মেঘের মুলুকে চল’ আয়রা তাবাস্সুম পর্ব ১৭

0
2

‘মেঘের মুলুকে চল’
আয়রা তাবাস্সুম
পর্ব ১৭
____________________________

নাজিয়া এক লহমায় লুফে নিলো প্রস্তাবটা। হাতিঘোড়া যে কারণেই হোক বাইরে বেড়িয়ে আসার সুযোগ ত পেয়েছে! আর বদটার সাথে এমনিও কবেই বা এমন বেরুনোর সুযোগ হয়েছে তার। ফুপির বাড়িতে যেদিন গেল সেদিন গাড়িতেই গেল আবার গাড়িতেই ব্যাক করেছে। লোক টা তো জানে আজ নাজিয়ার মন খুউব খারাপ৷ এই মনখারাপের ছুতো দেখিয়ে ই নাজিয়া সব আবদার পুরণ করে ফেলবে।

বদ টা নিশ্চয় এতটা বদ না যে নাজিয়ার এমন মনখারাপের দিনেও তার আবদার অগ্রাহ্য করবে, তাকে বকবে। মনে মনে এসমস্ত ভাবনা ভেবে মেয়েটা বেমালুম ভুলে বসল কিছুক্ষণ আগের ঘটনা টা। বেড়াতে যাওয়ার জন্য মনে মনে ছটফট করলেও বাইরে বাইরে একদম নির্বিকার ধীর স্থির বানিয়ে রাখল চেহারা। বদ কে ত নাজিয়া বুঝতে দিবে না নাজিয়া কেমন পাড়াবেড়ানি!

‘গাড়িতে যাব না,’ আযান ড্রেসিং টেবিলের ওপর থেকে যেই না গাড়ির চাবি হাতে নিয়েছে মেয়েটা বলে বসল কথাটা৷ আযান হতবিহ্বল হয়ে চেয়ে থাকল খানিকক্ষণ। গাড়িতে না গেলে এই রাতের বেলা হেঁটে হেঁটে কোথায় যাবে মেয়েটা। বেকুবের বেকুব! সে খ্যাকিয়েঁ উঠল মুহুর্তেই, ‘তুমি বাঁদর তাই নাহয় লাফিয়ে লাফিয়ে যেতে পারবে৷ আমার ব্যবস্থা কি হবে শুনি। সারাদিন অফিস করে এসে এখন হাঁটতে পারব না আমি।’

‘আমরা রিকশায় যাব। এরকম ঠান্ডা ঠান্ডা ওয়েদারে সেটাই বেস্ট,’ নাজিয়া কাটকাট গলায় বলল৷ সযত্নে এড়িয়ে গেলো মনে চেপে রাখা কথাটা। বউ জামাই ঠান্ডা ঠান্ডা ওয়েদারে কেমন রোমান্টিক হয়ে রিকশা করে পুরো শহর চষে বেড়ায়। আর ভাগ্য করে এমন আনরোমান্টিক বজ্জাত বর নাজিয়া পেয়েছে যাকে নাজিয়ার রিকশায় কেনো যাবে সে ব্যাখ্যাও দিতে হয়। ব্যাটা বুঝে না কিছু৷ কি কপাল নাজিয়ার!

আযান আর একটাও কথা বলল না। যদিও অনেককিছু বলার ছিল তার। বেকুবটার মন খারাপ তাই চেপে গেল কথাগুলো৷ রিকশায় চড়ে বেড়ানোর প্রস্তাব টা তার পছন্দ হয়নি। যেরকম ঠান্ডা ঠান্ডা ওয়েদার, হুট করে বৃষ্টি নামতে পারে৷ গাড়ি নিয়ে বের হলে ব্যাপারটা প্যারার হতো না। তবুও দীর্ঘশ্বাস চেপে বিরক্তিটুকু গিলে ফেলল সে।

