প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন #পর্বসংখ্যা_৭২

0
4

#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৭২
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা

দ্বিপ্রহরের ক্ষণকাল। মাথার উপর হলদেটে দিবাকরের ঔজ্জ্বল্য দীপ্তিমান। তেজোময় দ্যুতি দীপ্যময়। ধরিত্রী ক্ষীণ অনুপ্রভায় হলুদাভ আলোয় মুদে। তীক্ষ্ণ অনুজ্জ্বল কুসুম রঙায় ছেয়ে আশপাশ। দিবাকরের উত্তপ্ত লালিমায় আরক্ত রমণীর সুশ্রী আনন। হুড তোলা রিকশা বাড়ির সম্মুখে থামতে নেমে দাঁড়ায় রমণী। ভার্সিটি থেকে বের হয়ে অনেকটা পথ হাঁটতে হয়েছে। যার দরুন এতটা পথ রিকশায় হুড তোলা থাকলেও রোদের প্রখরতা থেকে রক্ষা পায়নি। মাঝ রাস্তায় সিএনজি থেমে যাওয়ায় বাকিটা পথ রিকশা করেই আসতে হয়েছে। চল্লিশ টাকার জায়গায় ভাড়া চুকাতে হয়েছে দেড়শ টাকা। আভিরা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কদম বাড়ায়। শরীর চলছে না তার। সামান্য জোর নেই। প্রচণ্ড দুর্বল অনুভূত হচ্ছে।‌ যেন এখনই লুটিয়ে পড়বে। ডাইনিং টেবিল থেকে গ্লাস তুলে কয়েক চুমুকে শুকিয়ে থাকা গলা সামান্য ভিজিয়ে নেয়। হালকা উষ্ণ পানি গলা দিয়ে নামতে বিতৃষ্ণায় চোখ মুখ বিকৃত করে নিল। উঠে গিয়ে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি আনার শক্তিটুকুও যেন অবশিষ্ট নেই আভিরার গায়ে। আভিরা ব্যাগ কাঁধে ক্লান্ত শরীরটা এলিয়ে দেয়। সামান্য হেলে মাথা রাখে ডাইনিং টেবিলে। কখন যে চোখ বুজে আসে টের পায় না। শাশুড়ির ডাকে নড়েচড়ে ওঠে।

– কখন এসেছ? রুমে না গিয়ে এখানেই ঘুমিয়ে গেলে যে?

ক্লান্তিতে যে কখন দু চোখ লেগে এসেছে আভিরা বুঝতে পারেনি।‌ ফোলা ফোলা চোখ দুটো মেলে চাইল শাশুড়ি মায়ের দিকে। ঠোঁট দুটো প্রসারিত করে সামান্য হাসল আভিরা। মাথাটা ভার হয়ে আছে।‌ ঘুমের রেশ এখনও কাটেনি। এভাবে হেলে থাকাতে পিঠে ব্যথা করছে। উঠতে গিয়েই বুঝল। শিরদাঁড়া সোজা করে উঠে দাঁড়াল। কাঁধের ব‌্যাগটা আঁকড়ে ধরে চাইল ইয়াজমীনের দিকে। আভিরার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে, মুখাবয়ব থমথমে। যা এখনকার নিত্যদিনের কারবার। আভিরা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছে শাশুড়ির এমন গাম্ভীর্যে।

– কখন চোখ লেগে গিয়েছিল বুঝতে পারিনি।

– আচ্ছা যাও। ফ্রেশ হয়ে দ্রুত নিচে এসো। সকালে না খেয়ে বেরিয়েছ। এখন খাওয়া নিয়ে আর কোনো তালবাহানা শুনব না।

