‘মেঘের মুলুকে চল’
আয়রা তাবাস্সুম
পর্ব ২৮
____________________________
সকালে রাদের ঘুম ভাঙল বাপের ডাকাডাকিতে। ছেলের রুমে ঢুকে রেজওয়ান চৌধুরী সস্নেহে ছেলের মুখে চেয়ে থাকলেন কিছুক্ষন৷ কতটা নির্ভার নিশ্চিন্ত হয়ে ছেলেটা ঘুমুচ্ছে। পরক্ষণেই আরেকটা ভাবনা তার মাথায় উঁকি দিলো। আজ যদি ঘটনা হাত থেকে বেরিয়ে যেতো, মেয়েটার আরেক জায়গায় বিয়ে স্থির হতো তাহলে ছেলেটার কি হতো! পাগলপারা হয়ে যেতো নিশ্চয়ই। অন্তর্মুখী স্বভাব এই ছেলের। ভিতরে ভিতরে ভেঙেচুরে খানখান হয়ে গেলেও হয়তো সেটা ছেলেটা বাপ মাকে দেখাতো না।
কষ্ট নিজের মধ্যে চেপে রেখে একেবারে স্বাভাবিক থাকার ভান ধরত। সবকিছু চিন্তা করে তিনি আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করলেন। নিশ্চিন্ত হলেন তার ছেলে মেয়ে দুজনেরই একটা ভালো সংসার হবে। মেয়ের জামাই কে নিয়ে তিনি পুরোপুরি নির্ভার সেই প্রথম থেকে। মেয়েটা ভালো থাকবে সে বিশ্বাস আছে তার। আর অথৈ কে যতদূর চিনেছেন তিনি জানেন মেয়েটা তার ছেলের জীবনে শান্তি স্বস্তি হয়ে থাকবে। নাহলে এতটা নির্ভার নিশ্চিন্ত হয়ে ছেলে বিয়ের দিনে এরকম ঘুমিয়ে থেকে আধাবেলা কাটিয়ে দিতো না।
বাহুতে বাপের হাতের চাপড়ে রাদের ঘুম ভাঙল। ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখে বাপকে সামনে দেখে সে চোখ ডলতে ডলতে বিছানায় বসে থাকল খানিকক্ষণ। কাল রাতে অফিসের কাজ শেষে দেরিতে ফিরে ঘুমও হয়েছে দেরিতে। ড্রয়িংরুমে যা জমজমাট আসর বসিয়েছিল সবাই। সেই চিৎকার চেঁচামেচি তে তার ঘুম হওয়া দায়। বিয়ের দিন না হলে অবলীলায় আরো খানিকক্ষণ ঘুমিয়ে নিতো সে৷ তবে পরক্ষণে অথৈ র মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠায় তার চোখ দুটো থেকে ঘুম সব পালাল। কি চমৎকার ভাগ্য তার! দিবা স্নপ্ন জাগরণে ধ্যানে গোটা একটা বছর ধরে যেই মেয়েকে কল্পনা করে এসেছে এখন থেকে রোজ ঘুম থেকে উঠে সেই মেয়েকে বাস্তবে দেখবে! মেয়েটা আদৌ কখনো জানবে সে তাকে কতটা চেয়ে এসেছে! যতটা চাওয়া থাকলে অসম্ভবের শেষ সীমানায় গিয়েও তাদের ভাগ্য জুড়ে গেছে!
এসমস্ত ভাবনা গিলে সে চটজলদি বাপ কে প্রশ্ন করে বসল, ‘আব্বু! বুনি কে কি তোমরা বলে ফেলেছ যে আমি অথৈ কে শুরু থেকেই পছন্দ করতাম। কথাটা আড়াল করে তোমাদের পছন্দের দোহাই দিয়ে বিয়েটা করছি। ও যেমন পেট পাতলা! যদি মুখ ফসকে কথাটা অথৈ কে বলে ফেলে!’
