চৈত্রের_প্রেম_নির্বাসন—১০ #আরোবী_খান_সিনথিয়া

0
2

#চৈত্রের_প্রেম_নির্বাসন—১০
#আরোবী_খান_সিনথিয়া

মাহির গাড়ি থামিয়েছে একটা পার্কের সামনে। পিহু গাড়ি থেকে নেমেই ছুটে চলেছে ফুচকার দোকানে। মাহির গাড়ি পার্ক করে , গাড়ি তে থাকা সানগ্লাসটা চোখে দিয়ে বের হয়ে আসল গাড়ি থেকে। পকেটে দু’হাত গুঁজে পিহুর কাছে আসতে লাগল !

পিহু ফুচকার অর্ডার দিয়ে মাহিরের দিকে তাকাতেই বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। মাহির ভীষণ স্টাইল করে চলে ! পরিপাটি লুকেই দেখা যায় তাকে ! এর জন্য ও অনেকটাই ফেমস এলাকাতে ! পিহু মাহিরের দিকে একবার তাকিয়ে আশপাশ তাকালো।পার্কের মেয়েরা মাহফিলের দিকে একটু পর পর তাকাচ্ছে ! মাহিরের পাশ দিয়ে দু’টো মেয়ে ইচ্ছে করে চলে গেল। পেছন ঘুরে আবার দেখল , মাহির তাদের দিকে তাকাচ্ছে নাকি ! পিহুর মুডটা ঘুরতে এসে যেই ভালো হয়েছিল , এই দৃশ্যটি দেখে মুডটায় বিগড়ে গেল।

পিহুকে ফুচটাওয়ালা মামা ফুচকার প্লেট এগিয়ে দিল। পিহু তখনও খাইনি। মরিচের গুঁড়া রাখা বোতলটা নিয়ে
একটা ফুচকায় ইচ্ছে মতো মরিচের গুঁড়ো ঢেলে দিল।

সবে মাহির পিহুর কাছে এসেছে। পিহুকে পেছন থেকে বলল , — “একটু ওয়েট করলে কী হয় ? ফুচকা শেষ হয়ে যাচ্ছিলো ?”

পিহু পেছন ঘুরে , দাঁত বের হাসল। দেখল , মাহির সানগ্লাসটা খুলে আশপাশ দেখছে। পিহু তড়িৎ গতিতে একটা ফুচকা মাহিরের ঠোঁটের সামনে ধরল। মাহির ভ্রু কুঁচকে একটু সরে এসে বলল ,

— “আমি এসব খাই না ; তুই খা।”

পিহুর মুখ মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। আমতা আমতা করে বলল , — “একটা খেলে কী হয়? আপনাকে প্রথম ফুচকাটা খাওয়াবো বলে , আমি এখনো খাইনি !”

পিহুর কথা শুনে , মাহির মুহূর্তেই পিহুর হাত থেকে গপ করে ফুচকাটা খেয়ে ফেলল। পিহুর চোখে মুখে দুষ্টু হাসির ছোঁয়া।

ফুচকাটা খেতেই মাহির চোখে সরষে ফুল দেখতে লাগল। “আ…”ঝালে চেঁচিয়ে উঠল। আস্থির হয়ে উঠল , — “পিহুর বাচ্চা !”

মাহিরের গর্জন শুনতেই পিহু খিলখিলিয়ে হেসে উঠল। হাসি চেপে বলল , — “আমার এখনো বিয়ে হয়নি। তাহলে বাচ্চা কোথা থেকে আসবে ?”

মাহির হাঁসফাঁস করছে রীতিমতো। গর্জে উঠল ,
— “তোকে আমি পরে দেখে নিব ! আ…ও খোদা ! কী মিশিয়েছিল মরিচ নাকি বোম্বাই মরিচ!”

মাহিরের চেঁচামেচি শুনে ফুচকাওয়ালা মামা এক মুহূর্ত পিহুকে দেখলেন। সে তখনো হেসে যাচ্ছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাহিরকে পানির বোতল এগিয়ে দিলেন ,

— “বা জান লও! যলদি পানি খাও ! তোমার গার্লফ্রেন্ডটা বহুত পাজি ! এত ঝাল কেউ খাওয়ায় ? মনে অয় তোমার লগে রাগ করসে! কিছু মনে করো
না ! বেশি রাগ করো না মায়টার ওপর ! মাইয়াটা আমার মাইয়ার মতোই পাজি!”

