#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
২৮.
স্নিগ্ধতাদের ড্রয়িংরুমে শোর পরে গেছে আজ। বিয়ের পাকাকথা বলতে অগ্নিলার বাবার সাথে সাইফের বাসায় আসতে হয়েছে শারাফকে। যেহেতু অগ্নিলার কোনো ভাই নেই, ওর বাবাকে সঙ্গ দিতে শাওনেরই আসার কথা। কিন্তু শাওন দেশের বাইরে থাকায় শারাফকেই ঠেলে পাঠিয়েছে মেহেরুন। সামনের সোফায় বসে শারাফ আর অগ্নিলার বাবা আরো চারজন বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সাথে কথা বলছেন। ওনারা বৃদ্ধাশ্রম থেকে এসেছেন। সাইফের দুর সম্পর্কের আত্মীয়রা অন্যশহরে। তাদের সাথে সম্পর্কটাও কেবল নামের। মা বাবাহীন সাইফ স্নিগ্ধতা কিভাবে বেচে আছে, আদৌও বেচে আছে কিনা, সে খবর নেওয়ার মানুষ নেই বললেই চলে। তাই ওনাদের নিয়ে এসেছে সাইফ। সিঙ্গেল সোফায় বসে হাসিমুখে কথা বলছে সবার সাথে। ওর পাশেই সোফার হাতলের ওপর কপাল কুচকে বসে আছে স্নিগ্ধতা। ওর দৃষ্টি শারাফের দিকে। অতি সুন্দরভাবে সবার মাঝে ওই একজনের ইয়ার্কি হজম করছে ও। ওকে চুপ থাকতে দেখে একসময় সাইফ বললো,
– কিরে? তুই চুপ করে আছিস যে?
– বেয়াইনসাহেবা মনে হয় কম কথা বলেন। এটাও ভালো। আমাদের বেয়াইদের বলার হক পুর্ণ হবে ওতে।
নিসংকোচে কথাটা বলে একটা হাসি দিলো শারাফ। সবার ঠাট্টামজার মুডের সাথে তাল মিলিয়ে, জোরপুর্বক হেসে এ কথাটাও সয়ে নিলো স্নিগ্ধতা। দরজায় দাঁড়িয়ে যখন ও আর সাইফ ওদেরকে সৌজন্য দেখাতে ব্যস্ত, শারাফ ওর হাতের ফুল সাইফকে দেখিয়ে বলেছে, ‘আপনার বোনের দেওয়া ফুল মিস্টার এহমাদ। আমি এগুলো অতি সযত্নে রেখে দেবো। আফটার অল, আজকাল কোন বেয়াইন এভাবে তার বেয়াইকে ওয়েলকাম জানায় বলুন?’ স্নিগ্ধতা বেশ বুঝে গেছে, বেশভুষায় এই মানুষটা দেখতে যতই ভদ্রসভ্য হোক না কেনো, ফ্লার্ট করার গুন তার আলাদা লেভেলের। কিন্তু কষ্টটা ওর অন্যত্র। এতোদিন সিনিয়র-জুনিয়র, স্টুডেন্ট-রিসার্চার যা সম্পর্ক ছিলো, ছিলো। তাতেই যে পরিমানে বাকা কথার বাণ পোহাতে হয়েছে ওকে। আর এখন ওর-শারাফের সম্পর্ক কি দাড়াচ্ছে? বেয়াই-বেয়াইন! বেছেবেছে ধরিত্রীর সবচেয়ে ফ্লার্ট-গ্রহনযোগ্য সম্পর্ক! আফসোসে কান্না পাচ্ছিলো স্নিগ্ধতার। শারাফের কথা শুনে সাইফ কিছুটা নিচুস্বরে বললো,
– এমনটাও নয় শারাফ। তুমিও জানো টুকি কেমন কথা বলে।
– হ্যাঁ। স্পষ্টভাষী প্রলয়া। জানি আমি।
অগ্নিলার বাবা মুখ খুললেন এবারে। স্নিগ্ধতাকে ডেকে ওনার পাশের সোফায় বসতে ইশারা করলেন। তাই করলো স্নিগ্ধতা। উনি বললেন,
– আমি একদমই একমত নই তোমাদের সাথে। এতো মিষ্টি মেয়ে। এখনো অবদি তোমার কথার একটা জবাব দিয়েছে ও শারাফ? নীলা হলে তো আলাদাই সিচুয়েশন হতো। তাহলে শুধুশুধু পিন্চ কেনো করছো ওকে? হুম? ইন্সপেক্টর তুমিও?
