#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৫৫
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
একের পর এক সিগারেট শেষ করে পায়ে পিষে আগুন নেভায়। ভিতরে অস্থিরতা প্রবাহমান। মেয়েটা কল কেন ধরছে না। কোনো বিপদ হয়নি তো আবার। বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে কপালে হাত রেখে শুয়ে পড়ল। কপালের শিরা দৃশ্যমান, ব্যথায় টনটন করছে। চোখ মুখ কুঁচকে টানটান হয়ে শুয়ে রইল।
মাত্রই বিছানায় শুয়েছে জ্যোতি। ফোন হাতে নিতেই আঁতকে উঠল, ২৫+ মিসড কল। তড়িঘড়ি করে ডায়াল লিস্টে থাকা নাম্বারে কল করল। সাথে সাথেই রিসিভ হয়। মানুষটা ঘুমায়নি তবে। রাত তো কম হলো না। এত রাত অবধি না ঘুমিয়ে কী করছে।
– হ্যালো, শুনছেন?
কোনো জবাব এলো না অপর প্রান্ত থেকে। জ্যোতি কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,
– সরি, ফোন সাইলেন্ট করা ছিল। আমি বুঝতে পারিনি একেবারে।
এবারও সাড়া নেই। শুধু ভারী নিঃশ্বাসের শব্দের তোড়। এমন নীরবতায় জ্যোতির বুক ভার হয়ে আসে, চোখ গলিয়ে পড়ে নোনাজল। মেয়েটা মুখে হাত চেপে ফুঁপিয়ে উঠল। তার কান্নার শব্দ যেন ঐ প্রান্তে নীরব হয়ে থাকা লোকটার কর্ণকুহরে পৌঁছাল সবেগে।
– কথা বলুন প্লিজ। আর এমন হবে না। আমি ইচ্ছে করে এমন করিনি।
সাড়া শব্দ নেই কোনো। টুট টুট শব্দ করে কল কেটে গেল।জ্যোতি অসহায় চোখে তাকিয়ে রইল ফোনের দিকে। কল কেটে দিল কেন? সে তো ইচ্ছে করে এমন করেনি। অনুষ্ঠান বাড়িতে কী কাজের শেষ আছে, ঘোরাঘুরি করে ফিরেছে সন্ধ্যা নাগাদ। ফিরতেই দেখল বাড়ির সব মহিলারা কাজে ব্যস্ত। বাসন কোসন ধোয়াধুয়ি, ঘর গোছগাছ আবার রাতের রান্নার প্রস্তুতি চলছে। সবাই কাজ করছে। সেখানে সে হাত না লাগালে কেমন দেখায়। যদিও সকলে নিষেধ করেছিল, বলেছিল তাকে কাজ করতে হবে না। কিন্তু জ্যোতি বারণ শুনেনি। নিজ উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করেছে। সব শেষ করতে করতে রাত হয়ে গেল। খেয়ে কিছুক্ষণ আগে রুমে এসেছে সে। ফোন হাতে নিতেই দেখল মানুষটা এতগুলো কল দিয়ে রেখেছে। জ্যোতি চাপা কান্নায় ভেঙে পড়ে। বরাবরের মতো তার কান্নায় শব্দ হয় না, নিঃশব্দে কাঁদতে লাগল সে। সেই যে বিকেলে একটু কথা হয়েছিল, তারপর আর কথা হয়নি। দোষ তারই, বলে রাখা উচিত ছিল সে ব্যস্ত থাকবে। তাহলে তার চিন্তায় মানুষটা অস্থির হতো না। অনুশোচনায় জ্যোতির চিত্ত দগ্ধ হয়। শরীর গুটিয়ে চোখ বুজে সে।
_
– কোথায় যাচ্ছ লাবণ্য?
মাহাদের ডাকে লাবণ্য সামনে তাকায়। মাহাদের নজরে পড়ল লাবণ্যর ফোলা ফোলা চোখ, চুলগুলো কিছুটা এলোমেলোভাবে ললাটে অবস্থান করছে, হালকা তেল চিটচিটে আনন। ঘুমের রেশ এখনও কাটেনি, চোখে বুজে আসছে বারবার। মেয়েটা ঠিকঠাক দাঁড়াতেও পারছে না। সদ্য ঘুম থেকে উঠে এসেছে বোধহয়।
– এমনি হাঁটতে বের হয়েছি।
– একা বের হয়েছ কেন? এই এলাকায় কিছু চিনো তুমি?
