নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ৪৯.

0
3

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

৪৯.

উজ্জল আলোতে ঘুম ভাঙে সাইফের। হঠাৎ আসা আলোয় চোখ দুবার পিটপিটিয়ে খুলে ফেললো ও। বিছানার ঠিক পাশেই উল্টোপাশ হয়ে দাড়ানো নারী অবয়ব। জানালার পর্দা সরিয়ে দিয়েছে সে। রমনী পিঠজুড়ে ছড়ানোর সিক্ত চুলগুলোর ঘাড়ের দিকটা হাতের মুঠোয় নিয়ে একবার উচু করে আবারো ছেড়ে দিলো। তারপর ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো সাইফের দিকে। অগ্নিলার সদ্যস্নাত চেহারা দেখেই হাসি ফুটলো সাইফের চেহারায়। আড়মোড়া ছেড়ে, দুহাত মাথার নিচে নিয়ে বললো,

– নতুন বাসায় ঘুম কেমন হয়েছে নীলাম্যাডাম? কেউ আপনার ঘুমে ডিস্টার্ব করেনি তো?

অগ্নিলা জবাব দিলোনা। পিঠের সবগুলো চুল ঘাড়ের একপাশ দিয়ে সামনে ঠেলে দিলো নিজের। তারপর এগিয়ে এসে সাইফের দিক ঝুকে ওর বুকের ওপর থাকা চাদর সরিয়ে দিলো। ওর গলার আশেপাশে, উন্মুক্ত বুকে থাকা ছোটছোট আঁচড়ের দাগগুলোতে আঙুল চালিয়ে বললো,

– নতুন আসামীর আগমনে আপনার ঘুম কেমন হয়েছে ইন্সপেক্টর? কেউ আবার আপনাকে বশবর্তী পেয়ে বসে আঘাতটাঘাত করেনি তো?

হেসে দিয়ে অগ্নিলার হাত ধরে ফেললো সাইফ। উঠে বসে মৃদ্যুটানে কাছে টেনে নিলো ওকে। পেছনদিক থেকে জড়িয়ে ধরে, ওর ব্লাউজের ফাকে থাকা উন্মুক্ত ঘাড়ের ক্ষততে ঠোঁট ছুইয়ে বললো,

– হয়েছি তো। বেশ ভালোমতোই আহত হয়েছি। আর প্রতিঘাত করার জন্য আমি একদমই সরি নই।

সাইফের দিকে আড়চোখে তাকালো অগ্নিলা। চোখাচোখি হতেই একসাথে হেসে দিলো দুজনে। অগ্নিলা নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে দাড়ালো। ড্রেসিংটেবিলের সামনে গিয়ে চুলে চিরুনী চালিয়ে বললো,

– পুলিশের কাজ আইনরক্ষা। প্রতিঘাত বা শাস্তি, কোনোটাই করতে পারো না তুমি।

– যদি আসামীটা এমন ব্যক্তিগত হয়, তার জন্য আমার ব্যক্তিগত নিয়ম প্রযোজ্য নয়কি?

আরেকবার সাইফের দিকে তাকালো অগ্নিলা। সাইফ গা এলিয়ে হেলান দিয়ে বসেছে। অগ্নিলা নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে বললো,

– হয়েছে হয়েছে৷ সকালসকাল আপনাকে আর রবীন্দ্রনাথ হতে হবেনা। উঠে ফ্রেশ হয়ে নিন। আর একবার ফোনটা চেইক করুন নিজের। ভোরের দিকে কল এসেছিলো একটা।

সাইফ কিছুটা অবাক হলো। বালিশের পাশ থেকে ফোন হাতড়াতে হাতড়াতে বললো,

– কল এসেছিলো? কই আমি শুনিনি তো।

– একবারই কল এসেছিলো। তুমি ঘুমোচ্ছিলে বলে ডাকিনি। ইম্পর্টেন্ট কল কোনো?

