#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-০৯ ]
#মেহুলিনা_প্রাপ্তি
অর্ণবের চোখের আকুলতা আর পাগলামি ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। রোদেলা আরও পিছিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো। তানিয়া আর ইনায়া রোদেলাকে আগলে নিতে লাগলো। তাশিন তানভীরও অর্ণবের পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে অর্ণবের এমন বেপরোয়া আচরণে।
অর্ণব যেই হাত বাড়িয়ে রোদেলার হাতটা টেনে সামনে আনতে নিল তখনই আহিয়ান বাইক থেকে নেমেই কোনো কথা না বলে সোজাসুজি অর্ণবের কলার চেপে ধরলো। অর্ণব সহ সকলে বিস্ময়ে আহিয়ানের দিকে তাকালো। রোদেলা আহিয়ানের রাগান্বিত ভয়ানক চেহারাটা দেখেই জমে গেল। আহিয়ান এক টানে অর্ণবকে রোদেলার সামনে থেকে কয়েক হাত দূরে নিয়ে গেল। অর্ণব নিজের উপর এমন হিংস্র ধরনের মানুষ আকৃতি দানবকে আক্রমণ করতে দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল। অর্ণব নিজেকে ছাড়াতে কিছু বলতে নিবে তার আগেই আহিয়ান অর্ণবের নাকে-মুখে কয়েকটা এলোপাথাড়ি ঘুষি বসিয়ে দিল। রোদেলা সহ সকলেই ভয়ে আতঙ্কে জমে গেল। আহিয়ান যে রোদেলার বর এটা রোদেলা ছাড়া অন্যদের অজানা। তাই অপরিচিত এই লোকের এমন হিংস্রতা দেখে সবাই বারবার কেঁপে উঠছে।
রোদেলা সহ সবাই দেখলো অর্ণবের নাক-মুখের অনেক জায়গা ফেটে চিড়ে সেখান থেকে রক্ত পড়ছে। আহিয়ান তাও থামার নাম নিচ্ছে না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রোদেলা ছটফট করে আহিয়ানের কাছে গেল। আহিয়ানকে বাঁধা দিতে নিজের সর্বোচ্চ জোর খাটিয়ে আহিয়ানের একটা বাহু চেপে ধরে তাকে সরিয়ে আনতে চাইলো। কিন্তু এই শরীরে আহিয়ানের পা অবধি টলাতে পারলো না রোদেলা। পেছনে বাধা পেতেই আহিয়ান পেছনে কে আছে তা না দেখেই রোদেলাকে এক হাতে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। রোদেলা উল্টে পড়তে নিলে তানিয়া আর ইনায়া এসে আঁকড়ে ধরলো।
আহিয়ান অর্ণবের নাকে-মুখে আরও কয়েকটা ঘুষি দিয়ে অর্ণবের কলার চেপে নিজের মুখোমুখি ফিরিয়ে দিল। বলিষ্ঠ আর্মি মেজরের মার সামলানো মুখের কথা নয়। অর্ণব চোখ তুলে ঠিকঠাক দেখতেও পাচ্ছে না আহিয়ানকে। আহিয়ানের সেসবের অবশ্য খেয়াল নেই। আহিয়ান আরও দুটো ঘুষি বসিয়ে দিল অর্ণবের পেটে। তারপর রাগে কটমট করতে করতে গম্ভীর রাশভারী কণ্ঠে বলল,
“রাত হলেই অন্যের বউকে নিজের প্রেমিকা মনে হয় তোর শালা। আমার বউকে জান, রোদপাখি বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলিস। তোর মুখে কত জোর আজ আমি দেখবো না?”
