মেঘের মুলুকে চল’ আয়রা তাবাস্সুম পর্ব ৩২ [ অন্তিম পর্ব

0
2

‘মেঘের মুলুকে চল’
আয়রা তাবাস্সুম
পর্ব ৩২ [ অন্তিম পর্ব ]
___________________________

কাঠফাটা রোদের এক দুপুরবেলায় আযান ইয়াসীর ভুইঁয়ার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটা পৃথিবীর বুকে পদার্পণ করল। আযানের বিশাল দুই হাতের তালুতে যখন সে বাচ্চাটাকে নিলো তার প্রথমে যেন বিশ্বাসই হতে চাইল না এই পাখির সাইজের পুতুল চোখের মেয়েটা তার। আধো আধো স্বরে একদিন তাকে বাবা ডাকবে পিচ্চি প্রাণ টা৷ কি আশ্চর্য! কি আশ্চর্য ! বাবা হবার অনুভূতি আযানের খুউব অদ্ভুত লাগল। এই ক মাসে নাজিয়ার শরীরী নাজুক দশা নিয়ে সে এতটা চিন্তিত ছিল একপর্যায়ে তার মাথা থেকে বেরিয়েই গেছিল ন মাস পরে একটা নতুন প্রাণ যোগ হবে তার জীবনে।

তার স্রেফ মনে হতো ন মাস পরে বেকুবের অসুখ সেরে যাবে। বেকুব আবার আগের মতন হাসিখুশি হয়ে উঠবে। সত্যি বলতে সেসব ভাবনায় একটাবারও তার অনাগত সন্তানের কথা মাথায় আসেনি তার৷ অথচ আজ বাচ্চা শিশুটিকে আলতো করে বুকে জড়িয়ে নিতেই তার চোখ দুটো জলে ভরে এলো৷ যেন সৃষ্টিকর্তা সদ্য জন্ম নেয়া প্রাণ টার সাথে আযানের আত্নিক টান লিখে রেখেছেন আগেই। আযান এবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে মেয়েকে অপলক দেখতে লাগল। চোখ দুটো একেবারে বেকুবের পেয়েছে মেয়েটা৷ আযানের ভীষণ হাসি পেল সেটা দেখে৷ সে মেয়ের ছোট্ট কপালে আদুরে চুমু দিতে দিতে বিড়বিড় করল, ‘একেবারে ত মায়ের চোখ পেয়েছে আমার মা টা। তা আম্মাজান আপনিও কি বড় হয়ে মায়ের মতন কথায় কথায় চোখ পাকিয়ে রাগ দেখাবেন আমায়? ঝগড়াঝাঁটি তে মায়ের পক্ষ নিবেন? হুম!’

তক্ষুণি আচমকা তার কানে এলো তারস্বরে চেঁচানো কান্নার আওয়াজ। আযান দেখল তার দুনিয়াটা দুনিয়ার মানুষকে জেগে তুলার মতন ঠোঁট ভেঙিয়ে কান্না জুড়েছে। এবার আযান একেবারে হতবিহ্বল হয়ে পড়ল। শুধু চোখ না, কান্নার ধরণও একেবারে বেকুবের মতন। আযানের বড় মনখারাপ হলো। মেয়ে তাহলে তার কিচ্ছুটি পায় নি৷ একেবারে বেকুবের মতন হয়েছে। সে গলায় একরাশ মনখারাপ এনে আবারও বলে যেতে লাগল, ‘কি আশ্চর্য আম্মাজান! আপনার ঠোঁট উল্টে কান্নাকাটি করাটাও দেখি আপনার মায়ের মতন একেবারে। আপনার মাও এভাবে ঠোঁট ভেঙে কেঁদে আমাকে বশ করে রাখে। সব অন্যায় আবদার করে আমার কাছে। আপনিও বোধহয় বাবাকে এমন ঠোঁট ভেঙে কেঁদে কেঁদে কাবু করে ফেলবেন, তাই না! তবে সেসবের দরকার পড়বে না মা। আমি আযান ইয়াসীর ভুইঁয়া স্ব ইচ্ছায় আমার সবকিছু আমার মা টার পায়ের তলায় এনে রাখব। আপনার মুখ ফুটে কিচ্ছু চাইতে হবে না আমার কাছে।’

