#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_১২
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
– ভাই মেয়ে দেখার কী আছে? ছোটো থেকে তো দেখে আসছি। এবার না হয় শুভ কাজটা সেরে ফেলি।
– তাও আপা মেয়ে যেহেতু দেখতে এসেছেন সব নিয়ম মেনে দেখে নিন।
ইয়াজমীন কিছু বলার আগেই বর্ণা বলে উঠল,
– তা ঠিক বলেছেন আঙ্কেল। একটু তো দেখা দরকার।
দেখি আভিরা, হেঁটে দেখাও তো। জুতা খুলে হাঁটবে কেমন।
আভিরা সামান্য হকচকাল। তাকে কি এখন জুতা খুলে হাঁটতে হবে। মাহাদ আভিরার বিব্রত চেহারা দেখে কিছুটা বিরক্ত হয়ে বর্ণাকে বলল,
– কী যা তা বলছিস?
– যা তা কই বললাম?
– জুতা খুলে হেঁটে দেখাবে। এটা যা তা নয়তো আর কী?
– যা তা না। এটাই তো নিয়ম। সবাই তো মেয়ে দেখতে গেলে এমনটাই করে।
– সবাই যা করবে আমাদেরও তাই করতে হবে।
– তো আমরা কী সকলের বাহিরে?
– হয়েছে, থাম।
– থামব কেন? আর থামার কথাই বা আসছে কেন? আমরা মেয়ে দেখতে এলাম, দেখার মতো দেখব না?
– অবশ্যই দেখবি। কিন্তু তাই বলে এভাবে? মেয়েটা তো হেঁটেই এলো। দেখলি না তুই? আর কী হেঁটে দেখাবে?
– তুই চুপ থাক। যেটা বুঝিস না সেটা নিয়ে কথা বলবি না। তাছাড়া ভুলে গিয়েছিস আমাকে দেখতে গিয়ে কী কী করেছিলি? তুই আর নাওয়াজ মিলে আমাকে তো কম হেনস্তা করিসনি। সুযোগ পেয়ে হাতছাড়া করি কি করে বল তো। আমি এবার সবকিছুর শোধ তুলব।
বর্ণা মিথ্যা বলেনি। তাকে দেখতে গিয়ে মাহাদ কম জ্বালাতন তো করেনি। হেঁটে দেখাও, চুল কত বড়ো দেখি, ঠিকভাবে হাঁটতে পারছে না। মেয়েটার হাঁটার ধরন একদম সুন্দর না। হাঁটায় কোনো নমনীয়ভাব নেই, কথায়ও কেমন ঝাঁজ। এ মেয়ে আমাদের পছন্দ হয়নি। আমরা ভাইয়ের জন্য অন্য মেয়ে দেখব। তবে সব করেছে মাহাদ আর মাহিরা। এসবে নাওয়াজের কোনো ভূমিকা ছিল না। সে তো নীরব দর্শকের ন্যায় দু চোখ দিয়ে দেখে গিয়েছিল। যেমনটা আজ দেখছে।
মাহাদ কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বলল,
– তুই আর আভিরা কী এক না কি? তোর সাথে ওকে মিলালে হবে। তোর আর ওর বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। তুই আমাদের বন্ধু ছিলি। সেই সুবাদে হেনস্তা কেন যা ইচ্ছে তা করতে পারি। তাই বলে আভিরার সাথে এসব করবি? আর ওকে তো তুই এই প্রথম দেখছিস না। আগেও তো দেখেছিস।
– তো কী হয়েছে? তোরা কী আমায় আগে দেখিসনি? দেখেছিলি তো। তারপরও আমায় দেখতে গিয়ে ইতিহাস করে এসেছিলি। মনে নেই ঐসব? তাছাড়া আগের দেখা আর এই দেখায় অনেক পার্থক্য। বন্ধু হিসেবে বন্ধুর ভালোটা তো আমাকেই দেখতে হবে তাই না। মেয়ে কেমন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে নিতে হবে না। চিন্তা করিস না। তোর জন্য মেয়ে দেখতে গেলেও এভাবে দেখব।
আভিরা বুঝল না ঠিক কোন দেখার কথা বলছে। সবাই দেখছি তাকে আগে থেকেই চিনে। কই সে তো কাউকে চিনে না। শুধু ইয়াজমীন আর নাওয়াজকে দু একবার দেখেছিল এই যা।
মাহাদ বিড়বিড় করে বলল,
– সে আমায় বিয়ে করতে রাজি হলে তো তুই দেখবি।
আভিরাকে সত্যি সত্যি জুতা খুলে হাঁটতে হলো। শুধু এতটুকুতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশ্নের তোপে বিপাকেও পড়তে হয় মেয়েটাকে।
বর্ণার কাজে উপস্থিত সকলে হেসে উঠল। নাওয়াজও বাদ যায়নি যেন। তার ঠোঁটের ভাঁজেও সূক্ষ্ম হাসির দেখা মিলে।
