#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
৩৪.
স্নিগ্ধতাকে নিজের বুঝিয়ে ওইহাতেই ওকে জড়িয়ে ধরলো শারাফ। আরেকহাত শক্তমুঠো করে রাখলো ও। স্নিগ্ধতা ভয়ে আরো গুটিয়ে গেলো ওর বুকের মাঝে। আকড়ে ধরলো শারাফের টিশার্ট। অনু মুখে হাত দিয়ে আতঙ্কে দাড়িয়ে। এমন পরিস্থিতে অনড় হয়ে পরেছে মুহিবও। মোহিনী দুপলক এদিকওদিক তাকিয়ে একপা পেছোলো। কিন্তু আলিশা কোনোকিছু না ভেবে তেড়ে এগোলো স্নিগ্ধতার দিকে। ওকে শারাফের বুক থেকে সরাতে টান লাগিয়ে বললো,
– শারাফকে ছাড় স্নিগ্ধতা! দুরে থাক ওর কাছে থেকে! আই সেইড লিভ হিম ড্যামিট!
একচুল নড়লো না স্নিগ্ধতা। শারাফ একহাতে ওকে জরিয়ে, ও দুহাতে শারাফের বুকের টিশার্ট খামচে মুখ গুজে আছে। শারাফ একবর্ণও বললো না৷ তবে মোহিনী জড়ানো গলায় বললো,
– আলিশা চল।
কথাটা যেনো আলিশার কানেই যায়নি। একইকথা বলতে বলতে ও টানছেই স্নিগ্ধতাকে। এবার মোহিনীর পাশের দুটো মেয়ে গিয়ে ওকে ছাড়িয়ে আনলো স্নিগ্ধতার থেকে। আর আলিশার রাগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছালো তাতে। শাড়ির এলোমেলো আচলটা কোনোমতে কাধে তুলে দিয়ে, উচ্চস্বরে মোহিনীকে বললো,
– আমাকে আটকাচ্ছো কেনো মোহপু? এই মেয়েটা তোমার অসুস্থতার মধ্যে ক্যাম্পাসে আনন্দোৎসব বাধিয়েছে, আমাকে ক্ষণেক্ষণে অপমান করছে! আর তুমি কিনা চুপ করে যাচ্ছো? কিছু বলবে না?
– আলিশা কন্ট্রোল ইওরসেল্ফ। চল এখান থেকে।
মোহিনী জোর দিয়ে বললো এবার। কিন্তু আলিশার সহ্যসীমার বাধ যেনো ভাঙা পরেছে আজ। বুঝলো শারাফের জন্য মোহিনী চুপ করে গেছে। কিন্তু এমনটা হলে ওর জন্য সেটা অসহনীয়। আবারো এগোলো ও। এবার শারাফের দুগাল ধরে বললো,
– এই শারাফ? কি নেই আমার মাঝে? কি নেই? লুক আমিও তো অনেক সুন্দরী! আ্ আমার তোমাকে চাই। তুমি…
– বাট আই লাভ হার। ওকে ভালোবাসি আমি।
শান্ত জবাবে এতোক্ষণে মুখ খুললো শারাফ। হাত সরিয়ে দিলো আলিশার। ওর মুখে ভালোবাসি শব্দটা শুনে মাথা তুললো স্নিগ্ধতা। শারাফ তাকালো ওর দিকে। মোলায়েম আলোতে ওর চেহারায় কেবল একরাশ ভয় দেখতে পেলো। চোখজোড়া লাল হয়ে আছে, চুলগুলো প্রচন্ডরকমভাবে এলোমেলো স্নিগ্ধতার। শারাফের ভেতরটা যেনো মুচড়ে উঠলো। স্নিগ্ধতার কপালের চুলগুলোয় আলতোভাবে আঙুল চালিয়ে সেগুলোকে কানে গুজে দিয়ে বললো,
– স্নিগ্ধতাকে কেবল স্নিগ্ধতায় মানায়। বিদ্ধস্ততায় না।
আলিশার চারপাশ জ্বলে উঠলো। অকস্মাৎ মোহিনীর হাত থেকে এসিডের বোতলটা কেড়ে নিয়ে চিৎকার করে বললো,
– কিসের জন্য ক্রেভিংস দেখাচ্ছো তুমি শারাফ? হুয়াই? ও সুন্দরী বলে? ওর রুপের জন্য? তাহলে এই রুপই আমি থাকতে দেবো না! ওকে…
কিছু বলা বা করার আগেই চড় পরলো আলিশার গালে। শারাফ-স্নিগ্ধতা বাদে, বিস্ফোরিত চোখে তাকালো বাকিসব। কারন আলিশাকে চড়টা মোহিনী মেরেছে। মুখ থুবড়ে মাটিতে পরেছে আলিশা। এসিডের বোতলটাও ভেঙেচুড়ে গেছে। চমকে উঠে আবারো শারাফের বুকে মুখ গুজলো স্নিগ্ধতা। চারপাশ ঘুরছে ওর। টের পেলো, ভায়োলেন্সের ফোবিয়া মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবারে। বেশিক্ষণ সামলাতে পারবে না নিজেকে। মোহিনী দাতে দাত চেপে আলিশার দিকে এগিয়ে, ওকে টেনে তুলে বললো,
– বারবার বলছি এখান থেকে চল, চল! কথা কানে যায়না? সরি বল ওদেরকে! সরি বল!
