চোরাবালির_পিছুটানে (০৪) #জেরিন_আক্তার

0
3

#চোরাবালির_পিছুটানে (০৪)
#জেরিন_আক্তার
রাজের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। হাতে ছিলো রাহার জন্য শাড়ি, গহনা আরও কত কি। সেগুলো রাজের হাত থেকে পড়ে গেলো। মিষ্টি এসে রাজের পাশে দাড়িয়ে রুমানা চৌধুরীকে বলে,

“ছোট আম্মু পুলিশকে জানাওনি?”

“জানিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো খবর দিতে পারেনি এখনও। রাদিফের বাবা আর তোর বাবা খুঁজতে বেরিয়েছে এখনও ফিরেনি।”

রুমানা চৌধুরীর কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে রাশেদ চৌধুরী আর রুবেল চৌধুরী বাড়িতে ঢুকলেন। সায়মা চৌধুরী এগিয়ে গিয়ে বলেন,

“রাহা কোথায়? ওকে পাওনি?”

রুবেল চৌধুরী মুখটা শুকনো করে সোফায় গিয়ে বসলেন। একই সাথে রাশেদ চৌধুরীও গিয়ে বসলেন। তারা দুজনেই মিষ্টিকে দেখে অবাক হলেন বৈকি। কিন্তু কিছু বললেন না।

রুবেল চৌধুরী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

“আমি আমার মেয়েটাকে কোত্থাও পেলাম না। পুলিশেও কোনো খবর দিতে পারছে না। কি করবো এখন আমি। আমার মেয়েটা কোথায় আছে, কি খেয়েছে না খেয়েছে কিচ্ছু জানতে পারছি না।”

মিষ্টি রুবেল চৌধুরীর দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,

“ছোট আব্বু, আমার মনে হচ্ছে রাহা ইচ্ছে করে চলে গিয়েছে?”

মিষ্টির কথা শেষ হতেই রাজ ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়লো। সবার দৃষ্টি রাজের উপরে গেলো। রাশেদ চৌধুরী ছেলের কাছে গিয়ে বসলেন। রাজ তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলে,

“বাবা ও ইচ্ছে করেই চলে গিয়েছে। আমি বেশ বুঝতে পেরেছি। বাবা ও আমার জন্য চলে গিয়েছে। আমারই ভুলের জন্য বাবা।”

সবাই উঠে এগিয়ে এসে রাজকে ঘিরে বসলো। রাশেদ চৌধুরী ছেলের পিঠে হাত রেখে বলেন,

“তোমার ভুলের জন্য মানে? কি হয়েছে আমাদের বলো!”

রাজ কেঁদে কেঁদে বলে,

“বাবা, রাহা!.. রাহা আমায় ভালোবাসে। আমিও ওকে ভালোবাসি। আর আমি তোমাদের কাউকে না জানিয়ে ওকে বিয়ে করেছিলাম। বাবা ওর গর্ভে আমার সন্তান আছে। আমি এটা জানার পরে ওর সাথে একটু ঝামেলা করে বলেছিলাম তোর ভাই যখন আমার বোনকে অস্বীকার করেছে আমিও তোকে অস্বীকার করলাম। আমি ওকে এই বলে বাড়িতে থেকে চলে গিয়েছিলাম।আর এসে দেখি ও আমাদের সবাইকে রেখে চলে গিয়েছে। বাবা ওকে আমার কাছে এনে দাও! আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না বাবা!”

রাজের কথা শুনে সবাই অবাকের শেষ প্রান্তে চলে গেলো। সবাই রাজের আহাজারিতে কাঁদতে লাগলো। রাশেদ চৌধুরী আর সায়মা চৌধুরীও কাঁদতে লাগলো। তাদের বংশের অংশ সাথে নিয়ে রাহা বাড়িতে থেকে চলে গিয়েছে। আর রাজ পাগলের ন্যায় করতে করতে সায়মা চৌধুরীকে ধরে বলে,

“আম্মু.. ও আম্মু আমার রাহা আমার জন্য চলে গিয়েছে আমি এখন ওকে কোথায় খুঁজবো। আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না। আমি ওকে খুঁজতে যাবো।”