বাপ মেয়ের এমন আদর আহলাদে ছেদ পড়ল রেহনুমা ভুইঁয়ার আগমনে। তিনি এসেছেন নাতনি কে মায়ের কাছে নিতে। নাজিয়ার জ্ঞান ফেরায় নার্স বাচ্চাকে মায়ের দুধ খাওয়াতে বলেছে। সেজন্যই নাতনিকে নিতে তার আসা। দূর থেকেই তিনি শুনেছেন ক্ষিধার চোটে বাচ্চাটা তারস্বরে কান্না জুড়েছে। নাতনিকে নিতে এসে তার চোখে পড়ল অভূতপূর্ব দৃশ্য টা। ছেলেকে ছোট থেকে দেখেছেন তিনি। সহজে মানুষের সাথে কোমল আদুরে স্বরে আলাপ জুড়তে পারে না সে। বরাবরই একগুঁয়ে রুক্ষ আচরণ তার। বউয়ের প্রতি নমনীয় হলেও কথার স্বর থেকে সেই রুক্ষতা মিলিয়ে যায় না৷ অথচ আজ অবাক নেত্রে দেখলেন মেয়ের সাথে আহ্লাদ গলে পড়ছে তার। মেয়ের ছোট্ট পা দুটো নিজের গালে চেপে আদুরে গলায় এটাওটা বলছে ছেলেটা। পুরো দৃশ্যটা রেহনুমা ভুইঁয়ার মন কাড়ল ভীষণ। তাকে ভাইয়ের বউয়েরা সহ কত আত্নীয়স্বজন কথায় কথায় শোনাত এমন গোঁয়ার বদমেজাজি ছেলের সংসারে বউ থাকবে না। অথচ আজ ছেলেটার সংসার পরিপূর্ণ! ভীষণ মিষ্টি দেখতে এক বাচ্চার বাবা সে। রেহনুমা ভুইঁয়া প্রাণভরে শুকরিয়া আদায় করলেন সৃষ্টিকর্তার।

মেয়ে কে দুনিয়ার আবোলতাবোল কথা শোনানোর একপর্যায়ে আযানের চোখ পড়ল মায়ের উপর। মাকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে নিজেই কাছে গিয়ে প্রশ্ন করল। ‘আম্মু আরমিনের সেন্স ফিরেছে? ডাক্তার রা কি বলল। আর কতক্ষণ লাগবে?’ রেহনুমা ভুইঁয়া মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ ইশারা করলেন। ছেলের দু হাতের আঁজলা থেকে কান্নারত নাতনিকে কোলে নিতে নিতে বললেন, ‘ওর হুঁশ এসেছে। এখন গিয়ে দেখা করতে পারবি। আর বাবুকেও মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। দেখতে চাইলে এখন গিয়ে দেখে আয়৷ ওর মা বাবা ভাই ভাবী পথে শুনলাম৷ পরে সুযোগ পাবি না৷ ওদেরও ত মেয়ে নাতনীকে দেখার ইচ্ছে হবে।’
আযান চুপচাপ মায়ের পিছুপিছু কেবিনের দিকে পা বাড়াল। যেতে যেতেই সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করল ভীষণ আন্তরিকতা নিষ্ঠা নিয়ে।

অফিস থেকে ছুটে আসার পথে যখন শুনেছিল বেকুবের জ্ঞান ফিরছে না। ডেলিভারি পরবর্তী জটিলতার জন্য প্রচুর ব্লাড লস হয়েছে। তখন আযানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল। চট করে মনে পড়ে গেল কয়েকদিন আগের কথা যখন বেকুব মাঝরাতে পেটের ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে তাকে বলেছিল, ‘আমার মনে হচ্ছে আমি বোধহয় মরে যাব৷ আপনাকে আমার বাবুটাকে আর দেখতে পাব না কখনো। তখন আমার খুউব কষ্ট হবে। আমি আল্লাহকে অনেক বলেছি আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে। আমার অনেক ইচ্ছা আপনি কেমন বাবা হন সেটা দেখার। যদিও আমার ধারণা আপনি ভীষণ ভালো একজন বাবা হবেন। খুউব আদর করবেন বাবুকে। কিন্তু সেসব দেখার জন্য বোধহয় আমি থাকব না দুনিয়ায়।’

মেয়েটা আরো বলেছিল,’আমি যদি সত্যিই মরে যাই আমি ভীষণ মিস করব আপনাকে। আর হয়ত বলার সুযোগ পাব না। তাই এখন বলে ফেলি। আমি ভীষণ ভালবাসি আপনাকে। আব্বু আম্মুর পরে আর কাউকে এতটা ভালবেসেছি কিনা মনে পড়ে না। আপনি আমাকে ভাল না বাসলেও বাসি৷’ মেয়েটার ফোঁপাতে ফোপাঁতে বলা এমন করুণ আর্তি আযানের শক্ত কঠোর দিলেও আঁচড় কেটেছিল। প্রতিত্তোরে ভালবাসি বলার ইচ্ছে আযানের হয়নি৷ তার মনে হয়েছিল একবার তার মুখে ভালবাসি শুনার পরে বেকুবের যদি সত্যিই কিছু হয়ে যায়৷ তারচেয়ে বরং আযানের মুখ থেকে ভালবাসি শুনার জন্য বেকুব বেঁচে থাকুক, ডেলিভারির সময় বাঁচার মনোবল বাড়বে মেয়েটার।

