#চোরাবালির_পিছুটানে (১০)
#জেরিন_আক্তার
রাজ একপ্রকার দৌড়ে চলে আসে উপরে। রাদিফ বলেছে প্রথম রুমে ও নেই। পরের রুমে রাহা আছে। রাজ ঠিক তার পরের রুমের সামনে এসে দাড়ালো। রুমটায় নক করতে নিলেও কেমন একটা বুক ধড়ফড় করে উঠলো। দরজায় হাত দিতেই বুঝতে পারলো দরজা খোলাই আছে। রাজ দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো। রুমের লাইট নিভানো। ডিম লাইট জ্বালানো।
রাজ আস্তে করে দরজা লাগিয়ে দিয়ে দাড়ালো। আফছা আফছা বিছানায় রাহাকে দেখে লম্বা শ্বাস ছেড়ে এগিয়ে গেলো। বিছানায় এসে রাহার পাশে বসলো। রাহার কপালে হাত রাখতেই রাহা নড়েচড়ে উঠলো। রাজ বিছানায় থেকে নেমে ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে রুমের লাইট জ্বালালো। লাইটের জন্য রাহা ঘুমের ঘোরেই চাদর টেনে মুখ ঢেকে নিলো।
রাজ আবারও রাহার পাশে এসে বসলো। রাহার মুখে থেকে চাদর সরিয়ে বেশ কিছুক্ষন রাহার দিকে তাকিয়ে রইলো। রাহাকে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে রাজের চোখ বেয়ে আপনাআপনিই জল পড়ছে।
রাজ আস্তে করে রাহার কপালে চুমু খেলো। রাহা দ্বিতীয়বারের মতো ঘুমের ঘোরেই কেঁপে উঠলো। রাজ মুচকি হেসে নিজের ডান হাত রাহার তলপেটের উপরে রাখলো। রাহা ধপ করে চোখ খুললো। সামনে রাজকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো।
“কে!”
রাজ রাহার চিৎকারে ঘাবড়ে গেলো। সাথে সাথে রাহাকে ধরে বলে,
“রাহা আমি আমি, রাজ!”
রাহা রাজকে দেখে ও রাজের কণ্ঠ শুনে নিজের চোখ ও কানকে বিশ্বাস করাতে পারছে না। ঘামতে শুরু করে দেয়। রাজ হাত বাড়িয়ে বিছানার পাশে থেকে পানির গ্লাস রাহার কাছে এনে দেয়। রাহা কাপা হাতে গ্লাসটা নিয়ে ঢকঢক করে সবটুকু পানি খেয়ে নেয়। রাজ রাহার হাত থেকে খালি গ্লাসটা রেখে দেয়। রাহা হাঁপাতে হাঁপাতে রাজের দিকে তাকিয়ে থাকে। রাজ রাহার দুইগালে হাত রেখে বলে,
“আমি এসেছি, তোর কাছে? তু্ই ভয় পাচ্ছিস? বিশ্বাস কর, আমি তোকে কোনোদিন বকবো না।”
রাহা রাজের হাত সরিয়ে দিয়ে বিছানায় থেকে নেমে যেতে যেতে বলে,
“তুমি এখানে এসেছো কেনো? আর আমি তোমার সাথে কোনো কথা বলতে চাই না। তুমি আমার বাচ্চাকে মারতে এসেছো তাইনা!”