বেকুবের মাথায় যখন একবার এই আইডিয়া ঢুকেছে বেকুবের বাপ এসেও যে সেটা তার মাথা থেকে বের করতে পারবে না সেটা আযানের জানা৷ মেয়েটা জেদি হয়েছে ইদানিং৷ এজন্যই আযান বউ দের আদর দেখানোর পক্ষে না, ভীষণ আহ্লাদী হয়ে যায় এরা৷ যদিও কিছুটা আদর আযান দেখিয়ে ফেলেছে বাঁদর টার প্রতি নিজের দুর্বলতা থেকে। আর সেই সুবাদে বাদরঁটা আযানের মাথার উপর উঠে এখন বাঁদর নাচ নাচছে।

‘আবাসিক এরিয়ার বাইরের রাস্তাটা পিচঢালা না। এবড়োখেবড়ো গর্তটর্ত ও আছে। রিকশা থেকে পড়ে হাত পা ভাঙলে তখন দেখব আমি’, আযান চোখমুখ শক্ত করে মেয়েটাকে ভয় দেখানোর বৃথা চেষ্টা করল। নাজিয়া অবশ্য নির্বিকার। মুখ ঝামটা দিয়ে লিফটে উঠে পড়ল। বেরুবার সময় দেখেছে বাসার পরিবেশ থমথমে চুপচাপ। তাই অযথা বাক্য বাড়াল না আর। চুপচাপ বেরিয়ে এসেছে।

সেপ্টেম্বরের সন্ধ্যেবেলা। হুটহাট বৃষ্টি হয় যখন তখন। বাইরে ঝিরিঝিরি ঠান্ডা বাতাস। বহুদিন পর নাজিয়ার খুউব ভালো লাগল আবহাওয়া টা। রিকশা চলছে মৃদুমন্দ গতিতে। অমসৃণ রাস্তায় দু তিনবার রিকশার ঝাঁকি তে মেয়েটা যতবার টালমাটাল হয়েছে আযান প্রতিবার বিরক্ত চোখে তাকে দেখে কোমরের কাছটায় টেনে জাপটে ধরেছে। নাজিয়ার কি যে ভালো লেগেছে তখন৷ আযানের অবশ্য ইচ্ছে করছিল মেয়েটাকে একটা রামধমক দিতে৷ রিকশায় চড়ার মজায় বেকুব টা পড়ে গিয়ে হাতপা ভেঙে বসবে! তবুও মেয়েটার এমন খুশিখুশি মুখ দেখে সে বহুকষ্টে সেই ইচ্ছে দমন করল।

‘মামা থামান, এখানে নামায় দেন!’
আযান দেখল নেমে যাওয়ার উৎসাহে বাঁদর টা পারলে রিকশাওয়ালার পিঠে চাপড় মেরে দেয়৷
‘অ্যাই বাঁদর! এমন করছ কেনো। মাঝরাস্তায় নেমে কি করবে তুমি,’ আযান খ্যাকিঁয়ে উঠল মুহূর্তেই। মেয়েটাকে আযান বেকুব ডাকলেও সে বেকুব না৷ নিমিষে মুখটা মিছিমিছি দুঃখী বানিয়ে বলে বসল, ‘ফুচকা খাচ্ছি না কতো দিইইন! ভার্সিটিতে গেলে তবুও খাওয়া হতো। এখন অনেকদিন হচ্ছে খাই নি। আমি ফুচকা খাবো প্লিইইজ!’

আযান মেয়েটার চেহারাটা আগাগোড়া পরখ করল। যেভাবে কতো দিইইন বলছে যেন ভিক্ষুক একটা৷ পারলে থালা হাতে ফুচকার দোকানের সামনে বসে পড়বে! আযান বড়সড় দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বিয়ের পর থেকে এই এক কাজ তার৷ বেকুব টার কাজকারবার দেখা আর দীর্ঘশ্বাস আড়াল করা। এখন মেয়েটা চোখেমুখে আগ্রহ নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। আযানের এসব আনহাইজেনিক ফুড অপছন্দের। তবুও মেয়েটার আগ্রহ আর দেখে মানা করল না। রিকশাওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে তারা পা বাড়াল ফুচকার স্টলের দিকে।

