#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৯
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
– তা শ্বশুর বাবা কী কারণে এত জরুরি তলব? কালই না হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরলেন। কোথায় বিশ্রাম করবেন, তা না করে দৌড়াদৌড়ি করছেন। শাশুড়ি আম্মা জানে এসব?
নাওয়াজের এমন কথায় তোফায়েল আহমেদ বিরক্ত হলেন।
তীব্র বিরক্তি নিয়ে বললেন,
– কী শ্বশুর শাশুড়ি লাগিয়ে দিয়েছ? মেয়ে দিয়েছি এখনও তোমায়? দেইনি তো। তাহলে এসব বলার মানে কী?
– দেননি। তবে ভবিষ্যৎ এ তো দিবেন। তখন শ্বশুরকে স্যার বললে হবে। লোকে বলবে দেখো জামাই শ্বশুরকে স্যার ডাকছে। কী একটা হাস্যকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে ভেবেছেন!
মানসম্মান যাবে আমার। তাই তো আগেভাগে চর্চা করে নিচ্ছি। যাতে পরে ভুলেও মুখ থেকে স্যার না বের হয়।
– নাওয়াজ থামবে তুমি। কথা বলতে এসেছি। শুনবে, না কি চলে যাব?
নাওয়াজের এমন রসিকতা তোফায়েল আহমেদের মোটেও ভালো লাগে না। ইদানিং ছেলেটা বেশি বাড়াবাড়ি করছে।
নাওয়াজ রসিকতা বাদ দিয়ে কিছুটা নড়েচড়ে বসে। খানিকটা গম্ভীর স্বরে বলল,
– বলুন শুনছি।
তোফায়েল আহমেদ এবার হালকা কেশে গলা পরিষ্কার করে বলল,
– আগামী শুক্রবার তোমার মাকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসো। বিয়ের কথা পাকাপাকি করতে চাই।
– কার বিয়ে?
নাওয়াজের এহেন কথায় তোফায়েল আহমেদ হাসলেন।
ছেলেটা হয়তো তার কথার মানে ঠিক ধরতে পারেনি। নয়তো কি এ কথা বলে।
– যাকে ঘরে তোলার জন্য অপেক্ষায় আছো।
নাওয়াজ বুঝল। তার চোখে মুখে বিষ্ময়! কিছু মুহূর্তের জন্য যেন থমকালও। অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু শোনার পর যেমনটা হয় নাওয়াজের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। মুহূর্তে নাওয়াজ নিজেকে সামলে নেয়। তবে এভাবে হটকারী করে ডেকে পাঠিয়ে এমন কথা বলার কারণ খুঁজে পেল না। মাথায় এলো হাজারও প্রশ্ন।
নাওয়াজ কিছুক্ষণ নীরব থেকে তোফায়েল আহমেদের দিকে চেয়ে বলল,
– কিন্তু সে বিষয়ে তো আগেই কথা হয়েছে। চার বছর পর, মানে তার অনার্স কমপ্লিট হওয়ার পর সব হবে। তবে এখন বিয়ের কথা উঠছে কেন? কিছু কী হয়েছে?
– শাওনকে মনে আছে তোমার?
– হ্যাঁ, তাহমিদা আন্টির ভাসুরের ছেলে। আমার জুনিয়র ছিল ছেলেটা।
– মোর্শেদ ওর জন্য আভিরার হাত চাইতে এসেছিল।
– ওহ্।
কণ্ঠস্বর আগের চেয়ে গম্ভীর শোনালেও কথায় কেমন গা ছাড়া ভাব। হাতে থাকা চায়ের ওয়ান টাইম কাপটা রাস্তায় ছুঁড়ে মেরে সেদিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইল।
তোফায়েল আহমেদের নজর নাওয়াজের দিকে। এ কথা শুনে শান্ত হয়ে বসে থাকার ছেলে তো নাওয়াজ নয়। তবে?
– তুমি আমার কথা শুনছ নাওয়াজ?
– জি।
– এখন তোমার সিদ্ধান্ত জানাও, শুক্রবার আসবে?
– আসব। কিন্তু আঞ্জুম তাকে জানিয়েছেন?
– না জানাইনি। তবে জানানো হবে।
– তার মতামতের দিকে খেয়াল রাখবেন। তার আপত্তি থাকলে বিষয়টা এখানেই থেমে যাবে।
– সে নিয়ে তোমায় ভাবতে হবে না। মেয়ে রাজি না হলে আমি নিশ্চয় তাকে জোরজবরদস্তি করে রাজি করাতে যাব না।
_
নিজের ঘরে হঠাৎ বাবাকে দেখে আভিরা ভীষণ অবাক হলো। তোফায়েল আহমেদ সচরাচর তার ঘরে আসে না।
আভিরা বই পড়ছিল। বাবাকে দেখে উঠে দাঁড়ায়।
– কথা ছিল আম্মা। আপনি কি ব্যস্ত? পরে আসব?