মাহির দ্রুত পানির বোতল নিয়ে , পানি খেতে লাগল ঢক ঢক করে। পিহুর মুখ কিছুটা চুপসে গেল মামাটার কথা শুনে। চাপা স্বরে বলল , — “আমরা গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড না , মামা ।”

মামা হেসে বললেন , — “তয় তোমার হবু স্বামী ?”

পিহু বলতে নিল , কিন্তু মামাটা আর শুনলেন না। “থাক
থাক আর বলা লাগবে না !” বলে মুখ উল্টে ফুচকা তৈরি করতে লাগলেন। পিহু অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকল শুধু।

মাহির পানি খেয়ে কিছুটা শান্ত হলো। পিহুর কান টেনে ধরতেই , পিহু “আ…” বলে চেঁচিয়ে মাহিরের দিকে তাকালো। মাহির গরম গরম চোখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।

পিহু কান ছাড়াতে নিলে , মাহির আরও কান টেনে বলল , — “এখন আমি কী করলাম ?”

— “কান ছাড়ুন !”
— “আগে বল ! আনসার মি !”
— “রাগ নেই !”
— “তাহলে ?”
— “….”
— “চুপ করে আছিস কেন ? বল , ইডিয়েট!”

— “আপনার এত স্টাইল করার কী ছিল ?”

পিহুর প্রশ্নে থতমত খেল মাহির। বিস্ময় কন্ঠে সুধালো ,

— “মানে ?”
— “হাবলা-গোবলা হয়ে থাকতে পারেন নাহ ?”
— “….”
— “মেয়েদের এটেন পেতে ভালো লাগে তাই না ?”
— “…”

— “সব মেয়েরা শুধু আপনার ওপর ক্রাশ খাবে। এটাই তো চান আপনি ! তাই তো এতো সেজেগুজে থাকেন।
কী ভাবেন আপনি ? বুঝি না কিছু ! সব বুঝি আমি !”

কথাগুলো শুনে , মাহির পিহুর কান ছেড়ে দিল। পিহুর মুখের দিকে ঝুঁকল। পিহু মুখটাকে কিছুটা দূরে নিয়ে গেল। মাহির পিহুর চাহনিতে চাহনি মিলিয়ে চাপা স্বরে বলল , — “রং ! সব মেয়েদের জন্য না ! আমি যাস্ট একটা মেয়ের জন্যই স্টাইল করি চলি ! যাতে পদে পদে তাকে নিজের প্রেমে পরতে বাধ্য হয়!”

শেষের কথাটা শুনে পিহুর চাহনি বড় বড় হয়ে আসল।
মাহির ডান চোখ দিয়ে চোখ টিপি মেরেই সোজা হয়ে দাঁড়ালো। পিহু কয়েক সেকেন্ড মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল ! মাহির পিহুকে তাড়া দিল , ফুচকা শেষ করার জন্য !

পিহু দ্রুতই ফুচকা খাওয়া শেষ করল। মাহির ভ্রু কুঁচকালো। পিহু তাড়া দিল , সে আর ঘুরবে না , বাড়ি যাবে ! মাহির যদি বাড়ি নিয়ে না যায় , তাহলে সে একাই চলে যাবে !

কথা শুনে মাহির কিছু না বলেই আবার সানগ্লাসটা চোখে দিয়ে পকেটে হাত গুঁজে হাঁটা ধরল। পিহু মাহির পেছন পেছন আসতে আসতে বলল ,

— “কোথায় যাচ্ছেন ?”
— “তোকে কেন বলব ?”
— “বাড়ি চলুন।”
— “তুই যা !”
— “আপনি যাবেন না ?”

— “আমার এখন বাড়ি যেতে মুডে বিঁধছে। তোর যেতে মন চাইলে , তুই চলে যা ।…দাঁড়া! যাওয়ার আগে আইসক্রিম খেয়ে যা !”

মাহির হাঁটতে হাঁটতে আইসক্রিমের ভ্যানের দিকে যেতে লাগল। বলল , — “ ভাববি না , তোকে আটকাচ্ছি ! একা একা আইসক্রিম খেতে নেই ! তাই তোকে নিয়ে খাচ্ছি ! আইসক্রিম খাওয়া হলে , তুই তোর রাস্তা আর আমি আমার !”

পিহু ভ্রু কুঁচকালো , — “আইসক্রিম একা খেতে নেই কেন ?”

