#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা
৬৩.
সন্ধ্যের পর বাসায় ঢোকে সাইফ। ততোক্ষণে শারাফ আর ওর পরিবার বেরিয়ে গেছে। ভেতরে ঢুকে সোজা নিজের ঘরে চলে গেলো ও। হাতের খামটা বিছানায় ছুড়ে মেরে, শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে চলে যায় ওয়াশরুমে। স্নিগ্ধতা, অনু আর অগ্নিলা মিলে ড্রয়িংরুমে বাকিসবাইকে খেতে দিচ্ছিলো। ভাইকে ঠিকই নজরে পরে স্নিগ্ধতার। অগ্নিলা ওকে দেখে রুমে আসলো। ভেতরে ঢুকে বিছানার ওপর থাকা খামটা দেখে মনের ভেতরটা ঝনঝন করে ওঠে অগ্নিলার৷ পা থেমে যায়। শিরা উপশিরায় রক্তসঞ্চালনটাও বেড়ে যায় যেনো। অগ্নিলা ওয়াশরুমের বন্ধ দরজায় তাকালো একবার। শাওয়ারের শব্দ আসছে। প্রতিদিনের মতো গোসল সেরেই বেরোবে সাইফ। শুকনো ঢোক গিললো অগ্নিলা। তারপর ভীতগ্রস্ত শরীরটা বয়ে নিয়ে এগোলো বিছানার দিকে।
সাইফ দেয়ালে হাত রেখে শাওয়ারের নিচে দাড়িয়ে ছিলো। হুট করেই ও জোরেসোরে দেয়ালে ঘুষি ছুড়লো দুটো। তারপর চোখ বন্ধ করে ভেজাচুল উল্টে দিলো। কিছু একটা মনে পরতেই সাইফ চোখ খুলে ফেলে অকস্মাৎ। তৎক্ষনাৎ শাওয়ার অফ করে কেবল তোয়ালে মুড়িয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে পরে ও। অগ্নিলা তখন কাবার্ডের কাছে। সাইফকে দেখে অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় বললো,
– হয়েগেছে তোমার?
সাইফ জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো। তারপর আস্তেধীরে মাথা ওপরনিচ করে বুঝালো, হ্যাঁ। অগ্নিলা নিজের কাজে মনোযোগ রেখে বললো,
– কেইসের চক্করে দিনকেদিন হট হয়ে যাচ্ছো।
সাইফ তাচ্ছিল্যে হাসলো। জামাকাপড় পরে বিছানা থেকে খামটা নিলো ও। অগ্নিলা এগিয়ে এসে ওর সামনে দাড়িয়ে বললো,
– আজকে স্নিগ্ধতার জীবনের এতো গুরুত্বপূর্ণ দিনটাতেও তুমি থাকলে না সাইফ।
– আ’ম হেল্পলেস। নিরুপায় আমি।
– অনেক তো হলো। আর কতোদিন এই ছায়ার পেছনে ছুটবে?
– ব্যস কালকের দিনটাই নীলা। কাল টুকি কবুল বলার আগেই এই অশরীরীর সব খেলা শেষ করে দেবো। শুধু কালকের দিনটাই।
ঠান্ডা আওয়াজে কথাগুলো বলে রুম থেকে বেরোয় সাইফ। শ্বাস আটকে বসে যায় অগ্নিলা। ও দেখতেই পারেনি ওই খামে কী আছে। সাইফকে আটকানোর কোনো উপায় মাথায় আসছে না ওর। তবে কি আজকের রাতটাই ওর শেষবারের মতো সাইফকে কাছে পাওয়া? আজকের রাতটাই ওর এ সংসারে শেষ রাত? জলভরা চোখে ধীরপায়ে ড্রয়িংরুমের এগিয়ে গেলো অগ্নিলা। সাইফ সবার সাথে হাসিমুখে খেতে বসেছে। স্নিগ্ধতার বিয়ে নিয়ে খুশির রোল পরে আছে সবার মাঝে। খাওয়া শেষে সাইফ এসে সোফায় বসলো। স্নিগ্ধতা ওর পাশে বসে ওর বুকে মাথা রাখলো। সাইফ বললো,
– সরি রে। আজকের দিনটা দিতে পারিনি তোকে।
…
– কিন্তু বিশ্বাস কর টুকি! কাল তোর বিয়েটা তেমনভাবেই হবে যেমনটা তুই চাস। একচুলও এদিকওদিক হবেনা দেখিস! সেই ছোট্টবেলা থেকে একটাই তো স্বপ্ন আমার! আমার টুকির ধুমধাম করে বিয়ে দেবো। কাল আমি নিজে বরপক্ষকে স্বাগতম জানাবো, তোর পাশে তোর বরকে মনভরে দেখবো, নিজের হাতে তোকে তোর বরের হাতে তুলে দেবো, দাড়িয়ে থেকে তোদের শুভপরিনয় দেখবো! সবটায় থাকবো দেখিস! সবটায়!