মেয়েটার গর্ভাবস্থার আটমাসের মাথায় অনবরত বাড়তে থাকা প্রেশার এবং ডায়বেটিস লেভেল গাইনীকেও বেশ চিন্তায় ফেলেছিল। এবং সেটা মেয়েটা জানতে পেরে তখন থেকেই মৃত্যুভয় ঢুকেছিল তার মাথায়। সেই ভয় থেকে শেষের কটা মাস মেয়েটার ভীষণ দুশ্চিন্তায় কাটত৷ আযানকে বলত এটাওটা। আযান তাকে স্রেফ জড়িয়ে ধরে আদর করে দিতো। তার নিজের দুশ্চিন্তা ভয় মেয়েটার সামনে না দেখালেও মোনাজাতে বলে ফেলত সবকিছুই। এমনও অনেক সময় হয়েছে সে নীরব কান্নার তোড়ে মোনাজাতে গলা দিয়ে শব্দ করতে পারত না পাছে ওই কান্নাজড়িত আর্তি নাজিয়ার কানে যায়। শুধু এটুকু বলে জায়নামাজ গুটিয়ে নিতো।’মাবুদ। আমি ভীষণ ভালবাসি বেকুব কে। কেউ না জানুক তুমি তো জানো৷ বেকুব কে তুমি আমার কাছ থেকে নিয়ে যেয়ো না৷ আমি একদম মরে যাব তাহলে’

নাজিয়ার প্রসববেদনাও উঠে আচমকা। ডেলিভারি ডেইটের এক দুদিন না বরং একসপ্তাহ আগে। আযান সেইসময় সাইট ভিজিটের কাজে পুরান ঢাকায় ছিল টিমের সাথে। আচমকা ফোনে মেয়েটাকে হসপিটালে নিয়ে গেছে শুনে পুরো দুনিয়া মাথায় ভেঙে পড়ল তার। পরের পুরো রাস্তাটা শ্বাস গলায় আটকে ছুটেছে সে। তবুও যেন শান্তি নেই। হসপিটালে পৌঁছাতেই শুনল অতিরিক্ত ব্লাড লসের কারণে মেয়েটার অবস্থা আশংকাজনক। স্টেবল হলে কেবিনে নেয়া হবে৷ কথাটা শুনে সে উল্টোপথে হসপিটালের নামাজ রুমে পা বাড়াল৷ বেমালুম মাথা থেকে বেরিয়ে গেছিল ছোট্ট প্রাণ টাকে একটাবার দেখার কথা। বরং সর্বশক্তিমান যে তার কাছে সাহায্যের আর্তি চেয়ে আকুল নয়নে কেঁদেছে। যেখানে জগতের সমস্ত সম্ভাবনা নিষ্ফল হয় সেখানে থেকেই ত সর্বশক্তিমানের করুণা শুরু। তিনি বাদে আর কার আছে বান্দার বিপদ কাটিয়ে দেয়ার ক্ষমতা!

নাজিয়াকে কেবিনে স্থানান্তরের খবরটা শুনে যেন আযানের শরীরে প্রাণ ফিরে এলো। এরপরই আরমান ভুঁইয়া তাকে মৃদু বকাসমেত নাতনি কে দেখালেন৷ আযানের হাতের আজলাঁয় তুলে দেয়া হলো সফেদ তোয়ালে তে মুড়িয়ে রাখা আদুরে বাচ্চাটা। এসমস্ত অতীত স্মৃতিচারণা থেকে সে বেরিয়ে এলো মায়ের ডাকে। রেহনুমা ভুইঁয়া কেবিন থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে আযানকে ইশারা করলেন ভেতরে যাওয়ার৷ ছেলের চোখমুখ দেখেই তিনি বুঝতে পারছিলেন বউকে দেখার জন্য তড়পাচ্ছিল সে। রেহনুমা ভুইঁয়া ইদানিং শুধু চান দুটোতে যেন এমন সুখে শান্তিতে থাকে। বিয়ের শুরুর দিকের ক মাসে তিনি কম রাগ ক্ষোভ ত দেখান নি দুটোর উপরে।

আযান কেবিনে ঢুকে কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়াল। প্রাণভরে এক নাগাড়ে দেখল তার প্রাণ কে। প্রাণ ই ত! মেয়েটার আশংকাজনক অবস্থা শুনে কেমন জান গলায় আটকে ছিল তার! নাজিয়া আচমকা মুখ তুলে তাকে দেখতেই হাসফাঁস শুরু করল। ব্রেস্টফিডিংয়ের দরুন বুকের উপরিভাগের কিছুটা উন্মুক্ত ছিল তার। সেটা নিয়েই মেয়েটার এত জড়তা, সংকোচ। পুরো ব্যাপারটা ঠাহর করতেই আযানের খুউব হাসি পেল। বেকুব বাচ্চার মা হয়ে গেল তবুও বেকুব! আযানকে এক বাচ্চার বাপ বানিয়ে আযানের সামনে এত সংকোচ তার! হাসি পেলেও মেয়েটাকে স্বাভাবিক বানাতে নিজে থেকে কথাবার্তা শুরু করল। ‘আরমিইন! শরীর ভালো এখন? মেয়ে ত একদম তোমার চেহারা পেয়েছে। আমার তাহলে দু দুটো বাঁদরকে সামলাতে হবে বলো!’

