মেঘের মুলুকে চল’ আয়রা তাবাস্সুম পর্ব ১৯

0
2

মেঘের মুলুকে চল’
আয়রা তাবাস্সুম
পর্ব ১৯’মেঘের মুলুকে চল’
আয়রা তাবাস্সুম
পর্ব ১৯
________________________

[ পাঠকদের কমেন্ট পড়তে আমার খুউব ভালো লাগে। বাট স্যাডলি পাঠকদের আমার গল্পটা হয়তো ভালো লাগে না। এজন্য আটশ প্লাস ফলোয়ারদের মধ্যে রেগুলার বারো তেরো জন যারা কমেন্ট করে তারা ছাড়া আর কেউ এক লাইনের একটা মন্তব্যও জানায় না৷ আর পেইজের বাইরের নন ফলোয়ার দের কথা বাদ ই দিলাম৷ তাদের ধারণা তারা পেইজ ফলো দিলে লাইক কমেন্ট করলে আমি বিকাশ নাহিদ হয়ে তাদের টাকা হাতিয়ে নিবো। ]

নাজিয়ার পুরো ব্যাপারটা বুঝে উঠতে সময় লাগল দু মিনিট৷ বজ্জাত টা তার গালে চুমু খেয়েছে! আবার দেখো কেমন ভালোমানুষটির মতন চোখ বুজে শুয়ে পড়েছে! ভন্ড ব্যাডা একটা। বড় রাগ হলো মেয়েটার। কথায় কথায় তাকে খবিশ ডেকে মজা নেয় এখন খবিশের গালে ঠেসে চুমু খেতে তার অসুবিধে হলো না? হুহ! বের করবে নাজিয়া ভন্ডের ভন্ডামি। মেয়েটা তারস্বরে ডাকতে লাগল আযানকে, ‘অ্যাই অ্যাই! উঠুন। উঠে বসুন বলছি। আমার গালে চুমু খেয়ে এত সহজে আপনি পার পেয়ে যাবেন? হু? আমি না অপরিষ্কার, খবিশ এটাসেটা। তাহলে এখন অনীহা হলো না আপনার আমার গালে চুমু খেতে!
জবাব দেন, এক্ষুণি জবাব দিবেন!’

মেয়েটার অনবরত হাতের ধাক্কায় আযান মহাবিরক্ত হয়ে চোখ খুলে দেখল তাকে। বউ কে নাহয় সে একটা চুমু খেয়েছে সেটা নিয়ে এত প্রশ্নোত্তর! কোথায় লজ্জা পাবে তা না করে বেকুবটা তাকে রীতিমতো শাসিয়ে যাচ্ছে! বাহ! আদর করলে দুনিয়ার মেয়েরা লজ্জা পায় আর বেকুব বলছে জবাব চাই জবাব চাই! এখন কি আযান মুখ ফুটে বলবে নাকি যে সে বউ কে আদর না করে থাকতে পারছিল না তাই করে ফেলেছে। ছিহ! শুনাচ্ছেও কেমন কথাটা! সে কি ঢিলা পুরুষমানুষ, নিয়ন্ত্রণ নেই নিজের উপর!

আযান চোখেমুখে খুউব রাগ এনে মেয়েটাকে ভয় দেখিয়ে প্রসংগ বদলানোর চেষ্টা করল।
‘অ্যাই অ্যাই কাকে ডাকছ হ্যা? বউকে আদর ধমক দুটোর ব্যালেন্সে রাখতে হয়। কাজকারবার ত সব বাদঁরের মতন করো তাই ব্যালেন্স বিগড়ে ধমক একটু বেশি ই দিতে হয় আমার। সবসময় ত বকাঝকা করি তাই আজ আদর করে দেখলাম কোনটাতে তোমার বাদঁরামি কমে!
কিন্তু যা বুঝলাম আদর ধমক যেটা ই দিই তুমি বাদঁর বাদঁর ই থাকবে! এখন চুপচাপ শুয়ে পড়ো। আরেকটা কথা বললে ডোজ বাড়বে মনে রেখো’

