#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_১০
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
– শাওনকে কারা যেন মেরে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে।
আনেসার কথা শুনে তোফায়েল আহমেদ কপাল কুঁচকে নিলেন। শাওনকে আবার কারা মারতে যাবে। সকাল সকাল কী উদ্ভট কথা বলছে এ মহিলা! কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
– কে বলল তোমায় এ কথা?
– তাহমিদা ফোন দিয়ে জানিয়েছে।
– ওহ। আমায় বলেনি কেন?
– তোমাকে কল দিয়েছিল। মোবাইলে পায়নি। তাই আমাকে বলল আমি যেন জানিয়ে দেই।
তিনি পাঞ্জাবির পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখলেন তাহমিদা তাকে কল দিয়েছে দশটা নাগাদ। এখন এগারোটা বাজে। মোবাইল সাইলেন্ট ছিল বিধায় বুঝতে পারেনি। মোবাইল রেখে স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন,
– কী করে হলো?
– আর বলো না, কাল রাতে নাকি বন্ধুদের সাথে দেখা করে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ পথিমধ্যে তিন চারটে ছেলে রাস্তা রোধ করে দাঁড়ায়। রাস্তার মাঝে এতগুলো ছেলেকে দেখে শাওন বাইক থামিয়ে নেমে গেল। কারণ জানতে চাইলে ছেলেগুলো কোনোকিছু না বলে মারতে শুরু করে। হঠাৎ আক্রমণে প্রথমে না পারলেও পরমুহূর্তে বুঝে উঠতে পেরে পাল্টা আঘাত করতে ছাড়েনি। কিন্তু এতগুলো ছেলের সাথে কী আর একজনে পেরে ওঠে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো ওকে যারা মেরেছে তারাই নাকি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। আজকাল এসবও হয়।
– কোন হাসপাতালে?
– কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতাল।
হাসপাতালের নাম শুনে তোফায়েল আহমেদ বুঝে গেলেন এ কাজ কার দ্বারা হয়েছে।
– না জানি কে এমনভাবে মেরেছে। হাত পা ভেঙে দিয়েছে বুঝলে। খারাপ লাগছে ছেলেটার জন্য। ছিনতাইকারী বলে তো মনে হয় না। এমন হলে নিশ্চয় রাস্তা আটকে মারধর না করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিত। কিন্তু তা করেনি। অকারণে মারল।
আনেসার দুঃখ ভারাক্রান্ত স্বর। ছেলেটার জন্য সত্যি খারাপ লাগছে তার।
– দেখো গিয়ে কারো সাথে হয়তো ঝামেলা বাঁধিয়ে রেখেছে। তারাই হয়তো মেরেছে। অকারণে নিশ্চয় কেউ কারো হাত পা ভাঙতে যাবে না। কোনো কারণ আছে নিশ্চয়।
– তা ঠিক বলেছ। সে কারণ যাইহোক আমাদের কিন্তু দেখতে যাওয়া উচিত।
– যেতে তো হবেই। দেখি বিকেলের দিকে বের হব।
কথামতো বিকেলে আনেসা আর তোফায়েল আহমেদ রওনা দিলেন। তাযীম আসার জন্য বায়না করলেও বাবার ধমক খেয়ে আর আসার কথা বলেনি। আভিরার সাথে রয়ে গিয়েছে। ওনারা দুজন বেরিয়ে গেলেন। গন্তব্য তাদের কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতাল।
তোফায়েল আহমেদের মুখে কেমন থমথমে ভাব বিরাজ করছে। আনেসা বুঝল না মুখটা এমন করে রাখার মতো কী হলো। খবরটা পাওয়ার পর থেকে এমন গম্ভীর হয়ে আছে।
শাওনের ডান হাত সম্পূর্ণ ব্যান্ডেজ করা। পা দুটো ব্যান্ডেজে আবৃত না থাকলেও দেখে বুঝা যাচ্ছে মাসখানেক এ পা নিয়ে নড়তে পারবে না। নড়ার মতো অবস্থায় রাখেনি।
শায়লা ছেলের পাশে বসে ফ্যাচফ্যাচ করে কেঁদেই চলেছে।
আনেসা, তাহমিদা বুঝিয়েও ওনার কান্না থামাতে পারছে না। ছেলের এমন দশা যেকোনো মায়ের জন্য অসহনীয় যন্ত্রণার। এখন তাদের হাজার বুঝানোও কাজে দিবে না।
