#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা
৬৪.
ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে সবেমাত্র। বিছানায় অগ্রাহ্যে পরে থাকা ফোনটা এ নিয়ে বারোবারের মতো জ্বলে উঠলো। তবে কলিং লেখাটা ব্যতিত আর কোনো সাড়াশব্দ নেই তার। সাইফের বুকের ওপর দুহাত রেখে তাতে থুতনি ঠেকিয়ে আছে অগ্নিলা। ওর দৃষ্টি সাইফের ঘুমন্ত মুখের দিকে। বেঘোরে ঘুমোচ্ছে সাইফ। আর বাজতে বাজতে কেটে যায় ওর ফোনটা। অগ্নিলা কাৎ হয়ে শুয়ে সাইফের বুকে মাথা ঠেকালো। চোখের কোনা বেয়ে জল গরালো ওর। আর সে জল সাইফের বুকস্পর্শ করলো। অগ্নিলা মিনমিনে গলায় বললো,
– পাউডারটা মনেহচ্ছে একটু বেশিই কড়া ছিলো। অগ্নিলার অশ্রুর উষ্ণতাও তোমাকে জাগাতে পারলো না সাইফ।
সাইফ নিরুত্তর। অগ্নিলা নিরবে অশ্রুবিসর্জন দিতে দিতে বললো,
– খামটা কোথায় রেখেছো বলোতো? পুরো রুমে খুজেও পাইনি। কোথায় রেখেছো? কি আছে ওতে?
…
– ওতে কি সত্যিটা আছে সাইফ? বলোনা! সত্যি আছে ওই খামে?
…
– সত্যিটা জানার তুমি আর আমাকে ভালোবাসবেনা তাইনা? আর আদর করবেনা আমাকে? তাহলে শেষবারের মতো হলেও গত রাতটা আমাদের হলেও পারতো বলো?
চোখ তুলে আবারো সামনে তাকালো অগ্নিলা। এগিয়ে গিয়ে সাইফের শুকনো ঠোঁটজোড়ার স্বাদ নিলো কয়েকদন্ডভর। ঠিক যেমনভাবে মৃ’ত্যুমুখী তার শেষ মুহুর্তে অক্সিজেনের স্বাদ নেয়, সেভাবে। অগ্নিলা চোখমুখ মুছলো। সাইফের ফোন তখনো বাজছে। জোরালে হেসে বললো,
– এটার সাইলেন্ট মোড সরিয়ে দিলেই তুমি জাগা পাবে জানি। এটার রিংটোন শুনলে আর কোনোপ্রকার ঔষধ তোমাকে ঘুমন্ত রাখতে পারবে না।
আবারো সাইফের বুকের ওপর শুয়ে পরলো অগ্নিলা। পিঠে থাকা চুল একপাশে দিয়ে উন্মুক্ত রাখলো পিঠটা। একহাত বাড়িয়ে ফোনের দিক না তাকিয়েই সাইফের ফোন হাতে নিলো ও। তারপর সাইলেন্ট মোড সরিয়ে সরিয়ে দিলো। অগ্নিলা চোখ বন্ধ করার দুমিনিটও হয়নি, আবারো কল আসে সাইফের ফোনে। চমকে উঠে সাইফ খুলে ফেলে চোখজোড়া। বুকের ওপর উপুর হয়ে থাকা রমনীর উন্মুক্ত পিঠ দৃশ্যমান হয় ওর চোখে। তৎক্ষনাৎ আগ্রহ জাগে সে পিঠে ঠোঁট ছুয়ে দেওয়ার। কিন্তু মস্তিষ্ক বাধা দেয় ওকে। কর্ণকুহরে আসা রিংটোনের শব্দটা ওকে তাড়না দেয় ফোনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার। সাইফ ঘাড় ঘুরিয়ে ফোনের দিকে তাকায়। হাতড়ে হাতে নিয়ে আগে স্ক্রিনের বাকোনে থাকা সময়টায় চোখ বুলায়। সকাল ছটা। সাইফ অবাক হয় এতোক্ষণ ঘুমিয়ে থাকা নিয়ে। আরো আগে ওঠার কথা ছিলো ওর। অগ্নিলাকে একহাতে জড়িয়ে সাইফ কল রিসিভ করলো এবারে। ওপাশ থেকে তখনতখন আওয়াজ এলো,
