#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-১৩ ]
#মেহুলিনা_প্রাপ্তি
শিবলী রাতের খাওয়া দাওয়ার পর আরভিদকে নিয়ে বাইরে হাটাহাটি করতে বেরিয়েছে।দুই চাচা ভাতিজার বয়সে ব্যবধান মাত্র এক বছর। তাই তাদের সম্পর্কটা চাচা ভাতিজা কম বন্ধু সুলভ বেশি। হাটতে হাটতে আরভিদ আর শিবলী চার পাঁচটা বাড়ি পেরিয়ে গিয়েছে।সময় এখন রাত বারোটা। গ্রাম হওয়ায় এই সময়েই চারপাশে বেশ নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। ঈদের আগের দিন চাঁদ রাত হওয়ায় দূরে কোথাও কোথাও বক্স বাজানোর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কিশোর,যুবক ছেলে-পেলেরা হয়তো চাঁদ রাতের দিন আনন্দ করার জন্য বক্স বাজিয়ে উরা ধুরা নাচা নাচিতে ব্যস্ত।
শিবলী আগে আগে ফোন টিপতে টিপতে হাটছে।আরভিদ তার পিছন পিছন আসছে। হঠাৎ আরভিদ শিবলীকে ইশারা করে বললো,
” তুই সামনে এগোতে থাক ভাতিজা। আমি মূত্র বিসর্জণ দিয়ে আসছি। ”
শিবলী কথাটা শুনে মাথা নাড়িয় বললো,
” ওকে মামা ”
আরভিদ পিছনে ঘুরে যেতে নিয়েও আবার সামনে ফিরে বললো,
” আমি তোর মামা নয়,তোর চাচা হই রে ইতরের হাড্ডি। ‘
শিবলী বিরক্ত হয়ে ফোন পকেটে গুজতে গুজতে বলল,
” ওই হলো, যেই লাউ সেই কদু। এখন যাও তুমি দ্রুত নিজের কাজ সেড়ে আসো তো। আমি বরং একটু খোলা হাওয়া খেতে থাকি। ”
আরভিদ ভাতিজার কথায় মাথা নেড়ে চিপা-চাপার দিকে এগিয়ে গেল নিজের কাজ সাড়তে।শিবলী শিস বাজাতে বাজাতে সামনে এগোচ্ছে।শিবলী শিস বাজাতে বাজাতে একটা তিনতালা বাড়ির সামনে এসে দাড়ালো। এই বাড়িটা একদম রাস্তার কিনারা ঘেঁষে তৈরি।বাড়িটার মালিক এই গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব লতিফ ভূইঁয়া’র বাড়ি।শিবলী শিস বাজাতে বাজাতে আচমকা তিন তালার একটা রুমের জানালার দিকে তাকাতেই ভয়ে জমে গেল।একটা ছোট ছায়ামানব আকৃতির কিছু জানালার গ্রিলে উঠে চার হাত পা ছড়িয়ে দাড়িয়ে আছে। ছোট ছায়ামানবটাকে শিবলী নিজের দিকে চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরও থমথম খেয়ে গেল।
রাতের অন্ধকারে প্রথমে এমন একটা দৃশ্য চোখে পরলে যে কেউ ভুলটুল ভেবে বসে ভয় পেয়ে যেতে পারে। শিবলী তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ভ্রু কুঁচকে ছায়ামানবটাকে দেখে বুঝলো তিন চার বছরের একটা ছোট বাচ্চা জানালার গ্রিলে উঠে চার হাত পা ছড়িয়ে দাড়িয়ে আছে।
শিবলী বিষয়টা বুঝতে পেরে নিজের মাথার চুল পিছনে ঠেলে দিতে দিতে বলল,
” সেই চমলক্ক! এইটা তো বড় হয়ে আমার চেয়েও বড় ঘাওরা হবে। ”
শিবলী কথাটা বলে জানালার দিকে আবার তাকাতেই দেখলো একটা মেয়ে ছোট বাচ্চাটাকে সরিয়ে নিচ্ছে বকা দিতে দিতে।মেয়েটার সাথে শিবলীর চোখাচোখি হতেই মেয়েটা তাড়াতাড়ি পর্দার আঁড়ালে চলে গেল। শিবলী তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সেটা পরখ করে বাঁকা হাসলো।শিবলী জানালার দিকে তাকিয়েই চিৎকার করে বললো,
” এই যে আপু, আপনার দুষ্ট বাচ্চাকে রাত বিরাতে সামলে রাখবেন। সবাই আমার মতো স্ট্রং হার্টের অধিকারী নয়। দুর্বল হার্টের মানুষেরা আপনার বাচ্চার কান্ডে মুহুর্তেই অক্কা পেতে পারে।আমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার নেই।আমি ফ্রিতে এরকম দুই একটা উপদেশ মানুষকে প্রায়ই দিয়ে থাকি। ”
