#অভিমাননামা
#md_shifu / ১০ পর্ব
আজ চাঁদের আনন্দ যেন আকাশ ছুঁয়েছে।
কারণ, তার বাবা রফিক হোসেন বহুদিন পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন।
বাড়িতে আসার পর থেকেই চাঁদ এক মুহূর্তের জন্যও বাবার কাছ থেকে সরে নেই। কখনো এক গ্লাস পানি এনে দিচ্ছে, কখনো চা, কখনো ফল। একটু পরপরই কোনো না কোনো অজুহাতে বাবার কাছে ছুটে যাচ্ছে। মেয়ের এই শিশুসুলভ ব্যস্ততা দেখে রফিক হোসেনের মুখের হাসিটা যেন কিছুতেই মিলিয়ে যাচ্ছে না। মেয়ের প্রতিটি কাজে তিনি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছেন।
আসলে আজ সকালেই তিনি কাউকে কিছু না জানিয়েই হঠাৎ বাড়িতে চলে এসেছেন। ইচ্ছে করেই খবর দেননি। সবাইকে একটা ছোট্ট সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলেন। আর সেই সারপ্রাইজটাই সবচেয়ে বেশি পেয়েছে চাঁদ।
কলেজ থেকে এসে বাবাকে হঠাৎ ড্রয়িংরুমে বসে থাকতে দেখে প্রথম কয়েক সেকেন্ড সে যেন বিশ্বাসই করতে পারেনি। বিস্ময়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল। মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হচ্ছিল না।
পরের মুহূর্তেই আনন্দে চিৎকার করে উঠেছিল,
“বাবা!”
এক দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরেছিল সে। রফিক হোসেন হাসিমুখে দুই হাত দিয়ে মেয়েকে বুকে আগলে নিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, বহুদিনের সব অপেক্ষা আর দূরত্ব যেন এক আলিঙ্গনেই মিলিয়ে গেছে।
………………………………………………..
“ইয়ং ম্যান, দিনকাল কেমন যাচ্ছে? শুনছি, অল্প কয়েক মাসেই বেশ সুনাম কুড়িয়ে ফেলেছ। তোমার বাবা তো তোমার প্রশংসা করতেই থামেন না।”
জামশেদ রহমানের কথায় সাইফ খানিকটা চমকে উঠল। বাবা যে তার প্রশংসা করেন, এটা শুনেই অজান্তে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।
আজ বিকেলে বাবার দীর্ঘদিনের বন্ধু জামশেদ রহমানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক চুক্তি চূড়ান্ত করতেই এখানে এসেছে সে। শহরের অভিজাত একটি রেস্টুরেন্টে মুখোমুখি বসে আছেন দুজন। এই চুক্তি সফল হলে সাইফের কোম্পানি আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
জামশেদ রহমানের কথার জবাবে সাইফ বিনয়ের সঙ্গে বলল,
“আমি ভালো আছি, স্যার। সবই আপনাদের দোয়া।”
জামশেদ রহমান মৃদু হেসে মাথা নাড়লেন।
“তোমার বাবা আর আমি শুধু বন্ধু নই, ভাইয়ের মতো ছিলাম। তাই আমাকে ‘স্যার’ না বলে ‘আঙ্কেল’ বললেই ভালো লাগবে।”
সাইফও হেসে বলল,
” আচ্ছা, আঙ্কেল।”
কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে জামশেদ রহমান বললেন,
“তোমার কাজগুলো আমি খুঁটিয়ে দেখেছি। সত্যি বলতে, বেশ মুগ্ধ হয়েছি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ডিলটা তোমাদের কোম্পানিকেই দিচ্ছি।
কথাটা শুনে সাইফের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এতদিনের পরিশ্রম যেন মুহূর্তেই সার্থক মনে হলো।
” অনেক অনেক ধন্যবাদ, আঙ্কেল। সত্যি বলতে, এই ডিলটা নিয়ে আমি খুব চিন্তায় ছিলাম। আপনি আমার একটা বড় দুশ্চিন্তা দূর করে দিলেন।”
জামশেদ রহমান হালকা হেসে বললেন,
“ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই, ইয়ং ম্যান। তুমি যেটা প্রাপ্য, সেটাই পেয়েছ। নিজের যোগ্যতায় অর্জন করেছ। এখন এসো, নাস্তা করি। কাজের কথাও তো অনেক হলো।”
কথা শেষ করে তিনি নিজের সামনে রাখা নাস্তার প্লেটের দিকে হাত বাড়ালেন। সাইফও কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে একবার তার দিকে তাকিয়ে নাস্তা শুরু করল। ব্যবসায়িক জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা যেন আজ থেকেই।
……………………………………………………….