সায়মা চৌধুরী রাজের কপালে, মুখে হাত রেখে বলেন,

“বাবা একটু শান্ত হ। ও চলে আসবে। আর তু্ই ওকে বিয়ে করেছিস আমাদের বলিসনি কেনো? আমরা তো মেয়েটাকে কম ভালো বাসতাম না। এমনকি ওকে মেনেও নিতাম। তোর বাবাও বলেছিলো রাহাকে তোর বউ বানাবে। আমিও রাজি ছিলাম। আর ওর সাথে কেনো ঝামেলা করতে গেলি। মেয়েটার গর্ভে আমাদের বংশের আলো ছিলো। ও এখন কোথায় আছে, আর কোথায় খুঁজবো।”

রাজ তৎক্ষণাৎ উঠে দাড়ালো। সাথে সাথে সবাই উঠে দাড়ালো। রাজ নিজের ব্লেজার খুলে ফ্লোরে ছুড়ে মেরে অস্থির কণ্ঠে বলে,

“আম্মু আমি রাহাকে খুঁজতে গেলাম। আমি ওকে না নিয়ে ফিরবো না। আমি ওকে না নিয়ে ফিরবো না।”

এই বলে রাজ বেরিয়ে গেলো। পেছন পেছন রাশেদ চৌধুরী আর রুবেল চৌধুরী চলে গেলেন। কিন্তু তারা দুজনে যেতে যেতে রাজ নিজের গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বাড়ির গেট পেরিয়ে গিয়েছে।

রুবেল চৌধুরী আরেকটা গাড়ির কাছে যেতে নিলে রাশেদ চৌধুরী বাধা দিয়ে বলেন,

“রুবেল রাজকে ওর মতো ছেড়ে দে! তু্ই ভিতরে চল! এখন তোর একটু রেস্ট নেওয়া প্রয়োজন। চল!”

রুবেল চৌধুরী অনীহা থাকলেও রাশেদ চৌধুরীর সাথে ভিতরে চলে গেলেন। রাশেদ চৌধুরী রুবেল চৌধুরীকে ড্রইং রুমের সোফায় এনে বসিয়ে মিষ্টিকে বলেন,

“মিষ্টি যা তো পানি নিয়ে আয়!”

মিষ্টি দৌড়ে গিয়ে পানি নিয়ে এসে রুবেল চৌধুরীর সামনে ধরে। রুবেল চৌধুরী মিষ্টির হাতে থেকে পানির গ্লাসটা নিয়ে খানি পানি খেয়ে নিলেন। এরপরে মিষ্টির হাতে খালি গ্লাসটা দিলেন। মিষ্টি গ্লাসটা রেখে আবারও তার ছোট আব্বুর পাশে এসে দাড়ালো। রুবেল চৌধুরী মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বলেন,

“মিষ্টি মা, আমার পাশে বসো!”

মিষ্টি রুবেল চৌধুরীর পাশে বসলো। রুবেল চৌধুরী গলার কণ্ঠ খাঁদে নামিয়ে বলেন,

“রাজ আর রাহার মাঝে হওয়া ঝামেলাটার ব্যাপারে আমাকে সব খুলে বলোতো!”

মিষ্টি রাজ আর রাহার মাঝে হওয়া ঝামেলাটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বললো সবাইকে। এই শুনে রুমানা চৌধুরী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

“কিসের জন্য যে ওদের এমন ঝামেলা করতে হবে। রাদিফ আর মিষ্টি তো নিজেরাই আলাদা আলাদা হয়ে গিয়েছে। ওরা নিজেরাই তো বলেছে ওরা আর এই সম্পর্ক নিয়ে এগোতে চায় না। এখন আমার মেয়েটা কোথায় গিয়েছে এমন শরীর নিয়ে। আল্লাহ তুমি আমার মেয়েটাকে ফিরিয়ে এনে দাও। তুমি আমার মেয়েটাকে দেখে শুনে রেখো।”

রুবেল চৌধুরী সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বলেন,

“কালকে রাতে রাহা কেনো যে ওই কথাগুলো বলেছিলো এখন আমি সব বুঝতে পারছি। কেনো ওর বাড়িতে থেকে চলে যেতে হবে! আমি কি মরে গিয়েছিলাম ও আমাকে জানাতো। এখন এই শরীর নিয়ে কোথায়ই বা যাবে! বয়সই বা কত হয়েছে যে নিজে নিজেই সার্ভাইভ করবে!”

