‘মেঘের মুলুকে চল’
আয়রা তাবাস্সুম
পর্ব ২১
_________________________________
[ আপনাদের বড় বড় কমেন্ট পড়তে খুউব ভালো লাগে আমার। সবাই কমেন্ট করবেন, ওকে? ]
নাজিয়া বিয়ের দু সপ্তাহ গড়ানোর পর ভার্সিটি এসেছে। মনে মনে খুউব চেয়েছিল কোনো ছুতোয় যাতে আজকের দিনটাও ফাঁকি দিতে পারে। কলেজ অব্দি কেমিস্ট্রি তার পছন্দের একটা সাবজেক্ট ছিল কিন্তু ঢাবি তে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়ার পর থেকে কেমিস্ট্রি এখন তার দু চোখের বিষ। বাবার কথায় নির্দ্বিধায় বিয়েটাও করতে রাজি হয়েছিল এমন ভাবনায় হয়ত বিয়ের পর পড়াশুনায় যথেষ্ট ফাঁকি দিতে পারবে৷
এমন হলে কি যে আরাম আরাম জীবন হতো তার!
খেতো ঘুমোতো আর বদ টার ভাবনায় বিভোর থাকত৷ পরক্ষণেই মেয়েটা বড়সড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবল, ‘অবশ্য যার কপালে আযাবের বাচ্চা টা আছে তার কপালে আরাম কিভাবে থাকবে! আজকের দিনটাও বাদ দিলে কি এমন হতো! কিন্তু না, মহারাজার আদেশ! আজকেই আসতে হবে। আবার এত সাহস কথায় কথায় খালি কান ধরবে ভয় দেখায়। নাজিয়া কি ল্যাদা মেয়ে? মানসম্মান নাই তার? যত্তসব!’
মেয়েটার ভাবনার জগতে ছেদ পড়ল ক্লাসের ভেতর থেকে ছুটে আসা তার দুই প্রিয় বান্ধবীর আলিঙ্গনে৷ নাজিয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাজ্যের প্রশ্ন তাদের! তারা অবশ্য জেনেছিল কেমন পরিস্থিতিতে বিয়ে হয়েছিল তার। এজন্য নাজিয়ার চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত ছিল দুজনে। কিন্তু মেয়েটাকে এমন ফুরফুরে দেখে সাময়িকভাবে নির্ভার হলো দু জন। করে বসল এইওই প্রশ্ন৷ তখনো লেকচারার আসেন নি ক্লাসে৷ এজন্য নাজিয়া সুযোগ পেয়ে গুছিয়ে বলল সবটা৷ বিয়ের প্রথম রাত থেকে শুরু করে তার কুটনি শাশুড়ি মিষ্টি ননদ কারো প্রসংগ বাদ পড়ল না৷ তার বান্ধবী রা প্রথমে অবাক হলেও পরে বেশ খুশি হলো মেয়েটা এমন কেয়ারিং সাপোর্টিভ বর পাওয়ায়। একটা এক্সিডেন্টাল বিয়ে তে এমন বর মেলা ভার! তাদের মনে হলো বর টা রাগী হলেও চালিয়ে নেয়া যাবে৷
একজন ত বলেও বসল, ‘তোর কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে তোর বর রাগী হলেও মানুষ ভালো। বউ য়ের যত্নআত্তি করবে খুব৷’ নাজিয়ার কি যে ভালো লাগছিল তখন৷ মেয়েটা ভীষণ গর্ব ভরে তাল মেলাল বান্ধবীর কথায়৷ বলে বসল, ‘হ্যা একেবারে দশে দশ বর আমার! একদম এক পিস! চাইলেই কেউ আযান ইয়াসীর ভুইঁয়া হতে পারবে না।’ বান্ধবী দু জন অবশ্য ঠোঁট চেপে হাসল মেয়েটাকে এভাবে বরের ব্যাপারে কথা বলতে দেখে। দু জন ই একসাথে বলে উঠল, ‘তুই ত দেখি একদম স্বঘোষিত জামাইপাগলু!’
নাজিয়া গা করল না এমন টিটকারি। বদ টার মতন এমন লাখে এক জামাই যার তার জামাইপাগলু হতে দোষ কি! হুহ!