সাজেদ অফিস শেষে বের হয়ে রিকশার জন্য দাড়িয়ে আছে। দাড়ানোর মাঝে বের হয় সাইমা। সাজেদকে দেখে সাইমা সেদিকে যায়। গিয়ে বলে,
” হাই মিস্টার, কেমন আছেন?”
” আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি?”
সাজেদের চেয়েও পদের দিক দিয়ে বড় তাই সাজেদ ছোট করে উত্তর দেই। অফিসে কারো সাথে সে ভেজালে জড়াতে চাই না আর না চাই কেউ তাকে প্রতিহিংসা করুক। সাজেদের কথার জবাবে সাইমা বলে,
” ভালোই। আচ্ছা আমরা কি কফি খেতে পারি কোথাও বসে?”
সাজেদ ভাবলো
” মেয়েটা তাঁকে পছন্দ করে। তার দিকটা যদি সে জানিয়ে দেই তাহলে হয়তো মেয়েটা আর গভীরে যাবে না। একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে পছন্দ করতেই পারে সেটা দোষের না। দোষের হবে তখন যখন মানা করার পরও পিছনে পড়ে থাকে।”
ভাবনা শেষে ছোট্ট করে বলে,
” চলুন সামনের কফি ক্যাপে।”
সাজেদ রাজি হওয়ায় সাইমার চোখে মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ে। তা সাজেদের চোখ এড়াই না। সাজেদ তা দেখে ও না দেখার মতন করে হাঁটতে থাকে। ক্যাপটা সামনে হওয়ায় হাঁটা ধরলো। সাইমাও পায়ের সাথে পা মিলিয়ে সাজেদের সাথে হাঁটতে লাগলো।
অল্পকিছুদূর হাঁটার পর দুজনই পৌঁছে যায় ক্যাপে। চেয়ারে বসে দুজনের জন্য দুটা কফি অর্ডার দেই। কফি আসতে একটু সময় লাগতে পারে হয়তো। সাজেদ ভাবলো ততক্ষণে সে তার কথাটা বলে ক্লিয়ার করে দিক। তাই সাজেদ প্রথমে মুখ খুলে।
” মিস সাইমা, আপনাকে আমি কিছু কথা বলতে চাই। আশাকরি আপনি আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং বুঝবেন।”
সাজেদের মুখে এমন কথা শুনে সাইমার বুক কাপতে শুরু করে। কিছুটা বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। কি বলবে বুঝতে পারেনা। শুধু মাথা নাড়ে বলার জন্য।
আমি বুঝতে পারছি তুমি আমাকে পছন্দ করো সেটা। তাই আমি আমার দিকটা ক্লিয়ার করতেছি যাতে আপনি গভীরে যাওয়ার আগে থেমে যান।” বলেই একটু থামে সাজেদ। সাজেদের থেকে চোখ সরিয়ে সাইমা এদিক ওদিক থাকায়। যেনো চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আবার মনের মাঝে কিছুটা ভয় ও হচ্ছে প্রত্যাখান এর।
সাজেদ আবার বলতে শুরু করে।
” কাউকে ভালোলাগা ভালোবাসা খারাপ কিছু না। তবে ভুল মানুষকে ভালোবাসতে যাইয়েন না। আপনার জন্য আমি ভুল মানুষ। আমার সামনে যদি হাজার সুন্দরী মেয়েও এনে দেন তবুও আমার মন পড়ে থাকবে সেই মিষ্টি কন্ঠের অধিকারীনীর কাছে। আপনাকে কষ্ট দেওয়া আমার উদ্দেশ্য না বরং ভবিষ্যতে যাতে আরো বেশি কষ্ট না পান সেটা থেকে বাঁচাতে এতো কথা। এখন হয়তো আপনি আমাকে তেমন গভীর ভাবে ভালোবাসেন নাই। শুধু ভালো লাগা এতোটুকুই। আমি একটা মেয়েকে পছন্দ ভালোবাসি। সে ছাড়া আমি আর কাউকে ভালোবাসতে পারবো না। ”
দীর্ঘ বক্তব্যের পর থামে সাজেদ। দেখতে পাই সাইমা কান্না লোকাতে ব্যস্ত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশি কষ্ট পাওয়ার চেয়ে অল্প কষ্ট পাওয়াই ভালো। তাদের কথার মাঝে কফি চলে আসে।