স্নিগ্ধতার গাল আহ্লাদে আরো ফুলে উঠলো এবারে। আদুরে গলায় বললো,
– দেখেছেন আঙ্কেল, দেখেছেন? আমার আপন ভাইটাও আর আমার আপন নেই। এজন্যই তো অগ্নিলা ম্যামকে জলদিজলদি এ বাসায় নিয়ে আসতে চাইছি। এই অবস্থায় আমার দলভারী করা ইমার্জেন্সি কিনা বলুন?
হেসে দিলে সকলে। খাবারপর্ব শেষ করে, কিছুটাসময় গল্পগুজবে কাটিয়ে মুল কথা রাখলেন ভদ্রলোক। সাইফকে বললেন,
– আমার মেয়েদের কোনোদিন কোনোকিছুতে জোর করিনি আমি সাইফ। আবার বারণও করিনি। মেহেরুন নিজের পছন্দে শাওনকে বিয়ে করেছিলো। সুখেই আছে ওরা। একই অধিকার আমি অগ্নিলাকেও দিয়েছি।
এটুক বলে উনি থামলেন। আবারো বললেন,
– শুরুতে শারাফের সাথে ওর ওঠাবসা আমি খুবই পছন্দ করতাম। আশা ছিলো, ওদের বন্ধুত্ব আরো গাঢ় রুপ নেবে। কিন্তু না। শারাফ চায়নি এমন। আর নীলাও চায়নি। ওর জীবনসঙ্গী হিসেবে হিসেবে তোমাকে চেয়েছে সাইফ। সেখানে আমার বারণ মানায় না। তাই আজ আমি তোমাদের শুভপরিণয়ের দিনতারিখ ঠিক করবো বলেই এ বাসায় এসেছি। তুমি তোমার গার্ডিয়ানদের মত নাও। এ মাসের শেষ শুক্রবারে বিয়ের তারিখ ঠিক করতে চাইছি।
ওনার স্বাভাবিকতা মুগ্ধ করেছে সাইফকে। পাশে তাকালো ও। বয়স্ক দু জুটিই জলভরা চোখে, ঠোটে হাসি রেখে মাথা উপরেনিচে করলো। সাইফ হাসিমুখে বললো,
– জ্বী। ইনশাআল্লাহ।
অগ্নিলার বাবা জরিয়ে ধরলেন সাইফকে। স্নিগ্ধতা খানিকটা পেছনে এক বৃদ্ধাকে ধরে দাড়িয়ে ছিলো। জলে ছলছল করছে ওর চোখ। অথচ হাসছে ও। বৃদ্ধাকে দুহাতে জরিয়ে ধরে আনন্দঅশ্রু ছেড়ে দিলো ওউ। বললো,
– দেখেছো দাম্মা, ভাইয়ার বিয়ে। বউয়ের সাথে ভাইয়া এবার বাবা-মাও ফিরে পেতে চলেছে। সুন্দর না?
