#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৩৩
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
আজকাল আভিরার কোনোকিছু ভালো লাগে না। সারাক্ষণ শুয়ে, বসে থাকতে কারই বা ভালো লাগবে। বাবার বাড়ি থেকে এসেছে প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে যাবে। লোকটা তাকে বাড়ির সামনে নামিয়েই হসপিটালে ছুটে ছিল সেদিন। ফিরেছিল গভীর রাতে। আভিরা তখন ঘুমে। টের পেল না লোকটা কখন এসে তার পাশে শুয়েছে। শক্তপোক্ত দু হাতে সাপের ন্যায় পেঁচিয়ে ধরে ছিল তার গুটিয়ে রাখা গা। কোমর চেপে একেবারে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়েছিল ঘুমন্ত রমণীকে। তার ঘুমের সুযোগ নিয়ে পুরুষটা কেমন অসভ্যের ন্যায় ছুঁয়ে ছিল তাকে, তার ঠোঁটে তপ্ত ছোঁয়া এঁকে দিচ্ছিল। শরীরের ভাঁজে ভাঁজে কেমন বেহায়া দৃষ্টি ফেলে পরখ করছিল। মেয়েটা জেগে থেকে এমন দৃষ্টি দেখলে নিশ্চয় কুণ্ঠায় অসাড় হয়ে যেত, মরে যেতে ইচ্ছে করত তৎক্ষণাৎ। কিন্তু তার কিছুই দেখা হলো না, জানা হলো না।
সকালে ঘুম ভাঙতে দেখল নাওয়াজ তার পাশে শুয়ে আছে।
উঠে মেয়েটা ফ্রেশ হয়ে নিচে যায়। নিচে যেতেই দেখল লাবণ্য টেবিলে নাস্তা রাখছে। ইয়াজমীন উঠেনি বোধহয়।তাকে দেখেও লাবণ্য ভালো মন্দ কিছু জিজ্ঞেস করল না।
আভিরাও কিছু বলেনি। শুধু ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। দেখছিল লাবণ্য কেমন গভীর মনোনিবেশে কাজ করে যাচ্ছে।
তারপর এই আজ ছয়টা দিন আভিরার বসে বসে কাটছে।
কোনো কাজ নেই। নাওয়াজের জামাকাপড় ধুয়ে দিবে ভেবে রাখলেও তা করার সুযোগ অবধি পায়নি। শুধু এ জামাকাপড় ধোয়া কেন, রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ঘরের কোনো কাজেই হাত লাগাতে পারে না সে। সব কাজ লাবণ্য নিজ দায়িত্বে করে।
সেই ভোর সকালে লাবণ্য উঠবে। উঠেই বিছানা গুছিয়ে, ঘর দোর ঝাড়ু দিবে মেয়েটা। তারপর নাস্তা বানানোর কাজে হাত লাগায়। আভিরা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে দেখবে টেবিলে নাস্তা সাজানো। মেয়েটা গিয়ে চুপচাপ শুধু গিলে, কোনো আগ্রহ দেখা যায় না তার মধ্যে। আভিরা পারলে এ খাবার না ছুঁয়ে থাকে। তবে সে এমনটা কোনোকালে করতে পারবে না। এত উদ্ধত আচরণ করার সাহস তার নেই।