মাহির আইসক্রিমের অর্ডার দিয়ে বলল ,
— “পাপ হয় !”

পিহু মুখ বাঁকালো , — “পাপ হয় ? মাই ফুট! কোথায় এমন পাপের কথা শুনলেন ?”

মাহির আইসক্রিম পিহুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল ,
— “আইসক্রিম লাভারদের খাবার! লাভার মিনস টু পিপল ফলস ইন লাভ ফোর ইচ আদার ! তাই একা একা খাওয়া নিষিদ্ধ !”

মাহিরের কথাটা শুনে , পিহু মাহির থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ফেলল। আশপাশ তাকিয়ে খেতে খেতে বলল ,
— “তাহলে আমরা খাচ্ছি কেন ? আমরা কী
লাভারস ?”

মাহির উত্তর দিল না কোন। উত্তর না পেয়ে পিহু মাহিরের দিকে তাকালো। মাহির আশপাশ দেখছে। পিহু মাহিরের কোমরের সাইডের শার্ট ধরে টানতেই মাহির টিপুর দিকে তাকালো , — “কী ?”

— “আপনি বললেন না ?”
— “কী বলব ?”

— “আমরা তো লাভারস না! তাহলে তো পাপ হবে খেলে !”

মাহির হাসল। চাপা স্বরে বলল , — “সমস্যা নেই ! আমার শাস্তি শুধুই আমার। কিন্তু তোর শাস্তিটাও আমিই মাথা পেতে নেবো!”

পিহু ভ্রু কুঁচকালো। একবার হাতে থাকা আইসক্রিমের দিকে তাকালো। তারপর মাহিরের দিকে। উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল , — “আমি আপনার কোন ক্ষতি চাই না ! আপনি আমার জন্য কষ্ট পান এটাও চাই না !”

মাহির হেসে টিপুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল ,
— “কিন্তু আমি তো এই শাস্তি বার বার পেতে চাই ! তোর নামের সব শাস্তি আমার হোক! আর শতবার হোক !”

মাহির টিপুর দিকে তখনো তাকিয়ে ছিল। পিহু কিছুটা লজ্জা পেল নাকি অস্বস্তিতে ছিল তা তার জানা নেই , মাহিরের দৃষ্টিতে সে দৃষ্টি দিতে পারল না ! আশপাশ তাকাতে তাকাতে খেতে লাগল। তখনও পিহু টের
পেল , তার দিকে তখনো মাহির তাকিয়ে !

মাহিরের মোবাইলে কল আসার শব্দ হলে , মাহির প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল বের করে কল তুলল। পিহু মাহিরকে দেখছে। মাহিরের মুখটা ফ্যাকাশে। কথা শেষ এ বলল , — “আসছি !”

কল রেখে মাহির পিহুর দিকে তাকালো। পিহুর উৎসুক দৃষ্টি। মাহির বলল , — “আমার একটা কাজ এসেছে ! চল বাড়ি যাওয়া যাক!”

পিহু মাথা নাড়ল। গাড়ির কাছে আসতেই , মাহির পিহুর জন্য দরজা খুলে দিল। কিন্তু পিহু ফ্রন্ট সিট ছেড়ে পেছনের দরজা খুলে সিটে বসে গেল। মাহির ভ্রু কুঁচকালো। মেয়েদের মুড বোঝা ভীষণ কষ্টের ছেলেদের জন্য। এই একটু আগে তার সাথে ঘুরল , খেলো। আর এখন তাকেই ইগনোর করে চলে গেল। মাহির তখন দরজা খুলে রেখেছে। পিহু জানালার কাঁচ নামিয়ে বলল , — “কী হলো এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?”

মাহির জানালার কাঁচে আঙুল নাড়িয়ে বলল ,
— “এখানে বস!”
— “কেন ? এখানে বসলে কী সমস্যা?”
— “আই ডোন্ট লাইক ইট! ইউ হ্যাভ টু সিট উইথ মি !”

মাহিরের শক্ত মুখের কথা শুনে পিহু বের হয়ে আসল। ফ্রন্ট সিটে বসতেই মাহির শব্দ করে দরজা লাগানো। পিহু কিছুটা কেঁপে উঠলো। মাহির সিটে বসতেই গাড়ি স্টার্ট দিল।

*

নেক্সট পর্ব—

https://www.facebook.com/share/p/1AsgX2x9tW/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here