প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন #পর্বসংখ্যা_১৮

0
1

#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_১৮
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা

– খারাপ লাগছে? গাড়ি থামাতে বলব?

আভিরা বলতে পারল না। তার আগেই গরগর করে বমি করে দিল, কিছুটা নাওয়াজের গায়েও পড়েছে। মেয়েটার শরীর কেমন নেতিয়ে আসছে।

– ভাই একটু সাইডে গাড়ি থামাবেন।

– ফাঁকা জায়গা দেইখা থামামনে। এহন তো মেইন রোডত।

– একটু অপেক্ষা করুন, গাড়ি থামাবে।

– আমি বলেছিলাম বমির ট্যাবলেট খেলে আমার বমি হবে। শুনলেন না, তখন জোর করে খাওয়ালেন। এখন দেখলেন তো আপনার শেরওয়ানিটা নষ্ট করে…

দুর্বল কণ্ঠে বলল আভিরা। এ অবস্থায়ও মেয়েটা তার শেরওয়ানি নিয়ে পড়ে আছে দেখে নাওয়াজ খানিকটা গম্ভীর স্বরে বলল,
– কথা কম বলুন, কিছু হয়নি। আর বমি করবেন? পলিথিন দিতে বলব?

– উহু।

নাওয়াজ একপ্রকার জোর করে আসার আগে মেয়েটাকে বমির ট্যাবলেট খাইয়ে ছিল। মেয়েটার যে বমির সমস্যা আছে তা তো সে জানে। আভিরা বারবার বলেছিল সে ট্যাবলেট খাবে না। ট্যাবলেট না খেয়ে সে যতটা না ঠিক থাকবে ট্যাবলেট খেলে তার থেকে বেশি খারাপ অবস্থা হবে। বমির ট্যাবলেট খেলে সাধারণত কারো বমি হয় না। তবে আভিরার ক্ষেত্রে ঘটে উল্টোটা। ট্যাবলেট খেলে মেয়েটার অবস্থা আরও বেশি খারাপ হয়ে যায়। এই যে এখন আধ মরা হয়ে নাওয়াজের গায়ে পড়ে আছে।

মাহিরার গা গুলিয়ে আসছে। কারো বমি দেখতে পারে না মেয়েটা। অথচ লাবণ্য বেশ শান্ত ভঙ্গিমায় বসে আছে। সে যেমন ছিল তেমনভাবে। তাকে দেখে তার অবস্থা আন্দাজ করা সম্ভব নয়।

– লাবণ্য একটু সাহায্য করো তো, ওনার দোপাট্টাটা খুলে দাও। আমি এক হাতে খুলতে পারব না।

নাওয়াজের পক্ষে আসলেই সম্ভব না। ছেলেটা ডান হাতে আভিরাকে ধরে রেখেছে। বাম হাত দিয়ে দোপাট্টা খুলে দেওয়া অসম্ভব। লাবণ্য কোনো কথা না বলে আভিরার দোপাট্টা খুলে, পিছন থেকে আভিরার হ্যান্ড ব্যাগ এনে ভাঁজ করে তাতে রেখে দিল।

_

– দেখি মুখে পানি দিন। ভালো লাগবে।

আভিরা মুখে পানির ঝাপটা দিল। মেয়েটা প্রাণ খুলে শ্বাস নেয় এবার। গাড়ির ভিতর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এখন যা একটু ঠিক লাগছে।
ড্রাইভার ফাঁকা জায়গা দেখে গাড়ি থামিয়েছে। পাশে একটা দোকান আছে। সেখান থেকে নাওয়াজ পানির বোতল কিনে নিয়ে এসেছে। দোকানে ফ্রিজ নেই। হালকা গরম হয়ে থাকা পানি দিয়ে নাওয়াজ গলা ভেজায়। আভিরাকে সাধতে সে খাবে না বলে জানায়। বাইক থেকে জিদান, বর্ণ নেমে আসে। ওরা বাইক চালিয়ে আভিরাদের পিছনেই আসছিল। ওদের থামতে দেখে নিজেরাও নেমে এলো।

– ভাইয়া গাড়ি থামালে যে?