– তুমি চাইলে এরও বেশি পেয়ে যাবে স্নিগ্ধতা। স্বপ্ন দিয়ে সাজানো, স্বপ্নের মতো আদুরে একটা পরিবার হবে তোমার। পুরো স্বপ্নীল তোমার হবে। তুমি চাইলেই।
পাশ থেকে বলে উঠলো শারাফ। স্নিগ্ধতা পাশ ফিরলো। শারাফের স্থিরদৃষ্টি বলছে, এবার এতোটুকোও মজা করেনি ও। স্নিগ্ধতার এবারে সবচেয়ে বেশি বাধলো জবাব দিতে। শারাফও অপেক্ষায় ছিলোনা বোধহয়। কথা শেষ হলে অগ্নিলার বাবাকে নিয়ে বেরিয়ে আসলো ও বাসা থেকে।
•
সময় পেরোলো, দিন গরালো নিজ ছন্দে। বেশ কদিন পর আজ ক্যাম্পাসে পা রেখেছে স্নিগ্ধতা। পাতাঝরা শীতের সব লক্ষণ এখন ভার্সিটির আনাচে কানাচে। আশপাশ দেখতে দেখতে ভার্সিটিতে ঢুকলো ও। চারুকলার ধারেকাছে যেতেই দেখে, সেখানকার দেয়াললেখনীতে নতুনের ছোয়া। নতুনবর্ষের আগমনী উপলক্ষে কিছুটা রঙ পাল্টেছে ফাইন-আর্টস ডিপার্টমেন্ট। ঠোটে হাসি ফুটলো স্নিগ্ধতার। সামনেই নবীনবরন। আর এ নিয়ে সিনিয়র হিসেবে মোটামুটি ভালো রকমের হুল্লোড় লেগেছে ওদের মাঝে। অনলাইন গ্রুপ ডিসকাশনে ওকেই ইভেন্ট প্লানার হতে বলছিলো সবাই। কিন্তু এ কদিন ভার্সিটি না আসায়, সেটা অনু-মুহিবের ঘাড়ে গিয়ে পরেছে। আর তা নিয়ে বেশ রাগও হয়েছে অনুর। তবে থেমে থাকেনি নবীনবরনের সাজ। সুন্দরমতো সেজে উঠছে দেয়ালগুলো।
রঙআটা দেয়াল দেখে স্নিগ্ধতা হাসলো। কিন্তু খানিকটা এগোতেই হাসিটা মিলিয়ে গেলো ওর। আটকে দাঁড়িয়ে রইলো স্নিগ্ধতা। আগেরগুলোর মতো এদিকে দেয়াল রঙ করা হয়নি, করিডোরের মেঝেতে আলপোনা দেওয়া হয়নি। সর্বপরি কোনো সাজই পরেনি এদিকটায়। কিছুটা ভাজ পরলো ওর কপালে। কি ভেবে, দ্রুতপায়ে ক্লাসে ঢুকলো স্নিগ্ধতা। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখে দুচারজন ছাড়া কেউই নেই। কয়েকবেঞ্চ পেছনে বসে থাকা অনু ওকে দেখে ডাক লালালো। স্নিগ্ধতা এগিয়ে হাইবেঞ্চে ব্যাগটা রেখে বললো,
– কি ব্যাপার? দুদিন পর ফ্রেশারস্ রিসেপশন। আর আজ অর্গানাইজার ইমিডিয়েট সিনিয়ররাই ক্লাসে নেই? কোথায় সব? এখন কি বাসায় বসে থাকার সময়?
– বাসায় না কেউই। এসেছিলো সবাই।
– এসেছিলো? ক্লাসে নেই কেনো?
– কিছুক্ষণ আগে লীগের কিছু সিনিয়র আপু এসে তাগাদা করে নিয়ে গেছে সবাইকে।
বিরক্তিমাখা গলায় বললো অনু। স্নিগ্ধতা ভ্রুকুচকে তাকালো। বললো,
– মানে? কোথায় নিয়ে গেছে? এখন তো কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা থাকার কথা না।
– প্রচারণা না। বিক্ষোভ মিছিল।
– মিছিল? কিসের?
– মোহিনীর পদ পুনর্আদায়ের দাবী, ওর এসিড নিক্ষেপকারীকে খুজে বের করা, জনসম্মুখে কঠোর শাস্তি দেওয়ার।
হতাশ হয়ে কপাল চেপে বসে রইলো স্নিগ্ধতা। এই ঘটনার জেরে সাইফ ওকে ক্যাম্পাসে আসতে দিচ্ছিলো না, অথচ এখনো এসব চলছেই। অনু ওর মুখের দিকে উকি দিলো। ধীরগলায় বললো,
– এই পরিস্থিতে নবীনবরন কি আদৌও হবে রে স্নিগ্ধতা? তোর কি মনে হয়?