রেজওয়ান চৌধুরী হাসলেন ছেলের এমন আতংকিত হাবভাবে। নিশ্চিন্ত করলেন নাজিয়া এসবের কিচ্ছু জানে না৷ রাদ শান্ত হলো এবার। পরে আবারও চিন্তিত সুরে বলল, ‘আব্বু৷ আমি কি ভুল করেছি অথৈ কে আগাগোড়া ব্যাপারটা না জানিয়ে। জানাই নি এটা ভেবে মেয়েটা যদি ভেবে বসে একটা বছর ধরে আমি অফিসের বস হয়ে তার উপর এরকম নজর রেখেছি।’ রেজওয়ান চৌধুরী এবার স্মিত হেসে ছেলেকে আশ্বস্ত করলেন। বুঝালেন কোনো ভুল হয়নি ছেলের। দুটোতে সংসার জীবন শুরু করলে পছন্দ ভাললাগা এসব আপনাআপনি হবে। রাদের নাহয় আগেই হয়ে গেছে ভাললাগাটুকু। ক্ষতি কি তাতে!
এসব বলে তাকে তাগাদা দিলেন গোসল সেরে রেডি হয়ে যেতে৷ বরযাত্রী যাওয়ার বেশি সময় বাকি নেই। অন্য আয়োজনেরও তোড়জোড় করতে হবে!
__________________________
‘আরমিইইন! অ্যাই মেয়ে! আর কত দেরি করবে?এত হাতিঘোড়া সাজার কি আছে। আরে বাপ বিয়ে ত তোমার ভাই করছে। তুমি না!’
‘বিয়েটা আমার হলে বেশ হতো৷’
মেয়েটা ঠোঁটে লিপস্টিকের প্রলেপ লাগিয়ে নিজেকে আয়নায় দেখতে দেখতে কথাটা বলল।
আযানের বড় বিরক্ত লাগল। সকালে ঘুম ভেঙেও মেয়েটাকে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দেখেছে। কি সব পানির সাথে গুলিয়ে মুখে মেখে রেখেছিল৷ বাদরঁ কে তখন ভূতের মতন লাগছিল পুরো৷ অথচ আযান মহা ধৈর্য্যর পরিচয় দিয়ে মুখ টা বন্ধ রাখল। কিচ্ছুটি বলল না, বেকুব যা করে শান্তি পায় তা করুক। তারপর সে গোসল সেরে পাঞ্জাবি পরে পারফিউম মেখে একেবারে রেডি। অথচ বাঁদরের রেডি হওয়া হলো না! আযান গোসলে যাবার সময় স্পষ্ট দেখেছে মেয়েটা মুখ ধুয়েমুখে আবার আলতো হাতে কি জানি মাখছিল মুখে৷
আর সেই তখন থেকে এখনো অব্দি তার মুখে মাখামাখি জারি আছে৷ আযানের মাথা গরম হলো হঠাৎ। বাদরঁ যে হারে জিনিস মাখছে মুখের নকশা টকশা পাল্টে ফেলবে বোধহয়। মেজাজ ছেলেটার বিগড়ানো ছিল ই। তবে এবারে মহা চটে গেল মেয়েটার গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলা শেষ কথাটা শুনে৷ আশ্চর্য। এরকম কথার মানে কি! ছেলেটা খ্যাঁকিয়ে উঠল এবার,
‘অ্যাই অ্যাই কি বললে ! তোমার বিয়ে মানে? আবার কাকে বিয়ে করবে তুমি?’
‘ধুরু। অটিস্টিক আপনাকে এমনি ডাকি? বলতে চাইলাম বিয়েটা আমার মানে আমরা দুজন আবার করলে কি ভালো হতো!
প্রথমবারে ত দুনিয়ার ঝামেলা হয়েছিল। আপনি ফোনে সমানে গালিগালাজ করছিলেন কাকে জানি আর আমি ফ্যাচঁফ্যাচঁ করে কাঁদছিলাম৷ এরপর দুজনে কবুল বলে দিলাম! এটা কোনো বিয়ে হলো?’
আযান বরফঠান্ডা চোখে মেয়েটাকে দেখল। বাঁদর কে আযান যে এমন আদর আহলাদ দেখায় সেটার উপযুক্ত শিক্ষা সে পাচ্ছে। কথায় কথায় বেয়াদপটা এখন বেয়াদবি করে তার সাথে। ভয়টয় পাওয়া তো দুরের কথা! যা মুখে আসে তাই বলে ফেলে অনায়াসে!
