচ্ছে না।
“রান্না যখন করেছিস তাহলে খাই।”
মেহরিমা রান্নাঘরে এসে আরেকটা ডিম ভাজতে বসলো। মেহজাবিনকে খেতে তো বলেছে। কিন্তু ওর জন্য তো কিছু রান্নাই করেনি।
খেতে এসে দুটো প্লেট দেখে মেহজাবিন বলল, “তখন তো এত্তোগুলো খেলি। তাও তো খাওয়া হয়নি?”
“এটা আমার না।”
“কার?”
আমতা আমতা করে মেহরিমা বলল, “একটা কাজ করে দিবি সোনা?”
মেহজাবিন ভুরু উঁচু করলো, “সোনা!”
বোনের হাত ধরলো মেহরিমা, “তোকে ঐ ঝুমকোর সেটটা কিনে দেবো।”
“কি করতে হবে?” ত্যাড়ছা কণ্ঠে বলল মেহজাবিন।
“এই প্লেটটা একটু শাহরিয়ার ভাইকে দিয়ে আসবি।”
“কিহ!” যেন কড়াই থেকে গরম তেল ছুটে এলো। এভাবেই ছিটকে সরে গেলো মেহজাবিন।
“আস্তে! চ্যাচাস না!”
“আমি পারবো না।”
“আমার ভালো বোন! প্লিজ!”
“ঐ লোক খেলো না খেলো তাতে তোর কি?”
আসল কথাটা গলায় এসে আটকে গেলো। ঢোক গিলে সেটা ফেরত পাঠিয়ে দিলো মেহরিমা। বলল, “রুমি ফোন করে বলল শাহরিয়ার ভাই ওবাড়ি থেকে কিছু খেয়ে আসেনি। এখন যদি কিছু না করি কেমন দেখায় না?”
“মা জানে?”
“না।”
“তাহলে আমি যাবো না।”
“এমন করে না জাবিন। দেখ কাজটা কিন্তু খারাপ না। অভুক্ত একটা মানুষকে পাশে রেখে আমরা ঘুমিয়ে যাবো? তার সাথে তো আমাদের শত্রুতা নেই।”
“তার বাবার সাথে আছে।” একগুঁয়ে কণ্ঠে বলল মেহজাবিন।
“চাচাকে তো দিচ্ছি না কিছু। যা না জাবিন! দাদা শাহরিয়ার ভাইকে অনেক ভালোবাসতো জানিস?”
মেহজাবিনের মুখের কঠিন ভাঁজ মিলিয়ে গেলো। অদ্ভুতভাবে বিশ্বাস বাড়ির সব মানুষ আফজাল বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করে। আজাদ বিশ্বাসও বাদ যান না। অন্যদের বেলায় শক্ত কথা বলা মানুষটাও বাবার কথা শুনে কণ্ঠ নিচু করে ফেলেন। দাদার আদর বেশিদিন না পেলেও সেই মানুষটার জন্য মেহজাবিনের মনে একটা সংরক্ষিত জায়গা আছে।
মেহজাবিন মেনে নিতে যেয়েও বেঁকে বসলো, “উনার সাথে কখনও কথা বলেছি নাকি আমি? এখন একা এক কিভাবে যাবো?”
“আমি দরজার কাছে দাঁড়াচ্ছি।”
“তাও..”
“বাইরে থেকে দিয়ে চলে আসবি শুধু।”
“সকালে আম্মু জানলে অনেক বকবে।”
“সব আগের মতো করে রাখবো। দুটো ডিম কিনে রেখে দেবো কালকে। তুই যা না ময়না!”