– স্যার কোথায় আপনি? কতোবার কল করেছি আপনাকে! ভোরবেলা ভার্সিটির ছাত্রীহলের পেছনে চঞ্চলের ডেডবডি পাওয়া গেছে স্যার। কেউ খুবই বি’শ্রিভাবে খুন করেছে ওকে। আপনি জলদি চলে আসুন। সাংবাদিকরা যখনতখন ক্রাইমসিনে চলে আসতে পারে।
চঞ্চলের মৃত্যুসংবাদ শুনতেই যেনো সবটা ধাধিয়ে গেলো সাইফের। গতদিনই সবুজের গার্লফ্রেন্ডের খোজ পেয়েছে ও। সবুজের খু’নের পর থেকে নিখোঁজ ছিলো মেয়েটা। সাইফ নিশ্চিত, সে মেয়ের সবুজের খু’ন নিয়ে সবটা জানা আছে। আজকে তাকেই ক্রসকোশ্শেন করে আসল সত্যিটা বের করে আনতে চেয়েছিলো ও। এরই মাঝে চঞ্চলের খু’ন! চোখ বন্ধ রেখে অগ্নিলা শুনছিলো সবটা। সাইফ ওকে বুক থেকে সরিয়ে উঠে বসলো। ফোনে শুধু বললো,
– আসছি আমি৷
কল কেটে জোরেজোরে শ্বাস ফেলতে লাগলো সাইফ। রাগে শরীরটা যেনো জ্বলে যাচ্ছে ওর। নিজের ব্যর্থতার জন্য নিজেকেই আঘাত করতে ইচ্ছে করছে ওর। মাথায় জটলা পাকাচ্ছে প্রশ্নরা। ছাত্রীহলের পেছনে চঞ্চলের লাশ কেনো? কে মা’রলো ওকে? এটাও কি সেই সিরিয়াল কি’লারের কাজ? বিছানা ছেড়ে নেমে আগে অগ্নিলার সাইডব্যাগে হাত দিলো ও। বাসাভরত্ি মানুষের মাঝে খামটা রাখার জন্য এটাই উপযুক্ত জায়গা বলে মনে হয়েছিলে ওর। তারপর টেবিল থেকে নিজের ওয়ালেটটা হাতে নিলো। অগ্নিলার দিকে তাকিয়ে দেখে ও ঘুমোচ্ছে। সাইফ এগিয়ে এসে অগ্নিলার কপালের চুল কানে গুজে দেওয়ার ভঙিতে বললো,
– নীলা?
ঘুমঘুম চোখে চাইলো অগ্নিলা। সাইফ বললো,
– বেরোচ্ছি আমি।
অগ্নিলা উঠে বসে। আলতোকরে গলা জড়িয়ে ধরে সাইফের। সাইফ ওর চুলে হাত বুলাতে বুলাতে অনুভব করলো, হাতের বাধন আরো দৃঢ় হচ্ছে অগ্নিলার। একটু ছোট শ্বাস নিয়ে বললো,
– আমাকে যেতে হবে নীলা।
সাইফের গলায় নাক ডুবিয়ে, বড়বড় শ্বাস নিয়ে, বুকভরে ঘ্রাণ নিলো অগ্নিলা। ওর বারবার মনে হচ্ছে, এই শরীরের ঘ্রাণ ওর বেচে থাকার উপায় হয়ে দাড়িয়েছে। এছাড়া বাচবে না ও। কিন্তু সে সঙ্গ ওর চিরস্থায়ী না। শুকনো ঢোক গিলে সাইফকে ছেড়ে দিলো অগ্নিলা। সাইফ উঠে দাড়ালো। ওর গালে একহাত হাত রেখে বললো,
– যা বলছি, মনোযোগ দিয়ে শোনো প্লিজ। ক্যাম্পাসে আবারো অঘটন ঘটেছে। আর আমি চাইনা তার কোনোরকম প্রভাব টুকির বিয়েতে পড়ুক। তুমি একটু সবাইকে বলে দেবে, ক্যাম্পাসে কি হয়েছে না হয়েছে, তা নিয়ে যেনো কোনোরুপ আলোচনা না হয় এ বাসায়।
অগ্নিলা মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ বুঝালো। সাইফ আরেকটু আকুলতা নিয়ে বললো,
– আমি না ফেরা অবদি এদিকটা সামলাতে পারবে না নীলা?