দুপুরের রান্নাও লাবণ্যই করে। সে না হয় রান্না জানে না। কিন্তু টুকটাক সাহায্য করতে তো ঠিকই পারে। সে কাজটাও করতে দেওয়া হয় না তাকে। সেজন্য মেয়েটা দুপুর সময়েও পড়ে পড়ে ঘুমাবে। বিকেলে উঠে খিদে লাগলে খাবার মুখে দিবে। নয়তো বেরিয়ে যায়। খালি পায়ে একা একাই হেঁটে বেড়ায় বাড়ির আশপাশ। ইয়াজমীন এই বিকেল সময়টা বেশিরভাগ মাহাদদের বাড়িতে থাকে। আভিরাকেও বলে সাথে যেতে। কিন্তু মেয়েটা যায় না। ইয়াজমীনও আভিরার মতো অলস সময় কাটায়। তাকে তো আগে থেকেই হাত লাগাতে দেওয়া হতো না, এখন আভিরাকেও লাগাতে হয় না। ইয়াজমীনের না হয় এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে সময় কেটে যায়। তবে আভিরার একপ্রকার ঘর বন্দি হয়ে থাকতে হয়।
মেয়েটা ঐ বাড়ির আঙিনা ডিঙিয়ে বাইরে কোথাও যায় না। তার যাওয়া বলতে বাড়ির সামনে থাকা ঐ আঙিনা।
সারা বাড়িতে এই তিন জন মানুষ। আভিরার কেমন একা একা লাগে, সময় কাটতে চায় না একেবারে। যদিও শাশুড়ি মা সময় পেলেই তার ঘরে আসে। বউ শাশুড়ি মিলে কয়েক ঘণ্টা আড্ডাও দেয়। তবে তাদের সাথে বসে লাবণ্য কখনো খোশ গল্পে মাতে না। মেয়েটা সারাদিন কাজের উপরে থাকবে। আর কাজ না থাকলে ঘরের দরজা আটকে বসে থাকে। আভিরা লাবণ্যর এমন তাকে এড়িয়ে চলার কারণ কী তা নিয়ে খুব একটা ভাবতে যায় না। আভিরার মনে হয় সে এ নিয়ে ভাবতে গেলেই এমন কিছু বেরিয়ে আসবে যা তার সহ্য হবে না। সেজন্যই লাবণ্য যেমন দূরত্ব রেখে চলে আভিরাও তেমনভাবেই থাকে, থাকতে দেয়। এই যে লাবণ্য নাওয়াজের কাজগুলো খুব অধিকার নিয়ে করে। লোকটা খাবার খেতে বসলে লাবণ্য ঠায় নাওয়াজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে, আগ বাড়িয়ে প্লেটে এটা ওটা তুলে দিবে। রোজ নাওয়াজের পছন্দের রান্না করা হবে। লাবণ্যই করবে সব। এসব কোনোকিছুই মেয়েটার নজর এড়ায় না। তবুও লাবণ্য কেন এমন করে আভিরার জানতে ইচ্ছে করে না, আগ্রহ দেখায় না কোনো। বিষণ্ণ মনে মেয়েটা সবকিছু দেখে যাবে। চেয়েও কিছু করতে পারে না। নিজের ভিতরের সবকিছু চাপা পড়ে সেই পড়ন্ত বিকেলে ঝড়ে পড়া পাতার ন্যায়।
সন্ধ্যা হলে একটু বই ঘেঁটেই শুয়ে পড়বে আভিরা। রাতের খাবারও ঠিকমতো খাওয়া হয় না তার। এই খাবারের বেলায় মেয়েটা বেশ অনিয়ম করে বেড়ায়। বাচ্চাদের মতো পাতে দু মুঠো ভাত নিবে। সেটাও পুরোপুরি শেষ করে উঠে না।
ইয়াজমীন জোর করলেও সে গাঁইগুঁই করবে। নাওয়াজ এসবের কিছুই জানে না। ইয়াজমীন চেয়েও ছেলেকে এ বিষয়ে বলতে পারে না। মেয়েটা বলতে দেয় না। আর লাবণ্য তো সব দেখেও অদেখা করে চলে। সেজন্য সারাদিন বাইরে পড়ে থাকা ছেলেটার আর বাড়ির ভিতরে ঘটে যাওয়া ঘটনা জানা হয় না। জানা হয় না তার দুদিনের বউ নিজের প্রতি কী অবহেলায় না করে বেড়ায়।
_