নিশ্বাস ছাড়ল মেহজাবিন, “আচ্ছা।”
পা টিপে টিপে দু’বোন দরজার কাছে গেলো। মেহরিমা উঁকি দিয়ে দেখলো শাহরিয়ারের ঘরের আলো জ্ব-লছে। তার মানে দাদার ঘর থেকে চলে এসেছে।
“ঘরেই আছে যা।”
“তুই কিন্তু এখানে দাঁড়াবি।”
“দাঁড়াচ্ছি যা।”
অস্বস্তি ভরা মন নিয়ে শাহরিয়ারের ঘরের দিকে গেলো মেহজাবিন। বারান্দা পেরিয়ে উঠলো না। ওখানেই দাঁড়িয়ে একবার দেখে নিল মেহরিমা আছে কি না। মেহরিমা হাত নাড়লো।
“ভাইয়া?”
চূড়ান্ত অস্বস্তি নিয়ে ডাকলো মেহজাবিন। কোনোদিনই তো ডেকেছে বলে মনে পড়ছেনা।
শাহরিয়ার চমকে তাকালো। জামা কাপড় পাল্টে কেবলই বিছানার ঝাড় দিয়েছিল। যদিও পেটে ক্ষুধার মেঘ চক্রাকারে ঘুরছে তবু কিছু করার নেই। ডাক শুনে দরজা ঠেলতেই অপরিচিত একটা মুখ দেখা দিল। শাহরিয়ার চিনতে পারলো না। কিন্তু বুঝতে পারলো মেহরিমা যেহেতু না তার মানেই মেহজাবিন।
“আপনার খাবার।” প্লেট এগিয়ে দিলো মেহজাবিন। শাহরিয়ার অবাক হলো, “আমার?”
“জি।” মেহজাবিন তার দিকে তাকাচ্ছে না। মেঝের দিকে তাকিয়ে আছে।
প্লেটে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত। ডিম ভাজার এক পাশে আলু ভর্তা গোল করে রাখা। শাহরিয়ারের কপালের ভাঁজ সমান হয়ে এলো। বুঝতে কষ্ট হলো না এর পেছনে কে আছে। সাত বছর আগের ছবি সরে গিয়ে চোখে ভাসলো আজকে দুপুরেই দেখা ঘর্মাক্ত একটা মুখ।
“কেমন আছো মেহজাবিন?” প্লেট হাতে নিয়ে বলল শাহরিয়ার।
“ভালো।”
“কোন ক্লাসে পড়ছো?”
“ক্লাস নাইন।”
“আমরা যখন চলে যাই তুমি থ্রিতে পড়তে। মনে আছে?”
একরোখা কণ্ঠে জবাব দিলো মেহজাবিন, “না।”
শাহরিয়ার প্লেট রাখলো। মেহজাবিন চলে যাচ্ছিল। শাহরিয়ার তাকে থামালো।
“দাঁড়াও মেহজাবিন।”
মেহজাবিনের বিরক্ত লাগলো। এই লোকটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে না।
নিজের ঢাউস সাইজের ব্যাগ থেকে দুটো প্যাকেট বের করলো শাহরিয়ার। মেহজাবিনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “এগুলো তোমাদের।”
“আমাদের মানে?”
“তোমার আর মেহুর।”
“আমি নেবো না।”
“কেন?”
“মা বকবে।”
শাহরিয়ার দমে গেলো, “ঢাকা থেকে তোমার জন্য নিয়ে এলাম। তোমার ভাই দিলে নিতে না?”
“আমার ভাই বছরের পর বছর আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে থাকতো না।” বলেই মেহজাবিন চলে গেলো। বিষন্ন মন নিয়ে খেতে বসল শাহরিয়ার। আলু ভর্তা মাখা ভাত মুখে দিতেই মনটা ভালো হয়ে গেলো। কল্পনায় ভেসে উঠলো যুবতী মেহরিমার শাড়ি পরিহিতা ছবি। কেমন হতো সে এখন শাহরিয়ারের সামনে বসে থাকলে?
“কি বলল শাহরিয়ার ভাই?”
“তোমার পরানের ভাই কি যেন এনেছে ঢাকা থেকে। সেটা দিয়ে হাত করতে চাচ্ছে।”
“কি এনেছে?”
“এনেছি নাকি আমি? ফেরত দিয়ে এসেছি হুহ!”