রাশেদ চৌধুরী পেছনে থেকে রুবেলের কাঁধে হাত রেখে বলেন,

“তু্ই চিন্তা করিস না, দেখিস রাহা ফিরে আসবে। আর ও একা একা কোথায় গিয়ে থাকবে! চলে আসবে!”

রাত দশটা,,
রাজ নিজের মতো ড্রাইভ করে যাচ্ছে। কপালে দৃঢ় চিন্তার ভাজ। আশেপাশে কত জায়গায় তাকিয়ে দেখছে কিন্তু কোথাও রাহার দেখা মিলছে না। গাড়িতে এসি অন থাকা সত্ত্বেও ঘামছে। শার্টের বোতাম উপরের গুলো খুলে দিলো, টানটান বুকটা তবুও ঘামছে। শার্টের হাতা কুনুইয়ের উপরে উঠালো। স্মার্ট ওয়াচ খুলে ডেস্কে ছুড়ে মারলো।

এখনও রাহাকে খুঁজে পায়নি। নিজের উপরে নিজেরই তীব্র রাগ হচ্ছে। রাজ ডেস্কে থেকে ফোনটা নিয়ে পুলিশের নাম্বারে কল দিলো। কল রিসিভ হতেই বলে,

“হ্যালো, আমি রাজ চৌধুরী বলছি। আমার ওয়াইফ রাহা চৌধুরী মিসিং। ওকে পেয়েছেন?”

“না স্যার আমরা এখনও পাইনি।”

এই শুনে রাজ রেগে গিয়ে বলে উঠে,

“পাননি মানে কি? একজন মেয়েকে খুঁজতে এতো সময় লাগে?”

“স্যার আমরা দেখছি!”

“দেখছি না, আমার ইমিডিয়েট খোঁজ চাই! আর ওর নাম্বার ট্যাগ করতে পেরেছেন”

“স্যার আমরা নাম্বারটাও ট্যাগ করতে পারিনি। নাম্বারটা বন্ধ বলছে আর ট্যাগও করা যাচ্ছে না। আমরা আরও ফোর্স লাগিয়েছি।”

রাজ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,

“ঠিক আছে। আমার ওয়াইফের কোনো খোঁজ পেলে এমার্জেন্সি আমাকে জানাবেন!”

“ওকে স্যার!”

রাজ কল কেটে দিয়ে ফোন ডেস্কে ছুড়ে মারলো। এক সময় কেঁদে উঠলো। কিছুক্ষণ পরে গাড়িটাও থামায়। কেঁদে কেঁদে নিজে নিজেই বলে উঠে,

“তু্ই কি করলি রাহা। আমায় ছেড়ে চলে গেলি। তুই কি একটুও ভেবে দেখিসনি আমি তোকে ছাড়া কিভাবে থাকবো। তোকে এতো ভালোবাসার পরেও তু্ই এইরকম জেদ নিয়ে চলে গেলি। তু্ই যেদিন হসপিটালে গিয়েছিলি সেদিন তোকে আমার বন্ধুরা বাড়িতে দিয়ে গিয়েছিলো। তু্ই কি সেই চিরকুটটাও পাসনি। সব দেখেও তোর একটুও মনে হয়নি যে আমিই এগুলো করেছি। তু্ই এই কয়েকদিনে আমার সাথে যোগাযোগ করারই চেষ্টা করিসনি। তোকে বিয়ে করলাম, নিজের করে রাখলাম আর তু্ই সেদিনের কথাগুলো শুনেই আমার থেকে দূরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলি। আমাকে বলারও সময় দিলি না। আমি এখন তোকে কোথায় খুঁজবো।”

_________

রাহা এয়ারপোর্টে থেকে বেরিয়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে রইলো। রাদিফ রাহাকে দেখা মাত্রই দৌড়ে এগিয়ে এলো রাহার কাছে। রাহার চোখে পানি জ্বলজ্বল করে উঠলো। মুহূর্তেই ভাইকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো। রাদিফ রাহার চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,