পর্দার আড়ালে দাড়িয়ে থাকা মেয়েটা শিবলীর কথা গুলো শুনে থমথম খেয়ে গেল। মেয়েটা পর্দা ধরেই জানালার কর্ণার ঘেঁষে বিছানার উপর হাটু মুড়ে বসে আছে। কোলে তার দুষ্ট ভাগ্নি আলিজা।যে একটু আগে জানালার গ্রিলে চড়ে দাড়িয়ে ছিল।আর যে মেয়েটা আলিজাকে সরিয়ে নিচ্ছিল সে আলিজার মা নয় ছোট খালামনি।যার নাম ইফাত আরা ইমা।ইমা মেয়েটা অচেনা একটা পুরুষের মুখে নিজেকে বাচ্চার মা ভাবতে দেখে চমকে গিয়েছে। তার চেয়েও বেশি চমকেছে লোকটাকে এভাবে চিল্লিয়ে এসব উপদেশ দিতে দেখে।ইমার যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না, স্বাভাবিক মানুষ এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে। ইমার তো লোকটাকে রীতি মতো ছেড়া ,নয়তো মাথা মোটা লোক বলেই মনে হচ্ছে।
ইমা ইজের মনের কথা মনে রেখেই পর্দার আঁড়াল থেকে উঁকি দিয়ে দেখলো অচেনা অদ্ভুত লোকটা ইতিমধ্যে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে।
___
শিবলী হাটতে হাটতে আরও অনেকটা পথ এগিয়ে গেল।আরভিদ তার অনেকটা পিছনে পড়ে গিয়েছে। তালেব মাস্টারের বাড়ির সামনে আসতেই শিবলীর মনে মনে একটা গানের সুর বেজে উঠলো। হঠাৎ আতিফ আসলামের Adaat গানটার লিরিক্স শিবলীর মাথায় ঘুরতেই তার গলা ছেড়ে গান গাইতে মন চাইলো। শিবলীর আবার মনের উপর জুলুম করার অভ্যাস নেই। তাই সে গলা খাঁকাড়ি দিয়ে গান ধরলো,
AaaAaaaAaa…
Ab to aadat sii hain mujhKo
aisee jineey meinnn…
HeheeeEeee… hohoooOooo…
hohoooOooo…
AaaaAaaaAaa…
AaaaAaaaAaa… OoOoooOooo…
Yei jo yadein hain….
আর শেষ করতে পারলো না শিবলী এর আগেই তালেব মাস্টারকে জুতা নিয়ে ছুটে আসতে দেখলো। তালেব মাস্টার মূলত শিবলীর বেসুরো গলার,
HeheeeEeee… hohoooOooo…
hohoooOooo…
AaaaAaaaAaa…
AaaaAaaaAaa… OoOoooOooo… এই টান শুনেই ছুটে এসেছে। তালেব মাস্টারের ধারনা তাকে বিরক্ত করতে কেউ বোধহয় এইভাবে চিল্লাচিল্লি করছে।
শিবলী তালেব মাস্টারকে জুতা হাতে ছুটতে দেখে দুই গালে হাত ছুঁইয়ে তওবা কেটে ভোঁ দৌড় দিল। তালেব মাস্টার অবশ্য শিবলীকে চিন্তে পারেননি।তালেব মাস্টার আমির সাহেবের বাল্য কালের বন্ধু।সেই দিক থেকে তালেব মাস্টার শিবলীর দাদা হয়। আরভিদ দূর থেকে ঘটনাটা দেখে আর সামনে এগোলো না। দূরে দাড়িয়েই হাসতে হাসতে ভাতিজার পালানো দেখলো। শিবলী দৌড়ে আরভিদের কাছাকাছি আসতেই সে দাঁত বের করে হেসে বললো,
” আহো ভাতিজা আহো। ”
শিবলী খড়খড়ে গলায় কিড়মিড় করে বললো,
” শা*লা বুইড়া এক নাম্বারের বান্দর ব্যাটা। ”
আরভিদ হাসি চেপে বললো,
” রাত ১২: ৩০। চল এবার বাড়ির দিকে হাটা ধরি। ”
” ওকে চলো। ”
___________________
রোদেলা দাঁতে ঠোঁট কামড়ে ধরে দুরু দুরু বুকে এগোচ্ছে নানি শাশুড়ি আর দাদি শাশুড়ির হাত ধরে। রোদেলা শাড়ির আঁচলে সমানে নিজের আঙুল পেচাতে পেচাতে আস্তে ধীরে উপরে করিডর ধরে হেটে যাচ্ছে। রোদেলা আস্তে আস্তে অগ্রসর হওয়ায়, আফিয়া আলফিনার থেকে পিছিয়ে গিয়েছে। আলফিনা এবার তা দেখে নিজের নাত বউ এর হাতটা শক্ত করে টেনে নিতে বলল,
” আরে মাইয়া নিজের স্বামীর কাছে যাইতে এতো শরমের কি আছে? প্রথম একটু শরম করবোই।পরে দেখবি আস্তে আস্তে সব অভ্যাস হয়ে যাবে। ”