এমন টিটকারি মার্কা কথা শুনে মেয়েটার লাজলজ্জা সব উধাও হলো মুহুর্তেই৷ সেকেন্ডের মধ্যে নিজের আগের রুপে ফিরে গিয়ে চেতে উঠল মেয়েটা৷
‘আমি ন মাস পেটে রেখেছি। মেয়ে আমার মত না হয়ে কি আপনার মতন গরিলা দেখতে হবে। আমি বাঘ বাঁদর যেটাই হই মেয়ে আমার মতনই দেখতে হবে।’ আযানের মুখে হাসি ফিরে এলো। বাঁদর তার বাঁদরামি শুরু করে দিয়েছে। এবার আযানের শান্তি লাগল। তবে শান্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না ইশিতার আচানক আগমনে। সে হুড়মুড়িয়ে কেবিনে ঢুকে পড়ল ভীষণ উৎসাহে। হড়বড়িয়ে বলে গেল নিজের কথা। ‘ভাবীইইই! আমি বাবুর সুন্দর একটা নাম ঠিক করেছি৷ তুৃমি রাখবে সেটা? তিস্তা। ইশিতা তিস্তা ম্যাচিং ম্যাচিং না!’ উত্তেজনা উচ্ছাসে চিকচিক করছিল মেয়েটার চোখমুখ।

নাজিয়া মেয়েটার এমন উৎসাহে জল ঢালতে চাইল না৷ নামটা তার বিশেষ পছন্দ না হলেও চেপে গেল সেই কথা। মুখ মিছিমিছি হাসি হাসি বানিয়ে কিছু বলবে বাঁধ সাধল আযান। ইশিতাকে এক ধমক দিয়ে একেবারে তাচ্ছিল্যের গলায় বলল, ‘বেয়াক্কলের বেয়াক্কল! যেরকম নাম ঠিক করেছিস এই নাম রাখলে মুখে কথা ফুটলে আমার মেয়ে সবার আগে তোকে খুজেঁ গাইল্লাবে! তিস্তা কোনো নাম হলো! ওর নাম আমি ঠিক করে ফেলেছি৷’
এবার হতবাক হবার পালা নাজিয়ার। এটা কেমন কথা। প্রেগন্যান্সির শেষ ক মাসে তার শরীর এমন বেহাল দশায় ছিল দুজনের কারোরই অনাগত বাচ্চার নাম ঠিক করার মতন মানসিক সুস্থির অবস্থা ছিল না। তবে লোকটা কিভাবে নিজের একার সিদ্ধান্তে নাম ঠিক করে ফেলল! এমন অনর্থক অভিমানে মনভার হলো মেয়েটার। রাগ করে বদ টার চেহারা থেকে নজর নামিয়ে আনবে তার আগেই কানে এলো গমগমে গলার আওয়াজ টা। শুনল বদ টা ভীষণ মোলায়েম গলায় বলছে, ‘তোর ভাবী ন টা মাস ভীষণ কষ্ট করেছে মেয়েকে দুনিয়ায় আনতে! তাই আমার মেয়ের নাম ওর মায়ের নামের সাথে মিলিয়ে ঠিক করেছি। ওর নাম হবে আরওয়া। আরমিনের মেয়ে আরওয়া’

_______________________

আরওয়ার প্রিয় মানুষ তার পাপা৷ মেয়েটা দুনিয়া চিনেছে ক বছর ই হলো! মাত্র তিন বছর বয়স তার। এরই মধ্যে তার ধারণা তার পাপার মত মানুষ দুনিয়ায় দুটি নেই। তার পাপা বেস্ট। নাজিয়া তাকে কত কি করেও ছড়া শিখাতে পারেনি অথচ তিন বছর বয়স থেকেই মেয়েটার মুখে পাপার প্রশংসার ফুলঝুরি থাকবে সারাক্ষণ। বাপ অফিসে থাকলে মেয়েকে সারাদিন নিজের কাছে রাখতে নাজিয়ার রীতিমত ঘাম ছুটে। মেয়ে সারাদিন শুধু পাপাকে খুঁজবে। তারপর ভিডিও কলে পাপার সাথে কথা বললে কোনোমতে শান্ত হয়। দুনিয়া গোল্লায় যাক স্রেফ পাপাকে চাই তার।

বাপ কে নিয়ে মেয়ের এমন বাড়াবাড়ি দেখে মাঝেমধ্যে নাজিয়ার বড় হিংসে হয়। পেটে ন মাস রেখে শরীরের জ্বালাযন্ত্রণা সব সয়ে সে তাকে দুনিয়ায় আনল অথচ মেয়ের দুনিয়া তার পাপা। ভীষণ দুঃখ থেকে কথাটা একবার ননদকে বলেছিল সে। তার এমন দুঃখেও ইশিতা খোঁচা মারতে ছাড়ল না। বলে বসল, ‘তোমার মেয়ে তোমার মতনই ত হবে ভাবি। মায়ের জিন পেয়েছে তো! তুমি যেমন জামাইপাগলু ও বাপপাগলু হয়েছে আরকি। আমার ভাইয়ের কপাল ভালো বলো, দু দুজন বিরাট ফ্যান তার। এদিকে আমার কপাল দেখো, ভন্ড টা তো আমাকে অপমান করতে কোনো সুযোগই ছাড়ে না।’ এমন ঠেশ মারা কথা শুনে নাজিয়ার ননদকে আর দুঃখের কথা শুনানোর ইচ্ছে হয় না৷