রাজ রাহার হাত ধরে বলে,
“তু্ই বিশ্বাস কর! আমি সেদিন মন থেকে কথা গুলো বলিনি। আর তু্ই ভাবলি কি করে আমি এই এতদূরে তোর বাচ্চাকে মারতে আসবো। আর ও তো আমারও বাচ্চা। আমার রক্ত, আমার অংশ।”
রাহা রাজের হাত ঝাড়া দিয়ে বলে,
“একদম দরদ দেখাবে না। ওকে মারার কথা বলেছিলে তুমি। তুমি ভুলে গেলেও আমি ভুলে যাইনি। আর না কোনোদিন ভুলে যাবো। তুমি এখন ওকে নিজের অংশ, নিজের রক্ত বললেই আমি তোমার কথাগুলো ভুলে যাবো না।”
এই বলে রাহা চলে যেতে নেয়। রাজ উঠে দাড়িয়ে রাহার দুইহাত ধরে নিজের কাছে এনে নরম গলায় বলে,
“সেদিন আমি যা যা বলেছিলাম, সেগুলো আমি কেনো বলেছিলাম তু্ই জানিস। আমি ভুল করেছিলাম না জেনে। সেইটা নিয়ে আমি বাড়ি থেকেও চলে গিয়েছি। তোকে কত খুঁজেছি। কোত্থাও পাইনি আমি। এখন তোর কাছে এসেছি তু্ই আমার সাথে এমন করিস না।”
রাহা নড়াচড়া করতে করতে শক্ত গলায় বলে,
“হাত ছাড়ো আমার! আমি তোমার সামনেও থাকতে চাই না। আর আমি এখানে আছি সেটা তুমি কি করে জানলে নিশ্চই ভাইয়া বলেছে!”
রাজ কোনো কথা বলার আগেই রাহা বলে,
“আজ ভাইয়ার খবর আছে। আমি বারবার বলার পরেও তোমাকে জানিয়ে দিয়েছে আমি এখানে আছি। আর নিশ্চই ভাইয়াই তোমাকে এখানে চলে আসতে বলেছে!”
রাজ রাহার কথাগুলো শুনে কি উত্তর দিবে বুঝে উঠতে পারছে না। এতগুলো দিন ধরে অপেক্ষা করেছে রাহার কাছে যাবে। এসেওছে কিন্তু রাহা নিজের রাগ আর জেদ নিয়েই আছে। রাজেরও এখন কোনো কথা বলা উচিত হবে না। রাহা যা পারে তাই বলুক। বলতে বলতে একাই বুঝে যাবে রাজকে।
রাদিফ নিচে থেকে রাহার চিৎকার শুনে উপরে আসতে চেয়েছিলো কিন্তু দুজন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে তার আসা মোটেও ভালো দেখাবে না।
রাদিফ ফ্রেশ হয়ে নিচে এলো খেতে। খুব খিদে পেয়েছে। রাজকে ছাড়া নিজেই খেতে বসে পড়লো। মেইড রাদিফকে খাবার বেড়ে দিলো। রাদিফ খাওয়া শেষ করে মেইডের সাথে কিছু কথা বলে উঠে দাঁড়ায়।
এমন সময় রাহা নিচে নেমে আসে। পেছন পেছন রাজও আসে। রাদিফ দুজনকে দেখে কিছু বলার আগেই রাহা বলে,
“ভাইয়া রাজকে তুমি এখানে এনেছো?”
রাদিফ স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দেয়,
“হুম।”
এই শুনে রাহা রেগে গিয়ে বলে,
“ভাইয়া আমি তোমাকে না করেছিলাম না, ওকে জানাতে। আর তুমি কি করলে ওকে এখানে নিয়ে এলে!”
পেছনে থেকে রাজ কিছু বলতে নিবে ঠিক তখন রাদিফ ওকে ইশারা করে থামিয়ে দিয়ে রাহাকে বলে,
“তু্ই এমন রেগে যাচ্ছিস কেনো? রাজ তোর স্বামী হয়। আর ও নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে তাই ওকে এখানে চলে আসতে বলেছি। আর তু্ই তো নিজে যেতে চাইলি না তাই বাধ্য হয়ে ওকেই এখানে আসতে হলো।”
“কিন্তু ভাইয়া…..!”