ওর হাত দুহাতে ধরে হ্যাঁ বুঝালো অগ্নিলা। সাইফ মৃদ্যু হাসলে এবারে। বললো,
– বরপক্ষ আসার আগেই ফিরবো। আসছি।
একদন্ড না দাড়িয়ে বেরিয়ে গেলো সাইফ। বোনের ঘরটায় গিয়ে দেখে দুজন বৃদ্ধাসহ একই বিছানার একপাশে ঘুমিয়ে আছে স্নিগ্ধতা। একহাতে এক বৃদ্ধাকে জরিয়ে রেখেছে। সাইফের চোখ যায় ওর আরেকহাতের তালুতে। মেহেদীর টকটকে লাল হরফে সেখানে শারাফের নাম লেখা। মৃদ্যু হাসলো সাইফ। আস্তেধীরে গিয়ে স্নিগ্ধতার কপালে চুমো দিলো ও। তারপর বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো। ব্যালকনি থেকে সাইফের গাড়িটাকে চোখের আড়াল হতে দেখলো অগ্নিলা। দুফোটা চোখের জল ফেলে, ফোনটা কানে তুলে বললো,
– ভাবতেও পারিনি সাইফ খামটা আমারই সাইডব্যাগে রাখবে। এবার আর ওকে আটকাতে পারলাম না। আসন্ন তান্ডবের পূর্বাভাস পেয়েও সেটাকে থামাতে পারলামনা। আ’ম সরি! সরি!
•
জঙ্গলের মতো বড় ঝোপটার ভেতরে পরে আছে চঞ্চলের দেহ। ঝোপটা মুলত বেতের। বড়বড় বেতের কাটার আঁচড়ে ছিড়ে একাকার হয়ে গেছে চঞ্চলের পরনে থাকা গেন্জি আর হাফপ্যান্ট। বাদ যায়নি ওর দেহটাও। ঝোপ থেকে কয়েকহাত দুরে শক্তমুঠো করে দাড়িয়ে আছে সাইফ। আর ওর কয়েকহাত পেছনে মিডিয়ার লোকজনের ঢল। তবে ক্যামেরা আর সাংবাদিকদের উচ্চআওয়াজ কানে আসছে না ওর। তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে মৃ’তদেহটার দিকে তাকিয়ে আছে ও। চঞ্চলের দেহটা বেতের কাটার সাথে অনেকবেশি জড়িয়ে আছে। কয়েকজন মিলে ঝোপটা কেটে ওটা বের করে সামনে রাখলো ওর। মৃতদেহের এমন অবস্থা দেখে সেখানে থাকা দুজন পুলিশ ছুটে সরে গেলেন। বমি হয়েছে তাদের। বাকিরা নাখমুখ চেপে ধরে দাড়ানো। পেছনে সাংবাদিকরাও মৃতদেহ দেখতে রীতিমতো উন্মাদ হয়ে আছে।
সাইফ গভীর চাওনিতে চোখ বুলালো চঞ্চলের পুরো শরীরটায়। অ’ত্যাচারের চিহ্ন ওর দেহের প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে। মাথা থেকে শুরু করে, পায়ের তালু অবদি। কপালের ওপরের চামড়া এমনভাবে উ’পড়ানো যেনো চুলগুলো উ’পড়াতে গিয়েছিলো কেউ। চোখে নখ বসিয়ে ‘রক্তাক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ঠোটে ধা’রালো কিছু দিয়ে আড়াআড়ি দাগ কাটা হয়েছে। গালেও নখ বসানোর মতো দাগ। গলার দিকের চামড়ায় দশ বারোটার মতো স্ট্যাপলার পি’নের অস্তিত্ব। খু’নি ওর দুহাতের কনুই এমনভাবে মু’চড়ে দিয়েছে যে, হাতের ওপরপিঠ নিচে আর নিচের পিঠটা ওপরের দিক হয়ে আছে৷ আঙুলের নখ অর্ধেকের মতো কা’টা। বুক থেকে নাভী বরাবর চা’কুর লম্বালম্বি গভীর আ’ঘাত। এতোটাই গভীর যে, র’ক্তজমাটবাধা স্থির হৃদপিণ্ডটা স্পষ্টই দেখা যায়। পায়ের গিট ফে’টে র’ক্ত জমে আছে। নখগুলোও থে’তলানো৷ তাছাড়া বেতের কা’টার আ’চড় তো আছেই। সাইফ কেবল ঠান্ডা আওয়াজে বললো,
– বডি ফরেনসিকে পাঠাও।
দ্রততার সাথে চঞ্চলের দেহটা স্ট্রেচারে তোলা হলো। সাদা কাপড়ে ঢেকে রাখা শরীরের হাতটা নজরে পরলো সাইফের। দুজন কন্সটেবল স্ট্রেচার সরাতে গেলে ও উচু আওয়াজে বললো,
– ওয়েট!
