#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা
৫০.
সাইফ-অগ্নিলার বিয়ে আজ তিনদিনের অতীতে। আর এ তিনদিনে অগ্নিলার প্রাপ্তি, সাইফের ব্যস্ততা আর স্নিগ্ধতার সঙ্গ। অগ্নিলা ভেবেছিলো যে সাইফকে ও উদ্দেশ্যমুলকভাবে বিয়ে করেছে, সে সাইফের ব্যস্ততা, সময়হীনতায় বিন্দুমাত্র আপত্তি থাকবে না ওর। কিন্তু তা হয়নি। বুকের ভেতরটায় থাকা কিছু বদ্ধ অনুভবেরা বলেছে, ওর সাইফের সঙ্গ চাই। দিনশেষে মানুষটার বুকে মাথা রাখলে যে অদ্ভুত প্রশান্তি পাওয়া যায়, তার একাংশও এরআগে ও কখনো পায়নি। কিন্তু তবুও মুখ বুজে ও সে সব অনুভূতিকে গায়েব করে দিয়েছে। সাইফের সাথে আড়ালের মানুষটার কাছেও নিজেকে স্বাভাবিক প্রমানে সফল ও। একটা দম নিয়ে নিজের ওপর সন্তুষ্টি আনলো অগ্নিলা। ট্রে তে ফ্রেন্চফ্রাই আর সস নিয়ে স্নিগ্ধতার রুমের দিকে এগোলো ও। সাইফ আজও বাসায় নেই। বিকেলটা ভাবী-ননদ আড্ডাতেই পার করে। আর এভাবেই চলছে।
অগ্নিলা স্নিগ্ধতার দরজায় নক করতে গিয়েও থেমে গেলো। সন্ধ্যার আগমুহুর্তের শীতল বাতাসটা রুমজুড়ে৷ আর দেয়ালে দেয়ালে রঙের সাজসজ্জা। খোলা দরজা দিয়ে একদম বারান্দা অবদি দেখা যাচ্ছে। ফুলে ফুলে পুরো ছেয়ে আছে সেখানটা৷ আর সে সব ফুলের মাঝে বসা আরেক মনমোহিনী। গাঢ় কমলা রঙের শর্টকামিজ আর সাদা ধুতি সালোয়ার তার পরনে। পিঠজুড়ে ছড়ানো চুলের অধিকারীনী মেঝেতে বসে ড্রয়িংয়ে ব্যস্ত। আঁকাখাতা কোলে নিয়ে মৃদ্যুছন্দে তাতে রংতুলি চালাচ্ছে স্নিগ্ধতা। অগ্নিলা একটা ছোট শ্বাস ফেললো। জীবনে অনেক রুপসী দেখেছে ও। কিন্তু এই মেয়েটার রুপ যেনো বাস্তবিকই মায়া জানে। যে কাউকে মোহে ফেলে দেবার জন্য ওর একপলক দর্শনই যথেষ্ট। এমন স্বর্গীয় রুপকে যেকোনো আঘাত কি পরিমানে বিধ্বস্ত করে দিতে পারে, ভাবলেই প্রতিবার দম বন্ধ লাগে অগ্নিলার। কিন্তু ওর হাতে যে নেই কিছুই। এক মুহুর্ত চোখ বন্ধ করে ঠোঁটে জোরপুর্বক হাসি আঁকলো অগ্নিলা। স্নিগ্ধতা কপালে আসা চুল সরিয়ে দিচ্ছিলো। অগ্নিলা দরজা থেকেই বললো,
– হাতে দাগ লেগে গেছে।
ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো স্নিগ্ধতা। হাসিমুখে বললো,
– আরেহ ভাবী? ঘুমাওনি তুমি?
– প্রেমে পরে ননদীনি আমার দিনক্ষন ভুলে গেছে দেখছি। কটা বাজে দেখেছো? এখন আবার কখনকার ঘুম?
