#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
২৯.
রাত সাড়ে এগারোটা। রাস্তার ধারে সাদা রঙের গাড়িটা ল্যাম্পপোস্টের সাথে থেমে আছে। গাড়িটার হেডলাইট ভাঙা, সামনের কাচও ভাঙা। সামনের দিকটা মুচড়ে গিয়েছে। ওটার হুডও তোলা, ধোয়া আসছে ইঞ্জিন থেকে। ঠিক পাশের উচু ফুটপাতে হাটুতে হাত রেখে বসে আছে শারাফ। নিয়নের আলোতে ওর কপালে জমাটবাধা রক্ত দেখা যাচ্ছে। সাথে কপালের ভাজগুলোও সুস্পষ্ট। ওর কনুইয়ের দিকের হাতা ছিড়ে, সেখানেও ছড়ে গেছে। বেশ গভীরে জখম হয়েছে। কিন্তু শারাফ নিস্প্রভ। ওর দৃষ্টি রাস্তার দিকে স্থির। আপাতদৃষ্টিতে বোঝাই যাচ্ছে, শারীরিক ব্যথার চেয়ে চিন্তাশক্তির সীমায় আটকে যাওয়াটা ওর জন্য বেশি আক্রোশের। তবে সেখানে কেবল স্তব্ধতা বিরাজমান।
শারাফ বিদেশ থাকাকালীনই টিভি শো হোস্টিংয়ে জরিয়েছিলো। দেশে ফিরেও কয়েকটা শো করেছে ও। সেরকমই একটা শুট ছিলো আজ। নানান ব্যস্ততায় সেখান থেকে ফিরতি পথে রাত হয়ে যায়। ড্রাইভ করতে করতে শারাফ হঠাৎ লক্ষ করলো ব্রেক কাজ করছে না। উপরন্তু, ওর স্পিডটাও বেশি। বেশ অনেকটাই বিচলিত হয়ে পরে শারাফ। তারপরও শান্ত করে নিজেকে। দুর্ঘটনা এড়াতে ওভাবেই অনেকটা পথ ড্রাইভিং চালিয়ে যায়। কিন্তু এভাবেই বা কতোক্ষন? গাড়ি না থামালে বেশি ব্যস্ত সড়কে এক্সিডেন্ট হতে দু দন্ডও লাগবে না। তাই সবশেষে সিদ্ধান্ত নিলো গাড়ি থামানোর। সে যতো ঝুকি নিয়েই হোক না কেনো। উল্টোপথের খানিকটা ফাকা রাস্তায় এগোলো ও। কিছুটা যাবার পর গাড়ির দরজার লক খুলে দেয় শারাফ। তারপর রাস্তার পাশের ল্যাম্পপোস্টের দিকে স্টেয়ারিং ঘুরিয়ে, ছেড়ে দেয় গাড়িটা। একমুহূর্ত দেরি না করে, এয়ারব্যাগের সুইচ অন করে লাফিয়ে পরে গাড়ি থেকে।
চলন্ত গাড়ি থেকে রোডের ওপর পরতেই ব্যথাতুর শব্দ করে উঠলো শারাফ। পরে দাতে দাত চেপে সামলালো নিজেকে। সামনে তাকিয়ে দেখে, গাড়িটা ল্যাম্পপোস্টে বারি খেয়ে তবেই থেমেছে। শারাফ নিজের দিকে তাকালো। কনুই থেকে রক্ত ঝরছে। কপালের ব্যথার জায়গাটা ছুয়ে দিয়ে বুঝলো, সেখানেও কেটেছে। ওঠার চেষ্টা করলো শারাফ। দেখলো পায়েও ব্যথা পেয়েছে। তবে কেটে যায়নি। রাস্তা জনমানবশুন্য