চোরাবালির_পিছুটানে (০৬) #জেরিন_আক্তার

0
2

#চোরাবালির_পিছুটানে (০৬)
#জেরিন_আক্তার

রাশেদ চৌধুরী নিজের রুমে পা রাখতে না রাখতেই রাজ এসে হাজির। রুমে ঢুকতে ঢুকতে তার বাবাকে বলে,

“বাবা তোমার সাথে আমারও কিছু কথা আছে!”

রাশেদ চৌধুরী দাঁড়ালেন। রাজ তার বাবার সামনে দাড়িয়ে বলে উঠে,

“বাবা, তুমি কিছু লুকোচ্ছো আমাদের থেকে?”

রাশেদ চৌধুরী গম্ভীর স্বরে বলেন,

“কি লুকাবো তোমাদের থেকে?”

রাজ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,

“বাবা, তুমি রাদিফের সাথে যা যা কথা বললে তা আমার কানেও একটু হলেও এসেছে। রাদিফ রাহাকে না পেলে কি বলতে চায় সবাইকে? আমার মনে হচ্ছে তোমার আর রাদিফের সাথে পুরোনো ঝামেলা রয়েছে। যা এখন রাহার নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথে রাদিফ সবাইকে বলতে চায়।”

রাশেদ চৌধুরী কপালে ভাজ এনে বলেন,

“রাদিফের সাথে আমার কেনো কোনো ঝামেলা হবে! ও রাহার নিখোঁজ হওয়ার কথা শুনেই কথাগুলো বলেছে। আর ও মিষ্টিকে ছেড়ে যাওয়ার পরে তো আমাদের সাথে ভালো করে কথাই বলেনা।”

রাজ তার বাবার চোখে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে তার বাবা কিছু লুকাচ্ছে। যা বড় একটা ধাঁধা মনে হচ্ছে রাজের কাছে। রাজ মনে মনে ভাবলো,, না এই ভাবে বাবার থেকে কোনো কথা জানা যাবে না। আমাকে রাদিফের সাথেই যোগাযোগ করতে হবে। কিন্তু রাদিফ কি আমার সাথে কথা বলবে!

রাজ কথাগুলো মনে মনে আওড়িয়ে তার বাবাকে বলে,

“বাবা, তুমি আমাকে কি জন্য ডেকেছো?”

রাশেদ চৌধুরী বলেন,

“আমাদের এখন থানায় যেতে হবে। আরও লোক লাগাতে হবে। রাহাকে খুঁজে বের করতেই হবে।”

রাজ আর কথা বাড়ায় না। বলে,

“আমি রেডি হয়ে গাড়ি বের করছি।”

“হুম যাও!”

রাজ রুম থেকে বেরিয়ে যায়। রাশেদ চৌধুরী ধপ করে বিছানায় বসে পড়লেন। বারবার রাদিফের কথাগুলো কানে বাজছে। এর একটু পরেই তিনি বের হয়ে গেলেন রুম থেকে।

জাপানে, বিকেলের দিকে রাহা নিজের রুমে বসেছিলো। এমন সময় মেইড এসে নক করলো।

“আসবো রাহা?”

রাহা উত্তরে বলে,

“হ্যা আন্টি আসুন।”

মেইডটি ভিতরে ঢুকলো। হাতে ট্রে, ফল কেটে নিয়ে এসেছেন। তিনি ট্রে টা বিছানায় রাখতে রাখতে বলেন,

“স্যার বললো এখন তোমার জন্য কিছু ফল নিয়ে যেতে তাই সাথে সাথেই ফল কেটে নিয়ে এলাম। খেয়ে নিও।”

রাহার অনীহা থাকা সত্ত্বেও হাসার চেষ্টা করে বলে উঠে,

“ঠিক আছে।”

মেইডটি চলে গেলো। রাহা ফলের ট্রে টা সামনে নিয়ে একটা একটা করে মুখে দিলো।

রাজ তার বাবার সাথে থানায় থেকে থেকে দুপুরের পরপরই বাড়িতে ফিরলো। রাশেদ চৌধুরী নিজের রুমে চলে গেলেন। রাজ রুমে না গিয়ে ড্রইং রুমে সোফায় বসলো। সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে রইলো। এমন সময় ড্রইং রুমে প্রবেশ করলেন রুবেল চৌধুরী। রাজ তাকে দেখা মাত্রই বসা থেকে উঠে দাড়ালো। তার সামনে এগিয়ে গেলো কিছু বলার জন্য। কিন্তু রুবেল চৌধুরী দাঁড়ালেন না। রাজকে উপেক্ষা করে চলে গেলেন বাড়ির সদর দরজার দিকে। রাজ পেছনে থেকে তাকে ডেকে উঠে,

“ছোট আব্বু তুমি….!”