আযান একনজর দেখল মেয়েটাকে। ফুচকা খাওয়ার খুশিতে চোখেমুখে হাসি সরছে না তার। দুষ্ট বুদ্ধি চেপে বসল আযানের মাথায়। ইচ্ছে হলো মেয়েটাকে একটু রাগিয়ে দেয়ার। আযানের খুব পছন্দের কাজ এটা৷
‘থাকোও অপরিষ্কার, খাও ও সব অপরিষ্কার!’
কথাটা বলে সেকেন্ডও গড়ায়নি আযান দেখল মেয়েটা পা থামিয়ে সটান দাঁড়িয়ে পড়েছে। চোখেমুখে তীব্র রাগ৷

নাজিয়া বহুকষ্টে রাগ সংবরণ করল৷ রাগ দেখিয়ে যদি সে বলে ফুচকা খাবে না৷ তখন বদ টা যেমন বদ জোরও করবে না। হয়তো বলবে, বেশ খেয়ো না তবে! নাজিয়া এতটাও বেকুব না৷ তাই রাগ গিলে সে কড়া গলায় চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, ‘আমি অপরিষ্কার মানে? এখন প্রতিদিন গোসল করি আমি!’

‘আমার কথায় রেগে গেলে? মেয়েদের ত আবার রাগ হলে খাওয়াদাওয়া বাদ দেয়ার অভ্যেস৷ ইশি বেদ্দপ টাও এমন করে ৷ তাহলে কি ধরে নেবো তুমি ফুচকা খাবে না’ আযান মেয়েটার রাগের পারদ একেবারে একশ র ঘরে নিয়ে আসতে তরল গলায় কথাগুলো বলল৷ মেয়েটা রেগে গেলে কিছু বলতে না পারলেও আযান কে চোখ পাকিয়ে ভয় দেখানোর খুউব চেষ্টা করে। সেটা আযানের মজা লাগে৷ সে বেশ উপভোগ করে ব্যাপারটা।

নাজিয়া চোখেমুখে মহা রাগ এনে আযান কে দেখল দু মিনিট৷ দেখল বদ টা ঠোঁট চেপে হাসছে এরকম নিম্নমানের মজা করে! নাজিয়া তার একটা কথারও জবাব না দিয়ে গটগট করে ফুচকার স্টলের দিকে পা বাড়াল। লোক টা যে তার মজা নেয় সেটা নাজিয়ার এ কদিনে জানা হয়েছে। তাই অহেতুক রাগ করে ফুচকা খাওয়ার এই গোল্ডেন অপরচুনিটি সে মোটেও মিস করবে না। তাতে বদ যা ইচ্ছে ভাবুক৷ তার ভাবনায় নাজিয়ার কি ই বা এসে যায়! বদ টা তাকে অপরিষ্কার ডাকলেও কি না ডাকলেও কি৷ সে তো নাজিয়াকে বাঁদরও ডাকে সর্বক্ষণ। তাতে কি নাজিয়া বাঁদর হয়ে গেল!

ইচ্ছেমত ঝাল মিশিয়ে নাজিয়া পরপর দু প্লেট ফুচকা খেলো৷ আযানকে সাধল ও কয়েকটা৷ কিন্তু তার রাগী চোখমুখ দেখে সাহস হলো না জোর করার। দ্বিতীয় প্লেটে মনের খুশিতে নাগা মরিচ দিতে বলায় আযান এমন রেগে আছে৷ নাজিয়া পাত্তা দিল না সেসব রাগ৷ সে ঝাল ভালোই খেতে পারে। বদ টা শুধু শুধু এটাওটা মানা করে তার ফুচকা খাওয়ার আনন্দ পন্ড করতে চাচ্ছে! নাজিয়া কি বুঝে না সেটা! সে মহানন্দে ঝাল ঝাল দু প্লেট ফুচকা সাবাড় করল।

