নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা ৬২.

0
2

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা

৬২.

নিজের ঘরে শার্টের হাতা গুটাচ্ছে সাইফ। মানুষজনে ভর্তি ওর ছোট্ট বাসাটা কলকল করছে। সাইফের একমাত্র বোনের গায়ে হলুদ বলে কথা। সবার আদুরে মেয়েটার গায়ে হলুদ আজ। আশ্রমের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে শুরু করে, স্নিগ্ধতার স্কুল কলেজের কিছু স্যার-ম্যাডাম, বান্ধবীরা, আর পাড়াপ্রতিবেশিও এসেছে। তবে ওর বিয়ের মতো স্নিগ্ধতার বিয়েতে বাদ যায়নি দুর সম্পর্কের রক্তের সম্পর্কগুলো। নিজের বিয়েতে না বললেও স্নিগ্ধতার বিয়েতে চেনাজানা সব আত্মীয় স্বজনকে দাওয়াত করেছে সাইফ। ও চেয়েছিলো সব দুয়া নিয়ে নতুন জীবনে পা রাখুক স্নিগ্ধতা। তাই কারো বিরুদ্ধে অভিমান অভিযোগ পোষে নি আর। সাইফ টেবিল থেকে গাড়ির চাবিটা নিলো। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে হলুদের জন্য সাজানো জায়গাটা দেখে নিলো। সেখানে ফুলের ফোমকার্ডে লেখা, ‘টুকি’র গায়ে হলুদ’ শেষরাতের দিকে ফরেনসিক থেকে বাসায় ফিরে সকাল অবদি বাগানে স্টেজ আর বাসা সাজিয়েছে ও। শপিংসহ সবদিক গুছিয়েছে। যদিও হাতেহাতে কাজ করে দেবার উদ্দেশ্যে সকালবেলাই পৌছে গিয়েছিলো সবাই। কিন্তু এসে সবটা গোছানোই পেয়েছে।

নিজেকে শক্ত করে রুম থেকে বেরোলো সাইফ। ড্রয়িংরুমে একগাদা মানুষ বসে। কেউ দাড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে, হাসাহাসি করছে, ছোটছোট বাচ্চারা দৌড়াদৌড়ি করছে। আর সবার মাঝে মেঝেতে বসে স্নিগ্ধতা। বৃদ্ধাশ্রমের সবচেয়ে বয়স্কাকে সোফায় বসিয়ে তার কোলের ওপর মাথা রেখে আছে ও। অনু ওর হাতে মেহেদী পরানো শেষ করেছে। সেটা শুকিয়েও এসেছে। বয়স্কা স্নিগ্ধতার খোলা চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর শশুড়বাড়ির উপদেশ দিচ্ছে। সবার ফ্যাকাশে পরিধানের মাঝে আকাশী রঙের জামা ছড়িয়ে বসে আছে স্নিগ্ধতা। সাইফের চোখ ভরে ওঠে। ওর ছোট্ট টুকিটা অনেক বড় হয়ে গেছে। এতোবেশি বড় হয়ে গেছে যে কাল দিনটা পর ওর বোন আর ওর কাছে থাকবে না। নিয়ম করে ওকে দেখে চোখ শীতল করতে পারবে না। চোখের জল বেরোনোর আগেই চোখ মুছে ফেলে সাইফ। পাশ থেকে অগ্নিলা বললো,

– ঘড়িটা।

সাইফ পাশে তাকায়। অগ্নিলার হাত থেকে ঘড়িটা নিয়ে হাতে পরতে শুরু করে। কিন্তু ওর হাত কাপছে৷ পরতেই পারছে না ও ঘড়িটা। সাইফ ঠোট কামড়ে ধরে নিজের। অগ্নিলার কথা শুনে মাথা তুলে ভাইয়ের দিকে তাকালো স্নিগ্ধতা। সবার মাঝখান থেকে উঠে আসলো ও। চুপচাপ ভাইয়ের হাতের ঘড়িটা হাতে নিয়ে ওই পরিয়ে দিলো ঠিকঠাকমতো। চোখ তুলে তাকিয়ে বললো,

– জলদি ফিরো?