রোদেলা কি আর বলবে?রোদেলার বয়স কম হলেও আলফিনা ঠিক কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে তা তার বুঝতে অসুবিধা হলো না।রোদেলা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বুকে হাত রেখে বড় করে শ্বাস নিল। রোদেলা মনে মনে ভেবে নিল আজ যায় হয়ে যাক, সে আজকে আহিয়ানকে ভয় পাবে না। নিজের অধিকার আদায় করতে রোদেলা আজকে আহিয়ানের মুখোমুখি হবেই।
–
আফিয়া আহিয়ানের দরজায় টুকা দিল এক দুই বার। রোদেলা তার নানি শাশুড়ি আর দাদি শাশুড়ির পিছনে লজ্জায় লুকিয়ে আছে। আহিয়ানের গম্ভীর মুখ খানা রোদেলার চোখে ভাসতেই ভয়ে বুকটাও কেঁপে উঠছে।দুই তিন বার শব্দ হতেই আহিয়ান দরজা খুলে সামনে তাকাতেই এক সাথে নানি আর দাদিকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকালো।দুজনের পিছনে রোদেলাকেও আহিয়ানের চোখ এড়ায়নি।রোদেলা মাথায় ঘোমটা টেনে পিছন দিকে ফিরে ছিল। আহিয়ান তাই রোদেলার মুখ দেখতে পায়নি।
আহিয়ানের স্তম্ভিত চোখ আর ভ্রু যুগলকে আরও প্রসারিত করে দিতে আলফিনা হেসে, আহিয়ানকে ঠেলে সরিয়ে দিল। তারপর একটানে রোদেলাকে নিয়ে আহিয়ানের রুমে ঢুকে গেল।
নিজের দাদি আর নানিকে রোদেলাকে নিয়ে এভাবে নিজের রুমে ঢুকতে দেখে আহিয়ানের ললাটে ভাঁজ পরলো। রোদেলার দিকে চোখ পরতেই আহিয়ানের চোখদ্বয়ে খানিকটা কোমলতা নেমে এলো। আলফিনা আর আফিয়ার আঁচল চাপা মৃদু হাসি দেখে, আহিয়ানের এদের মতলব বুঝতে বেগ পেতে হলো না। আহিয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চেয়ারে গিয়ে বসলো। গায়ে তার আগের সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি আর টাওজারটায় আছে। আহিয়ানের দৃষ্টি নিজের পায়ের দিকে নিব্ধ।
আলফিনা নাতির গম্ভীর মুখখানা দেখে বিরক্ত হলো।আলফিনা নাতির সামনে গিয়ে দাড়ালো।আহিয়ানের আর্মি কাট করা চুলে আঙুল ছুঁইয়ে বলল,
” তোমার বউকে নিয়ে এলাম দাদু ভাই। ভালো করিনি? শোন দাদু ভাই বিয়ের পর বউকে আদর সোহাগে রাখতে হয়। তুমি বউকে দূরে দূরে আর কত কাল সরিয়ে রাখবে বল দেখি ভাই? তাই আজ থেকে তোমার বউ তোমার সাথেই থাকবে বুঝেছো? ”
বেয়ানের কথায় আফিয়াও সম্মতি জানিয়ে বললো,
” ঠিক বলেছেন বেয়ান। তাছাড়া এরকম পুতুল বউকে আমার নাতিটা দূরে দূরে রাখে কি করে? সেটায় তো বুঝি না বাপু। ”
আহিয়ান তার দাদি আর নানির কথায় দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মাথা তুলে তাকালো।আহিয়ানের চোখ দুটো এবার সরাসরি রোদেলার মুখশ্রীতে গিয়ে আটকালো।রোদেলা এতোক্ষণ নানি আর দাদি শাশুড়ির কথায় লজ্জায় কাচুমুচু করে লাল,নীল,হলুদ,কমলা,বেগুনি হচ্ছিল।আহিয়ানের সাথে রোদেলার চোখাচোখি হতেই আহিয়ানের তীক্ষ্ণ চাহনির তোপে রোদেলা মৃদু কেঁপে উঠলো। এরকম প্রলংক্ঙারি চাহনির কবলে পরে রোদেলা মুহুর্তেই লজ্জায় মাথার আঁচলটা আরও টেনে মাথা নুইয়ে রাখলো। আহিয়ান তবুও এক সেকেন্ডের জন্যও রোদেলার উপর থেকে চোখ সরালো না। আহিয়ানের মুখটা আগের মতোই গম্ভীর।চোখে একধরনের নির্লপ্ততা তবুও আজ চোখ দুটো দেখে শান্ত নদীর মতো স্থির মনে হচ্ছে।আহিয়ান রোদেলার মাথা থেকে পা পর্যন্ত খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলো।