– একা বের না হলে কাকে নিয়ে বের হব?
মাহাদ কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইল লাবণ্যর দিকে। লাবণ্যও চাইল। তবে তার চোখের চাহনিতে তীক্ষ্ণতা নেই। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানবকে দেখল। মাহাদের চোখে মুখে ক্লান্তিভাব। পরনের শার্ট কেমন কুঁচকে রয়েছে। চোখ দুটোতে খানিকটা লালচে আভা। লাবণ্য ভেবে পেল না এই সাত সকালে মাহাদ কোথা থেকে ফিরল।
– তুমি কী কোথাও গিয়েছিলে মাহাদ ভাই?
কাল দুপুরের খাবার খেয়ে বেরিয়ে ছিল সে। বাড়ির সকলে জানে তার হসপিটালে যাওয়ার কথা। আর এ মেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করছে সে কোথাও গিয়েছিল কিনা। মেয়েটা কি দেখেনি কাল থেকে যে সে বাড়ি নেই। অবশ্য লাবণ্যর থেকে এমনটা আশা রাখা বেমানান। এই মেয়ের এসবে খেয়াল থাকলে তো। সে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। পুরো পনেরো ঘণ্টা ধরে কেউ বাড়িতে নেই। সেই খোঁজ নেওয়ার দায় কি তার আছে।
– হসপিটালে ছিলাম।
– ওহ্।
– হ্যাঁ। এখন চলো আমার সাথে।
– তোমার সাথে যাব মানে?
লাবণ্য কপাল কুঁচকে চায়।
– এদিকের কিছু চিনবে না। রাস্তা গুলিয়ে ফেলবে।
– রাস্তা গুলিয়ে ফেলব না। ধারের কাছেই যাব।
মাহাদের চোখের চাহনি স্থির হলো লাবণ্যর মুখপানে। এক দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে থমথমে গলায় জিজ্ঞেস করল,
– আমি সাথে গেলে সমস্যা হবে?
লাবণ্য এমন দরাজ কণ্ঠে থতমত খেল। কিছুটা রয়েসয়ে বলল,
– সমস্যা হবে কেন।
– তাহলে চলো।
লাবণ্য কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ মাহাদের সাথে বের হলো। বাড়ির গেট পেরিয়ে রাস্তায় পা রাখে। মুহূর্তেই লাবণ্যর শুভ্র পা যুগল ডুবে গেল খালের পানিতে। অত বেশি পানি উঠেনি এবার। অন্যবার পানি উঠে রাস্তা প্রায় তলিয়ে যায়। তবে বছর বছর এমন পানি বাড়ে না। কয়েক বছর বাদে বাদে এমন পানি বাড়তে দেখা যায়।
– সাঁকোতে উঠবে?
লাবণ্য দেখল পানিতে ডুবে থাকা আধ ভাঙা সাঁকো। পানিতে তলিয়ে গেছে সাঁকো, তবে বাঁশ দৃশ্যমান। পানিতে তলিয়ে গেলেও এপার থেকে ওপারে যাওয়া সম্ভব এই সাঁকো দিয়ে।
– না।
– কেন?
– আগে কখনো উঠিনি, পড়ে যাব।
লাবণ্যর এমন বাচ্চাদের মতো করে বলা কথায় মাহাদ হেসে উঠল। মুখের হাসি বজায় রেখে বলল,
– পড়বে না, আমি আছি। এসো।
লাবণ্য গেল না। ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। আর কাজ নেই সাঁকোতে উঠবে। পানিতে তলিয়ে আছে। পা পিছলে পড়লে খালের পানিতে হাবুডুবু খেতে হবে। মাহাদ হঠাৎ মেয়েটার হাত আঁকড়ে ধরে। লাবণ্য হকচকায়। অবাক চোখে চাইল মাহাদের দিকে। মাহাদ লাবণ্যর দৃষ্টিকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে মেয়েটাকে নিয়ে পানিতে তলিয়ে থাকা বাঁশে পা রাখল। লাবণ্য চিল্লিয়ে উঠল,
– মাহাদ ভাই পড়ে যাব। এই সকাল সকাল খালের পানিতে হাবুডুবু খেতে চাই না।
মাহাদ এবার উচ্চস্বরে হেসে উঠল। শক্ত করে লাবণ্যর হাত চেপে বলল,
– পড়বে না। অযথা ভয় না পেয়ে সময়টাকে উপভোগ করো।
লাবণ্য হঠাৎ থমকে চায়। উপভোগ, তার জীবনে উপভোগ করার মতো কোনো মুহূর্ত আছে বলে তো মনে হয় না। এখন এই সামান্য সাঁকোয় চড়ার মুহূর্ত কী উপভোগ করবে। এইটা কি উপভোগ করার মতো কিছু।
– এইটা কী উপভোগ করার মতো বিষয়?