– শুরুর হলুদটা না ছোয়াতে পারলেও শেষটা আমিই ছোয়াবো।

বোনের দুগালে হাত রেখে বললো সাইফ। অগ্নিলা পাশ থেকে হলুদের বাটি তুলে ধরলো। বললো,

– শুরুর হলুদটাও তুমিই ছোয়াবে সাইফ।

সাইফ উপস্থিত সবার মুখের দিকে তাকালো। গুরুজনেরাও সায় দিলো অগ্নিলার কথায়। হাসিমুখে হলুদের বাটি থেকে আঙুলে হলুদ নিলো সাইফ। স্নিগ্ধতার দুগালে ছুইয়ে বললো,

– তোর সব চাওয়া পুরণ হোক।

কান্নায় চোখ ভরে উঠলেও কাদলো না স্নিগ্ধতা। বরং সাইফের হাত ধরে চুমু দিলো। মিষ্টি একটা হাসি স্থির রাখলো ঠোঁটে। সাইফের মন যেনো ভরে উঠলো ওই হাসিতে। বোনের গায়ে হলুদে না থাকার যেটুক কষ্ট নিয়ে ও বেরিয়ে যাচ্ছিলো, সবটুকোকেই যেনো স্বস্তি দিয়ে পূর্ণ করে দিলো স্নিগ্ধতা। বোনের কপালে চুমু দিয়ে, অগ্নীলাকে ইশারায় আসছি বোঝালো সাইফ। অগ্নিলাও মাথা ওপরনিচ করলো। সাইফ দম নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে আসলো। আপাতত আরাফাতকে নিয়ে আইটি সেক্টরে যাবে ও। উদ্দেশ্য, তারেকের মেইন ইউআরএল, তার হ্যাকার, রিগেইনার আর য়্যুমুর অনলাইন একাউন্ট রিএ্যাক্টিভেট করা।

স্বপ্নীলের আনাচকানাচে আজ হলুদের বাহার। বিলাসবহুল বাড়িটার মুল ফটক থেকে শুরু করে প্রতিটা দেয়াল, সিড়ির হাতল অবদি হলুদ-কমলা গাদাসহ আর বড়বড় ফুলে সাজানো। বাড়ির প্রতিটা সদস্যও আজ হলুদরঙের পোষাকে আচ্ছাদিত। শারাফের মা, মেহেরুন, মিসেস নাহিদ হলুদ শাড়ি পরেছেন। শায়েরী হলদে গাউন আর মুসকান হলুদ রঙের ফ্রক পরেছে। ছেলেরা সবাই হলুদ পান্জাবী সাদা পায়জামা পরেছে। কেবলমাত্র শারাফ ব্যতিত। সাদা সেন্টু গেন্জি আর পায়জামা পরে সোফায় বসে আছে ও। চেহারায় একরাশ বিরক্তি। মেয়েরা সাজগুজ সেরে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে গেছে। আর ছেলেরা ও আসার আগেই গার্ডেনে চলে গেছে। ওকে কি করতে হবে কেউ বলছেও না, আবার একচুল নড়তেও দিচ্ছে না। অনেকটাসময় চুপচাপ বসে টিটেবিলে থাকা ঝুড়ির আঙ্গুর চিবালো শারাফ। এক পর্যায়ে বিরক্তি নিয়ে বললো,

– আর কতোক্ষণ মেহুভাবী? কতোক্ষণ বসে থাকবো এভাবে?

শায়েরী মুখ বাকিয়ে বললো,

– এহ! দেখো মেহুভাবী, দেখো? গায়ে হলুদ ছোয়ানোর জন্য জনাবের যেনো তর সইছে না।

ওর সাথে মিসেস নাহিদও সায় মেলালেন। বললেন,

– ও কি শারাফ? তোমারই তো দিন। একটুআধটু আমাদেরও উপভোগ করতে দেবে তো নাকি?

