প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন #পর্বসংখ্যা_৬৮

0
5

#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৬৮
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা

এ অনুভূতি নব্য। অনুভূত হয়েছে দুর্বোধ্য এক পুরুষের প্রেমে পড়ে। প্রেম? সে কি প্রেমে পড়েছে? প্রেম কী তার জানা নেই। তবে কাউকে দেখে ছোট্ট হৃদয়ে তোলপাড় সৃষ্ট হওয়া যদি প্রেম হয়, তবে সে প্রেমে পড়েছে। ভয়াবহ এক প্রেম! কঠিন পুরুষের প্রেমে মত্ত তার অবচেতন মন।‌ যে চোখের আড়াল হলে অস্থিরতা ঘিরে ধরে তাকে। যার অন্তর্বেদী দৃষ্টিতে হৃদয় কেঁপে ওঠে। থমকে যায় পৃথ্বী! যার অবহেলায় তার বুক কাঁপে, চোখ জ্বলে, বিষাদ অনুভব হয়। তার পার্থিব দুনিয়ার সবকিছু অসহ্য লাগে, মনে হয় তার অবহেলার চেয়ে মরণ ঢের!

আভিরার নিগূঢ় আঁখি নিবদ্ধ হাতে থাকা এক টুকরো সফেদ কাগজে। ভাঁজ করা এই সফেদ কাগজ বালিশের নিচে বড্ড অবহেলায় চাপা পড়েছিল। রমণী হাত বাড়িয়ে তুলে নিল সেই কাগজ। হঠাৎ ঠাহর করল তার হাত মৃদু কাঁপছে। বুকের ভিতর অদ্ভুত অস্থিরতা। বা হাতের উল্টো পিঠে কপালে থাকা সূক্ষ্ম ঘাম মুছে নিল আলগোছে। ত্রাসে সমানতালে হাত কচলাতে লাগল। এমন চিরকুট আগেও পাওয়া হয়েছে তার। সেই একই সফেদ চিরকুট নিজ ঘরে দেখে মেয়েটার সবকিছু এলোমেলো লাগছে। ভীতসন্ত্রস্ত চাহনি, চোখে শঙ্কা! দুরুদুরু বুকে আভিরা কাগজের ভাঁজ খুলে। আঁখিতে খেলে গেল এক একটা অক্ষর। যেন কেউ কানের কাছে গম্ভীর স্বরে বলে চলেছে প্রেমময় প্রত্যেক বাক্য। হৃৎপিণ্ড তার বেগতিক, ঢিপঢিপ শব্দ কানে আঘাত হানে। তড়িৎ ঘেমে উঠে সর্বাঙ্গ।

– অনিন্দ্য সুন্দরী বধূয়া আমার! আপনার জ্বরে পোড়া গা, কাঁপতে থাকা ওষ্ঠাধর, মলিন চক্ষু, ক্ষীণ শ্বাস প্রশ্বাসে উঠানামা করতে থাকা বক্ষে আমার বেসামাল হৃদয় প্রমত্ত। ভাসা ভাসা হরিণী দু লোচন বুকের বা পাশে সূক্ষ্ম ব্যথার সৃষ্টি করে। ঐ চোখে দৃষ্টি মিলতেই যেন স্থাবর হয়ে পড়ে মস্তিষ্ক। অভিমানী দু চোখ কঠিন পুরুষকে দিশেহারা করে তোলে। ঘন পল্লব, নিগূঢ় গভীর অক্ষিদ্বয়ে আমার সর্বনাশ!

– অমন বৃষ্টিতে ভিজে কেউ জ্বর বাঁধায়। নিজে তো ভুগলেন সাথে কঠিন পুরুষকে তীব্র দহনে পোড়ালেন। এই যে সারা রাত জ্বরে ভুগলেন, বুকের পীড়া বাড়ালেন, আপনাকে কী শাস্তি দেওয়া যায় বলুন?

– মৃগনয়না আঁখি তাহার, টলটলে জল, আমার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণ!