কথাটা বলেই আহিয়ান অর্ণবের চুল মুঠো করে ধরে আরও কয়েকটা ঘুষি বসিয়ে দিল অর্ণবের চোয়াল বরাবর। অর্ণব রোদেলা সহ সবাই আহিয়ানের কথাগুলো শুনতেই তাদের বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেল। রোদেলার দিকে তাশিন, তানভীর, তানিয়া বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রোদেলা আহিয়ানের কথা শুনে তার মাথা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। রোদেলা কপাল চেপে মনে মনে আওড়ালো,
“কালকে রাতে রং নাম্বার থেকে ফোন করে আজগুবি কথা বলা লোকটা তাহলে অর্ণব স্যার ছিল।”
রোদেলার বিস্ময়ে আপনা আপনি মুখে হাত চলে গেল। আহিয়ান এবার অর্ণবকে মারতে মারতে রাস্তায় ফেলে দিল। আহিয়ান অর্ণবের বুকের উপর উঠে এসে অর্ণবকে চেপে ধরে বলল,
“তোর এতো বড় সাহস, রাতে ফোন দিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলে আবার সকালে ফোনের নাম্বার ট্র্যাক করে আমার বাড়ি অবধি পৌঁছে গিয়েছিলি। তোর এত বড় কলিজা, আমার বউয়ের জন্যই আমার বাড়িতে চিঠি আর গিফট পাঠিয়েছিস। তোর এই কলিজাটা যে এখনও আমি টেনে ছিঁড়ে এনে ওজন করিনি, সেটাই তো বেশি।”
রোদেলা আহিয়ানের কথাগুলো শুনে জমে দাঁড়িয়ে পড়লো। মানে কি অর্ণব স্যার তার শ্বশুরবাড়ি অবধি পৌঁছে গিয়েছিল। তাও আবার উপহার আর চিঠি নিয়ে। আগে তো অর্ণবের এমন আচরণ করেনি তার সাথে। রোদেলার হাত-পা কাঁপছে। কাল রাতে আহিয়ানকে হিংস্র দানবের থেকে কম মনে হয়নি। আজকে আবার তার রাগ-হিংস্রতা দেখলো। রোদেলার অন্তরে একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে,
“এত যে অধিকার নিয়ে আমার বউ, আমার করছে আহিয়ান। একটু পরেই তো সব ভুলে গিয়ে বলবে বউ মানি না। তাহলে এত নাটক করার কি আছে? কেউ তাকে চিঠি, উপহার পাঠালে আহিয়ানের তো জ্বলার কথা না। আর না জ্বলার কথা রোদেলাকে কেউ জান, রোদপাখি বলে ডাকলে। তবে কেন উনি এমন আচরণ করছেন কেন?”
রোদেলা নিজের মনের কথাগুলোর কোনো উত্তর খুঁজে পেল না। এদিকে অর্ণবের অবস্থা বেহাল। সবাই দাঁড়িয়ে দেখলেও কেউ সাহস করে আহিয়ানকে থামানোর চেষ্টা করতে পারছে না। রোদেলা এসব দেখে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না। ছুটে গেল আহিয়ানের নিকট। শরীরের সবটুকু জোর দিয়ে আহিয়ানকে পিছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। রোদেলার কোমল নারী কায়া আহিয়ানের শক্তপোক্ত পিঠে মিশে গেল। রোদেলা সেসবের তোয়াক্কা না করে বলল,
“শান্ত হন মেজর সাহেব। এটা রাস্তা, কি করছেন আপনি? প্লিজ ওনাকে ছেড়ে দিন এবার।”
আহিয়ান রোদেলার কোমল কায়ার স্পর্শ পেয়ে আগেই জমে গিয়েছিল। তার উপর এত অধিকার নিয়ে জড়িয়ে ধরার সাহস দেখে আহিয়ানের চোয়াল যুগল ফাঁক হয়ে গেল। রোদেলার রিনরিনে কণ্ঠে বলা কথাগুলো তার কানে পৌঁছানো মাত্রই সে থেমে গেল। চোখে সেই কঠিন দৃষ্টিটায় একটু কোমলতা নামলো যেন। আহিয়ান অর্ণবের উপর থেকে সরে এসে কোনো কথা না বলে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। রোদেলা আহিয়ানকে সরে আসতে দেখে নিজের হাতের বাঁধন আলগা করে দূরে সরে এলো।