“কাঁদছিস কেনো? তোর ভাইয়ের কাছে চলে এসেছিস না। কোনো ভয় নেই।”

রাদিফ রাহার হাত থেকে লেদার নিয়ে বলে,

“চল! অনেক চিন্তায় ছিলাম। তু্ই যে একা একা এই পর্যন্ত এসেছিস কোনো বিপদ হয়নি আলহামদুলিল্লাহ।”

রাদিফ এক হাতে লেদার নিয়ে আরেক হাতে রাহাকে নিয়ে চললো পার্কিং জোনে। সেখানে আসতেই রাদিফের একটা বাঙালি বন্ধু নাম সিফাত, বলে উঠে,

“বন্ধু এসেছিস? আর এইটা তোর বোন?”

“হুম। এইটা আমার বোন রাহা।”

সিফাত রাহার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

“তোর বোন মানে তো আমারও বোন। রাহা ভালো আছো?”

রাহা হালকা হেসে বলে,

“হ্যা ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন?”

“হ্যা ভালো আছি।”

তিনজনেই গাড়িতে উঠে বসলো। রাদিফ গাড়ি ড্রাইভ করতে লাগলো। তার পাশে সিফাত বসেছে। আর রাহা ব্যাক সিটে বসেছে। এর মাঝে তিনজনের মাঝেই টুকটাক কথা হয়েছে। রাদিফ নিজের ম্যানশনে আসার আগে সিফাতকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে এসেছে।

রাদিফ একটা বাসার সামনে গাড়ি পার্ক করে। এরপরে রাহা আর রাদিফ দুজনেই নেমে যায়। রাহা ভাইয়ের সাথে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো। বাড়িটা ডুপ্লেক্স। ঢুকতেই ড্রইং রুম, অনেক স্পেস। একপাশে স্টাডি রুম সাথে বুক সেলফ। আরেক পাশে সোফা। আর মাঝ বরাবর সিঁড়ি। সিঁড়ির পাশেই ডাইনিং স্পেস। এর পাশে কিচেন। সব কিছু আধুনিক জিনিস আর আধুনিক স্টাইলে সেটাপ করা।

রাহা ভিতরে ঢুকে আশেপাশে তাকিয়ে বলে,

“ভাইয়া তোমার বাসাটা তো খুব সুন্দর। আগে শুধু ফোনে দেখতাম। আর নিজ চোখে দেখে খুবই ভালো লাগছে। আর এইখানে তুমি একাই থাকো?”

রাদিফ হেসে বলে,

“একাই থাকতাম। দুই বছর ধরে আমার সাথে সাইমনও থাকে। আর ও একটা কাজে দেশে গিয়েছে। কিছুদিন পরেই চলে আসবে।”

“ওহ।”

রাদিফ রাহাকে নিয়ে উপরে চলে আসে। বেড রুম গুলো উপরেই। সব মিলিয়ে উপরে চারটা বেডরুম, তিনটা নিজেরা ব্যবহার করার জন্য আর একটা গেস্টরুম হিসেবে রাখা হয়েছে। আর নিচে শুধু একটা বেডরুম। যেখানে বেশিরভাগ মেইডই থাকে।

রাদিফ রাহাকে একটা রুমে এনে বলে,

“এই রুমে তু্ই থাকবি। আর সব কিছু তোর নিজের। সারা বাড়িতে তু্ই নিজের মতো করেই থাকবি। মনে যা আসে তাই করবি। আর যদি কখনও মন খারাপ দেখি তাহলে মার খাবি।”

রাহার কান্না পাচ্ছে কাছে থেকে ভাইয়ের কথা শুনে। তার ভাই অভিভাবকের মতো করে বোঝাচ্ছে তাকে।

রাদিফ রাহাকে চুপচাপ থাকতে দেখে হালকা মাথায় টোকা দিয়ে বলে,

“কি ভাবছিস? যা এবার ফ্রেশ হয়ে আয়! আমি মেইডকে বলে খাবার রেডি করতে বলছি। তু্ই তাড়াতাড়ি চলে আয় নিচে!”