ওরা থামলো। সাইফ এগিয়ে গিয়ে চঞ্চলের হাতের কবজির নিচটা ভালোমতোন দেখলো। সেখানে অর্ধচাঁদের ট্যাটুর মতো কিছু। আর তার ওপরে অসংখ্য সূ’চালো আঘাত৷ সাইফের মনে পরলো ওর তিননম্বর কেইসটার কথা। একই চিহ্ন সেই ছেলেটার বডিতেও পেয়েছিলো ও। আর তারেকের কানের পেছনেও ছিলো এই দাগ। চঞ্চলের হত্যাকারীও যে একই ব্যক্তি, এ নিয়ে আর কোনোরকম সন্দেহ রইলো না সাইফের। কিন্তু সাতটা খু’নের মধ্য শুধুমাত্র তিনটে বডিতে এই চিহ্ন কেনো? কখন করা এগুলো? খু’নের আগে? নাকি পরে? ইশারায় বডিটা নিয়ে যেতে বললো ও। তারপর চোখ তুলে তাকালো সামনের ছাত্রীহলের দিকে। পাশের একজন পুলিশ বললো,
– স্যার এই চঞ্চল বোরকা পরে, মেয়ে সেজে হলে ঢুকেছিলো। একজনকে রে’প করার চেষ্টা করেছিলো। ওই মেয়েটা ভয়ে জ্ঞান হারায় আর ওর রুমমেট সম্মান বাচাতে চঞ্চলকে মে’রে দিয়েছে।
সাইফ একপলক তাকালো তার দিকে। ছেলেটা যতোটা আগ্রহ নিয়ে বলছিলো, পুরোটাকে দমিয়ে দিলো যেনো। এবারে আমতা আমতা করে বললো,
– খ্ খু’নটা যে ও নিজে করেছে, সেকথা মেয়েটা ন্ নিজে স্বীকার করেছে স্যার৷
– হলের একটা মেয়ের নামও যেনো নিউজে না যায়।
কড়াভাবে বলে সাইফ একমুহূর্তের জন্যও দাড়ালো না। সোজা চলে আসলো হলের ভেতরের মেডিকেল সেন্টারে। এক মহিলা দেখিয়ে দিয়ে বললেন ওই মেয়েটা৷ সেখানের বেডে অনুকে চোখ বন্ধ করে পরে থাকতে দেখে পায়ের নিচের মাটি সরে যায় সাইফের। একটু থেমে আরো দ্রুত অনুর কাছে এগোয় ও। অনুকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। যে মেয়েটা ওর কাছে স্নিগ্ধতাসম, তারসাথে কতো বি’শ্রি কিছু ঘটতে যাচ্ছিলো ভেবেই শরীর জ্বলে উঠলো সাইফের। মৃদ্যুস্বরে অনুকে দুবার ডাকলো ও। ডাক শুনে চোখ মেললো অনু। সাইফকে দেখেই শব্দ করে কেদে দিলো ও। ওকে কাদতে দেখে সাইফের চোখজোড়াও র’ক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। মুখে বললো,
– কি ঘটেছিলো অনু?