রাদিফ রাহাকে থামিয়ে দিয়ে বলে,
“কোনো কিন্তু নয়! রাজ এসেছে শুধু তোর জন্যই। এখন ওর সাথে মিলেমিশে থাক। আর ও এতটা জার্নি করে এসেছে ওকে ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নিতে বল! আমার সকালে অফিস আছে। আমি রুমে গেলাম। আমি আর একটা কথাও শুনতে চাই না। আর তোদের মাঝে যেনো ঝামেলাও না দেখি।”
রাদিফ কথাগুলো বলে সোজা সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে যায়। যাওয়ার আগে রাজকে কিছু একটা ইশারা করে যায়।
রাহা ভাইয়ের কথাগুলো শুনে স্ট্যাচু হয়ে দাড়িয়ে রইলো। রাজও কিছু বললো না। এরপরে রাহা রাজের দিকে এগিয়ে এসে কঠিন গলায় বলে,
“যাও, ফ্রেশ হয়ে এসো!”
রাজ রাহার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,
“কোথায় ফ্রেশ হবো? না মানে তোমার রুমে যাবো?”
রাহা তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলে,
“হুম।”
রাজ মনে মনে একটু খুশি হয়ে চলে গেলো উপরে। যাই হোক রাহা আস্তে আস্তে নরম হচ্ছে।
মিনিট বিশেক পরে রাজ নিচে নেমে আসে। পরণে সারা টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজার। চুলগুলো হালকা ভেজা।শাওয়ার নিয়ে এসেছে। এর মাঝে আবার রাহা মেইডকে তার রুমে পাঠিয়ে দিয়েছে।
রাজ রাহার সামনে এসে দাঁড়াতেই, রাহা তাকে খাবার টেবিলে বসতে বলে। রাজ বসে পড়ে। রাহা নিজের মতো করে রাজকে খাবার বেড়ে দিলো। রাজ কোনো কথা ছাড়াই চুপচাপ খাবার খেয়ে নেয়।
খাওয়া শেষ হতেই রাহা চলে যায় উপরে। রাজ আর কি করবে সেও একটু পরেই রাহার রুমে চলে যায়। এসে দেখে রাহা বিছানায় একপাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়েছে। রাজ রাহার দিকে তাকিয়ে দরজা লাগিয়ে, লাইট নিভিয়ে বিছানায় এসে বসে।
এরপরে রাহার দিকে তাকিয়ে বলে,
“ঘুমিয়ে পড়েছিস?”
রাহা কয়েক সেকেন্ড পরে উত্তর দেয়,
“না, কেনো?”
“বলছিলাম আমার উপরে এখনও রেগে আছিস?”
রাহা কোনো উত্তর দেয় না। চুপটি মেরে শুয়ে থাকে। দুজনেই চুপচাপ হয়ে রইলো। রাহা নীরবতা ভেঙে বলে উঠে,
“ঘুমিয়ে পড়ো! অনেক জার্নি করে এসেছো!”
রাজ মুচকি হেসে রাহার পাশ ঘেঁষে শুয়ে পড়লো। মনে মনে ভাবলো,, রাহার রাগ এতো সহজে ভাঙবে না। ভুলটা যখন তারই, রাগটাও তারই ভাঙাতে হবে।
সকাল বেলা রাহার ঘুম ভাঙতেই চোখের সামনে রাজের মুখটা দেখে অজান্তেই মুখের কোণে হাসি ফুটে উঠলো। মনে পড়ে গেলো সে আগেও এমন করে রাজের বুকে মুখ গুজে ঘুমাতো। রাজ তাকে এভাবে বুকে জড়িয়ে রাখতো।
রাহা আগের কথাগুলো মনে করতে করতে নিঃশব্দে হেসে উঠলো। রাজ তখনও গভীর ঘুমে। রাহা রাজের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে বসলো। রাজের দিকে আরেকবার তাকিয়ে বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে গেলো।
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে বসলো। এরপরে নিজেকে পরিপাটি করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
নিচে এসে দেখলো মেইড ছাড়া এখনও কেউ উঠেনি। রাহা কিচেনে এসে মেইডের সাথে টুকটাক কথা আর কিছু হালকা কাজ করতে লাগলো।
এমন সময় সাইমন নিচে নেমে আসে। মেইড তার জন্য কফি বানিয়ে দিয়ে আসে। সাইমন কফি খেতে খেতে রাহাকে ডাক দেয়। রাহা কিচেনে থেকে বেরিয়ে আসে। সাইমনের সামনে এসে দাঁড়ায়। সাইমন বলে,
“রাহা রাতে তোমার চাচাতো ভাই এসেছে, কথা হয়েছে?”