বলতে বলতে অগ্নিলা রুমের ভেতরে ঢুকলো। তারপর বারান্দায় গিয়ে স্নিগ্ধতার সামনে ট্রে টা রাখলো। স্নিগ্ধতা কোল থেকে খাতাটা নামিয়ে হাটু জড়িয়ে বসলো। তেমন হাসিমুখেই বললো,
– কোথাও লেখা নেই প্রেমে পরলে টাইমিং ভুলে যেতে হয়। তাছাড়া তুমি লান্চের পর রুম থেকে বেরোওনি, তাই ভাবলাম ঘুমিয়েছো। রাতে ভালো করে ঘুম হয় কিনা, হু নোজ?
– পাকাপাকা কথা বাদ দিন। লান্চের পর আপনিই বেরোননি। আমি কিচেনেই ছিলাম।
ইশারা করে ফ্রেন্চফ্রাই দেখালো অগ্নিলা। স্নিগ্ধতা হেসে হাতে নিলো একটা। মুখে তুলতে যাবে, অগ্নিলা আবারো ওর হাতের দিক তাকিয়ে আনমনা ভাবে বললো,
– তোমার হাতে দাগ লেগেছে স্নিগ্ধতা।
স্নিগ্ধতা হাত ঘুরিয়ে দেখে নিলো। সত্যিই কালো ছোপ লেগেছে ডানহাতের কবজিতে। বা হাতের তালু দিয়ে সেখানটায় ডলা লাগিয়ে বললো,
– কি করবো বলো? দাগ লাগার কাজ করলে দাগ তো লাগবেই।
অগ্নিলা পাশ থেকে ওর খাতাটা হাতে নিয়ে ছবিটায় চোখ বুলালো। জলরঙে আঁকানো ওটা। সবুজ ঘাসের মাঝে দুজন মানব মানবী শুয়ে। দুরে একটা ব্রীজ দেখা যায়। আর ওদের মাথার চারপাশে ছোটছোট সাদা রঙের ঘাসফুল। হয়তো ডেইজি। ছেলে-মেয়ে দুটোর চেহারা আকানো নেই। তবে মেয়েটার কপালে কেবল একটা টিপ। ওর চুলগুলো ঘাসে ছড়ানো। আর ছেলেটা একহাত মাথার নিচে দিয়ে, কাৎ হয়ে শুয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে, প্রেমিক যেনো মুগ্ধচোখে প্রেমিকার আকাশ দেখা উপভোগ করছে। অগ্নিলা শব্দহীন হেসে বললো,
– যার উদ্দেশ্য সুন্দর, তাকে দাগ লাগার কাজ বলা যায় স্নিগ্ধতা?
ওর প্রশ্ন শুনে স্নিগ্ধতা ভ্রুকুটি করে তাকালো। অগ্নিলা খাতাটা ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে, হাটুতে রাখা হাতে আরেকহাতের কনুই ঠেকালো। গালে হাত দিয়ে আয়াসে বসে বললো,
– কাদের পার্সোনাল মোমেন্ট আকিয়েছো? লুকিয়েলুকিয়ে অন্যের প্রেম করা দেখা হয় বুঝি?
স্নিগ্ধতা সরু চোখে চেয়ে বললো,
– এটা তোমার আর ভাইয়ার মোমেন্ট না। তাহলে তোমার কেনো মনে হলো আমি অন্যের মোমেন্ট আকিয়েছি?
– মেয়েটার পরনে থাকা ফ্রকটার গলা বেশ বড়সর। এমন পোশাকে তোমাকে আমি কখনো দেখিনি। ইভেন ওর কপালে টিপ। আমি টিপ পরতেও দেখিনি তোমাকে।
– সাইকোলজিয়ান!
স্নিগ্ধতা মুচকি হাসলো। তারপর হাত বাড়ালো ফ্রেন্চফ্রাইয়ের দিকে। ওকে প্রশ্ন উপেক্ষা করতে দ্বিতীয়বার আর প্রশ্ন করলো না অগ্নিলা। কথা ঘোরালো অন্য প্রসঙ্গে। এরইমাঝে কলিং বেলটা বেজে ওঠে। স্নিগ্ধতা বাইরের দিক তাকিয়ে কিছুটা অবাক হয়ে বললো,
– এসময় কে? ভাইয়া?