শাওনের বাবা মোজাম্মেল নিতান্তই ভদ্রলোক। কোনো ঝুট ঝামেলায় তাকে পাওয়া যাবে না। ঝামেলা এড়িয়ে চলেন সর্বদা। ঝামেলা বিহীন, স্বল্পভাসী, শান্ত মেজাজের ব্যক্তি। বোনের শ্বশুর বাড়ির একমাত্র এ ভদ্রলোককে তোফায়েল আহমেদের পছন্দ। দুজনের বেশ ভালো সম্পর্ক। বোন জামাইয়ের পুরো উল্টো স্বভাবের তার বড়ো ভাই। দু ভাই দুই মেরুর।
মোজাম্মেল কিছুটা বিরক্ত হলো। তিনি সহজে রাগেন না। শান্তি প্রিয় মানুষ কিনা। অশান্তি হবে এমন কিছু বরাবর এড়িয়ে চলেন। কিছুটা রুক্ষ কণ্ঠে স্ত্রীকে বললেন,
– ছেলে মরে যায়নি। কান্না থামাও। নয়তো এখন বাড়ি নিয়ে গেলে হাসপাতালের ধারের কাছেও তোমায় নিয়ে আসব না। বলে দিলাম।
স্বামীর কথায় শায়লা মরা কান্না জুড়ে দিল। ছেলে তার হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। আর বাবা হয়ে কিনা বলছে, ছেলে মরে যায়নি। কান্না থামাতে। এ কেমন বাবা। তার ছেলে মরে গেলে বুঝি এ লোকের শান্তি হবে।
_
নাওয়াজ চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজে পড়ে আছে। ঠোঁটের কোণে তার অদৃশ্য হাসি। সবার চোখে এ হাসি ধরা পড়বে না। খুব সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করলে তবে হয়তো বুঝা সম্ভব।
– স্যার আপনার সাথে কেউ দেখা করতে এসেছে।
নাওয়াজ হাত ঘড়িতে সময় দেখল, চারটা বেজে বিশ মিনিট। চারটা থেকে চারটা ত্রিশ এ সময়টা তার বিশ্রামের সময়। এ সময়ে বিরক্ত করাটা তার পছন্দ না। কপাল কুঁচকে অনুমতি দিল।
– ভিতরে পাঠিয়ে দাও।
– ভিতরে যান। স্যার যাইতে কয়ছে।
তোফায়েল আহমেদকে দেখে নাওয়াজের কুঁচকে যাওয়া কপালের ভাঁজ কিছুটা শিথিল হলো। এ সময়ে তার কেবিনে তোফায়েল আহমেদকে আশা করেনি।
নাওয়াজের চাহনি দেখে তোফায়েল আহমেদ বলল,
– অবাক হচ্ছো যে? আমায় আশা করোনি বুঝি?
– অবাক হওয়ার কথা নয় কী? হুট করে দেখলে যে কেউ অবাক হবে।
– তবে তোমার বেলায় ভিন্ন।
– আমার বেলায় ভিন্ন কেন?
কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইল নাওয়াজ। নাওয়াজের এমন কথায় তোফায়েল আহমেদ তেতে উঠলেন। এ ছেলে ভালো অভিনয় জানে। এমন করছে যেন তার এখানে আসার কারণ এ ছেলে জানে না।
– নাটক করছ? কিছু জানো না বুঝি? এসব নাটক অন্য কারো সাথে দেখাবে। আমার সাথে একদম নয়।
– করলামটা কী তা বলবেন তো? ভুলে যাবেন না আপনি দুদিন আগেও হসপিটালে ভর্তি ছিলেন। অযথা রাগারাগি করবেন না, আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মেয়ের বিয়ের আগে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে হবে? অকারণে অসুস্থ হয়ে যদি আমার বিয়ে ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে বলে রাখি আপনার এ পরিকল্পনা বিফলে যাবে।
তোফায়েল আহমেদ অসহ্য রকমের বিরক্ত হলেন। কোন কথা টেনে কোথায় নিয়ে যায়। এখানে বিয়ের কথা আসছে কেন। যেখানে তিনি নিজে বিয়ের কথা তুলেছেন সেখানে কিনা বিয়ে ভেস্তে দেওয়ার পরিকল্পনা করবেন।
– এসব ফালতু কথা বাদ দিয়ে শাওনকে কেন মেরেছ তাই বলো?
– আশ্চর্য! আমি ওকে মারতে যাব কেন?
নাওয়াজের কণ্ঠে বিস্ময়। তোফায়েল আহমেদের হুট করে আগমন আবার এমন কথার মানে সে ঠিক বুঝতে পারছে না।
– দেখো নাওয়াজ তোমাকে আমার ভালো করেই চেনা। ভালোয় ভালোয় বলে দাও মেরেছ কেন?