রাজের পুরো বাক্য সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই পেছনে থেকে রুমানা চৌধুরী রাজকে বলে উঠেন,

“রাজ শোন তো!”

রাজ পেছনে ফিরে তাকিয়ে আবার সামনে ঘুরতেই দেখলো রুবেল চৌধুরী চলে গিয়েছে। রুমানা চৌধুরী রাজের দিকে এগিয়ে এসে বলেন,

“রাজ তোর ছোট আব্বুর মাথা ঠিক নেই। তোর উপরে খুব রেগে আছে। এখন তোর ওনার সাথে কথা বলা ঠিক হবে না।”

রাজ রুমানা চৌধুরীর দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে,

“ছোট আম্মু, ছোট আব্বু রেগে আছে এটা আমিও জানি। আর এর জন্য আমিই দায়ী। তবে রেগে না থেকে একজোট হয়ে রাহাকে খুঁজতে হবে।”

এই বলতে বলতে রাজের মাথায় এলো রাদিফের কথা। তৎক্ষণাৎ, রুমানা চৌধুরীকে বলে উঠে,

“ছোট আম্মু, আমায় একটা কথা বলবে? রাদিফ আর আমার বাবার সাথে কি কোনো ঝামেলা বা কথা কাটাকাটি হয়েছিলো মিষ্টিকে নিয়ে? আমি তো তখন বাড়িতে ছিলাম না। তুমি তো জানবে!”

রুমানা চৌধুরী ধীর গলায় বলেন,

“না, মিষ্টিকে নিয়ে তোর বাবা আর রাদিফের মাঝে কোনো কথা কাটাকাটি করতে তো দেখিনি।”

এই শুনে রাজের কেমন একটা খটকা লাগছে। সে তার ছোট আম্মুকে সোফায় বসতে বলে। রুমানা চৌধুরী বসলেন। রাজ তার পাশে বসে বলে উঠে,

“ছোট আম্মু, রাদিফ যেদিন মিষ্টিকে অস্বীকার করেছিলো সবার সামনে সেদিনের পুরো ঘটনা টা আমায় বলতে পারবে?”

রুমানা চৌধুরী লম্বা একটা শ্বাস ছেড়ে বলেন,

“সেদিন আমরা সবাই এইখানে বসে কথা বলছিলাম। মিষ্টিকে সেদিন দেখতে এসেছিলো। তোর বাবার বন্ধুর ছেলে। মিষ্টিকে যখন আমরা বললাম ছেলে পছন্দ হয়েছে কিনা। মিষ্টি জানিয়েছিলো তার পছন্দ হয়নি। সে কাউকে ভালোবাসে। আর সেটা রাদিফকে। রাদিফ সেদিন বাড়িতে ফেরার সাথে সাথে তোর বাবার সাথে কথা বলতে গিয়েছিলো। আর এরপরেই রাদিফ সবার সামনে এসে বলছিলো,, আমি মিষ্টিকে ভালোবাসিনি, বা ওকে বিয়ে করার কোনো আশা দেখাইনি। এই টুকুই বলেছিলো রে। আর এই নিয়ে মিষ্টি আর কোনো কথাও বাড়ায়নি। পরেরদিনই বাড়িতে থেকে চলে গিয়েছিলো। আর রাদিফ জাপানে চলে গিয়েছে। আমরা দুজনকে অনেক জিজ্ঞাসা করেছি যে, তোরা যদি ভালোবেসে থাকিস তাহলে বিয়ে দিবো। কিন্তু রাদিফও রাজি না আর মিষ্টিও রাজি না।”