সংসারটাকে নিজের মনে করলে তার দায়িত্ব সহজে অন্য কাউকে দিতে ইচ্ছে করে না। বিয়ে হতেই আভিরা নিজের মাঝে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করছে। সারাক্ষণ তার মনের ভিতরে ঘুরপাক খায় এইটা তার সংসার, তার নিজের। হঠাৎ করেই কেমন সাংসারিক হতে সাধ জাগে, খুঁজে খুঁজে ঘরের সব কাজ করতে মন চায়। আভিরার ইচ্ছে করে লোকটার জন্য কিছু রাঁধতে। আগ্রহ নিয়ে দেখতে তার করা রান্না এ লোকের কেমন লাগে। প্রতিটা কাজ নিজ দায়িত্বে করতে ইচ্ছে করে। সে হিসেবে তার কাঁধে রাজ্যের কাজ। আর তাকে কিনা সারাক্ষণ হাত গুটিয়ে থাকতে হয়।
এই যে ঘরের সব কাজ লাবণ্য করে। এমনভাবে করে যেন এ সংসার তারই। আভিরার কোনো জায়গা নেই এখানে। লোকটাকে তো সে পেয়ে গেছে। কিন্তু এ লোকের কাজকর্মে আদৌ তার অধিকার নেই। তার স্বামী, তার সংসার। অথচ সংসারে একচ্ছত্র রাজত্ব করে বেড়ায় ঐ একজন। এখন তো এ সংসারের দায়িত্বভার তার গ্রহণ করার কথা। তবে সে মানুষটা নিজের দায়িত্ব থেকে পিছু হটে যাচ্ছে না কেন? কীসের দায়ে আভিরার জানা নেই। আভিরার মনে হয়, সে যেন একটা উচ্ছিষ্টাংশ কেবল। জড়বস্তুর ন্যায় পড়ে আছে। কোনোকিছুতে তার কোনো ভূমিকা নেই। আদৌতেও এ সংসারে তার দরকার আছে কী না সে প্রশ্নও জাগে!
–
আভিরার লাল হয়ে যাওয়া হাত দুটো নাওয়াজ নিজের মুঠোয় নিয়ে সন্তর্পণে চুমু খেল। হাতে ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ লাগাতে লাগাতে বলল,
– এসব কেন করতে গেলেন?
আভিরা মুখ ভার করে বসে আছে। লাবণ্য আজ বাড়ি নেই।ইয়াজমীনের সাথে বেরিয়েছে। নাওয়াজের ময়লা হয়ে থাকা পাঁচ পাঁচটা শার্ট কাচতে বসেছিল আভিরা। কিন্তু হাতের এই দশা হবে কে জানত।
আভিরা আগে কখনো কাপড় ধোয়নি। একবার নিজের জামা ধুয়ে ছিল। আনেসা বকতে বকতে তার ধোয়া কাপড় পুনরায় ধুয়ে দেয়। তার ধোয়াতে নাকি পরিষ্কার হয়নি। নাওয়াজের কাপড়ও ভয়ে ভয়ে কাচতে বসেছিল। না জানি ভালো মতন পরিষ্কার না হয়, ময়লা না লেগে থাকে। লোকটা না দেখে আবার রেগে যায়। তবে কাজ করতে গিয়ে বুঝল তার দ্বারা এসব ধোয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ভিজিয়ে রেখেছে অনেকক্ষণ হবে। এভাবে তো আর ফেলে রাখা যায় না। তাই অত না ভেবে কাচতে বসে গেল। অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট দিয়েছিল। আবার সেইটা হাতের সাহায্যে নেড়ে হালকা কুসুম গরম পানির সাথে গুলিয়েছে। শার্টের কলারে লেগে থাকা ময়লাও বহু কষ্টে হাতের সাহায্যে পরিষ্কার করেছে। অথচ ব্রাশ ব্যবহার করলেই তার কাজ সহজ হয়ে যেত। এত ঘষা মাজায় হাতের করুণ হাল হতো না। হাতের তালু, উল্টো পিঠ অনেক অংশে ছিলেছে। কেবল তার বোকামির কারণে।
– কী হলো কিছু বলছেন না কেন? আমি জানতে চেয়েছি। এসব কেন করতে গেলেন?