অগ্নিলার গলায় আগ্রহ। সাইফ কললিস্ট চেইক করে দেখলো সত্যিই একবার কল এসেছে ওর ফোনে। নম্বরটা ডক্টর নাজমুল যে হসপিটালে ভর্তি, সেখানে থাকা এক কনস্টেবলের। ভ্রুজোড়া কুচকে এলো সাইফের। বিছানা ছেড়ে নেমে, নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কলব্যাক করলো নম্বরটায়। ওকে ওভাবে বিছানা ছেড়ে নামতে দেখে অগ্নিলারও প্রতিক্রিয়া পাল্টেছে। এগিয়ে দাড়ালো ও সাইফের দিকে। আর সাইফ সোজা ব্যালকনিতে চলে গেলো। অগ্নিলা আর একপাও বাড়ালো না। দুবার রিং হবার পর রিসিভ হলো কলটা। সাইফ দরজা খোলার শব্দ পেয়ে রুমের দিক তাকিয়ে দেখে অগ্নিলা রুমে নেই। মানে ওর প্রাইভেসির কথা ভেবে অগ্নিলা বাইরে চলে গেছে। মনেমনে সন্তুষ্ট হলো সাইফ। ফোনে বললো,

– হ্যাঁ লিটন। বলো। কল করেছিলে?

– জ্ জ্বী স্যার। স্ সরি। আসলে আমি জানতাম না গতকাল আপনার বিয়ে ছিলো। আমার তখন কলটা করা উচিত…

– তোমার ওখানে থাকার কারন আমাকে কল করার কারন খোজা। সো কাম টু দ্যা পয়েন্ট। কোনো সমস্যা হয়েছে ওদিকে?

– স্ স্যার সমস্যা মানে…

– হু। শুনছি আমি। কি হয়েছে? এনি প্রবলেম? নাজমুল ঠিকাছে?

– স্যার…

– যদি তুমি কথা মুখে গুজে রাখো তোমাকে চাকরিতে রাখা হবেনা আমার লিটন।

কনস্টেবল দম নিলো। সত্যিটা খুলে বলা এমনিতেও আবশ্যক। তারওপর সাইফের এমন গলার স্বর। কোনোরুপ খামখেয়ালি না করে বললো,

– গতকাল রাতে ডক্টর নাজমুলকে কেউ মে’রে দিয়ে গেছে স্যার।

– হোয়াট?

সাইফ সর্বোচ্চস্বরে চেঁচিয়ে উঠলো। ওর আওয়াজে ওপাশের ছেলেটার সাথে পুরো ঘরটাও কেপে উঠলো যেনো। একহাতে ধরে রাখা ফোনটা দুহাতে চেপে ধরলো লিটন। একটা ঢোক গিলে বলতে লাগলো,

– ঘ্ ঘটনা কিভাবে কি হলো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না স্যার৷ দুজনে একচুলও নড়িনি করিডোর থেকে। শেষরাতের দিকে আমি ওয়াশরুমের দিকে এগিয়েছিলাম আর অন্যজন করিডোরে বসে ছিলো। ও কাউকে কেবিনে ঢুকতে দেখিনি। নাইবা আমি আসার পর কেউ বেরিয়েছে। ভোরে নার্স কেবিনে ঢুকেই আর্তনাত করে ওঠে। আমরা দুজন তৎক্ষনাৎ ভেতরে ঢুকে পরি। ততক্ষণে সব শেষ। নাজমুলের গলায় অতি ধারালো কিছু চালানো হয়েছে। চোখজোড়া এমনভাবে খোলা যেনো মৃত্যুর সময় স্পষ্টভাবে খু’নীর চেহারা দেখেছে সে।

– আ্ আপনাকে ঠিক তখনই কল করেছিলাম। রিসিভ করেননি। আমি দ্রুত মনিটরিং গ্রুপে সিসিক্যাম চেইক করতে বলি। কিন্তু কিছুই পায়নি ওরা। ওদের ধারনা সিস্টেম হ্যাক করে, একটা ফেইক ফুটেজ অন রেখে খু’নী করিডোর পেরিয়েছে। এ্ এরপর…

লিটনের কথা শুনে সাইফ শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ। কান থেকে ফোন নামিয়ে, রাগের বশে যেইনা ফোনটা ছুড়ে মারতে যাবে, রুমের দরজায় আওয়াজ করলো স্নিগ্ধতা। বললো,

– ভাইয়া? আসবো?