– আমি মেরেছি এইটা ধরতে পারলে, কেন মেরেছি তার কারণও নিশ্চয় আপনার জানার কথা।
নাওয়াজের শান্ত স্বর কানে যেতেই তোফায়েল আহমেদ বুঝলেন তার ভাবনায় সঠিক তবে। এ কাজ নাওয়াজেরই।
হাসপাতালের নাম শুনে ওনার মাথায় এসেছিল এ কাজের পিছনে নাওয়াজের হাত নেই তো।
ঐদিন সব শুনে এত শান্ত হয়ে বসে থাকতে দেখে ওনার বুঝা উচিত ছিল ছেলেটা কিছু একটা ঘটাবে। তবুও নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তো কিছু বলা যায় না। এমনও তো হতে পারে এসব বিষয়ে নাওয়াজ একেবারে অবগত নয়। অন্য কেউ ঘটিয়েছে এ ঘটনা। আর তিনি ভাবছেন নাওয়াজ করেছে। মূলত তিনি চেয়েছেন তার ধারণা যেন ভুল হয়। এ কাজের পিছনে যেন নাওয়াজের হাত না থাকে। সেজন্য ছুটে আসা। কেবিনে আসার আগ অবধিও তিনি ভাবছিলেন তার ধারণা যেন সঠিক না হয়।
– সামান্য একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে তুমি ছেলেটার হাত পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি করাবে? আমি তো ব্যাপারটা দেখে নিতাম।
– তার কোনো বিষয় আমার কাছে সামান্য নয় স্যার।
– তাই বলে এভাবে মারবে? বুঝিয়ে বললেই হতো।
– আপনিও তো বুঝিয়ে ছিলেন মোর্শেদ আঙ্কেলকে। বুঝেছেন উনি?
বুঝেনি তো। উল্টো হুমকি দিয়ে গেল বউ ছেড়ে দিবে। আর তাতেও যদি মেয়ে দিতে রাজি না হোন তাহলে মেয়ে উঠিয়ে নিবে। কত বড়ো কলিজা ওদের। আমার পাখিকে উঠিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়। এতদিন পাখিকে চোখে চোখে রাখলাম। তার উপর যেন কারো নজর না পড়ে। আর কেউ কিনা উড়ে এসে জুড়ে বসে আমার পাখি নিয়ে উড়াল দিতে চায়, এই নাওয়াজের। জান থাকলে তো তা করবে। শুধুমাত্র আপনার আত্মীয় বলে ছেড়ে দিলাম। নয়তো ওদের গুম করতে আমার দু মিনিটও লাগবে না।
কথাগুলো বলে দাঁতে দাঁত পিষল নাওয়াজ। চোয়াল শক্ত, চোখের চাহনি কঠোর। অতিরিক্ত রাগে তীব্র বেগে নিঃশ্বাস উঠানামা করছে তার। রাগ দমনের খানিক চেষ্টায় হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ডানে বামে ঘাড় বেঁকিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ে।
– নাওয়াজ কার সামনে বসে আছো তা কি ভুলে যাচ্ছ? সবকিছুর একটা সীমা থাকে। তুমি কিন্তু এবার বাড়াবাড়ি করছ। আগের রূপে ফিরে যাচ্ছ না কি? এমন হলে কিন্তু বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে আমায় ভাবতে হবে।
নাওয়াজ খুব একটা তোয়াক্কা করল না। ভাবলেশহীনভাবে বলল,
– আপনার সামনে এত ফর্মালিটি করতে পারব না স্যার। আমার সবটাই তো আপনার জানা। অজানা নেই কোনোকিছু। তাহলে আপনার সামনে ভদ্রতার নাটক করার কোনো মানে আছে। আগের সব সেই বারো বছর আগেই ছেড়ে দিয়েছি। তবে তার প্রসঙ্গ উঠলে আগের রূপে ফিরতে দু বার ভাবব না। তাদের সতর্ক করে দিবেন। পরেরবার এমনটা করার সাহস যেন না দেখায়। এবার ছেড়ে দিয়েছি বলে এই না যে পরেরবারও ছেড়ে দিব। আর যদি বিয়ের কথা বলেন আপনি আমায় কথা দিয়েছেন। আমি যত দূর জানি জীবন চলে গেলেও আপনি কথার খেলাপ করবেন না।
– সেই দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছো?