তিন তিনটে চিরকুট, তাতে লেখা শব্দ বাক্য ভিন্ন হলেও অনুভূতি অভিন্ন! যেন হৃদয়ের সকল বার্তা এতে সমাহিত! আভিরা কাগজ তিনটে যত্নে তুলে রাখে। মেয়েটার মনে প্রশ্ন জাগে, পূর্বের সেই অচেনা অজানা পত্র প্রেরকের সাথে কি নাওয়াজের কোন যোগসূত্র আছে? কোনোভাবে সেই পত্র প্রেরক নাওয়াজ নয় তো? আভিরা থমকে দাঁড়ায়। সেই লোক যদি নাওয়াজ হয়? এটা তো অসম্ভব কিছু নয়। যেহেতু বহু বছর আগে থেকেই তাকে নিয়ে নাওয়াজের অনুভূতি ছিল। সম্ভাব্য এই যে চিঠি দাতা নাওয়াজই ছিল।

আভিরার শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসে। এ কেমন দমবন্ধকর অনুভূতি! মনে প্রাণে চাইল লোকটা যেন নাওয়াজই হয়। সে কি ঐ লোককে জিজ্ঞেস করে দেখবে? জানতে চাইবে এমন হৃদয় কাঁপানো পঙক্তি তার লেখা কি না? নিদারুণ অস্থিরতায় জর্জরিত হলো মেয়েটার অবুঝ মন!

সকালে বিছানা গোছাতে গিয়ে চিরকুট তিনটে পেয়েছিল। প্রতিটা বাক্য যেন মস্তিষ্কে আলোড়ন সৃষ্টি করে। আভিরা বসে রইল এলোমেলো বিছানায়। বিছানা আর গোছানো হলো না তার। নাওয়াজ বেরিয়েছে সেই সকালে। বাড়িতে মাহাদ আছে। অথচ মেয়েটার মধ্যে রান্না করার কোনো তোড়জোড় নেই। সে যেন রান্নার কথা ভুলেই বসেছে। এই এক পুরুষের জন্য তার সব এলোমেলো লাগে। অনুভূতির
যাঁতাকলে পিষ্ট হয় তার নাজুক মন। নাজেহাল অবস্থায় নিষ্পেষিত অন্তরেন্দ্রিয়।

আভিরা চপল পায়ে ঘরের বাইরে বের হয়। তার মন এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে জর্জরিত, মশগুল অজানা ভাবনায়। এক সিঁড়ি দু সিঁড়ি নেমে হলরুম পেরিয়ে রান্নাঘরে গেল। হেঁশেলের দোরে যেতে পা আটকে আসে তার। ইয়াজমীন গম্ভীর মুখে কড়াই নামাতে ব্যস্ত। আভিরা ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে আছে। অপ্রতিভ হয়ে পড়ে সহসাই।

– কোন দরকার?

শাশুড়ির কথায় আভিরা অপ্রস্তুত ভাব সামলে হাসার চেষ্টা করল। লজ্জিত ভঙ্গিতে এসে দাঁড়াল শাশুড়ির পাশে। একরাশ অস্বস্তি মেশানো কণ্ঠে বলে উঠল,
– আমার একেবারে খেয়াল ছিল না। আমি দুঃখিত মা। আপনি কেন এসব করতে গেলেন। আমাকে ডেকে দিলেই হতো।

– সর্বক্ষণ তোমাকে দিয়ে কাজ করানোর জন্য এ বাড়িতে নিয়ে আসিনি আমি। রোজ রোজ বাড়ির সব কাজ করতে হবে না তোমাকে।

– বাড়ির কাজ তো বাড়ির বউয়েরাই করে। আমি না করলে কে করবে?

– একসময় এই বাড়ির বউ ছিলাম আমি। এখন শাশুড়ি হয়েছি বলে যে সবসময় ছেলের বউকে দিয়ে কাজ করাব এমন মানুষ আমি নই।

– এককালে যখন এ বাড়ির বউ ছিলেন তখন নিশ্চয়ই সব একা হাতে আপনাকেই সামলাতে হয়েছে। আমি শুনেছি ওনার দাদির সাথে আপনার তেমন ভালো সম্পর্ক ছিল না। উনি নিশ্চয় আপনার মতো ছিলেন না। সব শাশুড়ি আপনার মতো ছেলের বউকে মাথায় তুলে রাখে না। এতকাল তো কাজ করে এসেছেন, এবার আপনার বিশ্রাম করার পালা। এ সংসারের দায়িত্বভার নিশ্চিন্তে আমাকে দিতে পারেন, আমি আপনাকে নিরাশ করব না মা।