নিজেকে সংবরন করলো সাইফ। বারান্দা থেকে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো ও। বললো,

– আয়।

দরজা খুলে আগে রুমে উকি দিলো স্নিগ্ধতা। রুমজুড়ে কেউ নেই। তবে ওয়াশরুম থেকে পানি ছাড়ার শব্দ আসছে। তিন কাপ চায়ের ট্রে টা নিয়ে ভেতরে ঢুকলো ও। টেবিলের দিক এগিয়ে বললো,

– ভাইয়া? ওয়াশরুমে তুমি?

– হ্যাঁ।

– ভাবী ক্…

কাধে কারো স্পর্শ পেয়ে থেমে থেমে যায় স্নিগ্ধতা। পেছন ফিরে গোলাপী শাড়ি পরিহিত অগ্নিলাকে দেখে বড়সর হাসি ফোটায় ঠোঁটে। ট্রে টা টেবিলে রেখে মিষ্টিস্বরে বলে,

– মর্নিং ভাবী।

– মর্নিং।

– গোলাপী শাড়িতে তোমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।

– রুপের বাহার আমার প্রশংসা করছে? আমি তো ধন্যই হয়ে গেলাম।

স্নিগ্ধতা গাল ফুলালো। বললো,

– তুমিও এখন এভাবে বলবে?

– ভুল বলিনি তো।

– আলবাত ভুল বলেছো। আমি কোনো রুপবাহারী নই। সে যাকগে। শোনোতো, গতকাল আশ্রমের যারা এসেছিলো, তারা একটুপরেই বেরিয়ে যাবে বলছে। আশ্রম থেকে আরো দু দুটো আম্মা, আমাদের একমাত্র দাম্মা, আর দুজন আব্বাহুজুর সকাসকাল চলে এসেছে। বাইরে ড্রয়িংয়ে তোমাকে দোয়া দেবে বলে অপেক্ষা করছে তারা। চা শেষ করো, তারপর ওদের মিষ্টিমুখ করাবে চলো।

– ওমা তাই? তো সবাই ওখানে, তাহলে আমরা এখানে একাএকা চা কেনো খাবো? তুমিই বা এসব আনতে গেলে কেনো? আমি তো…

স্নিগ্ধতা চায়ের কাপ তুলে হাতে দিলো অগ্নিলার। বললো,

– ওরা আপাতত চায়ের সাথে তোমাকে কি কি দোয়া দেবে সে নিয়ে নিজেদের মাঝে গোপন বৈঠকে আছে। ওখানে এখন আমার, তোমার ভাইয়ার যাওয়া নিষেধ।

তারপর কিছুটা দুষ্টুমির হাসি হেসে, গলা উচিয়ে বললো,

– তাছাড়া এসব তো বাহানা। একচুয়ালি আমি জানতে এসেছিলাম, এই ঘরে আইমিন এই বাসায় একটা পুরো রাত থাকতে তোমার কোনো প্রবলেম হয়েছে কিনা। ফটাফট বলে দাওতো, তোমাকে কেউ কোনোভাবে ডিস্টার্ব করেছে কিনা!

অগ্নিলা লাজুক হাসিটা আটকে উচুস্বরেই বললো,

– তোমার ভাইয়ার ফোনের রিংটোন ব্যতিত বাকিসব ঠিকাছে। ওটার জন্য একটু হয়েছি ডিস্টার্বড্।

হাসছিলো দুজনে। এরমাঝে সশব্দে খুলে গেলো ওয়াশরুমের দরজা। কিছুটা চমকে ভাইয়ের দিকে তাকালো স্নিগ্ধতা। সাইফ চুলে তোয়ালে চালাতে চালাতে কাবার্ডের দিকে এগোলো। টিশার্টের ওপর একটা শার্ট পরে নিয়ে, শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে বললো,

– নীলা, আম্মা, আব্বাহুজুর সবাইকে নিয়ে ব্রেকফাস্ট, লান্চ করে নিস টুকি। আমার ইমার্জেন্সি আছে। বেরোচ্ছি।