– কেন নয়? জীবনে ছোটো বড়ো সবকিছুই উপভোগ যোগ্য। অন্তত আমি এমনটাই মনে করি। এই প্রথম সাঁকোতে উঠেছ। ভিতরে ভিতরে অস্থিরতা কাজ করছে না?
– করছে।
– ভয়ের সাথে অস্থিরতা। এই অনুভূতি কিন্তু দারুণ। তুমি চাইলে এই ছোটো ছোটো বিষয়গুলোতে প্রফুল্লতা খুঁজে নিতে পারো।
_
বর্ণ জ্যোতির ফুলে থাকা চোখ দেখল। মেয়েটা কী কান্না করেছে। খাচ্ছেও না, মাথা নুইয়ে সমানতালে প্লেটের ভাত নেড়েচেড়ে যাচ্ছে। বর্ণ এক পলক জ্যোতিকে দেখে খাওয়ায় মনোযোগী হয়। এই মেয়ে কান্না করেছে না কী করেছে এসব দেখা তার কাজ নয়।
জিদানকে তড়িঘড়ি করে খাবার ছেড়ে উঠতে দেখে আনেসা বলল,
– খাবার রেখে উঠছিস কেন?
– একটু বের হব ফুফি।
– বের হবি মানে, খাবার শেষ করে ওঠ।
– না। ওরা এসে গিয়েছে।
– কারা এসেছে?
– আমার দুজন বন্ধু এসেছে শহর থেকে।
শহর থেকে বন্ধু এসেছে। এই কথা শুনে জ্যোতি কেশে উঠল। আনেসা তড়িঘড়ি করে পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়।
– তোর আবার কী হলো?
মেয়েটা আমতা আমতা করে বলল,
– আব্ কিছু হয়নি ফুফি।
ব্যাগ কাঁধে চশমা পরুয়া সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এক ছেলে কিছুটা দৌড়ে এলো। তাকে পিছনে রেখেই ওরা দুজন চলে এসেছে। ছেলেটা এতটুকু দৌড়ে এসেই হাঁপিয়ে গিয়েছে কেমন। দু হাঁটুতে হাত ভর দিয়ে শ্বাস ফেলছে। লম্বা চওড়া সুঠাম দেহের শ্যামবর্ণের পুরুষ একদম ড্রয়িংরুমের মাঝামাঝি এসে দাঁড়িয়েছে। জ্যোতির নজর আপাতত সেই পুরুষে আটকে। জ্যোতির দিকে তার চোখ পড়তেই মেয়েটা হাঁসফাঁস করতে লাগে।
– ফুফি ও শান্ত আর ও আব্দুল্লাহ। আমার বন্ধু ওরা।
– আচ্ছা, ওদের রুমে নিয়ে যা। এতটা পথ জার্নি করে এলো। ছেলেগুলো আসবে তুই আগে জানাবি না।
– আমি নিজেই জানতাম না। একটু আগে কল দিয়ে বলল, ওরা নাকি তোমাদের বাড়ি কোনটা বুঝে উঠতে পারছে না।
_
আঙিনায় গোল হয়ে বসেছে সকলে। মাঝে স্বল্প পরিসরে অগ্নি কুণ্ডলি জ্বলছে। নাকে মুখে ধোঁয়া যেতে কেশে উঠল সকলে।
– আগুন নিভল কী করে? ভালো করে ধরাসনি?