“হুম। হয়েছে!”
“ওহ। রাদিফ উঠেনি?”
“না।”
সাইমন কফির মগ রেখে রাহাকে বলে,
“রাহা তোমাকে একটা ইম্পরট্যান্ট কথা বলতে চাই!”
“হ্যা, বলুন!”
সাইমন কি একটা ভেবে বলে উঠে,
“রাহা এখন নয়! রাতে এসে বলবো!”
রাহা হালকা মাথা নাড়িয়ে বলে উঠে,
“ঠিক আছে!”
________________
রাহা রাজের জন্য কফি নিয়ে রুমে আসে। এসে দেখে রাজ এখনও ঘুমিয়ে আছে। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিলো। তাই হয়তো এখন বিভরে ঘুমে তলিয়ে আছে। রাহা কফিটা বিছানার সাইড টেবিলে রেখে রাজের পাশে বসলো।
রাজের দিকে তাকিয়ে নিজের পেটের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে উঠলো। মনে মনে বলে উঠলো,, দেখেছো তোমার বাবা, তোমার জন্য কত দূর থেকে চলে এসেছে।
এমন সময় রাজ নড়েচড়ে উঠে। ঘুম ভেঙে গিয়েছে। চোখ না খুলেই বিছানায় হাতড়িয়ে কিছু খুঁজছে। রাহা বিছানায় থেকে উঠে দাড়ালো। রাজ চোখ খুলে উঠে বসলো। রাহা মুখে গম্ভীর ভাব এনে রাজকে বলে,
“উঠে ফ্রেশ হয়ে নাও! কফি এনেছি!”
রাজ রাহার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বিছানায় থেকে নেমে দাঁড়ায়। এরপরে বলে,
“রাগ করে আছো আবার কফিও বানিয়ে এনেছো?”
রাহা রাজের কথা শুনে অবাক হলো একটু। রাজ প্রথম তাকে তুমি করে বলছে। রাহা সাথে সাথে বলে,
“তুমি আমায় তুমি করে বলছো!”
রাজ মাথা নাড়িয়ে বলে,
“হুম। তুমি করে বলেছি। আর এরপরে থেকে তুমি করেই বলবো। এখন তো আর আমরা চাচাতো ভাই-বোন না। স্বামী-স্ত্রী আমরা।”
এই বলে রাজ ওয়াশরুমে চলে যায়। রাহা মুচকি হেসে বিছানা গুছিয়ে ফেলে। রাজ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে রাহা ততক্ষনে বিছানা গুছিয়ে নিচে চলে যায়। রাজ টাওয়াল রেখে কফির মগ হাতে নিয়ে খেতে থাকে। খেতে খেতে মোবাইলটা হাতে নেয়।
এদিকে রাদিফ আর সাইমন অফিসে চলে যায়। বাড়িতে শুধু রাহা, রাজ আর মেইড। এখন সকাল প্রায় দশটার মতো বাজে। রাজ এখনও সকালের খাবার খায়নি। রাহা নিচেই বসে অপেক্ষা করছে কখন রাজ নিচে নামবে। নিজেও খায়নি। মেইড খেতে বললে না করে। বলে, পরে খাবে।
এর কিছুক্ষন পরেই রাজ নিচে নেমে আসে। রাহা উঠে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে যায়। আর রাজকে বলে,
“কি করছিলে? কখন থেকে অপেক্ষা করছি নিচে!”
রাজ বসতে বসতে বলে,
“তুমি ডাকতে যাবে বলে আসিনি!”