নাজিয়া কথা বাড়াল না আর। লোকটা র মুখের ত লাগাম নেই, কি থেকে কি বলে বসবে! ডোজ কি হ্যা! কেমন সব কথাবার্তা। তবুও শুয়ে পড়ল মুখভার করে। এপাশওপাশ করেও ঘুম আসছিল না তার। অজান্তেই বারবার হাত দিচ্ছিল গালের সে পাশটা যেটায় বদ টা হুট করে চুমু খেয়েছে। নাজিয়ার বিশ্বাস ই হচ্ছিল না এমন নরমসরম আদর ওমন সারাক্ষণ চোটপাট করা গরম বর্বর টা করতে পারে ! সবসময় চোটপাট করেও যদি এমন মিষ্টি আদর করতে পারে বজ্জাত টা তাহলে নাজিয়ার প্রেমে যখন সে কাত হয়ে পড়বে তখন নিশ্চয়ই চোখে হারাবে তাকে! এমন দিন আদৌ নাজিয়ার কপালে আছে! পাশ ফিরে ঘুমে বুদঁ আযানকে দেখতে দেখতে ভাবল এসব। এভাবে কখন যে মেয়েটা নিজেও ঘুমে তলিয়ে গেলো টের পেলো না।

পরদিন শুক্রবার ছিল। আযান সারাদিন দেখল তার বেকুবটাকে। কিরকম মেয়েটা ইশির রুম থেকে ওরুমে সেখান থেকে আবার ইশির রুমে ছুটোছুটি করল গোটা দিন৷ আযান নিজেও বুঝল না কিভাবে তাকে বলবে বাড়ি ছেড়ে ফ্ল্যাটে উঠার কথা। মেয়েটা ভার্সিটি তে গেলে নাহয় দুপুর পর্যন্ত কোনোরকম কাটবে৷ এরপর ভার্সিটি থেকে ফিরলে তার ত একা লাগবেই। আযানের ফিরতে ত সন্ধ্যে হয় বেশিরভাগ সময়। আযান এটাও খেয়াল করেছে বেকুব টা ইশি কে খুব পছন্দ করে৷ এখানে ইশির সাথে তবুও সময় কেটে যায় তার। সেখানে গেলে নিশ্চয়ই একা একা মুখ ভার করে বসে থাকবে৷ আযান ভাবতে পারল না আর বেশি কিছু। শুধু এটুকু চাইল খুব তাড়াতাড়ি তার মায়ের মতি ফিরুক৷ এটা বাদে পুরো ব্যাপারটা সামাল দেয়ার আর কোনো উপায় দেখছে না সে।

গতকাল রাতে মেয়েটার কাছে ব্যাপারটা খোলাসা করে নি সে ইচ্ছে করেই৷ বাঁদর টা রাতভর এটাওটা প্রশ্ন করে জ্বালাতন করত তাকে৷ এমনিও মনমেজাজ ভালো ছিল না তার৷ এখন ভাবল মেয়েটাকে আগাগোড়া ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলবে। সে তারস্বরে ডাকল তাকে।
‘আরমিইইইন! অ্যাই আরমিইন! রুমে আসো জলদি। কাজ আছে।’
আযানের বড় বিরক্ত লাগল৷ আযান বাদে এই মেয়ের দুনিয়ার সবাইকে ভালো লাগে, তাদের সাথে হাহাহিহি চলতে থাকে। বর টা তো তার রোজ থাকে না বাড়িতে, আজ যখন আছে কই একটু চারপাশ ঘুরঘুর করবে তা না বেকুবটা ই বরং পুরো বাসা জুড়ে টইটই করছে৷ বউ র কোনো কোয়ালিটি আছে বেকুবটার মধ্যে! বাঁদর একটা।

আযানের ভাবনায় ছেদ পড়ল মেয়েটার হুড়মুড় করে রুমে ঢুকে পড়ায়। আযানের মনে হলো এন্ট্রি টা অবিকল বাদঁরের মতন৷ মাথা চুলকে দুটো উকুন মারলে একেবারে খাপে খাপ হতো৷ সে বেডে বসেই তাকে হাতের ইশারায় পাশে ডেকে বসালো।

নাজিয়া কিছুটা আইঢাই করে আযানের পাশে গিয়ে বসল। সেই যে চোখ নামাল আর তুলতে পারল না৷ ইদানিং কি যে হয়েছে তার, আযান কে দেখলেই লজ্জা লাগে৷ অহেতুক গাল লাল হওয়া শুরু করে। মেয়েটার মনে হয় আযান তার চেহারা পড়তে পারে। মুখ তুললেই পড়ে ফেলবে তার মনে আযানকে নিয়ে চলা সমস্ত চিন্তাভাবনা। তখন বদ টা যদি নাজিয়াকে গায়ে পড়া মেয়েমানুষ ভাবে! যদি ভর্ৎসনা করে তার মতন এমন চোটপাট করা লোকের প্রেমে একেবারে ধরাশায়ী হয়ে পড়ায়। নাজিয়ার বড় দুঃখ হলো। বেছে বেছে এমন লোকের প্রেমে পড়তে হলো তার!