– গত দুদিন তো মাঝরাতে ফিরেছে। বুঝছি না।
অগ্নিলা উঠে দাড়িয়ে এগোলো দরজা খুলবে বলে। মাথায় ওড়না দিয়ে পেছনপেছন স্নিগ্ধতাও আসলো। কিন্তু দরজা খুলতেই বিমূঢ় অগ্নিলা। দরজার বাইরে থেকে মেহেরুন, মুসকান, শায়েরী, মিসেস নাহিদ একসাথে চেচিয়ে বলে উঠলো,
– সারপ্রাইজ!
আনন্দে-খুশিতে চোখ ছলছল করে উঠলো অগ্নিলার। ওর পরিবার চাইলেও ও চায়নি বৌভাত হোক। যে বিয়ে মানে নিজের সাথে যুদ্ধ, সেখানে আবার বৌভাত কিসের? তবে অগ্নিলার এটাও মনে হয়েছে, ও হয়তো স্বাভাবিক একটা বিয়েই চেয়েছিলো। সাইফের ব্যস্ততার কথা চিন্তা করেই বৌভাতের ঝামেলা করতে মানা করে দিয়েছে ও। যতো যাই হোক, দিনশেষে তো পরিবারের কাছেই তো ফিরতো। তাই হয়তো বোনকে দেখে বাকিসব ভুলে গেলো অগ্নিলা। বাধভাঙা কান্না নিয়ে ‘আপু’ বলে ঝাপিয়ে পরলো মেহেরুনের বুকে। মেহেরুনও হাতের শপিংব্যাগ দুটো শায়েরীর কাছে দিয়ে জড়িয়ে ধরলো ওকে। ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকে দিয়ে বললো,
– তুই আমাদের মিসও করতে পারিস নীলা? এটাও হতে পারে?
অগ্নিলা বোনকে ছেড়ে দিয়ে গাল ফুলালো। পেছন থেকে পুরুষালি আওয়াজ এলো,
– ইটস্ লাভম্যাজিক মেহুভাবী। মিস্টার এহমাদ জাদু করেছে মিস হটিকে।
অগ্নিলার পেছন থেকে উকি দিলো স্নিগ্ধতা। ইনড্ সাদা শার্ট পরনে মেহেরুনের ঠিক পেছনেই শারাফ দাড়িয়ে। প্যান্টের পকেটে দুহাত গুজে দাড়িয়ে আছে সে। স্নিগ্ধতার সাথে চোখাচোখি হতেই কিঞ্চিৎ ঘাড় বাকিয়ে তাকালো শারাফ। দুটোদিন কেবল ম্যাসেজে কথা হয়েছে ওদের। তবে এই মুখটা না দেখার তৃষ্ণা যেনো নিঃশেষ করে দিচ্ছিলো ওকে। ওর চাওনি দেখে লজ্জানত হয়ে অগ্নিলার পেছনে আড়াল হলো স্নিগ্ধতা। মিসেস নাহিদ ঠোঁট টিপে হেসে বললেন,
– কি ব্যাপার স্নিগ্ধতা? আমাদের ভেতরে আসতে না বলে নিজেই দেখি আড়াল হচ্ছো? ভেতরে আসতে বলবেনা?
অগ্নিলা দ্রুতগতিতে সরে দাড়ালো। মিসেস নাহিদের হাত ধরে টেনে ভেতরে আনতে আনতে বললো,
– আড়াল হচ্ছে বলে ওকে দোষ দিচ্ছো? ওদিকে তোমার পেছনের একজন যে তার চাওনি দিয়েই আমার ননদকে জ্বালাচ্ছে, সেটা চোখে পরলো না তোমার?