“ছি জাবিন! উনি তোর বড় ভাই। তুই বেয়াদবি করেছিস।”
“নেবো কেন? এতদিন কথাবার্তা নাই এখন এসে কিছু দিলেই নেবো?”
“এতদিন কথা তো আমরাও বলিনি। তবু সে আমাদের সাথে কথা বলেছে। আমাদের জন্য গিফটও এনেছে। তার মানে আমাদের মনে রেখেছে। তুই প্লেট আনতে যেয়ে সরি বলে ওগুলো নিয়ে আসবি।”
“আম্মু তো শুনবে কোথায় পেলাম।”
“আমি কিছু একটা বলে দেবো “
ভাত খেতে খেতে মেহজাবিনের মনে হলো আপা শাহরিয়ার ভাইয়ের জন্য একটু বেশীই দরদ দেখাচ্ছে। বেজার মুখ করে প্লেট আনতে গেলো মেহজাবিন। সরি সে বলল না। মুখ নিচু করে বলল, “প্যাকেট দুটো দিন।”
শাহরিয়ার হাসলো। মেহু নিশ্চয়ই কিছু বলেছে।
প্যাকেট মেহজাবিনের হাতে দিয়ে বলল, “মন থেকে ভাই ডাকবে মেহজাবিন। তাহলে এত রাগ হবে না।”
তীক্ষ্ম চোখে শাহরিয়ারের দিকে তাকিয়ে চলে এলো মেহজাবিন। কেমন করে খোঁচা দিলো!
পরদিন বিকেলে শেলী সুসংবাদ নিয়ে মেয়ের কাছে উড়ে এলেন। ইউনূস চাকরি পেয়েছে। মেহরিমা বিরক্ত হলেও কিছু বলল না। হৈ চৈ শুনে শাহরিয়ার রুমিকে ডাকলো। তারা তখন বাড়িতেই ছিল। রুমি উড়ো যেটুকু শুনেছে তাই বলল ভাইয়ের কাছে।
“উনার সাথে শুনলাম মেহু আপার বিয়ের কথা চলছে।”
শাহরিয়ার কঠিন মুখে বসে রইলো।
~চলমান~
আনোয়ারুল হক ভাবলেন ঘুমিয়ে গেছে বোধহয়। শব্দ পেয়ে তাকালো জুঁই, “আসো আব্বু।”
আনোয়ারুল হক বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, “জ্বর কমেছে?”
“হ্যাঁ।”
“ভালো লাগলে একটু বই দেখো। নাহলে তো কালকে একদম লিখতে পারবে না।” মাথা নাড়ল জুঁই। বেলী ঘরে ঢুকতে ঢুকতে শুনলো আনোয়ারুল হকের কথা। তিনি চলে গেলে উঠে বসলো জুঁই। বিছানায় হেলান দিয়ে বলল, “বইটা দে বেলী।”
বেলী রাগ করলো, “রাখেন আপনার পড়াশোনা। সারা জীবন তো পড়তেই আছেন। ডাক্তার বলছে না বিশ্রাম নিতে? ঘুমান।”
“ঘুমাবো বেলী। ডিএমসিতে চান্স পেয়ে ঘুমাবো। দে বই দে।” জুঁইয়ের গলাটা কেঁপে উঠল। বুঝতে পারল বেলী। আর কথা না বাড়িয়ে বই এগিয়ে দিলো। নিউজপ্রিন্টের পৃষ্ঠার দিকে ঝাপসা চোখে তাকিয়ে জুঁই বিড়বিড় করে বলল, “পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে আমার মরণ দিও না আল্লাহ।”
জুঁই তো জানে না পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে কারোরই মরণ হয় না। কারো না।
*
ই-বুক “কৌমুদী”
https://link.boitoi.com.bd/qvDe
মূল্য: ৩০ টাকা (ঈদ উপলক্ষ্যে ১০% ছাড়ে ২৭ টাকা)
শুধুমাত্র বইটই থেকে