আভিরা খুব নম্রভাবে বলল। ইয়াজমীন আভিরার কথায় সন্তুষ্ট হলেও প্রকাশ করল না। তার শাশুড়ি তাকে খুব একটা দেখতে পারত না। তাকে নিজে পছন্দ করে বাড়ির বউ করেছিলেন। তখন বয়স ছিল অল্প, কাজে খুব একটা পারদর্শী ছিল না। ভুল হতো, তাতেই নাওয়াজের দাদি চটে যেতেন। ভীষণ দাম্ভিক মহিলা ছিলেন। খুঁতখুঁতে স্বভাবের প্রৌঢ় মহিলার সবকিছু নির্ভুল হওয়া চায়। তিনি নিজেও নিখুঁতভাবে সম্পূর্ণ করতেন প্রত্যেকটা কাজ। চেয়েছিলেন ছেলের বউও তেমন হবে। কিন্তু বিয়ের কদিন যেতেই ইয়াজমীনের ভুলগুলো চোখে পড়ে ওনার। শুধরে দেওয়ার কোনো তাগিদ দেখা যেত না। কিন্তু ঠিকই তরপে তরপে থাকতেন ভুল ধরার জন্য। শাশুড়ির কটূক্তি কম সহ্য করতে হয়নি তাকে। তখন মনে হয়েছিল মেয়ে হয়ে সাংসারিক কাজ না জানা বিশাল দোষের। ধীরে ধীরে সব কাজে দক্ষ হয়ে উঠে ইয়াজমীন। তার শ্বশুর বাড়ির বিশাল পরিবার। নিয়াজ সাহেবের পাঁচ ভাই, দু বোন। বাড়ির বড়ো বউ হওয়ার সুবাদে গোটা সংসারের হাল ইয়াজমীনকেই ধরতে হয়। বছরের বেশিরভাগ সময় ননাস, ননদ শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি পড়ে থাকত। এতে অবশ্য ইয়াজমীনের আপত্তি ছিল না। তাছাড়া ননাস, ননদের ব্যাপারে কোনোরকম বিমুখ মনোভাব পোষণ করার সুযোগ তাদের ছিল না। স্বামী, শাশুড়ির কড়া নির্দেশনা ছিল তাদের ব্যাপারে টু শব্দটিও করা চলবে না এ বাড়িতে। সে থেকে নিয়াজ সাহেবের গত হওয়া যাবৎ সকল কিছু মুখ বুজে সইতে হয়েছে তাকে। স্বামী মারা যাওয়ার পরপরই ভিটে মাটি আলাদা হয়। ইয়াজমীনের মনে হয় তখন যদি তোয়াক্কা না করে সাহস দেখিয়ে প্রতিবাদ করত তাহলে এত কিছু সহ্য করতে হতো না তাকে। সব সয়েও শাশুড়ির মনের মতো হতে পারলেন কই!

ইয়াজমীন সে সময়ে অল্পস্বল্প রান্নার কাজ জানলেও, আভিরা টুকটাক ঘরের কাজ বাদে রান্নার কিছুই জানত না। সবটা হাতে ধরে শিখিয়েছেন তিনি। সে শাশুড়ির মন জোগাতে না পারলে আভিরা তার ভীষণ স্নেহের!

– আমাকে দিন মা, আমি করে দিচ্ছি।

আভিরার এমন নম্রতা ইয়াজমীনের ভারি পছন্দ। মেয়েটা কখনো উচ্চবাচ্য করে না। সর্বদা ধীর স্বরে কথা বলবে। এমন নম্র স্বভাবের মেয়ে তিনি খুব কম দেখেছেন। ছেলের পছন্দের তারিফ করে বেশ ইয়াজমীন। তবে সবটাই করে আভিরার আড়ালে। আর এখন তাদের মনোমালিন্য চলছে। আভিরা তার থেকে এত বড়ো একটা বিষয় আড়াল করেছিল, যেটা ইয়াজমীন মেনে নিতে পারছে না। যদিও মেয়েটা ভালোর জন্যই করেছিল। তবে এখানে তার ছেলের সম্মান জড়িয়ে। তিনি এত সহজে সব ভুলে যাবেন কী করে!