আহিয়ান ফোনে কাউকে কল করে এখানে আসতে বলেই নিজের বাইকের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। বাইকে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে একদম রোদেলার গা ঘেঁষে এসে দাঁড়ালো। রোদেলা এভাবে বাইকটাকে নিজের কাছে চাপতে দেখে ভয়ে দুই কদম পিছিয়ে গেল। আহিয়ান গাড়ি স্টার্ট দিয়ে এখনও দাঁড়িয়ে আছে। রোদেলাকে একবারও বলছে না গাড়িতে এসে উঠে বসতে। রোদেলাও সেভাবে দাঁড়িয়ে আছে দেখে আহিয়ানের হালকা ভাটা পড়া রাগটা আবার তরতর করে বেড়ে গেল। আহিয়ান রাগে চোয়াল শক্ত করে অযথায় জোরে হর্নটা বাজাতে লাগলো। আহিয়ানকে এভাবে অযথায় হর্ন বাজাতে দেখে রোদেলা সহ সবাই ভড়কে তাকালো। রোদেলা উঠছে না, আহিয়ানও হর্ন থামাচ্ছে না। তবুও আহিয়ান একবারও নিজ থেকে রোদেলাকে বাইকে উঠে আসতে বলছে না। তানিয়া রোদেলার কানে কানে কিছু ফিসফিসিয়ে বলতেই রোদেলা বুঝতে পারলো এই হর্ন বাজানোর সংকেতে তাকে বাইকে উঠে বসতে আহ্বান করা হচ্ছে।
রোদেলা শুকনো গলায় ঢোক গিলল। রোদেলার কাছে মনে হচ্ছে এ তার হাসব্যান্ড নয় যেন সাক্ষাৎ কোনো জমদূত। রোদেলা ভয়ে এগিয়ে গেল বাইকের কাছে। আহিয়ানের সাথে চোখাচোখি হলো। আহিয়ান রোদেলাকে দেখেই আবার বিরক্তিতে চোখ ঘুরিয়ে সামনে তাকিয়ে বাইকের হ্যান্ডেল দুটো শক্ত করে চেপে ধরলো। রোদেলা ভয়ে ভয়ে বাইকে উঠে বসলো। আচমকা বাইক চলতে শুরু করলো। রোদেলা বাইকের সম্মুখমুখী গতিজড়তার জন্য আহিয়ানের পিঠের উপর আচড়ে পড়তেই তার নারী কায়া আহিয়ানের শক্ত পিঠের উপর গিয়ে পড়লো। রোদেলা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আহিয়ানের কালো শার্টের পিঠের দিকে শক্ত করে মুঠো করে ধরলো। পুরুষালী শক্ত পিঠে রোদেলার নারী কায়া আঁচড়ে পড়াতে সে ভালোই ব্যথা পেয়েছে। রোদেলা লজ্জায় ভয়ে জড়তায় নুইয়ে রইলো। আহিয়ানের ভাবভঙ্গিমায় কোনো পরিবর্তন নেই, সে শক্ত হয়ে আগের মতোই সামনে মনোযোগ রেখে বাইক চালাচ্ছে।
হঠাৎ আহিয়ান বাইকের গতি বাড়িয়ে দিতেই রোদেলা নিজের লজ্জা, ভয়, সংকোচ ভুলে গিয়ে নিজের হাতটা সামনে এনে আহিয়ানের পেটের উপর নিয়ে রাখলো। পুরুষালী শক্ত উদরে কোমল হাতের স্পর্শ পেয়ে আহিয়ানের ভেতরটা একটু কেঁপে উঠলো। আহিয়ান রোদেলার কোমল হাতের দিকে একবার তাকিয়ে আবার সামনের রাস্তায় মনোযোগ দিল। রোদেলা ভয়ে ভয়ে ছিল, হয়তো এই গম্ভীর মুখো মেজর তাকে এখনই গাড়ি থেকে নামিয়ে দেবে। কিন্তু রোদেলাকে অবাক করে দিয়ে আহিয়ান এবার কিছুই বললো না। পুরো রাস্তাটা আহিয়ান এভাবেই রোবটের মতো সামনে দৃষ্টি রেখে বাইক চালাতে থাকলো। রোদেলার কিছু মনে পড়তেই আমতা-আমতা করে বলল,
“শুনছেন?”