রাহা বলে,

“ঠিক আছে ভাইয়া!”

রাদিফ চলে যায় নিচে। কিচেনের সামনে গিয়ে একজন মহিলা মেইডকে বলে খাবার রেডি করতে। মেইডটি খাবার রেডি করে ডাইনিং টেবিলে রাখতে শুরু করে। রাদিফ আর সাইমন যখন ছিলো তখন নিজেরাই নিজেদের কাজগুলো করতো। রাদিফ এখন একা বলে আর রাহা এসেছে বলে মেইড হায়ার করেছে।

মিনিট বিশেক পরে রাহা নিচে নেমে আসে। রাদিফ রাহাকে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে। খাওয়া শেষ করে রাদিফ রাহাকে বলে রেস্ট নিতে, শুয়ে পড়তে। রাহাও কথা বাড়ায় না চলে যায় নিজের রুমে। সারাদিন বিমানে জার্নি করার ফলে শরীরটাও ক্লান্ত লাগছে।

__________________

রাজ বাড়িতে ফিরতেই দেখলো ড্রইং রুমে তার মা বসে আছে। রাজ এগিয়ে যেতেই সায়মা চৌধুরী উঠে এগিয়ে এসে বলেন,

“পেয়েছিস রাহাকে?”

রাজ গলার কণ্ঠ খাঁদে নামিয়ে বলে,

“অনেক খুঁজেছি আম্মু। কোত্থাও পাইনি আমি ওকে!”

এই বলে রাজ সোফায় বসে পড়লো। সায়মা চৌধুরী ছেলের কাছে বসলেন। রাজ আস্তে করে তার মায়ের কোলে মাথা রেখে শুলো। পরক্ষনেই কেঁদে উঠলো। যা দেখে সায়মা চৌধুরী নিঃশব্দে কাঁদছেন। রাজ কান্নাজড়িত গলায় তার মাকে বলে,

“আম্মু, ও আম্মু আমি যে রাহাকে পেলাম না। ও যে আমার থেকে দূরে চলে গেলো। আমি ওকে কত খুজলাম ও আমাকে দেখা দিলো না আম্মু। ওর প্রত্যেকটা আত্মীয়র বাড়িতে গিয়েছি কেউ বলতে পারলো না ও কোথায়। আমি আর কোথায় খুঁজবো আম্মু আমায় বলে দাও না। আমার বড় অসহায় লাগছে। ও পেটে আমারই সন্তান। আমারই রক্ত। আমি আর কোথায় খুঁজবো!”

সায়মা চৌধুরী চোখ মুছে বলেন,

“কাঁদিস না। রাহা চলে আসবে। আর ও এই একা একা কোথায়ই বা থাকবে!”

এর মাঝে নিচে নামলেন রুমানা চৌধুরী। তারা দুজনে রাজকে অনেক বলে বুঝিয়ে রুমে পাঠিয়ে দিলেন। এরপরে দুজনে মিলে রাজের জন্য খাবার গরম করতে কিচেনে এলেন।

রাজ নিজের রুমের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো। রুমের লাইট জ্বালিয়ে কাভার্ড থেকে কাপড় বের করে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেলো। এর মাঝে সায়মা চৌধুরী রাজের জন্য খাবার রেখে গেলেন রুমে। রাজ শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ভেজা টাওয়ালটা ছুড়ে মেরে বিছানায় বসলো। চোখ গেলো সোফার টেবিলে খাবারের দিকে। সারাদিনে কিচ্ছুটি খায়নি। তবুও খাওয়ার প্রতি কোনো আগ্রহ জাগছে না।

রাজ রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বিছানায় আসলো। শরীরটা ক্লান্ত থাকায় শুয়ে পড়ার চিন্তা করলো। যেই বালিশটা টেনে শোবে ঠিক তখনই সামনে পড়লো একটা কাগজ। রাজ কাগজটা হাতে নিয়ে ভাজ খুললো। এটা রাহার হাতের লেখা। রাজ লেখাটি পড়তে লাগলো।

চলবে….

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ গল্পটা পড়ার জন্য। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here