আশায় সাইফের চোখ চকচক করে ওঠে। উপস্থিত বৃদ্ধরাও চোখের কোনের জল মোছে নিজেদের। তারপর কথাবার্তা শেষ করে সবাই যে যার রুমে চলে যায়। স্নিগ্ধতাও নিজের রুমে চলে আসে। অনু ঘরে এসে আগে নিজের ভারী গয়নাগুলো খুলে সাইডব্যাগে ঢুকাতে লাগলো। মোবাইলে সময় দেখলো, রাত দশটা। মোবাইলটা ব্যাগে রাখলো অনু। বললো,
– আমাকে এখন বেরোতে হবে স্নিগ্ধতা।
স্নিগ্ধতা চমকায়। আয়নার সামনে বসে হাতের চুড়ি খুলছিলো ও। নিজের কাজ থামিয়ে পেছন ফিরে বলে,
– বেরোবি মানে? কোথায় যাবি?
অনু হাসলো। বললো,
– এমনভাবে বলছিস যেনো আমার যাওয়ার অনেক জায়গা? কনফিউজড হয়ে গেছিস কোথায় যাবো। আর কোথায় যাবো? হলে।
– এখন হলে কেনো যাবি তুই?
– আজব তো! তোর হলুদের প্রোগ্রাম তো শেষ! আমি আর থেকে কি করবো? এখন নটা বাজে, হলে যেতে খুব বেশি হলেও দশটা বাজবে। দাড়োয়ান মামাকে ম্যানেজ করা যাবে।
স্নিগ্ধতা পাত্তা দিলোনা। ড্রেসিংটেবিলে পা তুলে নুপুরটা খুলতে খুলতে বললো,
– হলুদ শেষ। বিয়ে না। কাল বিয়েটা শেষ হলে তারপর এ বাসা থেকে বেরোবি তুই। ভাইয়াকে বলে দেবো আমি। আজ তোর কোথাও যাওয়া হচ্ছে না।
অনু মৃদ্যু হেসে উঠে দাড়ালো। স্নিগ্ধতার পেছনে এসে ওর কাধ ধরে দাড়িয়ে বললো,
– এমন করিস না স্নিগ্ধতা। তুই তো জানিস সবটা।
– একটা রাতেরই তো ব্যাপার অনু।
– বিষয়টা কয় রাত বাইরে আছি, সেটা না। তুই জানিস আমার বাইরে থাকার নিয়ম নেই। বাড়ি থেকে হলে এসেছি টাকা বাচাতে। মা তো আসতেই দিতে চাইছিলো না। সবে হলে উঠেছি। বাইরে থাকবো, এমন এপ্লিকেশন দিয়ে আসিনি কোনো। এখন শুরুতেই এমন ভুল হলে, আমাকে ছাড় দেবে অথোরিটি? আর যদি কোনোভাবে মায়ের কাছে প্রভোস্ট ম্যামের কল যায়, বুঝতে পারছিস কি হবে? হলে থাকা হবেনা আমার। আবারো সেই দোড়ঝাপ, ভার্সিটির বাস, টিউশনিতে সময় নষ্ট আর নিজের পড়ার সময়ের অভাব। বুঝছিস তো তুই? হুম?
স্নিগ্ধতা অসহায়ভাবে তাকালো। অনু হেসে ওর গালে গাল ঠেকালো। আয়নায় তাকিয়ে বললো,
– কাল আসছি তো আমি। তোর লাইফের এতো গুরুত্বপূর্ণ দিন, আর আমি থাকবো না?
…
– জানিস তোকে কতো সুন্দর লাগছিলো আজ? শারাফ স্যার আজ পুরোটা সময় তোর দিকে তাকিয়ে ছিলো। পলক ফেলাই ভুলে গেছিলো বেচারা।
স্নিগ্ধতা পেছন ফিরলো। আকুলতা নিয়ে বললো,
– যাসনা প্লিজ।
– সক্কালসক্কাল চলে আসবো কাল। পাক্কা!
ওর নাক টিপে দিয়ে বললো অনু। স্নিগ্ধতা বুঝলো ওকে মানানো যাবে না। উঠে দাড়ালো ও। গাল ফুলিয়ে আলতোকরে জরিয়ে ধরলো অনুকে। বললো,
– জলদি আসিস।
অনু মাথা নাড়লো। রুম থেকে বেরোলো স্নিগ্ধতা। অনুকে ছাড়তে কে যাবে সেটা দেখতে। সাইফকে বলা যাবেনা। ক্লান্ত ও। তাই ড্রয়িংরুমের একপাশে দাড়ানো এক ভাইকে ডাক লাগালো ও। ওর ডাক শুনে সে লোকের সামনে দাড়ানো আবির পেছন ফিরলো। স্নিগ্ধতা কিছুটা অবাক হলো আবিরকে দেখে। এগিয়ে গিয়ে বললো,
– ভাইয়া আপনি এখনো…আপনারা চেনেন একে ওপরকে?