সেদিন আযান অফিস থেকে চটজলদি ফিরল। মেয়ে ভিডিওকলে আধো আধো স্বরে তাকে বাড়ি আসতে বলেছে জলদি। ভিডিওকলে মেয়ের লাল চোখমুখ দেখে আযান বুঝল বাড়িতে মা মেয়ে দুটোতে মিলে ঝামেলা করেছে আজও। আযানের মাঝেমধ্যে বড় কাহিল লাগে। এক বাচ্চার মা হয়েও বেকুবের আচরণ উল্টো বাচ্চাদের মতন। মা মেয়ে দুটোতে ঝামেলা করলে মেয়ে আযানকে নালিশ জানালে কিছুক্ষণ পর মেয়ের মাও তাকে নালিশ জানায়৷ কদিন ধরে সামান্য একটা বিষয়ে মা মেয়ে দুজনে মুখ ফুলিয়ে রেখেছে। আযান জানে মেয়েটা বাপ বলতে পাগল। আযানের আচার আচরণ কথাবার্তা এমনকি ছোট থেকে ছোট বিষয়ও খেয়াল করে সে, অনুকরণ করে সেটা৷ এমনই কোনো এক কথার ছুতো তে মেয়ে খেয়াল করেছে তার মাম্মার নাম আছে একটা। তার নাম যেমন আরওয়া সেরকম মাম্মারও একটা নাম আছে। পাপা যেহেতু সেই নামটা ডাকে আরওয়াও ডাকবে। সেই ভাবনায় তিন বছরের মেয়েটা মাকে একেবারে নাম ধরে ডাকা শুরু করেছে ক দিন ধরে৷ আর এটা নিয়ে মেয়ের মা র ভীষণ রাগ। একেবারে রেগে বোম হয়ে আছে সে৷

আযান বাসায় ফিরে দেখল বাসার পরিবেশ থমথমে। বেকুব দরজা খুলে সরু চোখে তাকে একবার দেখে কিচেনের দিকে পা বাড়িয়েছে। আযান পরনের শার্ট না খুলেই হ্যান্ড স্যানিটাইজ করে চটজলদি চলে গেলো বেডরুমে। আযানের দৃঢ় সন্দেহ মা মেয়ে দুটোতে মিলে মারামারি দিয়েছে। তার সন্দেহ অবশ্য ঠিক হলো। দেখল মেয়ে নাক টানতে টানতে বেডের উপর বসে বিল্ডিং ব্লকস জুড়ছে একের পর এক। আযান মেয়ের পাশ ঘেঁষে বসে কোলে নিয়ে আসল তাকে। ভীষণ আদুরে গলায় নিলো মেয়ের খোঁজখবর।
‘আমার পাখিইই কেমন আছে? পাপাকে খুউব মিস করেছে?’
‘পাখি ভালু নেই। আলমিন ঠাশঠাশ মাচছে।’
মেয়ে চোখে আঙুল ঘষে ঘষে জোর করে কান্না করার বৃথা চেষ্টা নিয়ে উত্তর দিল।

আযান হেসে ফেলল মেয়ের এমন অভিনয়ে৷ এদের মা মেয়ে দুটে কে নিয়ে সে আর পারে না। আরওয়ার আদুরে গাল দুটো তে একনাগাড়ে দশ বারোটা চুমু খেলো সে। মাথায় চুমু দিয়ে মেয়ের আলুথালু চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আযান বলল, ‘মাম্মা কে নাম ধরে ডাকলে মাম্মা ত ঠাশঠাশ দিবে আম্মা৷ বলেছি না মাম্মা কে মাম্মা বলে ডাকতে।’
‘না ও আলমিন। আলমিন আলমিন আলমিন।’
আরোয়া এবার মাথা দুলিয়ে ছড়া মুখস্ত করার মতন বলতে লাগল। আযান হাল ছাড়ল৷ জেদ একদম তার টা পেয়েছে মেয়ে৷ নাজিয়ার উপর ও রাগ হলো তার মেয়েকে এভাবে মার দেয়ায়। ভাবল বেকুব টা কবে থেকে এতবড় হনু হয়েছে যে মেয়েকে এভাবে ঠাশঠাশ মেরে বেয়াদবির শাস্তি দিচ্ছে। বুঝিয়েও তো বলা যায়৷ আযানের সাথে সে নিজেও কম বেয়াদবি করেনি! নিজে একটা বেয়াদব আবার মেয়েকে মেরে বেয়াদবির শাস্তি দিচ্ছে! বাহ!