– সু্যোগ নিচ্ছি না আমি। শুধু আপনাকে মনে করিয়ে দিলাম।
– সে না হয় বুঝলাম। তবে নিজে মেরে আবার নিজেই হাসপাতালে ভর্তি করালে। মেরে লাভ হলো কী?
– আমি ডাক্তার মানুষ। আমার কাজ মানুষ বাঁচানো, মারা না।
– তাহলে?
– লোক দিয়ে পিটিয়েছি বুঝলেন। ওদের বলেছিলাম যেন শুধু একটু ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ছেলেগুলো এভাবে হাত পা ভেঙে দিবে কে জানত। তবে ভালোই করেছে।আমার সুবিধা হলো। শান্তিতে বিয়েটা করতে পারব। ভাঙা পা নিয়ে নিশ্চয় বিয়েতে বাগড়া দিতে আসবে না।
যেহেতু হাত পা ভাঙতে চাওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, তাই হসপিটালে ভর্তি করালাম। চিকিৎসাটা না হয় ফ্রিতে করে দিব। ওদের সামনে যাতে গর্বের সহিত বলতে পারেন আপনার মেয়ের জামাই কত উদার মনের মানুষ।
– বেয়াদব ছেলে সে আশায় তুমি বসে থাকো।
তোফায়েল আহমেদ বেরিয়ে গেলেন। নাওয়াজ সেদিকে তাকিয়ে হাসল। ভদ্রলোককে বিপাকে ফেলে অদ্ভুত এক তৃপ্তি মিলে।
_
আনেসা ভাবছে এখানে না এলেই বোধ হয় ভালো হতো। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। অসহায় চোখে তাকালেন স্বামীর দিকে।
– কী হলো আপা? কিছু বলছেন না কেন? আপনার মেয়েটাকে আমায় দিয়ে দিন। বিশ্বাস করুন অভিযোগের কোনো সুযোগ দিব না। জানেন তো আমার কোনো মেয়ে নেই। আপনার মেয়েটাকে নিজের মেয়ে করে রাখব। শাওন তো আভিরাকে ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে বিয়ে করতে…
– আমার মায়েরও কোনো মেয়ে নেই। তারও একটা মেয়ে লাগবে বুঝলেন আন্টি।
নাওয়াজ মাত্রই এসেছিল। শায়লার কথা কানে যেতে এ কথা বলল। মুখাবয়ব তার কঠিন। অথচ কথার ধাঁচ শান্ত।
তোফায়েল আহমেদ স্ত্রীর থেকে নজর সরিয়ে নাওয়াজের দিকে তাকালেন। কেমন করে তার দিকে তাকিয়ে আছে দেখো, বেয়াদব একটা।
– মানে?
শায়লা হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।
– মানে দুনিয়াতে মেয়ে বানানোর মতো অনেক মেয়ে আছে। আপনি আর আপনার দেবর অন্যের বউ নিয়ে টানাটানি শুরু করেছেন কেন?
– বউ মানে? পাগল টাগল হলে না কি? কী যা তা বলছ?
মোর্শেদের কথা শুনে নাওয়াজ হাসল। সরাসরি তোফায়েল আহমেদের দিকে নজর তাক করে বলল,
– কী হলো শ্বশুর বাবা, ওনাদের কিছু বলেননি? ওনারা জানতে চাইছে বলুন।
পাঁচ, পাঁচ জনের নজর তোফায়েল আহমেদের উপর নিবদ্ধ হলো। এতজনের তাকানোতে ভদ্রলোক কিছুটা ভড়কে গেলেন। ছেলেটা তাকে ইচ্ছে করে ফাঁসাচ্ছে। কত বড়ো বেয়াদব হলে এমনটা করে।
ফোঁস করে দম ছেড়ে বললেন,
– আসলে নাওয়াজের সাথে আভিরার বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছি। শুক্রবার এসে আংটি পরিয়ে দিয়ে যাবে। আপনাদেরও জানাতাম। কিন্তু তার আগেই…
– আরে ভাই ভাবছেন, বিয়ে তো আর দিয়ে দেননি। আমি আরও ভাবলাম আমাদের না জানিয়েই বোধ হয় মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। যাক সমস্যা নেই। শুক্রবার নাওয়াজের পরিবারের পরিবর্তনে আমরা যাব। তাহলেই তো হলো।
মোর্শেদের কথায় তোফায়েল আহমেদের মুখ থমথমে আকার ধারণ করে। কী বলবে ভেবে পেল না। এত বলার পরও কোন মুখে আবার এসব বলছে। আর কতভাবে না করবেন। কানে এলো কারো দৃঢ় কণ্ঠ।
– ওনার বিয়ে আমার সাথেই হবে।