আযান মেয়েটাকে দেখল একপলক। বুঝল না তার এমন নতমুখের রহস্য। সময় নষ্ট না করে সেরে ফেলল দরকারি কথাগুলো। বেকুব যেমন পাড়াবেড়ানি দেখা যাবে আবার কোন ছুতোয় রুম থেকে বেরিয়ে পড়েছে৷
‘আরমিন! আব্বু আমাদের একটা রেডি ফ্ল্যাট গিফট করেছেন। তিনি চাচ্ছেন পরশু র মধ্যে আমরা শিফট করি সেটায়৷ ড্রাইভার তোমাকে নিয়ে আসাযাওয়া করবে। ভার্সিটি থেকে দুরে হবে না তোমার৷’
মেয়েটার মনভার হবে এটা জেনেও আযান খুব নিরাসক্ত গলায় কথাগুলো বলে গেল।

কথাগুলো শুনে নাজিয়া দু সেকেন্ডও চিন্তা না করে বলে ফেলল, ‘আমি ফ্ল্যাটে যাব না৷ প্লিইজ!আমি সবার সাথেই থাকব এই বাসায়। ওখানে ইশিতাও নেই। একা একা আমার একটুও ভালো লাগবে না। প্লিজ আমরা এখানে থাকি, প্লিইইজ!’
শেষের কথাটা খুব আদুরে গলায় বলল মেয়েটা। বিষয়টা আযানের সিদ্ধান্ত হলে সে অনায়াসে গলে পড়ত মেয়েটার এমন আদুরে হাবভাবে। কিন্তু বাপের সিদ্ধান্ত হওয়ায় সে দীর্ঘশ্বাস টুকু চেপে জানাল কথার নড়চড় হবে না। ফ্ল্যাটে তাদের শিফট হতে হবে।

মেয়েটা এমন কঠিন কথা শুনে যেন খেই হারিয়ে ফেলল। বলে বসল মনে চেপে রাখা কথাবার্তা।
‘আচ্ছা আব্বু কি কোনোভাবে ভাবছেন যে আমি অশান্তি করি বাড়িতে। কিন্তু আম্মু কিছু বললেও ত আমি চুপ থাকি। পাল্টা জবাব দিই না অশান্তির ভয়ে। এবার থেকে নাহয় আমি উনার সামনেই পড়ব না একদম৷ কিন্তু তবুও আমি একা একা থাকতে চাচ্ছি না। আমার ভালো লাগবে না সেখানে একটুও। সত্যিইইই!’

আযান আগে থেকেই জানে আগাগোড়া বিষয়টা। কিন্তু মেয়েটা যে এভাবে তার মায়ের দোষ লুকিয়ে যাচ্ছিল সেটা তার ধারণার বাইরে ছিল৷ হয়তো আজকে প্রসংগটা না উঠলে বলতো ও না। আযান ভেবে পেল না মা কিভাবে এরকম একটা মেয়েকে সুযোগসন্ধানী বলতে পারে যেখানে সুযোগ থাকা সত্বেও মেয়েটা তার দুর্ব্যবহারের বিষয়ে টুঁ শব্দটি করে নি৷ আযানের বড় মায়া হলো। বুঝতে পারল, যে কাউকে কষ্ট দিতে চায় না তাকেই বোধহয় সবাই কষ্ট দিয়ে বসে। এটাও মনস্থির করল, অল্পস্বল্প দুঃখে ই মুখভার করে রাখা মেয়েটাকে সে বিশাল দুঃখে কাহিল হবার মতন কষ্ট কখনো দেবেই না! হ্যা একটুআধটু বকাধমক সে অবশ্যই দেবে নাহলে বউ য়েরা আহ্লাদী হয়ে উঠে, বিগড়ে যায়। আর এখানে বাঁদর টা ত একেবারে জন্মগত আহ্লাদী!

আযান কন্ঠস্বর খানিকটা নরম তবে একইসাথে গরম বানিয়ে গমগমে গলায় বলল, ‘একা থাকবার কি আছে! আমি সন্ধ্যায় বাসায় ফিরব না? আর তোমার মতলব কি হ্যা? পড়াশোনা একেবারে ছেড়ে দিবে? ভার্সিটি যাবে না? ভার্সিটি গেলেই ত দিন কাবার।’
কথাগুলো বলে একবার দেখল মেয়েটার চোখমুখ। তাকে মুখভার করে রাখতে দেখে যোগ করল আরো কিছু কথা, ‘আর যদি তবুও একা একা লাগে মাঝেমধ্যে নাহয় ইশি বেদ্দপ টা এসে দেখা করে যাবে তোমার সাথে৷ তারপর দুজনে মিলে বদনাম করবে আর কি আমার। যা ই বলো একেবারে মার্কা মারা জুটি তোমাদের ননদ ভাবি র।
একটা বেয়াদব আরেকটা বেকুব।’