শাশুড়ি মায়ের কথায় আভিরা মিষ্টি হাসে। এই সামান্য শাসনই যেন তার জন্য বিশাল যত্নের আভাস। ইয়াজমীন তাকে এড়িয়ে চললেও তার খেয়াল রাখতে ভুলে না। নয়তো সে সকালে খেয়ে যায়নি এইটা ইয়াজমীনের এত সময় অবধি মনে রাখার কথা না। আভিরা চট জলদি গোসল সেরে নিচে নেমে এলো। ডাইনিং টেবিলে ঢাকনা দিয়ে খাবার ঢেকে রাখা আছে। আভিরা ঢাকনা উঠিয়ে দেখল, গরম গরম গোরুর গোশ কষা আর পরোটা। আভিরা পরোটা ছিঁড়ে ঝোলে চুবিয়ে মুখে নিল।‌ ইয়াজমীন নিশ্চয় গুলে রাখা আটার ডো তৈরি করে তা ফ্রিজে রেখে দিয়েছিল। তাকে দেখেই গরম গরম পরোটা বানিয়ে এনে দিয়েছে। নয়তো সকালে পরোটা বানিয়ে রেখে দিলে এখন তাকে ঠান্ডা শক্ত আটার দলা খেতে হতো।

খাবার খেয়ে আভিরা রান্নাঘরে গেল।‌ ইয়াজমীন দুপুরের রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চুলোয় শাপলার ডাঁটা ভাজতে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে এগিয়ে যায়। শাপলার ডাঁটা দিয়ে রান্না করা তরকারি একবার খেয়েছিল সে। এত স্বাদ লাগে যে একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করে। ঐ প্রথম এবং শেষ একবারই খাওয়া হয়েছিল তার। তারপর আর খাওয়ার সুযোগ মিলেনি। প্রথমবার দেখেই অবাক হয়েছিল যে শাপলার ডাঁটা দিয়েও তরকারি রান্না করা যায়।

– কী করছেন?

– দেখতে পারছ না?

ইয়াজমীনের এমন গাম্ভীর্য পূর্ণ কণ্ঠে আভিরা চকিতে তাকায়। তার উচ্ছলতা যেন মিইয়ে আসে, তবে খারাপ লাগা কাজ করে না। আভিরা সে কথার জবাব না দিয়ে ধীর স্বরে বলল,
– রান্নাটা আমি করি? সকাল থেকে সব আপনি করছেন।

– রান্নার দিকটা আমি সামলে নিতে পারব। তুমি এক কাজ করো, ফ্রিজ থেকে শুঁটকি বের করে ভিজিয়ে রাখো। আর বড়ো দেখে চারটা পেঁয়াজ কেটে দাও।

আভিরা শাশুড়ির কথামতো ফ্রিজ থেকে শুঁটকি নামিয়ে ভিজিয়ে রাখল। তারপর বড়ো দেখে চারটা পেঁয়াজ নিয়ে কুচি করে কেটে দিল। আধোয়া প্লেট, বাটি ধুয়ে রাখল নিজ থেকে। ইয়াজমীন আড়চোখে দেখছে আভিরার কাজ।

বাড়ির বউ করে এনেছে বলে সব কাজ শুধু তাকেই করতে হবে, অন্য কেউ হাত লাগাবে না। এমন মনোভাব পোষণ করলে সংসারে কলহ হবে রোজ। একজন একাধারে কাজ করে যাবে আর অন্যজন শুধু বসে বসে খাবে, তাহলে সংসারে শান্তি মিলবে কীভাবে? রান্নাবান্না না জানলেও হাতে হাতে কাজ এগিয়ে দেওয়া উচিত। রান্নার জোগাড়জান্তি করে দিলেও যেন রান্না করে তার অনেকটা আসান হয়। মিলিয়ে ঝিলিয়ে কাজ করলে এত ঝুট ঝামেলা হয় না।

ইয়াজমীন আভিরাকে প্রয়োজনের থেকেও বেশি ছাড় দেয়। মেয়েটা নিজ থেকে সব কাজ করতে চাইলেও ইয়াজমীন বাধ সাধবে। সেজন্যই বোধহয় তাদের সম্পর্ক বউ শাশুড়ি কম মা মেয়ে অধিক।

আভিরা ভেজা হাত ওড়নায় মুছে ইয়াজমীনের পাশে এসে দাঁড়াল। শাপলার ডাঁটা ভাজি আর শুঁটকি দিয়ে মাখো মাখো করে শাপলার ডাঁটা রেঁধেছে। সাথে আলুর ঘাঁটি। আভিরা তার আর ইয়াজমীনের জন্য পরিমাণ মতো চাল ধুয়ে চুলোয় বসায়। ইয়াজমীন টুল টেনে খানিকটা দূরত্বে বসেছে। কোমর ধরে গিয়েছে তার। ইদানিং বেশিক্ষণ নুইয়ে কাজ করতে পারে না। কোমর ব্যথা বেড়ে যায় তীব্র পরিমাণে। এই এখন আর দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে টুল টেনে বসে পড়তে হলো।