আমি অটিস্টিক? আযান রাগী চেহারা বানিয়ে মেয়েটাকে ভয় দেখানোর বৃথা চেষ্টা করল। তবে মেয়েটা যেন গা ই করল না তার এমন রাগী শীতল চাহনি। বরং উল্লসিত হয়ে বলে চলল নিজের কথা।
‘জানেন! একটা ইন্ডিয়ান সিরিয়ালে আমি দেখেছি নায়ক নায়িকার এক দু বার না চার চার বার বিয়ে হয়। আর আমাকে দেখেন! একবার মাত্র করলাম সেটায়ও দুনিয়ার ঝামেলা। কি কপাল আমার!’
আযানের এবার বড় অসহায় লাগল। বেকুব কথা বলেও সব বেকুব মার্কা। একবার বিয়ে করে দুনিয়ার মানুষ কপাল চাপড়ায়, বাপবাপ করে মরে আর সেখানে নাকি কতগুলোর আবার চার চার বার বিয়ে করার মতন গায়ে কারেন্ট থাকে! আযান বুক চিরে বেরিয়ে আসতে চাওয়া বড়সড় দীর্ঘশ্বাসটুকু চেপে মেয়েটার কথার প্রতিত্তোরে বলল,
‘আজ বিয়ের ভেন্যু থেকে একবার ফিরি তোমাকে কান ধরে পড়ার টেবিলে বসাব আমি। সারাক্ষণ পড়াশোনা লাটে তুলে এই মুভি ড্রামা দেখা আমি বার করব!
দেখোও ত সব অবাস্তব বালসাল জিনিস! একবার বিয়ে করতে কত খরচ হয় জানা আছে? সেখানে নাকি চার চার বার বিয়ে যেনো হাতের মোয়া একেবারে! এসব স্ক্রিপ্ট যারা লিখে তাদের সামনে পেলে আমি সমানে চড় মেরে মুখের নকশা পাল্টে দিতাম একেবারে!
এসব আউলফাউল কথা রাখো। বারোটা বেজে এরপরে একটা বাজবে। তাড়াতাড়ি করো।’
মেয়েটা গায়ে মাখাল না এমন হম্বিতম্বি। বরং মুখ ভেংচি দিয়ে বলল, ‘তাড়াহুড়ো করতে বললে আরো দেরি হবে৷ তাই চুপ করে অপেক্ষা করুন। আপনার কথাবার্তার জবাব দিতে গিয়ে আমার কনসেনট্রেশান ব্রেক হচ্ছে। আইলাইনার দিচ্ছি এখন। আরেকটা কথা বলে যদি আবার মনোযোগ বিগড়ে দিন তাহলে আমি নাজিয়া আজ বুঝিয়ে দিব আমি কি জিনিস। বলে রাখলাম কিন্তু।’
আযান বড়সড় দীর্ঘশ্বাস ফেলল এবার। বেছে বেছে এমন নমুনা ই তার কপালে জুটতে হলো! বিয়ের পর থেকে বেকুবের প্রতিটা কাজকর্মে যেভাবে একদম বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস ফেলার অভ্যেস হয়েছে তার কোনো একদিন হাঁপানির টান উঠবে বোধহয়। যতটা মনোযোগ দিয়ে চোখে আঁকিবুঁকি করছে ততটা মনোযোগ পড়াশোনায় দিলেও হতো। অথচ একদিন পড়তে বসলে বাকি চারদিন পড়ার টেবিলের আশেপাশেও আযান দেখে না তাকে।
এক দেড় ঘন্টা আরো সময় লাগিয়ে নাজিয়া অবশেষে রেডি হলো। রাদ রেজওয়ান চৌধুরী আর নাওয়ার চৌধুরীকে সাথে নিয়ে ইতিমধ্যে রওয়ানা হয়ে গেছে। নাজিয়ার কাজিনরাও ইশিতাদের সাথে মিলে বরযাত্রী দের জন্য ব্যবস্থা করা কারে উঠে পড়েছে। স্রেফ আযান হাপিত্যেশ করতে করতে বউয়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকল। সময়নিষ্ঠা যার অভ্যাস তার কিনা এমন বউ যে লেটলতিফ দের লিস্ট করলে একদম এক নাম্বারে থাকবে! কি কপাল তার। বিরক্তি রাগে কপাল কুঁচকে ছিল তার। লিভিং রুমে মেয়েটার অপেক্ষায় পায়চারি করছিল অনবরত। তবে বেডরুম থেকে উঁচু হিল পায়ে মেয়েটাকে ফিরোজা রংয়ের একটা মসলিন শাড়ি গায়ে হাসিমুখে বেরুতে দেখে আযানের রাগ সব গলে জল হয়ে এলো। শাড়িতে মেয়েটাকে বরাবর ভালো লাগে আযানের৷ তবে আজ বোধহয় সাজগোছ শাড়ি সব মিলিয়ে আরো বেশি চোখে লাগল। বুঝে পেল না মেয়েটা কি আসলেই এতটা সুন্দর নাকি স্রেফ আযানের চোখে তাকে এতটা সুন্দর লাগে!