স্নিগ্ধতা অগ্নিলার দিকে তাকালো। অগ্নিলার চেহারায় অদ্ভুত একটা হাসি। হাসিটা নিজের ভাগ্যের ওপর তাচ্ছিল্যের নাকি সাইফের কাজের প্রতি ডেডিকেশন দেখে মুগ্ধতার, সেটা বুঝে উঠতে পারলো না ও। বিয়ের পর আজকে প্রথম দিন ওদের। আর রাতটা পোহাতেই ওর বর কাজে বেরিয়ে পরছে। স্নিগ্ধতা জানে, সাইফকে কিছু বলে থামানো সম্ভব না। তাই কিছু বললো না। অগ্নিলাকে কিছু বলতে যাবে, অগ্নিলা এগিয়ে গিয়ে মানিব্যাগ আর গাড়ির চাবি এগিয়ে দিলো সাইফকে। মোবাইল পকেটে পুরছিলো সাইফ। অগ্নিলার হাসিমুখটা দেখে ভেতরটায় যেনো ক্ষত অনুভব হচ্ছিলো ওর। কিন্তু ও নিরুপায়। একহাতে মানিব্যাগ আর চাবিটা নিয়ে আরেকহাতে অগ্নিলার একগাল ধরলো ও। বললো,

– আ’ম স্…

– নেভার বি সরি টু মি সাইফ। নেভার! ওই শব্দটা তোমার জন্য না। এসো।

সাইফকে বলতে না দিয়ে বললো অগ্নিলা। স্নিগ্ধতার দিকে একপলক তাকালো সাইফ। স্নিগ্ধতা আস্বস্তের ইশারা করলে ওকে। বোন, স্ত্রী। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই মানবী ওকে বোঝে, জানে, পাশে থাকে। জীবনে আর বিশেষ কিই বা লাগে কারো? এবার শুধু একটাই উদ্দেশ্য। হাতে থাকা কেইসের অপরাধীকে ধরা। কিন্তু কিভাবে সম্ভব তা? সন্দেহ ঘুচানোর জন্য যে নাজমুলকে দরকার ছিলো, সে নাজমুলও আর পৃথিবীতে নেই। হাত মুষ্ঠিবদ্ধ হলে সাইফের। কে এই ছায়ামানব? কিভাবে, কেনো করছে এসব? এতোটা নিখুত পরিকল্পনা কিকরে করছে সে? সেসব বাস্তবায়নে কে কে জড়িত? আগের খু’নগুলোর মতো এবারেও কি কোনোরুপ ভুল ছাড়েনি সে? নাকি একবার আঘাত, পরেরবার মৃত্য, প্রথমবার দুইধাপের পরিকল্পনা করে সবচেয়ে বড় ভুলটা ছেড়েছে?

বন্ধ দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছে অগ্নিলা। সাইফ বেরিয়ে যাবার পর অনেকক্ষণ পেরিয়েছে। এরপর ও স্নিগ্ধতা দুজনে মিলে বয়স্কদের সাথে কথা বলেছে, খাবার খেয়েছে, চৌধুরী হাউজ থেকেও কল এসেছিলো। স্বাভাবিক গলায় সবার সাথে কথা বলেছে ও। সবার সাথে হাসিমুখ দেখানো পর্ব চুকিয়ে রুমে ঢুকলো ও। দরজায় বসে গেলো ধপ করে। নিরবে দুফোটা চোখের জল বিসর্জনও দিলো। মেঝেতে থাকা ফোনটা নিয়ে কল লাগালো নিদিষ্ট নম্বরে৷ রিসিভ হলে বললো,

– নাজমুলকে মে’রে ফেললে?

– এটা তো অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিলো।

– কিন্তু তুমি তখন তা করতে পারোনি। তোমার ব্যর্থতা ছিলো।

– ব্যর্থ হয়ে আফসোস হয়নি। ওর যন্ত্রনা দেখে তুষ্ট ছিলাম।

– তা হঠাৎ ওকে মারতে হলো যে?

– স্পিক আপ!