– মোহপু!!!
আলিশার স্বরে একআকাশ বিস্ময়। মোহিনী আরো কিছু বললো ওকে। একহাত গালে রেখে নতমস্তকে উঠে দাড়ালো আলিশা। শারাফের দিকে তাকিয়ে বললো,
– সরি।
কারোর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। মোহিনী একপলক সবাইকে দেখে নিয়ে পা বাড়ালো। আলিশাও চলে যাচ্ছিলো। কি ভেবে আবারো থামলো ও। শারাফকে উদ্দেশ্য করে বললো,
– তুমি ওর রুপের জন্য আমাকে প্রত্যাখান করলে তাইনা শারাফ? তাহলে শুনে রাখো, আমি বলছি! আজ হোক বা কাল, ওর এই রুপ ওর জন্য অভিশাপ হবে! প্রলয়ের মতো বিদ্ধংসী হবে! তুমি স্নিগ্ধতায় না, প্রলয়ে জরিয়েছো শারাফ। এটা প্রেম না, অভিশাপ! কিন্তু যতোদিনে তুমি এটা টের পাবে, ততোদিনে আর কিছুই করার থাকবে না। মিলিয়ে নিও আমার কথা শারাফ। মিলিয়ে নিও।
কথাগুলো বলে আলিশা চলে গেলো। শারাফ কিছুই প্রতিত্তর করলো না। বুকের মাঝে নিস্তেজ হয়ে পরে থাকা স্নিগ্ধতাকে মৃদ্যু গলায় ডাকলো,
– স্নিগ্ধতা?
…
– স্নিগ্ধতা? ওরা চলে গেছে।
দ্বিতীয়বারের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় শারাফ নিজেথেকেই তুলে ধরলো ওকে। স্নিগ্ধতা ঢলে পরলো। জ্ঞান হারিয়েছে ও। শারাফ মাথা তুলে অনুর দিকে তাকাতে যাবে, সামনের মানুষটাকে দেখে কিয়দক্ষণের জন্য থমকে গেলো ও। ওর সামনে অগ্নিলা দাড়িয়ে আছে। আর তার সামনে আরেকটা চেনামুখ। ইন্সপেক্টর সাইফ এহমাদ।
•
স্বপ্নীলে ঢুকে আজ কোনোদিক তাকালো না শারাফ। হনহনিয়ে সিড়ি বেয়ে রুমে চলে আসলো নিজের। শারাফের বাবা-মা, প্রফেসর নাহিদ, তার মিসেস, মেহেরুন, শায়েরী সবাইমিলে ড্রয়িংরুমে বসে ছিলো। ওকে ওভাবে সোজা ঘরে যেতে দেখে বেশ অনেকটাই অবাক হলো সবাই৷ প্রতিদিন ফেরার পর সবার সাথে বসে আগে আড্ডা দেবে, হাসিঠাট্টা করবে, তারপর মেহেরুন ওকে ঠেলেঠুলে ঘরে পাঠাবে ফ্রেশ হবার জন্য। অথচ আজ এভাবে রুমেরদিক চলে গেলো? শারাফের বাবা সেজান সাহেব চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললেন,
– তোমার দেবরের আজ কি হলো মেহেরুন? কোনোদিক না তাকিয়ে উপরে চলে গেলো?
– আমিও সেটাই ভাবছি বাবা। শারাফ তো এমন করে না। এটলিস্ট হেসে, সবার উদ্দেশ্যে কিছু না কিছু বলে তারপর উপরে যেতো ও।
মেহেরুনের স্বরেও বিস্ময়। মিস্টার সেজান খবরকাগজের পাতা উল্টালেন। দুই ছেলেকে নিয়ে তার গর্বের শেষ নেই। তারা কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু করবে না, এমনটা উনি ভালোমতোই জানেন এবং মানেন। মিসেস নাহিদ চিন্তিত কন্ঠে বললেন,
– শারাফ রাগ নিয়ে বাসায় ফিরলো বলে মনে হলো না ভাবী? কি হলো ওর হঠাৎ?