– আঞ্জুম বমি করেছিলেন।

– ও ঠিক আছে?
জিদানকে খানিকটা বিচলিত দেখায়।

– হুম ঠিক আছে। আমি আছি, আমি থাকতে সে খারাপ থাকবে না। আমি থাকতে দেবো না।

বর্ণের কিছু একটা মনে পড়তে সে বলল,
– মাহাদ ভাই কল দিয়েছিল একটু আগে। বলল আমাদের হসপিটালে যাওয়ার দরকার নেই। বাড়ি ফিরে যাই যেন। ভাইয়া তাযীমকে নিয়ে একেবারে আসবে। আমাদের আর যাওয়াটা ঠিক হবে না।

ওরা এখন হাসপাতালে যাচ্ছিল। মেয়েটা জেদ ধরেছে ভাইকে না নিয়ে সে যাবে না। নিজের সাথে করে তাযীমকেও নিয়ে যাবে। তাই বাড়ি না গিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। এখন আবার উল্টো পথ ধরতে হবে। শুধু শুধু সময় নষ্ট। আভিরা গাড়িতে উঠলে আবার বমি করবে নিশ্চয়। এখনও অনেকটা পথ বাকি। ওরা এখন উজানিসার আছে। এখান থেকে উল্টো পথে কুমিল্লা যেতে হবে।

নাওয়াজ আভিরার দিকে তাকায়। মেয়েটা শুনেছে। অথচ প্রতিক্রিয়াহীন।

– চলেন আমরা যাই তবে।

– হুম যাব। তোমরা মাহিরা, লাবণ্যর সাথে গাড়িতে চলে যাও। আমি আর আঞ্জুম বাইকে যাব। চাবিটা দাও।

– ধরে বসুন। নয়তো পড়ে যাবেন।

আভিরা খানিকটা ইতস্তত করে নাওয়াজের কাঁধে হাত রাখে। অনেক পথচারী উৎফুল্লতার সাথে বাইকে থাকা সদ্য বিবাহিত দম্পতিকে তাদের মুঠোফোনে ক্যামেরা বন্দি করতে ব্যস্ত।

_

তাযীম ফুলে সজ্জিত বিছানায় হাত পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে। ছেলেটা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সারা রাস্তা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে এসেছে, এখনও ঘুমাচ্ছে। ঔষধের প্রভাবে হয়তো এত ঘুম।

আভিরা ঘুমন্ত ভাইয়ের মুখে পাগলের মতো চুমু খেল। তার চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে তাযীমের চোখে মুখে। ছেলেটা তো বেহুশের মতো পড়ে আছে। বোনের কান্না সে দেখল না।

ঘণ্টাখানেক আগে বর্ণা ঘুমন্ত তাযীমকে আভিরার কাছে দিয়ে গিয়েছে। ভাইকে পেয়ে যেন মেয়েটা প্রাণ ফিরে পেল।
হাত বাড়িয়ে কাঁপা হাতে কপালের ব্যান্ডেজ করা জায়গাটা ছুঁয়ে দিল, সন্তর্পণে চুমু আঁকল। কয়েক পল ভাইয়ের ঘুমন্ত মুখের দিকে চেয়ে ফুঁপিয়ে উঠল মেয়েটা। তাযীম সেই যে আভিরার সাথে কথা বলা বন্ধ করেছে তারপর আর ধারের কাছেও যায়নি। আভিরা কত চেষ্টা করেছে কথা বলার। কিন্তু ছেলেটা বোনকে দেখলে গাল ফুলিয়ে দৌড়ে পালাত।

_

– কী শুরু করলি তোরা? বর্ণা তুইও। দেখ ওকে যেতে দে। আমরা অনেক ক্লান্ত। এখন ঝামেলা করিস না।

– ঝামেলা করছি না ভাইয়া, এইটা আমাদের প্রাপ্য। আর আমরাও ক্লান্ত। জার্নি করে কারোরই এনার্জি নেই। তবে যতই ক্লান্ত থাকি না কেন টাকার ভাগ ছাড়া যাবে না।

– তোমাদের প্রাপ্য হলো কী করে? মোহরানা দিয়ে বউ এনেছে ও। তোমাদের টাকা দিতে যাবে কেন?