পরদিন তাদের ডিপার্টমেন্টে কোনো একটা প্রোগ্রাম থাকায় সেটার আয়োজনে দুইটার বেশি ক্লাস হয়নি সেদিন৷ বহুদিন পর বান্ধবীদের পেয়ে তাদের সাথে আড্ডা মেরে টিএসসির ফুচকাটুচকা খেয়ে নাজিয়ার মন বেশ ফুরফুরে ছিল। ফুরফুরে ভাব টা আরো বাড়ল বাসায় যাওয়ার পথে ইশিতার নাম্বার থেকে আসা মেসেজ টা দেখে। মেয়েটা লিখেছে ভাবিকে ভীষণ মিস করছে সে। আর সে তাকে দেখতে আসবে শুনে কাজিন দের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও হল্লা লাগিয়ে রেখেছে বাকিরা। তাই তারা সবাই মিলে দুপুরের পরে দেখা দিতে আসবে তাকে। নাজিয়ার কি যে ভালো লাগল। ননদ রা সবাই ই ভীষণ ভালো বিহেভ করে তার সাথে। টিভি সিরিয়ালের মতন কুটনি কিংবা তার বরের উপর চোখ দেয়া একটাও নেই এটা নিয়েই বেশি খুশি সে। এরকম কিছু হলে কি বিশ্রী হতো ব্যাপারটা!
সে বাসায় গিয়ে চটজলদি ফ্রিজ থেকে বের করা কিছু ফ্রোজেন স্ন্যাকস ভেজে রাখল। নুডলস বানাবে এমন সময়ই কানে এলো কলিংবেলের আওয়াজ। দরজা খুলে সে দেখল ইশিতা হাসি হাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। পেছন থেকে উঁকি দিচ্ছে আরো চারটে মুখ। নিধি, নোভা আর তৃষা,তাশফি। মেয়ে চারটের সাথে আগেই আলাপ হয়েছিল নাজিয়ার। কিন্তু এদের সবার পিছনে সটান দাঁড়িয়ে থাকা নির্বিকার চোখমুখের ছেলেটাকে সে চিনতে পারল না৷ ছেলেটা অবশ্য নাজিয়াকে এমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এসে নিজের পরিচয় দিলো।
‘ভাবী, আপনি মেইবি আমাকে চিনতে পারেন নি। আমি তুষার। তৃষা তাশফি র ভাই৷ আযান ভাইয়ের খালামনির বড় ছেলে।’
নাজিয়া বুঝতে পারল বিষয়টা৷ স্বাভাবিক হয়ে একগাল হেসে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাল বাসায় আসতে। ইশিতা অবশ্য এত ম্যানার্সের ধার ধরল না৷ সে গিয়েই লিভিং রুমের সোফায় চিৎপটাং হয়ে শুয়ে পড়বে এমন ভাব নিয়ে এগিয়ে গেল কথা বলতে বলতে, ‘বাপরে বাপ! ঢাকার জ্যাম! বসতে বসতে পিঠে ব্যথা হয়ে গেছে আমার। কোনদিন শুনবে গাড়িতে বসে জ্যামে আমি স্ট্রোক ট্রোক করে ফেলেছি পরে গাড়ি থেকে সোজা অ্যাম্বুলেন্সে নিতে হচ্ছে আমাকে!’ রাজ্যের অভিযোগ নিয়ে কথাগুলো বলতে বলতে মেয়েটা যে ই সোফায় গা এলিয়ে দিল গায়ের কাপড়চোপড় কুঁচকে এল তার। ওড়না সরে গেছে বুকের উপর থেকে। তুষার খ্যাকিঁয়ে উঠল মেয়েটার এমন আচরণ দেখে। কমনসেন্স নাই কোনো! দামড়া একটা ব্যাডা সে এখানে দাঁড়িয়ে আছে আর মাথাপাগল টা কেমন গা হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়েছে! বেয়াক্কল গর্দভ মেয়েমানুষ একটা! নাজিয়া সামনে থাকায় সে এতকিছু বলতে না পেরে চোখমুখ শক্ত করে অন্য রুমের দিকে পা বাড়াল। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকলে হয়ত মাথা ঠান্ডা হবে তার।