মেহেরুন মিটমিটিয়ে হাসছিলো। এবারে ফোনের ক্যামেরাটা শারাফের দিকে ধরে বললো,

– হেই শারাফ? সে চিজ! ছবিটা তোমার টাইমলাইনে পোস্ট করবো৷ কি সুন্দর লাগছে তোমাকে সেন্টু গেঞ্জিতে! দেখি দেখি, পোজ দাওতো!

শারাফ নিগ্রহে তাকালো। মুসকানও মেহেরুনের সাথে তাল মিলিয়ে বলে উঠলো,

– হ্যাঁ। ভাইয়াকে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে। একদম হট দেখাচ্ছে।

মেয়েরা ছবির পোজ ছেড়ে হা হয়ে তাকালো মুসকানের দিকে। বাকিসব স্তব্ধ হয়ে থাকলেও মিসেস নাহিদ মুহুর্তেই কান চেপে ধরলেন ওর। চেচিয়ে বললেন,

– কি বললি তুই? কি লাগছে শারাফকে?

মুসকান ব্যথাতুর শব্দ করে উঠতেই শারাফ এগিয়ে গিয়ে মিসেস নাহিদের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিলো ওকে। মিসেস নাহিদ বরাবরের মতো শুনাতে ব্যস্ত হয়ে পরলেন, ‘ওকে কিন্তু তুমিই বিগড়াচ্ছো শারাফ…’ সেসব কথা শারাফ কানে তুললো না। মুসকানকে সোফায় এনে কোলে বসিয়ে বললো,

– ইউ আর দ্যা বেস্ট গার্লফ্রেন্ড মাই লাভ। এভাবে তোর ভাবীনও বলেনা। আই লাভ ইউ।

শারাফের মা আসলেন এরমাঝে। জায়ের আওয়াজ শুনে বললেন,

– কি হয়েছে টা কি? আজকেও মেয়েটাকে বকছিস তুই? আর এখনো এখানে কেনো তোরা? শারাফকে গার্ডেনে যাবি তো নাকি?

মেহেরুন মুখ খুলতে যাচ্ছিলো। শারাফের মা তাড়া দেখিয়ে বললেন,

– হয়েছে। বলতে হবেনা। ওদিকে সব গুছানো শেষ। তোমার বাবা, শাওন, ছোটবাবা সব শারাফকে নিয়ে যেতে বলছে। জানোই তো ছেলেমানুষগুলো কেমন স্বপ্নীলের। অপেক্ষা করা ওদের রক্তে নেই।

তীরের মতো কথাটা গায়ে লাগলো শারাফের। বিমূর্ত হয়ে বললো,

– কথাটা কি তুমি আমাকে বললে মা?

মেয়েরা সবগুলো একসাথে বলে উঠলো,

– জ্বীইইই…!

শারাফ কপাল ভাজ করে তাকিয়ে রইলো। মেয়েরা হাসাহাসি করছে। শারাফের মা হাসি কমিয়ে বললেন,

– এবার চলো মেহেরুন। সত্যিই দেরি হয়ে যাচ্ছে। শারাফকে ছোয়ানো হলুদ স্নিগ্ধতাদের বাসায়ও নিয়ে যেতে হবেতো। চলো।

শারাফ কিঞ্চিৎ অবাকস্বরে বললো,

– আমার গায়ে ছোয়ানো হলুদ স্নিগ্ধতাদের বাসায় যাবে মানে?

– এক্সাইটমেন্টে বাংলা কথার মানেও বুঝতে কষ্ট হচ্ছে নাকি দেবরজী?

ভ্রু নাচিয়ে বললো মেহেরুন। শারাফ মুসকানকে কোল থেকে নামিয়ে উঠে দাড়ালো। হেসে দিয়ে বললো,

– না ভাবি। আসলে তোমাদের নিয়মটা আমার পছন্দ হয়নি। আমার গায়ে ছোয়ানো হলুদ কেনো স্নিগ্ধতাকে ছোবে? আমার ছোয়ায় হলুদ ছোবে স্নিগ্ধতাকে। ইজ’ন্ট ইট বেটার?