‘আরমিইইইইন! অ্যাই আরমিইন। এদিকে এসো। মেয়েকে মেরেছ কেনো। তিন বছরের একটা বাচ্চাকে মারতে তোমার হাত কাঁপে নি? কবে থেকে নিজেকে এতবড় হনু ভাবছ তুমি।’
‘বাব্বাহ। অফিস থেকে এসেই বাপ মেয়ের একসাথে মিলে আমার গুষ্টি উদ্ধার করা হচ্ছে দেখছি।’ নাজিয়া কিচেন থেকে সটান বেরিয়ে বাপ মেয়ে দুজনকে একপলক দেখে কথাটা বলল।
‘আলমিন পতা। ঠাশঠাশ মালে। পাপা আলমিনকে ঠাশঠাশ দাও!’ পাপার কোলে থেকে আরওয়া হঠাৎ খুউব সাহসী হয়ে কথাগুলো বলতে বলতে মা কে চোখ পাকাল।
নাজিয়া অবশ্য মেনে নিলো না এমন বেয়াদবি। চেতে উঠে বলল, ‘তোর পাপা আমাকে কি ঠাশঠাশ দিবে৷ আমি ই তোর পাপাকে ঠাশঠাশ দিবো! আগে তোর পাপা কে দেবো এরপর তোকে। নাম বলছি পাপার কোল থেকে। কোল তোর একার? রাতে দিনে সবসময় দখল করে রাখিস!’

‘আহহা আরমিন! মেয়েকে এভাবে কেনো বলছ। তুমিও ত কম বেয়াদপ ছিলে না। ও ত সে তুলনায় বাচ্চা।’ আযান বড় বিরক্ত হয়ে বলল।
‘পতা আলমিন বেদপ আলমিন।’ আরওয়া নতুন ছড়া শিখার মতন গা দুলিয়ে এক নাগাড়ে বলতে থাকল৷ এবার নাজিয়ার চাপা রাগ যেন মাথায় চড়ে বসল৷ তারস্বরে বলতে লাগল মেয়েটা, ‘কাজ থেকে এসেই যে ষাঁড়ের মতন চিল্লিয়ে আরমিইন আরমিইন করেন এটা তার নমুনা। মা কে নাম ধরে ডাকছে। ভালো লাগছে এবার আপনার? ন মাস পেটে ধরে কিনা এই বেয়াদপ কে দুনিয়ায় এনেছি আমি! পাপাকে ভালোমানুষের মতন পাপা ডাকবে আর আমি আরমিন পচাঁ বেয়াদপ। বাহ আপনারা বাপ মেয়ে দুজনেই অকৃতজ্ঞ। কি করিনি আমি আপনাদের জন্য!’ আযানের উপর কথাগুলো বলে রাগ ঝাড়তে ঝাড়তে এবার আরওয়াকে ধরল সে।

‘আর অ্যাই আরওয়ার বাচ্চা!’
‘ও তোমার বাচ্চা। আরমিনের বাচ্চা।’ আযান গম্ভীরমুখে শুধরে দিলো।
‘চুউপ! আপনি একদম চুপ থাকবেন। আমি কথা বলছি আমার মেয়ের সাথে।’ বলে আবারও কথা শুরু করল মেয়েটা।
‘অ্যাই! পঁচা আরমিন ডাকার জন্য তোর গুয়ের ডায়পার চেঞ্জ করেছিলাম আমি। গুয়ের মধ্যে লেপ্টে পড়ে থাকলে তখন বুঝতি আরমিনের গুরুত্ব। তোর সাধের পাপা জীবনে একবার ডায়পার চেঞ্জ করেছে তোর? আলগা দরদ ত খুউউব দেখায়!’

‘আরমিইইন!’ আযান যেন এবার ভয়ানক রাগল৷ ‘বাচ্চার সাথে কেমন ভাষায় কথা বলছ তুমি৷ হোয়াট ইজ গু! এগুলো কেমন ভাষা৷ যা বলবে ভদ্র ভাষায় বললেও ত পারো৷ নিজেই ত দুমিনিট আগে বললে শুনে শুনে সব শিখছে ও৷’
‘পতা আলমিন গু আলমিন।’ আরোয়া এবার নিজের এক হাতের দুটো আঙুল মুখে পুরে আস্তে আস্তে বলল৷
আযান বড়সড় দীর্ঘশ্বাস ফেলল৷ এ ভয়টাই সে পাচ্ছিল৷ যেমন মা তার তেমন মেয়ে। যেটা করতে মানা করবে সেটাই আরো বেশি করে করবে৷ সে চটজলদি মেয়েকে কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে চোখ পাকাল। শাসন করল আদুরে ভাষায়।
‘মা এগুলো পঁচা কথা। ভালো মেয়েরা পঁচা কথা বলে না। আরওয়া না ভালো মেয়ে?’
মেয়ে সায় দিলো আযানের শেষ কথায়। বলল, ‘আলুয়া ভালু। পাপা ভালু। আলমিন গু।’