মাথা তুললো স্নিগ্ধতা। বেশ জোর গলায় বললো,
– হবে না কেনো? আমাদের কি কোনো স্বকীয়তা নেই? নতুন একটা ব্যাচ আসছে ক্যাম্পাসে, ওরা চারুকলার রঙ না দেখেই ক্লাসে বসে যাবে নাকি? প্রতিবছরের মতো এবারও নবীনবরন হবে। কোনো ঝামেলা করলে সোজা ডিন স্যারকে বলবো। উনি তো প্রোগ্রামের জন্য লিখিত অনুমতি দিয়েছেনই সিআর এর কাছে।
– কিন্তু…
– কিন্তু তারআগে আমাদের নিজেদের প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। দেয়াললেখনী থেমে আছে কেনো? সামনের করিডরগুলো ছাড়া এদিকে আলোপনাও হয়নি দেখলাম।
– কি করে হবে বল? যখনতখন এসে বলছে মিছিলে চলো। ক্লাস থাকলে, অর্ধেক স্টুডেন্টদের ধরে নিয়ে মেডিকেলে চলে যাচ্ছে পত্রিকায় ছবি ছাপানোর জন্য। ক্যাপশন, ‘মোহিনীর শোকে শোকাহত চারুকলা পরিবার’ ওখান থেকে ফিরে আর কারো মনের অবস্থা ভালো থাকে দেয়াললিখন বা আলপনা দেবার জন্য? এরা এককথায় অসহনীয় করে দিচ্ছে আমাদের ভার্সিটিলাইফ। জানিস? এইসব শো অফ, জোর জবরদস্তির লেখালেখি আর সমবেদনার জেরে মোহিনী আবার ওর পদ ফেরত পেয়েছে। এবার তো ও আরো…
দাতে দাত চেপে বলছিলো অনু। ক্লাসে সবাইকে ঢুকতে দেখে থেমে গেলো ও। পরিস্থিতি বুঝতে বাকি রইলো না স্নিগ্ধতার। কোনোমতে শরীর ঠেলেঠুলে ক্লাসে ঢুকলো সবাই। মুহিব স্নিগ্ধতাকে দেখে এগিয়ে আসলো। একটা হাসি দিয়ে বললো,
– এতোদিন আসলি না যে? কেমন আছিস?
– আলহামদুলিল্লাহ। তুই?
– এইতো ভালো।
স্নিগ্ধতা উঠে চলে এলো। ক্লাস রিপ্রেজেন্ন্টেটিভসহ সবার সাথে কথা বললো নবীনবরনের প্রস্তুতিপর্ব নিয়ে। অনেকটাসময় আলোচনার পর সবাই রাজি হয়ে গেলো, ক্লাস, মিছিল যাই হয়ে যাক, সবকিছুর শেষেও ওদের প্রস্তুতি থেমে থাকবে না। ঘাড় বাকিয়ে হেসে আলিশা কেবল শুনলো স্নিগ্ধতার কথা। কিছুই বললো না। ওর পাশের মেয়েটা বললো,
– কথাটা মোহিনী আপুকে জানাবি না আলিশা?
– এখন না। নবীনবরনের দিন নতুনকরে বরন করবো স্নিগ্ধতা ম্যাডামকে। শারাফ স্যারকে বশ করছে না ও? ওর জন্য আলাদা ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা আমি নিজেহাতে করবো।
আলিশার বাকা হাসিটা দেখে ওর সাথের মেয়েটাও হাসলো। স্যার চলে আসলে ক্লাসে মনোযোগ দিলো সবাই। ক্লাস শেষে যে যার মতোন কাজে লেগে গেলো। উদ্দেশ্য ওরা আগে চারুকলাকে চারপাশে ফোটাবে, তারপর আনুষাঙ্গিক সাজ। কেউ খড়ের আকৃতি বানাচ্ছে, কেউ মাটির মূর্তি, কেউবা সেগুলোতে রঙ করছে। কাঠ, মাটি, পাথরের বিভিন্ন শিল্প আর রঙের ধুম পরে গেলো চারুকলায়। সে সাথে দেয়াললেখনীও শুরু করে দিয়েছে। অনু ছোটখাটো একটা টুলের ওপর দাড়িয়ে কিছুটা উচুর দেয়ালে রঙ করছিলো। এরমাঝেই একবার নিচে তাকালো ও। করিডোরের মেঝেতে জামা ছড়িয়ে বসেছে স্নিগ্ধতা। হালকা গোলাপি একরঙা জামাটার নানা জায়গায় নানা রঙ লেগে গেছে। কিন্তু ততোটাই নিঁখুত হয়েছে ওর দেওয়া আলপনা। অতোবড় আলপনাটার পুরোটা একা আঁকিয়েছে ও। অনু বললো,
– তুলির আঁচড়ের বর্ডারও এতো তীক্ষ্ণ হয়, এটা বোধহয় শুধু তোর হাতেই সম্ভব স্নিগ্ধতা।
স্নিগ্ধতা একপলক ওর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটা হাসি দিলো। হাত তুলে কবজির উপরপিঠে ডলা লাগালো কপালে আসা বেবিহেয়ারগুলোয়। আবারো আলপনায় তাকিয়ে, ছোট্ট তুলিটা হাতে নিয়ে লালরঙে কিছু ছোটছোট বৃত্ত ভরাট করলো। এরপরও যেনো মন ভরেনি ওর। তুলিটা মুখে পুরে দিয়ে ভাবনার স্বরে বললো,
– এখনো কেমন যেনো খালি খালি লাগছে না?