আহিয়ানের কাছ থেকে কোনো জবাব এলো না। শুধু ভ্রু যুগল কুঁচকে উঠতে দেখা গেল। আহিয়ানকে সাড়া দিতে না দেখে রোদেলা আরও একটু জোরে বলল,
“শুনছেন? বাইকটা থামানো যাবে? আমি দোকান থেকে বাচ্চাদের জন্য চকলেট নিব।”
রোদেলার শেষের কথায় আহিয়ান বাইকটা রাস্তার পাশে একটা গ্রোসারি শপের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল। বাইক থামতেই রোদেলা নেমে দ্রুত শপে ঢুকে গেল। আহিয়ান নির্লিপ্তভাবে বাইক থেকে নেমে একটু দূরে দাঁড়িয়ে সিগারেট বের করে ঠোঁটে পুরলো। অতিরিক্ত রেগে থাকলে বা দুশ্চিন্তায় থাকলেই তাকে ধূমপান করতে দেখা যায়।
গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনা আহিয়ানের মাথাকে বিগড়ে দিয়েছে। একদিকে কাজের জায়গা থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর হতাশা। তার উপর রোদেলার সাথে জড়িত প্রতিটি বিষয়ে তাকে না চাইতেও জড়াতে হচ্ছে, কেননা এতে তার সম্মান জড়িত। বউ মানুক আর না মানুক নিজের বিবাহিত স্ত্রীর সাথে পরপুরুষের সম্পর্ক মেনে নেওয়ার মতো কাপুরুষ আহিয়ান নয়। আজ যদি কোনোভাবে রোদেলার আর অর্ণবের মধ্যে সামান্য প্রেমঘটিত সম্পর্কের আঁচ পেত, তবে আহিয়ান রোদেলাকে কোনো পরোয়া ছাড়াই তালাক দিত।
রোদেলা গতরাতে আহিয়ানের রুম থেকে চলে আসার পর আহিয়ান ভাঙা ফোনের স্তূপ থেকে নিজের রোদেলার সিমটা খুঁজে বের করেছিল। তারপর তা নিজের ফোনে ঢুকিয়ে অচেনা নাম্বারটা নোট করে কোথাও পাঠিয়ে দিয়েছিল। দিয়েছিল কড়া আদেশ, রাতের মধ্যেই ওই নাম্বারের লোককে খুঁজে বের করতে হবে। ব্যস, তার কথা মতো লেফটেন্যান্ট জাবির তার পরিচিত এক লোকের মাধ্যমে রাতেই সব তথ্য বের করে ফেলেছিল। অর্ণবের সব ইনফরমেশন আহিয়ান রাতেই দেখেছিল। তারপর নিজের লোক লাগিয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছিল এই ছেলেকে রোদেলার সাথে কেউ কখনো দেখেনি। লোকটা শুধুই রোদেলার কোচিংয়ের টিচার এই যা। আহিয়ান সব কিছু শোনার পর একটু শান্ত হয়েছিল। তবে কোনো এক অজানা কারণে তার পুরো রাত ঘুম হয়নি। তাই সকাল সকাল শরীরচর্চার জন্য ওঠার পর একবার রোদেলার রুমে উঁকি দিয়েছিল। ভেবেছিল একবার সরি বলে দেবে। তবে রোদেলার ক্লান্ত ঘুমে থাকা মুখটায় অমানিশার অন্ধকার দেখে আহিয়ানের না চাইতেও বুকটা খচ করে উঠেছিল। কোথাও একটা ইতস্ততা কাজ করায় আহিয়ান তখন কিছু না বলেই রুম থেকে বেরিয়ে পড়েছিল।
আহিয়ান বাগানে পুশ-আপ দিচ্ছিল। এটা তার শরীরচর্চার ডেইলি রুটিনের মধ্যে পড়ে। আহিয়ান ৫৪ নাম্বার পুশ-আপ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই গেটে দারোয়ানকে কারো সাথে কথা বলতে শুনেছিল। আহিয়ান প্রথমে সেদিকে মাথা ঘামায়নি। কিন্তু যখন দারোয়ানকে মস্ত বড় কার্টন নিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেখলো তখন না চাইতেও তার দৃষ্টি সেই দিকে আকৃষ্ট হয়েছিল। আহিয়ান এক প্রকার বাধ্য হয়েই দারোয়ানের কাছে প্রশ্ন করেছিল,
“এটায় কি আছে চাচা? কোনো বিশেষ কিছু নাকি? বেশ ভারী মনে হচ্ছে?”