আচমকা মেয়ের এমন কথায় আযান হতবাক হলো। দেখল তার সামনের বেকুবটা ঠোঁট ভেঙিয়ে কাঁদার প্রস্তুতি নিচ্ছে মেয়ের এমন ছেলেমানুষি কথায়৷ এই মা মেয়ে দুটোকে নিয়ে বড্ড ঝামেলায় পড়েছে সে৷ তাই চটজলদি মেয়ের দু গালে হাত বুলাতে বুলাতে বলতে থাকল, ‘পাখিইইই আর বলবে না তুমি এসব। বললে পাপা আরওয়া কে আর কোলে নিবো না।’
আরওয়া আঙুল দুটো খেতে খেতেই মাথা নাড়াল। মাথা নেড়ে বুঝাল সে আর বলবে না এমন কথা। পাপার কোল আরওয়ার বড় প্রিয়৷ বাচ্চা মানুষ হলেও সে বুঝে পাপার কোলের মত আরাম জিনিস আর হয় না। মিস করা যাবে না সেটা।
আযান এবারে বুদ্ধি জুগিয়ে আবার বলল, ‘মাম্মা কে মাম্মা ডাকবে আজ থেকে৷ আরমিন ডাকলে পাপা আর কথা বলবো না তোমার সাথে৷ ব্রুম ব্রুম গাড়ি আনবো না। আরওয়াকে পার্কে নিয়ে যাবো না।’

আযানকে কথা শেষ করতে না দিয়েই মেয়ে এবার তড়িৎগতি তে মাথা নাড়তে নাড়তে মুখ থেকে আঙুল বের করে বাবার গালে হাত বুলাল৷ ঠোটঁ উল্টে বলল, ‘পাপা পাক যাবু।’ পার্ক আরেকটা জিনিস যেটা আরওয়ার পছন্দের। সচরাচর যাওয়া হয় না তার। অফডে তে আযান বাড়ি থাকলেই তার সাথে পার্কে যাওয়ার সুযোগ মিলে৷ তাই আযানের বলা এত কথার মধ্যে পার্কের কথাটা তেই মেয়ের মনোযোগ গিয়ে আটকালো। আযান এই সুযোগ কাজে লাগাল। বলল,
‘আচ্ছা পাপা আজ বিকেলে আরওয়া কে পার্কে নিয়ে যাবে যদি এখন থেকে ও মাম্মা কে মাম্মা বলে ডাকে।’ আযান এবার শেষ চালে বাজিমাত করলো। সামনে দাঁড়িয়ে হিংসুটে জ্বলজ্বল চোখে তাদের বাপ মেয়েকে দেখা মেয়েটার দিকে আঙুল তাক করে বলল, ‘মা তাহলে ওকে তুমি কি ডাকবে?’
‘মাম্মা, মাম্মা ডাকবু,’ আরওয়া আধো আধো স্বরে বাবার বুকে পিঠ এলিয়ে দিয়ে স্বীকারোক্তি টা দিয়ে দিলো।

আযান একপলক সামনের বেকুব কে দেখল। চোখমুখ কাদোঁকাদোঁ হয়ে আছে বেকুবটার৷ তবুও গা না করে মেয়েকে বুকের সাথে জাপটে ধরে লিভিং রুমে নিয়ে যেতে যেতে বলল, ‘মেয়ের ক্লাস নেয়া হয়েছে। এবার মেয়ের মায়ের নিবো৷ আসছি আমি৷ এসে যেন এখানেই পাই৷’
মেয়েকে লিভিং রুমে খেলনাপাতির সাথে কার্পেটে বসিয়ে দিয়ে আযান চটজলদি রুমে এসে গর্জে উঠল৷ ‘অ্যাই বেকুব!কিসব বাচ্চামি হচ্ছিল ওগুলো….’
কথা শেষ হবার আগেই দেখল মেয়েটা ঠোঁট ভেঙিয়ে নাক টেনে টেনে কাঁদতে কাঁদতে বেডে বসে পড়েছে৷ আযানের এবার বড় অসহায় লাগল৷ বেকুব টা যখন থেকে বুঝেছে তার কান্নায় আযানের মন হাওয়ায় মিঠাই এর মত নরম হয়ে আসে তখন থেকে আকাম কুকাম সব করে নাকের পানি চোখের পানি এক করে কাঁদবে সে৷ সে কান্না থামাতে আযানের তখন এত কাঠখড় পুড়োতে হয় শাস্তি কিংবা বকা দেয়ার এনার্জি ও থাকেনা আর৷

‘আরমিইইইন! কাঁদছ কেনো তুমি৷ আরওয়ার উপর রাগ নাকি আমার ওপর রাগ৷’
‘দেখেন নি আপনি আমার পেটের মেয়ে আমাকে পঁচা বেয়াদপ ডাকছে৷ ন মাস কষ্ট আমি এই দিন দেখতে করেছি!’
‘আহা আরমিইইন! ও বাচ্চা। তুমি ও কি বাচ্চা হলে? এটুকু অন্তত জানোই বাচ্চারা যারা ক্যান্ডি দেয় গিফট আনে ওদের বেশি পছন্দ করে। আর বকাঝকা কিংবা মার যারা দেয় ওদের কে পঁচা ডাকে। আরওয়ার জন্য প্রথম টা আমি হলে দ্বিতীয় টা তুমি৷ এজন্য ওসব বলে। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।’
দেখল বেকুবটা কাদতেঁ কাদতেঁ নাক টানছে৷ আযান একটু হেসে মেয়েটাকে দুহাত বাড়িয়ে আলতো করে বুকে জড়িয়ে নিতেই তার অভিমানের পাল্লা যেনো আরো ভারি হলো। মিনমিন করে বলল, ‘আপনি মেয়েকে বেশি ভালোবাসেন! আমার চেয়েও বেশি। ও ই আপনার চোখের মণি।’