– এবার পার্ফেক্ট!
হঠাৎ কানে স্পর্শে! সাথে শব্দদুটো শুনে কেপে উঠলো স্নিগ্ধতা। হাত দিয়ে চুল পরখ করলো ও। কেউ কেবল ছোয়নি, সাথে ওর চুলে ফুলও গুজে দিয়েছে। বিস্ময়ে ঘাড় ঘুরালো স্নিগ্ধতা। পাশ ফিরে দেখে, শারাফ ওরই পাশে হাটু গেরে বসে। পরনে টিশার্টের ওপর কালো জ্যাকেট। উপস্থিত সবাই যারযার জায়গা থেকে থমকে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। স্নিগ্ধতার চেহারায় বিস্ময়, আর শারাফের ঠোটে এক অমায়িক হাসি। আজ ভার্সিটিতে আসার কথা ছিলো না ওর। গতরাতে আবিরকে নিয়ে শহরের বাইরে যেতে হয়েছিলো ওকে। সকালের কুয়াশা চিড়ে যখন সেখান থেকে ফিরছিলো, পথের এক জলাশয়ের ধারে ফোটা ইয়াবড় গোলাপীরঙা শালুক ফুলটা চোখে পরেছে ওর। ব্যস। নেমে সেটা তুলে নিয়ে সোজা ক্যাম্পাসে চলে এসেছে ও। আশ্চর্যজনকভাবে, যার জন্য এনেছে, তার সাজও আজ গোলাপী। মোবাইলটা বের করে উল্টো করে মেঝের কাছাকাছি ধরলো শারাফ। ঘাড় বাকিয়ে, আলপনা, গোলাপী সাজ-শালুকে থমকে থাকা চাওনির স্নিগ্ধতার ছবি তুলে নিলো একটা। পেছনে দাড়ানো আবির বললো,
– তারমানে এবার থেকে সত্যিসত্যিই তোকে ওয়ালেট বাচিয়ে চলতে হবে শারাফ। ওয়াও!
শারাফ হেসে উঠে দাড়ালো। মোবাইলটা প্যান্টের পকেটে পুরে বললো,
– আসলেই তাই। আলপনার সাথে আমার ওয়ালেটকেও পূর্ণ করে দিলেন মিস স্নিগ্ধতা? ভেরি ব্যাড!
তারপর আশেপাশের সবার দিকে তাকিয়ে বললো,
– আপনারা কি দেখছেন? ক্যারি অন.…?
নিজেদের মতো ব্যস্ত হয়ে পরলো বাকিসব। শারাফ শব্দহীন হেসে প্যান্টের পকেটে ডানহাতের বৃদ্ধাঙ্গুল বাঝালো। স্নিগ্ধতার দিক তাকিয়ে প্রথমে দুপা পিছিয়ে, তারপর পুরোপুরিভাবে পেছন ফিরে চলে গেলো ও। দম মেরে বসে রইলো স্নিগ্ধতা। যতোক্ষণ শারাফ ওর সামনে বসে ছিলে, ততোক্ষণ ওর শ্বাস অনেকবেশি দ্রুত চলেছিলো। টের পেলো, শারাফ চলে যেতেই থেমে আছে ওর হৃদস্পন্দন। তবে হয়তো সেটা বিস্ময়ে নয়! আগের দ্রুততা পুষিয়ে দিতে…
#চলবে…