– লাগবে না। আজ রান্না আমি করব।

– আমি এখানে থাকি?

ইয়াজমীন আভিরার অলক্ষ্যে হাসি আড়াল করল। মেয়েটার অবস্থা তিনি বুঝতে পারেন। তার এমন কাঠিন্যতা আভিরাকে ভীষণ বিপাকে ফেলে।

– থাকো।

কিছুটা গম্ভীর স্বরে বলল ইয়াজমীন। ছোটো মাছের চ্চরি করছে। গুতুম মাছ ভুনা করেছেন আলাদা করে। পাঁচ মিশালি মাছেরও একটা পদ রেঁধেছেন। সেদিন নাওয়াজের আনা পাঁচ মিশালি মাছ দিয়ে ইয়াজমীন আজ তিন পদের তরকারি রাঁধলেন। বাড়িতে জামাই আছে, সেই ভেবে দেশি মুরগির ভুনা, আলু দিয়ে গোরুর গোশের ঝোলসহ আরও দুই তিন পদের রান্না সেরে বেরিয়ে গেলেন তিনি। আভিরা চেয়ে চেয়ে শাশুড়ির প্রস্থান দেখল। শাশুড়ি তার সাথে আগের মতো কবে মন খুলে কথা বলবে আভিরার জানা নেই। তবে সে খুব করে চাইছে ইয়াজমীন যেন পূর্বের ন্যায় তার সাথে কথা বলে।

_

ক্যান্ডেল লাইট ডিনার! আভিরার কাছে যেন স্বপ্নের মতো লাগছে সব। ধীর পায়ে মেয়েটা এগিয়ে গেল। মখমলে লাল ব্লাউজ পরেছে সে। গায়ে সাদা ফিনফিনে জর্জেট শাড়ি! অর্ধ উন্মুক্ত উদর, দৃশ্যমান সুডৌল কোমর! আঁচল টেনে কাঁধে তুলল মেয়েটা। মুহূর্তেই ঢাকা পড়ে শাড়ির ভাঁজে।

সাদা পাতলা পর্দা বাতাসের বেগে দুলছে। দক্ষিণের বাতাস শরীর ছুঁতে কেঁপে উঠল আভিরা। লাল টকটকে ওষ্ঠে কম্পন দেখা গেল সহসাই। নিগূঢ় আঁধারে কামরা ছেয়ে থাকলেও অলিন্দে হলদেটে আলোর ফোয়ারা। শীতল, হালকা উষ্ণ ধোঁয়াটে চারপাশ। রঙ বেরঙের ক্যান্ডেল জ্বালানো।

বেতের দুটো চেয়ার, মাঝে গোলাকার টেবিল! তাতে সাজানো চকলেট কেক, ডেজার্ট, ভ্যানেলা আইসক্রিম। কৃত্রিম লাইটে প্রদীপ্ত অলিন্দ। গোলাকার টেবিলটায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে লাল, সাদা গোলাপের পাপড়ি। ফুলের তীব্র নেশালো ঘ্রাণ! মেঝেতে বিছানো গোলাপের পাপড়ি, সাথে লাল, সাদা বেলুন। চা, কফির মতো এমন সাধারণ কিছু ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে! আর এত সব ঘরের বারান্দায়!

আভিরার কখনো ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে যাওয়া হয়নি, প্রেমে পড়া হয়নি কোনো পুরুষের। বাবার কড়া শাসনে বড়ো হওয়া মেয়েটা প্রেম ভালোবাসার মতো জটিল অনুভূতি ঠাহর করার সুযোগ পেয়ে উঠেনি কখনো। বিয়ের পর প্রথম কোনো পুরুষের সান্নিধ্যে আসে। সেই পুরুষ ধীরে ধীরে দখল করল হৃদয়! তার সমস্ত সত্তা জুড়ে কেবল স্বামী নামক পুরুষের বাস। যার ছোঁয়ায় পরতে পরতে রমণী অনুভূতির ভারে নুইয়ে পড়ে। সমস্ত শরীর অঙ্গার হয়ে যায় পুরুষালি হাতের স্পর্শে! নব্য অনুভূতির সাথে নব্য ছোঁয়া অনুভূত হয় রোজ রোজ। যেন মনে হয় এই পুরুষেই তার অস্তিত্ব বিলীন হবে!