– না না আমি ব্যস্ত না। বলো কী বলবে?
– এখানে না, বাইরে আসুন। আর দু কাপ চা বানিয়ে নিয়ে আসবেন কেমন।
আভিরা খুশি হয়ে গেল। বাবা তার সাথে কথা বলবে তাতেই যেন তার যত খুশি। রান্নাবান্না না জানলেও আভিরা চা টা বেশ ভালো বানায়। আভিরা যেদিন প্রথমবারের মতো চা বানালো তোফায়েল আহমেদ সেদিন স্ত্রীকে বলেছিল, সে যাতে আর চা না বানায়। এখন থেকে তিনি রোজ মেয়ের হাতে বানানো চা খাবেন। অথচ মেয়ের বানানো সেই চা ছিল খাওয়ার অযোগ্য। এত বেশি পরিমাণে চা পাতা দেওয়া হয়েছিল যে চা দেখতেই কেমন বিদঘুটে লাগছিল।
তবুও সেদিন তোফায়েল আহমেদ বেশ আয়েশ করে মেয়ের বানানো চা খেয়েছিলেন। খেয়ে প্রশংসাও করেছিল। বাবার প্রশংসায় আভিরার খুশি সেদিন দেখার মতো ছিল।
ফুটন্ত পানিতে একে একে আদা কুচি, লবঙ্গ, এলাচ দিয়ে অল্প পরিমাণে চা পাতা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নামিয়ে নিল।
দুটো কাপ এ চা ঢেলে চলে গেল উঠানে। তোফায়েল আহমেদ বেতের চেয়ারে বসে আছেন। তার হাতে একটা বই। হাতের বইটা রেখে মেয়ের থেকে একটা চায়ের কাপ নিয়ে মেয়েকে বসতে ইশারা করলেন। বাবার ইশারায় আভিরা বসল। গোধূলি লগ্ন। মিষ্টি রোদ আভিরার গা ছুঁয়ে দিচ্ছে। আভিরাদের বাড়ির উঠান খুব একটা বড়ো না। উঠানের এক পাশে বিশাল একটা আম গাছ। তাতে মুকুল এসেছে গুটি কয়েক। আম গাছের পাশে জাম্বুরা গাছ। জাম্বুরা গাছের ফুলের সুবাসে মৌ মৌ করছে চারপাশ। আভিরার এ সুবাস বেশ লাগে।
– কিছু কথা বলব মন দিয়ে শুনবেন।
আভিরা বাবার কথা শোনার জন্য মুখিয়ে রইল। কী
বলবে বাবা শোনার জন্য যেন তর সইছে না। বাবা সচরাচর তার সাথে এভাবে কথা বলে না। টুকটাক কথা বলে যতটা প্রয়োজন।
– আপনার বিয়ে দিতে চাচ্ছি। আপনার আপত্তি আছে আম্মা? থাকলে কোনো সংকোচ ছাড়াই বাবাকে বলতে পারেন।
আভিরা অবাক নয়নে চাইল বাবার দিকে। হুট করে এমন কথা শুনবে সে মোটেও আশা করেনি। তাও বাবার মুখে। এতক্ষণের ছটফট ভাব যেন নিমিষেই কমে এলো, হাসিমাখা মুখটাও মিইয়ে গেল কেমন, চোখে মুখে কেমন বিষাদের ছায়া।
আভিরা চুপ করে রইল মিনিটখানেক। হাতড়াল, তবে বলার মতো যেন কিছুই খুঁজে পেল না। এক মিনিট, দু মিনিট করে মেয়েটা আর কথায় বলল না।
তোফায়েল আহমেদ দেখলেন মেয়েকে। তার চা শেষ। অথচ মেয়ে তার এক চুমুকও দেয়নি। শব্দ করে হাতে থাকা কাপটা রাখলেন বেতের ছোটো টেবিলে। সে শব্দে যেন আভিরার হুঁশ ফিরে। বাবা তার দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো তার জবাবের প্রত্যাশায়। আচ্ছা সে কী জবাব দিবে, সে রাজি।
মাগরিবের আজানের প্রতিধ্বনি কানে আসছে। তোফায়েল আহমেদকে এখন উঠতে হবে। নামাজে যেতে হবে তাকে।
অথচ তার মেয়ে এখনও চুপ করেই রয়েছে। তোফায়েল আহমেদ মেয়ের অবস্থা বুঝলেন। মেয়েকে সময় দেওয়া উচিত। হুট করে সরাসরি এমন কথা বলা মোটেও উচিত হয়নি তার। সময় নিয়ে রয়েসয়ে বুঝিয়ে বলা দরকার ছিল।