এই শুনে যেনো রাজের কাছে বিষয়টা আরও ঘোলাটে লাগছে। তার বাবা রাদিফের সাথে কথা বলার পরেই রাদিফ সবার সামনে অসম্মতি জানিয়েছে। তার বাবাও কেমন মানুষ, যে মেয়েকে অস্বীকার করেছে তাও কেমন ঠান্ডা মেজাজে রয়েছে। সেভাবে তো রাদিফকে বকাঝকা বা তার ছোট আব্বুর সাথে ঝামেলা করার কথা ছিলো। তাহলে কি তার বাবাই রাদিফকে মিষ্টির থেকে আলাদা করার পেছনে কিছু করেছে। রাদিফ এই কথাগুলো ভাবতে ভাবতে তার ছোট আম্মুকে বলে,

“ছোট আম্মু মিষ্টি কোথায়?”

“মিষ্টি রাহার কিছু বান্ধবীর বাড়িতে গিয়েছে। যদি কোনো খোঁজ জানতে পারে।”

“ওহ। মিষ্টি বাড়িতে এলে আমার রুমে পাঠিয়ে দিও। আমি রুমে গেলাম।”

“ঠিক আছে।”

রাজ চলে গেলো সিঁড়ি দিয়ে উপরে। নিজের রুমে এসে কাভার্ড থেকে জামা-কাপড় আর বিছানায় থেকে টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো। শাওয়ার নিয়ে বের হলো। এক হাতে টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে আরেক হাত দিয়ে ফোনটা হাতে নিলো। রাদিফকে কল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। রাদিফের নাম্বারে যেই কল দিবে এমন সময় মিষ্টি এসে দাড়ালো তার রুমের সামনে।

“ভাইয়া আমায় ডেকেছিলে?”

রাজ ফোন বিছানায় রেখে মিষ্টিকে বলে,

“হুম আয়!”

মিষ্টি রুমের ভিতরে এসে দাঁড়ায়। রাজ মিষ্টিকে বলে,

“রাহার বান্ধবীর বাড়ি গিয়ে কোনো খোঁজ জানতে পেয়েছিস?”

“না ভাইয়া, ওরা কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। আর ওরা বললো রাহা নাকি কয়েকদিন ধরে ওদের কারো সাথেই কোনো যোগাযোগই করেনি।”

এই শুনে রাজ বলে,

“ওহ। এই কথা জানতেই তোকে ডেকেছিলাম। আর কফি বানিয়ে নিয়ে আয় তো আমার জন্য!”

মিষ্টি মাথা নাড়িয়ে বলে উঠে,

“ঠিক আছে।”

মিষ্টি চলে যেতেই রাজ পুনরায় ফোনটা হাতে নিলো। রাদিফের নাম্বারেও কল দিলো। তবে রাদিফ কল ধরেনি। রাদিফ নিজের রুমে ফোনটা রেখে নিচে ছিলো।

এদিকে রাদিফ ফোন না ধরায় খানিকটা রেগে গেলো রাজ। বিছানায় ফোনটা ছুড়ে মারলো। ভাবতে লাগলো রাদিফ হয়তো রাগের মাথায় তার ফোনটা ধরলো না। আবার এও ভাবলো হয়তো রাদিফ কাজে আছে।

এর একটু পরে মিষ্টি এসে কফি দিয়ে গেলো।

রাহা ড্রইং রুমে এসে বসলো। রাদিফও সেখানে বসে টিভি ছিলো। রাদিফ রাহার চোখ-মুখের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা স্বরে বলে,

“কিরে, বাড়ির জন্য মন খারাপ হচ্ছে!”

রাহা নিচু গলায় বলে,

“হুম।”

রাদিফ খানিকটা হেসে বলে,

“জানিস এখন তোকে ওরা পাগলের মতো খুঁজে বাড়াচ্ছে। তোকে খুঁজতে এই প্রান্তে থেকে ওই প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে। দেখেছিস, ওরা দাঁত থাকতে দাঁতের মূল্য দেয়নি। আর এখন ওরা তোকে পাগলের মতো খুঁজছে।”

রাহা নিশ্চুপ হয়ে আছে। রাদিফ বাঁকা হেসে বলে,

“তু্ই চলে আসার পরে সবার মনে হয়েছে যে তোকে বউ বানাবে। আবার তোর আর রাজের সন্তান আসতে চলেছে বলে কি খোঁজাখুঁজি। আর রাজ, ওর তো রাতের ঘুমটাই হারাম হয়ে গিয়েছে। ও না জেনে-বুঝে সাপের লেজে পা দিয়েছে। এখন তো ওর এইটুকু শাস্তি পেতেই হয়।”