তবে তার এ হাসি বর্ণার জন্য নয়। সে হেসেছে আভিরার বিব্রতকর চেহারা দেখে। আর কাঙ্ক্ষিত মানুষটাকে নিজের করে পাওয়ার প্রাপ্তিতে।
শুধু লাবণ্য আর মাহিরার মুখে হাসি দেখা গেল না। লাবণ্য নিষ্পলক চোখে আভিরা আর নাওয়াজকে দেখে চলেছে। এই যে নাওয়াজ কী যেন বলছে তাতেই আভিরা লজ্জায় আইঢাই করছে। আর নাওয়াজ তা মুগ্ধ হয়ে দেখছে। তখন নাওয়াজের হাত ধরার দৃশ্য সকলের নজর এড়ালেও তার নজর এড়ায়নি। মেয়েটা এক জায়গায় ঠায় বসে নির্বাক চিত্তে দেখে গেল সবটা।
মাহিরার এসব কিছু বিরক্ত লাগছে। সে তো আসতেই চায়নি এখানে। নেহাত ইয়াজমীনের মুখের উপর সরাসরি মানা করতে পারল না। নয়তো এখানে সে কখনোই আসতে যেত না। মাহিরা আভিরাকে দেখল। এই প্রথম দেখল মেয়েটাকে। মাহাদ, বর্ণার কথা শুনে বুঝা যাচ্ছে তারা আগে থেকেই আভিরার বিষয়ে অবগত। বলতে গেলে সকলে জানে শুধু সে আর লাবণ্য ছাড়া। তার একটু অভিমান হলো। সবাই জানে এ কথা। আর সে জানে না। তাকে বললে কী খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যেত।
নাওয়াজ, মাহাদ, বর্ণা তিন জন একই ব্যাচের। নাওয়াজ, মাহাদ মেডিকেল লাইনে পড়লেও বর্ণা পড়েছে ম্যাথ নিয়ে। সে ম্যাথে পারদর্শী বিধায় এ সাবজেক্ট নিয়েই অনার্স, মাস্টার্স শেষ করেছে। এলাকার একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত আছে বর্তমানে।
বন্ধু হওয়ার সুবাদে নাওয়াজ আর মাহাদদের বাড়িতে আসা যাওয়া হতো বর্ণার। সেখান থেকে সৌভিকের সাথে তার প্রেম। বলতে গেলে সৌভিকের মতো গম্ভীর ছেলেকে নিজের করা অনেক কঠিন ছিল।
বর্ণা চমৎকার একটা মেয়ে। কথার ছলে যে কাউকে সহজে বশে আনতে পারে। তার কথার কারণে সে সকলের পছন্দের ছিল। তবে এ কারণেই সৌভিকের কাছে ছিল সব থেকে বেশি অপছন্দের। সৌভিক একদমই মাহাদের মতো নয়।কিছুটা গম্ভীর স্বভাবের। অতিরিক্ত কথা বলা কোনোকালেই পছন্দ না তার। বর্ণাকেও এড়িয়ে যেত এ জন্য। মেয়েমানুষ এত কথা কেন বলতে হবে। এ লোকের মন পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাকে। বার কয়েক তো থাপ্পড়ও খেয়েছিল। তবুও মেয়েটা পিছ ছাড়া হয়নি, পড়েছিল সৌভিকের পিছনে। ভাগ্যিস তখন পিছু ছাড়েনি। তাই তো এখন মানুষটা তার। সে হাল ছেড়ে দিলে কী এ মানুষটাকে পাওয়া হতো। অবশ্য মাহাদ, নাওয়াজের সাহায্য ছাড়া কিছুই করা সম্ভব হতো না তার পক্ষে। নাওয়াজ, মাহাদ অনেক সাহায্য করেছে তাকে। মাহাদের মেয়েটাকে ভাবি করতে কোনো আপত্তি ছিল না। বরং তার গম্ভীর ভাইয়ের জন্য বর্ণার থেকে ভালো মেয়ে তার চোখে পড়েনি। তবে তাদের সম্পর্ক সাপে নেউলে। কে কাকে অপদস্থ করবে সেই সুযোগ খুঁজে বেড়ায়। সেজন্যই বর্ণাকে দেখতে গিয়ে অমন কাহিনী করে এসেছিল।
বন্ধু হওয়ার সুবাদে নাওয়াজের পছন্দের কথা অজানা ছিল না বর্ণার। মা, বর্ণা আর মাহাদ ছাড়া অন্য কেউ এ বিষয়ে অবগত নয়। তাই লাবণ্য, মাহিরার জানা হয়নি এসব।
মাহিরা অভিজ্ঞ চোখে আভিরাকে পরখ করে নেয়। তেমন আহামরি সৌন্দর্য ধরা পড়ল না তার চোখে। ধরা পড়বে কী করে? সে কী দেখার মতো দেখেছে। অপছন্দের মানুষের সৌন্দর্য কী আর ঘটা করে আমাদের চোখে ধরা পড়ে।
মেয়েটা সুন্দর। অসম্ভব সুন্দর যাকে বলে। যে সৌন্দর্য কেবল নাওয়াজের চোখ দিয়ে দেখলে দেখা যাবে।
দেখে বুঝা যাচ্ছে এ মেয়ের বয়স অনেক কম। তাদের থেকে কম হলেও চার, পাঁচ বছরের ছোটো। নাওয়াজ আর আভিরার বয়সে তাহলে অনেক ফারাক। এমন একটা বাচ্চা মেয়েকে নাওয়াজের কী করে মনে ধরল!