এটুক বলে চোখ টিপে দিলো শারাফ। বেখেয়ালিভাবে সিড়ি বেয়ে উপরে চলে যাচ্ছিলো ও। মেয়েরা সবাই কিছু না বুঝে দাড়িয়ে। একযোগে বললো,

– মানে?

কয়েকধাপ সিড়িতে উঠে থামলো শারাফ। পেছন ফিরে বললো,

– এক্সাইটমেন্টে বাংলা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে নাকি?

শারাফ ওভাবেই বাকা হেসে রুমে চলে গেলো। একযোগে হেসে দিলো বাকিসব। শারাফ পান্জাবী পরে বড়হাতা গুটাতে গুটাতে রুম থেকে বেরিয়ে এলো। গার্ডেনে এসে দেখে আবিরও এসে গেছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে স্নিগ্ধতাদের বাসার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলো ও। মেহেরুন অগ্নীলাকে কল করে দিলো। দুজনের হলুদ একসাথে করার বিষয়ে দ্বিমত ছিলো না কারোরই। একদম স্নিগ্ধতাদের বাসার সামনে গাড়ি থামায় শারাফ। ওরা গেইটে আসতেই থেকেই কেউ উচ্চস্বরে বলে উঠেছে, ‘বউকে হলুদ ছোয়াতে বর নিজেই গাড়ি চালিয়ে চলে এসেছে দেখছি’। রুমে মেয়েরা স্নিগ্ধতাকে সাজাচ্ছিলো। কথাটা শুনে বিছানার চাদর খামচে ধরলো স্নিগ্ধতা। বাকিসব হাসিতে মত্ত্ব। অগ্নিলা মুচকি হেসে বেরিয়ে আসলো রুম থেকে। অনুসহ আরো অনেকে রইলো স্নিগ্ধতার কাছে। দু ভাইবোনের বাসায় এতো মানুষজন দেখে কিছুটা অবাকই হয় শারাফের পরিবার৷ অনেকজন মিলে ওদের আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পরে। ওদের বসানো হলো। শাওনকে চেনাজানাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় অগ্নিলা। শাওন বললো,

– নীলা? মিস্টার এহমাদকে দেখছি না যে? সে কোথায়?

– অফিসিয়াল কাজে বাইরে গেছে।

পাশে বসে ফোন দেখতে দেখতে জবাব দেয় শারাফ। চুপ করে রইলো শাওন। মেহেরুন আর শায়েরীকে নিয়ে অগ্নিলা চলে আসলো স্নিগ্ধতার কাছে। আয়নায় স্নিগ্ধতার প্রতিবিম্ব দেখে দরজাতেই পায়ের গতি কমে যায় মেহেরুনের। পরপরই নিজেকে সামলে এগোয় ও। স্নিগ্ধতার সামনে উবু হয়ে দাড়ালে। কিছু বলার আগেই ওর থুতনি ধরে বললো,

– মাশাআল্লাহ! আজ আরো একবার মাথা ঘুরে যাবে শারাফের।

– ভুল বললে গো মেয়ে! এখন থেকে নিয়মিত মাথা ঘুরে যাবে শারাফের৷ ঘরে চাঁদ তুলছে ও! চাঁদ!

এক বৃদ্ধা গর্বের সাথে বলে উঠলেন। দৃষ্টি নামিয়ে নিলো স্নিগ্ধতা। মেহেরুন সেভাবেই মিষ্টি হেসে বললো,

– তাই তো দেখছি। তা শারাফের ব্যক্তিগত চাঁদ? চলো এবার?

স্নিগ্ধতা উঠে দাড়ায়। ওকে ধরে নিয়ে হাটা লাগায় মেহেরুন। পাশাপাশি অগ্নিলাসহ বাকিসবও বেরিয়ে আসে বাসা থেকে। ওরা বাগানে আসতেই মুসকান উত্তেজিত হয়ে বললো,

– ভাবীন!