আহিয়ানের দৃষ্টি যে রোদেলার উপর ঘুরছে এটা বুঝতে পেরেও রোদেলা মাথা নিচু করে রাখলো। আহিয়ানের চোখ আটকালো রোদেলার হাতে।গাঢ় লাল রঙা মেহেদি আঁকা রোদেলার হাত দুটো দেখতে খুবই সুন্দর লাগছে। মেহেদি আঁকা হাতে দুইটা মোটা স্বর্ণের বালা যেন সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। লাল টুককে শাড়িতে রোদেলাকে অনেকটা বড় দেখাচ্ছে। আহিয়ান সব কিছু পরখ করে চোখ বুজে ফেলল। ঢুক গিলার কারণে আহিয়ানের পুরুষালী অ্যাডমস অ্যাপল উপর নিচ হতে দেখা গেল। রোদেলাকে একদম লাল বউ লাগছে আজ।
____
আহিয়ানকে কিছু বলতে না দেখে আলফিনা আহিয়ানের হাত ঝাঁকিয়ে বললো,
” কি হলো দাদু ভাই? বউ এর রূপ মনে ধরেনি? ”
আহিয়া কি বলবে বুঝতে পারলো না।দাদির কথায় সে আরেক বার রোদেলাকে পরখ করে দেখে নিল। আহিয়ান তার দাদি আর নানির সামনে ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পরছে।আহিয়ান আচমকা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে হাত মুষ্টি বদ্ধ করে সোজা নিজের বিছানায় দপাস করে বসে পরলো।আহিয়ান তার নানি দাদিকে কষ্ট দিতে চাইছে না। তাই সবটা এক প্রকার চেষ্টা করছে সহ্য করে নেওয়ার।
আহিয়ানের হাবভাব ভালো ঠেকলো না আফিয়ার কাছে।সে এক হাতে বেয়াইনের হাত খামচে ধরে বললো,
” কি করবেন এখন? ”
আলফিনা আর আফিয়ার চোখে চোখে কথা হলো। আচমকা আলফিনা রোদেলাকে ঠেলে ঠাস করে আহিয়ানের পাশে বিছানায় বসিয়ে দিল। আহিয়ান বিছনায় দুই হাত চেপে দুই পা ফ্লোরে রেখে বসেছিল।দাদি শাশুড়ির আক্রমন সামলাতে না পেরে রোদেলা আহিয়ানের গা ঘেঁষে হাতের উপরেই বসে পরেছে। গায়ে আহিয়ানের হাতের স্পর্শ বুঝেই রোদেলা লজ্জায় নেতিয়ে গেল। আহিয়ানও ভরকে গেল। সাথে সাথে নিজের হাত সরিয়ে নিলেও আহিয়ান রোদেলার থেকে দূরে সরে বসলো না। আহিয়ানের হাতের বাহু রোদেলার কাঁধ ঘেঁষে আছে। আহিয়ান অনেক লম্বা হওয়ায় রোদেলার কাঁধ আহিয়ানের কাঁধ ছুঁতে পারেনি।
রোদেলা এই লজ্জাকর পরিস্থিতিতে পড়ে মনে মনে দাদি শাশুড়িকে বললো,
” বুড়িরে বুড়ি, আমার মান সম্মান সব ডুবিয়ে দিলে এই হুতুম পেঁচা মেজর এর সামনে।”
__
আহিয়ান এবার স্বাভাবিক ভঙিমায় গলা খাঁকাড়ি দিয়ে বললো,
” তো মহোদয়ারা,আমার রুমে আপনাদের পদার্পণ করার স্পষ্ট কারণ জানাইয়া এই বান্দাকে অনুগ্রহ করিলে সুবিধে হয়। ”
রোদেলা আহিয়ানের কথায় থমথম খেয়ে তার বসে থাকা আহিয়ানের দিকে চোখ পিটপিট করে তাকাতেই দেখলো আহিয়ান আগে থেকেই তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আহিয়ানের চোয়াল অস্বাভাবিক ভাবে শক্ত হয়ে আছে। রোদেলা বুঝতে পারলো মেজর সাহেব হয়তো রেগে যাচ্ছে। রোদেলা মাথা নুইয়ে মনে মনে বললো,
” আপনার নানি, দাদি আমাকে জোর করেছে বলেই আজ এসেছি। নয়তো আপনার এই অন্ধকারাচ্ছন্ন মুখ আমার কাম্য ছিল না মেজর সাহেব। আমি আপনার জন্য বোঝাই বটে।তাই তো এমন অনাগ্রহ করেন। আমি বুঝিতে পারি মেজর সাহেব।তবে উদ্দৃষ্টের কাছে আমি নিজেও যে বাঁধা পরে গিয়েছি।তাই তো আপনার সাথে অযাচিত এক নাম মাত্র সম্পর্কের দোহায় দিয়ে আপনার পরিবারে পড়ে আছি। আমি এতোটায় দূর্ভাগা যে, এই আশ্রয় ব্যতিত আমার এই মুহূর্তে কোথাও মাথা গোজার জায়গা টুকুও নেই। তাই তো সব বুঝেও অবুঝের মতো বারবার আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছি মেজর সাহেব। ”