রাহা ভাইয়ের কথা বুঝতে পারলো না। গোল গোল চোখে তাকিয়ে রইলো। রাদিফ আয়েসি ভঙ্গিতে গা এলিয়ে দিয়ে বলে,

“রাহা, শুধু দেখে যা, সব বুঝতে পারবি, আমি কেনো সেদিন বাড়ি থেকে চলে এসেছিলাম। এর পেছনে ওই রাশেদ চৌধুরী রয়েছে। কত রাত ঘুমাইনি। ওদেরও এখন ঘুম নেই। আমি যতটা পুড়েছি ততটাই ওদের পুড়তে হবে।”

রাহা কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করে,

“ভাইয়া তুমি আর ফিরতে চাও না?”

রাদিফ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে উঠে,

“এই জন্মে না!”

এই বলে রাদিফ সোজা হয়ে বসে রাহার দিকে তাকিয়ে বলে,

“রাহা…রাজ আমার ঘটনা না জেনে তোকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এখন আবার তোকে ফিরে পেতে চায়। তু্ই কি ওর কাছে ফিরে যেতে চাস? দেখ, জীবনটা তোর। সাথে রাজের বাচ্চাও তোর সাথে। তু্ই যদি ফিরে যেতে চাস তাহলে আমি তোকে আটকাবো না।”

রাহা কি উত্তর দিবে দোটানায় পড়ে গেলো। একদিকে এখনও জানতে পারেনি তার ভাইয়ের সাথে কি হয়েছিলো যার কারণে তার ভাই বাড়ির কারো সাথে কথা বলে না বা কোনোদিন বাড়িতে ফিরতেও চায়না। নিশ্চই তার বড় আব্বু তার ভাইয়ের সাথে অন্যায় কিছুই করেছে। নাহলে তার ভাই নিজের বাবা-মায়ের থেকে দূরেই কেনো চলে এলো। আরেকদিকে রাজ তাকে পাগলের মতো খুঁজছে।

রাহা দোটানায় পড়ে গেলো। চোখ বেয়ে আপনাআপনিই জল গড়িয়ে পড়ছে। রাহা কোনো কথা না বলে উঠে চলে গেলো উপরে। রাদিফ রাহার যাওয়ার পানে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিজে নিজেই বলে,

“আমার সাথে যা হয়েছে এর কোনো কিছুই তোর সাথে হতে দিবো না। তু্ই ফিরে যেতে চাইলে আমি তোকে আটকাবোও না। তু্ই বোঝ, কি করলে তু্ই ভালো থাকবি। তবে চাই তু্ই রাজের কাছেই ফিরে যা। তু্ই একা একা কেমন করে তোর বাচ্চাকে মানুষ করবি! রাজকেও তোর প্রয়োজন।”

রাহা নিজের রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিয়ে বিছানায় শুয়ে বালিশে মুখ গুজে দুকরে দুকরে কাঁদছে। কি বা করবে এখন!

রাদিফ নিজের রুমে এসে ফোনটা হাতে নিতেই দেখতে পায় রাজের নাম্বার থেকে কল এসেছে। রাদিফ কল ব্যাক করার মতো আগ্রহ দেখালো না। ফোনটা পকেটে ভরে চলে গেলো রুম থেকে।

রাজ সারাদিন বাড়িতেই রইলো। ভাবতে লাগলো এই ঘোলাটে বিষয়টা। কিন্তু উত্তর মিলছে না। না তার বাবার থেকে কোনো উত্তর পাচ্ছে, না রাদিফ এখনও কল দিচ্ছে।

রাজ বিছানার পাশের সাইড টেবিলের ড্রয়ার খুলে রাহার চিঠিটা বের করলো। খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লো চিঠিটা। কয়েকবার পড়ার পরে কেমন একটা সন্দেহ হলো। রাহা একা একা কোথায় গিয়ে থাকবে। বয়সও তো তেমন নয় যে নিজে নিজে সার্ভাইব করবে। এর পেছনে কেউ নেই তো? সে হয়তো রাহাকে যেতে সাহায্য করতে পারে। এমনও তো হতে পারে যে রাহা তার সাহায্য নিয়েই লুকিয়ে আছে। কথা গুলো রাজ ভাবতে ভাবতে গভীর ভাবনায় তলিয়ে গেলো।