রাহা রাজের দিকে তাকিয়ে রইলো। এরপরে খাবার বেড়ে নিজেও খেতে বসলো। রাজ খাওয়ার পুরোটা সময় রাহার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে খেলো। এর মাঝে রাজ নিরেট গলায় প্রশ্ন করে,
“রাহা, সেদিন খুব কষ্ট দিয়ে ফেলেছিলাম!”
রাহা মাথা তুলে তাকালো। রাজের চোখে-চোখ পড়তেই চোখ নামিয়ে নিলো। রাজ থমথমে মুখে বলে,
“জানি খুব কষ্ট পেয়েছিলে, এর জন্য তোমার কাছে মাফ চাই। তবে আমার উপরে বিশ্বাস রাখো, আমি আর এই কথাগুলো বলবো না।”
রাহা গম্ভীর গলায় বলে,
“হুম, ঠিক আছে। খাও এখন!”
রাজ মনে মনে বললো,, কি জেদ, রাগ একটু কি হেসে হেসে কথা বলা যায় না আমার সাথে। কত বার মাফ চাইছি, তুমি করে বলছি, তাও মুখে হাসি দেখতে পাচ্ছি না।
রাহা খাওয়া শেষ করে উঠে দাড়ালো। রাজের খাওয়া এখনও হয়নি। রাজকে রেখেই সিঁড়ি দিয়ে উপরে চলে গেলো। নিজের রুমে এসে বিছানায় বসে রাজের কথাগুলো মনে করে নিজেই হেসে উঠলো।
রাজ খাওয়া শেষ করে রুমে চলে এলো। রুমে এসে রাহাকে বসে থাকতে দেখে নিজেও পাশে এসে বসলো। রাহা উঠে চলে যেতে নিলে রাজ রাহাকে ধরে নিজের কাছে এনে বসালো। এরপরে নিচু গলায় বলে উঠে,
“আমার থেকে অনেক পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছো আর কোথায় যেও না। আমি আর পারছি না। এই কয়েকদিনে তোমার শূন্যতা আমাকে শেষ করে দিয়েছে। যেই শুনলাম তুমি এখানে তখন যেনো আরও পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। ছটফট লাগতো কখন তোমায় দেখতে পাবো। তুমি তো জেদ করে গেলে না, আমি নিজেই চলে এসেছি। এখন প্লিজ দূরত্ব চেয়ো না।”
কথাগুলো বলতে বলতে রাজ রাহাকে নিজের কাছে জড়িয়ে নিলো। রাহা চুপচাপ হয়ে রইলো। পুরো রুম জুড়ে নিস্তব্ধতা, শুধু দুজনের নিঃশাসের শব্দ।
কিছুক্ষণ পরে রাহা বলে উঠে,
“এখানে এসেছো বাড়িতে জানাওনি কাউকে?”
রাজ নিরেট গলায় বলে,
“কি প্রয়োজন জানানোর!”
রাহা রাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
“বড় আম্মুকেউ জানাওনি?”
“না। শুধু মিষ্টি জানে!”
“মিষ্টি ফিরে এসেছে?”
“হুম। এসেছে! আমি এনেছি। রাহা জানো, ও ফিরে এসেছে শুধু তোমার জন্য, কিন্তু এসে তোমাকেই পেলো না।”
“এখানে এসে ওর সাথে কথা হয়নি?”
“না! এখানকার সিম নেই। রাদিফ আসুক, এরপরে কিছু একটা করে ওকে কল দিয়ে জানাবো।”
রাজ আস্তে করে রাহার পেটে হাত রাখলো। রাহা মাথা নত করে রইলো। রাজ নরম গলায় বলে উঠে,
“আমি তোমায় আর ওকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই!”