আহিয়ানের কথায় আফিয়া বললো,
” তোর বউকে আজ তোর রুমেই রাখ ভাই।দেখছিসই তো বাড়িতে লোকজনে গাদাগাদি।তোর বউ যদি মানুষের রুমে ঘুমাই ব্যপারটা ভালো ঠেকবে না।তাই তোর জিনিসকে তুই বরং সামলা। আমার বাতের ব্যথা বেড়েছে আমি যায় এবার। ”
কথাটা বলেই তিনি দ্রুত কেঁটে পরলেন।আলফিনা হায় তুলে ঘুমের ভান করে বললো,
” আমার বুড়ো কর্তা ডাকছে আমায়া আমিও যায় দাদু ভাই। তোমার বউকে তোমার কাছে বুঝিয়ে দিয়ে
গেলাম। ”
আলফিনাও নিজের কথা শেষ করে দ্রুত কেটে পরলো। আহিয়ানের কাছে সবটা পরিষ্কার সকালের সূর্যের কিরণের ন্যায়। আহিয়ানের হাসি পেল তার নানি,দাদি তার সাথে চালাকি করতে এসেছে। তবে আহিয়ান তার স্বভাব সুলভ সবটা চেপে গেল।
_
দাদি শাশুড়ি আর নানি শ্বাশুড়িকে এভাবে কেটে পরতে দেখে দেখে রোদেলা ফাঁকা ঢোক গিলল। আহিয়ান এখনো রোদেলার সাথে আগের মতোই বসেছিল।দু’জনের শরীর একে অপরের সাথে ঘেঁষে আছে।রোদেলা আহিয়ানের দিকে তাকাতেই আহিয়ানের দৃষ্টি দেখে জমে গেল।আহিয়ানের দুই চোখ আটকে আছে রোদেলার মেহেদি রাঙা হাতের তালুতে।রোদেলার দুই হাতের সাদা পৃষ্টে মেহেদি কারুকার্যের মাঝে ‘ আমার অভ্র ‘ নামটা জ্বলজ্বল করছে।আহিয়ান এতোক্ষণ এটা দেখেই ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে ছিল রোদেলার হাতের দিকে। রোদেলা তা বুঝতে পেরেই হাত দুটো উল্টো করে মুঠো করে ধরলো। মনে মনে সংশয় হতে থাকলো, এর জন্য আহিয়ান না আবার জেরা করে তাকে।
আহিয়ান রোদেলাকে হাত মুঠো করে ফেলতে দেখে ঠোঁট বাঁকালো। আহিয়ান পরক্ষণে নিজের নিচের ঠোঁট দাঁতে কামড়ে ধরলো। তারপর সম্মোহনী অথচ গম্ভীর স্বরে বললো,
” হাতে কি লিখেছো? ”
রোদেলা আমতা আমতা করে বললো,
” মেহনূর আপু আর তৃষ্ণা আপু মেহেদি দিয়ে দিয়েছে।”
আহিয়ান মাথা ঝাঁকিয়ে বললো,
” হুম বুঝেছি। কিন্তু হাতে কি লিখেছো? ”
রোদেলা লজ্জায় আর ভয়ে মাথা নুইয়ে নিল। আহিয়ানের উষ্ণ হাতের বাহুর স্পর্শ লেগে আছে রোদেলার কাঁধে।রোদেলা কিছু বলতে চেয়েও লজ্জায় লাল,কমলা হয়ে উত্তর করতে পারছে না।রোদেলা উপলব্দি করতে পারছে তার গাল আর কান জোড়া গরম হয়ে উঠছে। আহিয়ান রোদেলাকে এভাবে মাথা নুইয়ে ব্লাশ করতে দেখে নিজ থেকেই রোদেলার একটা হাত টেনে নিল।তারপর আহিয়ান নিজের অন্য হাতে রোদেলার হাতের মুঠো ছাড়িয়ে নিল। আহিয়ান রোদেলার পুরো হাতে দৃষ্টি বুলিয়ে লিখারটার উপর এসে নিজের দৃষ্টি স্থির করলো। রোদেলা লজ্জায় কাচুমুচু করছে। আহিয়ান লিখাটায় দৃষ্টি স্থির রেখে পড়লো,
” আমার অভ্র ”
আহিয়ান লিখাটুকু পড়ে নিজের ভ্রু দ্বয় কিঞ্চিত উপরে তুলে আড় চোখে রোদেলাকে দেখে নিল। রোদেলা লজ্জায় তাড়াতাড়ি বললো,
” বাম হাতে মেহনূর আপু লিখে দিয়েছে আর ডান হাতে তৃষ্ণা আপু লিখে দিয়েছে। আমাকে বকবেন না একদম।আগেই বলে দিলাম। ”
আহিয়ান রোদেলার কাঁধে আচমকা নিজের একটা হাত তুলে নিয়ে রোদেলার কাঁধ জড়িয়ে ধরলো । রোদেলা আহিয়ানের এইটুকু স্পর্শেই জমে গেল। আহিয়ান এবার গলা খাঁকাড়ি দিয়ে বললো,
” তা না হয় বুঝলাম ম্যাডাম।তা লিখাটা লিখতে কে বলেছিল শুনি?”