– ভাতটা আমি দেখছি। আপনি এখানে বসে না থেকে না হয় ঘরে গিয়ে বিশ্রাম করুন।

– ঠিক আছি আমি।

ইয়াজমীন সেখানেই বসে রইল। আভিরার বলতে হয়নি, ভাত হয়ে আসতে নিজেই মাড় গেলে দিলেন। খাবার খেয়ে ইয়াজমীন সবে বিছানায় হেলান দিয়েছিল, অমনি হুড়মুড় করে আভিরা ভিতরে এলো। ইয়াজমীনের পাশে বসে মৃদু স্বরে বলল,
– এইটা নিন।

ইয়াজমীন কপাল কুঁচকে হট ওয়াটার ব্যাগ হাতে নিল। ব্যাগ কোমরে ধরতে চোখ বুজে নেন তিনি। স্বস্তি মিলছে খানিকটা, ধীরে ধীরে প্রশমিত হচ্ছে কোমরের ব্যথা।

_

এশার আজান দিয়েছে সবে। পুরুষেরা পাঞ্জাবি, টুপি পরে রওনা দেয় মসজিদে যাওয়ার জন্য। খুদে বাচ্চারা হৈ হুল্লোড় লাগিয়ে দেয় বাবা দাদার সঙ্গে মসজিদে যাবে বলে। তাদের উৎফুল্লতা চাপা পড়ে বাবার কঠিন ধমকে। ধমকের স্বরে বলছে,
– রোজ রোজ একই বায়না করো কেন? সেখানে গিয়ে তো এক দণ্ডও চুপচাপ বসে থাকো না।‌ তোমাদের জন্য অন্যদের মনোযোগ ছুটে যায়, নামাজ আদায় করতে পারে না ঠিকমতো।

বাচ্চাগুলো মুখ ফুলিয়ে বলে উঠে,
– বাবা এইবারের মতো নিয়ে যাও। দুষ্টুমি করব না আমরা।

– প্রত্যেকবার এই কথায় বলো।

– এই শেষ। আর করব না। নিয়ে চলো।

– যাও। দ্রুত তৈরি হয়ে এসো।

– ইয়ে।

বলে ছুট লাগাল নিজেদের ঘরের দিকে। পাঞ্জাবি পায়জামা পরে হাতে জায়নামাজ নিয়ে বেরিয়ে এলো বাবার হাত ধরে। ছেলের দিকে বাবা নামক পুরুষটা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে। ছেলেদের পাঁচ ওয়াক্ত মসজিদে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তিনি অপারগ। বাচ্চা নিয়ে মসজিদে গেলে অনেক মুসল্লি বিরক্ত বোধ করে। ওনার ছেলেরা বুঝ সম্পন্ন হলেও মাঝেমধ্যে হৈ হুল্লোড় শুরু করে দেয়। যার ফলে মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। সেজন্য ছেলেদের মসজিদে নিয়ে আসতে চান না। কিন্তু আজ বায়না ধরেছে মসজিদে আসার জন্য। সেজন্য বাধ্য হয়েই নিয়ে আসতে হলো।

নামাজ শেষ হতেই হট্টগোল দেখে ভিড় ঠেলে সামনে পা রাখেন। লম্বা চওড়া এক কিশোর ছেলের কপাল বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। পাঁচ ছয়জন ছেলে মিলে মেরে চলেছে সেই ছেলেকে। আশেপাশের সকলে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে সেই দৃশ্য। বিদেশি অস্ত্র টাইপ কিছু একটা দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে। উঠতি বয়সী ছেলেদের হাতে এমন সাংঘাতিক অস্ত্র দেখে যারপরনাই অবাক হলেন ভদ্রলোক। ওনার দুই ছেলে ভয়ে ওনার পিছনে মুখ লুকিয়ে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দেখছে সব। তিনি আর সেখানে দাঁড়ালেন না। ছেলে দুটো তার ভীষণ ভয় পেয়েছে এমন দৃশ্য দেখে। এখান থেকে যত দ্রুত যাওয়া যায়।