হাসির আমেজে ভেতরে ঢুকলো সবাই। একসাথে ড্রয়িংয়ে সোফায় বসে কুশলবিনিময়ও করলো। হালকা খাবারদাবার সেরে আবারো আড্ডায় মত্ত্ব হলো সবাই মিলে। ততক্ষণে সন্ধ্যা গরিয়েছে। মুসকান একসময় এগিয়ে গিয়ে কোলে বসলো স্নিগ্ধতার। স্নিগ্ধতাও সবার সাথে বেশ হাসিখুশিভাবে কথা বলছিলো। শারাফ এতোক্ষণ কথা না বলে মোবাইলে ব্যস্ত থাকার অভিনয় করছিলো। কিন্তু এবারে ফোনে দৃষ্টি রেখে বলে উঠলো,
– এখানে একজনের জ্বলজ্যান্ত প্রেমিক বসে আছি। এখনো অবদি একটু প্রাইভেসি পেলাম না। অথচ সবাই যারযার মতো আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। আরেকজন তো কোলে গিয়েই বসে আছে।
স্নিগ্ধতা বড়বড় চোখে একবার শারাফের দিকে তাকিয়ে আশেপাশের সবার দিকে চোখ বুলালো। শব্দ করে হেসে দিলো প্রত্যেকে। শায়েরী স্নিগ্ধতার পাশ থেকে বললো,
– তুই শেষ অবদি মুসুকেও ছাড় দিলিনা ভাইয়া? ওকেও পিন্চ করলি?
শারাফ গায়ে মাখলো না ওর কথা। বিরক্তি নিয়ে বললো,
– তোরা তোদের কিটিপার্টি দ্রুত শেষ কর। আমি প্রেম করবো।
দৃষ্টি আরো প্রসারিত হলো স্নিগ্ধতার। অগ্নিলা হেসে বললো,
– সাইফ চলে আসবে বলে ভয় পাচ্ছো নাকি? দেরি হবে সাইফের। বাই দা ওয়ে, এতো ভয়ই যদি পাও, পুলিশের বোনের সাথে প্রেম কেনো করতে গেলে?
প্রতিত্তরে কেবল হাসলো শারাফ। উঠে দাড়িয়ে, ফোনটা পকেটে পুরে, সোজা গিয়ে স্নিগ্ধতার হাত ধরলো ও। চমকে উঠলো স্নিগ্ধতা। শারাফ ওর কোলে বসা মুসকানকে বললো,
– কোল থেকে নাম। তোর ভাবীন প্রেম করবে।
মুসকান তৎক্ষনাৎ নেমে গেলো। শারাফ হাত ধরে নিয়ে গেলো স্নিগ্ধতাকে। মুসকান এসে এবার মায়ের কোলে বসলো। বললো,
– প্রেম করা কি আম্মু?
মিসেস নাহিদ হচকিয়ে গেলেন। অগ্নিলা হাসিমুখে বললো,
– প্রেম করা মানে হলো একসাথে দাড়িয়ে আকাশ দেখা। কিন্তু মুসু? তুমি স্নিগ্ধতাকে ভাবীন কেনো ডাকছিলে?
– শারাফ ভাইয়া বলেছিলো আপু আমার নাকি ভাবী হয়। কিন্তু ভাইয়ার বউ মানেতো আমার সতীন। তাই আমি দুইটাই ডাকবো। ভাবী আর সতীন। ভাবীন।
বাকিসবাই হেসে দিলেও মিসেস নাহিদ শক্তপোক্ত হাতে মেয়ের কান মলে দিলেন। শাষণের মতো করে বললেন,
– অনেকবেশি পেকেছো তুমি! শারাফের বউ আবার কিসের সতীন তোমার? ভাবীই ডাকবে শুধু! মনে থাকবে?
খুনশুটি আর হাসির শব্দে একতল বাসাটা যেনো আন্দোলিত হচ্ছে। ছাদের প্রান্তে পাশাপাশি দাড়িয়ে শারাফ-স্নিগ্ধতা। স্নিগ্ধতাদের বাসার পেছনদিকটায় তেমন বহুতল ভবন নেই। তাই একতল বাসার ছাদ থেকেই দুরের আকাশ- ভুমির মিলনরেখা দেখা যায়। চাঁদহীন আকাশ, শুকতারা, গা ছুইয়ে দেওয়া মৃদ্যুশীতল বাতাস, আর নিচতলা থেকে আসা হাসির আওয়াজ। এ যেনো এক স্বর্গীয় সুখ। শারাফ-স্নিগ্ধতা, দুজনার নিরবতায় কেটে যায় বেশ কিছুক্ষন। স্নিগ্ধতা সামনে তাকিয়ে ছিলো কেবল। আর শারাফ ওকে দেখছিলো। স্নিগ্ধতা মৌনতা ছেড়ে বললো,
– নীলাভাবীর মনটা ভালো ছিলো না শারাফ। সবাইকে নিয়ে আসার জন্য থ্যাংকস্।
– সবাইকে নিয়ে আসার জন্য?