বলে এগোনোর মতো কাউকে আশাও করেনি ও। নিজেই কনুই চেপে ধরে উঠে দাড়ালো। ঠোটে ঠোট চেপে ব্যথা সংবরনের চেষ্টা করলো। তারপর খুড়িয়ে এগোলো গাড়িটার দিকে। চারপাশে তাকিয়ে দেখে নিলো ওটা। স্টুডিওতে পৌছানো অবদি তো ঠিকই ছিলো গাড়িটা। হঠাৎ ব্রেকফেইল করার কোনো কারন চোখে পরছে না ওর। কোনোমতে হুডিটা তুলে দিয়ে ধোয়ার মাঝেই ইঞ্জিনের গলদ খুজতে লেগে পরলো।
ধোয়া খানিকটা কেটে যেতেই শারাফের চোখে পরলো হুডের ভেতরের গায়ে একটা স্টিকি নোট ঝুলছে। ভ্রুজোড়া কিঞ্চিৎ কুচকে আসলো ওর। হাত বাড়িয়ে কাগজটা খুললো শারাফ। আর ওটার লেখাগুলো দেখে বিস্ময়ে থেমে রইলো একপ্রকার। চিরকটুটা হাতে নিয়ে আস্তেধীরে ফুটপাতের ওপর বসে পরলো ও। চিরকুটে গোটাগোটা অক্ষরে লেখা,
‘স্নিগ্ধতা নামক প্রলয়ে জড়িও না ইয়াকীন শারাফ। এই প্রলয়াকে ভালোবাসলে একসময় তোমারও মনে হবে, এ প্রেম অপেক্ষা মৃত্যু শ্রেয় ছিলো। এ প্রেম সর্বোপায়ে তোমায় কেবল মৃত্যসম যন্ত্রণা দেবে। আর তারই এক ঝলক আজ আমি তোমায় উপহার দিলাম। তাই ওর থেকে বরং দুরেই থাকো। ওকে ভালোবেসোনা!
-তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী’
তৃতীয়বারের মতো চিরকুটটা পড়ে ওটা থেকে দৃষ্টিচ্যুত করলো শারাফ। ওর বুঝতে বাকি নেই, কেউ স্বেচ্ছায় ওর গাড়ির ব্রেকফেইল করিয়েছে, চিরকুটটার অক্ষরগুলো অতি সযত্নে ওর জন্য কোনো সতর্কবাণী বহন করছে। শারাফ আস্তেধীরে উঠে দাড়ালো। ততক্ষণে ইঞ্জিনের ধোয়া কমে এসেছে। ভেতরের যন্ত্রপাতি হাতিয়ে বুঝলো, এ গাড়িতে বাড়ি ফেরা হবে না ওর। পুরোপুরিভাবে বিকল হয়ে গেছে ওটা। একটা লম্বা শ্বাস নিলো শারাফ। গাড়ি থেকে লাফিয়ে না নামলে, ওর সাথেও বেশ ভয়ানক কিছু হয়ে যেতে পারতো। কাগজের ভাজটা খুলে ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’ শব্দটায় আরেকবার চোখ বুলালো ও। মনে হলো, এই শব্দটা যেনো দিক্বিদিক কাপিয়ে চিৎকার করে বলছে, ‘স্নিগ্ধতাকে তার চাই! সর্বাবস্থায় চাই!’
•
– স্নিগ্ধতাকে আমার চাই! সর্বাবস্থায় চাই! তুমি আমার চাওয়ায় বাধা হয়ে দাড়াতে পারো না ইয়াকীন শারাফ! পারোনা! স্নিগ্ধতাকেই কেনো? তুমিই কেনো? কেনোওওওও???’