আযান বুঝল এই কয়েক বছরে মেয়েটা এক বাচ্চার মা হলেও বোধ বুদ্ধি বিয়ের প্রথমদিকের মতই৷
‘তোমার পাপা তোমাকে ভালোবাসে?’
‘আপনার চেয়ে বেশি বাসে।’
কান্নার মধ্যেও তাকে এমন খোঁটা মেরে জবাব দিচ্ছে দেখে আযান হেসে ফেলল। তারপর খুব আদর নিয়ে বলল একেকটা কথা৷
‘সেরকম আমিও আরওয়াকে ভালোবাসি। আমার মেয়ে ও। এর মানে এটা না আরোয়ার মাম্মা কে আমি কম ভালোবাসি। আরোয়া আমার চোখের মণি হলে আরোয়ার মাম্মা আমার হার্ট, যেটা আমায় বাচিয়েঁ রাখে! আমার প্রাণ! নিজের প্রাণকে মানুষ ভালো না বেসে পারে?’

এবার আযান কে হতভম্ব করে দিয়ে মেয়েটা তার বুকে মাথা রেখেই শব্দ করে ফুপিয়ে কেঁদে ফেলল। আযান টের পেল শার্টের একপাশ ভিজে গেছে তার। বুকে ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে। সে এবার খানিকটা হতাশ হয়ে বলল, ‘বকাঝকা করলে কাঁদো, ভালবাসি বললেও কাঁদো। তোমায় নিয়ে আমি যে কি করি!’
এমন কথার জবাবে মেয়েটা নাক টানতে টানতে ভাঙা গলায় বলল, ‘আমি জানি আমি আপনাকে অনেক বিরক্ত করি। বিয়েটা করে হয়তো আফসোসও হয় আপনার। এভাবে আমার সাথে বিয়েটা না হলে আপনি ম্যাচিউর সেন্সিবল একটা বউ পেতেন তাই না?’ আযানের বড় রাগ হলো। ইচ্ছে করল বেকুবকে জোরেসোরে ধমক দিবে একটা। তবুও বহুকষ্টে রাগ চেপে ঠান্ডা গলায় বলল, ‘বেকুব তোমাকে এমনে ডাকি! নিজে যা ভাবো সেটাই সত্যি ধরে নাও। বিয়েটা করে আমার আজ অব্দি একটুও আফসোস হয়নি৷ বরং মনে হয়েছে ভাগ্যিস যেভাবেই হোক বিয়েটা তোমার সাথে হয়েছিল! নাহলে এভাবে দম আটকে বাঁচতে বাঁচতে আমি কবেই মরে যেতাম! আমার জীবনে এসে আমার প্রাণ বাঁচিয়েছ তুমি। তোমার বেকুবি বেয়াক্কলপনা বাচ্চামি সব আমায় বাচিঁয়ে রেখেছে৷ আমি তোমার কাছে কত ঋণী সেটা তুমি জানো!’

পরে কিছু একটা ঠাহর করতেই আযান নাক মুখ কুচঁকে বলল, ‘অ্যাই খবিশ! নাক টানছ ভালো কথা। তবে আমার শার্টে নাক মুছলে ধাক্কা মেরে বুক থেকে ফেলে দিবো৷ এক বাচ্চার মা অথচ খবিশ টার স্বভার পাল্টায় নি একটুও!’ ভালোবাসা বাসির সব কথা বলে আযান যেন মুহুর্তের মধ্যেই নিজের আগের ফর্মে ফিরে এলো৷ শুনলো তার বুকে সিঁটিয়ে থাকা মেয়েটা কান্নার মধ্যে ই হাসতে হাসতে বিড়বিড় করছে, ‘বজ্জাত বদ লোক একটা! চোটপাট তার দেখাতেই হবে!’
( সমাপ্ত)

[গল্পটা নিয়ে আমার দীর্ঘ তিন মাসের জার্নি টা বিটারসুইট ছিল৷ হাতেগোনা কয়েকজন মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসা উৎসাহ এবং সাপোর্ট পেয়েছি। এটুকু অর্জনেই আমি ভীষণ আপ্লুত। তাদের এতটুকু ভালবাসাই আমার মনখারাপ অনেকাংশে কমিয়েছে যখনই সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঠকদের উদাসীনতা অবহেলা আমার চোখে পড়ত। আমি হাতেগোনা এই কয়েকজন মানুষের কাছে ঋণী, ভালবাসি তোমাদের। এটা এন্ড নোট হিসেবে লিখলাম যাতে যতবার তারা গল্পটা পড়বে জানবে আপু কতটা ভালবাসে তাদের ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here