বিয়ের ভেন্যু ঠিক করা হয়েছে ঢাকার অদূরে গাজীপুরে অবস্থিত একটা নামীদামী ইকো রিসোর্টে। রেজওয়ান চৌধুরী নিকটাত্মীয় বিজনেস পার্টনার বাদে তেমন বাড়তি মানুষজন ইনভাইট করে নি। কেটারিং থেকে ডেকোরেশন সবকিছু রিসোর্ট অথরিটি রা দায়িত্ব নিয়েছে। তাই পুরো আয়োজন টা ছিমছাম রুচিশীল একইসাথে গোছানোও ছিল৷ একপাশে আবার ব্যান্ডের সিঙ্গার দের এনে লাইভ মিউজিকের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এটা অবশ্য রাদের প্ল্যান। বিয়ে এতটা আড়ম্বরপূর্ণ করে করাটা তার শখ না হলেও অথৈ র কাজিনদের থ্রু তে জেনেছে এরকম বিয়ের ইচ্ছে ছিল মেয়েটার। সে নাজিয়ার থ্রু তে অথৈ র কাজিনদের কাছ থেকে অথৈ র পছন্দের বাংলা গানগুলোও জেনে নিয়েছে৷ লাইভ মিউজিকে ব্যান্ড আর্টিস্ট রা বেছে বেছে স্রেফ সেগুলোই পরিবেশনা করবে আজ।
রাদের তখনো মাথায় চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল আয়োজনে আর কোনোটা বাদ গেলো কি না। অথৈ র পরিবারের ঠিকঠাক যত্নআত্তি হচ্ছিল কিনা সেটাও অনবরত একে ওকে ডেকে দেখতে বলছিল। তার এমন দুশিন্তাগ্রস্থ মনমেজাজ কে ঠান্ডা করতেই যেনো মেরুন জামদানি গায়ে অথৈ র উদয় হলো। রাদ তখন নিজের ভাবনায় ব্যস্ত। সবার হইহট্টগোলে চোখ গেলো সামনে৷ দেখল একটা অতিপরিচিত মুখ। মাথায় একটা সরু টিকলি, দুটো বড় বড় চোখ, আর পাতলা ঠোঁট। একদম রাদের সপ্নে এসে গোটা একটা বছর ধরে তাকে অস্থির করে তোলা মেয়েটার মতন চেহারা। আচ্ছা স্বপ্ন এভাবে বাস্তব হয়!
সে কাঁপা কাঁপা পায়ে এগিয়ে মেয়েটার হাত ধরে তাকে সাহায্য করল স্টেইজে উঠে আসতে। বুকভর্তি অস্থিরতা নিয়েও একেবারে স্বাভাবিক মানুষের মতন বসে থাকল অথৈ। পরক্ষণেই নিজেকে ভর্ৎসনাও করল মেয়েটা। তখন ওভাবে লজ্জাশীলা কনের ভান ধরতে গিয়ে মাটিতে চোখ রেখে রেখে হেঁটে এসেছে। তাই চোখ তুলে দেখতেও পারল না লোকটা কে শেরওয়ানিতে কেমন লাগছে! এখন এভাবে পাশাপাশি বসে আছে দুজনে৷ সে কি এখন একটু পাশ ফিরে তাকাবে? দেখবে লোকটা কে কেমন লাগছে? পরক্ষণেই ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা মনটা শাসাল মেয়েটাকে। আজীবনের জন্যই ত লোকটা এখন তোর। এত দেখাদেখি করতে হবে না আর। চুপটি মেরে বসে থাক একদম। অথৈ মনের কথা শুনলেও রাদ মনের কথার এত ধার ধরল না৷ ঠিকই আড়চোখে সে পাশের পুতুল টাকে দেখে গেল আগাগোড়া। পুতুল ই ত। কেমন চুপটি করে বসে আছে। একদম পুতুল বউ তার!