রোদেলা কিছু না বলে আহিয়ানকে দেখে নিয়ে চুপচাপ মাথা নুইয়ে রাখলো। তৃষ্ণা আর মেহনূর রোদেলার হাতে নিজ থেকেই আহিয়ান লিখতে চেয়ে ছিল।রোদেলা তখন লাজুক রাঙা মুখে বিড়বিড় করে তৃষ্ণাকে বলেছিল,
” আপু ‘আমার অভ্র’ লিখে দাও।”
মেহনূর আর তৃষ্ণা তখন বেশ পঁচিয়ে ছিল রোদেলাকে সেই কথা শুনে।রোদেলার সব কিছু মনে পরতেই সে আরও লজ্জা পেল। আহিয়ানকে এই বাড়িতে প্রায় সবাই আহিয়ান নামেই সম্মোধন করে।তাই আহিয়ানের তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কের আঁচ করতে সময় লাগে নি যে তার বউ নিজ থেকেই হাতে ‘আমার অভ্র’ নাম লিখিয়েছে।
রোদেলা উত্তর না দিয়ে মাথা নুইয়ে রাখায় আহিয়ান এবার নিজের মাথাটা একটু কাত করে রোদেলার দিকে তাকালো।আহিয়ানের চোখ আচমকা নিষিদ্ধ স্থানে ধাবিত হলো।গতকালকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মনে পরতেই আহিয়ান রোদেলার কাঁধ থেকে হাত সরিয়ে বললো,
” দুঃখিত ”
আহিয়ানের মুখে আচমকা দুঃখিত কথাটা শুনে রোদেলা সরাসরি আহিয়ানের মুখের দিকে তাকাতেই আহিয়ানও তার পিচ্চি লাজুক লতা বউের মায়াবী মুখটা ভালো করে দেখে নিয়ে বললো,
” দুঃখিত কেন, তাই জানতে চাও তাই তো?
রোদেলা আহিয়ানের কোমল কথাটুকু শুনে বললো,
” হুম। ”
আহিয়ান এবার বিছানায় গা এলিয়ে দিল।পকেট থেকে ফোন বের করতে করতে সে বললো,
” প্রথমত তোমাকে অবিশ্বাস করেছিলাম ফোনের বিপরীত পাশের মানুষের কথায়। আর দ্বিতীয়ত সেদিন দুপুরের অযাচিত স্পর্শের…”
আহিয়ান আর নিজের কথা শেষ করতে পারলো না। তার আগেই রোদেলা লজ্জা পেয়ে নিজের কান চেপে ধরলো। আহিয়ান তা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরখ করেই থেমে গেলো।
আহিয়ান নিজের ফোনে দৃষ্টি রেখেই আবার বললো,
” তো যাও এবার।নিচে নানুমনির সাথে ঘুমিয়ে পড়ো গিয়ে। রাত হয়েছে তো অনেক। ছোট মাথায় আর চাপ ফেলতে হবে না। ”
রোদেলা মিনমিন করে বললো,
” নানুমনির সাথে আজকে অবন্তি আপু ঘুমিয়েছে।”
রোদেলা কথাটা বলে সেভাবেই বসে রইলো।আহিয়ান রোদেলাকে একই ভাবে বসে থাকতে দেখে অন্য দিকে ফিরে বাঁকা হাসলো। তার ছোট বউের সাহস দেখে বেশ অবাকও হলো সে। আহিয়ান গলা খাঁকাড়ি দিয়ে বললো,
” এই রুমে থাকবেন ম্যাডাম? ”
রোদেলা লজ্জা পেয়ে মাথা নাড়িয়ে বললো,
” হুমম। ”
আহিয়ান ফোন স্ক্রল করতে করতে বললো,
” তোমার দাদি শাশুড়ি আর নানি শাশুড়ি বুঝি এসব শিখিয়ে দিয়েছে। ”
রোদেলা শাড়ির আঁচলে আঙুল পেচাতে পেচাতে বললো,
” কেন শিখিয়ে দিতে হবে কেন? আপনার রুমে কি থাকা যাবে না? ”