সাজেদ সাইমা কে কফি খেতে বলে। অনিচ্ছা স্বত্বেও সায়মা কফি খেতে থাকে।
সায়মা নিজের কষ্ট লোকাতে হালকা হাসতে চেস্টা করে। নিজের মনও বলে উঠে সাজেদ যা বলছে তা ঠিক। সাজেদের প্রতি তার আলাদা একটা সম্মান বের হয়েছে এইভেবে যে সে তার দুর্বলতা বুঝতে পেরে তার পিছনে ঘুরাই নাই। উল্টো ভালো লাগা গভীর হওয়ার আগেই তাঁকে সেখান থেকে ফিরে আসার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে।
কফি খাওয়া শেষে সায়মা বলে,
” আপনাকে ধন্যবাদ। অতল গভীরে হারিয়ে যাওয়ার আগে আমাকে ফিরিয়ে আনার জন্য। মিথ্যা বলবো না, এখন একটু হলেও খারাপ লাগতেছে তবে ভবিষ্যতে যে কষ্টটা পেতাম সেটার তুলনায় এটা অনেক কম।”
সাজেদ কিছু বলে না। শুধু একটা মুচকি হাসি দেই। তারপর বলে
” চলুন আমরা বের হয়।”
” হ্যা অবশ্যই।”
ক্যাফ থেকে বের হয়ে দুজন দু পথে চলে যায়। সায়মা সাজেদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
” মানুষ যা চাই তা কেনো পাই না?”
এর কোনো উত্তর সায়মার নাই। কিছু না ভেবে একটা রিকশা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য চলে যায়।
………………………………………………………………
” তা তোমার ভাগ্নে এখনো আসে নাই?”
নাস্তা করতে করতে স্ত্রী থেকে জিজ্ঞেস করে রফিক উজ্জামান। স্বামীর কথায় চোখ তুলে চাই কোহিনূর। শান্ত কন্ঠে বলে,
” না। মনে হয় একটু পর এসে যাবে। আসলে নিচে আসতে বলবো।”
” হ্যা বলিও। অনেক বছর হয়ে গেলো দেখি না। তোমার ভাগ্নের যে অভিমান। বাপরে বাপ।”
বলেই হেসে দেয় রফিক।
কোহিনূরের হাতের চামচটা মুহূর্তের জন্য থেমে যায়। চোখদুটো নিচু হয়ে এলো। অতীতের সেই ভুলগুলোর কথা মনে পড়তেই বুকের ভেতরটা আবার ভারী হয়ে উঠল। চোখে মুখে ফুটে উঠেছে অতীতের জগন্য কাজের জন্য লজ্জিত সেটা। স্ত্রীর মুখে বিষন্নতা দেখে রফিক কথা ঘুরিয়ে ফেলে। রফিক দুষ্টু হেসে বললো,
” তোমার রান্না এখনো আগের মতনই আছে। খুবই সুস্বাদু। তোমার হাতের রান্না খেলে মনে হয়, আবার নতুন করে তোমার প্রেমে পড়ি।”
স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে কোহিনূর মুখের বিষন্নতা দূর হয়ে সেখানে ধরা দেয় লজ্জারা। এদিক ওদিক দেখে কেউ আছে কিনা। ভাগ্যিস কেউ নাই। না হলে আরো লজ্জায় পড়তে হতো। তিনি ছোট করে বলে
” বুড়া হয়ে গেছো এখনো পাম দেওয়া যায় নাই তাই না।”
স্ত্রীর কথায় রফিল জুরে হেসে দেই। কোহিনূর লজ্জায় রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন। যেতে যেতে ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল। এত বছর সংসার করার পরও মানুষটা একটুও বদলায়নি, এই ভাবনাটুকুই কোহিনূরের ঠোঁটের হাসিটাকে আরও গভীর করে তোলে।
………………
সাজেদ মাত্রই ফ্রেশ হয়ে রুমে এসেছে। বিছানায় বসতে না বসতেই দরজায় টোকা পড়ল।
দরজা খুলতেই দেখল, ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে তায়েবা। তাকে দেখে সাজেদের ঠোঁটে মিষ্টি একটা হাসি ফুটে উঠল। উৎফুল্ল গলায় বলল,
“আজ এত তাড়াতাড়ি চলে এসেছ পড়তে? আর তুমি একাই যে?”