আভিরা মাথা নিচু করে রইল। কিছু বলল না। আভিরাকে এমন থম মেরে বসে থাকতে দেখে নাওয়াজ কিছুটা নরম স্বরে বলল,
– এখনই সংসারের দায়িত্বভার আপনার নিতে হবে কেন?
এ সংসার তো আপনার। সময় তো আর চলে যাচ্ছে না।
এসবে আপনি অভ্যস্ত নন। হুট করে এত দায়িত্ব সামলে চলতে পারবেন না। মা, লাবণ্য আছে কাজ করার জন্য।
ওদের দেখে আপাতত কাজগুলো আয়ত্তে আনতে পারেন।
এর বেশি কিছু করার চেষ্টা করবেন না। আর এতগুলো বছর তো সব লাবণ্যই করে এসেছে। আর কটা দিনই বা।
এই কয়েক দিন লাবণ্যই না হয় আগের মতো সবটা করবে। সামনে আপনার এডমিশন। ঘরের বউ হতে গিয়ে সে কথা ভুলে গেলে চলবে না। এসবের জন্য পড়ালেখায় গাফিলতি করা আমি একদম মেনে নিব না।
আভিরার কিছুটা মন খারাপ হলো। ও তো এ লোকের বউ। আগে পরে সব কাজ তো তাকেই করতে হবে। এখন থেকে করতে সমস্যা কী।
হঠাৎ নাওয়াজ কিছুটা রুক্ষ স্বরে জিজ্ঞেস করল,
– দুপুরে খাওয়া হয়েছে?
– না।
– কারণ জানতে পারি কী?
আভিরার কান্না এলো। কেমন করে কথা বলছে দেখো।
মনে হয় এ লোকের কাপড় ধুয়ে সে বিশাল অপরাধ করে ফেলেছে। থেমে থেমে বলল,
– ঘুমিয়ে ছিলাম।
– না খেয়ে ঘুমিয়ে থেকে খুব ভালো কাজ করেছেন দেখছি।
আভিরা আর কিছু বলল না। শুধু চেয়ে দেখল নাওয়াজের বেরিয়ে যাওয়া। খানিক বাদে নাওয়াজ প্লেটে এক গাদা ভাত আর গ্লাস ভর্তি পানি নিয়ে আসে। এত ভাত দেখে আভিরার গা গুলিয়ে এলো যেন। তার একটুও খেতে ইচ্ছে করছে না। কিছুক্ষণ আড়চোখে নাওয়াজের দিকে চেয়ে রইল। এ লোক তার দিকে চোখ ঘুরিয়ে দেখলে তো। নাওয়াজ ভাত মাখিয়ে তুলে ধরতেই আভিরা হা করে। দুজনের কেউই কোনো কথা বলে না। লোকটা একের পর এক লোকমা তুলে ধরছে আর মেয়েটা গিলছে। হঠাৎ করেই আভিরা কেশে ওঠে। গলায় খাবার আটকেছে তার। নাওয়াজ তপ্ত শ্বাস ফেলে গ্লাস ধরে মুখের সামনে। ক্ষীণ স্বরে বলল,
– কেন যে এত জ্বালাতন করেন। ছোটো বাচ্চা না তো আপনি।
আভিরার চোখে পানি চলে এসেছে। টলটলে জল ভরা চোখে চাইল কঠিন মানবের পানে, সেও তার দিকেই তাকিয়ে। এই চাহনি বুঝে উঠার সাধ্য বোধহয় হয়নি তার। সেজন্যই তো কঠোর পুরুষের মনোভাব ঠাহর করতে ব্যর্থ হলো অষ্টাদশী কন্যা।
_