চিৎকার করে কথাগুলো বলে মদের বোতলটা দেওয়াল বরাবর ছুড়ে মারলো চঞ্চল। সশব্দে কাচের বোতলটা ভেঙে চুরমার হয়ে মেঝেতে পরলো। বদ্ধ ঘরের মাঝে ওর বলা কথাগুলো বারি খেলো কয়েকবার। মাথার চুল উল্টে ধরে, দিশেহারার মতো করতে লাগলো ও। তারপর বেডসাইড টেবিলের ড্রয়ার খুলে ইঞ্জেকশন বের করলো একটা। বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে, মেঝেতে বসে সেটা পুশ করলো হাতে। মস্তিষ্কের তীব্র যন্ত্রণার মাঝে দেহে প্রবেশ করালো ভুলে থাকার নেশা। চোখ বন্ধ করে শান্ত করার চেষ্টা করলো নিজেকে। কিন্তু নাহ! শান্তি মিলছে না ওর কিছুতেই! চুল টানতে টানতে এবার একটা প্যাকেট বের করলো ও। বিছানায় রেখে বড় এক নিশ্বাসে বিষ ঢুকালো শরীরে। আরো বেশি চেচিয়ে উঠে বললো,
– ইয়াকীন শারাফ তোমাকে চাইতে পারে না স্নিগ্ধতা! তোমাকে আমি চেয়েছি! তোমাকে আমার চাই! তোমার রুপ, যৌবন সব কেবল আমার হওয়া চাই! ইয়াকীন শারাফের নয়! ইয়াকীন শারাফের নয়!
চঞ্চল আরেকদফায় নিশ্বাস বিষাক্ত করে নিলো নিজের। তারপর মাথা ঝেরে উঠে দাড়ালো। ফোনটা বের করে কাউকে কল লাগিয়ে বললো,
– খালি আছে কেউ?
…
– কোন হল? কতো নাম্বার রুম?
…
– আমি আসছি। আশেপাশের রুমের মেয়েগুলোকে গনরুমে পাঠিয়ে দে।
কল কেটে ফোন বিছানায় ছুড়ে মারলো চঞ্চল। পুরোপুরিভাবে নেশা চরেছে ওর। টকতে টলতে কয়েকটা প্যাকেট প্যান্টের পকেটে পুরে সবে বেরোতে যাবে, রিংটোনপর শব্দে থামলো ও। রক্তলাল আবছা চোখে নামটা দেখে জিভ দিয়ে ঠোট ভেজালো আর ঢোক গিলে গলা ভিজিয়ে নিলো। কল রিসিভ করে বললো,
– হ্যাঁ বস।
– রুমে বসে আবার খেয়েছিস?
– একটু ম্ মাথা ধরেছে, তাই…
– তোর মাথা ধরা যদি আমার মাথাব্যথার কারন হয়, তোর ওই মাথাটাই ঘাড় থেকে আলাদা করে দিতে আমি কিন্তু দুবার ভাববো না চঞ্চল।
– সরি বস।
– তোর সরিতে যে আমার পোষাবে না এটা তোর অজানা না। তাই সরি বলার মতো কাজ করে আমাকে ভয়ানক কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করিস না। এখন যা বলছি, কান খুলে শোন। এই মুহুর্ত থেকে আমি দেশে না ফেরা অবদি, তোরা কোনোরকম লেনদেনে জড়াবি না। মেয়েদের হলে যাওয়া থেকে শুরু করে, ক্যাম্পাসে অবাধে যতোরকমের হ্যারাসমেন্ট চালিয়ে গেছিস, সব এ কয়দিনের জন্য মাটিচাপা দিবি। বুঝেছিস?
– কি বলছো কি বস? কোনো ঝামেলা হয়েছে?
– হলেও সেটা বিগড়ানো ছাড়া তোর পক্ষে আর কিছু সম্ভব? সবুজের মৃত্যর ধরনটা এতো সহজে কেনো ভুলে যাচ্ছিস?
…
– জলদিই দেশে আসছি। নিজের সাথে ছেলেগুলোরও হাত, চোখ, মুখ প্রতিটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গে লাগাম রাখ। রাখছি।
কল কেটে গেলো। রাগে ফোনটা এবার ফ্লোরে ছুড়ে মারলো চঞ্চল। ক্ষমতার দাপটে ভার্সিটির সবরকমের খবর ওর কাছে পৌছে যায়। তবে এর মাঝে ওর কাছে কোনো ভালো খবর আসেনি। চঞ্চল স্থির হয়ে বসে ভাবার চেষ্টা করলো। ক্যাম্পাসে স্নিগ্ধতাকে টিজ করা, অগ্নিলার চড়, সাইফের ধমকি, সবুজের ভয়ানক মৃত্যু, সাইফের জন্য অগ্নিলাকে কিডন্যাপ করতে না পারা, মোহিনীর মুখে এসিড ছোড়া, আর সবশেষে স্নিগ্ধতার চারপাশে ইয়াকীন শারাফের উপস্থিতি। ঠিক তার পরপরই সবকিছু ছাড়ছুড় দেওয়ার এমন কড়া আদেশ! কোনো এক অদৃশ্য, অভেদ্য বলয়ের অনুভব হলো চঞ্চলের। সম্পুর্ণ নেশাগ্রস্ত মস্তিষ্কে কেবল দুটো প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো। ঠিক কোথায় এসবের শুরু? আর শেষই বা কোথায়?