– আমার দাবার চাল হিসেবে তুমি বিয়ের মতো সম্পর্কে জড়ালে। গিল্টিফিল হচ্ছিলো। রাগ সামলাতে পারিনি।

তার রাগ চেনে অগ্নিলা। আপাতদৃষ্টিতে এই ‘রাগ সামলাতে পারিনি’, এটাই সবগুলো খু’নের কারন। নাজমুলের সাথেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একটা ঢোক গিলে বললো,

– কিভাবে মা’রলে?

– যা পেইন দেওয়ার, সেদিন তো দিয়েছিই। বেশ শোচনীয় অবস্থায় ছিলো বেচারা। আজ শুধু এনেস্থিসিয়া পুশ করে গলা বরাবর ক্লিভার চালিয়েছি।

– তোমাকে দেখেছে?

– কেবল আমাকেই দেখেছে। করুনচোখে তাকিয়ে দেখেছে। নিজের শরীর যে নড়ছিলো না, সেদিকে একটাবারও তাকায়নি।

শ্বাস ফেললো অগ্নিলা। আবারো জিজ্ঞেস করলো,

– কনস্টেবলদের চোখ এড়ালে কিকরে?

– বেচারাদের মশা ধরছিলো নাকি। তবে কয়েল জ্বালানোর আদেশ শুনে ওয়ার্ডবয় কোনো মশার কয়েল জ্বালায়নি। কোকেইন ছিলো। একবার সেটা নিশ্বাসে গেলে, বাকিসব মাথার বাইরে। সামনে দিয়ে মানুষ হোক বা ফউজ, যেই যাক না কেনো, ওরা দেখবে সবই। কিন্তু মনে রাখতে পারবে না।

– যদি সামহাউ সাইফের ডক্টরের কথা মনে পরতো আর ও হসপিটাল চলে যেতো?

ওপাশ থেকে হাসির শব্দ ভেসে আসলো। কিছুটা সময় নিয়ে সে হাসি থামিয়ে বললো,

– বাসররাত ছিলো তোমাদের। ইন্সপেক্টরকে ছাড়তে তুমি?

জবাব দিলোনা অগ্নিলা। সে আবারো বললো,

– জানি এরপর আর কোনোদিন ইন্সপেক্টরকে আটকাতে পারবেনা। সন্দেহ, মনে পরা, প্রমাণ পাওয়া, সে যে কারনেই হোক, যদি একবার সে বেরোনো প্রয়োজন মনে করে, তুমি, তার আদুরে বোন টুকি কেউই তাকে থামাতে পারবেনা। এজন্যই ডক্টর হসপিটালে যাবার পরপর কিংবা গতরাতের পর ওকে মা’রিনি। আজ যদি ইন্সপেক্টর বদ্ধ থাকে আর ডক্টরের মুক্তির সর্বোচ্চ সুযোগ থাকে, হোয়াই নট?

– বিয়ের জন্য আমাকে জানাওনি বুঝলাম। প্রথমবার একাকী সামলেছো সবটা। ভয় করেনি?

আবারো হাসির আওয়াজ। সে বললো,

– প্রথমবার একজনকে মারতে দুইবার প্লান করতে হয়েছে। ভয় না হলেও, ভুল তো হয়েছেই। সংসারে মন দাও নীলাম্যাডাম। স্বামীর যত্ন নাও। আর সাথে স্বামীর হাতে লাগা ইনফরমেশনেরও। রাখছি।

কল কেটে গেলো। অগ্নিলা অবাক হলো না। তবে সন্দিহান হলো কিছুটা। এতোদিন ও জানতো, এই মানুষটা একটা সাইকো, ভয়ংকর সত্ত্বা! যখন সে তার ভয়াবহ রুপে থাকে, তখন সে এক আলাদাই মানুষ। কিন্তু আজকে ওর মনে হচ্ছে, সে কখনোই চিরচেনা কেউ ছিলোই না। তার মাঝে অন্যকারো বসবাস! আর সেই ‘অন্যকেউটা’র সাথেই সবটার সূত্রপাত। আর হয়তো সেখানেই অপেক্ষা করছে কোনো এক ভ’য়ানক অতীত, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সত্য!

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here