আহিয়ান রোদেলার প্রশ্নে শোয়া থেকে উঠে বসে রোদেলাকে টেনে এনে আরও কাছাকাছি বসিয়ে দিল।রোদেলা থমথম খেয়ে আহিয়ানের দিকে তাকাতেই আহিয়ান বললো,
” তোমার বয়স কত? ”
” সতেরো ”
” তো এতো পাঁকনামি করতে কে বলেছে? যাও, গিয়ে মেহনূরের সাথে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।আমার এই রুমে কোনো ছোফা নেই। তুমি বা আমি কেউই ছোফায় ঘুমাতে পারবো না। নয়তো থাকতে পারতে। ”
আহিয়ানের কথায় রোদেলার নিজকে খুব ছোট মনে হলো। রোদেলা থম মেরেই এসব ভাবছিল।তখনি আহিয়ানের আবার গম্ভীর কন্ঠ ভেসে এলো,
” কি হলো? ওঠো। ”
আহিয়ান নিজেই বিছানা থেকে নেমে পরলো।রোদেলা নিজেই উঠতে নিচ্ছিল তার আগেই আহিয়ান রোদেলার এক হাতে টান দিয়ে দাড় করিয়ে দিয়েছে। রোদেলা হাল ছেড়ে দিল। তারও এই রুমে থাকার স্বাদ মিটেছে।
আহিয়ান রোদেলার হাত ধরে রোদেলাকে দরজার সামনে নিয়ে গেল। রোদেলার শাড়ি সামান্য সরে গিয়ে ধবধবে ফর্সা পেট দৃশ্যমান হয়ে আছে। আহিয়ান সেদিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিল।
রোদেলা শাড়ি সামলাতে পারে না। এর আগে বিয়ের দিন একবার শাড়ি পরেছিল শুধু। সেটাও মাশরিফা তাকে পরিয়ে দিয়েছিল।শাড়ির কুচি ইতিমধ্যে রোদেলার পায়ে বাঁধা প্রদান করছে।কয়েক কদম হাটতেই রোদেলার মনে হলো শাড়ির কুচি খুলে পরে যাবে।
আহিয়ান দরজা খুলে রোদেলার হাত ধরে বাইরে বের করে দিয়ে দরজা লাগাতে নিচ্ছিল,তখনি বাইরে থেকে শিবলীর গলার আওয়াজ শোনা গেল।শিবলীর আর আরভিদ বাসায় ফিরেছে। আরভিদের রুম নিচেই তাই সে নিজের রুমে চলে গিয়েছে। আহিয়ানের আর শিবলীর রুম উপরে দুই কর্ণারে। শিবলী নিজের রুমের দিকে যেতে নিয়েও রোদেলাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসতে আসতে গান ধরলো,
O O Jaane Jaana
Dhoondhe Tujhe Deewana
Sapnoo Mein Roz Aaye
Aa Zindagi Mein Aa Na Sanam..
আহিয়ানের হাতের মুঠোয় এখনো রোদেলার হাতটা সেভাবেই ধরা ছিল। শিবলীর গলার আওয়াজ পেয়ে আহিয়ান যেভাবে রোদেলাকে ঘরের বাইরে বের করেছিল ঠিক সেভাবেই এক টানে চোখের পলকে রোদেলাকে আবার নিজের রুমে নিয়ে এলো। তারপর ভিতর থেকে দরজা লক করে দিল।
শিবলী রোদেলার থেকে এখনও অনেকটা দূরেই ছিল।হঠাৎ যে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো না। কি হলো এটা। বিষ্ময়ে তার গান থেমে গিয়েছে। এই মাত্র সে রোদেলাকে দেখেছিল আহিয়ানের রুমের সামনে চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই মেয়েটা উধাও হয়ে গেল নাকি?