•
চারুকলায় নবীনবরনের প্রস্তুতিপর্ব চলছে তুমুল গতিতে। রঙ, আলপনা, প্রদর্শনী শিল্পর কাজ শেষে, শেষ মুহুর্তে কেবল বাদ পরে আছে কাগজ, ব্যানার আর আনুষাঙ্গিক সাজসজ্জা। সিড়িতে বসে তাই রঙিন কাগজ কাটাকুটিতে বসেছে সবাই। স্নিগ্ধতাও কাগজের ফুল বানাচ্ছিলো। এরমাঝে ওদের এক বন্ধু গিটারের ব্যগা কাধে এসে সিড়িতে বসলো। স্নিগ্ধতার বানানো ফুলগুলো সহ ওর হাতের ফুলটা কেড়ে নিয়ে বললো,
– এই সুন্দরী? তোর এই ফুলগুলা আমি ডেকোরেট করবো। দিবি? আমার নিজেরও কিছু ক্রেডিট চাই।
মুহিব পাশ থেকে ডালাটা কেড়ে নিলো। বললো,
– আগে নিজে খেটেখুটে একটা পেপারওয়ার্ক শেষ কর, তারপর ক্রেডিট নিতে আসিস!
– ঠিক বলেছিস! এই ভবঘুরে, ফাইন আর্টসের কোনো প্রোগ্রামে কোনো কাজ কোনোদিনও করেছিস তুই? প্রোগাম দেখলেই গিটার নিয়ে দৌড়াস! মিউজিকে ভর্তি হলি না কেনো?
অনুর কথায় ছেলেটা কাধ থেকে গিটার নামালো। পাশে থাকা অনুর নিজহাতে বানানো ফানুস নিয়ে ছুট লাগিয়ে বললো,
– মিউজিকে গেলে তোদের কিকরে পেতাম বল? আর আমি কোনো পেপারওয়ার্ক করিনা, তোরটা নেবো বলে। এইযে তোর ফানুসটা নিয়ে গেলাম। এটার গায়ে লিখে এবার দেবো, ক্রেডিট আমার। ব্যস!
হেসে দিলে সকলে। হাসি থামিয়ে গিটারটা কোলে নিলো স্নিগ্ধতা। নবীনবরনে পারফর্ম করবে কমবেশি সবাই। ওরও ইচ্ছা আছে গাওয়ার। এখন গিটার যখন হাতে পেয়েছেই, একটু রেওয়াজ করাই যায়। এমনটা ভেবে চোখ টুংটাং সুর তুললো স্নিগ্ধতা। হাতের কাজ রেখে সিড়ির সবাই ওর দিকে তাকালো। সে সুরের সাথে আঙুল বাজিয়ে, তালি দিয়ে উঠলো প্রত্যেকে। গানের সুর শুনে সবাই বুঝলো, শুরুর দিকে ছেলেকন্ঠস্বর প্রয়োজন। মুহিব গাওয়ার জন্য সবে মুখ খুলতে যাবে, অনু ওর কাধে হাত রেখে মানা করলে ওকে। বোঝালো স্নিগ্ধতা একাই গাক। থামলো মুহিব। যতোটা আগ্রহে সুর তুলেছে স্নিগ্ধতা, ও গাইলে হয়তো আর সেভাবে গাইবে না ও। স্নিগ্ধতা চোখ বন্ধ রেখে গাইলো,
‘ Hmmm…Kal nahi thi jo
aaj lagti hoon
Taareef meri, hai khaamakha
Tohfa hai tera, meri adaa…’
ব্যস এটুকোই পরখ করার ছিলো স্নিগ্ধতার। চোখ মেলে গান থামালো ও। অনু বললো,
– কিরে? থামলি কেনো?