বর্ণা কাশতে কাশতে জবাব দিল।
– ধরিয়ে ছিলাম। নিভে যাবে কেন।
– সর, দেখতে দে।
মাহাদ পিছন থেকে মোটা দেখে কাঠ নিল। আগুনে পোড়া কাঠ দুটো টেনে বের করে বলল,
– এগুলো তো ভেজা মনে হচ্ছে। সেজন্য আগুন নিভে গিয়েছে। তুই ভালো দেখে শুকনো কাঠ আনবি না।
– ভেজা কাঠ হবে কেন, শুকনো কাঠই তো এনেছিলাম।
– কোনোভাবে পানি পড়েছিল না কি?
– হবে হয়তো।
– আচ্ছা, লাইটার দে।
বর্ণা লাইটার দিতেই মাহাদ আগুন ধরায়। মুহূর্তেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠল অগ্নি শিখা। মাহাদ বর্ণাকে বলল,
– সবকিছু রেডি?
– হ্যাঁ, মোটামুটি শেষ।
শান্ত হঠাৎ খিকখিক করে হেসে উঠল। ওর হাসি দেখে সকলে ওর দিকে চায়। ছেলেটা হাসতে হাসতে ঘাসে পা ভাঁজ করে বসে পড়ল।
– কী হয়েছে তোর? এমন পাগলের মতো হাসছিল কেন?
– ভাই আমার নিজেকে ছোটো বাচ্চা মনে হচ্ছে। লাইক সিরিয়াসলি এই বয়সে এসে আমরা বাচ্চাদের মতো জোলাপাতি খাব।
– তো কী হয়েছে?
– কিছু হয়নি বলছিস?
– হ্যাঁ। কিছু হয়নি। তুই দাঁত কেলানো বন্ধ কর।
– আচ্ছা করলাম। কিন্তু একটা কথা…
– কী কথা?
– ভাই শোন, আমি আর আব্দুল্লাহ তো তোদের মেহমান। আমরা তো সাথে করে কিছু নিয়ে আসেনি। আগে বললে আলু, পেঁয়াজ, তেল মশলা যা যা লাগত নিয়ে আসা যেত। এখন আমরা কিছু না দিলে জোলাপাতি খাওয়া হবে কী করে। একজনের বাড়ি থেকে ডিম, অন্যজনের বাড়ি থেকে তেল এসব কিছুই আনা হলো না।
– এসব নিয়ে তোর চিন্তা করতে হবে না। শুধু জেনে রাখ এমন একটা দুটো মিসকিন আমরা এমনিতেই খাওয়ায়।
শান্ত ফুঁসে উঠল। জিদান তাকে মিসকিন বলেছে। হাতের কাছে থাকা আলু ছুঁড়ে মারল জিদানের দিকে। একটুর জন্য জিদানের উপর পড়েনি। লক্ষ্যচ্যুত হওয়ায় শান্ত দাঁত কিড়মিড় করে ইচ্ছে মতো গালিগালাজ করতে থাকে জিদানকে। ওর কাণ্ডে সকলে হো হো করে হেসে উঠল।
– এই পেঁয়াজ দুটো কেউ কেটে দাও তো।
– আপু আমাকে দিন। কেটে দিচ্ছি।
– তোমার কাটতে হবে না, বুশরা কেটে দিবে। তুমি একটু ওকে ডেকে নিয়ে এসো।
– আমাকে দিন। কেটে দেই।
_
আব্দুল্লাহ হাত টেনে নেয় জ্যোতির। ধমকে উঠল মেয়েটাকে।
– চোখ কই থাকে তোমার, দেখে কাজ করতে পারো না। হাত কেটে ফেলেছ।
– সামান্য একটু কেটেছে।
– সামান্য একটু? থাপড়ে গাল লাল করে ফেলব বেয়াদব। রক্ত পড়ছে। আর তুমি সামান্য একটু বলছ।
– হ্যাঁ, হাত ছাড়ুন। সবাই আছে এখানে, কেউ দেখলে কী ভাববে।
– চুপ করে বসে থাকো। দেখবে না কেউ।
আব্দুল্লাহ দূর্বা ঘাস তুলে দু হাতে খানিকটা ডলে জ্যোতির আঙুলে চেপে ধরল। রক্ত পড়া বন্ধ হবে এতে। জ্যোতি চোখ নামিয়ে নেয়। সকলে কাজে ব্যস্ত। হুট করে সবাই বলল, আস্ত মুরগির বারবি কিউ খাবে। রেস্তোরাঁয় না গিয়ে বাড়িতেই করার পরিকল্পনা করল। ছোটোবেলায় যেমন উনুনে আগুন জ্বালিয়ে এর ওর বাড়ি থেকে এটা ওটা এনে জোলাপাতি খাওয়া হতো, আজ তাই করবে। আস্ত চিকেন বারবি কিউ সাথে পাস্তা, শিক কাবাব, ডিমের কাটলেট। সে হিসেবে প্রস্তুতি নিয়ে উঠানের এক কোণায় আগুন ধরিয়ে রান্নার কার্যক্রম শুরু হয়। তখন পেঁয়াজ কাটার সময় আঙুল কেটে গিয়েছে মেয়েটার।
_
মিস্টার সারওয়ার নামটা স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে। পরপর পাঁচবার কল আসতে জিদান রিসিভ করে। থমথমে গলায় বলল,
– কল দিয়েছেন কেন?