_
– নে আংটিটা আভিরাকে পরিয়ে দে।
ইয়াজমীন নাওয়াজের হাতে আংটির বক্সটা ধরিয়ে দিল।নাওয়াজ মায়ের থেকে বক্স নিয়ে আলতো করে আভিরার অনামিকা আঙুলে আংটি পরিয়ে দেয়। আভিরাও নাওয়াজের হাতে অপর বক্সে থাকা আংটিটা খুলে পরিয়ে দিল। সাদা পাথরের আংটিটা আভিরার হাতে জ্বলজ্বল করছে যেন। আভিরা আপাতত তাকিয়ে তাই দেখে চলেছে।
নাওয়াজ পূর্বের ন্যায় ফিসফিসিয়ে বলল,
– মিসেস নাওয়াজ ইয়াজিদ শুনছেন?
আভিরা আনমনে জবাব দিল।
– হু।
– আপনাকে পাওয়ার প্রথম ধাপ শেষ হলো। শীঘ্রই আপনি কাগজে কলমে আমার হবেন।
_
– খেয়ে বলো তো কেমন হয়েছে? চিংড়ির মালাই কারিটা কিন্তু আভিরা রেঁধেছে। আপা তো কখনোই এ মেয়েকে রান্নাঘরে ঢুকতে দেয়নি। তবে আজ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সবটা করিয়েছে। দুদিন পর শ্বশুর বাড়িতে যাবে, রাঁধতে না জানলে হবে।
– ওকে কিছু শেখানোর দরকার নেই। এ মেয়েকে আমি রাঁধতে দিলে তো।
– তা বললে কি করে হয় আপা। মেয়েকে শিখিয়ে পড়িয়ে অন্যের বাড়িতে পাঠানো আমাদের দায়িত্ব।
ইয়াজমীন, মোহনাকে থামিয়ে আনেসা বলল,
– আচ্ছা হয়েছে। পরে কথা বলা যাবে। আপা আগে খাওয়া শুরু করেন।
চিংড়ির কথা শুনে লাবণ্য তড়িঘড়ি করে বলতে চাইল,
– কিন্তু নাওয়াজ তো আব্, মানে নাওয়াজ ভাইয়ের চিংড়িতে এ…
লাবণ্য কথা শেষ করতে পারল না। নাওয়াজের ইশারাতে থেমে যেতে হলো মেয়েটাকে। নাওয়াজ প্লেটে চিংড়ি নিয়ে ইতোমধ্যে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে।
সাদা ভাত, পোলাও, কোরমা, দেশি মুরগি, খাসির রেজালা, গোরুর কালা ভুনা, রোস্ট, রুই মাছের কালিয়াসহ আরও অনেক আইটেম করা হলেও নাওয়াজ চিংড়ির মালাই কারি ছাড়া অন্য কিছু পাতে তুলেনি। সবাই বললেও নাওয়াজ নিল না। চিংড়ি দিয়েই খাওয়া শেষ করল।
লাবণ্য ঠিকমতো খেতে পারছে না। গলা দিয়ে খাবার নামছে না তার। আটকে আসছে। কোনোমতে একটু খেল। নয়তো সবাই তাকে নিয়ে পড়বে। আনন্দ পূর্ণ মুহূর্তটাকে সে অযথা নষ্ট করতে চায় না। মাহিরা বান্ধবীর অবস্থা বুঝল। আর কেউ না জানলেও সে তো লাবণ্যর মনের খবর জানে।
_
তাযীম নাওয়াজের কোলে বসে আছে। আভিরা এক কোণায় বসে নাওয়াজ আর তাযীমকে দেখে চলেছে। তাযীম সত্যি আজ সারাদিন আভিরার ধারের কাছেও আসেনি। ছেলেটা এত অভিমান করতে জানে। এ বয়সে অভিমানের কী বুঝে।