আবির হেসে বললো,
– তোমার এই কাজিন আমার স্টাডিমেট হয় স্নিগ্ধতা। জব কোচিং একসাথে করছি আমরা। শারাফদের সাথেই বেরোচ্ছিলাম কিন্তু এ মশাই যেতে দিলো না। এতোক্ষণ দুই বেকার মিলে ভবিষ্যতের আলোচনা করছিলাম আরকি!
পাশেরজন সায় দিলো। স্নিগ্ধতা কিছুটা ইতস্তত করছিলো। ওর আত্মীয় বললো,
– কি হয়েছে রে? কোনো সমস্যা?
– আসলে ভাইয়া, আমার এক ফ্রেন্ডকে একটু ড্রপ করে দিয়ে আসতে হবে। সাইফ ভাইয়া সারাদিন পর বাসায় ফিরেছে, তাই আর তাকে বলতে চাইছি না।
– কোথায় থাকে তোর ফ্রেন্ড? আজকে থেকে যেতে পারবে না এখানে?
– ভার্সিটির হলে থাকে ও। নতুন উঠেছে তো। বাইরে থাকার এপ্লিকেশন করে আসেনি। সেজন্যই সমস্যা।
আবির চট করে বলে উঠলো,
– ছাত্রীহলে যাবে? ওদিক দিয়েই যাবো আমি। ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, আমি পৌছে দিতে পারি তোমার ফ্রেন্ডকে।
স্নিগ্ধতা খুশি হলো। পেছন ফিরে নিজের রুমের দরজায় তাকালো ও। ওর দৃষ্টি অনুসরন করে অনুকে দেখে হতাশ হলো আবির। অনু এমনিতেই ওকে পছন্দ করেনা। স্নিগ্ধতা কোন ফ্রেন্ডের কথা বলেছে তা না জেনে আগ বাড়িয়ে কথাটা বলা উচিত হয়নি ওর। কিন্তু ওকে অবাক করে দিয়ে মাথা উপরনিচ করলো অনু। স্নিগ্ধতাকে আরেকবার জরিয়ে ধরে বাসা থেকে বেরিয়ে আসলো। কিঞ্চিৎ আটকে থেকে বিদায় নিলো আবিরও। এসে দেখে অনু গেইটে দাড়ানো। আবির গলা ঝেরে ওর গাড়িটা দেখিয়ে দিলো। নিশব্দে ব্যাকসিটে উঠে বসলো অনু। তারপর জানালায় মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো। মাথা ধরেছে ওর ভালোমতোন। আবির হয়তো বুঝলো ওর ক্লান্তি। কথা বাড়ালো না। ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিলো ও। ড্রাইভ করতে করতে পকেট থেকে সিগারেট বার করে ঠোটে নিলে আবির। লাইটারের জন্য ডেস্কে হাত দিতে যাবে, লুকিং মিররে অনুকে চোখে পরে ওর। নির্ভেজাল ঘুমে মত্ত্ব মেয়েটাকে দেখে অজান্তেই ওর ঠোটে হাসি ফোটে। ঠোট থেকে সিগারেট নামিয়ে নিলো আবির।
প্রায় মিনিটত্রিশের মধ্যে হলে পৌছায় ওরা। গাড়ি থামিয়ে আবির পেছনে তাকালো। অনু তখনো চোখ বন্ধ করে আছে। দুবার ডাকে সাড়া না পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে অনুর জানালায় টোকা লাগালো ও। টেনেটুনে চোখ খোলে অনু। নিজের অবস্থান টের পেয়ে ব্যাগ নিয়ে গাড়ি থেকে নামলো ও। ঘুমঘুম স্বরে আবিরকে বললো,
– নেশা না করে গাড়ি চালিয়ে, আমাকে সুস্থ্যসমেত পৌছে দেবার জন্য থ্যাংকিউ।
আবির থ্যাংকিউ শুনে খুশি হতে যাচ্ছিলো। পরমুহুর্তেই অনুর পুরো কথাটা বুঝে একপ্রকার খিচে উঠলো ও। বললো,
– নেশা না করে মানে?