এর কিছুক্ষণ পরেই রাজ নিজের রুম থেকে বেরিয়ে গেলো রাহার রুমে। রুমটায় ঢুকে লাইটটা অন করলো। রুমটা স্বাভাবিক ভাবেই গুছিয়ে রেখে গিয়েছে। কোনো জিনিসই এদিক-সেদিক নেই। সব ঠিক আছে। রাজ এগিয়ে এসে বিছানায় বসলো। বিছানার সাথে ল্যাম্প টেবিলটায় নজর দিলো। ড্রয়ার খুলে দেখলো কোনো কিছু আছে নাকি!

রাজ বিছানার সাইড টেবিলের ড্রয়ার থেকে তেমন কিছুই পেলো না। নিচের ড্রয়ারটা খুলতেই চোখে পড়লো প্রেগনেন্সি কিট। একটা নয় কয়েকটা। রাজ সবগুলোই হাতে নিলো। সবগুলোই পজিটিভ।

রাজ সেগুলো হাতে নিয়ে অঝোরে কেঁদে উঠলো। নিজের প্রতি নিজেরই মাত্রাতিরিক্ত রাগ হচ্ছে, ঘৃণা হচ্ছে। নিজে থেকে যেই ভুলটা করেছে তার জন্য আফসোসের কোনো শেষ নেই। না তার বাবার থেকে কোনো উত্তর পাচ্ছে, না রাহার কোনো খোঁজ মিলছে।

পরের দিনও ঠিক এভাবেই চললো। সন্ধ্যার পরপরই রাজ থানায় থেকে বাড়িতে ফিরছিলো। রাহার আজকেও কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রাজ ড্রাইভ করতে করতে এর মাঝে আবার রাদিফকে কল দিয়ে যাচ্ছিলো। কয়েকবার কল দেওয়ার পরে রাদিফ কল রিসিভ করলো। রাজ কিছু বলার আগেই ওপাশে থেকে রাদিফ গম্ভীর গলায় বলে,

“রাহাকে পেয়েছিস?”

রাজ গাড়ি থামায় রাস্তার সাইডে। এরপরে বলে,

“রাদিফ, রাহাকে পাইনি! আর তোকে দুইদিন ধরে কল দিয়ে যাচ্ছি, তু্ই কল ধরছিস না কেনো? তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে!”

রাদিফ আগের মতো করেই বলে,

“রাহার ব্যাপারে কোনো কথা হলে বল! এছাড়া অন্য কোনো কথা বলার আমার কোনো আগ্রহ নেই। আর চব্বিশ ঘন্টা সময় দিয়েছিলাম এর মধ্যে তোরা বাপ-ছেলে মিলেও রাহাকে খুঁজে পাসনি!”

এই শুনে রাজ থমথমে গলায় বলে,

“রাদিফ কথাটা আগে শোন, রাহা কারো সাহায্য নিয়ে লুকিয়ে আছে। যার জন্য আমরা এতো খোঁজার পরও পাচ্ছি না। আর তোকে যা বলতে চেয়েছিলাম,,আমার মনে হচ্ছে তোর আর বাবার মাঝে কিছু একটা চলছে যা আমি বা কেউ জানি না।”

রাদিফ বাঁকা হেসে বলে,

“বুদ্ধি খাটিয়ে যখন এই পর্যন্ত জানতে পেরেছিস তাহলে এর পরেও জানতে পারবি!”