নাওয়াজের চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে। মুখে হালকা রেশের দেখা মিলেছে। আভিরার বুঝতে বাকি নেই কী কারণে এমনটা হলো। মেয়েটা ফুঁপিয়ে উঠল। নাওয়াজ বিচলিত হলো না খুব একটা। অস্থির হয়ে ছুটে এলো না মেয়েটার কাছে। আর না বলল কান্না থামান, আপনার চোখের পানি সহ্য করার মতো না। শুধু অদ্ভুত চোখে আভিরাকে দেখে গেল। মেয়েটা তার কষ্ট দেখে কাঁদছে। এর থেকে প্রশান্তির আর কী হতে পারে। মেয়েটার কান্না ভেজা মুখ তাকে অদ্ভুত শান্তি দিচ্ছে। এমন ছোটোখাটো যন্ত্রণা যদি শান্তি দেয়। তবে সে রোজ ক্ষত বিক্ষত হতে রাজি।
– আপনি বলেননি কেন চিংড়িতে আপনার এলার্জি আছে? লাবণ্য আপু তখন এটাই বলতে চেয়েছিল তাই না? আপনি বলতে দেননি। বাকিরা জেনেও কিছু বলল না। এখন কষ্ট হচ্ছে কার?
কান্নার চোটে ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না আভিরা। নাওয়াজ মৃদু হাসল। তাযীম ঘুমিয়ে গেছে। নাওয়াজ কোল থেকে তাযীমকে বিছানায় শুয়ে দিয়ে আভিরার পাশে বসে। নির্দ্বিধায় ডান হাতটা মুঠোয় নিয়ে উল্টো পিঠে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ায়।
আভিরা কেঁপে ওঠে। শরীর জুড়ে তড়িৎ খেলে গেল অজানা অনুভূতি, শিহরণে রোমাঞ্চিত হলো তনু মন। কান্না ভুলে অবাক নয়নে চাইল নাওয়াজের পানে। নাওয়াজ সে চাহনি খুব একটা তোয়াক্কা করল না। ঠোঁট নাড়িয়ে মৃদু স্বরে বলল,
– হাত পুড়িয়ে আমার জন্য রান্না করলেন আমি না খেলে হতো?
– আমি আপনার জন্য রান্না করিনি। সবার জন্য করেছি।
– বুঝেছি। তা চোখে পানি এলো কেন? আমার জন্য বুঝি কষ্ট হচ্ছে?
– ক…কষ্ট হবে কেন? আর আমার চোখে পানি কই?
জবাবে আভিরা তোতলায়।
– আর কতক্ষণ ভিতরে থাকবি শালা। এবার বাইরে আয়। বাড়ি যেতে হবে তো। না কি এখানেই থেকে যাবি?
– পারলে তো এখানেই থেকে যাই।
বিড়বিড়িয়ে বলল নাওয়াজ। আভিরার কানে স্পষ্ট গেল কথাটা, মেয়েটা লজ্জা পেল।
– তুই যা, আসছি।
নাওয়াজ আচমকা আভিরার দিকে কিছুটা ঝুঁকে আসে। হঠাৎ এমন হওয়াতে আভিরা ফ্যালফ্যাল করে চায়। দেখল নাওয়াজের অদ্ভুত দৃষ্টি। আভিরা যেন ঐ চাহনিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে। নজর লুকায় মেয়েটা। নাওয়াজ ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসল তা দেখে। ভারিক্কি স্বরে বলল,
– মিসেস নাওয়াজ ইয়াজিদ আসি তাহলে। নিজের খেয়াল রাখবেন।
_
– শালা আমাদের কপালেই কিছু নেই। একে একে সকলে বিয়ে করে ফেলছে। আর আমার কপাল দেখো।
– ধৈর্য ধর দোস্ত, তুইও পাবি।
ড্রাইভ করতে করতে বলল নাওয়াজ। মাহাদ লাবণ্যের দিকে তাকিয়ে আনমনে বলল,
– নিজের ভালোবাসার চোখে অন্য কাউকে না পাওয়ার যন্ত্রণা দেখে কজন পুরুষ ধৈর্য ধরতে পারে বল। সেদিক থেকে ধরতে গেলে সব থেকে বেশি ধৈর্যবান পুরুষ আমি।