মিসেস সেজানের মনেও ক্ষীণ আশঙ্কা উকি দিলো বোধহয়। মেহেরুনের দিকে তাকাতেই চোখ বন্ধ করে ওনাকে আশস্ত করলো ও। তারপর উঠে চলে আসলো শারাফের রুমে। ওর পেছনপেছন শায়েরীও আসলো। কিন্তু দরজায় এসেই দুজনে চক্ষুচরক গাছ। শারাফ চোখ বন্ধ করে বিছানায় বসে আছে। দাতে দাত চেপে ব্যথা সংবরনের মতো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে আর ডানহাত ঝারছে। মেহেরুনের চোখে পরলো ওর ডানহাতের উপরপিঠ থেকে রক্ত পরছে৷ আতকে উঠে পাশের দেয়ালে তাকালো মেহেরুন। সেখানেও রক্তের দাগ। মানে রুমে ঢুকে শারাফ দেয়ালে ঘুষি ছুড়েছে। ওয়ারড্রোবের ওপর থেকে ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে দ্রুত এগোলো ও। শারাফের পাশে বসে, ওর হাত তুলে ধরে ব্যস্তভাবে বললো,
– কি করেছো কি শারাফ? হাতটা এভাবে…
শায়েরীও অস্থিরচিত্ত্বে বললো,
– এভাবে দেয়ালে ঘোষাঘুষির কি মানে ভাইয়া? পাগল হয়ে গেছিস তুই?
কথা যেনো তীরের মতো শারাফের মস্তিষ্কে বিধলো। সর্বোচ্চ চেষ্টা করলো প্রতিত্তর করা থেকে নিজেকে বিরত রাখার। যে শারাফকে হাসিতে পাশ কাটানো ছেলে বলে ওর পরিবারের লোকজন জানে, তার এই আকাশচুম্বী, শরীর ঝলসানো রাগ কাউকে দেখাতে চায়না ও৷ তবুও নিজেকে আটকাতে আজ ব্যর্থ হচ্ছে ও বারবার। চারপাশ জ্বলছে ওর। সবকিছু শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে। মেহেরুন ওর হাত পরিস্কার করে, মলম লাগাতে লাগাতে বললো,
– কতোখানি জখম হয়েছে! ইশ!
– আমাকে একটু একা থাকতে দাও মেহুভাবী।
হাত সরিয়ে শান্তশীতল গলায় বললো শারাফ। মেহেরুন ভ্রুকুচকে তাকালো। আজকে শারাফকে অচেনা লাগছে ওর। নিজেও নড়েচড়ে বসে বললো,
– কি হয়েছে শারাফ? এনিথিং সিরিয়াস?
– কিছুনা। তোমরা এসো।
– কিছু তো হয়েছেই। আর তুমি এভাবে রিয়্যাক্ট করছো মানে অবশ্যই সিরিয়াস কিছু। বলো শারাফ, কি হয়েছে? আমাকে বলতে পারো।
শারাফ চুপ। শায়েরী বললো,
– বলবি তো কি হয়েছে?
– আমি রুম থেকে যেতে বলেছি।
শায়েরী একচুল নড়লো না। মেহেরুন বললো,
– ওকে ফাইন। আমাকে না বললে। আমি শাওনকে বলছি তোমার সাথে কথা বলতে হুম? তুমি তোমার ভাইয়াকে…
– জাস্ট স্টপ ইট ভাবি! বারবার কেনো একইকথা বলছো বলোতো? আমি বললাম না একা থাকতে চাইছি? তারমানে আমি একা থাকতে চাইছি! নাও জাস্ট গেট আউট অফ হেয়ার এন্ড লিভ মি আলোন! প্লিজ!
শারাফ উচ্চস্বরে বলে নিজেই থমকে গেলো। এ কোন নিজেকে আবিষ্কার করছে ও আজ? বড়বোনের মতো শ্রদ্ধা-আদরে যে মেহেরুনকে কখনো ও বুঝতে দেয়নি এটা ওর শশুড়বাড়ি, সেই মেহেরুনের সাথে এমন স্বরে কথা বললো ও? চোখ বন্ধ করে, একহাতে কপাল চেপে ধরলো নিজের। মেহেরুন স্তব্ধ। ওর বিয়ের এতোগুলো দিন পেরিয়েছে। আজোবদি কোনোদিন হাসি ছাড়া গম্ভীর ভাষায় কথা বলেনি স্বপ্নীলের কেউই। সেখানে শারাফের এমন আওয়াজ সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ছিলো ওর কাছে। আস্তেধীরে উঠে দাড়ালো ও। শায়েরী বুঝতেই পারছে না কি থেকে কি ঘটছে। মেহেরুন বেরিয়ে আসতে যাবে, এরমাঝে মিসেস সেজান, মিসেস নাহিদ রুমে আসলেন। ওনাদের পেছনপেছন মুসকানও এসেছে। মিসেস সেজান মেহেরুনকে ইশারায় জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে৷ মেহেরুন জোরালো হেসে স্বাভাবিকতা বোঝালো। না সুচক মাথা নেড়ে বুঝালো, ওকে কিছু বলেনি শারাফ। ফোনটা দেখে, ‘একটু আসছি’ বলে চলে আসলো ওখান থেকে। মুসকান ততক্ষণে হেলতেদুলতে এসে শারাফের গা ঘেষে দাড়িয়েছে। হঠাৎ ওর হাত ধরে বললো,
– কতোখানি কেটে গেছে তো শারাফ ভাইয়া। কি করে কাটলো?