শিবলী এই বিষয়টাকে আর পাত্তা না দিয়ে ঘুরে আবার গান ধরলো,
তুমি দিও নাগো বাসর ঘরের বাত্তি নিভাইয়া
আমি বন্ধ ঘরে অন্ধকারে যাবো মরিয়া…
শিবলী তখন আহিয়ানের হাত দেখেছিল রোদেলাকে হেচকা টানে ভিতরে নিয়ে যাওয়ার সময়। তার ভাই যে নিজের বউ নিয়ে জেলাস সে ভালোই বুঝেছে।তাই আহিয়ানকে খুঁচা দিতে, শিবলী চলে যাওয়ার সময় এমন অদ্ভুত ধরনের গানের সুর তুলেছে।
শিবলীর গান শুনে আহিয়ান রাগে কটমট করতে করতে বললো,
” বেয়াদব একটা। ”
আহিয়ান এবার রোদেলার মুখের দিকে তাকালো। রোদেলা কাচুমুচু করে তাকিয়ে আছে আহিয়ানের দিকে।রোদেলার সেই হাতটা এখনো আহিয়ানের হাতের মুঠোই।আহিয়ান বিরক্ত হয়ে বললো,
” তুমি এভাবে হাবার মতো তাকিয়ে আছো কেন? যাও বিছানার এক পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ো। যতসব যন্ত্রণা আমার কপালেই ছিল। ধ্যাৎ! ”
রোদেলা তড়িঘড়ি করে বিছানার এক পাশে গিয়ে গুটিশুটি মেরে শুইয়ে পরলো।মাঝখানে একটা কোল বালিশ দিতেও ভুললো না।আহিয়ানের রাগী মুখের দিকে সে তাকাতে সাহস পাচ্ছে না। আহিয়ান আড় চোখে রোদেলার কর্মকাণ্ড দেখতে দেখতে নিজেও এগিয়ে গেল বিছানার দিকে।তারপর লাইট নিভিয়ে রোদেলার বিপরীত পাশে নিজেও শুয়ে পরলো।
_____________
পবিত্র ঈদুল আজহার সকাল বেলা।রোদেলা ঘুম থেকে উঠে নিজেকে আবিষ্কার করলো আহিয়ানের বুকে।রোদেলা ছটফট করে আহিয়ানের বুকের উপর থেকে মাথা তুলে বোকার মতন কিছুক্ষণ এদিক সেদিক তাকালো। নিজেদের সীমা ঠিক রাখতে রোদেলা যে কোল বালিশ দিয়ে বর্ডার বানিয়েছিল সেটা তাদের মাঝে নেই। রোদেলা নিজের গায়ের দিকে তাকিয়ে আরও লজ্জা পেল। শাড়ির আঁচল কুচি সব এলো মেলো হয়ে আছে তার। রোদালা তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নেমে পরলো। আহিয়ানের ঘুমন্ত মুখশ্রিটা কিছুক্ষণ দেখে নিয়ে বললো,
” এখন যেমন শান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে,আমাকে তার বুকের উপর দেখতে পেলে হয়তো কাঁচায় চিবিয়ে খেত। খোদা তুমি এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দিয়েছো হাজার হাজার শুক্রিয়া।
রোদেলা বাইরে উঁকি ঝুঁকি মেরে নিচতলায় আফিয়া আর আলফিনাকে দেখতে পেরে শাড়ির কুচিতে হাত রেখে দ্রুত বেরিয়ে পরলো তাদের কাছে যাওয়ার জন্য।রোদেলা চলে যেতেই আহিয়ান চোখ খুলে একবার দরজার দিকে উঁকি দিয়ে বললো,
” যতসব ঝামেলা। আর পারছি না বাবা। ”
_______
শিবলী প্রতিদিন অনেক বেলা করে ঘুমালেও আজকে ঈদের দিন থাকায় তাড়াতাড়ি উঠে পরেছে।এর অবশ্য কারণ আছে। গরু তিনটা গতকালকেই বাসায় আনা হয়েছে। তার ভেরিফাই একাউন্টে শিবলী গরুর সাথে একটাও ছবি ছাড়েনি। এমন করলে কি হয়? সবাই গরুর সঙ্গে ছবি পোস্ট করবে আর সে করবে না?এমনটা হলে তো জনগণ তাকে মেনে নিবে না। তাই সে আজকে গরু কুরবানী কররার আগে হলেও এই অপবাদ কাটাবে। শিবলী নিজের আইফোন দিয়ে তিনটা গরুর সাথে তিনটা সেলফি তুললো।শিবলীর পরনে একটা কালো টিশার্ট আর থ্রিকোয়াটার প্যান্ট।শিবলী ছবি তিনটা নিজের ভেরিফাই অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে দিল। তারপর হেলেদুলে নিজের রুমে ফিরে গোসল করতে ঢুকলো।তার অনেক কাজ সারাদিন। তবে সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে আজকে আহিয়ান ব্যাটাকে ইচ্ছা মতো জ্বালাতে হবে। বিশেষ করে রাতের ঘটনার জন্য শিবলী আহিয়ানকে একচুলও ছাড় দিবে না।
চলবে…..
( সবাই রেসপন্স করবেন। বিশেষ করে সাইলেন্স পাঠকরা আপনারও রেসপন্স করবেন। )
#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী লিংক –
https://www.facebook.com/61581445095817/posts/122135154681048169/
আমার সব গল্পের লিংক একত্রে:
https://www.facebook.com/61581445095817/posts/122136299541048169/?app=fbl
সবাই গ্রুপে জয়েন হয়ে গল্প সম্পর্কে মতামত জানাবেন।
গ্রুপ লিংক- https://facebook.com/groups/2493488501095403/
আইডি লিংক – https://www.facebook.com/profile.php?id=61583969099988