দারোয়ান লতিফ মিয়া এক গাল হেসে জানিয়েছিল,
“তা তো জানি না বাবা। তয় একটা চ্যাংড়া পোলা আইয়া এইটা দিয়া গেল। কইলো রোদেলাকে দিয়ে দিবেন। আমি ভাবছি নতুন বউয়ের বাপের বাড়ি থেকে পাঠাইছে।”
দারোয়ান চাচার কথায় আহিয়ান ভ্রু কুঁচকে কাছে গিয়ে কার্টনে হাত দিয়ে এক থাবায় খুলে নিয়েছিল। ভেতরের জিনিস দেখে আহিয়ানের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। লাভ শেপের ছোট ফোমের কুশন, তারপর আরেকটু নাড়াচাড়া করতেই কয়েক ধরনের চকলেট, আইসক্রিম চোখে পড়ে। গোলাপি আর সাদা রঙের দুইটা টেডি বিয়ার ছিল। তবে আহিয়ান সুন্দর খামে আবৃত লাভ লেটার দেখে বিশাল কার্টনে এক লাথি দিয়ে দূরে সরে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। লাভ লেটার হাতে কিছুটা দূরে দাঁড়ালো লতিফ মিয়ার কাছ থেকে। তারপর সেটি পড়ে আহিয়ানের থেমে যাওয়া রাগটা আবার তরতর করে মাথায় উঠে গিয়েছিল। আহিয়ান গাড়ির পার্কিং লট থেকে পেট্রোল এনে কার্টনের উপর ছুড়ে ফেলেছিল, তার পকেট হাতড়ে দিয়াশলাই বের করে আগুন জ্বালিয়ে বিধ্বস্ত এক ধ্বংস সাজিয়েছিল। লতিফ বিস্ময়ে চেয়ে শুধু আহিয়ানের মুখভঙ্গি দেখছিল।
রোদেলা পছন্দমতো চকলেট, আইসক্রিম কিনে যেই টাকা দিতে নিবে তখনই আহিয়ান তার কাছ ঘেঁষে গিয়ে দাঁড়ালো। কোনো দিকে তাকানোর প্রয়োজন বা ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন না করে দোকানির দিকে নিজের কার্ড এগিয়ে দিল বিল দিতে। রোদেলা বিস্ময়ে হকচকিয়ে তাকিয়ে কিছু বলতে নিলে আহিয়ান টাকা পরিশোধ করে কার্ডটা ওয়ালেটে পুরে নিতে নিতে সামনে ঘুরে গেল। আহিয়ান সামনে একদম বাড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে আদেশমাখা বাণী ছুড়ে দিল,
“দ্রুত আসো। আমার আরও কাজ আছে। অযথা সময় নষ্টের টাইম নেই আমার।”
আহিয়ানের কথায় রোদেলা মুখ বাঁকালো। বিড়বিড় করে মুখ ভেঙিয়ে বলল,
“টাইম নেই আমার… উহুমমম।
আমি মনে হয় তাকে বলেছিলাম আমাকে নিতে আসতে। নিজেই তো ষাঁড়ের মতো মাস্তানি করতে ছুটে এলো। ষাঁড় একটা। একদম মুডি ষাঁড়। সবসময় শিং বের করে থাকে আমাকেই ভয় দেখানোর জন্য।”
চলবে…
#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী লিংক –
https://www.facebook.com/61581445095817/posts/122135154681048169/
সবাই গ্রুপে জয়েন হয়ে গল্প সম্পর্কে মতামত জানাবেন।
গ্রুপ লিংক- https://facebook.com/groups/2493488501095403/