শেষের কথাটা বলে আযান একপলক দেখল মেয়েটাকে। অন্য দিনের মতন চেতে উঠেনি আজ, মুখে রা নেই কোনো৷ আযান বুঝতে পারল মেয়েটার আজ বড্ড মনখারাপ।

____________

পরবর্তী দুদিন তাদের মোটামুটি গোছগাছ চলল। আরমান ভুঁইয়া আগেই যাবতীয় সব দরকারী ফার্নিচার এটাওটা ফ্যাসিলিটিজ দিয়ে ফ্ল্যাট টা একেবারে রেডি করে রেখেছিলেন। এজন্য তাদের লাগেজে কাপড়চোপড় আর জরুরি কিছু ডকুমেন্টস ছাড়া তেমন কিছুই নেয়ার প্রয়োজন পড়ল না। ফ্ল্যাটে শিফট হবার আগেরদিন রাতেও নাজিয়া বেশ খানিকটা ঘুরঘুর করেছে শাশুড়ির সামনে। যদি কোনো ভাবে মহিলা বলে বসেন বাড়ি ছাড়ার কোনো দরকার নেই। অথচ রেহনুমা ভুইঁয়া আগাগোড়া নিরুত্তাপ নির্বিকার ছিলেন। ইশিতা এত বোঝানোর পরও তিনি নিজের মত একটা ব্যাখ্যা বানিয়ে নিলেন৷ ভেবে নিলেন বউ য়ের প্ররোচনায় ছেলে এরকম বাড়ি ছেড়ে আলাদা ফ্ল্যাটে শিফট হবার ডিসিশন নিয়েছে। আরমান ভুঁইয়া র ও কোনো কথাবার্তা শুনতে চাইলেন না তিনি। নিজের যেটা ধারণা সেটাকেই ধ্রুবসত্য মেনে তিনি নিজের জেদে অটল থাকলেন। অথচ জানলেনও না ছেলে আর ছেলের বউ দুজনেই শেষ অব্দি ভেবেছিল তিনি থামাবেন তাদের।

ড্রাইভিংয়ের পুরোটা সময় আযান লক্ষ্য করল মেয়েটাকে। বেকুবের চোখমুখ আঁধার। শ্যামলা গোলগাল আদুরে মুখটা নামিয়ে একেবারে থুতনির কাছে এনে রেখেছে। আযানের সহ্য হলো না এমন দৃশ্য। সে পারলে অফিস থেকে ছুটি নিতো। তবে একটা সাইট ভিজিটে যেতে হবে এজন্য লিভ নিতে পারল না৷ সে কিছুটা গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, ‘আরমিন! দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়বে৷ তাহলো একা লাগবে না। আর আমি পাশের রেস্টুরেন্ট থেকে দুপুরে খাবার অর্ডার দিয়ে দিবো। ডেলিভারিম্যান আসলে তুমি রিসিভ করে নিও।’
এরপর কিছুটা বিরক্তির ভান এনে ছেলেটা বলে বসল, ‘আর তুমি একা বাসায় মরে পড়ে থাকলে পুলিশ সবার আগে ত আমাকে ধরবে৷ এজন্য বলছি ভয়টয় লাগলে কল বা টেক্সট দিবে একটা। আমি চলে আসব। সমস্যা নাই।’

এতক্ষণ নামিয়ে রাখা মুখটা এবার উজ্জ্বল হয়ে আসল মেয়েটার। সে বললেই লোকটা চলে আসবে!নাজিয়ার কথার এত দাম তার কাছে! চেপে যেতে পারল না মেয়েটা নিজের আনন্দ। তাই চটজলদি হাসি মুখে বলল, ‘আমি বললেই আপনি চলে আসবেন? সত্যিইই?’

আযান এবার বড় ঝামেলায় পড়ল! বেকুব টা চালাক হয়ে আযানের কনসার্ন টুকু ধরে ফেলল নাকি! সেই ভাবনায় খ্যাঁকিয়ে উঠল ছেলেটা, ধমকে বসল মেয়েটাকে।
‘তোমার কথায় আসব বলেছি? বেকুব কোথাকার! বলেছি ভয়টয় পেলে জানাবে। তখন বিবেচনা করে দেখব।’
মেয়েটাকে মোটেও জানাল না বিচার বিবেচনা না করেই সে ছুটে আসবে। বাঁদর কে যে সে ভুলক্রমে এতটা আদর করে ফেলছে সেটা বাঁদর একবার জানতে পারলেই হবে! তার বাঁদরামি মাত্রা ছাড়াবে তখন।