– এত বুঝাতে পারব না। আমাদের টাকা দিতে হবে ব্যস। তা না হলে আমরা এখান থেকে এক পা ও নড়ব না। আর না কাউকে ভিতরে যেতে দেব। টাকা না দিলে কেউ ভিতরে যেতে পারবে না।

– এই বর্ণা এদের নিয়ে এখান থেকে যা। মেজাজ খারাপ করবি না।

– আমাদের টাকা দিয়ে দে সরে যাচ্ছি। দেখ বেশি দাবি নেই। পঞ্চাশ ছাড়, ওকে যেতে দেব।

– পঞ্চাশ হাজার বললেই দিয়ে দিব। এক টাকাও দিব না।
যাহ দেখি তোরা কতক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারিস।

– টাকা না পাওয়া অবধি পথ ছাড়ব না।

– মাহাদ তর্ক করিস না। ওদের পাওনা মিটিয়ে দে। ভিতরে যাব।

– ভাইয়ার দেখি রুমে যাওয়ার খুব তাড়া।

বলেই বুশরা মুখ চেপে হাসল। ওর কথায় সকলে হো হো করে হেসে ওঠে।

_

নাওয়াজ রুমে আসতে চোখ পড়ল ঘুমন্ত আভিরার দিকে। মেয়েটা বালিশে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে ঘুমিয়ে আছে। এক হাত তার পেটের উপর আর অন্য হাত ভাইয়ের উপরে।
বাইরের চেঁচামেচিতে মেয়েটার ঘুম ভাঙেনি। অবশ্য তেমন চেঁচামেচিও হয়নি যাতে কারো ঘুম ভেঙে যাবে। কতক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে সাড়া। কখন ঘুমিয়েছে কে জানে।

নাওয়াজ এসে মায়ের রুমে গিয়ে গোসল সেরে নিয়েছে। যেহেতু এ রুমে তার বউ আছে তাই তার এ কক্ষে প্রবেশ নিষেধ একপ্রকার। সকলের আবদার মিটিয়ে তবেই সে এ ঘরে ঢুকতে পারবে। তার আগে নয়। হলোও তাই। নাওয়াজ ভাবছে আভিরাকে ডাকবে কিনা। পরে ভাবল থাক ঘুমাচ্ছে, ঘুমাক। যেহেতু ঘুমিয়ে গিয়েছে তাই আর ডাকার দরকার নেই। তবে যেভাবে ঘুমিয়ে আছে উঠার পর ঘাড় ব্যথা করার সম্ভাবনা আছে। সে কি ডেকে বলবে এভাবে না ঘুমিয়ে ঠিকভাবে শুয়ে ঘুমান। দরজায় কড়াঘাতে নাওয়াজ থামে।

– এই নাওয়াজ দরজা খোল।

নাওয়াজ দরজা খুলতে মাহাদ হালকা মাথা ঢুকিয়ে বলল,
– এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে? কী করছিলি, বাসর?

মাহাদের চোখ মুখে দুষ্টু হাসি। নাওয়াজ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
– হুম।

– ছিঃ! নাওয়াজ। বিয়ে করতে না করতেই তোর এত অধঃপতন হলো। তোর রুমে না একটা বাচ্চা ছেলে আছে ভুলে গেলি। ওর সামনে, ছিঃ! ছিঃ! একটু অপেক্ষা করতে পারলি না। আমাকে একটা মেসেজ দিলেই হতো। নয়তো একটা মিসড কল। আমি এসে ছেলেটাকে নিয়ে যেতাম।

নাওয়াজ বিরক্ত হয়ে বলল,
– বাজে বকিস না। কি জন্য এখানে আসা সেটা বল।

মাহাদ দুঃখী দুঃখী ভঙ্গিমায় বলল,
– এখন কোনো কাজ ছাড়া তোর কাছে আসতেও পারব না।

– বিশ্বাস কর তোর এসব বাজে কথা এখন মোটেও শুনতে ইচ্ছে করছে না।

– বাজে কথা বলছি?