রাহার চোখ থেকে টুপটুপ করে পানি পড়ছে। যা রাজের হাতের উপরও পড়ছে। রাজ রাহাকে সোজা করে চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলে উঠে,
“আমি কোনোদিন তোমায় আর ওকে কষ্ট দিবো না। তোমায় আর ওকে নিজের জীবন দিয়ে হলেও আগলে রাখবো। আর বাবার ভুল-ধারণা শেষ করবো।”
_______________
সন্ধ্যার দিকে রাহা ড্রইং রুমে বসে আছে। রাজ এতক্ষন নিচেই রাহার সাথে কথা বলছিলো। মাত্র রুমে গিয়েছে।সকাল থেকে এখন পর্যন্ত রাহার সাথে কথা বলে রাহাকে একটু নরম করতে পেরেছে। তবুও কিছুটা রেগে আছে। আর রাগ করে থাকাটাই স্বাভাবিক।
এর কিছুক্ষণ পরে সাইমন বাড়িতে ফিরে এলো। সামনে রাহাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে। রাহা বলে,
“আজ এতো আগেই চলে আসলেন যে?”
“কাজ শেষ হয়ে গেলো তাই!”
“ওহ। ভাইয়া আসেনি?”
“না! ওর আসতে একটু লেট্ হবে।”
“ওহ। আপনি কি যেনো বলতে চেয়েছিলেন!”
“ফ্রেশ হয়ে এসে বলছি!”
“ঠিক আছে!”
সাইমন চলে যেতে নিয়ে আবার ফিরে এসে বলে,
“রাজ, ও কোথায়?”
“রুমে আছে!”
“ওহ, আচ্ছা। তুমি থাকো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি!”
“ঠিক আছে!”
সাইমন চলে গেলো। রাহা বসে রইলো, রাজও আসছে না, তাই টিভিটা অন করলো। মনে মনে ভাবতে লাগলো সাইমনের কথা। কি বলতে চায়, কোনো বিশেষ কিছু বলতে চায় কি? রাহা কয়েকদিন ধরেই সাইমনকে লক্ষ করছে, তাকে কিছু একটা বলতে নিয়েও বলে উঠছে না।
সাইমন রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে বের হলো। সামনে দেখা হলো রাজের সাথে। রাজ সাইমনকে দেখে হেসে বলে উঠে,
“সাইমন কেমন আছো?”
সাইমনও হেসে বলে,
“ভালো আছি ভাইয়া। আপনি কেমন আছেন?”
“ভালো। অফিস শেষ?”
“হুম।”
সাইমন রাজের সাথে সাথে নিচে নেমে আসে। রাহা আগের জায়গায়ই বসে আছে। রাজ সোজা এসে রাহার পাশে বসে। দুজনের এতো কাছাকাছি বসা দেখে সাইমন কি একটা ভেবেও ভাবলো না। সাইমন দুজনের মুখোমুখি বসলো। ভাবতে লাগলো দুজনে তো কাজিন তাহলে এতো কাছাকাছি বসতে হবে কেনো?
সাইমন মুখটা গম্ভীর করে বসে রইলো। রাহা পানি খেতে উঠে চলে যায়।
এমন সময় সাইমনের ফোন বেজে উঠে। সাইমন ফোন বের করে দেখে রাদিফের নাম্বার থেকে কল এসেছে। সাইমন স্বাভাবিক ভাবেই কল রিসিভ করে বলে,
“হ্যা, রাদিফ বল!”
ওপাশে থেকে অন্য একটা কণ্ঠ ভেসে আসে,
“আপনার বন্ধু রাদিফ, এক্সিডেন্ট করেছে।”
আকস্মিক এই কথা শুনে সাইমন উঠে দাড়িয়ে জোরে বলে উঠে,
“কিহ! রাদিফ এক্সিডেন্ট করেছে!”
কথাটি রাহার কানে পৌঁছাতেই পানির গ্লাসটা হাতে থেকে পড়ে গেলো।
চলবে….
গল্পটা সন্ধ্যা ছাড়া আর অন্য কোনো সময় আসবে না। আর প্রতিদিন একটা করেই পার্ট আসবে। আর আপনাদের পাশে থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