তায়েবা মাথা নেড়ে বলল,
“পড়তে আসিনি। চাঁদের বাবা আজ এসেছে। আপনাকে নিচে ডাকছে।”
সাজেদ বিস্মিত হয়ে বলল,
“কি বলো!”
তায়েবা হালকা হেসে উত্তর দেয়,
“কাউকে কিছু না জানিয়েই চাচ্চু চলে এসেছে। সবাইকে সারপ্রাইজ দেবে বলে। আমরা তো দেখে আরও বেশি অবাক হয়েছি। এখন নিচে নামুন। আমি যাই।”
কথা শেষ করেই আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। প্রায় পালিয়ে যাওয়ার মতো করেই সেখান থেকে চলে গেল।
সাজেদের আশপাশে থাকলেই কেন যেন তায়েবার ভীষণ অস্বস্তি লাগে। বুকের ভেতরটা কেমন অদ্ভুতভাবে কেঁপে ওঠে, লজ্জায় চোখ তুলে তাকাতেও পারে না। তাই নিজেকে সামলানোর একমাত্র উপায়—দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়া।
তবে সাজেদ এসবের কিছুই বুঝতে পারে না। তায়েবার এমন তাড়াহুড়ো করে চলে যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়েই হঠাৎ সকালের ঘটনাটা মনে পড়ে যায়।
আজ সকালে তায়েবা ছাদে আসার আগেই সাজেদের ঘুম ভেঙে যায়। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারে, তায়েবা ছাদের দিকে আসছে। সেও ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে।
হঠাৎ সামনে সাজেদকে দেখে তায়েবা চমকে ওঠে। ফিরে যেতে চেয়েও কেন যেন আর যেতে পারে না। কী এক অদৃশ্য টানে সে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে।
তায়েবার বিস্মিত মুখটা দেখে সাজেদের ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটে ওঠে। একটু ঝুঁকে মুচকি হেসে বলে,
“মিস মিষ্টি কণ্ঠের অধিকারিণী।”
শুধু এই কয়েকটি শব্দই যেন তায়েবার বুকের ভেতর ঝড় তুলে দেয়। হৃদস্পন্দন অকারণেই দ্রুত হয়ে ওঠে। ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে, যদিও সেটা লুকানোর প্রাণপণ চেষ্টা করে সে। চোখ তুলে তাকাতে পারে না, বারবার এদিক-ওদিক তাকাতে থাকে।
সাজেদের চোখ এড়ায় না তায়েবার সেই লজ্জা। দুষ্টুমি আরও একটু বাড়িয়ে সে ধীরে ধীরে এক পা এগিয়ে আসে। দুজনের মাঝের দূরত্বটা আরও কমে যায়।
তায়েবার কানের কাছে মুখ নিয়ে নিচু স্বরে গুনগুন করে গেয়ে ওঠে
“এই মন নাজেহাল, হয়েছি বেসামাল
তোমার প্রেমেরই ছোঁয়ায়।
জানি না কী যে হয় আমারই আজকাল,
স্বপ্নগুলো বয়ে বেড়ায়।
তোমারই নামে আমারই প্রাণে
প্রতি নিঃশ্বাস চলে।
ভালোবাসারই সুখের আগুনে
শুধু যাই যে জ্বলে…”
তায়েবার মনে হয়, সময় যেন হঠাৎ থেমে গেছে। এত কাছে সাজেদকে পেয়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যন্ত এলোমেলো হয়ে যায়। হাত-পা অবশ হয়ে আসে। না সরে যেতে পারে, না মুখে কোনো কথা বলতে পারে।