– এইযে আপনি ড্রাইভিংয়ের সময় সিগারেট ধরাতে গিয়েও ধরালেন না। এজন্য থ্যাংকিউ।
অনু চলে আসলো। কিছুটা থমকে থেকে হেসে ফেললো আবির। গাড়ি নিয়ে নিজের বাসার জন্য রওনা হলো ও। আর ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে টলতে টলতে হলের তিনতলা আসলো অনু। মাথাটা কেমন একটা ঝিমঝিম করছে ওর। কাধের সাইডব্যাগ ঠিকমতো তুলে দিয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো। কোনোদিক না তাকিয়ে ব্যাগটা বিছানায় রেখে উপুর হয়ে শুয়ে পরলো। কতোক্ষণ শুয়ে ছিলো, হিসেব নেই অনুর। একসময় আওয়াজ শুনে পাশের বেডে তাকালো ও। সেখানে আধশোয়া হয়ে থাকা মোহিনীকে চোখে পরলে ওর। একপায়ের ওপর আরেকপা তুলে, চুইংগাম চিবোতে চিবোতে ফোন ঘাটছে মোহিনী। অনু আতংকিত হয়। বিছানায় ধাক্কা মেরে উঠে বসতে গেলো আবারো মাথা ঘুরে ওঠে ওর। রুমের দরজা লাগানোর শব্দও কানে আসে। আতকে উঠে পেছন ফিরলো ও। বোরকা পরিহিত আপাদমস্তক ঢাকা একজন দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে আছে। অনু ভীতস্বরে বললো,
– ক্ কে?
মুখের ওপরের পর্দা সরায় চঞ্চল। ওর বিশ্রি হাসিটা দেখতেই বড়বড় চোখ করে তাকালো অনু। এই রাতেরবেলা চঞ্চল এমন পোশাকে মেয়েদের হলে ঢুকেছে, মানেটা বুঝতে সময় লাগলো না ওর। ছাত্র রাজনীতির কুৎসিক দিকগুলোর কথা মনে পরতেই শিউরে উঠলো অনু। চিৎকার দিতে যাবে, চঞ্চল ছুটে এসে মুখ আটকে দেয় ওর৷ ওকে পেছন থেকে জাপটে ধরে মুখ চেপে ধরে। মোহিনীও এসে ওর দুহাত ধরে ফেললো। অনু পা ধরফড়ায়, এলোপাথারি লাথি ছোড়ে, কামড়ানোর চেষ্টা করে। পারেনা। মাথা ঝাড়া দিয়ে চঞ্চলের চোখমুখে আঘাতের চেষ্টা করেও। কিন্তু ব্যর্থ হয়। পুরুষালী গায়ের জোরে সফল হয় চঞ্চল। অনুর হাত ওড়নায় পেচিয়ে বেধে দেয় ও আর মোহিনী মিলে। চঞ্চল কুৎসিত হেসে মুখ বাধতে বাধতে অনুর কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলে,
– আস্তে চারুকলার টপার! আস্তে! অনু না তুমি? স্নিগ্ধতা এহমাদের বেস্টফ্রেন্ড না হু?
…
– শুনলাম আজ স্নিগ্ধতার গায়ে হলুদ ছিলো? ওকে। ব্যাপার না। স্নিগ্ধতা নয়, আপাতত স্নিগ্ধতার বেস্টফ্রেন্ডই সই। তুমি তেজ না দেখিয়ে একটু কো ওপারেট করো। কয়েকঘন্টার ব্যাপার। ধস্তাধস্তিতে সময় নষ্ট না করে তুমিও খুশি হও, আমাকেও সন্তুষ্ট করো। বহুদিন পর আজ ছাত্রীহলে এসেছি৷ ফুল্লি স্যাটিসফাইড হতে চাই।
হাত, মুখ পুরোপুরি বেধে অনুকে ধাক্কা মেরে বিছানায় ফেলে দেয় চঞ্চল। বিদঘুটে হেসে, নিজের পরনে থাকা বোরখায় হাত দেয় খোলার উদ্দেশ্যে। অনুর চোখে সরায়। স্নিগ্ধতার মুখটা ভেসে উঠলো সে মুহুর্তে। ওর আকুলভাবে বলা, ‘যাসনা প্লিজ’ কথাটা আবারো বেজে উঠলো ওর কানে। অসহায়ের মতো করে মোহিনীর দিকে তাকালো ও। মোহিনীর ঠোটে হাসি, দৃষ্টি মোবাইলে। এদিকে কোনো হুশই নেই ওর৷ ভাবখানা এমন, হলে আসার পর মেয়েদের সম্মান বিসর্জন দেওয়াটা নিত্যকার ঘটনা। আবশ্যক। চোখের কোনা বেয়ে জল গরায় অনুর। নিজেকে বুঝায় শক্ত হতে। উঠে দাড়াতে যাবে, চঞ্চল এগিয়ে এসে ওর চুলের মুঠি ধরলো। ব্যথায় কুকড়ে ওঠে অনু। টের পেলো, ওর শরীরটা বিবশ লাগছে, আর ভেতরটা দামামা বাজিয়ে বলছে, মানের আগে প্রাণটা যাক! মানের আগে, প্রাণটা যাক!
#চলবে…