– কী বলবি বল? নয়তো এখন যা।

– আরে রেগে যাচ্ছিস কেন? কথা আছে।

– রাগছি না, বল আমি শুনছি।

– তাযীমকে দে? তোর বউ কই?

– ঘুমে।

– ঘুমে মানে?

– মানে সে ঘুমাচ্ছে।

– কখন ঘুমিয়েছে?

মাহাদের চোয়াল ঝুলে গেল। বাসর রাতে বউ ঘুমিয়ে গেছে আর বর তা শান্ত স্বরে বলে যাচ্ছে। সে হলে তো পাগল হয়ে যেত। এ অবস্থায় শান্ত থাকা শুধু নাওয়াজের পক্ষেই সম্ভব।

– জানি না। এসে দেখি ঘুমে।

– ডাকিসনি?

– না।

– ডাকবি না। তুই না পারলে বল বর্ণাকে বলি এসে যেন ডেকে তুলে দেয়।

– লাগবে না।

মাহাদ ফিসফিস করে বলল,
– লাগবে না মানে, তাহলে তোদের বাসর। ব্যাটা বাসর করবি না?

নাওয়াজ সামান্য গম্ভীর স্বরে বলল,
– না।

– বাসর রাত আর তুই বলছিস বাসর করবি না। ধূর বর্ণা আরও আমায় ঠেলেঠুলে পাঠাল যাতে তাযীমকে নিয়ে যাই।

– তুই ওকে নিতে এসেছিস?

– হুম।

– ও এখানেই থাকবে, যা এখন।

বলেই মাহাদের মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিল।

– এই জন্যই যেচে পড়ে কারো ভালো করতে নেই। আজকাল উপকারের কোনো দাম নেই। শালা মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিলি। তোকে অভিশাপ দিলাম, আজ কেন ইহজনমেও তোর বাসর হবে না।

ভিতর থেকে কোনো জবাব এলো না। মাহাদ রাগে ফুঁসছে। কত বড়ো নিমোহারাম হলে এমন করতে পারে।

_

আভিরার গায়ে সুতি শাড়ি। আসার পর বর্ণা বেনারসি খুলে সুতির শাড়ি পরিয়ে দিয়ে গিয়েছে। নাওয়াজই বলেছিল যাতে আভিরার বেনারসিটা পাল্টে দেয়। মেয়েটা এমনি আসার সময় বমি করেছে। তার উপর এতটা পথ জার্নি করে বেনারসি পরে থাকতে অসুবিধা হবে।

আভিরা কেমন গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। শীত করছে না কি? নাওয়াজ আলমারি থেকে কাঁথা বের করে সাবধানে আভিরার গায়ে জড়িয়ে দিল। তবুও অসাবধানতাবশত ছোঁয়া লেগে যায়। ঘাড়ে কারো স্পর্শ পেয়ে আভিরা ধড়ফড়িয়ে উঠল।

– আমি, ভয় পাবেন না।

– ভয় পাইনি। আসলে হঠাৎ স্পর্শ পেয়ে…

– বুঝেছি। বালিশটা ঠিক করে পরে ঘুমান। ঠিকভাবে শুবেন না। এমনভাবে শুয়েছেন, পরে তো ঘাড় ব্যথা করবে। নিন শুয়ে পড়ুন।

নাওয়াজের কথায় আভিরা লজ্জা পেল। সে নিজের কাজে ভীষণ লজ্জিত। তাকে বলা হয়েছে যতই রাত হোক না কেন সে যেন জেগে থেকে নাওয়াজের জন্য অপেক্ষা করে। আর সে কিনা ঘুমিয়ে পড়েছিল।

আভিরা তড়িঘড়ি করে বলল,
– না না, ঘুমাব না। আসলে কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিল বুঝতে পারিনি। আমি দুঃখিত!