স্নিগ্ধতা একপলক তাকালো ওর দিকে। একটু হেসে, আবারো সামনে তাকিয়ে বললো,
– তুমি এসেছো, এজন্যও। থ্যাংকিউ।
– শুধু থ্যাংকিউ?
আবারো ঘাড় ঘুরিয়ে শারাফের দিকে তাকালো স্নিগ্ধতা। ওর মাথায় থাকা জরজেটের ওড়নাটা পরে গেলো এবারে। শারাফ রেলিংয়ে হাত রেখে সামনে তাকিয়ে দাড়িয়েছে। তার সাদা শার্টের বড় হাতাজোড়া গুটানো। চেহারায় অস্থবিরতা৷ অন্যায় আবদার জানিয়ে কেউ যেমন দৃষ্টি ফেরায়, তেমনটা। স্নিগ্ধতা ওর একহাত ধরে রেলিং থেকে সরিয়ে দিলো। অবাকচোখে ওরদিক তাকালো শারাফ। স্নিগ্ধতা ওর দুহাতের মাঝে, ওর বুকের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাড়ালো। শারাফের গলা বরাবর মাথা ঠেকিয়ে উর্ধ্বদৃষ্টিতে আকাশ দেখতে দেখতে বললো,
– স্নিগ্ধতার জীবনের স্নিগ্ধতম মুহুর্তগুলো উপহার দেবার জন্য আপনাকে স্নিগ্ধসিক্ত ভালোবাসা স্নিগ্ধপুরুষ।
শারাফ অনড় রইলো। অবিশ্বাসী চোখে দুহাতের মাঝে দাড়ানো দীর্ঘকেশী রমনীকে দেখতে লাগলো। বুকের মাঝে দ্রুতগতির হৃদস্পন্দন। মাঝেমাঝে এমনও মনে হচ্ছে, এই বুঝি থেমে যাবে সবটা। স্নিগ্ধতার হাতদুটোও রেকিংয়ে থাকা ওর হাতদুটোর ওপরে। শারাফ নিজেকে স্বাভাবিক করলো। ঘাড় বাকিয়ে স্নিগ্ধতার মুখ দেখার চেষ্টা করে বললো,
– দেখেছো স্নিগ্ধতা, আকাশে চাঁদ ওঠেনি আজ।
…
– কিকরেই বা উঠবে? চাঁদ তো আমার হাতে ধরা দিয়েছে। নিজেথেকে। আজ সে আমার বাহুডোরে। ওই বিশাল আকাশে তার কোনো অস্তিস্ত নেই।
স্নিগ্ধতা নিশব্দে হাসলো। শারাফ আবারো বললো,
– আর আমার এতোবড় প্রাপ্তির জন্য তুমি দায়ী স্নিগ্ধতা। বিনিময়ে তোমাকে কি দেবো বলো?
স্নিগ্ধতা জবাব দেবার পূর্বেই বাহাত রেলিং থেকে সরিয়ে নিলো শারাফ। সেহাতেই স্নিগ্ধতার ঘাড়ের ডানপাশের চুলগুলো সরিয়ে দিলো আলতোকরে। তারপর একটা সরু রুপালিরঙা চেইন পরিয়ে দিলো ওর গলায়। স্নিগ্ধতা কম্পিতশরীর নিয়ে চোখ বন্ধ করে ছিলো। শারাফ অকস্মাৎ ওর গলায় গাঢ়ভাবে ঠোঁট ছুইয়ে দিয়ে বললো,
– প্রলয়ের মতো আমার জীবনে এসে, আমার চাঁদহীন আকাশকে প্রেমচন্দ্রিমায় ভরিয়ে দেবার জন্য আপনাকে একআকাশ ভালোবাসা মিস প্রলয়া। আই লাভ ইউ।
#চলবে…