নাজিয়া সামনাসামনি ই ভেংচি কাটল তাকে৷ মনে মনে ভাবল আমি নাজিয়া বাঁদর হলে তুই ব্যাটা হনুমান একটা! সারাক্ষণ বকাধমকের উপর রাখে অহেতুক! তবুও এটুকু ভেবে ভাল লাগল তার যে বর্বর টার কিছুটা হলেও বিবেচনাবোধ আছে৷ নাজিয়া যে একা বাসায় ভয় পেতে পারে সেটা বুঝে৷

দুপুরের খাওয়া শেষে আধা বিকেল নাজিয়ার ঘুমেই কাটল। শেষ বিকেলের দিকে ঘুম ভাঙল কলিংবেলের শব্দে। বদ টা ত সন্ধ্যে বাদে ফিরে না বাড়িতে আর তাদের এই বাসার এড্রেসও তেমন কেউ জানে না। কোনো দুপুরের ডেলিভারিম্যান টা ফাকাঁ বাসা দেখে আবার কিছু একটা করতে চলে আসে নি তো! এমন চিন্তা মাথায় আসতেই মেয়েটা ভয় পেয়ে থম মেরে থাকল৷ দরজা খুলতে গেল না৷ চটজলদি আযানকে কল দিবে তার আগেই দেখল ফোনের স্ক্রিনে তার নাম্বার থেকে আসা মেসেজ। বজ্জাত টা লিখেছে, ‘অ্যাই বেকুব! মরার ঘুম দিয়েছ? দরজা খুলো। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।’

মেয়েটা বেক্কলবনে গেল। কি যে ভয় পেয়েছিল মেসেজ টা দেখার আগে! আর এই লোক এত জলদি ফিরল কিভাবে আজ! নাজিয়া একা বাসায় ভয়টয় পাবে তাই! এত চিন্তা করে বর্বর টা নাজিয়ার ব্যাপারে! ডোর না খুলে মেয়েটা প্রথমে ভিজে আসা জল টইটম্বুর চোখ দুটো মুছল। চোটপাট আর বকাধমক টুকু না দিলে একেবারে দশে দশ বর হতো তার৷ বর্বর টার প্রতি কৃতজ্ঞতা ভালবাসায় ভিজে নরম হয়ে এলো মেয়েটার আদরকাতুরে মনটা। ভুলে বসল লাজ লজ্জা সংকোচ। শুধু শুনল মনের কথা।

আযানের তখন মেজাজ চড়ে আছে৷ দরজার বাইরে থেকে স্পষ্ট শুনেছে সে পায়ের শব্দ। মানে বেকুব টা জেগে আছে। তবুও এভাবে আযানকে দাঁড় করিয়ে রাখার মানে টা কি! দরজা ফাঁক হতে দেখে গমগমে গলায় কড়া কিছু কথাবার্তা বলবে তার আগেই দুটো নরম শীর্ণ হাত বেরিয়ে এসে তার বলিষ্ঠ শক্তপোক্ত পিঠ টা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। একটা নরম তুলতুলে শরীর ঠেকে গেল তার শরীরে৷ আযান টের পেল বাঁদর টা মুখ গুঁজে আছে তার বুকে৷

শক্ত কড়া সব কথাবার্তা ভুলে বসল ছেলেটা। বিয়ের দু সপ্তাহ হতে চলল প্রায়। মেয়েটা আগে কখনো এমন নিজে থেকে জড়িয়ে ধরেনি। তাহলে আজ কি ফাঁকা বাসায় খুব ভয় লেগেছে তার! মুহূর্তেই রাজ্যের দুশ্চিন্তা এসে ভর করল তার মনমস্তিষ্কে। ভেবে বসল খুব ভয় পেয়ে এমন স্বভাববিরুদ্ধ কাজটা মেয়েটা করে ফেলেছে৷ তখনো মেয়েটা একেবারে আদুরে বাচ্চার মতন কোনো কথাবার্তা ছাড়াই জড়িয়ে ধরে আছে তাকে৷ আযান মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল তার ভয় দূর করার অভিপ্রায়ে। লুকোতে পারল না মেয়েটার জন্য হওয়া ব্যাকুলতা দুশ্চিন্তা। বারবার জানতে চাইল একই কথা,
‘আরমিন! অ্যাই আরমিইন! ভয় পেয়েছ বেশিই? কি হলো কথা বলো! আহহা আমাকে না বললে আমি বুঝব কিভাবে কি দেখে এত ভয় পেলে৷’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here