_

মাহিরা হন্তদন্ত হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল। কয়েকটা সিঁড়ি বেয়ে নামতেই যেন হাঁপিয়ে গিয়েছে। জোরে জোরে শ্বাস ফেলে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। হাপড়ের ন্যায় বুক উঠানামা করছে তার। চোখে জল চিকচিক করছে। ব্যথাতুর চাহনি দিয়ে তাকাল মায়ের দিকে। সুরভী মেয়ের এমন চাহনি দেখে দ্রুত এগিয়ে এসে মেয়ের কাঁধে হাত রাখে। মায়ের সান্নিধ্যে যেন চোখের পানি উপচে পড়ল কপোল বেয়ে। সুরভী মেয়েকে সময় দেয়। কিছুটা শান্ত হতেই জিজ্ঞেস করল,
– কী হয়েছে? এমন করছিস কেন?

মাহিরা আটকে আসা স্বরে কোনোরকম বলল,
– মা সামিহা…

– সামিহা কী করেছে?

– সুইসাইড করেছে।

সুরভী আঁতকে ওঠে।

– সুইসাইড করেছে মানে? কী পাগলের প্রলাপ বকছিস? ও এমন করতে যাবে কেন?

– কীভাবে যেন মাহাদ ভাইয়ার বিয়ের খবর জেনে গিয়েছে। বিয়ের কথা শুনেই…

আর বলতে পারল না মাহিরা। কাঁদতে কাঁদতে সোফায় বসে পড়ল। সুরভী যেন বাকহারা। তার ছেলের বিয়ে হয়েছে শুনে মেয়েটা যে এমন একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলবে তা কী তারা কেউ জানত। সুরভী এক নজর চাইল লাবণ্যর দিকে। সুরভী যেন আরেক দফা হতবাক হলো লাবণ্যকে এত স্বাভাবিক থাকতে দেখে। এমন একটা খবরে, কেউ এতটা নির্লিপ্তভাবে বসে থাকে কী করে!

_

– দেখে কাজ করবে না? দেখি।

গরম তেল ছিটকে হাতে পড়েছে লাবণ্যর। মাহাদ লাবণ্যর হাত ছুঁয়ে দেখল ফর্সা হাতে লালচে ছোপ। মুখ নামিয়ে ফুঁ দিতে দিতে অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল,
– জ্বলছে?

লাবণ্য জবাব দেয় না। মাহাদও যেন তার জবাবের অপেক্ষা করে না। বেসিনের ট্যাপ ছেড়ে লাবণ্যর হাত রাখে ট্যাপের নিচে। পানি লাগতে হাত জ্বলে উঠল লাবণ্যর। দাঁতে দাঁত চেপে ধরল। লবণ মিশ্রিত পানিতে হাত চুবিয়ে, পেস্ট এনে লাগিয়ে দিল। লাবণ্য হাতের জ্বালা ভুলে শুধু মাহাদকে দেখছে। এতটা অস্থিরতা, এত ব্যাকুলতা তার জন্য? কেন? এতটা ভালো কেন বাসতে হবে? সে তো চায়নি। সে তো বলেনি। তাহলে তাকে ভালোবাসল কেন? দয়া করছে। তাই হবে। সে তো ভালোবাসার যোগ্য না। তবে জেনেশুনে কেন কেউ ভালোবাসতে যাবে। তাকে করুণা করছে মাহাদ। কারো ভালোবাসা নামক করুণার পাত্রী কেন হবে লাবণ্য? লাবণ্য চোখ মুখ শক্ত করে ঝট করে হাত ছাড়িয়ে নিল। চুপচাপ চুলোর সামনে দাঁড়িয়ে খুন্তি হাতে নেয়। ভাগ্যিস চুলোর আঁচ কমিয়ে রেখেছিল। নয়তো এতক্ষণে তেল পুড়ে যেত।

লাবণ্যর এমন হঠাৎ হাত সরিয়ে নেওয়াতে মাহাদ বিরক্ত হলো। তার চোখে মুখে ফুটে উঠল তা। খানিকটা রাগত স্বরে বলল,
– কী সমস্যা?

– তেল পুড়ে যাচ্ছে। তুমি এবার যাও। রান্না শেষ করতে হবে আমাকে।

– কোনো রান্নাবান্না করার দরকার নেই।

– তাহলে কী না খেয়ে থাকবে?