‘কাদতেঁ কাদতেঁ আরেকবার নাক টানলে দু গালে চড় মারব একদম। একশবার বলিনি এত ঝাল না খেতে, বলিনি আমি?’ আযানের রাগ তখন মাথায় চড়ে বসেছে৷ বেকুব কে কতবার মানা করেছে এত ঝাল না খেতে। এখন রাস্তায় একপাশে দাঁড়িয়ে জিহ্বা জ্বলছে বলে বলে কাঁদছে, চোখের পানি নাকের পানি অনবরত বের হচ্ছে বেকুবের। আযানের ইচ্ছে হলো ঠাটিয়ে দুটো চড় মারতে। চড় খেয়ে কাদুকঁ ইচ্ছে মত। নেহাৎ বাঁদর কে আদর করে বলে চড়টড় দিতে পারছে না।

সে তাকে রাস্তার একপাশে মানুষজন আছে এরকম জায়গায় দাঁড় করিয়ে খানিকটা দুরের ডিপার্মেন্টাল স্টোরের উদ্দেশ্যে চটজলদি পা বাড়াল। হাতে নিয়ে এলো ঠান্ডা পানির বোতল আর আইসক্রিম। আরেকদফা বকাঝকা করে সেসব বাড়িয়ে দিল মেয়েটার উদ্দেশ্যে।
‘চকলেট ফ্লেভারের আনলেন কেন? যাওয়ার আগে আমাকে জিজ্ঞেস করলেই পারতেন৷ আমি ভ্যানিলা ফ্লেভার বেশি পছন্দ করি।’

আযান বিস্ময়ে আশ্চর্যে বাজ পড়া মানুষের মত মুর্তি বনে গেল৷ বেকুব ঝালে জিহ্বা বের করে হাহু করতে করতে মরে যাচ্ছে এমন অবস্থায়ও বেকুবের আবদারের শেষ নেই! চয়েজ মারাচ্ছে! বড় গলায় বলছে ভ্যানিলা না এনে চকলেট এনেছেন কেনো! এই বেকুব কে নিয়ে আযান করবে টা কি!

পাঁচ দশ মিনিট পর নাজিয়ার অস্থির ভাব কমে এলো। মুখের ভেতরে ঝাল ঝাল ভাব কমে এসেছে। শান্তি শান্তি লাগছে৷ আড়চোখে আযান কে দেখল একবার৷ গজরাতে গজরাতে উবারের জন্য রাইড বুক করছে৷ আকাশের অবস্থা দেখে লাগছে যেকোনো সময় বৃষ্টি হতে পারে। নাজিয়ার সাহস হলো না আবারও রিকশা নেয়ার কথা বলার। এমনিও লোক টা রেগে আছে। উবার হেলিকপ্টার যা ইচ্ছে আনুক৷ নাজিয়া আর বাগড়া দিয়ে রাগ বাড়াবে না লোক টার।

উবার আসতে আধঘন্টার মতন সময় লাগবে। তার মধ্যেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামল একাধারে। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা পড়া শুরু হতেই আযান তাড়াতাড়ি মেয়েটাকে নিয়ে অদুরে ডিপার্মেন্টাল স্টোর টার ছাউনির নিচে গিয়ে দাঁড়াল৷ মনমেজাজ খারাপ হলো তার৷ বৃষ্টি আযানের মোটেও পছন্দ না। রাস্তাঘাট পিচ্ছিল হয়ে যায়, বেশি বৃষ্টি হলে আবার নালা ড্রেনের ময়লা পানিও রাস্তায় উঠে আসে। অপরিষ্কার পানিতে ভরে যায় চারপাশ। সবমিলিয়ে ভীষণ বিরক্ত লাগে তার।

বিরক্তি আরো বাড়ল পাশের বেকুবের আজগুবি কথাবার্তা শুনে।
‘জানেন! একটা পাকিস্তানি ড্রামা আমি দেখেছিলাম লাস্ট ইয়ার। যেখানে এরকম ঝুমঝুম বৃষ্টির মধ্যে ফিমেল লিডকে নাচতে দেখে মেইল লিড একেবারে তার প্রেমে কাত হয়ে পড়ে৷ এরকম আমার জীবনেও হতে পারত যদি আপনার মতন রসকষহীন মানুষের সাথে আমার বিয়েটা না হতো।’
শেষের কথাটা খুব আফসোস করে বলল মেয়েটা।