‘Ye do dilon ka waasta waasta
Khul ke bataaya jaaye naa…’
কন্ঠ শুনে চমকে উঠে সামনে তাকালো স্নিগ্ধতা। একই করিডোরের শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে শারাফ। একহাত জ্যাকেটের সামনের পকেটে ঢুকিয়ে, আরেকহাতের আঙুলে বই ঘোরাচ্ছে ও। ওর ঠিক সামনে বই হাতে দাড়ানো আবির। শারাফকে দেখে মনে হচ্ছে, বইটা থেকে যেনো আবিরকে কিছু বুঝাচ্ছে ও। অথচ স্নিগ্ধতা স্পষ্ট শুনেছে, গানের লিরিক্স সুর তুলে গেয়েছে কেউ। আর সেটা শারাফই। অনু স্নিগ্ধতার দিক উকি দিয়ে বললো,
– প্রশ্ন তোকে করলাম, জবাব দিলো শারাফ স্যার। তারওপর এতো এক্যুরেট জবাব। কেসটা কি বলতো স্নিগ্ধতা?
কিছু না বলে উঠে দাড়ালো স্নিগ্ধতা। ওকে একদম অগ্রাহ্য করে শারাফ আবিরের সাথে কথা বলছে। যেটা একদমই মানানসই লাগেনি ওর। হাতে ছড়িয়ে থাকা ওড়না কাধে তুলে দিয়ে শারাফের দিকে হাটা লাগালো স্নিগ্ধতা। অনু বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে বললো,
– কান্ট বিলিভ দিস।
মুহিব কেবল নিরব চাওনিতে অন্যকারো দিকে স্নিগ্ধতাকে এগোতে দেখলো। শারাফ একপলক চোখ তুলে তাকালো। পেস্টরঙের আনারকলি পরনের, পৃথিবীর সব স্নিগ্ধতার উৎস আজ নিজে থেকে ওর বরাবর এগোচ্ছে। আবিরকে বইটা ধরিয়ে দিয়ে, জ্যাকেটের পকেটে দুহাত ঢোকালো শারাফ। স্নিগ্ধতা আর ওর মাঝে যখন কয়েককদমের দুরুত্ব, বইয়ের দিক তাকিয়ে শারাফ হুইস্টলিং করতে শুরু করে দিলো,
‘Subhan Allah…
Jo ho raha hai, pehli dafa hai
Wallah…aisa hua…’
পা থেমে গেলো স্নিগ্ধতার। গানের কথাগুলো তো ওর জন্যই! তাহলে ওর দিকে তাকিয়ে নয় কেনো? স্নিগ্ধতা আবারো এগোতে যাবে, শারাফ একপ্রকার ওকে অগ্রাহ্য করে সিড়ি বেয়ে চলে গেলো উপরতলার সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে। আর একচুলও এগোয় নি স্নিগ্ধতা। শারাফ চোখের আড়াল হলে, দৃষ্টি নামিয়ে নিলো শুধু। হঠাৎ কেমন যেনো দমবন্ধকর লাগছে ওর, কান্না পাচ্ছে হয়তো। একটা শুকনো ঢোক গিলে আশপাশে তাকালো ও। চোখে পরলো আবিরের হাতের বইটা। ওটার পেছনের কভারে সুন্দরমতো লেখা, ‘যে প্রেম মৃত্যুসম যন্ত্রণা দেয়, সে প্রেম অপেক্ষা মৃত্যু শ্রেয়।’ একপা পিছিয়ে গিয়ে, মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়লো স্নিগ্ধতা। এ কোন পথে এগোচ্ছিলো ও? কি নাম এই পথের? প্রেম? নাকি পরিণতি?
#চলবে…

