#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতেঃ মিথিলা মাশরেকা
১০.
হাজারটা চিন্তা মাথায় নিয়ে দ্রুতপদে পুলিশস্টেশনে ঢুকলো সাইফ। উদ্দেশ্য, সবুজের হ*ত্যাকান্ড আর ওর কেইসগুলোর সম্পৃক্ততা নিয়ে স্পষ্টতর হওয়া। প্রেসমিডিয়ার সবাই জানে, আগেররাতে ওর সাথেই শেষবারের মতো সবুজকে দেখা গিয়েছিলো। তাছাড়া ওদের সাথে থাকা জুনিয়রদের কেউ একজন নাম প্রকাশ না করে বলেছে, মেয়েঘটিত কোনে এক কারনে সবুজকে খু*নের হুমকি দিয়েছিলো চঞ্চল। সাইফের সন্দেহ, ছেলেটা অন্য কোনো মেয়ে নয়, স্নিগ্ধতার কথাই বুঝিয়েছে। চঞ্চল নামক এই নি*কৃষ্ট ছেলেটার কুৎসিত ছায়া পরেছে ওর বোনের ওপর। কিন্তু বিষয়টা আরো জটিল হয়ে উঠছে অন্য জায়গায়। সবুজের মৃত্যুর ধরন দেখে সাইফ নিশ্চিত খু*নি ওর সেই আকাঙ্ক্ষিত সিরিয়াল কিলার। রানিং চারটে মা*র্ডার কেইসের সাথে পুরোপুরিভাবে মিলে গেছে সবুজের মৃ*তদেহে পাওয়া সমস্ত লক্ষন। আর তার মানে একটাই। হয় এ সবগুলো খু*নের সাথে চঞ্চল জড়িত, নয় সবুজের খু*নী কোনোভাবেই চঞ্চল হতে পারে না।
কন্সটেবলকে নিজের আইডি দেখিয়ে সাইফ ভেতরে ঢুকলো। সবুজের খু*নী সন্দেহে চঞ্চলকে পার্শ্ববর্তী থানায় ধরে আনা হয়েছে। যদিও ওর থানার আন্ডারে হলেও কেইসটা ও পেতো না। রানিং কেইসের সাথে সম্পৃক্ত, এমনটা বলে উপরমহল থেকে অনুমতি নিতে হয়েছে ওকে। ভেতরে ঢুকে সাইফ কর্তব্যরত অফিসারকে স্যালুট দিয়ে পরিচয় দিলো নিজের। অফিসার উঠে দাড়িয়ে হ্যান্ডশেইক করলেন সাইফের সাথে। বসার ইশারা করে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বললেন,
-প্লিজ বি সিটেড ইন্সপেক্টর এহমাদ। আফজাল স্যার সবেই কল করেছিলেন আমাকে। তোমার বুদ্ধিমত্ত্বার প্রশংসা করলেন অনেক।
-থ্যাংকস্ স্যার।
সাইফ বসলো। অফিসার হাসিমুখে ওকে নিয়ে হয়তো বলতে চাইছিলেন আরো কিছু। সাইফ সে সুযোগ না দিয়ে, কোনোরকম সংকীর্ণতা না দেখিয়ে সরাসরি বললো,
-সবুজের ফরেনসিক রিপোর্ট কি এসে গেছে?
অফিসার হাসলেন। টেবিলে থাকা দুটো ফাইল সাইফের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন,
-ইয়েস ইয়েস ইয়াংম্যান! আফজাল স্যার বলেছিলেন, তুমি কাজে খুব ডেডিকেটেড। তাই তুমি আসবে শুনেই সবটা গুছিয়ে রেখেছি আমি। আর কেইসটাও তোমাকে হ্যান্ডওভার করার ব্যবস্থা করে রেখেছি।
সাইফ ফাইলদুটো হাতে নিলো। অদ্ভুত এক অনুভূতি হচ্ছে ওর। আস্তেধীরে খুললো ফাইলদুটো। আগের খুনগুলোতে যেসব মিলগুলো ছিলো, এটাতেও তাই। সাইফ ফাইল দেখে বললো,
-আগে খু*ন হওয়া মানুষগুলো কোনো বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ না হওয়ায় সেগুলো নিয়ে সেভাবে ঘাটানো হয়নি। অতিসহজে ধামাচাপা পরে গিয়েছে নানা কেইসের ভীড়ে। কিন্তু এবার তো একটা সনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খু*ন হয়েছে। কেউই এবার চুপ বসবে না। আমার মনে হচ্ছে এজন্যই সবাই মিলে হঠাৎ করে ডেডিকেটেড হয়ে উঠছি আমরা। তাইনা স্যার?