– আম্মাজান উঠতে হবে। নিজের মতামত অবশ্যই আপনার মাকে জানিয়ে রাখবেন। আমি রাতে তার থেকে জেনে নিব।
তোফায়েল আহমেদ উঠে চলে গেলেন। আভিরা বসে রইল। বাবার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইল কতক্ষণ। দৃষ্টি সরিয়ে আকাশ পানে তাকায়। আঁধার ছাপিয়ে দুই একটা তারা বেরিয়ে এসেছে। চাঁদের দেখা নেই। আভিরা গুনতে লাগল। তবে তার গোনার সাথে সাথে নতুন তারার উদয় হচ্ছে। আভিরা বিরক্ত হয় না, মজা পেল বেশ। ঠোঁট কামড়ে হাসল মেয়েটা। আবার প্রথম থেকে গুনতে শুরু করল। এ কাজে যেন সে বেশ ধৈর্যশীল।
আভিরা প্রায় তারা গুনে। তার ভাল্লাগে গুনতে। একটা দুটো গোনার পর যখন বেহিসেবি তারার পসরা বসে তখন সে আকাশ দেখতে কী চমৎকারই না দেখায়। তমসায় ঘেরা আকাশ ঝলমলিয়ে তারায় তারায় সাজে। তারা ভরা সেই আকাশ দেখে যেন আভিরা অন্য জগৎ এ হারিয়ে যায়।
_
আনেসা নামাজ পড়ে মেয়ের পাশে বসল। আভিরার কি সেদিকে ধ্যান আছে। সে তো দূর আকাশের তারকারাজির সমার দেখতে ব্যস্ত। আনেসা মেয়েকে ডাকল,
– আভিরা নামাজ না পড়ে বাইরে কী করছিস?
জবাব নেই। আভিরা তখনও মাকে খেয়াল করেনি। মায়ের কথা তার কানে গিয়েছে কিনা তাতেও সন্দেহ আছে। মেয়ের জবাব না পেয়ে আনেসা কিছুটা কর্কশ গলায় বলল,
– কী হলো? কথা বলছিস না কেন? কিছু জিজ্ঞেস করেছি আমি।
হঠাৎ মায়ের কণ্ঠ কানে যেতে আভিরা হকচকিয়ে ওঠে।
ভয় পেয়েছে কিছুটা। মেয়ের এমন ভয়ার্ত অবস্থা দেখেও আনেসা থামে না। নামাজের ব্যাপারে তিনি ছাড় দিতে নারাজ। কড়া গলায় বললেন,
– নামাজ পড়িসনি কেন?
আভিরার যেন হুঁশ এলো। ইশ্! সেই কখন আজান দিয়েছে। আর সে কিনা আকাশ দেখছে। নামাজের কথা মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। ক্ষীণ স্বরে জানতে চাইল,
– নামাজের সময় আছে?
– হ্যাঁ, তোর জন্য রয়েছে। মাগরিবের ওয়াক্তে যে সময় কম থাকে তা কি মাথায় নেই। নামাজ বাদ দিয়ে এখানে কী করছিলি তুই? তারা গুনছিলি?
মাকে মোটেও সত্যি কথা বলা যাবে না। মা যদি জানে সে এতক্ষণ তারা গুনছিল তাহলে তার খবর খারাপ করে ছাড়বে। তৎক্ষণাৎ অস্বীকার করে বলল,
– না তো।
– তবে আমি যে দেখলাম।
ধরা পড়ে আভিরা চোরা চোখে চাইল মায়ের দিকে। আমতা আমতা করে বলল,
– ঐ আরকি।
– বুঝেছি, যা দ্রুত নামাজ পড়ে আয়। নয়তো থাপড়ে তোর তারা গোনা বের করব।
আভিরা অসহায়ের ন্যায় মুখ ফুলায়। বিড়বিড়িয়ে বলল,
– যাচ্ছি তো। এমন চিৎকার চেঁচামেচি করার কী আছে!
– চিৎকার চেঁচামেচির কী দেখলি? বেশি কথা না বলে দ্রুত যা। সময় শেষ হয়ে যাবে। ফরজ রাকাতটা পড়ে নে। তাহলেই হবে।
আভিরা অজু করে নামাজে দাঁড়ায়। মোনাজাত ধরতে চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে কয়েক ফোঁটা উষ্ণ নোনাজল। আভিরা ফুঁপিয়ে উঠল। বাবা মাকে ছেড়ে সে কিছুতেই যাবে না, কিছুতেই না।
_
– কী রান্না করছিস লাবণ্য?
ইয়াজমীনকে দেখে লাবণ্য হাসল। হাসিমুখে বলল,
– তোমার ছেলের পছন্দের আইটেম করেছি আজ। কয়টা বাজে বলো তো? এখনও দেখা নেই যে। আসবে না না কি?