অনু কাদতে কাদতে বলতে থাকে সবটা। ওর ওদের বাসা থেকে হলে ফেরা, ক্লান্তিতে দরজা লক না করে শুয়ে পরা, রাতে একটাসময় উঠে রুমে মোহিনী আর চঞ্চলকে দেখা, আর চঞ্চলের বাজে উদ্দেশ্য টের পেয়ে জ্ঞান হারানো, সবটা খুলে বললো ও। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে মেডিকেল সেন্টারে পেয়েছে, এমনটাই বললো অনু। সাইফ আর কিছু বললো না। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
– রেস্ট নাও।
বেরিয়ে আসছিলো সাইফ। অনু ওকে ভাইয়া বলে ডাক লাগালো। সাইফ পিছন ফিরলো। অনু অসহায়ভাবে বললো,
– স্নিগ্ধতা কালরাতে আমাকে আসতে বারন করেছিলো। ওর কথা শুনলে হয়তো…
বলেই হুহু করে কেদে দিলো অনু। আবারো কান্না থামিয়ে বললো,
– আজ সকালসকাল আপনাদের বাসায় যাওয়ার কথা ছিলো আমার। আর আমি…
ওরদিক নিমিলিতচোখে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো সাইফ। মুখে বললো,
– টুকিকে টেক্সট করে বলে দাও তুমি বিকেলে যাবে কনে সাজাতে। এখন রেস্ট দরকার তোমার। বিকেলে আমার গাড়ি নিয়ে যাবে তোমাকে। তুমি যাবে বিয়েতে!
অনু মাথা ওপরনিচ করলো। আর সাইফ হনহনিয়ে পা বাড়ালো ওয়েটিংরুমে। সেখানে মোহিনীকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। দুপাশে দুজন মহিলা পুলিশ, তিনজন কনস্টেবল। সাইফ সোজা গিয়ে মোহিনীর সামনের চেয়ারে বসলো। তবে মোহিনী চোখ তুলে তাকালো না। সাইফ ওকে শীতল কন্ঠে শুধালো,
– কালরাতে কি হয়েছিলো মিস মোহিনী?
– চঞ্চল ভাই মেয়ে সেজে ছাত্রীহলে ঢুকেছিলো। অনুকে জোর করতে চেয়েছিলো। ওই পশুটাকে থামানোর কোনো উপায় দেখিনি। তাই মে’রে দিয়েছি।
একধ্যানে নিচদিক তাকিয়ে গরগর করে বললো মোহিনী। সাইফ বেশ বুঝলো, প্রতিটা শব্দ মিথ্যা বুলি। রাজনীতির জেরে চঞ্চলের সাথে মোহিনীর ওঠাবসা আছে এটা ভালোমতোই জানে ও। তাছাড়া অনুও বলেছে, মোহিনী স্থির ছিলো রুমে। তারমানে অনু অজ্ঞান হবার পর তৃতীয়ব্যক্তি কেউতো ছিলো, যে কিনা চঞ্চলকে মেরেছে আর মোহিনীকে বাধ্য করছে এমনটা বলতে। সাইফ ইশারা করলো উপস্থিত সবাইকে বেরিয়ে যাবার জন্য। সবাই করলোও তাই। উঠে দাড়িয়ে মোহিনীর চেয়ারের দু হাতলে হাত রেখে দাড়ালো সাইফ। শক্তকন্ঠে বললো,
– কেউ নেই এখানে মিস মোহিনী। নাও টেল নি দ্যা ট্রুথ!
মোহিনী তেমনই স্থির। স্তব্ধ। সাইফ আবারো বললো,
– আমি জানি খু’নটা আপনি করেননি। কারো ভয়ে এই মিথ্যেটা বলছেন। কিন্তু আমি বলছি, ভয় নেই আপনার। আপনি নির্ভয়ে সত্যিটা বলুন। কোনো ক্ষ’তি হবেনা আপনার।
মোহিনী চোখ তুলে চাইলো। সাইফের পেছনে খোলা দরজা। ওটা দেখতেই আগের রাতের ঘটনা মনে পরলো ওর। মনে পরলো এক অশরীরী এসে গতরাতে তা’ন্ডব রটিয়েছে ওর সামনে। চোখের সামনে ভেসে উঠলো সে সমস্ত দৃশ্য। সে ভ’য়ংকর ছায়ার ভ’য়বহতা মনে পরে মোহিনী বারবার শিউরে উঠতে লাগলো কেবল…
#চলবে…