আযান যেন পাত্তা ই দিলো না তার শেষের কথাটা। বরং চোখমুখ কুঁচকে রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে বলল, ‘এসব আউলফাউল ড্রামা বানায় কোন গাধার বাচ্চারা হ্যা? সামনে পেলে জোরসে দুটো ঘুষি মেরে মাথা ভেঙে দিতাম যে মাথা থেকে এসব ভংচং ড্রামার আইডিয়া বের হয়!
আর বৃষ্টিতে এরকম রাস্তায় হাত পা ছুঁড়ে পাগলের মত নাচানাচি করলে দুনিয়ার কোনো মানুষ প্রেমে পড়বে না বরং পাগলটাগল ভেবে চটজলদি সটকে পড়বে!’

নাজিয়া বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। রোমান্টিকতার র ও নেই বদ টার মধ্যে। বেছে বেছে এমন লোক ই তার কপালে লেখা ছিল। নাজিয়ার ভীষণ মায়া হলো নিজের জন্য। ইচ্ছে হলো নিজের মাথায় নিজে হাত বুলিয়ে আদর করে দিক৷ আহারে!

বিল্ডিংয়ের সামনে নেমে ঢুকতে গিয়ে ঝুম বৃষ্টির তোড়ে একদফা ভিজে গেছে দুজনে। আযান মেয়েটাকে আগাগোড়া একবার দেখে গম্ভীর গলায় আদেশ দিল, ‘অ্যাই বাঁদর! মাথা যেন ভালো করে মুছে নিতে দেখি। জ্বর সর্দি হলে সেবাযত্ন করতে পারব না আমি। সোজা বাপের বাড়ি দিয়ে আসব।’ নাজিয়া লিফটের এক কোণায় দাঁড়িয়ে মুখ ভেঙচালো। বদ কি ভাবে নাজিয়া তার সেবাযত্ন ছাড়া মরে পড়ে থাকবে! বদের হাড্ডি একটা!

কলিংবেল চাপতেই আযান ভেবেছিল ইশিতা এসে দরজা খুলবে৷ কারণ টেক্সট সে করে রেখেছিল৷ মা কে ত জানা আছে তার। তাই চায়নি মায়ের সামনে এভাবে পড়ুক দুজনে৷ আযানের ভাবনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দরজা খুললেন রেহনুমা ভুইঁয়া। নির্বিকার দৃষ্টিতে ছেলেকে একপলক দেখে চোখ রাখলেন নাজিয়ার উপরে। নাজিয়া সে দৃষ্টিতে মিইয়ে গেল। অতঃপর তাদের কিছু না বলেই তিনি হনহনিয়ে নিজের বেডরুমে পা বাড়ালেন।

আযান বুঝল আগাগোড়া কাহিনিটা। তবে বিশেষ গা করল না। রুমে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে বের হতেই দেখল বেকুবটা পুরো মাথা না মুছে একেবারে নায়িকাদের মতন ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে মাথা দুলিয়ে কেবল চুলের আগা মুছছে। আযান এক ঝটকায় মেয়েটার হাত থেকে টাওয়াল টেনে নিয়ে তার পুরো মাথার চুল মুছে দিতে দিতে গজরাতে থাকল।
‘এট্টুকু একটু চুল সেটা নিয়ে এত নায়িকা মারানোর কি আছে হ্যা? অ্যাই বেকুব! বেকুব আমি এমনে ডাকি তোমাকে? ঠান্ডা সর্দি এসব ত লাগবে মাথার তালু থেকে। চুলের গোড়া না মুছে আগা নিয়ে কেনো পড়ে আছ?’

নাজিয়ার তখন আরামে ঘুম আসিআসি অবস্থা। যাক দানবের হাত দুটো কোনো কাজের ত আছে। এখন সে গোসল করে ইচ্ছে করে ভালো করে মাথা মুছবে না।লোকটা তখন বিরক্ত হয়ে এভাবে আরাম আরাম করে মাথা মুছে দিবে নিশ্চয়ই।
বদ টা এতটাও খারাপ না, নাজিয়া মনে মনে ভাবল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here