– দুঃখিত বলার মতো কিছু হয়নি। রাত তো আর কম হয়নি। সারাদিন কত ধকল গেল, ঘুম আসবে এটাই স্বাভাবিক।
আর দুঃখিত তো আমার বলা উচিত।

– কেন?
অবাক হয়ে জানতে চাইল আভিরা।

– আপনার ঘুম ভাঙিয়ে দিলাম যে। যাইহোক ঘুম ভেঙে ভালোই হলো। যান অজু করে আসুন। নামাজ আদায় করব।

আভিরা উঠে দাঁড়ায়। নাওয়াজের দিকে ঝুঁকতে ও দু কদম পিছিয়ে গেল। কড়া গলায় বলল,
– পায়ে হাত দিচ্ছেন কেন? আপনাকে অজু করতে বলা হয়েছে, পায়ে হাত দিতে নয়।

আভিরা মাথার ঘোমটা টেনে বলল,
– নানি বলেছিল আপনার পা ছুঁয়ে যেন…

– সালাম করতে তাই তো?

নাওয়াজের গম্ভীর কণ্ঠ। এমন গম্ভীরভাবে বলার কী আছে। সে ভুল কিছু করেছে না কি?
আভিরা বুঝে উঠতে পারল না। প্রথম রাতে স্বামীর পা ছুঁয়ে সালাম করতে হয়। সে তো এমনটাই জানে। তাছাড়া তার নানি বারবার বলে দিয়েছে সে যেন নাওয়াজের পা ছুঁয়ে সালাম করতে না ভুলে।

– একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি আমার অর্ধাঙ্গী। অর্ধাঙ্গীর মানে বুঝেন তো? আমার অর্ধেক অংশ, মানে দাঁড়াল সমানে সমান। আপনার কাজ ঝুঁকে আমার পা ছুঁয়ে সালাম করা নয়। বরং মাথা উঁচু করে আমার পাশাপাশি চলা। আগে পিছনে নয়। আমার পায়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বদা আমার সাথে। মুখে সালাম দিবেন। আর কখনো পা ছুঁতে যাবেন না। মনে থাকবে?

– জি।

– যান অজু করে আসুন।

নাওয়াজ আর আভিরা একসাথে দু রাকাত সালাত আদায় করে নিল। বিবাহ পরবর্তী প্রথম রাতে প্রতিটি স্বামী স্ত্রীর একসাথে খোদার কাছে শুকরিয়া আদায় করে দু রাকাত সালাত আদায় করা উত্তম। তাদের দাম্পত্য জীবন যেন একে অপরের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে সে উদ্দেশ্যে।

– খেয়েছেন?

– না। আসলে বর্ণা আপু তখন খাবার দিয়ে বলে গিয়েছিল আমি যেন খেয়ে নেই। কিন্তু তার আগেই ঘুমিয়ে গেলাম।

– আচ্ছা, সমস্যা নেই। এখন একসঙ্গে খাওয়া যাবে।আমারও খাওয়া হয়নি।

আভিরা ঘড়ির দিকে তাকাল, আড়াইটা বাজতে চলেছে।

– আপনি এখনও না খেয়ে আছেন?

– হুম।

– এখন বাহিরে যাব?

– না। ঘরে খাবার নিয়ে আসছি। একটু অপেক্ষা করুন।

– আমি যাব সাথে?

– না। আপনি রুমে থাকুন। আমি নিয়ে আসছি। আপনার খাবারটাও বোধ হয় ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। দিন গরম করে নিয়ে আসব।

– আমি যাই, আপনি গরম করবেন কেন।

– আপনি পারবেন?

আভিরা মাথা নামিয়ে বলল,
– আমি খাবার গরম করতে পারি।

– আপনারটা ওভেনে দিয়ে আমারটা বেড়ে নিয়ে আসব। জাস্ট দু মিনিট লাগবে। এর জন্য আপনাকে রান্নাঘরে যেতে হবে না। তাযীমের সাথে থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here