টেবিলের এক পাশে জায়গা দখল করে রেখেছে নিয়ন বাতি। হলদেটে ক্ষীণ আলোর দখলদারে অন্ধকারাচ্ছন্ন অলিন্দ। সেই আলোয় দৃষ্টি মিলিত হয় দু জোড়া চোখের। ভাসা ভাসা সেই হরিণী গভীর চোখে তাকিয়ে বশীভূত হলো দুর্বোধ্য চোখের অধিকারী।

নাওয়াজের গায়ে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি। তার পেটানো শরীরে আঁটসাঁটভাবে লেগে আছে তা। বলিষ্ঠ হাতের মাংসপেশী, চওড়া বুক, প্রশস্ত কাঁধ সবই যেন আকর্ষিত। এমন পুরুষে যেকোনো রমণী মুগ্ধ হতে বাধ্য! আভিরাও যেন মুগ্ধ হলো, আকর্ষিত হলো প্রবলভাবে। ঝড় উঠল তার শান্ত হৃদয়ে। গলা শুকিয়ে চৌচির, তীব্র তেষ্টায় উন্মুখ আভিরা হাতের কাছে থাকা গ্লাস তুলে পানি পান করে। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে সম্মুখে প্রতিয়মান পুরুষের পানে স্থির দৃষ্টিতে তাকায়। এমন সরাসরি চোখে চোখ রাখা হয়নি কখনো।‌ অমন শানিত দৃষ্টিতে আভিরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। টেবিলে থাকা সাদা কাপড় আঁকড়ে ধরল শক্ত হাতে। দৃষ্টি লুকিয়ে বাঁচার প্রয়াস চালায়। এমন বেকায়দায় পড়ে যাবে জানলে ঐ চোখে চোখ রাখতে যেত না।

নাওয়াজ রমণীর ডান হাতের উল্টো পিঠে শুষ্ক ঠোঁট ছোঁয়ায়। অনুভূতিতে শিরশির করে উঠে বদন। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে। নাওয়াজ পিছন থেকে জাপটে ধরে কাঁধে মুখ গুঁজে। চুমু আঁকে গ্রীবাদেশে। আভিরার সত্তা ভয়ঙ্করভাবে কেঁপে ওঠে। এ পুরুষ আজ এমন পাগলাটে আচরণ কেন করছে? তাকে মরণ যন্ত্রণা দেওয়ার জন্যই কী এত সব আয়োজন!

– ফুল, আপনার সুবাসে রোজ মাতোয়ারা আমার প্রমত্ত হৃদয়! স্নিগ্ধ সুবাসিত ফুলের ঘ্রাণে হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ে অদ্ভুত মাদকতা। তোলপাড় সৃষ্টি হয় হৃদয় জুড়ে।

– দোজাহানের স্বর্গ সুখ আমার অর্ধাঙ্গীর নামে লিখিত! পার্থিব দুনিয়ার অপার্থিব সুখানুভূতি আপনি আমার। আমার হৃদয় হরণকারী, এই পুরুষের হৃৎস্পন্দন শুধু আপনার নামে!

– অকস্মাৎ উত্তাল ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ুন আমাতে, বেপোরোয়া করে তুলুন কঠিন হৃদয়, নড়বড়ে করে দিন শক্ত কঠিন চিত্ত!

ফিসফিসানি পুরুষালি সুর, আভিরার শরীর অসাড় হয়ে আসে। উষ্ণ নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ে লাগাতার! চঞ্চল হয়ে উঠে তনু মন, বিহ্বল হয়ে পড়ে মস্তিষ্ক। অজানা আশঙ্কায় শরীরের সব শক্তি খুইয়ে দুর্বল অনুভূত হতে লাগে। উল্টো ফিরে নাওয়াজের বুকে মাথা রাখল আভিরা। নাওয়াজ বিস্মিত হলো খানিকটা। মেয়েটা বুকে মাথা রেখেই অস্ফুট স্বরে আওড়ায়,
– আমি আপনাকে ভালোবাসি!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here