সাজেদের ফিসফিসে কণ্ঠে গাওয়া প্রতিটি শব্দ ধীরে ধীরে গিয়ে ছুঁয়ে দেয় তার হৃদয়। বুকের ভেতর এক অচেনা অনুভূতির ঢেউ বারবার আছড়ে পড়তে থাকে। মুহূর্তটাকে স্বপ্ন মনে হলেও, সে চাইছিল এই স্বপ্নটা যেন আর একটু দীর্ঘ হয়। কিন্তু নিজের হৃদয়ের অবস্থা আর সামলাতে পারল না তায়েবা। হঠাৎই লজ্জায় মুখ ফিরিয়ে এক দৌড়ে সিঁড়ির দিকে ছুটে নেমে গেল।
স্মৃতিটা মনে পড়তেই সাজেদের ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল। মাথা নেড়ে মৃদু হেসে দরজাটা বন্ধ করল। তারপর সেও ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেল।
……………………………………………………
সোফায় পাশাপাশি বসে আছে চাঁদের বাবা আর সাজেদ। সাথে যোগ দিলো চাঁদ আর সাইফও। তায়েবা রুমে ঢুকে আর বের হয় নাই। সাজেদের দিকে থাকিয়ে রফিক বলে
” তো সাজেদ, তোমার চাকরি জীবন কেমন যাচ্ছে? ”
সাজেদ বিনীত হেসে বলে,
” আলহামদুলিল্লাহ ফুফা।”
এই হাসি দেখেই আমি বারবার খুন হয় সাজেদ ভাই।”
সাজেদের ঠোঁটের কোণে ফুটে থাকা সেই শান্ত হাসিটা যেন চাঁদের বুকের ভেতর কোথাও গিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে দিল। অজান্তেই সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। মনে হচ্ছিল, মানুষটা হাসলে চারপাশটাও কেমন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। নিজের অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণেও ছোট্ট একটা হাসি ফুটে উঠল।
“ছেলে মানুষের হাসি এত সুন্দর হয় কীভাবে? ছেলে মানুষের হাসি এতো সুন্দর হতে হবে কেনো? ” মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করল চাঁদ। নিজের মনে আবার বলে
” আপনার এই হাসি দেখে আমি যেনো কোন ঘুরে চলে যায় সাজেদ ভাই।”
চাঁদের সেই মুগ্ধ দৃষ্টিটা সাইফের চোখ এড়ায় না। মুহূর্তেই বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠে। অদ্ভুত একটা ভয় তাকে গ্রাস করল। মনে হলো, যাকে এতদিন নিজের স্বপ্নে আগলে রেখেছে, সে কি ধীরে ধীরে অন্য কারও দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে?
নিজের এই ভাবনাটাকেই বিশ্বাস করতে চাইছে না সে। তবুও চোখ দুটো বারবার চাঁদের দিকেই চলে যাচ্ছে। প্রতিবারই একই দৃশ্য দেখে বুকটা আরও ভারী হয়ে উঠে।
অনেক কষ্টে মুখে একটা স্বাভাবিক হাসি টেনে আনে সে। ভেতরে ভেতরে যেন সবকিছু ভেঙে পড়ছে, অথচ বাইরে তার কিছুই প্রকাশ পাওয়া চলবে না। কারণ এই মুহূর্তে কেউ যদি তার চোখের দিকে তাকায়, হয়তো তার এই অস্থিরতা বুঝে যেতে পারে ।
তারপর ছোট করে বলে,
“চাচ্চু, অফিসের একটা কাজ আছে। তোমরা গল্প করো, আমি যাই।”
কথাটা বলেই আর কারও উত্তর শোনার অপেক্ষা করল না। বড় বড় পা ফেলে দ্রুত নিজের রুমের দিকে চলে যায়। যেন আর এক মুহূর্ত সেখানে থাকলে নিজেকে সামলে রাখতে পারবে না।
চলবে…….
[গল্প ভালো লাগলে রেসপন্স করিয়েন। না লাগলে জানাইয়েন। ধন্যবাদ ]