সাইফের স্পষ্টকথায় অফিসার অবাকচোখে তাকিয়ে রইলেন। সাইফ বললো,
-আপনার থানার আন্ডারে সেইম প্রসিডিওরে আরেকটা খুন হয়েছিলো ঠিক ছ মাস আগে। এতো ভয়ানক খু*ন, তার তদন্ত থেমে গেলো। কেনো? সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে। এমন ডেডিকেশন আমাদের যে, পাঁচ পাঁচটে ভয়ানক খু*ন করা অপরাধী এখনো শাস্তি না পেয়ে, দিব্যি বাইরে ঘুরে বেরাচ্ছে তার পরবর্তী শিকারের খোজে। তাই আর যাই হোক, ডেডিকেশনের কথা এটলিস্ট আমাদের মুখে মানায় না। আমার তো এমনই মনে হয়। আপনার কি মত স্যার?
-কিন্তু আমরাও তো চেষ্টার ত্রুটি রাখিনি কোনো।
-জ্বী। এতোবেশি যে, এই চারটে কেইস একটা অপরটার সাথে রিলেটেবল কিনা, সেটা জানতেই ডিপার্টমেন্ট ছ মাস সময় লাগিয়েছে।
-তুমি জানো সাইফ, আলাদা আলাদা করে হলেও, খু*নীকে খোজার জন্য যথেষ্ট জোরালোভাবে ইনভেস্টিগেট করেছি আমরা। প্রমাণ না পেলে আমাদের আর কি করার থাকে?
সাইফ আর কথা বাড়ালো না। চঞ্চলের সাথে ওর কথা বলা জরুরি। ফাইল হাতে উঠে দাড়াতেই অফিসার নিজেও দাড়িয়ে গিয়ে বললেন,
-চঞ্চল কাস্টাডিতে নেই।
-নেই মানে? কোথায় ও?
-ডিসি স্যারের কল করে ছেড়ে দিতে হয়েছে।
-কিহ্?
-হ্যাঁ। ভার্সিটির ছাত্রদল নাকি নোটিশ দিয়েছে, বিনা প্রমানে ওকে বারে রাখলে ওরা আন্দোলন করবে।
কপাল কুচকে আসলো সাইফের। চঞ্চল যে ক্যাম্পাসে ভালোমতো নিজের কর্তৃত্ব গড়েছে, সেটা টের পেলো। এই কর্তৃত্বের জেরেই কি এতোগুলো খু*ন করেছে ও? কিছুতেই বিষয়টা বোধগম্য হলো না ওর। কপাল চেপে ধরলো ডানহাতে। তারপর ফোনটা বের করে কল লাগালো ইন্সপেক্টর আফজালের নম্বরে। কলটা রিসিভ হলে সালাম দিয়ে বললো,
-আমি চঞ্চলকে ক্রসকোশ্শেন করতে চাই স্যার। এজ সুন এজ পসিবল।
-তোমার কল আসবে, জানতাম। আমি কথা বলেছি ডিসি স্যারের সাথে। ইউ মে প্রসিড।
-চঞ্চলকে কাস্টাডিতে রাখতে বারন আছে। ক্রশকোশ্শেনে বারন থাকার কথা না। আমি তো পার্সোনালি কথা বলবো ওর সাথে। তাই ডিসি স্যারের পারমিট নেওয়ার কথা ভাবিনি। আপনাকে কল করার কারনটা অন্য।
-কি?