রাজ বলে,

“রাদিফ তু্ই আমাকে বল, বাবা কিছু বলেছিলো তোকে বা বাবা কোনো অন্যায় কিছু করেছিলো তোর সাথে! এই টুকু শুধু তু্ই বল! আর কিচ্ছু জানতে চাইবো না। আমার মনে হচ্ছে এর উত্তর পেলেই আমি রাহার কোনো না কোনো খোঁজ পাবোই।”

রাদিফ দাঁতে দাঁত পিষে বলে,

“তোর বাপ শুধু অন্যায় কিছু করেনি রে, তোর বাপ আমাকে তিলে তিলে শেষ করতে চেয়েছিলো। আমি কিছুই বলবো না তু্ই তোর বাপের থেকেই শুনে নিস। এরপরে নিজেই বুঝতে পারবি তু্ই না জেনে কি নিয়ে প্রতিশোধ নিতে গিয়েছিলি। আর রইলো রাহা! হ্যা তু্ই ঠিকই বলেছিস সব জানতে পারলেই রাহার কোনো না কোনো খোঁজ তু্ই পাবিই, এমন কি রাহাকে কোথায় যেতে পারে কি করতে পারে সব তোর কাছে এসে পড়বে।”

এই কথা গুলো বলে রাদিফ মনে মনে বললো,, আমি আর তোকে রাহার থেকে দূরে রাখতে পারবো না। একটু সময় দে, আমি বলে দিবো রাহা আমার কাছে।

রাজ এবার বেশ বুঝতে পারছে পুরো বিষয়টা তার বাবাই আয়ত্তে নিয়ে নিয়েছিলো। এমনকি রাদিফের বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য তার বাবাই দায়ী। এখন রাদিফের সাথে কি হয়েছিলো সেটা আগে জানতে হবে এরপরে রাহার কোনো না কোনো খোঁজ মিলবেই।

রাদিফ আর কোনো কথা বললো না। কল কেটে দিলো। রাজ দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দিলো। ধীরে ধীরে চোখ-মুখে রাগ বেড়ে চলছে। আজ এর একটা সমাধান তার বাবাকে দিতেই হবে। তার কেমন একটা পাগল পাগল লাগছে। প্রথমত রাহাকে পায়নি। আর দ্বিতীয়ত রাদিফ আর তার বাবা। রাজ আধঘন্টার মধ্যেই বাড়িতে চলে এলো। উন্মাদের ন্যায় বাড়িতে ঢুকলো। বাড়িতে ঢুকেই উচ্চ কণ্ঠে নিজের বাবাকে ডাকতে লাগলো।

রাশেদ চৌধুরী নিচে নেমে এলেন। সাথে সায়মা চৌধুরী আর রুমানা চৌধুরীও এলেন। রুবেল চৌধুরী সিঁড়ির উপরে গম্ভীর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।

রাজ তার বাবার দিকে তাকিয়ে শক্ত কণ্ঠে বলে উঠে,

“বাবা, রাদিফ এই বাড়ি থেকে কেনো চলে গিয়েছে? আজ আর আমায় মিথ্যে বাহানা দিও না, আমি অবুঝ নই বাবা আমি রাদিফের থেকে শুনেছি। আমায় আজ সত্যিটা বলো। রাদিফ কি কারণে চলে গিয়েছে?”

রাশেদ চৌধুরী কিছুটা ঘাবড়ে গেলেন। তবুও বুকে সাহস জুগিয়ে বলেন,

“রাদিফ কি কারণে চলে গিয়েছে তুমি জানো না! নিজে থেকেই তো চলে গিয়েছে।”

রাজ তপ্ত গলায় বলে,

“বাবা, রাদিফের চলে যাওয়ার পেছনে ও নিজে ছিলো না, তুমি ছিলে! আর সবার সামনে বোঝাচ্ছো রাদিফ নিজ থেকে চলে গিয়েছে। না বাবা, আমি সব ধরতে পেরেছি। তুমি বলো কেনো রাদিফ চলে গিয়েছে। আমার জাস্ট পাগল পাগল লাগছে। একে এই রাহাকে পাচ্ছি না। আর রাদিফের কথারও উত্তর পাচ্ছি না। তুমি প্লিজ আমাকে রাদিফের বিষয়টা ক্লিয়ার করো। আমার বিশ্বাস আমি এর মাঝেই রাহার খোঁজ পাবো।”

রাশেদ চৌধুরী সোফায় বসলেন। রাজ এই দেখে যেনো আরও রেগে গেলো।

চলবে….

গল্পটা আমি এখন থেকে এই টাইমেই পোস্ট করবো। আপনারা এর আগে অন্য কোথাও থেকে গল্প পেয়ে গেলে ভাববেন না সেটা আমার লেখা। আর নেক্সট পার্ট একটু স্পেশাল করার চেষ্টা করবো।

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে কমেন্টে জানাবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here