মিসেস সেজান এবার অস্থির হয়ে পরলেন। যে ছেলে সবসময় স্বপ্নীল মাতিয়ে রাখে, আজ হঠাৎ এতোটা ক্ষোভ কেনো? এগিয়ে গিয়ে শারাফের হাত ধরলেন উনি। মায়ের স্পর্শ বুঝে মাথা তুললো শারাফ। মিসেস সেজান ছলছল চোখে বললেন,
– কি হয়েছে শারাফ? শো-তে কোনো সমস্যা? নাকি তোর রিসার্চের জন্য ভার্সিটিতে…
– কিছু হয়নি মা। ঠিক আছি আমি।
– শারাফ…?
– এখন একটু রেস্ট নিতে চাইছি মা। তোমরা এসো আপাতত।
…
– আই’ল ম্যানেজ। চেনো না তোমার ছেলেকে?
মায়ের গাল আলতোভাবে ছুয়ে, হেসে বললো শারাফ। শায়েরী মায়ের কাধ ধরে বললো,
– চলো মা। তোমার ছেলের আজ সত্যিই একা থাকা প্রয়োজন।
ছেলেমেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে আসলেন মিসেস সেজান। মুসকানকে নিয়ে চলে আসলেন মিসেস নাহিদও। শায়েরী মাকে বুঝিয়ে নিজের রুমে দিয়ে আসলো। রুম খালি হলে নিজের মাথার চুল উল্টে ধরলো শারাফ। উঠে অস্থিরভাবে এদিক-ওদিক পাইচারী করতে লাগলো। শান্ত করার চেষ্টা করলো নিজেকে৷ কিন্তু লাভ হলোনা। পড়ার টেবিলের সামনের চেয়ারটায় লাথি ছুড়ে, বিছানায় থাকা ফোনটা নিয়ে কল লাগালো শাওনের নাম্বারে। কল রিসিভ করে ওপাশ থেকে শাওন বললো,
– হ্যালো শারাফ? কেমন আছিস বল? পুরো একদিন পর ভাইয়ের কথা মনে পরলো বুঝি?
– মোহিনী আবার লীগের লিডারশিপে কি করে ঢুকলো ভাইয়া?
শারাফ একদম স্পষ্টস্বরে প্রশ্ন করলো। ওপাশে শাওনের সেকেন্ড দশেকের নিরবতায় উত্তেজনা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো ওর। বললো,
– তুমি বলেছিলে মোহিনীকে পদচ্যুত করা হয়েছে। তাহলে ও আজ আবারো ক্যাম্পাসে ক্ষমতার দাপট দেখায় কোন সাহসে? ওকে আবারো দলে নিয়েছে কে?
শাওন কয়েকদন্ড সময় নিলো। তারপর বললো,
– দেখ শারাফ, আমি ভার্সিটি ছেড়েছি কয়েকবছর পেরিয়েছে। ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তখন সরাসরিভাবে যুক্ত থাকলেও এখন তো আর নেই। আমার কথার মুল্যায়ন কি আর সেভাবে হবে বল? আমি প্রেজেন্ট এক্টিভিস্টদের সাথে কথা বলে তখন যেটুক করিয়েছিলাম, সেটা হয়তো এখন আর বলবৎ হচ্ছে না। তাছাড়া তুই আমাকে এটা বল, তোকে কিছু বলেছে মোহিনী?
শারাফ কিছুক্ষণ চুপ রইলো। শাওন বললো,
– বল শারাফ? কিছু হয়েছে ক্যাম্পাসে?
– তুমি যেভাবে বললে, আমি ধরে নিলাম বিষয়টা তোমার আয়ত্ত্বের বাইরে। তাহলে আর কথা বাড়ানোর দরকার নেই। রাখছি।
কল কাটলো শারাফ। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে, দম নিয়ে, নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো। আজ অন্য রুপে আবিষ্কার করেছে ও নিজেকে। স্নিগ্ধতাকে ভালোবেসে ওর পারিপার্শ্বিক বদলেছে, স্নিগ্ধতাকে ভালোবাসি বলে আজ ওর সত্ত্বা বদলেছে। পরিস্থিতি ঠিক কেমন পরিণতির আভাস দিচ্ছে? প্রাপ্তি না আহুতি? এই বদলের পরিণতি ঠিক কি?
#চলবে…