-এ কেইসগুলোর সব সাসপেক্টের ইন্টারোগেসিতে একজন সাইকোলজিস্টের উপস্থিতি আবশ্যক। আমি চঞ্চলকে ইন্টারোগেট করার সময়ও একজন সাইকোলজিস্টকে সাথে রাখার কথা ভাবছি। যদি আপনি চান তো…
সাইফকে শেষ করতে না দিয়েই ইন্সপেক্টর আফজাল বলে উঠলেন,
-এটাও ভেবেছি আমি সাইফ। আমার চেনা আছে একজন। তুমি চাইলে কালকেই মিট করতে পারো ওর সাথে। ডিটেইলস টেক্সট করছি কেমন?
সম্মতি জানিয়ে কল কাটলো সাইফ। একটু দাড়িয়ে কিছু একটা ভেবে গাড়িতে উঠে বসলো ও। সিটবেল্ট লাগানো শেষে ফোনের স্ক্রিনে আসা ম্যাসেজ নোটিফিকেশনে শুধু প্রথমলাইনের নামটাই দেখলো। “ইয়াকীন শারাফ।”
•
ব্রেকটাইমে অনুর সাথে ক্লাসেই বসে ছিলো স্নিগ্ধতা। বেশিরভাগই ক্লাসের বাইরে। ভার্সিটির ছাত্রখু*ন ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসই বেশ উত্তল। সাইফ অনুকে বলে গেছে স্নিগ্ধতা যেনো কোনোরকমের ভায়োলেন্সের ধারেকাছে না যায়। তাই ওকে নিয়ে ক্লাসেই বসে আছে অনু। পেন্সিলস্কেচ করছে, মাঝেমধ্যে স্নিগ্ধতাকে জিজ্ঞাসা করছে, বর্ডার আরো বাড়াবে কিনা, পেন্সিলের শ্যাডো বা স্ট্রাইক কতো হালকা বা গাঢ় করলে ভালো হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। নিজের আঁকানো স্কেচে কেনো যেনো সবসময় খুঁত খুজে পায় ও। স্নিগ্ধতা কিছুই বলছে না। শুধু চুপচাপ মিটমিটিয়ে হাসছে আর দেখছে অনুর আঁকানো। অনু এবারে জবাব না পেয়ে অধৈর্য হয়ে তাকালো ওর দিকে। স্নিগ্ধতা তখনও গালে হাত রেখে মুচকি হাসছে। অনু চোখ ঘুরিয়ে আঁকানোতে মনোযোগ দেওয়ার ভঙিমায় বললো,
-এই মনোযোগটা আমার চেহারায় না দিয়ে আমার ড্রয়িংয়ে দে প্লিজ? তোর সাজেশন শুনে আমার একটা স্কেচ অন্তত তোরগুলোর মতো সুন্দর হোক?
-তোর এই ড্রয়িংটাও খারাপ হবে দেখিস।
স্নিগ্ধতার কথায় পেন্সিল থামালো অনু। পাশ ফিরে বললো,
-তুই না বললেও জানি আমি। তোর মতো অতো ভালো হয় না আমার। এজন্যই তোকে বলছিলাম বলে দিতে। স্ট্রাইক কোথায় কম পরেছে? নাকি কোথাও বেশি হয়েছে?
স্নিগ্ধতা ব্যাগ থেকে নিজের পেন্সিল-স্কেচবুক বের করলো। আঁকিবুঁকি করতে করতে বললো,
-একটা কথা বলতো অনু? স্কেচিং কি সাজেস্ট করে সুন্দর করার মতো কিছু?
-হ্যাঁ। তুই দেখিয়ে দিলে এটা আরো সুন্দর হবে।
-একদমই না! তুই যা আঁকাস তা এমনিতেও সুন্দর হয়। খারাপটা কখন হয় জানিস? এইযে তুই যতোক্ষন হলো আমাকে শ্যাডো আর স্ট্রাইক নিয়ে বলে চলেছিস, তখনই তোর নিজের কল্পনায় ছেদ ঘটেছে। আমাকে না বলে, নিজে থেকে চিন্তা করলে ততোক্ষণে তোর চোখেতেই স্কেচের লাইটনেস ডিপনেসের রেন্জ ধরা দিতো। এভাবেই নষ্ট করছিস ছবিটা। আমার কল্পনায় আলোছায়া আর তোর কল্পনার আলোছায়া এক কি করে হবে বল?