– সবে তো সাড়ে নটা বাজে। রাতে ওটি না থাকলে কি এগারোটার আগে দেখা মিলে। হসপিটালে দৌড়াদৌড়ি করে ছেলেটা আমার সময় পায় কই। কেন যে এসব ডাক্তারি ফাক্তারি করতে গেল।
লাবণ্য ফিচেল হাসে।
মাছের মাথা দিয়ে পালংশাক, পাবদা মাছের ঝোল, ভাপা ইলিশ, মাছ ভর্তা, কুমড়া পাতার ভর্তাসহ আরও চার রকমের ভর্তার আইটেম করেছে। সবকটা পদ নাওয়াজের পছন্দের। শীতের দিনে এসব ভর্তা দিয়ে ভাত খেতে নাওয়াজ বেশি পছন্দ করে। বিশেষ করে কুমড়া পাতার ভর্তা। পেঁয়াজ, মরিচ দিয়ে কুমড়া পাতা শিল পাটায় বেটে বানানো ভর্তার স্বাদ যেন অতুলনীয়। একে একে সবগুলো পদ নিয়ে রাখল টেবিলে।
কিছুক্ষণের মধ্যে কলিংবেল বেজে ওঠে। লাবণ্যর মুখে হাসি ফুটে উঠল। সে তো জানত। খবর নিয়ে তো তাই জেনেছে যে আজ নাওয়াজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে। হলোও তাই। তড়িঘড়ি করে দরজা খুলতে গিয়ে টেবিলের কোণায় বাড়ি খেল মেয়েটা।
ইয়াজমীন চেঁচিয়ে উঠল,
– এত তাড়াহুড়ো করার কী আছে? দেখে হাঁটবি না দেখি?
ইয়াজমীনকে থামিয়ে লাবণ্য বলল,
– আমি ঠিক আছি খালা, কিছু হয়নি।
দাঁতে দাঁত চেপে ব্যথা সহ্য করে নিল লাবণ্য। পায়ে ভালোই লেগেছে। তবে ব্যথার থেকে দরজা খোলাটা বেশি প্রয়োজন মনে করল। মানুষটা তার দরজা খোলার অপেক্ষায় আছে। কতক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখবে। পায়ের ব্যথা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে খানিকটা খুঁড়িয়ে দরজা খুলে দিল।
নিত্যদিনের ন্যায় লাবণ্যকে দেখে নাওয়াজ স্মিত হাসে।
পায়ের বুট জোড়া খুলে ভিতরে এলো। লাবণ্যকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল উপরে। মেয়েটার ব্যথায় নীল হয়ে যাওয়া মুখশ্রী নজরে এলো না, দেখল না তার খুঁড়িয়ে হেঁটে চলা।
ফ্রেশ হয়ে টেবিলে হরেক রকম ভর্তার আইটেম দেখে নাওয়াজের খিদে বেড়ে গেল যেন। আজ অন্যদিনের তুলনায় খাওয়াটা জমবে। গরম গরম ধোঁয়া উঠা ভাতের সাথে সর্ষে তেল দিয়ে ভর্তা। আহা! আর কী লাগে।
খাওয়ার মাঝে নাওয়াজ বলল,
– শুক্রবার তোফায়েল স্যারের বাড়িতে যাব মা। আমার যেহেতু ডিউটি আছে তাই ভাবছি তুমি আর লাবণ্য আগে চলে যাবে। আমি না হই সময় বের করে পরে যাব।
এহেন কথায় ইয়াজমীনকে খানিকটা চিন্তিত দেখাল। হঠাৎ ও বাড়ি যাওয়ার কথা কেন বলছে। মাথায় এলো তোফায়েল আহমেদের কথা। দুদিন আগেই হাসপাতাল থেকে ফিরেছে। আবার কিছু হলো না তো।
ইয়াজমীন খানিকটা চিন্তিত স্বরে বলল,
– সেদিন না হাসপাতালে দেখে এলাম। আবার কেন? তোফায়েল ভাই ঠিক আছেন তো?
– স্যার ঠিক আছে।
– তবে?
– বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যাব।
ইয়াজমীন বুঝতে না পেরে বলল,
– মানে?
– মানে হলো মেয়ে দেখতে যাব।
– কার জন্য মেয়ে দেখতে যাবি?
নাওয়াজ নির্লজ্জের মতো ভাতের লোকমা মুখে তুলে বলল,
– আমার।
লাবণ্য মাত্রই পানি ভর্তি গ্লাস নাওয়াজের হাতে দিতে যাচ্ছিল। এ কথা শুনে শব্দ করে কাঁচের গ্লাসটা ফ্লোরে পড়ে। মুহূর্তেই যেন চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল তা।