নাওয়াজ দু হাতে রেলিং ধরে নিকষ কালো আঁধারে ডুবে থাকা আকাশ দেখে চলেছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশ থেকে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে রুমে ঘুমিয়ে থাকা রমণীকে শান্ত দৃষ্টিতে পরখ করে নিল। কী নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে দেখো। আর এদিকে তার ঘুম হারাম হওয়ার উপক্রম। অবান্তর সব চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে তার মাথায়। সেদিন তোফায়েল আহমেদের বলা কথায় যেন কেমন মিলে যাচ্ছে। মেয়েটার মন সংসারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। নয়তো এ মেয়ে কোন কারণে এসব করতে যাবে। মা, লাবণ্য বাড়ি নেই। সেই সুযোগে মেয়েটা তার জামাকাপড় ধুয়ে দিয়েছে।
কত বড়ো বেয়াদব হলে এমন করে। নাওয়াজের তখন ইচ্ছে করছিল এই মেয়েকে ঠাঁটিয়ে একটা থাপ্পড় মারতে। বিয়ে হতে না হতেই গিন্নিপনা দেখাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। হাতের কী অবস্থা করেছে বউ গিরি দেখাতে গিয়ে। তারই ভুল হয়েছে। বেশি লাই পেয়ে এমন করছে। নয়তো সামনে পরীক্ষা। কই দিন রাত এক করে পড়বে, তা না করে এসব করে বেড়ায়। নাওয়াজ ওর গিন্নিপনা বের করবে। দুইটা থাপ্পড় খেলেই এ মেয়ের সংসার করার সাধ একেবারে মিটে যাবে।
অন্যদিন রাত করে এলেও আজ বিকেলেই ফিরেছিল। ইয়াজমীন বের হওয়ার আগে তাকে কল দিয়ে জানিয়ে ছিল লাবণ্যকে নিয়ে যে বের হবে। আভিরা একা থাকবে বাড়িতে, নাওয়াজ যেন একটু তাড়াতাড়িই ফিরে। তাড়াতাড়ি বললেই তো ফেরা যায় না। তার কাজটা তো আর পাঁচটা কাজের মতো না যে কাজ রেখে যখন ইচ্ছে বেরিয়ে যাওয়া যাবে। পেশেন্ট দেখে বের হতে হতে বিকেল হয়েছিল। বাড়ি ফিরেই দেখল মেয়েটা কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে, খাটের উপরে ভাঁজ করা কয়েকটা শার্ট রাখা। নাওয়াজ কিছুটা অবাক হয়েছিল প্রথমে। তার জানা মতে লাবণ্য আজ ভার্সিটি গিয়েছিল। ইয়াজমীন সেখান থেকেই লাবণ্যকে নিয়ে গিয়েছে। লাবণ্যর আর বাড়ি ফেরা হয়নি। তাহলে তার শার্ট কে ধুয়ে দিয়েছে?
এমন প্রশ্ন মাথায় আসতেই নাওয়াজ বুঝে ছিল এই কাজ কার। মেয়েটার কাজে তার মেজাজ বিগড়ে গেলেও তখন আর কিছু বলেনি। তবে এভাবে ছেড়ে দিলেও হবে না। সে চায় না তার প্রতি আসক্ত হতে গিয়ে মেয়েটা নিজের দিন দুনিয়া ভুলে যাক। জীবনে তার বহু দূর যেতে হবে। এখনই পথভ্রষ্ট হলে চলবে না। স্বামী, সংসার এসব ভাবতে গিয়ে মেয়েটা সব ভুলতে বসেছে। নাওয়াজ এমনটা কোনোকালেই হতে দিবে না। সে তার দায়িত্বে অবহেলা করেছে এমন আরোপও নিজের বিরুদ্ধে উঠতে দিবে না। সে তো জানে মেয়েকে নিয়ে তোফায়েল আহমেদের কত স্বপ্ন। এসব মোহ মায়ার খপ্পরে পড়ে, শুধুমাত্র তার কারণেই মেয়েটা বাবার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখে দিবে। নাওয়াজ এমনটা হতে দেয় কেমন করে?