ছোট একটা শ্বাস ফেলে একবার বাইরে তারপর স্নিগ্ধতার খাতার দিকে তাকালো অনু। ইতিমধ্যে স্নিগ্ধতা ক্লাসের দরজা দিয়ে আসা বিকেলের রোদ, ডাইস, টেবিল আর বোর্ড ক্যানভাসের নকশা একে ফেলেছে খাতায়। অনু বললো,
-ভাই, তুই পারিসও!
মুচকি হাসিতে, ঘাড় কাত করে আঁকানোতেই মনোযোগ রাখলো স্নিগ্ধতা। হঠাৎ কিছু পরে যাওয়ার শব্দ কানে আসলো ওর। পাশ ফিরে দেখে ওর সিটবেঞ্চে হেলান দিয়ে রাখা ক্যানভাসটা ফ্লোরে পরে আছে। তার পাশের বেঞ্চে পেছনে হাত ঠেকিয়ে আলিশা দাড়িয়ে। শার্ট, জিন্স হাইহিল পরে চুইংগাম চিবোচ্ছে।
-তোর সমস্যাটা ক্…
দাত কটমটে কিছু বলতে যাচ্ছিলো অনু।
স্নিগ্ধতা হাত চেপে ধরে থামিয়ে দিলো ওকে। ইশারায় বুঝালো শান্ত থাকতে। ওর এমন শান্তশিষ্ট ভাবে প্রতিবারের মতো এবারো অনু নিভে গেলো। চুপচাপ ক্যানভাসটা তুলতে যাচ্ছিলো স্নিগ্ধতা। আলিশা ক্যানভাসটা কেড়ে নিলো। পেছনে এক মেয়ের হাতে পাস করে বললো,
-শুধু এই ক্যানভাসে এতো মনোযোগী না হয়ে, আশেপাশেরও একটুআধটুখবর নে ইয়ার!
…
-তোকে গতদিন চঞ্চল ভাই কিছু বলেছিলো না? তো সে দায়ে, আজকেই তোর ভাই তাকে মার্ডারকেইসে ফাসিয়ে দিলো? বাব্বাহ্!
স্নিগ্ধতা এবার সামলাতে পারলো না নিজেকে। উঠে দাড়ালো ও আলিশার মুখোমুখি। কিন্তু কিছু বলার আগেই একেএকে ক্লাসে ঢুকতে লাগলো সবাই। আলিশা আর ওর সাথের মেয়েদুটো সিটে গিয়ে বসলো। স্নিগ্ধতা দেখলো, ডিপার্টমেন্টের সবাই চলে আসার পরেও ঢুকছে অচেনা ছয় সাতজন। অবশ্য পরে খেয়াল করলো, সবাই অচেনা না। তিনটে চেনামুখ। তাদের মাঝ থেকে অগ্নিলা হাতের কাগজগুলো টেবিলে রেখে বললো,
-আসসালামু আলাইকুম এভরিওয়ান। এভাবে হঠাৎ আপনাদের বিরক্ত করার জন্য আন্তরিকতাভাবে দুঃখিত। আপনাদের তো মেবি ব্রেকটাইম চলছে তাইনা? ইফ ইউ অল কো অপারেট, আমরা কিছু কথা বলতে চাই।
সম্মতি দিলো সবাই। বসে গেলো বাধ্যের মতো। স্নিগ্ধতাও একপলক আলিশাকে দেখে চুপ করে বসে গেলো। সবাইকে আগ্রহূ দেখে অগ্নিলা হেসে বললো,
-গ্রেট। প্রথমেই পরিচয় দেই আমাদের। আমরা ভার্সিটির সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে এসেছি। ভার্সিটির বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদের মেন্টাল হেল্থ ইস্যুতে, একটা সার্ভে করতে চাইছি আমরা। সে উদ্দেশ্যেই আপনাদের ডিপার্টমেন্টে আসা। আমি মনোবিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার, অগ্নিলা চৌধুরী। অবশ্য এক্স সাইকোলজিয়ান অফ সেইম ভার্সিটি এজ ওয়েল।
অগ্নিলার বলা শেষে, একেএকে পরিচয় দিলো বাকি সবাইও। সাতজনের দুজন লেকচারার। বাকি সবাই এক্স সাইকেলজিয়ান। সবার শেষে পকেটে দুহাত গুজে দাড়িয়ে থাকা মানুষটা একটু বেশিই নজর কেড়েছে ক্লাসের সবার। বিশেষত মেয়েদের। গলা ঝেড়ে সে হাসি প্রসারিত করে বললো,
-মাইসেল্ফ ইয়াকীন শারাফ। বাকিসব পরিচিতি বাকিদের সাথে সেইম। অতিরিক্ত বলার কিছু নেই।
চারুকলার মেন্টর মুখ খুললেন এবারে। বললেন,
-বিদেশ থেকে পিএইচডি করে এসেছেন, সেটা বলার মতো না মিস্টার শারাফ?