নাজিয়াও তখন সবাইকে রেস্ট নেয়ার সুযোগ করে দিয়ে কিচেনে গিয়ে টুকটাক কাজটুকু সেরে ফেলল। ট্রে হাতে নিয়ে এলো নুডলস চপ কাটলেট এসব। চায়ের বন্দোবস্ত পরে হবে৷ আপাতত এসব খেতে খেতেই জম্পেশ আড্ডা চলবে। পাঁচ মাথা জড়ো হলো একসাথে। কথাপ্রসংগে নাজিয়া ভুলে বলে ফেলল গতকালকের ডিনার আযান বানিয়েছে। ইশিতা বাদে পিচ্চি মেয়ে চারটা ই অবাকই হলো। তারাও জানত না তাদের ঘাড়ত্যাড়া বড় ভাই রান্নাবান্নাও পারে। ইশিতা ব্যাপারটা জানলেও তব্দা খেয়ে বসল আযান ডিনার বানিয়েছে শুনে৷ মেইডের খাবার যে তার ভাই খেতে পারে না সেটা তার জানা। তবে তাই বলে বউ কে কষ্ট করার সুযোগ না দিয়ে নিজেই খুন্তি চামচ চালাবে এমন প্রত্যাশা তার ছিলো না। কৌতূহলবশত সে আরো কিছু প্রশ্ন করে বসল নাজিয়া কে৷ মেয়েটাও কথার ছলে উত্তর দিয়ে ফেললে ইশিতা বুঝল তার ভাই নিজের বউয়ের ভীষণ যত্ন নেয়! চলতে থাকল মেয়েগুলোর এসব আলাপ আলোচনা।
তুষার অবশ্য ভ্রুক্ষেপহীন ভাবে খেয়ে চলছে৷ মেয়েলি আড্ডায় জড়ো হওয়ার ইচ্ছে কিংবা আগ্রহ কোনোটাই নেই তার। এখানে এসেছিল দুটো কারণে। এক. আযান ভাইয়ের মত বদরাগী মানুষ বউয়ের সাথে কতটা নরম সেটা দেখতে! কিন্তু তৃষা ইশিতা এরা ভাইয়ের কথা তুললেই ভাবির মুখ থেকে যেভাবে হাসি সরছে না সেটা দেখে তুষারের বুঝতে দেরি হলো না আগুনগরম আযান ইয়াসীর ভুইঁয়া বউয়ের কাছে একেবারে তুলতুলে নরম।
আর দ্বিতীয় এবং প্রধান কারণ. বেয়াক্কলের সাথে ভয়াবহ মান অভিমান পর্ব চলছে তার। বেয়াক্কল কলটল দিলে রিসিভ করে না তার আগে একবার বলা কথার ছুতো ধরে। তাই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মেসেজ দেখে সুযোগ বুঝে সেও এসে পড়েছে মেয়েটা কে বাগে পাবার আশায়৷ আজ মেয়েটাকে একটা শিক্ষা সে দেবেই! তুষার আযমাইন কে ইগনোর করা এত সহজ!
নাজিয়া তখন কিচেনে চায়ের তোড়জোড় করছে। নিধি নোভা তৃষা তাশফি এরা সমবয়সী প্রায়। দুয়েক বছরের পার্থক্য হয়তো। তাই চারটা মিলে চুটিয়ে আড্ডা বসিয়েছে। অকেশন ছাড়া তেমন দেখা হয় না তাদের। তুষার সবটা দেখল। তার চোখ দুটো তখন মাথাপাগল টা কে খুঁজছে। দেখল মাথাপাগল টা মাথা চুলকে চুলকে সোফার এক কোণায় বসে ফোনে ধ্যানমগ্ন হয়ে আছে। রিলস দেখছে বোধহয়। তুষারের ইচ্ছে হলো এক আছাড় মেরে ফোনটা ভেঙে ফেলতে!যে ফোনে তার কল রিসিভ হয় না সেই ফোন থাকার দরকার কি! ছেলেটা তক্কে তক্কে থাকল মেয়েটা কে একা পাওয়ার। তখন গাড়িতেও বোনগুলো সব একসাথে ছিল তাই সুযোগ পায়নি মেয়েটার সাথে কথা বলার৷
সুযোগ যেন একেবারে যেচে পড়ে সামনে আসল তার কাছে। ভাবিকে টুকটাক হেল্প করে দিবে এমন ভাবনায় ইশিতা লিভিং রুম থেকে সরু করিডোর বেয়ে কিচেনে পা বাড়াবে এমন সময় তুষার পাশ থেকে তার হাতের কবজি টেনে তাকে নিয়ে আসল পাশের রুমে। মেয়েটা এমন আকস্মিক ঘটনায় হতভম্ব। কারণ সম্পর্কের দু বছরে এই লোক তার হাত ধরা ত দূর, হাতের আঙুল অব্দি স্পর্শ করে নি। তুষার মেয়েটাকে রুমে নিয়ে এসেই তার কবজি থেকে হাত সরিয়ে আনল৷ মেয়েটার থেকে তিন ফুটের মতন দুরত্বে দাঁড়িয়ে চোখ গরম করে ইশারায় চুপ থাকতে বলল তাকে। এরপর ফিসফিস করে বলল, ‘আমি যা বলব শুনবি। একদম সিন ক্রিয়েট করবি না! কল রিসিভ করিস না কেন আমার? ভাব বেড়েছে বেশি? এত ভাব থাকলে আমার পায়ে ধরে প্রেম নিবেদন করতে এসেছিলি কেন? কোন টিভি সিরিয়াল দেখে এত ভাব শিখেছিস?হ্যা?’