ফোন থেকে চোখ তুলে তাকায় শারাফ। সামনে তাকিয়ে অজান্তেই দাড়িয়ে যায় ও। পরনে উজ্জল হলুদ রঙের কারুকাজকরা বড়হাতা কুর্তি আর স্কার্ট, খোলা চুল, মাথায় জরজেটের ওড়না, হাতে, কপালে, সিথিতে ফুলের গয়না, টকটকে মেহেদী, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, নামিয়ে রাখা চোখজোড়ায় আইলাইনার। রিনঝিন শব্দ তুলে দিয়ে কয়েকপা এগিয়ে চোখ তুলে তাকালো স্নিগ্ধতা। সবার মাঝে একজোড়া মুগ্ধ চোখ দেখে থামে ও। হলুদ পান্জাবীতে দাড়ানো শারাফ। স্নিগ্ধতা আবারো চোখ নামায়। বাগানের মাঝখানে অল্প উচু স্টেজ করা। মেহেরুন ওকে এনে বসালো সেখানে। তারপর শারাফকে ইশারা করলো স্নিগ্ধতার পাশে বসার জন্য। স্নিগ্ধতার দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে ওর পাশে গিয়ে বসলো শারাফ। অল্পবয়সীরা নাচগান করছিলো আর গুরুজনেরা একেরপর এক এসে হলুদ ছুইয়ে যায় ওদের। পুরোটা সময় স্নিগ্ধতার দিকেই তাকিয়ে ছিলো শারাফ। আর স্নিগ্ধতা নিচের দিকে। সবার হলুদ ছোয়ানো শেষে অগ্নিলা দাড় করালো স্নিগ্ধতাকে। শারাফকে বললো,

– এবার তোমার পালা শারাফ। যার জন্য এ বাসাতে চলে এলে। নাও, হলুদ ছোয়াও তোমার হবু বউকে।

আবির পাশ থেকে বললো,

– এতোক্ষনে বলছো? যেটুক মুখ আর হাত দেখা যায়, তা তো অলরেডি হলুদে ভর্তি নীলা। বন্ধু আমার হলুদ লাগাবেটা কোথায়?

অনু মুখ খুললো। বললো,

– হবু বরের হলুদ ছোয়ানোর পদ্ধতি যদি ইউনিক নাই হলো, তাহলে কি লাভ দুজনের একসাথে হলুদপর্ব করে?

ওর জবাবে আবির ভ্রু কুচকালো। মেয়েটা ওকে কেমন যেনো সহ্যই করতে পারেনা। শারাফ মুচকি হাসলো। অগ্নিলার হাতে থাকা হলুদের বাটি থেকে ডানহাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুলে হলুদ লাগালো ও। স্নিগ্ধতার কানের পেছনে সে হলুদ ছুইয়ে দিয়ে বললো,

– চাঁদের গায়ে কোনো কলঙ্ক না আসুক। শারাফের ব্যক্তিগত স্নিগ্ধতায় কারো নজর না লাগুক।

হাততালিতে মুখরিত হলো পুরো জায়গাটা। চোখ তুলে তাকালো স্নিগ্ধতা। নিজেও হাতে হলুদ নিয়ে শারাফের সামনে ঝুকতে যাচ্ছিলো। শারাফ ‘কি করছো..’ বলে সরে দাড়াতেই অগ্নিলা বললো,

– বাধা দিও না শারাফ। আজ ওর মতো করেই সবটা হোক।

শারাফ হাত মুঠো করে শক্ত হয়ে দাড়িয়ে রইলো। স্নিগ্ধতা ওর পায়ে ছুইয়ে দিলো হলুদ। উঠে দাড়িয়ে শারাফের চোখে তাকিয়ে বললো,

– আজীবন স্নিগ্ধসিক্ত রও শারাফ।

দুজনার দৃষ্টিবিনিময় হলো বেশ অনেকটা সময় ধরে। হৈহৈ পরে গেলো পুরো বাসায়। নাচগান, হুল্লোড়ে একে ওপরকে হলুদ ছোয়াতে লাগলো সবাইমিলে।

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here