শারাফ মুচকি হাসলো। আরো কিছু কথা বলে সার্ভের কাগজগুলো সবার হাতে হাতে দিতে লাগলো সবাই। শুধু মেন্টর, অগ্নিলা আর শারাফ ডাইসে ছিলো। হঠাৎই একেবারে পেছনের বেঞ্চ থেকে বেশ অনেকটা উচ্চস্বরে কেউ বলে উঠলো,
-কিরে স্নিগ্ধতা? তোর এই ড্রয়িংটাতো পুরোপুরি শারাফ স্যারের সাথে মিলে গেছে দেখছি! তুই কি স্যারকে আগে থেকেই চিনিস? নাকি লুকিয়ে লুকিয়ে, স্যারকে দেখে ড্র করেছিস? কোনটা?
বড়বড় চোখে একপলক পেছনের দিকে তাকালো স্নিগ্ধতা। ওখানে ওর ক্যানভাসে শারাফের ছবিটা বের করে ধরে আছে একজন। তৎক্ষনাৎ ও আবার তাকালো সামনের ডাইসে দাড়ানো শারাফের দিকে। টেবিলে রাখা কাগজপত্র গোছাতে গোছাতে থেমে গেছে শারাফের হাত। দুদন্ড আটকে থেকে শারাফ সরাসরি দৃষ্টিক্ষেপ করলো স্নিগ্ধতার দিকে। চোখাচোখি হওয়ার আগেই চোখ খিচে বন্ধ করে নিয়েছে স্নিগ্ধতা। মাথা নিচু করে নিলো একদম। ওর বন্ধ চোখের ঘন পাপড়ির কম্পন, এতোখানি দুর থেকেও দেখা যায়। ক্লাসে ঢোকার পর থেকে শুরু করে, এখনো অবদি নিজেকে যেভাবে সংবরন করেছে, ঠিক সেভাবেই স্নিগ্ধতা থেকে নিজের দৃষ্টিচ্যুত করতে চাইলো শারাফ। কিন্তু পারলো না। অজান্তেই যেনো ঘোরে পরে গেলো কোনো। ছোট্ট একটা শ্বাস ছাড়লো শুধু। যেখানে ওর বুকভরে দম নেওয়া দরকার এই মুহুর্তে। স্পষ্ট শুনেছে ও, কোনো বেখেয়ালি হাওয়া ওর কানে গুনগুনিয়ে শুনিয়ে দিয়ে গেলো,
“ঝড়ো হাওয়ার মতো সে অনুভবেরা এমনই আড়ালে থাকুক। যে চোখের অধিকারীনি তোকে প্রতিবার থামিয়ে দিয়ে চলেছে, তার চোখে তোর চোখ কখনো না পরুক। প্রলয়ার সে চোখজোড়াতে দৃষ্টিবিনিময় কখনো না হোক। নিসন্দেহে, ওই চোখে তোর মরন আঁকা। প্রেমকলঙ্ক আঁকা!”
#চলবে…