নিকাহনামায় সিগনেচার করার পর্ব শেষ হতেই খাওয়াদাওয়ার আয়োজন শুরু হলো৷ পাশে চলছিল ব্যান্ড আর্টিস্টদের লাইভ মিউজিক। আযান রেজওয়ান চৌধুরী আর তার চাচাশ্বশুরদের সাথে মিলে হাতেহাতে অথৈ র পরিবারের সবাইকে বেড়ে খাওয়াচ্ছিল। খাবারদাবারের তদারকি করছিল। এসবে ব্যস্ত থাকলেও তার ঠিকই খেয়াল ছিল বাঁদর কোথায় কি করছে। যেমন সাজগোছ দিয়ে এসেছে আজ, তার বাদঁরের উপর কেউ নজর দিলে আবার! সেই ভাবনায় আনচান করল ছেলেটার মন। তাই ওইদিকের কাজকর্ম ফেলে চট করে গিয়ে বসল নাজিয়ার পাশে৷
মেয়েটা তখন দুনিয়ার মনোযোগ দিয়ে লাইভ মিউজিকে বুদঁ হয়ে আছে। তাই খেয়াল করে নি আযান কে। আযান দেখল তাকে আগাগোড়া। দুনিয়ার সব অকাজে খুউব মনোযোগ বেকুবের। এমন সব ভাবনাতেই তার কানে এলো পরিচিত একটা গানের আওয়াজ৷ কলেজ লাইফে আর্টসেল ওয়ারফেজ ফ্র্যাঙ্কলিন শিরোনামহীন সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্যান্ডের গান শোনা হতো তার । সেই অভ্যেসে গান টা চিনতে তার অসুবিধে হলো না। সেও নিবিষ্ট মনোযোগে গান টা শুনতে শুনতেই থমকে গেলো হঠাৎ। কি জানি ভাবনায় মুখ ফিরিয়ে নাজিয়াকে দেখল। মেয়েটা তখনো গানে বুদঁ৷ দুনিয়ার খেয়াল নাই তার৷ আযান অবশ্য তাকে দেখতেই থাকল নিষ্পলক। সুরের মূর্ছনায় তখনও ভেসে আসছে গানের লাইন দুটো,
তুমি আমার আলো, নিভিয়ে দাও অন্ধকার
আমি শুধু তোমাকেই চাই……
[ মানুষজন! দেখেছেন আমি কি ভালো! পরীক্ষার মাঝখানেও গল্পটা দিয়ে যাচ্ছি যাতে গল্পের প্রতি আপনাদের আগ্রহটা না কমে। এবার আপনারাও একটু ভালো হয়ে যান দেখি! রেসপন্স করেন সবাই। আচ্ছা হঠাৎ একদিন যারা চুপি চুপি পড়েন কিংবা যারা ফলোয়ার হয়েও লাইক কমেন্ট করেন না তারা সবাই মিলে লাইক টাইক দিয়ে চারশ পাচশঁ রিয়েক্ট বানিয়ে আমাকে একটু চমকে দিতে পারেন না? খুউব কঠিন কাজ এটা? গল্পের শুরু থেকে আজ অব্দি আমি ত কখনো আপনাদের রিয়েক্ট টার্গেট এমন কিছু দেই নি৷ একেবারে কম রিয়েক্ট আসলেও গল্প আটকে রাখি নি৷ কারণ রিয়েক্টের জন্য গল্প আটকে রাখব তেমন মানসিকতা আমার নেই৷ তাই বলে কি আপনাদেরও বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধতা নেই গল্প পড়ে সামান্য রেসপন্স করার! চুপিচুপি গল্প পড়ে চলে যাওয়া এটা কি খুউব ভালো কাজ? নিজেরা চিন্তা করেন তো। একজন দেড় দু ঘন্টা সময় লাগিয়ে পনেরশো দু হাজার ওয়ার্ড লিখছে আর সেটা আপনি পাঁচ দশ মিনিটে পড়ে ন্যুনতম লাইক কমেন্ট না করে চলে যাচ্ছেন! এমন হওয়া উচিত? ]