– দরকার হলে তাই করব।

– ফালতু কথা বলো না তো।

– ফালতু কথা বললাম কোথায়? তুমি যাও, আজ আমি রাঁধব।

– তুমি রাঁধতে পারো?

– পারি না তাতে কি, চেষ্টা করব।

– তুমি পারবে না। আমাকে করতে দাও।

মাহাদের মাথায় যেন জেদ চেপে ধরল। রান্না আজ সে ই করবে। রান্নাবান্না তো এমন আহামরি কিছু না। চেষ্টা করলেই পারা যাবে। সে নিশ্চয়ই পারবে। আর না পারলেও এখান থেকে যাবে না। রান্নার বাহানায় হলেও সে লাবণ্যর সঙ্গ চাইছে।

– আমি পারব। তুমি শুধু বলে দাও, তাহলেই হবে।

লাবণ্য খানিকটা উঁকি দিয়ে দেখল, তেল পুরো গরম হয়ে এসেছে। ক্ষীণ ধোঁয়া উড়ছে। এখন পেঁয়াজ না দিয়ে পরে পোড়া গন্ধের জন্য খাওয়া যাবে না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও চোখ মুখ কঠিন করে বলে উঠল,
– পেঁয়াজ কুচি দাও।

মাহাদ আশেপাশে তাকিয়ে পেঁয়াজ কুচি কোথায় রাখা খুঁজতে লাগল। অথচ তার হাতের কাছেই রাখা সেইটা নজরে এলো না তার। লাবণ্য এগিয়ে গিয়ে বাটিতে থাকা পেঁয়াজ কুচি কড়াইয়ে ঢেলে দিল। ছ্যাঁৎ করে শব্দ হতেই মাহাদ খানিকটা ছিটকে দূরে সরে গেল। হঠাৎ এমন শব্দে ভয় পেয়েছে সে। লাবণ্যর সামনে এমন হওয়াতে বিব্রত বোধ করে মাহাদ। অথচ দেখা হলো না তার এমন ভয়ে কারো মুখে অদৃশ্য হাসির দেখা মিলেছে। মুখে হাসি ফুটতে তা আবার মিলিয়েও গেল কেমন।

লাবণ্য মাহাদের থেকে একপ্রকার খুন্তি ছিনিয়ে নিল।‌ মাহাদ নিঃশব্দে সরে দাঁড়ায়। তর্কে গেল না আর। সে বুঝে গিয়েছে, আর যাইহোক তার দ্বারা খুন্তি নেড়ে এসব রান্নাবান্না সম্ভব না। ব্যাচেলর লাইফে তার রান্নার পালা এলেও নাওয়াজের কাঁধে গছিয়ে দিত তা। রুমমেটের সকলে এ নিয়ে তাকে কম কটাক্ষ করত না। তবুও সে কখনো চুলোর ধারের কাছেও যায়নি। তেল ছিটকে পড়াতে যা হলো, রান্না করতে গেলে দেখা যাবে যেটুকু সম্মান আছে তাও রইবে না।

রান্না শেষ হতে মাহাদ হাত মুখ ধুয়ে টেবিলে বসল। দুটো প্লেটে খাবার বেড়ে রাখা দেখে কপাল কুঁচকে এলো তার। এতক্ষণ খেয়াল করেনি বাড়িটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। বাড়িতে কেউ নেই না কি? লাবণ্যকে আসতে দেখে মাহাদ জিজ্ঞেস করল,
– বাকিরা কোথায়?

– বাড়িতে নেই।

– কোথাও গিয়েছে?

– হুম।

মাহাদ মুখ তুলে চাইল এবার। বাড়ির সকলে কোথাও একটা গিয়েছে আর তা সে জানে না। কপাল সংকীর্ণ করে জানতে চাইল,
– আমাকে জানাল না যে? কই গিয়েছে ওরা?

– সামিহার সাথে দেখা করতে।

– সামিহার সাথে দেখা করার কী আছে? আর ওর তো এখন হোস্টেলে থাকার কথা।

লাবণ্য মাহাদের প্লেটে মাছের পিস তুলে দিয়ে নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল,
– সামিহা সুইসাইড করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here