মেয়েটা মুখ ফিরিয়ে নিল। জলে টইটম্বুর করছিল তার চোখ দুটো৷ তবুও চোখমুখ শক্ত করে স্রেফ এটুকু বলল, ‘আমি ত ভুলে যাই নি কেউ একজন বলেছিল আমার মতন গাধী আর দুটো নেই! রিটেকে পাশ না আসলে যাতে কথাবার্তা না বলি আর! তাহলে এখন এত গা জ্বালা হচ্ছে কেনো? আর ভাব শুধু তার একার থাকবে? আমি গাধী হই বেকুব বেয়াক্কল যা ই হই আমার ভাব থাকতে নেই? ভাব ত আমার ই থাকার কথা। কলেজে কত ছেলে প্রপোজ করেছিল আমায়! আমি গাধী দেখেই ত তাদের সবকটা কে পায়ে ঠেলে চামার একটা র পায়ে পড়লাম। যে কথাবার্তা র ধরণ ই জানে না!’
তুষার মেয়েটার এমন চোখমুখে মহা রাগ এনে ভাববাচ্যে বলা কথাগুলো শুনে মনে মনে হাসল। তাহলে মেয়েটা তখনকার কথাগুলো সিরিয়াসলি নিয়ে এতদিন ধরে রাগ করে আছে! যাক সিরিয়াসলি নিলেই ভালো৷ রাগ জেদ থেকে পড়াশুনো করে পাশ টা করলে হলো। তবুও তুষারকে এমন ইগনোর করবে কেন! মেয়েটা কি জানে এ কদিন ছেলেটা কতটা চিন্তায় ছিল, কিভাবে ছটফট করেছে সর্বক্ষণ।
বেয়াক্কল টা ত জানেই না উপরে উপরে বিরক্তি দেখালেও কিভাবে ছেলেটা সারাদিন তার একটা ফোনকলের জন্য মুখিয়ে থাকে৷ তুষার নিজেও জানে মেয়েটা তাকে ভীষণ ভালোবাসে। এত ভালোবাসা তুষারও মেয়েটাকে বাসতে পারবে না। তাই কলেজে পড়ুয়া মেয়েটা যখন প্রপোজ করেছিল তাকে তুষারের সাহস হয়নি এমন নিখাদ ভালবাসা অগ্রাহ্য করার। আজও তুষারের মনে হয় সেটা তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সিদ্ধান্ত! মাথাপাগল টার মতন আর কে এভাবে তুষার কে ভালবাসতে পারবে! মাথাপাগল বলেই হয়ত মেয়েটা তুষারকে এমন সবকিছু ছেড়েছুড়ে ভালবেসেছে!
তুষার আর কিচ্ছু বলল না তাকে। শুধু এটুকু বলল, ‘আ’ম সর্যি। আর বলব না সেসব। যদিও সত্যি কথা ই বলেছি সব। তবুও বলব না আর৷ গাধী বেয়াক্কল মাথাপাগল যাই হ তুই ত আমার ই। আমার মানুষ আমার সাথেই রাগ অভিমান করে আছে বিষয় টা কেমন না? যাহ আমি তোকে মাফ করে দিলাম এতদিন করা বেয়াদবি গুলোর জন্য। তুইও আমাকে মাফ করে দে নাহয়।’
তুষারের প্রথমের দিকের বলা কথাগুলো শুনে মন নরম হয়ে আসছিল মেয়েটার। তবে শেষের কথাটা শুনে ভুরু কুঁচকে বলে উঠল, ‘কিসের মাফ আর কিসের বেয়াদবি? ভুল করলে মাফ করার সুযোগ থাকে। আমি কি ভুল করেছি যে আপনি ক্ষমার মহাসাগর হয়ে আমাকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করছেন? অ্যাই মুখ বন্ধ কেন। বলুন!’
‘বড় হই তোর। এতদিন যে ইগনোর করলি সেটা ত বেয়াদবি ই। ছোটবেলার মত যে স্কেল দিয়ে বাইরায়ে বেয়াদবির শাস্তি দিচ্ছি না শুকরিয়া কর। আমাকে প্রপোজ করে প্রেমিকা হয়ে কতকিছু থেকে বেচেঁ গেলি তুই’। শেষের কথাটা ফিচেল হাসি হেসে বলল ছেলেটা৷ আজ ভাবির বাসায় না থাকলে মেয়েটা হয়ত একশটা কথা শুনাত তাকে এমন কথার বিপরীতে। ভালো ই হয়েছে এখানে এসে ব্যাপারটা মিটমাট করেছে সে। নিজের এমন বিচক্ষণতায় ছেলেটার খুব খুশি লাগল।