– তোমাকে কী কল দেওয়া যাবে না?
– দেওয়া যাবে না কেন, অবশ্যই দেওয়া যাবে। কিন্তু আপনি তো প্রয়োজন ছাড়া কখনো আমাকে বা আমার বোনকে কল দেন না। কীসের জন্য কল দিয়েছেন বলুন। ঘুমাব আমি।
মিস্টার সারওয়ার ছেলের এমন জবাবে কথা বাড়ান না। সরাসরি প্রশ্ন করলেন,
– আব্দুল্লাহ তোমার ফুফির বাড়িতে কেন গিয়েছে?
– আমি আসতে বলেছিলাম। গ্রাম দেখতে এসেছে।
– গ্রাম দেখতে না কি…
– আপনি যা ভাবছেন তেমন কিছু নয়।
– আমি যা ভাবছি এমন কিছু যেন না হয়। যদি এমনটা হয় তাহলে ভালো হবে না। তুমি তোমার বন্ধুকে সাবধান করে দিও। সে যেন নিজের সাধ্যের বাইরে কোনোকিছুতে হাত না বাড়ায়।
– আমি ওকে সাবধান করব না। যা নিজের তা সাধ্যের বাইরে হলেও হাত বাড়াতে হয়।
_
পুরুষটা এগিয়ে আসে মেয়েটার দিকে। মুহূর্তেই দূরত্ব কমিয়ে সিগারেট পোড়া ঠোঁট দুটো মিলিত হলো গোলাপি আভায় ছেয়ে থাকা পাতলা, মসৃণ ওষ্ঠের সাথে। মেয়েটার দম বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম স্পর্শ, প্রথম চুমু। তাও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত। সেকেন্ড কয়েক ব্যবধানে ছেলেটা ছেড়ে দেয় মেয়েটাকে। ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলছে মানব মানবী। রাতের আঁধারে শুধু দুজন মানুষের নিঃশ্বাসের তীব্র আনাগোনা। পুরুষটা মেয়েটার কপালের সাথে কপাল ঠেকায়। জ্যোতি থরথর করে কাঁপছে।
– এই যে ছুঁয়ে দিলাম, এখন থেকে তুমি আমার।
মেয়েটাকে নিশ্চুপ থাকতে দেখে আবার বলল,
– অধিকার ছাড়া ছুঁয়ে দেওয়ার জন্য দুঃখিত। কিন্তু এরপর অধিকার নিয়ে তোমার শরীরের প্রতিটা ভাঁজে আমার ছোঁয়া এঁকে দিব। শীঘ্রই ঘরে তুলব তোমাকে। দূরত্ব সহ্য হচ্ছে না আমার। একবার আমার হয়ে গেলে তোমাকে হারানোর ভয়ে রোজ নির্ঘুম রাত কাটবে না, হৃদয় কুঁড়ে খাবে না হারিয়ে ফেলার ভয়ে! কাল সারা রাত নির্ঘুম কেটেছে। এত অস্থিরতা আগে কখনো অনুভব হয়নি। আমার মতো পাষণ্ড পুরুষের হৃদয়ে কতটা জায়গা করে নিয়েছ তুমি নিজেও জানো না। সেই ঢাকা থেকে এত দূর ছুটে আসতে হয়েছে তোমার জন্য। কল ধরছিলে না কেন। আমাকে তুমি পাগল বানিয়ে ছাড়বে।

